রান্নাঘর হারালে ভাঙে পরিবার: যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত ও বাংলাদেশের সতর্কবার্তা

বাড়ির রান্না: পারিবারিক ঐক্য, স্বাস্থ্য ও ঐতিহ্য রক্ষার চাবিকাঠি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৭ ১৭:০৫:৪৩
বাড়ির রান্না: পারিবারিক ঐক্য, স্বাস্থ্য ও ঐতিহ্য রক্ষার চাবিকাঠি
ঘরের খাবারে শুধু পেট নয়, ভরে ওঠে হৃদয়ও। ছবি: AI

সংগঠিত সমাজ ও সুস্থ পরিবারের ভিত্তি গড়ে উঠে গৃহকেন্দ্রিক কার্যকলাপে। সম্প্রতি আমেরিকার পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, সময়ের সাথে সাথে সেখানে বিবাহিত দম্পতির গৃহস্থের ভাগ কমে যাচ্ছে । ১৯৭০ সালে মোট পরিবারের ৭১% অংশ ছিল বিবাহিত দম্পতির, যা ২০২২ সালে মাত্র ৪৭%। একই সময়ে “অনাম (nonfamily)” পরিবারের অংশ ১৯৭০-এর ১৯% থেকে ২০২২ সালে ৩৬%-এ উঠেছে। অর্থাৎ অনেক মানুষ একা বসবাস বা একক অভিভাবক পরিবার গঠন করছে। ডিভোর্সের হারও আমেরিকায় বেশি; সাম্প্রতিক তথ্যে প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে ২.৪ জন ডিভোর্স করেছে। এই পরিবর্তনগুলো একদিকে ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রকাশ করলেও, পরিবারিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করে।

গবেষণা বলছে, পরিবারের সবার মিলিত রান্না ও মিলিত খাওয়ার চর্চা পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্কের বন্ধন জোরদার করে। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, “পারিবারিক রান্না ও মিলিত আহার” মানসিক সংযোজন বাড়ায়, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে। নিয়মিত পরিবারের সকল সদস্য একসঙ্গে বসে খেলে খাদ্যগুণ ভালো হয় এবং অসুস্থ অভ্যাস কমে যায়। বিপরীতে, বাড়ির বাইরে খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়লে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং স্থুলকায়ীতা, ডায়াবেটিস-কার্ডিওভাসকুলার রোগসহ দীর্ঘমেয়াদী অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। এই সব তথ্য থেকে বোঝা যায়, কেবল ঘরের বেডরুম থাকলেই পরিবার হয় না; রান্নাঘর থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা ও ঝুঁকি

বাংলাদেশ এখন দ্রুত নগরায়ন ও ডিজিটাল জীবনে ঢুকে পড়ছে। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট সুবিধা বৃদ্ধির ফলে শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যে অনলাইন খাবার অর্ডার করার অভ্যাস বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক গবেষণায় উল্লেখ আছে যে কোভিড মহামারীর সময়ে অনেকেই খাদ্য সরবরাহ অ্যাপ ব্যবহার করেছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ দিচ্ছে ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ”। ঢাকাসহ বড় শহরে ফুডপান্ডা, পাঠাও ফুড ইত্যাদি জনপ্রিয়, বিশেষ করে ব্যস্ত কর্মজীবীদের মধ্যে।

এদিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত পরিবার কাঠামোয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২২ সালের গৃহ আয়-ব্যয় জরিপ অনুসারে গ্রামীণ এলাকায় গড় পরিবারের সদস্যসংখ্যা ২০১০ সালের ৪.৫৩ থেকে কমে ৪.৩০ হয়েছে। অর্থাৎ যুগের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের মিলিত পরিবারের সংখ্যা কমে, নিউক্লিয়ার (পরিবার-শিশুদের নিয়ে পিতা-মাতা) পরিবার বাড়ছে। ঢাকার মতো মহানগরীর জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক চাপ ও শেখা-দেখা উন্নতির কারণে এই ধারা ত্বরান্বিত হয়েছে।

বিবাহবিচ্ছেদও বাংলাদেশে বেড়েছে। সরকারি জরিপে দেখা গেছে ২০২২ সালে দেশে প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে ডিভোর্সের হার ১.৪ (২০২১ সালে ০.৭) হয়েছে, যা এক বছরে দ্বিগুণ। এই প্রবণতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান প্রভাবিত করছে। যদিও বাংলাদেশে বিবাহ সংকটকে সামাজিকভাবে যথেষ্ট নেগেটিভ মনে করা হয়, তবুও শিক্ষা, চাকরি ও সচেতনতার কারণে মানুষ কঠিন সম্পর্ক থেকে বের হয়ে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে উৎসাহী হচ্ছে ।

খাদ্য ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি বাংলাদেশেও স্পষ্ট। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, বাইরে তৈরি খাবার অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররাই দ্রুত খাবারে বেশি আকৃষ্ট; তারা ফাস্ট ফুড খেলে সাধারণত বেশি ক্যালরি এবং কম পুষ্টি গ্রহণ করে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, রাস্তার ও স্ট্রিট ফুডে জীবাণু এবং দূষণের মাত্রা বেশি; ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্রি হওয়া চটপট, নুডলস ইত্যাদির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অন্ত্র সংক্রমণ, পেটের সমস্যা এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রোগ হতে পারে। পাশাপাশি বাড়ির বাইরে খাবারে ফ্যাট, চিনি, নোনতা বেড়ে যাওয়ার কারণে স্থুলতাও বাড়ছে।

বাংলাদেশেও অস্বাস্থ্যকর বাইরে খাবার খাওয়ার প্রভাব মানসিক এবং অর্থনৈতিকউভয় ধরনের হতে পারে। পরিবার ভেঙে গেলে মানসিক চাপ বাড়ে; আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা খরচ বাড়ে

প্রাত্যহিক অভ্যাস পরিবর্তন: অনেক মধ্যবিত্ত শহরবাসী এখন রেস্তোরাঁ খাওয়ার অভ্যেসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। পরিবারের সবাই মিলে প্রতিদিন বা নিয়মিত রাঁধা খাবার খাওয়ার পরিবর্তে বাইরে বা ডেলিভারি ভরা ফুডে নির্ভর করছে।

ফ্যামিলি টাইম: পরিবারের সকলে একসঙ্গে বসে খাবার গ্রহণ মানসিক সুস্থতাসহ পারস্পরিক বোঝাপড়াকে বাড়ায়। এটি না থাকলে বাবা-মা, সন্তানদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে।

পুষ্টিমানের অবক্ষয়: বাইরে তৈরি খাবারে অধিকাংশ সময়ে তেল, ক্যালরি থাকে বেশি; ফলশ্রুতিতে শিশু ও বয়স্ক উভয়েরই পুষ্টি প্রাপ্তি কমতে পারে।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: আমাদের পূর্বপুরুষরা ভ্রমণে গিয়েও নিজস্ব রান্না ভাত নিয়ে যেতেন। এটি শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি পরিবারিক ঐক্যকে টিকিয়ে রাখত। আজ সেই ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে পারিবারিক বন্ধন ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

সুপারিশ ও সমাধান

বাংলাদেশে যদি এই খাওয়ার পরিবর্তিত অভ্যাস অব্যাহত থাকে, তবে আমেরিকার মতো পারিবারিক বিচ্ছেদের ঝুঁকি রয়েছে। তবে এটি প্রতিহত করা সম্ভব। গবেষণায় বিশেষ করে নির্দেশ আছে, পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে রান্না ও খেতে বসার অভ্যাস বৃদ্ধি করতে হবে। এতে খাদ্যবস্তুর পুষ্টিমান ভালো থাকে এবং পারস্পরিক আলাপচারিতা গড়ে ওঠে।

পরিবারে মিলিতভাবে রাঁধুন: প্রতিদিন বা সপ্তাহে অন্তত কয়েকবার পরিবারের সবাই মিলে রান্না ও খাবার সময় নির্ধারণ করুন। যৌথ আহার পারিবারিক ঐক্য ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতন পুষ্টি: বাইরে খাবারের চেয়ে বাড়িতে রান্না করা খাবার পুষ্টিগুণে নির্ভরযোগ্য। অভিজ্ঞদের মতে, “ঘরে তৈরি খাবার” সাধারণত সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়। তাই ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড কম খেয়ে শাকসবজি, মাছ-মাংস, ডাল ইত্যাদি বাড়িতে রান্না করুন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা: পরিবার-পরিজনকে বাইরে খাবারের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষা দিন। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া তরুণদের মধ্যে হেলথি ডায়েটের সচেতনতা বৃদ্ধি করুন।

পশুপালন ও কৃষি: বাড়িতে পেঁয়াজ, রসুন কিংবা একটি হাঁস/মুরগি পালন করে, চাষ-বাগান করে নিজস্ব খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে। গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে গৃহপালিত পশুপালন বাড়ালে বাড়ির বাইরে খাবারের ওপর নির্ভরতা কমে।

সামাজিক মাধ্যমের দায়িত্ব: ফেসবুক, ইউটিউব বা টেলিভিশনে হঠাৎ ফ্যাশন বা বিখ্যাত খাবার তেমন প্রভাব ফেলছে, এর বদলে পরিবার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক বার্তা প্রচার করা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় রান্নার সঠিক পদ্ধতি, পুষ্টি ও পরিবার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণা চালান।

জনজীবনে ভোগবাদী সংস্কৃতি আর প্রযুক্তির বেড়ে চলা প্রভাব এড়ানো কঠিন, তবে সচেতনভাবে নিজেকে ও পরিবারের জন্য সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়তে পারি। আমাদের পূর্বপুরুষরা বার্তা দিয়েছেন যে বাড়ির রান্না পরিবারের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে। আমেরিকান উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশি পরিবারগুলিকেও বাড়িতে রান্নাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এর ফলে পারিবারিক ঐক্য টিকে থাকবে, মানসিক-শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং সামগ্রিকভাবে সমাজ সুদৃঢ় হবে।


তপ্ত গরমেও চুল থাকবে রেশমি ও ঝলমলে! জেনে নিন ৫টি সহজ টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১২:৫০:৩৮
তপ্ত গরমেও চুল থাকবে রেশমি ও ঝলমলে! জেনে নিন ৫টি সহজ টিপস
ছবি : সংগৃহীত

গরমে ত্বকের পাশাপাশি চুলের অবস্থাও নাজেহাল হয়ে পড়ে। প্রখর রোদ, ঘাম আর ধুলাবালির প্রভাবে চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, খুশকি বা অতিরিক্ত চুল পড়ার মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। তবে একটু সচেতন হয়ে সঠিক উপায়ে যত্ন নিলে এই তপ্ত গরমেও আপনার চুল থাকবে সুস্থ, ঝলমলে ও প্রাণবন্ত।

চুলের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। গরমে মাথার ত্বক বেশি ঘামে বলে ময়লা দ্রুত জমে, তাই সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।

পাশাপাশি চুলের পুষ্টির জন্য সপ্তাহে ১-২ বার নারকেল বা অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করলে চুল নরম ও মজবুত হয়।

এছাড়া এই সময়ে হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনারের মতো হিট স্টাইলিং টুলস এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ অতিরিক্ত তাপ চুলের রুক্ষতা বাড়িয়ে দেয়।

চুলের বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পুষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন—মাছ, ডিম ও শাকসবজি চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া সপ্তাহে একদিন ডিম, দই বা অ্যালোভেরার প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাক ব্যবহার করলে চুল প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। রোদে বের হওয়ার সময় ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চুল সুরক্ষিত রাখলে গরমেও চুল থাকবে উজ্জ্বল।

সূত্র : এনডিটিভি


কেন খাবেন পান্তা ভাত? জেনে নিন বৈশাখী এই খাবারের বিস্ময়কর উপকারিতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১২:১৪:০৬
কেন খাবেন পান্তা ভাত? জেনে নিন বৈশাখী এই খাবারের বিস্ময়কর উপকারিতা
ছবি : সংগৃহীত

পহেলা বৈশাখ মানেই পান্তা-ইলিশের আমেজ। সারা বছর খুব একটা খাওয়া না হলেও বছরের প্রথম দিনটিতে পান্তা ভাত বাঙালির পাত পেড়ে খাওয়ার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে পান্তা ভাত কেবল লোকজ ঐতিহ্যই নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের দারুণ সব স্বাস্থ্যগুণ। দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজে থাকায় ভাতের পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেড়ে যায়, যা আমাদের শরীরের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, পান্তা ভাত প্রিবায়োটিক এবং প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ একটি খাবার, যা অন্ত্রের সংক্রমণ রোধ করে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ভাতের পানিতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পদার্থ শরীরকে সতেজ রাখে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

বিশেষ করে বৈশাখের এই প্রখর গরমে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দূর করতে পান্তা ভাতের কোনো বিকল্প নেই। এতে থাকা ল্যাকটিক এসিড অনিদ্রা দূর করে এবং শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। যারা কোলেস্টেরল কমানোর চিন্তায় থাকেন, তাদের জন্য পান্তা ভাত একটি আদর্শ খাবার হতে পারে।

পান্তা ভাত তৈরি করাও অত্যন্ত সহজ। আগের রাতের রান্না করা ভাতে পানি দিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখলেই সকালে তা খাওয়ার উপযুক্ত হয়। পান্তার সঙ্গে একটু লবণ, পোড়া মরিচ, ডিম ভাজা কিংবা পছন্দের ভর্তা ও মাছ ভাজা থাকলে পহেলা বৈশাখের খাবারের তৃপ্তি ষোলো আনা পূর্ণ হয়।

/আশিক


কফিশপ নয়, ডেটিংয়ের জন্য এখন কবরস্থানই পছন্দ জেন-জিদের!

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৭:৪০:১৩
কফিশপ নয়, ডেটিংয়ের জন্য এখন কবরস্থানই পছন্দ জেন-জিদের!
ছবি : সংগৃহীত

কফিশপ বা জনাকীর্ণ পার্কের বদলে জেন-জি (Gen-Z) তরুণ-তরুণীদের ডেটিংয়ের জন্য কবরস্থানকে বেছে নেওয়া শুনতে কিছুটা অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘ইন্ডিয়া টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এই নতুন ও সিনেমাটিক ট্রেন্ডের পেছনের চমকপ্রদ কারণগুলো উঠে এসেছে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশ এবং গভীর আলাপচারিতার সুযোগ থাকায় এটি এখন জেন-জি প্রজন্মের কাছে নতুন এক রোমান্টিক আবহে পরিণত হচ্ছে।

মূলত শহরজুড়ে ক্যাফে বা রেস্তোরাঁগুলোতে এখন তিল ধারণের জায়গা থাকে না, থাকে মানুষের কৌতূহলী নজর। এর বিপরীতে কবরস্থান দেয় নিঝুম শান্তি এবং পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এখানে নেই কোনো প্রমাণের চাপ বা অস্বস্তিকর নজরদারি, ফলে যুগলরা নির্ভার হয়ে একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে পারেন।

পুরোনো পাথরের সমাধি আর বড় বড় গাছের ছায়ায় ঘেরা এই নীরব বিষণ্ন পরিবেশটি তাঁদের কাছে হয়ে ওঠে দারুণ ‘নান্দনিক’ বা সিনেমাটিক। অনেকটা ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’ সিনেমার সেই দৃশ্যের মতো, যা তাঁদের নিজেদের গল্পের ‘মেইন ক্যারেক্টার’ বা প্রধান চরিত্র হিসেবে অনুভব করতে সাহায্য করে।

এই ট্রেন্ডের পেছনের মনস্তাত্ত্বিক দিকটি হলো—মৃত্যুর স্মৃতিঘেরা এমন পরিবেশে স্বাভাবিকভাবেই অগভীর বা অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা কম হয়। বরং মানুষ অবলীলায় জীবন, অস্তিত্ব এবং সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে আলোচনা শুরু করে।

ফলে সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত ও বাস্তব হয়ে ওঠে। যেখানে চারপাশে শুধু শব্দ আর ব্যস্ততা, সেখানে এই নীরবতাকেই সবচেয়ে বড় বিলাসিতা হিসেবে দেখছে বর্তমান প্রজন্ম। ভৌতিক বা অদ্ভুত লাগলেও জেন-জিদের কাছে এটিই এখন ঘনিষ্ঠতার এক নতুন সংজ্ঞা।

/আশিক


ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করেও বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৫টি জাদুকরী উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১২:৩৭:৫৫
ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করেও বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৫টি জাদুকরী উপায়
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে অনেকেই রান্নার বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন চুলার দিকে ঝুঁকছেন। তবে মাস শেষে চড়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তাও কম নয়। রান্নার পদ্ধতিতে সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করলে ইন্ডাকশন চুলায় বিদ্যুতের খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচটি পরিবর্তন আপনার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে

সঠিক বাসনের ব্যবহার

ইন্ডাকশন চুলা মূলত তড়িৎ-চৌম্বকীয় (Electromagnetic) ক্ষেত্রের মাধ্যমে কাজ করে। তাই রান্নার জন্য সবসময় কাস্ট আয়রন বা ম্যাগনেটিক স্টেইনলেস স্টিলের ফ্ল্যাট বা সমান তলা বিশিষ্ট বাসন ব্যবহার করুন। বাসনের তলা যদি অসমান বা আঁকাবাঁকা হয়, তবে শক্তি আদান-প্রদান ব্যাহত হয় এবং প্রচুর বিদ্যুতের অপচয় ঘটে।

রান্নার আগে প্রস্তুতি ও ভেজানো

রান্না শুরু করার অন্তত ৩০ মিনিট আগে চাল, ডাল বা যেকোনো শস্য পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে দানাগুলো আগে থেকেই নরম হয়ে যায় এবং ইন্ডাকশনে বসানোর পর খুব দ্রুত সেদ্ধ হয়। কম সময় চুলা চললে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের ইউনিট কম পুড়বে।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ঢেকে রান্না

ইন্ডাকশন চুলা খুব দ্রুত গরম হয়, তাই সবসময় 'ফুল পাওয়ার'-এ রান্না করার প্রয়োজন নেই। পানি ফুটে গেলে বা কড়াই গরম হয়ে গেলে পাওয়ার কমিয়ে দিন। এছাড়া রান্নার সময় সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করুন। এতে তাপ ভেতরে আটকে থাকে এবং খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়, ফলে কয়েলকে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে হয় না।

পরিচ্ছন্নতা ও স্মার্ট সুইচিং

ইন্ডাকশনের গ্লাস-সেরামিক উপরিভাগ সবসময় পরিষ্কার রাখুন। ময়লা বা পোড়া খাবারের স্তর থাকলে কয়েল এবং বাসনের মধ্যে চৌম্বকীয় শক্তি স্থানান্তরে বাধা সৃষ্টি হয়। এছাড়া রান্না পুরোপুরি শেষ হওয়ার ২-৩ মিনিট আগেই সুইচ বন্ধ করে দিন। বাসনের তলায় যে অবশিষ্ট তাপ থাকে, তা দিয়েই রান্নার শেষ অংশটুকু সম্পন্ন করা সম্ভব।

সচেতনভাবে এই নিয়মগুলো মেনে চললে ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করেও আপনি আপনার বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

/আশিক


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তা? মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১১:৪০:৪৫
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তা? মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বাসা-বাড়িতে ফ্যান, এসি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকেই। গ্রীষ্মকালে ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং কিছু অসতর্কতার কারণে বিদ্যুৎ খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তবে কিছু সহজ ও সচেতন পদক্ষেপ নিলে এই বাড়তি বিল অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষ করে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির বদলে ২৪–২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখলে প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়ার জন্য প্রায় ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়। এর পাশাপাশি এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং সাথে ফ্যান ব্যবহার করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় ও এসির ওপর চাপ কম পড়ে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখাও বেশ কার্যকর; দিনের বেলা জানালার পর্দা টেনে রাখলে ঘরে তাপ কম ঢোকে এবং বিকেলে বাতাস চলাচলের সুযোগ দিলে ঘর স্বাভাবিকভাবেই শীতল থাকে।

এছাড়া টিভি, চার্জার বা মাইক্রোওয়েভের মতো ডিভাইসগুলো স্ট্যান্ডবাই মোডে না রেখে কাজ শেষে প্লাগ খুলে রাখলে অপ্রয়োজনীয় অপচয় রোধ করা যায়।

ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেটি দেয়াল থেকে কিছুটা দূরে রাখা, গরম খাবার সরাসরি ভেতরে না দেওয়া এবং ‘সামার মোড’ ব্যবহার করা জরুরি।

ফিলামেন্ট বা টিউবলাইটের পরিবর্তে এলইডি বাতি ব্যবহার করলে কম শক্তিতে বেশি আলো পাওয়া সম্ভব। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করলেই মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলে বড় ধরনের সাশ্রয় করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

/আশিক


গরমে ঘামাচির জ্বালায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন নিমিষেই মুক্তির ৯টি ঘরোয়া উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১১:৪৩:০৪
গরমে ঘামাচির জ্বালায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন নিমিষেই মুক্তির ৯টি ঘরোয়া উপায়
ছবি : সংগৃহীত

গরম বাড়ার সাথে সাথেই ত্বকের অন্যতম যন্ত্রণদায়ক সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় ঘামাচি, র‍্যাশ এবং চুলকানি। অতিরিক্ত গরমে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়, যা শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাইকেই অস্বস্তিতে ফেলে। বিশেষ করে ঘামাচির জায়গায় জামা-কাপড়ের ঘর্ষণ লাগলে জ্বালাপোড়া আরও বেড়ে যায়। এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া কিছু কার্যকর সমাধান মেনে চলতে পারেন:

ঘামাচি ও র‍্যাশ দূর করার ৯টি ঘরোয়া উপায়

১. একটি পরিষ্কার শুকনো কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ বেঁধে ঘামাচির ওপর ১০-১৫ মিনিট ধরে হালকা করে লাগান। এটি নতুন করে ঘাম বসতে দেবে না। দিনে ৩-৪ বার এটি করলে দ্রুত আরাম পাবেন।

২.নিম পাতা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে কাজ করে। নিম পাতার রসের সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগালে ঘামাচি ও চুলকানি দুই-ই কমে।

৩. বাইরে বের হন বা না হন, সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। ঘাম জমতে না দিলে ঘামাচির ভয় থাকে না।

৪. ঘামাচি তাড়াতে অ্যালোভেরা জেল জাদুর মতো কাজ করে। শুধু অ্যালোভেরার রস অথবা এর সঙ্গে সামান্য কাঁচা হলুদ মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। হলুদের অ্যান্টি-সেপটিক গুণ ত্বককে সুস্থ রাখবে।

৫. এক কাপ ঠান্ডা পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার কাপড় সেই পানিতে ভিজিয়ে ঘামাচির ওপর ১০-১৫ মিনিট আলতো করে মুছে নিন। এতে ত্বকের ঘাম বসে যাওয়া বন্ধ হবে।

৬. গরমে সবসময় হালকা রঙের সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। এতে ত্বকের সঙ্গে কাপড়ের ঘর্ষণ কম হবে এবং বাতাস চলাচলের ফলে ত্বক সুস্থ থাকবে।

৭. ঘামাচি হলে নখ দিয়ে চুলকানো এড়িয়ে চলুন। চুলকানি কমাতে অ্যালোভেরা, নিম পাতা বা পাতিলেবুর রস পানির সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে ত্বকে লাগাতে পারেন।

৮. ঘামাচি হলে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার না করাই ভালো। পাউডার রোমকূপের মুখ বন্ধ করে দিয়ে সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

৯. শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন।

/আশিক


ঘামের দুর্গন্ধ দূর করবেন কীভাবে, জানুন সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৮:২৯:৩৪
ঘামের দুর্গন্ধ দূর করবেন কীভাবে, জানুন সহজ উপায়
ছবি: সংগৃহীত

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামের কারণে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়া একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা, যা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্গন্ধের মূল কারণ ঘাম নিজে নয়; বরং ত্বকের ওপর থাকা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে ঘামের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলেই এই গন্ধ সৃষ্টি হয়।

দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়। নিয়মিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে গোসল করলে ত্বকে থাকা জীবাণুর সংখ্যা কমে যায়, ফলে দুর্গন্ধের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। গোসলের পর শরীর সম্পূর্ণ শুকনো রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য সহায়ক।

অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ও ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পার্থক্য বোঝা জরুরি। অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট মূলত ঘাম উৎপাদন কমায়, আর ডিওডোরেন্ট দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই অতিরিক্ত ঘাম হলে অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট এবং সাধারণ দুর্গন্ধের ক্ষেত্রে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার কার্যকর হতে পারে।

পোশাক নির্বাচনও এই সমস্যার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সুতি, লিনেন বা সিল্কের মতো প্রাকৃতিক তন্তুর কাপড় বাতাস চলাচল সহজ করে এবং ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। বিপরীতে সিন্থেটিক কাপড় ঘাম আটকে রেখে দুর্গন্ধ বাড়াতে পারে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতেও ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বেকিং সোডা ত্বকের আর্দ্রতা শোষণ করে এবং ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম কমাতে সহায়তা করে। লেবুর রস প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের পিএইচ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। একইভাবে ভিনেগার জীবাণু ধ্বংসে কার্যকর এবং নিমপাতা ত্বকের টক্সিন দূর করতে সহায়ক।

বগলের লোম পরিষ্কার রাখা দুর্গন্ধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ লোমে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার সহজ হয়। এছাড়া নিয়মিত পোশাক পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনে ভিনেগার বা বেকিং সোডা মিশ্রিত পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ধোয়া দুর্গন্ধ দূর করতে কার্যকর।

খাদ্যাভ্যাসও শরীরের গন্ধে প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, পেঁয়াজ, রসুন এবং লাল মাংস খাওয়ার ফলে শরীরের গন্ধ তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের টক্সিন বের করতে সহায়তা করে এবং দুর্গন্ধ কমায়।

তবে যদি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করার পরও সমস্যা থেকে যায়, তাহলে তা কোনো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে, ঘামের দুর্গন্ধ একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা, যা সঠিক পরিচ্ছন্নতা, উপযুক্ত পোশাক নির্বাচন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় যত্নের মাধ্যমে সহজেই কমানো সম্ভব।


মাথা ব্যথায় অস্থির? জেনে নিন হুটহাট যন্ত্রণা বাড়ার আসল কারণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:৫৭:৪১
মাথা ব্যথায় অস্থির? জেনে নিন হুটহাট যন্ত্রণা বাড়ার আসল কারণ
ছবি : সংগৃহীত

মাথা ব্যথাকে আমরা অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যাই, কিন্তু এটি যখন অসহ্য হয়ে দাঁড়ায় তখন দৈনন্দিন কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনিয়মিত জীবনযাপন এবং ছোটখাটো কিছু অসতর্কতাই মূলত হুটহাট মাথার যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে দায়ী।

তীব্র আলো, বিকট শব্দ কিংবা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা মাথা ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে খালি পেটে থাকলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, যা সরাসরি মাথায় চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া যাদের মাইগ্রেন বা সাইনাসের সমস্যা আছে, তাদের জন্য রোদ একটি বড় শত্রু। রোদে বের হলে বা পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। সর্দি বা কফ জমার ধাত থাকলেও মাথা ভার হয়ে ব্যথা হতে পারে।

মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে কিছু নিয়ম মানা জরুরি। ব্যথা শুরু হলে কোনো শান্ত ও অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। এছাড়া সময়মতো খাবার খাওয়া এবং বাইরে বের হওয়ার সময় রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। তবে মনে রাখবেন, ঘন ঘন মাথা ব্যথা হলে নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র : এবিপি


আপনার শিশু কি নিরাপদ? হামের প্রকোপ রুখতে এখনই যা করা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:৫৪:০৩
আপনার শিশু কি নিরাপদ? হামের প্রকোপ রুখতে এখনই যা করা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখন আর কেবল সাধারণ রোগ নেই, বরং এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। মার্চ মাসেই অন্তত ২১ শিশুর মৃত্যু এবং ১০টি জেলায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত টিকাদানের ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং মাতৃদুগ্ধের অভাবের কারণে এই মরণঘাতী ভাইরাসের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

প্যারা-মিক্সোভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগটি এতটাই সংক্রামক যে, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে একই ঘরে বসবাসকারী ৯০ শতাংশ মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন। হাঁচি-কাশি বা বাতাসের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে এটি ছড়ায় এবং কোনো পৃষ্ঠে ভাইরাসটি দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। শরীরে প্রবেশের পর এটি দ্রুত ফুসফুস ও লিম্ফ নোড হয়ে এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যের শরীরে রোগটি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।

হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রথম ৩-৪ দিন শুষ্ক কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং তীব্র জ্বরের পাশাপাশি ক্লান্তি দেখা দেয়। এ সময় মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ বা ‘কোপলিক স্পট’ দেখা দিতে পারে, যা হামের প্রধান সংকেত। এরপর কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে লালচে-বাদামি ফুসকুড়ি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আইসোলেশনে বা আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টিকর তরল খাবার নিশ্চিত করতে হবে। তবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো সময়মতো টিকা নেওয়া। টিকাদানের হার কম এমন এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত মহামারি রূপ নিতে পারে, তাই শিশুদের সুরক্ষায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি সফল করা এখন সময়ের দাবি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: