বই পড়া শেষ, এখন কী? স্মৃতিতে রাখতে ৭টি পরামর্শ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ২৭ ০৮:৫২:৫৯
বই পড়া শেষ, এখন কী? স্মৃতিতে রাখতে ৭টি পরামর্শ

বই পড়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে, তবে এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি আমাদের অতীত অভিজ্ঞতাগুলোকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সুযোগ করে দেয়। যখন আপনি কোনো নতুন ধারণা বা মানসিক মডেল শিখেন, তখন এটা আপনার মস্তিষ্কের “সফটওয়্যার” আপডেট হওয়ার মতো। এতে পুরোনো স্মৃতিগুলোকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে পারেন এবং পুরনো মুহূর্ত থেকে নতুন শিক্ষা অর্জন করতে পারেন। প্যাট্রিক ও’শঘনেসির কথায়, “বই পড়া অতীতকেও পরিবর্তন করে।”

তবে এই পরিবর্তন তখনই সম্ভব যখন আপনি পড়া বিষয়বস্তু ভালোভাবে মনের সঙ্গে ধারণ করেন এবং মনে রাখেন। শুধু বই পড়ে শেষ করা যথেষ্ট নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো পড়া জ্ঞানকে ধরে রাখা এবং সময়ের সাথে সাথে তা বাড়ানো। আনন্দের জন্য বই পড়াও ভালো, তবে এখানে আমরা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো শেখার উদ্দেশ্যে কীভাবে ভালোভাবে পড়া যায়।

১. বই বেশি শুরু করুন, কিন্তু দ্রুত ছেড়ে দিন

অধিকাংশ মানুষ অনেক বই শুরু করার থেকে কম বই শুরু করে। ভালো বই চিনে নিতে অনেক সময় লাগে না টেবিল অফ কনটেন্টস, অধ্যায়ের শিরোনাম বা পাতাগুলো দ্রুত স্কিম করে বুঝতে পারেন বইটা আপনার জন্য ভালো কি না। যদি ভালো না মনে হয়, তাহলে গিলগিল করে পড়ার পরিবর্তে দায়িত্বমুক্তভাবে বই ছেড়ে দিন। কারণ সময় সীমিত এবং ভালো বই পড়ার সুযোগ অনেক বেশি। স্ট্রাইপের প্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক কলিসনের কথা মনে রাখুন, “জীবন খুব ছোট যাতে আপনি এখন আপনার জানা সেরা বই পড়তে না পারেন।” তাই বেশি বই শুরু করুন, বেশির ভাগই ছেড়ে দিন এবং ভালো বই গুলো দুবার পড়ুন।

২. এমন বই বাছাই করুন যা আপনি শীঘ্রই কাজে লাগাতে পারেন

যেসব বই আপনি সরাসরি আপনার কাজ বা জীবনে প্রয়োগ করতে পারবেন, সেগুলো পড়লে মনোযোগ বেশি যায় এবং মনে রাখা সহজ হয়। উদাহরণস্বরূপ, ব্যবসা শুরু করছেন তাহলে বিক্রয় সম্পর্কিত বই থেকে সর্বোচ্চ লাভ নিতে চেষ্টা করবেন। জীববিজ্ঞানে কাজ করলে ‘অরিজিন অফ স্পিসিজ’ পড়তে বেশি মনোযোগ দেবেন। সব বই তাত্ক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য না হলেও, যেসব বই আপনার দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক, সেগুলো মনে রাখা সহজ হয়।

৩. সার্চযোগ্য নোট নিন

পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করে রাখুন। এটা যেকোনোভাবে করতে পারেন কিন্ডলে হাইলাইট করা, অডিওবুক থেকে উক্তি টাইপ করা, কিংবা প্রিন্ট বই পড়ার সময় নোট নেওয়া। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার নোটগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করা যাতে সেগুলো সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। ডিজিটাল টুলস যেমন Evernote ব্যবহার করতে পারেন, কারণ এটি বিভিন্ন ডিভাইসে সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং অফলাইনে ও কাজ করে। লক্ষ্য হলো—মস্তিষ্কের স্মৃতির উপর নির্ভর না করে আপনার নোটগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত বের করে নেওয়া।

৪. বিভিন্ন বইয়ের জ্ঞান একত্রিত করুন

একটি বইকে একটি “জ্ঞান বৃক্ষ” হিসেবে ভাবুন, যার মূল অংশ হলো মূল ধারণা আর শাখাগুলো হলো বিস্তারিত বিষয়। নতুন বই পড়ার সময় আগের বই থেকে শেখা ধারণাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করুন। যেমন, নিউরোসায়েন্টিস্ট ভি.এস. রামচন্দ্রনের বইয়ের একটি ধারণা সামাজিক গবেষক ব্রেনে ব্রাউন এর তত্ত্বের সঙ্গে জড়িত হতে পারে। এভাবে নতুন তথ্যকে পূর্বের ধারণার সঙ্গে সংযুক্ত করলে স্মরণশক্তি বাড়ে এবং জ্ঞান গভীর হয়। চার্লি মুংগারের কথায়, “আপনি যখন পড়ার সময় বিষয়গুলোকে মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেন, তখন আপনি ধীরে ধীরে জ্ঞান অর্জন করেন।”

৫. সংক্ষিপ্ত সারাংশ লিখুন

বই শেষ করার পর সেটির সারমর্ম তিন বাক্যে লিখে ফেলুন। এটি একটি চমৎকার চর্চা যা আপনাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিনতে সাহায্য করে। যদি এটা কঠিন মনে হয়, তাহলে ফেইনম্যান টেকনিক ব্যবহার করুন বইয়ের নাম লিখে এমনভাবে ব্যাখ্যা দিন যেন কেউ আগে শুনে নাই। এতে বোঝার ঘাটতি থাকলে তা স্পষ্ট হয় এবং পুনরায় পড়ার প্রয়োজন বুঝতে পারেন। বেন কার্লসনের মতে, “বই থেকে শেখার সেরা উপায় হলো তার ওপর কিছু লেখা।”

৬. একই বিষয়ে বিভিন্ন বই পড়ুন

একটি বই বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে পুরো বিশ্বাস গঠন করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই একই বিষয়ে বিভিন্ন লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি পড়ুন। এটি আপনার ধারণাকে আরও সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ করে তোলে। মরগান হাউজেল বলেছেন, “ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা পৃথিবীর অতি ছোট একটি অংশ, কিন্তু আমরা প্রায়শই তা দিয়ে পৃথিবী কেমন কাজ করে তার ৮০% ধারনা করি।” তাই বিস্তৃত পড়াশোনা আমাদের পক্ষপাত থেকে মুক্তি দেয়।

৭. ভালো বই বারবার পড়ুন

একটি ভালো বই একবার পড়ার মতো নয়, বরং বারবার পড়তে হয়। কার্ল পপার বলেছেন, “যেকোনো মূল্যবান বই শুধু একবার নয়, অনেকবার পড়ার যোগ্য।” জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আপনার চিন্তা ও প্রয়োজন পরিবর্তিত হয়, তাই আগের বার চোখে না পড়া তথ্য আবার নতুন করে বোঝা যায়। দার্শনিক চার্লস চু বলেন, “আমি প্রিয় লেখকদের কাছে বারবার ফিরে যাই এবং প্রতিবার নতুন কিছু পাই।” পাশাপাশি, পুনরাবৃত্তি ছাড়া কোনো ধারণা মস্তিষ্কে গভীরভাবে গেঁথে যায় না।

সারসংক্ষেপে, বই পড়া মানে শুধু পৃষ্ঠা উল্টানো নয়, বরং পড়াকে এমন অভ্যাসে পরিণত করা যা গভীর বোঝাপড়া ও দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয়। অধিক বই শুরু করা, প্রাসঙ্গিক বই নির্বাচন, সার্চযোগ্য নোট নেওয়া, ধারণাগুলোকে একত্রিত করা, সংক্ষিপ্ত সারাংশ লেখা, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পড়া এবং পুনরায় পাঠ করা এসব কৌশল আপনাকে বই থেকে সর্বোচ্চ লাভবান হতে সাহায্য করবে। এই জ্ঞান আপনার মস্তিষ্ককে পরিমার্জিত করে অতীতকে নতুনভাবে বুঝতে ও ভবিষ্যত গড়তে সক্ষম করে।


মাত্র ৩ উপাদানে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করুন সুগন্ধি সাবান

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৯:২২:৪৫
মাত্র ৩ উপাদানে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করুন সুগন্ধি সাবান
ছবি : সংগৃহীত

কমলালেবু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী তা সবার জানা থাকলেও, এর খোসা অধিকাংশ সময়ই ফেলে দেওয়া হয়। তবে এই ফেলে দেওয়া খোসা ব্যবহার করেই বাড়িতে অত্যন্ত কম খরচে এবং মাত্র ৩ থেকে ৪টি উপাদান দিয়ে তৈরি করা সম্ভব প্রাকৃতিক সুগন্ধযুক্ত সাবান।

বাড়িতেই কমলালেবুর খোসা দিয়ে ঘরোয়া উপায়ে সাবান তৈরির এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ। সাবানটি তৈরির জন্য মূলত প্রয়োজন পড়বে কমলালেবুর টাটকা খোসা, সাবান বেস, সামান্য পানি এবং জমানোর জন্য একটি সিলিকন ছাঁচ। সিলিকন ছাঁচ হাতের কাছে না থাকলে ডিসপোজেবল কাগজের কাপ ব্যবহার করলেও চলবে।

প্রথমে কমলালেবুর খোসাগুলো পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এরপর সামান্য পানি মিশিয়ে মিক্সারে খোসাগুলোর একটি মিহি পেস্ট তৈরি করা প্রয়োজন। পেস্টে যাতে খোসার কোনো বড় অংশ থেকে না যায়, সে জন্য একটি চালুনি বা পরিষ্কার সুতির কাপড় দিয়ে মিশ্রণটি ছেঁকে নিতে হবে।

এরপর সাবান বেসটি ছোট ছোট টুকরো করে কেটে তৈরি রাখতে হবে। এবার একটি পাত্রে পানি দিয়ে তার ওপর আরেকটি বাটি বসিয়ে 'ডাবল বয়লার' পদ্ধতিতে মাঝারি আঁচে সাবান বেস গলিয়ে নিতে হবে। বাটিটি পানিতে কিছুটা ডুবে থাকলেও খেয়াল রাখতে হবে যেন ভেতরে পানি ঢুকে না যায়। সাবান বেস সম্পূর্ণ গলে গেলে তার মধ্যে আগে থেকে ছেঁকে রাখা কমলালেবুর খোসার মিশ্রণটি ঢেলে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।

মিশ্রণটি কম আঁচে ১২ থেকে ১৩ মিনিট অনবরত নাড়তে হবে, যাতে কোনো দলা পেকে না যায়। রান্না শেষ হলে চুলা বন্ধ করে গরম মিশ্রণটি ছাঁচে বা কাগজের কাপে ঢেলে নিতে হবে। সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিলেই সাবানটি জমে শক্ত হয়ে যাবে। দ্রুত শক্ত করতে চাইলে এটি কিছুক্ষণ ফ্রিজেও রাখা যেতে পারে। জমে গেলে ছাঁচ থেকে বের করে নিলেই ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠবে সুগন্ধি সাবান। কমলালেবুর খোসার তৈরি এই সাবান ত্বকের পরিচর্যায় যেমন ভূমিকা রাখে, তেমনই শরীরে দীর্ঘসময় ধরে একটি রিফ্রেশিং প্রাকৃতিক গন্ধ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

/আশিক


শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৯:৪৫:৫৭
শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন
ছবি : সংগৃহীত

শীতের সকালে অলসতা কাটিয়ে শরীরচর্চায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হলেও সঠিক সময়ে পুষ্টি ও পানির জোগান নিশ্চিত করা জরুরি। ক্যাফেইনযুক্ত কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে ঘরের সাধারণ উপাদান দিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক পানীয় ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরে শক্তি ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তবে কোন পানীয়টি আপনার জন্য উপযোগী, তা নির্ভর করে মূলত ব্যায়ামের ধরন এবং সময়ের ওপর।

হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা শীতের সকালের জন্য একটি সহজ বিকল্প। এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং তরল গ্রহণে সাহায্য করলেও সরাসরি কোনো চর্বি পোড়ায় না বা শক্তি জোগায় না। অন্যদিকে, কলা ও দুধের স্মুদি কিংবা ওটস ও দুধের মিশ্রণ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন সরবরাহ করতে বেশ উপকারী। তবে ওটসে ফাইবার থাকায় এটি হজম হতে একটু সময় নেয়, তাই কঠোর ব্যায়ামের ঠিক আগে এটি এড়িয়ে চলা ভালো।

প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট ও পটাশিয়ামের উৎস হিসেবে ডাবের পানি বেছে নেওয়া যায়, যদিও এতে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকায় দীর্ঘ ও কঠোর ব্যায়ামে ঘামের ঘাটতি পূরণে এটি একাই যথেষ্ট নয়। এছাড়া বিটরুটের রসে থাকা ডায়েটারি নাইট্রেট রক্তপ্রবাহ ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে এবং কমলার রস বা গরম দুধের সঙ্গে কলা খাওয়ার অভ্যাসও শক্তির জোগান দেয়। তবে সব ধরনের ব্যায়ামের জন্য একই পানীয় প্রযোজ্য নয়। এক ঘণ্টার কম সময়ের মাঝারি ব্যায়ামের ক্ষেত্রে কেবল সাধারণ পানিই যথেষ্ট হতে পারে। প্রতিদিন প্রি-ওয়ার্কআউট পানীয় গ্রহণ বাধ্যতামূলক না হলেও, শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যগত জটিলতা যেমন ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে এসব পানীয় নির্বাচনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সূত্র: এনডিটিভি


চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৯:৩৭:২৩
চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ
ছবি : সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিষয়ে ‘ফেরিটিন ফেস’ নামক একটি ট্রেন্ড ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ট্রেন্ডের দাবি অনুযায়ী, চোখের নিচে কালো দাগ, ফ্যাকাশে ত্বক ও চুল পড়ার মতো সমস্যাগুলো শরীরে আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মুখাবয়বের এসব দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখে শরীরে আয়রন বা ফেরিটিনের মাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, কারণ এসব উপসর্গের পেছনে আরও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে।

ফেরিটিন মূলত একটি প্রোটিন, যা মানবদেহে আয়রন সঞ্চয় করে রাখে। লোহিত রক্তকণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন সারা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহের কাজ করে, আর এই হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রধান উপাদান হলো আয়রন। শরীরে আয়রনের সঞ্চয় কমে গেলে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেলে তা ‘আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া’ বা রক্তস্বল্পতায় রূপ নেয়।

ত্বক ফ্যাকাশে হওয়া বা চোখের নিচে কালচে ছোপ পড়া আয়রনের ঘাটতির সম্ভাব্য লক্ষণ হলেও জিনগত কারণ, অপর্যাপ্ত ঘুম, অ্যালার্জি বা বয়সের কারণেও তা হতে পারে। একইভাবে চুল পড়ার পেছনে থাইরয়েড, মানসিক চাপ ও হরমোনের সামঞ্জস্যহীনতা ভূমিকা রাখে। নখ দুর্বল হয়ে বাঁকা হওয়া কিংবা মুখের কোণে ফাটল ধরার মতো সমস্যা কেবল পুষ্টির অভাব নয়, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা চর্মরোগের কারণেও দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে আয়রনের ঘাটতির প্রকৃত লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব ও নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের মধ্যে কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না।

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড দেখে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্তে আয়রনের সঠিক মাত্রা জানতে ফেরিটিন ব্লাড টেস্ট ও সিবিসি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা বিপজ্জনক, কারণ শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

/আশিক


কফি স্ক্রাবেই মিলবে কোরিয়ানদের মতো ‘গ্লাস স্কিন’

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৯:১৯:৫৭
কফি স্ক্রাবেই মিলবে কোরিয়ানদের মতো ‘গ্লাস স্কিন’
ছবি : সংগৃহীত

কোরিয়ানদের মতো কাচের মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল ত্বক বা ‘গ্লাস স্কিন’ পাওয়ার জনপ্রিয় ট্রেন্ডের ছোঁয়া এখন রূপচর্চাপ্রেমীদের মুখে মুখে। এই ধরনের সতেজ ও প্রাণবন্ত ত্বক পেতে বাজারে রকমারি প্রসাধনী পাওয়া গেলেও ঘরোয়া উপায়ে খুব সহজেই ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কফি দিয়ে তৈরি ফেস স্ক্রাব অন্যতম কার্যকরী ও সুপরিচিত একটি মাধ্যম হিসেবে নজর কাড়ছে। কফি কেবল ক্লান্তি দূর করতেই নয়, বরং রূপচর্চাতেও সমানভাবে ভূমিকা রাখে। এর সূক্ষ্ম দানাগুলো ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ আলতোভাবে দূর করে এবং ম্যাসাজের ফলে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বককে ভেতর থেকে সতেজ ও উজ্জ্বল করে তোলে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. চঞ্চল শর্মার মতে, কফির ফেস স্ক্রাব মূলত একটি চমৎকার ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। কফির ছোট ছোট কণা ত্বককে আলতোভাবে ঘষে পরিষ্কার করে মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে। ঘরে থাকা নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু কিংবা দইয়ের সঙ্গে কফি মিশিয়ে খুব দ্রুতই এর কার্যকর পেস্ট তৈরি করা সম্ভব। কফি স্ক্রাব ব্যবহারে ত্বকের মৃত কোষ দূর হওয়ার পাশাপাশি ক্যাফেইনের উপস্থিতির কারণে মুখ সতেজ দেখায় এবং চোখের নিচের ফোলাভাব কমে আসে। এ ছাড়া কফিতে থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী উপাদান ত্বকের লালচে ভাব ও সংবেদনশীলতা কমাতেও বেশ সহায়ক।

রূপচর্চার সুবিধার্থে ঘরে বসেই খুব সহজে তৈরি করা যায়—এমন ৭টি কফি স্ক্রাবের বিস্তারিত প্রস্তুত প্রণালী ও ব্যবহারবিধি উল্লেখ করা হলো

১. কফি, নারকেল তেল ও মধু

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল এবং ১ টেবিল চামচ মধু একসাথে মিশিয়ে ঘন পেস্ট বানিয়ে নিন। এটি মুখে আলতো করে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

২. কফি, লেবুর রস ও অলিভ অয়েল

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্রস্তুত করুন। সংবেদনশীল চোখের চারপাশ এড়িয়ে মুখে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৩. কফি, অ্যালোভেরা ও ক্যামোমাইল

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল ও ১ চা চামচ ক্যামোমাইল চা মিশিয়ে মুখে প্রয়োগ করুন। হালকা ম্যাসাজের পর ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

৪. কফি ও বেন্টোনাইট ক্লে

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ বেন্টোনাইট ক্লে এবং ১ টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে পেস্ট বানান। মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট শুকানোর সুযোগ দিন এবং এরপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

৫. কফি, অ্যাভোকাডো ও জোজোবা অয়েল

১ টেবিল চামচ চটকে নেওয়া অ্যাভোকাডোর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়া ও ১ টেবিল চামচ জোজোবা অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান। হালকা হাতে ম্যাসাজ শেষে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

৬. কফি, গ্রিন টি ও রোজহিপ অয়েল

লিকার তৈরি করে ঠান্ডা করা গ্রিন টি-র সঙ্গে ২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়া ও ১ চা চামচ রোজহিপ অয়েল মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

৭. কফি, ব্রাউন সুগার ও মধু

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ ব্রাউন সুগার এবং ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। সার্কুলার মোশনে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

তবে প্রাকৃতিক এসব স্ক্রাব ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক। যেকোনো নতুন স্ক্রাব মুখে সরাসরি ব্যবহারের আগে ত্বকের একটি ছোট অংশে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। স্ক্রাব করার সময় কখনই ত্বক জোরপূর্বক ঘষা যাবে না এবং সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বারের বেশি এটি ব্যবহার না করাই শ্রেয়। স্ক্রাবিং সম্পন্ন করার পরপরই ত্বকে একটি উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। আর যদি ত্বকে কোনো ধরনের চর্মরোগ, তীব্র অ্যালার্জি বা জটিলতা থাকে, তবে ঘরোয়া যেকোনো স্ক্রাব ব্যবহারের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: হেলথশটস


দৈনিক মাত্র চার ঘণ্টা ঘুম ডেকে আনছে বড় বিপদ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৯:০২:৪৬
দৈনিক মাত্র চার ঘণ্টা ঘুম ডেকে আনছে বড় বিপদ
ছবি : সংগৃহীত

কাজের চাপ ও দুশ্চিন্তার কারণে সাময়িকভাবে ঘুম কম হওয়া স্বাভাবিক হলেও রাতের পর রাত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া মারাত্মক শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুম শুধু শারীরিক ক্লান্তি বা অবসাদই তৈরি করে না, বরং পুরুষদের শুক্রাণুর মান কমিয়ে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যেসব পুরুষ রাতে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান, তাদের এই স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

আমাদের শরীরে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে চলা জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’-এর ওপর ভিত্তি করে চব্বিশ ঘণ্টার নানা গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ ও হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। হার্ভার্ডের গবেষকদের পরীক্ষামূলক তথ্যে দেখা গেছে, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে জেগে থাকেন এবং ভোরের দিকে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান, তার শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শুক্রাণুর উৎপাদন ও গুণগত মান দুটোই নষ্ট হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।

এছাড়া দেহঘড়ির ছন্দপতন ঘটলে ‘স্ট্রেস হরমোন’ বা কর্টিসলের ক্ষরণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা আরও কমিয়ে দেয়। এর ফলে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপপনিয়া’ নামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে, যাতে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই দেহঘড়ি বিঘ্নিত হতে থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক ঝুঁকির পাশাপাশি শুক্রাণুর সংখ্যাও হ্রাস পেতে পারে। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য রাতে টানা ও পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি এবং ঘুম না আসলে মেডিটেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


পুষ্টিতে ভরপুর কলা: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় একে রাখা কেন জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৯:৫৪:৫৯
পুষ্টিতে ভরপুর কলা: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় একে রাখা কেন জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

শীতকাল এলেই আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা ও বিভ্রান্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যার মধ্যে অন্যতম হলো শীতের দিনে বা রাতে কলা খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা বাড়ে কি না। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য এই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করে না। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শীতকালে খাদ্যতালিকা থেকে কলা বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। যদিও সাইনাস বা শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন, তবে শীতকালীন পুষ্টির চাহিদা পূরণে কলার জুড়ি মেলা ভার।

শীতের ঠান্ডায় হাড়ের সুরক্ষা ও শারীরিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম ও বিভিন্ন খনিজের ভূমিকা অপরিসীম। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলা হলো পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফোলেট, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন এবং ভিটামিন বি৬-এর একটি শক্তিশালী উৎস। এছাড়া নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডস-এর একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যাপ্ত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কার্ডিওভাসকুলার ও করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমাতে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করে। পাশাপাশি কলার পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতেও কাজ করে।

হজম প্রক্রিয়া ও শক্তির যোগানেও কলার রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কলায় প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার থাকায় এটি হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। সকালের নাস্তায় কলা রাখলে সারাদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায় এবং বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে। তবে শীতের রাতে কলা খাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। পুষ্টির দিক থেকে রাতের বেলা মিষ্টি খাওয়ার স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে কলা, এবং সন্ধ্যার দিকে বা জিম করার পর এটি পেশির ক্লান্তি দূর করে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী রাতে কলা পরিহার করাই শ্রেয়, কারণ এটি হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয় এবং শ্লেষ্মা বা কাশির প্রকোপ বাড়াতে পারে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, শীতকালে কলা অত্যন্ত উপকারী একটি ফল হলেও কিছু বিশেষ শারীরিক সমস্যায় বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। সর্দি-কাশি, সাইনাস কিংবা অ্যাজমার মতো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শীতের রাতে কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকা বা তা সীমিত করা উচিত, কারণ এটি শরীরে শ্লেষ্মার অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

/আশিক


মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৯:৫৪:২০
মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরা। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা বজায় রাখাও সমানভাবে জরুরি। কাজের অতিরিক্ত চাপ, ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়মিত ঘুম এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চাপের মধ্যে থাকলে তা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন কাজকে ব্যাহত করে।

মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে নিজের অনুভূতির যত্ন নেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে বিশ্বস্ত মানুষের সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যুক্ত করলেই মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর করতে নিয়মিত শরীরচর্চা বা হাঁটা, এবং পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া। এছাড়া প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের পছন্দের কাজের জন্য কিছুটা সময় রাখা, মনের জমা থাকা কথা কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করা এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার কৌশল আয়ত্ত করা দরকার।

একসঙ্গে অতিরিক্ত কাজের চাপ না নিয়ে কাজকে ছোট ভাগে ভাগ করা এবং কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে মানসিক শান্তি রক্ষার্থে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করা এবং অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করে হতাশা তৈরি হওয়া থেকে দূরে থাকা জরুরি। মন খারাপ বা উদ্বেগকে অস্বাভাবিক না ভেবে নিজের অনুভূতিকে মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা পেশাদার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। মানসিক সুস্থতা একদিনে অর্জন করা সম্ভব নয়; বরং ছোট ছোট ধারাবাহিক অভ্যাসের মাধ্যমেই এটি দীর্ঘস্থায়ী করা যায়।

/আশিক


ডিজিটাল হচ্ছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২১:৫০:১৬
ডিজিটাল হচ্ছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন
ছবি : সংগৃহীত

তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করা বন্ধে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। নতুন এই অনলাইন ব্যবস্থায় সংরক্ষিত তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সাথে সমন্বয় করা হবে। এর ফলে যেকোনো বিয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আগের বৈবাহিক তথ্যাদি সহজেই অনলাইনে যাচাই করে নেওয়া সম্ভব হবে।

শনিবার রাজধানীর নিকেতনে অবস্থিত ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের (কাজী) জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী এক আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেন। ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক এই বিশেষ কর্মশালায় দেশের নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অনলাইন নিবন্ধন পদ্ধতি পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রতিটি নিকাহ রেজিস্ট্রারকে এই ডিজিটাল নিবন্ধন কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং এ উদ্দেশ্যে কাজীদের প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ে ও তালাকের সব তথ্য ডিজিটাল সার্ভারে সংরক্ষিত থাকলে প্রতারণামূলকভাবে আগের বৈবাহিক অবস্থা গোপন রেখে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে। একই সাথে এই পদক্ষেপে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ ও বেআইনি বহুবিবাহ রোধ করাও অনেকটাই সহজতর হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে এনআইডি, পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সাথে বৈবাহিক তথ্য যুক্ত হওয়ায় একজন নাগরিকের সার্বিক পরিচয়ভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি সম্পর্কিত বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পরিচয়গত সব তথ্য একক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করা যাবে।

অনলাইন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, ভবিষ্যতে কোনো নাগরিকের মৃত্যুর পর সম্পত্তি বা উত্তরাধিকার সূত্রে স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে একাধিক দাবি কিংবা জটিলতা তৈরি হলে নিবন্ধিত ডিজিটাল তথ্য দেখে বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত পারিবারিক বিরোধ ও বিচারালয়ে দীর্ঘমেয়াদি মামলা-মোকদ্দমার ঝোঁক অনেকটাই হ্রাস পাবে, যা শেষ পর্যন্ত বিচার বিভাগের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাবে।

/আশিক


শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া প্রকাশ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২০:০৭:৩২
শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

মেদ ঝরার পর শরীরের অতিরিক্ত চর্বি আসলে কোথায় উধাও হয়ে যায়—ঘাম হয়ে ঝরে পড়ে, নাকি মলমূত্রের মাধ্যমে বের হয়ে যায়—এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। আপাতদৃষ্টে বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও এর অন্তরালে রয়েছে বিজ্ঞানের এক নিখুঁত ও চমৎকার রসায়ন, যার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

মানবদেহে মেদ জমার প্রক্রিয়াটি মূলত শুরু হয় প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাস থেকে। দৈনন্দিন গৃহীত চর্বিযুক্ত খাবারগুলো মানব পাচনতন্ত্রে গিয়ে ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে ফ্যাটি অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়। শরীর এই ফ্যাটি অ্যাসিডের কিছুটা অংশ কোষ গঠন, গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং ভেতরের সংবেদনশীল অঙ্গগুলো সুরক্ষার কাজে কাজে লাগায়। আর অবশিষ্ট অতিরিক্ত অংশটুকু ট্রাইগ্লিসারাইড যৌগ হিসেবে জমা থাকে ফ্যাট সেলে, যা পরবর্তীতে আকস্মিক শক্তির সংকট দেখা দিলে ব্যবহারের জন্য রক্ষিত থাকে। সাধারণত এই চর্বি চামড়ার নিচের স্তরে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চারপাশে জমতে থাকে।

তবে আসল পরিবর্তন শুরু হয় যখন কোনো ব্যক্তি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা শারীরিক কসরত শুরু করেন। শরীর যখন গৃহীত খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত শক্তি পান না এবং ক্যালরির ঘাটতি সৃষ্টি হয়, তখন হরমোন ও স্নায়বিক সংকেতের প্রভাবে ফ্যাট সেলগুলো সাড়া দিতে শুরু করে। বিজ্ঞানের ভাষায় চর্বি ক্ষয় বা চর্বি ভাঙার এই জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'লাইপোলাইসিস'।

লাইপোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ট্রাইগ্লিসারাইড ভেঙে উৎপন্ন ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের মূল শক্তির কেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রবেশ করে। সেখানে 'বিটা-অক্সিডেশন' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো ভেঙে প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই সামগ্রিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার চূড়ান্ত উপজাত বা বর্জ্য হিসেবে মূলত দুটি উপাদান তৈরি হয়—কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি।

সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই ধারণা কাজ করে যে অতিরিক্ত মেদ ঝরা মানেই শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হওয়া। তবে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, মূল বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। চর্বি ক্ষয় হওয়ার পর তার সিংহভাগ অংশই ফুসফুসের মাধ্যমে আমরা যখন শ্বাস ত্যাগ করি, তখন বাতাস থেকে বাতাসে মিলিয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়প্রাপ্ত মেদের প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়ে নিশ্বাসের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। আর অবশিষ্টাংশ বা ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাব এবং অন্যান্য শারীরিক তরলের আকারে নিষ্কৃত হয়।

তবে এ থেকে দ্রুত নিশ্বাস ফেলে মেদ কমানোর কোনো সুযোগ নেই। অনবরত দ্রুত শ্বাস ফেললেই শরীরে জমানো চর্বি গলে যায় না, কারণ শ্বাস ত্যাগ করা হলো কেবল পোড়া চর্বির বর্জ্য নিষ্কাশনের একটি মাধ্যম, চর্বি পোড়ানোর মূল চালিকাশক্তি নয়। শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বির মজুত কাটাতে হলে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, কায়িক ব্যায়াম এবং পরিমিত সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে ক্যালরির সঠিক ঘাটতি তৈরি করাই একমাত্র বৈজ্ঞানিক উপায়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: