ছাত্রদলের উপর 'মব' চাপানোর পেছনে শিবিরের হাত: কেন্দ্রীয় নেতার অভিযোগ

রাজধানীর পুরান ঢাকায় একজন ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন দাবি করেছেন, একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’ কথিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি আরও বলেন, এই অপচেষ্টা মূলত একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের গুপ্ত কর্মীরা।
সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পূর্বঘোষিত এক বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটলেও, কেবল মিটফোর্ডের ঘটনাটিকেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে পুঁজি করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও এ প্রোপাগান্ডার আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অশান্তি সৃষ্টি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং গুপ্ত সংগঠন কর্তৃক ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতেই এই বিক্ষোভ কর্মসূচি। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা চায় না। বরং এই কর্মসূচির মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক অবস্থান তুলে ধরতে চায় ছাত্রদল।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কাকরাইল, মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব, কার্জন হল, টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা। ব্যানার-ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো মিছিলের পথ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে ছিল।
ছাত্রদলের নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে একটি সংগঠিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে দলীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদল বলছে, তাদের আন্দোলন সুনির্দিষ্ট দাবি ও প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিয়ে, কিন্তু এসব ষড়যন্ত্রকারীরা ভিন্ন উদ্দেশ্যে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।
এক মঞ্চে মামুনুল-চরমোনাই পীর: নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে কঠোর বার্তা
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের শহীদদের স্বীকৃতি এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান বাংলার মাটিতে চলতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার রাতে ঢাকার ধুপাখোলা মাঠে বাংলাদেশ জাতীয় সিরাত কমিটি আয়োজিত সিরাতুন্নবী মহাসম্মেলনে মামুনুল হক এসব কথা বলেন। এ সময় তার পাশেই বসে ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, “নির্বাচন-ফির্বাচন অনেক পরের কাহিনি, কিসের নির্বাচন? ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের শহীদদের রক্তকে প্রথম স্বীকার করতে হবে। চব্বিশের সহস্রাধিক জুলাই যোদ্ধারা যে জন্য রক্ত দিয়েছিলেন, সেই আধিপত্যবাদের উৎখাত নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই সনদ বাংলার মাটিতে কার্যকর করতে হবে। বাহাত্তরের সংবিধান বাংলার মাটিতে চলবে না, চলতে দেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, ২৪-এর রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করে যারা আবার বাহাত্তরের বাকশালী ব্যবস্থার দিকে ফিরে যেতে চায়, তাদের সঙ্গে কোনো আপস হবে না। তিনি বলেন, “আমরা জীবন দেবো, রক্ত দেবো, কিন্তু ২৪-এর বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেবো না ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশে আর সেই সকল স্বৈরাচারীদের ভাস্কর্য নামক মূর্তি স্থাপন হতে দেওয়া হবে না।”
মামুনুল হক বলেন, “যদি আমাদের প্রাণপ্রিয় শহীদ আবু সাঈদ অথবা মুগ্ধদের নামে কেউ ভাস্কর্য নির্মাণ করতে চায়, সেই ভাস্কর্যের সঙ্গে আমাদের সেই আচরণই হবে, শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের ভাস্কর্যের সঙ্গে যে আচরণ করেছিলাম।” তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামেও যদি কেউ কোনো ভাস্কর্য বসাতে চায়, তাহলে সেটি জীবন দিয়ে প্রতিহত ও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
মামুনুল হক বলেন, বাহাত্তরের চেতনাকেই প্রতিনিধিত্ব করে বাহাত্তরের সংবিধান। এই সংবিধানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে হত্যা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ভারতের চরণতলে বলি দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামীতে বাংলাদেশ বাহাত্তরের চেতনার মাধ্যমে একাত্তরের চেতনাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করবে। বাহাত্তরের ভারতীয় আধিপত্যবাদের চেতনা বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া যাবে না।”
/আশিক
কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে: নুরের ওপর হামলা নিয়ে সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামলার পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে নুরের ওপর হামলার ভিডিও শেয়ার করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে হাসিনার পতন আন্দোলনের অন্যতম সহযোদ্ধা নুর ভাইয়ের ওপর সেনাবাহিনীর এই বর্বর হামলাকে আমি স্বাভাবিক হিসেবে দেখি না।
সারজিস আলম বলেন, “সেনাবাহিনী কখনো উপরের নির্দেশ ছাড়া একটি পদক্ষেপও নেয় না। সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে কার নির্দেশে নূর ভাইকে রক্তাক্ত করা হলো, তার জবাব সেনাপ্রধানকে দিতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ভেতরে কারা একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতিকে মেরে হলেও জাতীয় পার্টিকে রক্ষার মিশনে নেমেছে, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি পুলিশের ভেতরে থাকা ‘আওয়ামী দালালদের’ বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সারজিস আলম আরও লেখেন, “সেনাবাহিনী এবং পুলিশ নুরুল হক নূরকে ভালোভাবেই চেনে। তারপরও পরিকল্পনা করে তাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। যারা পেছন থেকে কালো হাতের খেলা খেলার চেষ্টা করছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।”
এর আগে এই ঘটনা নিয়ে দেওয়া অন্য একটি পোস্টে সারজিস দাবি করেন, ‘প্ল্যান-বি’ হলো জাতীয় পার্টির ওপর ভর করে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, “এ কারণে জাতীয় পার্টির বিষয়ে জিরো টলারেন্সে উত্তরপাড়া-দক্ষিণপাড়া মিলে একাকার হয়ে গেছে। নূর ভাইদের ওপর বর্বরতম হামলার মূল কারণও এটি। অর্থাৎ জাতীয় পার্টির বিষয়ে সব দলকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।”
সারজিস বলেন, “আওয়ামী লীগ যেমন অপরাধী, তেমনি এর দোসর, ‘বি টিম’ এবং বৈধতা দানকারী জাতীয় পার্টিও একইভাবে অপরাধী। জাতীয় পার্টিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি একই পথের পথিক, তাদের পরিণতিও একই হবে।”
/আশিক
জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের
রাজধানীর কাকরাইলে হামলায় গুরুতর আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের কিছুটা জ্ঞান ফিরেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়। পোস্টে নাকে ব্যান্ডেজ ও মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় নুরকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা হয়, “নুরুল হক নুরের ওপর গতরাতে হামলার পর এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এখন তার কিছুটা হুঁশ ফিরেছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। পরে সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, নুরের মুখ ও বুক পর্যন্ত রক্তাক্ত এবং তার নাক ফেটে গেছে। এ সময় তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
রাতে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, ডাক্তাররা বলেছেন নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ কারণেই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
/আশিক
নুরের ওপর হামলা,ভারতের মদতে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা: হাসনাত
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ভারতের প্রত্যক্ষ মদতে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর এই খেলায় প্রথম রক্ত দিয়েছেন নুরুল হক নূর।
শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ এই প্রতিক্রিয়া জানান।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “শুরুটা হয়েছিল ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’-এর পরিকল্পনা দিয়ে, যে পরিকল্পনা আমি ১১ মার্চ প্রকাশ করে দিই। সেই পুনর্বাসন ভেস্তে গেলেও ওরা থামেনি। সেই একই গ্রুপ এবার আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের জন্য বেছে নিয়েছে জাতীয় পার্টিকে।”
এনসিপি নেতা আরও বলেন, “ভারতের প্রত্যক্ষ মদতে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর এই খেলায় প্রথম রক্ত দিলেন আমাদের নুর ভাই। এখন যদি আমরা নুরুল হক নুরের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ না করতে পারি, জাতীয় পার্টিকে দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর এই চেষ্টা প্রতিহত না করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশটাই আবার নুর ভাইয়ের মতো রক্তাক্ত হয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “নুরুল হক নুরের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। ভারতের প্রেসক্রিপশনে বিপ্লবীদের রক্তাক্ত করে আওয়ামী লীগ ফেরানোর এই চেষ্টা আমরা সফল হতে দেব না।”
/আশিক
বিএনপির সঙ্গে বরফ না গলায় ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত
জুলাই সনদের বিষয়ে মতভিন্নতা কমাতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে তা থেকে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
মূলত পিআর পদ্ধতি ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে দুই দলের ভিন্ন অবস্থান নিয়ে এই বৈঠক হয়। জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
বিএনপির অবস্থান: বিএনপি ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টনের (পিআর) বিপক্ষে। তারা সংবিধান সংস্কারের চেয়ে সংসদের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে। বিএনপি মনে করে, সংবিধানের ওপর কোনো কিছুই প্রাধান্য পেতে পারে না।
জামায়াতের অবস্থান: জামায়াত জুলাই সনদের অধীনে পিআর পদ্ধতিতেই নির্বাচন চায়। তারা সংবিধানের ওপর সনদের প্রাধান্য চায় এবং গণভোট বা রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংস্কার ও সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিএনপি পিআর পদ্ধতি এবং সনদের কিছু সংস্কার বিষয়ে তাদের আগের অবস্থানেই রয়েছে এবং এগুলোতে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বৈঠকের আগে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস—এই সাতটি দল একটি বৈঠকে বসেছিল। সেখানে দলগুলো জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন হতে দেবে না বলে একমত হয়।
তবে জামায়াত সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চাইলেও অন্য দলগুলো কেবল উচ্চকক্ষে পিআর চায়। এই দলগুলো গণভোটের বিপক্ষে থাকলেও সনদের আইনি ভিত্তি এবং সনদের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে একমত। তারা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত রোডম্যাপকেও অপরিপক্ব বলে আখ্যায়িত করেছে।
জামায়াত নেতা ডা. তাহের বলেন, যারা ভোটের আগে সংস্কার চায় না, তারাই মূলত নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়। তিনি ইসি’র রোডম্যাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, যেখানে নির্বাচনের পদ্ধতিই নির্ধারিত হয়নি, সেখানে রোডম্যাপ ঘোষণা করা অপরিণত সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসির রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, যারা হটকারী সিদ্ধান্ত নেবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নুরের ওপর হামলার আইনি তদন্তের আহ্বান তারেক রহমানের
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং এ ঘটনার আইনি তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৩টায় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক অত্যন্ত নাজুক সময়ের মধ্যে আছি। যার প্রথম পদক্ষেপ হলো জাতীয় নির্বাচন। সম্মিলিতভাবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আজকের ঘটনার মতো অস্থিতিশীল ঘটনাগুলো যেন আর না ঘটে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।”
তিনি বলেন, গণতন্ত্রপন্থি অংশীজনদের, যার মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররাও রয়েছে, সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি দেশকে মবের শাসন এবং বর্তমান অস্থিরতার পরিস্থিতি থেকে বের করে আনার ওপর জোর দেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের এই মব ভায়োলেন্সের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রাখা উচিত, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা উচিত এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তোলা উচিত।” তিনি মনে করেন, কেবল গণতান্ত্রিক পথে জনগণকে ক্ষমতায়িত করা এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সফল হওয়া সম্ভব।
/আশিক
আইসিইউতে নুরুল হক নুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক
রাজধানীর বিজয়নগরে সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসিসি) থেকে আইসিইউর ৯ নম্বর বেডে স্থানান্তর করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের ওসিসির একজন চিকিৎসক জানান, “নুরুল হক নুরের নাক ও চোখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ওসিসিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টা না গেলে তার অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
আহত নুরকে রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। এরপর রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে দেখতে যান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং পরে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তবে আসিফ নজরুলের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে অবরুদ্ধ করেন।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।
একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আল রাজী টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেওয়া গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখানে নুরুল হক নুর ও দলের শীর্ষ নেতারা একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়, যার ফলে নুর মারাত্মকভাবে আহত হন।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “আমরা পার্টি অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নুরুল হক নুর মারাত্মকভাবে আহত হন।” এই ঘটনায় সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
/আশিক
কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে জাপা ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ধাপে ধাপে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে।
রক্তাক্ত নুরের ছবি ভাইরাল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল হক নুরের অফিসিয়াল আইডি থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, যেখানে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও গণহত্যার অভিযোগ
গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, জাপার কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত সহিংসতা। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, “জাতীয় পার্টিকে গণহত্যার দায়ে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। যদি বিচার না হয়, তাহলে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা নিজেরাই বিচার করবে।”
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল
সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা শুরু হয়। একপর্যায়ে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজনা দ্রুত ছড়ায়।
রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতিকুল আলম খন্দকার বলেন, “ঘটনার শুরুতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছি।”
হলুদ হেলমেটধারী রহস্যময় বাহিনী
সংঘর্ষের দ্বিতীয় দফা ঘটে রাত সাড়ে ৯টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলুদ রঙের হেলমেট পরে একদল লোক জাপার কার্যালয় থেকে বের হয়ে গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এসময় পুলিশের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। এ বাহিনীকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তাদের সবাইকে একই ধরনের হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা গেছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জটিলতা
জাপার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, গণঅধিকার পরিষদ উসকানিমূলক মিছিল নিয়ে তাদের কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে গণঅধিকার পরিষদ বলছে, উল্টো জাপার কর্মীরাই প্রথম ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ বাধিয়েছে। ফলে ঘটনার দায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে।
এনসিপির বিক্ষোভের ডাক
এদিকে এ হামলার প্রতিবাদে জরুরি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় এক ক্ষুদে বার্তায় দলটি জানায়, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধা, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ তার দলের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লীগ ও জাতীয় পার্টির বর্বর হামলার প্রতিবাদে আজ রাতেই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।” এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবে ঢাকা মহানগর এনসিপি।
দিল্লিতে হাসিনা–এস আলম গোপন বৈঠকে অর্থায়ন, প্রোপাগান্ডা ও অস্থিতিশীলতার কৌশল!
৮ আগস্ট নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদ (এস আলম)–এর মধ্যে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। ভারতের রাজধানীর অভিজাত অঞ্চলে অবস্থিত এই বাংলোটি ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে শেখ হাসিনার অস্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন প্রভাবশালী ভারতীয় কর্মকর্তা এবং বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন পালাতক নেতা। বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি ছিল আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য আর্থিক ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ। অভিযোগ অনুযায়ী শেখ হাসিনা বৈঠকে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চান, যা এস আলম দিতে সম্মত হন। এর একটি অংশ সঙ্গে সঙ্গেই প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, আর বাকি অর্থ কিস্তিতে প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক ঘিরে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো বিপুল অর্থের ব্যবহার এবং এর সম্ভাব্য খরচের খাত। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এ অর্থ ব্যবহার হবে আন্তর্জাতিক লবিং কার্যক্রমে, বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমর্থন আদায়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন নেটওয়ার্কে ব্যাপক প্রোপাগান্ডা চালাতে এবং মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দিতে। আরও বলা হচ্ছে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আর্থিকভাবে প্রভাবিত করা, আওয়ামী নেতাকর্মীদের জামিনে সহায়তা দেওয়া এবং নতুন করে আন্দোলনের ছদ্মবেশে নাশকতা সংগঠিত করাও আলোচনার অংশ ছিল। যদিও এসব তথ্য সরাসরি যাচাই করা যায়নি, তবে একাধিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্র এই আলোচনার আভাস দিয়েছে।
এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই), আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক গবেষণা ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম। গণঅভ্যুত্থানের পর সিআরআই কার্যক্রম গুটিয়ে নিলেও এখন আবার সেটি গোপনে সক্রিয় হচ্ছে বলে সূত্র দাবি করছে। এ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্ণধার সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন, যিনি অতীতে সিআরআই–এর মূল নেপথ্য কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। শাওনের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা তৈরি এবং বিরোধী দমননীতির পরিকল্পনা প্রণয়নের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। অভিযোগ আছে, দিল্লির বৈঠকে এস আলম বিপুল অঙ্কের অর্থ সিআরআই পুনর্গঠনের জন্য বরাদ্দ দিতে রাজি হন এবং শাওন এর দায়িত্ব নেন।
বৈঠককে ঘিরে টাইমলাইন অনুসারে দেখা যায়, এস আলম এর আগে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় একাধিক বৈঠক করেন পালাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথেও তার বৈঠক হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল লুট করা অর্থকে বৈধ ব্যবসার ছদ্মবেশে বিনিয়োগ করা। এরপর তিনি দুবাই হয়ে দিল্লিতে পৌঁছান এবং কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেন। ৮ আগস্টের বৈঠক ছিল এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে শেখ হাসিনার সাথে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। ১০ আগস্ট তিনি আবার হাসিনার বাসভবনে যান এবং ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলমান যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ১৭ আগস্ট তিনি সিঙ্গাপুরে ফিরে যান। এই পুরো যাত্রাপথের মধ্যে তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিছু পালাতক আওয়ামী লীগ নেতা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো যদি সত্য হয় তবে এর কয়েকটি গুরুতর দিক রয়েছে। প্রথমত, বিদেশে পালিয়ে থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। দ্বিতীয়ত, বিপুল অর্থের অবৈধ স্থানান্তর ও বিদেশে লবিং কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রতি অমান্যতার শামিল। তৃতীয়ত, সিআরআই–এর মতো রাজনৈতিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা দেশের তরুণ প্রজন্মকে আবারও বিভ্রান্তির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। চতুর্থত, রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অংশকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা সুশাসনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, অভিযোগ সত্য হলে দেশের স্থিতিশীলতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আর্থিক ফরেনসিক অডিট এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং। একই সাথে রাষ্ট্রের উচিত হবে জনগণকে সচেতন করা, যাতে গুজব ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে কাউকে অস্থিতিশীলতার সুযোগ দেওয়া না হয়। এই প্রেক্ষাপটে দিল্লির কথিত বৈঠক শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনাই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নিরাপত্তার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করছে।
পাঠকের মতামত:
- এক মঞ্চে মামুনুল-চরমোনাই পীর: নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে কঠোর বার্তা
- অ্যাপলের নতুন চমক: আইফোন ১৭ সিরিজ আসছে, কী থাকছে নতুন ফোনে?
- পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলতেই ৩২ বস্তা টাকা, এবার রেকর্ড ভাঙার আশা
- ভারত আমাদের হাত বেঁধে, মুখ ঢেকে বন্দীদের মতো করে নিয়ে যায়—এরপর সমুদ্রে ফেলে দেয়
- শিবচরে ৪ বাসের ভয়ংকর সংঘর্ষ, অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে
- খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বৃদ্ধকে পেটালেন বিএনপি নেতা
- নাকের হাড় ভেঙেছে নুরের, অবস্থা স্থিতিশীল: ঢামেক পরিচালক
- স্বর্ণের দামে স্বস্তি নেই: ফের বাড়ল দাম, নতুন মূল্য কার্যকর আজ থেকে
- যানজট নিরসনে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হচ্ছে আজ
- ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা
- নিজের আমলের ফল নিজেই ভোগ করবে মানুষ: হাদিসে কুদসীর শিক্ষা
- গ্ল্যামারাস রূপে হানিয়া আমির, নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা
- এশিয়া কাপের প্রস্তুতি: আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
- কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে: নুরের ওপর হামলা নিয়ে সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি
- নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ময়মনসিংহে জাতীয় পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর
- চিয়া বীজ কি সবার জন্য নিরাপদ? জেনে নিন কাদের জন্য এটি বিপজ্জনক
- জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের
- নুরের ওপর হামলা,ভারতের মদতে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা: হাসনাত
- বিএনপির সঙ্গে বরফ না গলায় ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত
- নুরের ওপর হামলার আইনি তদন্তের আহ্বান তারেক রহমানের
- আর মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা নয়: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত তুরস্কের
- আইসিইউতে নুরুল হক নুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক
- ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড
- কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা
- দিল্লিতে হাসিনা–এস আলম গোপন বৈঠকে অর্থায়ন, প্রোপাগান্ডা ও অস্থিতিশীলতার কৌশল!
- "জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
- মসজিদে প্রবেশের আগে যে ছোট কাজটি আনতে পারে রহমত
- কেন প্রতিদিন লেখার চর্চা আপনাকে করে তুলতে পারে আলাদা? জানুন কিভাবে
- কেন আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি- মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ
- সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন
- আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অভূতপূর্ব মন্তব্য
- নকলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ ২৪ নেতা-কর্মীর
- নদী ভাঙন রোধে কী পরিকল্পনা জানালেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
- স্বাধীনতা দিবসে সব নাগরিককে নগদ অর্থ দেবে সরকার
- নিহত গাজা সাংবাদিকের চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন জাতিসংঘে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত
- গাজা উপত্যকায় রাতভর তাণ্ডব
- রোডম্যাপ গতানুগতিক ও বিভ্রান্তিকর: জামায়াত সেক্রেটারি
- জুলাইয়ে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ
- টি-টোয়েন্টিতে ২০০ রানের লক্ষ্য, অভ্যাস গড়তে চায় বাংলাদ: লিটন দাস
- ইয়েমেনের সানায় ইসরায়েলের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
- এআই দিয়ে তৈরি করা ছবির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: ডিএমপি
- ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে মিছিল শেষে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের
- গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: নতুন অধ্যাদেশের নীতিগত অনুমোদন
- ইসি’র রোডম্যাপে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- ইসি’র রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল: ‘বিএনপি সরকারের পাশে আছে’
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ
- ডিএসই ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আজকের লেনদেনের সামগ্রিক বিশ্লেষণ
- ২৮ আগস্ট দরপতনের তালিকায় শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- ডিএসই প্রকাশ করল নতুন মার্জিন ঋণযোগ্য সিকিউরিটিজ তালিকা
- মাহাথির মোহাম্মদ ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তর: নীতি, সংস্কার ও উত্তরাধিকার
- "জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
- অমীমাংসিত ইস্যু সরকারের বিষয়, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য শক্তিশালী করার আহ্বান জামায়াতের
- পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে ভাবতে চায় এনসিপি, ৭১-এর অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান
- ২৭ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৬ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- ২৭ আগস্টের বন্ড মার্কেট আপডেট: কিছু বন্ডে দরপতন, বেশিরভাগই স্থবির
- মুক্তিযুদ্ধের নাম কি তবে ‘৭১ ডিল’: মেহের আফরোজ শাওন
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া বিপ্লব অসম্পূর্ণ: ডা. তাহের
- ২৬ আগস্ট শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- নাইজেরিয়ার বাজারে ডেরিকা: টমেটো পেস্ট থেকে মাপের এককে রূপান্তরের গল্প
- ২৫ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- ২৪ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- ডিএসইতে ব্যাংক শেয়ারের দাপট