সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কতবার প্রস্রাব স্বাভাবিক? জেনে নিন সঠিক তথ্য

শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাবাহক হলো প্রস্রাব। কিডনির মাধ্যমে রক্ত ফিল্টার হয়ে ইউরিয়া, টক্সিন ও অতিরিক্ত লবণ প্রস্রাবের মাধ্যমেই শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। সাধারণত প্রস্রাবের গন্ধ হালকা হলেও হঠাৎ তীব্র বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ অনেক ক্ষেত্রে বড় কোনো শারীরিক সমস্যার সংকেত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তনের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো পানিশূন্যতা। শরীরে পানির অভাব হলে প্রস্রাব ঘনীভূত হয় এবং অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র গন্ধ তৈরি করে।
খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধরনও প্রস্রাবের গন্ধে প্রভাব ফেলে। রসুন, পেঁয়াজ, অতিরিক্ত কফি বা অ্যালকোহল গ্রহণ করলে প্রস্রাবে সাময়িক দুর্গন্ধ হতে পারে। এছাড়া ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সাপ্লিমেন্ট বা নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে প্রস্রাবের রঙ উজ্জ্বল এবং গন্ধ তীব্র হতে পারে, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে দুর্গন্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের দুর্গন্ধের সঙ্গে যদি জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা বা জ্বর থাকে, তবে তা ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন’ (ইউটিআই) বা মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে প্রস্রাবে গ্লুকোজ বা কিটোনের উপস্থিতির কারণে মিষ্টি বা অ্যাসিডিক গন্ধ হতে পারে। অনেক সময় প্রস্রাবের গন্ধ থেকেই রক্তে শর্করা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে। লিভারের সমস্যা বা গর্ভাবস্থাতেও এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে ৪ থেকে ৮ বার প্রস্রাব করা স্বাভাবিক। এর চেয়ে কম বা বেশি হওয়া এবং সঙ্গে রঙ পরিবর্তন কিংবা কোমরের পাশে ব্যথা থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিডনির কার্যকারিতা বা ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা সাধারণত প্রস্রাব পরীক্ষা ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল বশে রাখুন: বিশেষজ্ঞ টিপস
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমান সময়ে সুস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ কোলেস্টেরল কেবল হৃদরোগ নয়, স্ট্রোকের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই এই ‘নীরব ঘাতক’কে বশে রাখা সম্ভব। এতে হৃৎপিণ্ডের পাশাপাশি উন্নত হয় হজমশক্তি ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো খাদ্যতালিকায় আমূল পরিবর্তন আনা। চর্বিযুক্ত রেড মিট (গরু বা খাসির মাংস), ঘি, মাখন এবং অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে ডুবো তেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড ও প্রসেসড খাবারে থাকা 'ট্রান্স ফ্যাট' শরীরের জন্য বিষের মতো কাজ করে।
এর পরিবর্তে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, তিসি ও অলিভ অয়েল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। এছাড়া আদা ও রসুনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ফলমূল, ওটস ও বার্লি শুধু কোলেস্টেরল কমায় না, বরং অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের দিকে নজর রাখলে রক্তে চিনির মাত্রার পাশাপাশি কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে আসে। ভাজাপোড়া স্ন্যাকসের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দই, ফল বা বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি পান করাও বেশ উপকারী।
শারীরিক পরিশ্রম ও জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম শরীরের 'ভালো কোলেস্টেরল' (HDL) বাড়াতে এবং 'খারাপ কোলেস্টেরল' (LDL) কমাতে সরাসরি কাজ করে। অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগের কোনো বিকল্প নেই; কারণ ধূমপান সরাসরি ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
সেই সঙ্গে মানসিক চাপ কমাতে ইয়োগা বা ধ্যান এবং দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল টেস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থা যাচাই করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করাই হলো সুস্থ থাকার সঠিক পথ।
/আশিক
শিশুর টাং টাই কী? কখন চিকিৎসা জরুরি
শিশুদের মধ্যে মাঝে মাঝে এমন একটি শারীরিক অবস্থা দেখা যায় যেখানে জিহ্বার নিচে থাকা পাতলা চামড়ার পর্দা বা ফ্রেনুলাম (Frenulum) স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট, শক্ত বা অতিরিক্ত টানটান থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় টাং টাই বা অ্যানকাইলো গ্লসিয়া (Ankyloglossia)। এ ধরনের অবস্থায় জিহ্বার স্বাভাবিক নড়াচড়া সীমিত হয়ে যায়, যার ফলে শিশুর খাওয়া, কথা বলা কিংবা জিহ্বা নড়াচড়ায় নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
টাং টাই হলে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে
টাং টাইয়ের প্রভাব শিশুর বয়স অনুযায়ী ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। নবজাতক বা ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে মায়ের বুকের দুধ পান করার সময়। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুটি ঠিকভাবে স্তন ধরতে পারে না, মাঝেমধ্যে দুধ ছেড়ে দেয় কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়ার চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত দুধ গ্রহণ করতে পারে না। এর ফলে শিশুর পুষ্টিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং অনেক মায়ের ক্ষেত্রে নিপলে ব্যথা বা অস্বস্তি তৈরি হয়।
অন্যদিকে শিশু যখন বড় হতে শুরু করে, তখন টাং টাইয়ের কারণে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বাংলা ভাষার কিছু ধ্বনি যেমন ল, র, ট বা ড উচ্চারণে সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা জিহ্বা পুরোপুরি বাইরে বের করতে পারে না বা উপরের দিকে তুলতে অসুবিধা অনুভব করে।
কীভাবে বোঝা যায় শিশুর টাং টাই রয়েছে
টাং টাই শনাক্ত করার কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি শিশুর জিহ্বা পুরোপুরি বাইরে বের না হয় বা জিহ্বার আগা হৃদয় আকৃতির (heart-shape) মতো দেখা যায়, তাহলে এটি টাং টাইয়ের একটি লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া জিহ্বার নিচে একটি শক্ত ও টানটান চামড়ার পর্দা চোখে পড়লে সেটিও এই সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
টাং টাইয়ের চিকিৎসা কী
টাং টাইয়ের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা এবং শিশুর বয়সের ওপর। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার নাম ফ্রেনোটমি (Frenotomy)। এতে জিহ্বার নিচে থাকা ছোট চামড়ার পর্দাটি সামান্য কাটার মাধ্যমে মুক্ত করা হয়।
এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, সাধারণত কয়েক মিনিটের বেশি সময় লাগে না এবং এতে খুব সামান্য রক্তপাত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা খুব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং দুধ খাওয়াও সহজ হয়ে যায়।
তবে যদি শিশুর বয়স বেশি হয় বা সমস্যাটি জটিল হয়, তখন ফ্রেনুলোপ্লাস্টি (Frenuloplasty) নামে একটি তুলনামূলক বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
সব টাং টাই কি অপারেশন প্রয়োজন
চিকিৎসকদের মতে, সব টাং টাইয়ের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না। যদি শিশুর খাওয়া বা কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না দেখা যায়, অনেক সময় চিকিৎসা ছাড়াই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
তবে যদি টাং টাইয়ের কারণে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ মশিউর রহমান বলেন, কোনো শিশুর যদি দুধ খেতে সমস্যা হয়, কথা বলতে দেরি হয় বা জিহ্বা নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা দেখা যায়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যা সহজে সমাধান করা সম্ভব।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়: সুস্থ থাকবে আপনার হৃদয়
কোলেস্টেরলের সমস্যা বর্তমানে অনেকের জন্যই একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত কিছু ব্যায়াম এবং সঠিক খাবারের নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা একই সাথে শরীরের হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য। সুস্থ অন্ত্র নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে রাখা প্রয়োজন, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করার পাশাপাশি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল শুষে নিতে বাধা দেয়।
খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের ওপর নজর দেওয়া কোলেস্টেরল কমানোর আরেকটি কার্যকর উপায়। যেসব খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, সেগুলো গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে এবং পরোক্ষভাবে তা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। এছাড়া প্রতিদিনের ডায়েটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের হয়ে যায় এবং কোলেস্টেরল কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। মূল খাবার খাওয়ার আগে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে আসে। এক্ষেত্রে ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাদাম, তাজা ফল বা দই স্ন্যাকস হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সবুজ শাকসবজি এবং ভেষজ উপাদানের ব্যবহার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি রাখা শরীরের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি প্রাকৃতিক উপায়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনে। এর পাশাপাশি রান্নায় আদা ও রসুনের ব্যবহার বাড়ানো উচিত। আদা ও রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক ওষুধি গুণ এবং যৌগ রয়েছে যা সরাসরি রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে বিশেষ অবদান রাখে। নিয়মিত এই নিয়মগুলো মেনে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করা সম্ভব।
/আশিক
লোপেরামাইড নাকি ঘরোয়া উপায়? ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কিছু সমাধান
ডায়রিয়া অনেক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ালেও, সাধারণত ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের হালকা ডায়রিয়া নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে দ্রুত স্বস্তি পেতে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে বিশেষজ্ঞরা কিছু ঘরোয়া ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের কথা বলেন। লোপেরামাইড (Imodium) বা বিসমাথ সাবস্যালিসিলেট (Pepto-Bismol) জাতীয় ওষুধ অন্ত্রের চলাচল ধীর করে সাময়িক উপশম দিতে পারে। তবে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করা। এ সময় প্রচুর পানি, চা, আপেলের রস বা ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতে হবে। চাল সেদ্ধ করা ভাতের মাড় শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত কার্যকর। এর পাশাপাশি প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দই অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এছাড়াও পেয়ারা পাতার ট্যানিন বা শুকনো আদা হজমশক্তি বাড়াতে এবং ডায়রিয়ার উপসর্গ কমাতে দারুণ কাজ করে।
ডায়রিয়ার সময় খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এ সময় দুধ, পনির, কফি বা অতিরিক্ত ফাইবারযুক্ত ওটমিল এড়িয়ে চলা উচিত। তার বদলে সাদা ভাত বা আলুর মতো সহজপাচ্য খাবার খাওয়া শরীরের জন্য নিরাপদ। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি পেটে হালকা গরম সেঁক দিলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, ঘরোয়া উপায়গুলো কাজ না করলে এবং লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
/আশিক
ওষুধ ছাড়াই কমবে টনসিলের যন্ত্রণা: হাতের কাছেই আছে জাদুকরী সমাধান!
প্রকৃতি থেকে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ। এই সময়ে অনেকেরই গলার ভেতরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়, বিশেষ করে ঢোক গিলতে গেলে কষ্ট বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি সাধারণত টনসিলের ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে। যে কোনো বয়সেই এই সমস্যা হানা দিতে পারে। যদিও গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করা জরুরি, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
গলা ব্যথা বা টনসিলের সমস্যায় সবচেয়ে কার্যকর এবং প্রাচীন পদ্ধতি হলো হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলিকুচি করা। লবণ পানি কেবল সংক্রমণই রোধ করে না, এটি গলার ভেতরের ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করতেও সাহায্য করে। এছাড়া এক কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে তৈরি আদা চা দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার পান করলে টনসিলের সংক্রমণ বাধাগ্রস্ত হয়। আদায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান গলার জ্বালাপোড়া ও ব্যথা কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
চায়ের ক্ষেত্রে গ্রিন টি-র সাথে মধুর মিশ্রণও বেশ উপকারী। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি ক্ষতিকর জীবাণু নির্মূল করে গলার কোষগুলোকে সজীব রাখে। দিনে কয়েকবার এই মধু-মিশ্রিত চা পান করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং টনসিলের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে এই প্রাকৃতিক সমাধানগুলো হতে পারে আপনার সেরা সুরক্ষা। তাই অসুস্থতা বাড়ার আগেই সতর্ক হওয়া এবং ঘরোয়া এই টিপসগুলো মেনে চলা জরুরি।
মাথাব্যথা মানেই কি ব্রেন টিউমার? জেনে নিন লক্ষণ চেনার বৈজ্ঞানিক উপায়
মাথাব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হলেও, অনেক সময় এটি মারাত্মক কোনো রোগের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী মাথাব্যথা বা ব্যথার অস্বাভাবিক ধরন মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ কি না—তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সব মাথাব্যথা ভয়ের কারণ না হলেও কিছু সুনির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
আমেরিকান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কে টিউমার থাকলে মাথাব্যথা হওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ। তবে মনে রাখতে হবে, বেশিরভাগ মাথাব্যথাই কাজের চাপ, ঘুম কম হওয়া বা মাইগ্রেনের মতো সাধারণ কারণে হয়ে থাকে। টিউমারের আকার ও অবস্থান যখন মস্তিষ্কের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখনই মূলত এই বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা শুরু হয়।
ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা চেনার উপায়
চিকিৎসকদের মতে, টিউমারের কারণে হওয়া মাথাব্যথা সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে সচরাচর কমে না। এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো
১. রাতে তীব্র মাথাব্যথার কারণে হুট করে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
২. শোয়া থেকে ওঠা বা শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার তীব্রতা বদলে যাওয়া।
৩. ঘন ঘন মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা।
৪. কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে ব্যথার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাওয়া।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন? বিশেষজ্ঞরা কিছু ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদ সংকেতের কথা জানিয়েছেন, যা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
মাথাব্যথার সঙ্গে ক্রমাগত বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
শরীরের ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা।
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা বা হঠাৎ দ্বিগুণ দেখা।
কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা খিঁচুনি শুরু হওয়া।
শরীরের কোনো এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়া বা অবশ অনুভূত হওয়া।
ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন বা অকারণে বিভ্রান্ত হওয়া।
চিকিৎসকদের মতে, যদি কারও শরীরে আগে থেকেই ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে এবং নতুন করে মাথাব্যথা শুরু হয়, তবে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই অস্বাভাবিক মাথাব্যথাকে ‘সাধারণ’ মনে করে চেপে না রেখে সঠিক পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র : যশোদা হাসপাতাল
পুরুষের নীরব ঘাতক প্রোস্টেট ক্যানসার: জেনে নিন ক্যানসারের ঝুঁকি এড়ানোর উপায়
চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্রোস্টেটের সমস্যা একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু সংবেদনশীল বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রন্থির নানাবিধ জটিলতা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় চিকিৎসকরা এ বিষয়ে বাড়তি সচেতনতার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক সময় সাধারণ উপসর্গ মনে করে অবহেলা করার ফলে সংক্রমণ বেড়ে গিয়ে তা শেষ পর্যন্ত ক্যানসারের রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোস্টেটের সমস্যা মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে— প্রোস্টেট গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, প্রোস্টেটাইটিস বা সংক্রমণ এবং প্রোস্টেট ক্যানসার। সাধারণত ৫০ বছর পেরোলে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে কম বয়সী পুরুষদের মধ্যেও প্রোস্টেটের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ৪০ বছরের পর থেকে নিয়মিত প্রোস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন (PSA) পরীক্ষা এবং আলট্রাসোনোগ্রাফি (USG) করানো জরুরি। এর মাধ্যমে প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের মাপ ও কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রয়োজনে হিস্টোপ্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষা বা কোলোনোস্কোপিও করাতে হতে পারে।
বয়সভেদে প্রোস্টেটের সমস্যার লক্ষণগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে
২৫ থেকে ৪০ বছর
ঘনঘন জ্বর আসা, প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া, তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা এবং প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
৪০ থেকে ৬০ বছর
প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রিত বেগ (যা অনেকে ডায়াবেটিস মনে করে ভুল করেন), মূত্রনালিতে বারবার সংক্রমণ এবং প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি।
৬০ বছরের ঊর্ধ্ব
রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের বেগ প্রবল থাকলেও ধারা ক্ষীণ হওয়া বা শুরু হতে দেরি হওয়া, প্রস্রাবে রক্ত আসা (হিমাচুরিয়া) এবং কোমর ও তলপেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা। এছাড়া এই বয়সে মূত্রথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
নতুন মহামারির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের এক সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—এক সময় বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করা এবং বর্তমানে নির্মূল ঘোষিত প্রাণঘাতী গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স আবারও ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মহামারির কারণ হয়ে উঠতে পারে। অথবা এই ভাইরাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কোনো ভাইরাস সেই শূন্যস্থান দখল করে নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভ্যারিওলা নামে পরিচিত স্মলপক্স ভাইরাসটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিবিড় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের পর ১৯৮০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথিবী থেকে নির্মূল ঘোষণা করা হয়। মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই মহামারিতে শুধু বিশ শতকেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব কেবলমাত্র অতি সীমিত কয়েকটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন গবেষণাগারে সংরক্ষিত নমুনার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তবে বিজ্ঞানীদের নতুন আশঙ্কার মূলে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে এই ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকা। স্মলপক্স নির্মূল হওয়ার পর কয়েক দশক ধরে এর টিকা দেওয়া বন্ধ থাকায় বর্তমান প্রজন্মের মানুষের শরীরে পক্সজাতীয় ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে অর্থোপক্সভাইরাস পরিবারভুক্ত অন্যান্য ভাইরাস ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে পরিচিত মাঙ্কিপক্স ছাড়াও তুলনামূলক কম পরিচিত কাউপক্স, বাফালোপক্স ও ক্যামেলপক্সের মতো ভাইরাসগুলো স্মলপক্সের জায়গা দখল করে নতুন বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে বিজ্ঞানীরা এখন থেকেই পক্সজাতীয় ভাইরাসগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও পুরুষ বন্ধ্যত্ব: গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
অফিসের কাজের চাপ, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের আসক্তি কিংবা দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে আধুনিক জীবনে মানুষের ঘুমের সময় আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। অনেকেই নিয়মিত রাত জাগছেন এবং গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের এই অভাব কেবল ক্লান্তি নয়, বরং পুরুষের প্রজনন ক্ষমতায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি নিজস্ব ‘জৈবিক ঘড়ি’ বা সার্কাডিয়ান রিদম থাকে। এই ছন্দ ঠিক থাকলেই শরীরের হরমোন ক্ষরণসহ যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা বলছে, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে থাকা ‘সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস’ এই কেন্দ্রীয় ঘড়িটি নিয়ন্ত্রণ করে। যখনই ঘুমের এই চক্রটি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে।
গবেষকেরা জানান, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকার জন্য রাতে গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু কেউ যদি নিয়মিত মাত্র ৪ ঘণ্টা বা তার কম সময় ঘুমান, তবে তাঁর শরীরে পুরুষের প্রধান হরমোন ‘টেস্টোস্টেরন’-এর মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। এই হরমোনের ঘাটতি সরাসরি শুক্রাণু উৎপাদন ও এর গুণমান কমিয়ে দেয়, যা পরবর্তীকালে পুরুষের বন্ধ্যত্বের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঘুমের অভাব কেবল হরমোন কমিয়েই ক্ষান্ত হয় না, এটি শরীরে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত কর্টিসল টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণকে আরও বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’, ইনসোমনিয়া, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যা তৈরির পথ প্রশস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রজনন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে রাতে টানা ঘুমের বিকল্প নেই। যাঁদের সহজে ঘুম আসতে চায় না, তাঁরা শোয়ার আগে স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল ব্যবহার কমানো, নিয়মিত মেডিটেশন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সুস্থ জীবনের জন্য জৈবিক ঘড়ির ছন্দে ঘুমানো এখন বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য প্রয়োজন।
পাঠকের মতামত:
- আমরা কি আবার সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি?
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন! ৩৪তম দফায় লণ্ডভণ্ড সামরিক ঘাঁটি
- মির্জা ফখরুলের শোকবার্তা
- খাল খননে মেশিন কমিয়ে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
- এক কয়েল মানেই ১৪০টি সিগারেট! মশা তাড়াতে বিষ নয়, বেছে নিন প্রাকৃতিক উপায়
- পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে শরীর? ৫টি লক্ষণ দেখলেই সাবধান!
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- ১৭ বছর ধরে খালের গেট দখল! সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার আতঙ্কে গ্রামবাসী
- ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে? ট্রাম্পের গলায় এবার সমঝোতার সুর
- পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ: শিক্ষার্থীদের মানতে হবে ১০ নিয়ম
- কুসিকের প্রশাসক পদে আলোচনায় ৫ বিএনপি নেতা
- সাগরে লঘুচাপের প্রভাব! বজ্রসহ বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন সতর্কবার্তা
- ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে খাদ্য ও ওষুধ! ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে শান্তির নতুন বার্তা
- ইরানের বিশেষ ছাড়! বাংলাদেশের তেলের জাহাজ চলাচলে মিলল অভয়বার্তা
- বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সামলাতে অভিনব প্রস্তাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি শফিকুর রহমানের
- ভিডিও নেই কেন? ছবি প্রকাশ করেও কেন নিরব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর?
- ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার ইরাকে! পূর্ব সীমান্তে বিশাল সেনাবহর মোতায়েন
- ১০ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ১০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- ঈদ পর্যন্ত রেশনিং বন্ধ করে জ্বালানি সরবরাহ অবাধ রাখার দাবি
- ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৯১
- ঈদের ছুটির বাইরে যেসব খাত
- আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা
- ইফতারে চাই নতুন কিছু? ঝটপট বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে চিকেন চিজ বল
- বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা
- ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নেতানিয়াহু! তাসনিম নিউজের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- খুব শিগগিরই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে কী?
- ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই কেল্লাফতে! বিশ্ববাজারে তেলের দামে বিশাল ধস
- নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় আঘাত: তেলের সংকটে স্থবির হচ্ছে দেশ
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেব না; আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
- জ্বালানি রেশনিংয়ে স্থবির রাজধানী: গণপরিবহন সংকটে যাত্রী ভোগান্তি
- একের পর এক বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান: নিহতের সংখ্যা বাড়ছে
- ইসরায়েলের ড্রোন ও সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু হামলা
- ইন্টারনেট ছাড়াই পাঠানো যাবে মেসেজ: আসছে জ্যাক ডরসির ‘বিটচ্যাট’
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- ৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে
- রমজানের ২০তম দিনে নামাজের ওয়াক্ত ও ইফতারের সময়
- জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেই গড়ব নতুন বাংলাদেশ: খুলনার ইফতারে শপথ এনসিপির
- দেশের প্রধান সব তেল ডিপোর সুরক্ষায় নামছে সেনাবাহিনী
- আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা টিকবেন না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মহাকাশে দানবীয় ডিম? নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল রহস্যময় নীহারিকা
- হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল বশে রাখুন: বিশেষজ্ঞ টিপস
- টানা তিন হারে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ নারী দল: বাটলারে বিদায় ঘণ্টা?
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ২ লাখ ১৯ হাজারে মিলবে এক ভরি
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল ধস! ২২ ক্যারেটের নতুন দাম জানাল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষিকাকে মারধর! সাতক্ষীরায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
- টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বিশাল ধস: ভরিতে কমল ৯ হাজার টাকার বেশি
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ মার্চ ২০২৬
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব








