IELTS Reading এক ঘণ্টায় শেষ করার কৌশল

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ২৫ ১৭:১১:২৩
IELTS Reading এক ঘণ্টায় শেষ করার কৌশল

IELTS পরীক্ষার্থীদের জন্য রিডিং সেকশন অনেক সময়েই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এক ঘণ্টার মধ্যে ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, যেখানে থাকে তিনটি জটিল প্যাসেজ। অনেক পরীক্ষার্থীই সময়ের অভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে হতাশ হয়ে হল ছেড়ে যান।

তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সেরা উপায় শুধুমাত্র "পরামর্শ" নয়, বরং দক্ষতা অর্জন করা—বিশেষ করে স্ক্যানিং, স্কিমিং, ইনটেনসিভ রিডিং, ও মেইন আইডিয়া শনাক্ত করার মতো রিডিং স্কিলগুলো। আজকের প্রতিবেদনে জানিয়ে দিচ্ছি কিভাবে এই দক্ষতাগুলো কাজে লাগিয়ে আপনি এক ঘণ্টায় রিডিং পরীক্ষার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন।

বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগে IELTS রিডিং নিয়ে টিপস ও ট্রিকসের ছড়াছড়ি। তবে পরীক্ষার মূল ফোকাস যখন স্কিল বেজড, তখন টিপস নয়, স্কিল ইম্প্রুভ করাটাই আসল চাবিকাঠি।

রিডিং পরীক্ষায় সাধারণত যেসব স্কিল মূল্যায়ন করা হয়:

  • স্ক্যানিং (Scanning): নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করার দক্ষতা
  • স্কিমিং (Skimming): মূল বক্তব্য ধরতে দ্রুত পাঠ
  • ইনটেনসিভ রিডিং (Intensive Reading): বিস্তারিতভাবে অর্থ বোঝা
  • মেইন আইডিয়া শনাক্তকরণ (Identifying Main Idea)

স্ক্যানিং: দ্রুত তথ্য খোঁজার কৌশল

যখন কোনো প্রশ্ন নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চায়—যেমন একটি রোগের নাম বা সাল—তখন আপনাকে প্যাসেজের প্রতিটি লাইন না পড়ে স্ক্যান করে সেই তথ্যটি খুঁজে বের করতে হবে। পুরো প্যাসেজ না পড়ে শুধু কীওয়ার্ড অনুসন্ধান করাই এখানে মূল কাজ।

উদাহরণ:

প্রশ্ন: Find the name of a disease that has returned in recent times.

ভুল পদ্ধতি: পুরো প্যাসেজ লাইন বাই লাইন পড়া

সঠিক পদ্ধতি: দ্রুত চোখ বুলিয়ে রোগের নাম খুঁজে ফেলা

ইনটেনসিভ রিডিং: সঠিক জায়গায় প্রয়োগ করুন

অনেক সময় পরীক্ষার্থী যে প্রশ্নে স্ক্যানিং দরকার, তাতেও ইনটেনসিভ রিডিং করতে গিয়ে সময় নষ্ট করেন। যেমন "ম্যাচিং ইনফরমেশন" প্রশ্নে লাইন বাই লাইন পড়া নয়, বরং কীওয়ার্ডের ওপর নির্ভর করে স্ক্যান করতে হবে।

সময় বাঁচাতে হলে:

যে প্রশ্নে স্ক্যানিং যথেষ্ট, সেখানে বিস্তারিত পড়ার দরকার নেই। নয়তো একটি প্রশ্নেই ৩–৪ মিনিট নষ্ট হয়ে যাবে, যা এক ঘণ্টার সময়সীমায় বড় ব্যাঘাত।

সময় ও স্কিলের বাস্তব প্রয়োগ

Question:In the second paragraph, the writer is amazed by the fact that.

A. each species tends to have vastly different microbes.

B. some parts of the body contain relatively few microbes.

C. the average individual has more microbial cells than human ones.

D. scientists have limited understanding of how microbial cells behave.

✅ সঠিক কৌশল: “amazed” শব্দটি বা তার সমার্থক শব্দ খুঁজে নিয়ে ওই লাইনটি বিশ্লেষণ করা❌ ভুল কৌশল: পুরো দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফ শব্দ ধরে ধরে পড়া

এই ছোট্ট কৌশলেই আপনি প্রশ্নটির উত্তর ২ মিনিটে বের করতে পারবেন, যেখানে অন্যরা ৪ মিনিট সময় নষ্ট করেন।


এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৮:৩৮:০৫
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

আগামী ২০ জুলাই চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে। কোনো ধরনের প্রশ্নফাঁস কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত সহযোগিতারই ফল।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী তার দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অধীনে শিক্ষা খাতের সার্বিক সংস্কার, গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তার মন্ত্রণালয় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, কার্যভার গ্রহণের পর পরই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বড় সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুল এই বৃত্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে যুক্ত হতো না। তবে এবার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে এবং বৃত্তি কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখন থেকে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আগাম প্রস্তুতির সুবিধার্থে এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কেও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য গৃহীত বর্তমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ हजार শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হয়েছে। দেশের সরকার প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী নিজে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী ‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেস’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই বিশেষ কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ২৮ ও ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী আয়োজনে ৩২টি সম্মেলন ও প্রদর্শনী কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. এহসানুল হক মিলন জানান, গত ৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ছাত্র ও ছাত্রী উভয় বিভাগের অংশগ্রহণে দেশজুড়ে চলা এই প্রতিযোগিতা আগামী ২০ জুন জাতীয় স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত পর্বের ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে। এই ফাইনাল খেলার বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি ও কর্মসূচি পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

শিক্ষা খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি আনন্দময় ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নৈতিক শিক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পোশাক ও মিড-ডে মিলের মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগগুলো নিয়েও কাজ চলছে।

/আশিক


২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা; পরীক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বোর্ডের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১৮:১৯:৩৭
২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা; পরীক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বোর্ডের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ আদান-প্রদানের জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) চালু করার পাশাপাশি ক্যালকুলেটর, হাতঘড়ি ব্যবহার এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময়সূচি স্পষ্ট করে বুধবার (১৭ জুন) বোর্ডের ওয়েবসাইটে তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সার্বক্ষণিক একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পরীক্ষাসংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা, তথ্য বা জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর (০২-২২৩৩৬৯৮১৫, ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩, ০১৭৫৬১০৩১৫২) অথবা ই-মেইল ([email protected]) ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন।

ক্যালকুলেটর ও হাতঘড়ি ব্যবহারের বিষয়ে বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যালকুলেটরের পাশাপাশি নির্ধারিত ৮টি মডেলের সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার হলে নন-প্রোগ্রামেবল কাঁটাযুক্ত এনালগ হাতঘড়ি ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার দিনগুলোতে কেন্দ্রের আশপাশে যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশের ব্যবস্থা করার জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। তবে পরীক্ষা কক্ষে চূড়ান্তভাবে আসন গ্রহণ ও প্রবেশসংক্রান্ত পূর্বের সব নিয়মিত নির্দেশনা অপরিবর্তিত ও বহাল থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

/আশিক


প্রাথমিকের শিক্ষায় মেগা বদল,২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আসছে নতুন কারিকুলাম

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৮:৪৩:৩১
প্রাথমিকের শিক্ষায় মেগা বদল,২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আসছে নতুন কারিকুলাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ধারায় নিয়ে যাওয়ার এক মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক, সৃজনশীল ও বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ নতুন কারিকুলামের আলোকে পাঠদান শুরু করা হবে। আর এই বিশাল লক্ষ্য ও রূপরেখা বাস্তবে রূপ দিতে দক্ষ এবং সুপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) দেশের ২৪টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিভাগীয় প্রধানসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত আধুনিক ও বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন আন্তর্জাতিক মানের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায়োগিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।

প্রাথমিকের এই নতুন কারিকুলামের বিশেষত্ব নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও পেশাদার প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে।

ববি হাজ্জাজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য এক বিশাল ও নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আগামী ৫ বছরে এই বিশেষায়িত খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে এবং এই বিষয়গুলোতে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার পাথওয়ে’ গড়ে উঠবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়কে এখনই সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে হবে।

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা চাই আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষায়িত শিক্ষক হিসেবে যেন সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। সে লক্ষ্যে স্নাতক পর্যায়েই কীভাবে তাদের উপযুক্ত শিক্ষণ প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের সঙ্গে পেশাদার শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করতে পারে—সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে রোডম্যাপ তৈরি করতে চাই।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন কারিকুলামে সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু প্রথাগত সহশিক্ষা (Co-curricular) কার্যক্রম হিসেবে রাখা হচ্ছে না, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামগ্রিক বিকাশের একটি মূল এবং বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এ জন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক প্যানেল তৈরির বিষয়ে এখন থেকেই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির জন্য নতুন প্রবর্তিত ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবইয়ে ৪টি প্রধান অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরবর্তীতে ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে এই বিষয়গুলো দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত বিষয় হিসেবে যুক্ত হবে।

/আশিক


আমূল বদলাচ্ছে কারিকুলাম: বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছর ব্যাপক পরিবর্তন

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ২১:৫২:১৯
আমূল বদলাচ্ছে কারিকুলাম: বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছর ব্যাপক পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সনাতন সনদ-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একে সম্পূর্ণ আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এখন থেকে দেশের সব সাধারণ শিক্ষাধারার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারের এই নতুন সংস্কার পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, "বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট বা সনদের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। বিগত ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা খাতে যে গভীর সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, তা একদিনে বা এক বছরে রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়; তবে বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার ধাপে ধাপে পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে।"

তিনি জানান, নতুন এই শিক্ষাসংস্কারের অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে সম্পূর্ণ নতুন কয়েকটি বিষয় যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—‘ক্রীড়া শিক্ষা’, ‘সংস্কৃতি শিক্ষা’ এবং নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামের একটি বিশেষ বিষয়। একই সাথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই 'তৃতীয় ভাষা' শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নতুন কারিকুলাম ও বইয়ের পরিমার্জন নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, "সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন বই প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য মাত্র তিন থেকে চার মাস সময় পেয়েছিল, তাই সব পরিবর্তন একসঙ্গে দৃশ্যমান করা সম্ভব হয়নি। তবে চলমান এই সংস্কার কার্যক্রম আগামী বছর আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক আকারে বাস্তবায়ন করা হবে।" ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে তিনি এক বিশাল প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে প্রায় ১৪ লাখ 'ট্যাব' সরবরাহ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, খেলাধুলা ও উদ্ভাবনী মেধার বিকাশে সরকারের একাধিক জাতীয় কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এ বছর রেকর্ড ২২ লাখের বেশি খুদে শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, যার জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে দেশব্যাপী ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যেখানে তরুণদের সেরা উদ্ভাবনী আইডিয়ার জন্য দেওয়া হবে বিশেষ 'সিড ফান্ডিং'। কারিগরি শিক্ষাকে সমাজে সম্মানজনক স্তরে নিতে জাতীয় স্কিলস কম্পিটিশন ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে সরাসরি চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে একটি করে চারা বিতরণের ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ প্রকল্প চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।

/আশিক


শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়াতে ব্যর্থ হলে বেতন মিলবে না শিক্ষকদের

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৭:৪০:৩৬
শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়াতে ব্যর্থ হলে বেতন মিলবে না শিক্ষকদের
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়ার দক্ষতা এবং গণিতের মৌলিক চার নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ এপ্রিল ও ৫ মে দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। সচিবের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী জুন মাসের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চার নিয়ম এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে ৯০ শতাংশ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পরবর্তী এক মাস অর্থাৎ জুলাইয়ের মধ্যে এই দক্ষতার হার ১০০ শতাংশে উন্নীত করা বাধ্যতামূলক।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকার প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি বইয়ের অন্তত ৫ পৃষ্ঠা উচ্চস্বরে শব্দ করে পড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং তা আগামী ১০ মের মধ্যে ছক আকারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, বর্তমান সরকারের শিক্ষার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের বুনিয়াদি শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলা ও ইংরেজি রিডিং পড়তে না পারা বা সাধারণ গণিত না জানা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সচিব স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব জেলাতেই এই কঠোর বার্তা কার্যকর করা হচ্ছে। শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই বেতন বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

/আশিক


মাধ্যমিক শিক্ষায় এআই বিপ্লব! চীন সরকারের সহায়তায় স্কুলে স্কুল বসছে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১২:২৪:১৪
মাধ্যমিক শিক্ষায় এআই বিপ্লব! চীন সরকারের সহায়তায় স্কুলে স্কুল বসছে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’
ছবি : সংগৃহীত

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে মোট ৩০০টি অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতিমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। চীন সরকারের আর্থিক অনুদানে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, এই ক্লাসরুমগুলোতে বিশ্বমানের সব আধুনিক সুবিধা থাকবে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ (IEP) সরবরাহ করা হবে।

বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্লাসরুমগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে, যা ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীরা দেখার সুযোগ পাবে। এমনকি শিক্ষার্থীরা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করেই মুহূর্তের মধ্যে ক্লাসের নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রকল্পের অধীনে কেবল ক্লাসরুম নয়, মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক ক্লাউড বেইজড ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। এই ডাটা সেন্টারটি সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরের জন্য বিশেষ মিটিং রুম স্থাপন করা হবে।

ইতিমধ্যে ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই প্রকল্পের কাজ পূর্ণগতিতে শুরু হবে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বগুড়া ও চাঁদপুরের দুটি বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির এই সংযোজন শিক্ষার্থীদের মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার বদলে বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে। ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এই প্রকল্প ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র : বাসস


সারাদেশে এসএসসি’র ডামাডোল! শিক্ষা বোর্ডগুলোর কড়া নজরদারিতে পরীক্ষা শুরু

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১০:৩৫:০৭
সারাদেশে এসএসসি’র ডামাডোল! শিক্ষা বোর্ডগুলোর কড়া নজরদারিতে পরীক্ষা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এই মেগা পাবলিক পরীক্ষা শুরু হয়। এবারের পরীক্ষায় সারাদেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০ মে পর্যন্ত মূল পরীক্ষা চলবে এবং এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে ৩০ মিনিটের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের সৃজনশীল বা রচনামূলক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাদে সব বিষয়েই এই কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে এবং দুই অংশের মাঝে কোনো বিরতি নেই।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। গত বছরের তুলনায় এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন কমেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি, মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

/আশিক


পরীক্ষার হলে এই ২০টি কাজ করলেই বহিষ্কার! এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ২১:১৭:২৯
পরীক্ষার হলে এই ২০টি কাজ করলেই বহিষ্কার! এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে শিক্ষা বোর্ড। প্রশ্ন ফাঁস রোধ, ডিজিটাল জালিয়াতি বন্ধ এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০ ধরনের অপরাধের জন্য তিন স্তরের শাস্তির বিধানসহ পরীক্ষার আসন বিন্যাস ও সময়সূচিতেও আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন।

শিক্ষা বোর্ডের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এবার সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের এমসিকিউ-এর জন্য ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীলের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় পাবেন শিক্ষার্থীরা।

নকল রোধে ৫-৬ ফুটের বেঞ্চে সর্বোচ্চ ২ জন এবং ৪ ফুটের বেঞ্চে মাত্র ১ জন পরীক্ষার্থী বসার নিয়ম করা হয়েছে। এছাড়া, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারবে না এবং একই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বসার সুযোগ থাকছে না।

সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে অপরাধের শাস্তির ক্ষেত্রে। ক্যালকুলেটরে তথ্য লুকানো বা মোবাইল রাখলে ওই বছরের পরীক্ষা বাতিল হবে। উত্তরপত্র পাচার বা শিক্ষককে হুমকি দিলে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হবে।

আর যদি কেউ অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেয় (প্রক্সি) বা শারীরিক আক্রমণ ও অস্ত্র প্রদর্শন করে, তবে তাকে সরাসরি ২ বছরের জন্য বহিষ্কারসহ নিয়মিত ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে। ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে মাঠে থাকছে বিশেষ ‘ভিজিল্যান্স টিম’, যারা যেকোনো সময় কেন্দ্রে ঝটিকা অভিযান চালানোর পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।

/আশিক


এসএসসিতে ভয়ংকর সাইলেন্ট এক্সপেল: বুঝতেই পারবে না খাতা বাতিল!

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১২:১৩:৩৫
এসএসসিতে ভয়ংকর সাইলেন্ট এক্সপেল: বুঝতেই পারবে না খাতা বাতিল!
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের পরীক্ষা পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা-২০২৬’ প্রকাশ করেছে শিক্ষা বোর্ড, যেখানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরবে বহিষ্কারের কঠোর বিধান। এই নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষার হলে সরাসরি নকল না করলেও যারা অন্যের উত্তর দেখে লেখে বা বারবার শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা।

সাইলেন্ট এক্সপেল বা নীরব বহিষ্কার পদ্ধতিটি হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোনো পরীক্ষার্থী হলের নিয়ম ভাঙলে (যেমন: কথা বলা, এদিক-ওদিক তাকানো বা অন্যের খাতা দেখা) দায়িত্বরত পরিদর্শক তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের করে দেবেন না। ফলে পরীক্ষার্থী বুঝতেও পারবেন না যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে বিধি অনুযায়ী, ওই পরীক্ষার্থীর সৃজনশীল উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ না ছিঁড়ে পরিদর্শকের প্রতিবেদনসহ সেটি আলাদা লাল কালিতে ‘রিপোর্টেড’ লিখে বোর্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে বোর্ড ওই পরীক্ষার্থীর খাতা বাতিল বলে গণ্য করবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থী একবার নীরব বহিষ্কৃত হলে তাকে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে সে কোনো অনিয়ম না করলেও তার প্রতিটি খাতা একই পদ্ধতিতে ‘রিপোর্টেড’ হিসেবে আলাদা প্যাকেটে বোর্ডে পাঠাতে হবে। প্রতিটি খাতার সাথে কেন তাকে নীরব বহিষ্কার করা হয়েছিল, তার সুস্পষ্ট কারণ সম্বলিত প্রতিবেদন থাকতে হবে। মূলত হলের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং অবাধ্য পরীক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতেই এই বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে শিক্ষা বোর্ড।

/আশিক

পাঠকের মতামত: