দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: রাতভর বোমা হামলায় লণ্ডভণ্ড সীমান্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১২:৫৩:৫২
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: রাতভর বোমা হামলায় লণ্ডভণ্ড সীমান্ত
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। রোববার রাতভর খিয়াম ও কানতারা শহরে সরাসরি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোও কেঁপে ওঠে। আকাশপথে ইসরায়েলি ড্রোনের নিরবচ্ছিন্ন টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ইসরায়েলি সেনারা রাতে ব্রাচিত এলাকায় বিপুল পরিমাণ ফ্লেয়ার বা আলোকবর্তিকা নিক্ষেপ করে পুরো এলাকা দিনের মতো আলোকিত করে ফেলে, যার পরপরই শুরু হয় ব্যাপক গোলাবর্ষণ। সাফাদ এল বাত্তিখ, ইয়াতের, মাজদেল সেলম এবং চাইতিয়াহ শহরের উপকণ্ঠে বৃষ্টির মতো গোলা আছড়ে পড়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত আকাশজুড়ে ইসরায়েলি ড্রোনের আনাগোনা এবং নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

হামলায় বেশ কিছু আবাসিক ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লেবাননের উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' ঘোষণার সমান্তরালে লেবানন ফ্রন্টে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ইরান ইতিমধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্ত দিয়েছে, যা এই নতুন হামলার ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

সূত্র- আল জাজিরা


তামিলনাড়ুতে কি তবে ‘বিজয়’ উৎসব? ম্যাজিক ফিগারের কাছে থালাপতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১১:৪৬:৫৭
তামিলনাড়ুতে কি তবে ‘বিজয়’ উৎসব? ম্যাজিক ফিগারের কাছে থালাপতি
ছবি : সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। সিনেমার পর্দা ছেড়ে রাজনীতিতে নামা জোসেফ বিজয় এখন তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে। সোমবার (৪ মে, ২০২৬) বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, থালাপতি বিজয়ের দল 'তামিলাগা ভেত্রি কাড়ঘম' (টিভিকে) রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-কে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ১১৮টি আসন। ভারতীয় গণমাধ্যম 'দ্য হিন্দু'-র তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ের দল টিভিকে বর্তমানে প্রায় ১০০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এআইএডিএমকে ৭৫টি এবং ক্ষমতাসীন ডিএমকে মাত্র ৫০টি আসনে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিজয় ৮৯টি আসনে লিড দিচ্ছেন। যদিও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল আসেনি, তবে প্রাথমিক এই জোয়ার বিজয়ের পক্ষেই কথা বলছে।

ক্যারিয়ারের সেরা সময়েই অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন থালাপতি বিজয়। ২০২৪ সালে দল গঠনের মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেই তিনি বাজিমাত করতে চলেছেন। তাঁর এই অভাবনীয় উত্থানকে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘বিজয় বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা বিজয়ের ওপর ভরসা রাখাতেই রাজ্যের প্রথাগত দ্রাবিড় রাজনীতির মেরুকরণ বদলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজয় এগিয়ে থাকলেও লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ১১৮টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাঁকে আরও কিছু আসন নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো সময় এই ফল ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর এই ভরাডুবি তামিল রাজনীতির জন্য এক বিশাল বড় বার্তা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত থালাপতি বিজয় কি তামিলনাড়ুর মসনদে বসে নতুন কোনো চিত্রনাট্য লেখেন কি না।

/আশিক


ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: শুভেন্দুর তান্ডবে কি তবে সিংহাসন হারাবেন মমতা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১১:২০:৩৭
ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: শুভেন্দুর তান্ডবে কি তবে সিংহাসন হারাবেন মমতা?
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের গণনার শুরুর দিকেই রাজ্যে বিজেপির বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ হলেও বিজেপি ইতিমধ্যে ১৬৯টি আসনে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ১১৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বাম-কংগ্রেস জোটও কয়েকটি আসনে এগিয়ে থেকে তাদের খাতা খুলেছে।

সবচাইতে আলোচিত ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়ছেন তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমানে বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। গণনার শুরুর দিকে মমতা এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে শুভেন্দু অধিকারী ১,৫৫৪ ভোটে এগিয়ে যান। উল্লেখ্য, শুভেন্দু এই নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—উভয় আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নন্দীগ্রামেও শুভেন্দু তাঁর লিড ধরে রেখেছেন।

২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মাত্র ১,৯৫৬ ভোটে হেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে তিনি ভবানীপুর আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। কিন্তু ২০২৬ সালের এই সাধারণ নির্বাচনে শুভেন্দু সরাসরি মমতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ভবানীপুরেও প্রার্থী হন। নির্বাচনী প্রচারণায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ এবং সহিংসতার অভিযোগ থাকলেও ভোটাররা শেষ পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের দিকেই ঝুঁকেছেন বলে প্রাথমিক ট্রেন্ডে মনে হচ্ছে।

কলকাতা জেলার অন্তর্গত ভবানীপুর আসনটি তৃণমূলের জন্য 'প্রেস্টিজ ফাইট'। ২০১১ সাল থেকে মমতা এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করলেও এবার শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও হিন্দু ভোটের মেরুকরণ তৃণমূলের এই দুর্গে ফাটল ধরিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যদিও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হয়নি, তবে বিজেপির এই বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মমতার টানা চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


বিলাসবহুল জাহাজ এখন ভাসমান মৃত্যুপুরী! প্রমোদতরীতে রহস্যময় ভাইরাসের ছোবল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১০:৩৯:৫৮
বিলাসবহুল জাহাজ এখন ভাসমান মৃত্যুপুরী! প্রমোদতরীতে রহস্যময় ভাইরাসের ছোবল
ছবি : সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ প্রমোদতরীতে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েছে বিরল ভাইরাস হান্টাভাইরাস। ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল বা মূত্রের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে তিন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, মৃতদের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। আরও অন্তত পাঁচজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রমোদতরীতে প্রথমে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাঁর মরদেহ বর্তমানে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে। এরপর তাঁর ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে (ICU) একজন ব্রিটিশ নাগরিক জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

ডব্লিউএইচও (WHO) জানিয়েছে, প্রমোদতরীর বাকি যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণ এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চলছে। আক্রান্ত দুই যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে। মূলত হান্টাভাইরাস মানুষের শরীরে রক্তক্ষরণজনিত জ্বর এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সমস্যা তৈরি করে, যা অত্যন্ত প্রাণঘাতী।

হান্টাভাইরাস কোনো মানুষের থেকে মানুষের শরীরে সরাসরি ছড়ায় না, বরং এটি সংক্রমিত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। প্রমোদতরীর মতো বদ্ধ পরিবেশে কীভাবে এই ভাইরাস এলো, তা নিয়ে এখন তদন্তকারীরা কাজ করছেন।

/আশিক


এক্সে ছবি পোস্ট করে ট্রাম্পের রহস্যময় বার্তা: সব কার্ড আমার কাছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১০:২৪:০৭
এক্সে ছবি পোস্ট করে ট্রাম্পের রহস্যময় বার্তা: সব কার্ড আমার কাছে
ছবি : সংগৃহীত

সোমবার (৪ মে) হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ছবি আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে হাসিমুখে কয়েকটি ‘উনো’ কার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পোস্টটিতে আলাদা কোনো ক্যাপশন না থাকলেও ছবির ওপর বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল—‘All the cards are with me’ (সব কার্ড আমার কাছে)।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই ছবির নেপথ্য তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছে, এটি মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধের একটি অংশ। বিশেষ করে আজই যখন ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হওয়ার কথা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব ওয়াশিংটনের টেবিলে রয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ছবিটির অর্থ অত্যন্ত গভীর। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বোঝাতে চাইছেন যে আলোচনার সব নিয়ন্ত্রণ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা (Ace cards) এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ছবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ভাইরাল হয়ে গেছে। কেউ কেউ একে ট্রাম্পের চিরাচরিত ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ মনে করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধ নিয়ে তেহরানকে একপ্রকার তুচ্ছজ্ঞান করার শামিল। ‘উনো’ খেলায় যেমন একটি মোক্ষম কার্ড দিয়ে পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, ট্রাম্পের এই ছবিও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে তেমনই কোনো ‘মাস্টারস্ট্রোক’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা।

/আশিক


বিশ্ব অর্থনীতি বাঁচাতে ট্রাম্পের তুরুপের তাস: প্রজেক্ট ফ্রিডম নিয়ে উত্তাল পারস্য উপসাগর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১০:১২:০৯
বিশ্ব অর্থনীতি বাঁচাতে ট্রাম্পের তুরুপের তাস: প্রজেক্ট ফ্রিডম নিয়ে উত্তাল পারস্য উপসাগর
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের থমথমে পরিস্থিতির মাঝে এক বড় কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ সোমবার (৪ মে) সকালে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ‘পথনির্দেশ’ বা দিকনির্দেশনা দেবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক এই উদ্যোগকে ট্রাম্প একটি ‘মানবিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও ইরান এই পদক্ষেপে যেকোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার উপক্রম হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার নাবিক গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রণালীতে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই সংকট উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এ সরাসরি যুদ্ধজাহাজ দিয়ে জাহাজ এসকর্ট করার পরিকল্পনা না থাকলেও, শিপিং মুভমেন্ট সমন্বয় করতে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ড্রোন প্ল্যাটফর্ম এবং ১৫ হাজার সেনা সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শনিবার পর্যন্ত ইরানের প্রস্তাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও, রোববার ট্রাম্পের গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর। তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনা ‘খুব ইতিবাচকভাবে’ এগোচ্ছে। তবে এই ‘মানবিক প্রক্রিয়ায়’ ইরান কোনো বাধা দিলে তা শক্তভাবে মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব এখন ওয়াশিংটনের পর্যালোচনায় রয়েছে, যেখানে অবরোধ প্রত্যাহার ও লেবানন যুদ্ধ বন্ধের মতো কঠিন শর্ত রয়েছে।

কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতিও কিন্তু থেমে নেই। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে সচল রাখা ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ‘অসম্ভব অভিযান বনাম খারাপ চুক্তি’র হুমকির মাঝেই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আজ আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ০৮:৩৬:০১
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো এই প্রস্তাব এখন ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারণের একটি বড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ৯ দফা শান্তি পরিকল্পনার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। আগের প্রস্তাবে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও এবার ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা সাময়িক বিরতি নয়, বরং দ্রুত ও স্থায়ী যুদ্ধসমাপ্তি চায়। এজন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে সব বিরোধ নিষ্পত্তির রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানের নতুন প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আর কোনো সামরিক হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা দাবি। একইসঙ্গে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো কিংবা প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।

তেহরান আরও দাবি করেছে, বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দিতে হবে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করতে হবে। ইরানের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ তাদের অর্থনীতিকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বর্তমান সংকট সমাধানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অপরিহার্য।

এছাড়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি এখন এই সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে হওয়ায় এখানে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।

ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য হিসেবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তারা বজায় রাখতে চায়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়টিকে “লাল রেখা” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের সামনে দুটি পথ খোলা আছে—একটি কূটনীতির, অন্যটি সংঘাতের।

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ইরান এবার কিছুটা কৌশলগত নমনীয়তা দেখিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূরবর্তী অবরোধ নিয়ে পূর্বের কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মূল বিরোধ এখনো বহাল রয়েছে। ইরান তাদের সার্বভৌম পারমাণবিক অধিকার ছাড়তে রাজি নয় এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাবও ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন চাইছে ইরান পুরোপুরি পারমাণবিক সক্ষমতা ত্যাগ করুক।

নিউইয়র্কভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সৌফান সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো কেনেথ ক্যাটজম্যানের মতে, আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা এখন পারস্পরিক অবিশ্বাস। তার ভাষায়, পারমাণবিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও সেটি সমাধানের বাইরে নয়। কিন্তু ইরান এখনো ট্রাম্প প্রশাসনকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধই এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব ভাঙা জরুরি; আর ইরান এটিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবে দেখছে।

-রফিক


৩০ দিনের চূড়ান্ত ডেডলাইন! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ২০:০২:২৭
৩০ দিনের চূড়ান্ত ডেডলাইন! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এখন চলছে চরম কূটনৈতিক লড়াই। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘নূর নিউজ’ জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোতে আগ্রহী নয়; বরং তারা ৩০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায়। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরিস্থিতি আবার যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তেহরানের এই প্রস্তাবে কয়েকটি শর্তকে 'রেড লাইন' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো

তেহরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার।

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর চলমান নৌ-অবরোধের অবসান।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাদের স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার।

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও সব ধরনের বৈরী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।

যদিও গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তবে দুই দেশের মধ্যে পর্দার অন্তরালে আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়নি। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখনো কার্যকর থাকায় কূটনৈতিক সফলতার একটি ক্ষীণ আশা দেখা যাচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ রোববার (৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সাথে দীর্ঘ ফোনালাপ করেছেন। উল্লেখ্য, ওমান ঐতিহাসিকভাবেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে 'ব্যাক-চ্যানেল' বা গোপন আলোচনার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ৩০ দিনের সময়সীমা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির একটি কৌশল। একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে তেহরান তাদের অর্থনীতি সচল করতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড়। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প এই ১৪ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে কী পদক্ষেপ নেন—শান্তি না কি নতুন কোনো সংঘাত।

সূত্র: আলজাজিরা।


মার্কিন রণতরী হবে কবরস্থান!আমেরিকাকে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৮:১৮:০০
মার্কিন রণতরী হবে কবরস্থান!আমেরিকাকে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং বর্তমানে তেহরানের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের প্রধান 'জলদস্যু' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের হাতে বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। তবে এই জলদস্যুদের মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার চেয়ে কম কিছু নয়।”

রেজায়ি তাঁর বিবৃতিতে গত মাসে ইসফাহানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “প্রস্তুত থাকুন, আপনাদের বিমানবাহী রণতরী ও বাহিনীকে আমরা কবরস্থানে পরিণত করব; ঠিক যেমন গত মাসে ইসফাহানে আপনাদের বিমানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছিল।” তাঁর এই বক্তব্যে পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতিকে ইরান এখন সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রেজায়ির এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার হুমকি আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে এই হুমকির প্রেক্ষিতে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, অঞ্চলটিতে নতুন করে সামরিক মহড়া ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের আশঙ্কা বাড়ছে।

সূত্র : আল-জাজিরা


ট্রাম্পের সামনে মাত্র দুটি পথ! আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে ওয়াশিংটন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৭:৩৩:০৭
ট্রাম্পের সামনে মাত্র দুটি পথ! আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে ওয়াশিংটন
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা ইউনিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসি দাবি করেছে, ট্রাম্পকে এখন দুটি কঠিন পরিস্থিতির যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে—হয় তাকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘অসম্ভব সামরিক অভিযানে’ নামতে হবে, আর না হয় ইরানের শর্ত মেনে একটি ‘খারাপ চুক্তিতে’ সই করতে হবে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও প্রকাশ করেছে যে, তেহরান ইতিমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে।

যদিও কৌশলী কারণে সেই নির্দিষ্ট সময়সীমাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি তারা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর যদি অবরোধ প্রত্যাহার করা না হয়, তবে হরমুজ প্রণালিসহ ওই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা শুরু হতে পারে।

বিবৃতিতে বিশ্ব রাজনীতির পটপরিবর্তনের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে আইআরজিসি। তারা বলছে, বর্তমান সংকটে চীন, রাশিয়া এমনকি ইউরোপের দেশগুলোর অবস্থানেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের একতরফা সামরিক নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের এই শক্ত অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও কোণঠাসা করে ফেলছে।

বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের সরাসরি বিরোধিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে সামরিক অভিযান চালানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের এই কড়া বার্তা ওয়াশিংটনের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

পাঠকের মতামত: