স্বর্ণের বাজারে বিশাল পতন! বাজুসের নতুন ঘোষণায় সস্তা হলো সব মানের সোনা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১০:৩৫:১৮
স্বর্ণের বাজারে বিশাল পতন! বাজুসের নতুন ঘোষণায় সস্তা হলো সব মানের সোনা
ছবি : সংগৃহীত

টানা তৃতীয় দিনের মতো দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হলো! মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাজুস আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম আরও ২ হাজার ২১৬ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গতকালের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বুধবার আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভরি প্রতি আরও ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। সব মিলিয়ে গত তিন দফায় স্বর্ণের দাম প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা কমল।

স্বর্ণের নতুন বাজারদর (ভরি প্রতি)

২২ ক্যারেট: ২,৪২,৪৯৫ টাকা (কমল ২,২১৬ টাকা)

২১ ক্যারেট: ২,৩১,৪৭২ টাকা

১৮ ক্যারেট: ১,৯৮,৪০৫ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: ১,৬১,৬০৫ টাকা

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত এই সমন্বয় করা হচ্ছে। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৫৮ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হলো, যার মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৬ বার কমেছে।

/আশিক


চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১৩:৫৪:১৮
চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা মূল্যহ্রাসের ধারা ভেঙে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোনার দাম। চার দফা ধারাবাহিক কমার পর এক লাফে প্রতি ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন মূল্যহার অনুমোদন করা হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দর প্রকাশ করা হয়। সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং স্থানীয় কাঁচামালের ব্যয়ের পরিবর্তনের প্রভাবও এই সমন্বয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। মাত্র দুই দিন আগেও একই মানের সোনা বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকায়। ফলে এক ধাক্কায় ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা।

একইভাবে ২১ ক্যারেট সোনার ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকায়। এ শ্রেণির সোনার দাম বেড়েছে ৬ হাজার ২৯৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা, যা আগের তুলনায় ৫ হাজার ৩৬৬ টাকা বেশি।

অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনার ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি সনাতন স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকায়। এ ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

স্বর্ণবাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুন মাসের শুরু থেকেই বাজারে বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় হয়েছে। গত ২ জুন ২২ ক্যারেট সোনার ভরি দাম কমানো হয়েছিল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এরপর ৬ জুন আরও ৫ হাজার ৪৮১ টাকা, ১০ জুন ৬ হাজার ৫৯১ টাকা এবং ১১ জুন ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হয়।

ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চার দফা সমন্বয়ে ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেট সোনার দাম মোট ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা কমে গিয়েছিল। তবে সর্বশেষ ঘোষণায় সেই পতনের একটি বড় অংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাজুস। নতুন দরে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১৩২ টাকায়। এ ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে ২৯১ টাকা।

২১ ক্যারেট রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, যা আগের তুলনায় ২৯২ টাকা বেশি। ১৮ ক্যারেট রুপার ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকায় বিক্রি হবে এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের পরিবর্তন, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ সোনার সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের স্বর্ণমূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।

-রাফসান


ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১১:৪৭:২০
ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি অভিযোগ নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একসময় তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন—এমন দাবি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এলেও এতদিন এ বিষয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি তিনি। তবে ব্যাংক খাতের বর্তমান তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পুরোনো অভিযোগের জবাব দেন গভর্নর।

শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে মোস্তাকুর রহমান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তাকে ঘিরে ঋণখেলাপির অভিযোগ বারবার সামনে আনা হয়েছে। তবে তার দাবি, বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গ্রিন ফ্যাক্টরি ছিল এবং সেখানে বিনিয়োগ ও ঋণ ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা অনেকের জানা নেই।

গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় কম সুদে অর্থায়ন পেয়েছিল। শুরুতে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে অর্থায়নের অনুমোদন থাকলেও প্রকল্পে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, সেই তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে গেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত কম সুদের পরিবর্তে ৯ থেকে ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।

তিনি বলেন, এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের আর্থিক হিসাব-নিকাশ এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এর সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত হওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব ঘটে। তবে বিলম্বিত পরিশোধ আর ঋণখেলাপি হওয়া এক বিষয় নয় বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেরি হওয়া মানেই খেলাপি হয়ে যাওয়া নয়। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানা কখনো উৎপাদন বন্ধ করেনি, রপ্তানি কার্যক্রমও থেমে যায়নি। এমনকি কর্মীদের বেতনও কোনো মাসে বিলম্বিত হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।

গভর্নর আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরনের ঋণ মওকুফ বা বিশেষ সুবিধা দাবি করেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ১০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করা হয়েছে। তার মতে, বাস্তব তথ্য উপেক্ষা করে একটি অভিযোগকে দীর্ঘদিন ধরে পুনরাবৃত্তি করার কারণেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, অনেক সময় একটি তথ্য বা অভিযোগ বারবার প্রচারিত হলে সেটিকে সত্য বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় ভিন্ন হতে পারে। তাই আর্থিক খাতের বিষয়ে আলোচনা করতে হলে প্রকৃত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এ সময় দেশের ব্যাংকিং খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা নিয়েও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া।

গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী পাচার হওয়া অর্থের গড়ে মাত্র ২ শতাংশ ফেরত আনা সম্ভব হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা, আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দেশের আর্থিক বিধিনিষেধের কারণে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করতে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

তিনি বলেন, তবুও বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে হাল ছাড়ছে না। পাচার হওয়া অর্থ শনাক্তকরণ, আইনি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

-রফিক


সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে কমলো যত টাকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৯:২৯:০৮
সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে কমলো যত টাকা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পরদিনই দেশের স্বর্ণবাজারে দেখা গেছে বড় ধরনের মূল্যপতন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সর্বশেষ সমন্বয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম এক ধাক্কায় ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকায়। মাত্র দুই দিন আগেও একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও একটি বড় মূল্যহ্রাসের সাক্ষী হলো দেশের স্বর্ণবাজার।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা বিশুদ্ধ সোনার দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামাও এই দরপতনের অন্যতম কারণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাজুস।

চলতি বছরের শুরুতে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। গত ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এরপর আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ধাপে ধাপে দাম কমতে শুরু করে।

সর্বশেষ মূল্যহ্রাসের ফলে জানুয়ারির সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমেছে ৬৭ হাজার ৬৫০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে স্বর্ণের বাজারে উল্লেখযোগ্য সংশোধন ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মূল্যপতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকায়। একইভাবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকায়।

শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার বাজারেও এসেছে মূল্যহ্রাস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ইতোমধ্যে ৭৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩৬ দফা কমেছে। অন্যদিকে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ৪৪ বার, যেখানে ২২ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২২ বার হ্রাস পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, মূল্যবান ধাতুর বাজার বর্তমানে অত্যন্ত অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

-রাফসান


স্বর্ণ কিনতে এটাই কি সেরা সময়? নতুন দর প্রকাশ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১০:৪০:৪৩
স্বর্ণ কিনতে এটাই কি সেরা সময়? নতুন দর প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যহ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আবারও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে স্বস্তি ফিরেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং রুপার দাম ৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন এই মূল্য শুক্রবার (১২ জুন) থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের পরিবর্তন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) ও বিশুদ্ধ রুপার মূল্য কমে যাওয়ার কারণে নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝোঁক বৃদ্ধির কারণে মূল্যবান ধাতুর দামে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি দেশের স্বর্ণবাজারেও পড়তে শুরু করেছে।

মাত্র দুই দিন আগেও ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় সেই দাম আরও ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমে বর্তমান পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে জুন মাসজুড়েই স্বর্ণবাজারে ধারাবাহিক মূল্যপতনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার বাজারেও এসেছে নতুন মূল্যসংশোধন। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে স্বর্ণের দাম এখন পর্যন্ত ৭৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বৃদ্ধি করা হলেও ৩৬ বার কমানো হয়েছে। অর্থাৎ বছরজুড়ে স্বর্ণবাজারে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে রুপার বাজারেও মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ৪৪ বার রুপার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ বার দাম বেড়েছে এবং সমান সংখ্যক অর্থাৎ ২২ বার দাম কমেছে।

-রাফসান


রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বড় উপহার; নতুন বাজেটে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ২০:১২:৫৮
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বড় উপহার; নতুন বাজেটে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা রেমিট্যান্স যোদ্ধা তথা প্রবাসী কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী মেগা প্রজেক্ট ঘোষণা করেছে সরকার। প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা এক ছাতার নিচে আনতে সরকার একটি বিশেষ 'প্রবাসী কার্ড' (Expatriate Card) প্রবর্তন করতে যাচ্ছে।

এই বিশেষ কার্ডটির মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ সেবা, জীবন বীমা, সহজ শর্তে বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা ও ঋণ এবং যেকোনো আন্তর্জাতিক জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় দ্রুত সহায়তা লাভ করতে পারবেন। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্য পেশকালে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈশ্বিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক তথ্য দিয়ে আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত দেশগুলোর বাইরে প্রবাসীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া এবং নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো উন্নত ও উদীয়মান দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের জোরদার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি দেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম প্রধান ও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর বিষয়েও বড় সুখবর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে জানান, বিভিন্ন আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে আমরা আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কুয়েতের বন্ধ শ্রমবাজারগুলো বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুনভাবে খোলার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করেছি। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে আগামী অর্থবছরে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও প্রবাসীদের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন।

/আশিক


২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৮:১৭:২৬
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি দীর্ঘপ্রতীক্ষিত ও বড় সুখবর নিয়ে এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন জাতীয় বাজেট। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে আংশিকভাবে বাস্তবায়ন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট পেশকালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম এই বাজেট অধিবেশনে নতুন অর্থবছরের বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে কার্যকর করা হবে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে গঠিত পে কমিশনের প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে। পে কমিশনের এই মেগা সুপারিশের আর্থিক সংশ্লেষ এবং অন্যান্য কারিগরি দিক বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের 'সচিব কমিটি' নিরলসভাবে কাজ করছে।" অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত পে কমিশনের চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

সচিব কমিটি তাদের চলমান সামগ্রিক পর্যালোচনা ও দেশের বর্তমান রাজস্ব আয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে খুব শীঘ্রই সরকারের কাছে একটি চূড়ান্ত সুপারিশমালা জমা দেবে। এরপরই নতুন পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও চূড়ান্ত রূপরেখা দেশবাসীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে যে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিতে পে কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা সমন্বয় বা কমিয়ে একটি সংশোধিত ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ চূড়ান্ত করা হতে পারে। এর ফলে, চূড়ান্তভাবে ঘোষিত পে-স্কেলে পে কমিশনের মূল প্রাথমিক প্রস্তাবের তুলনায় কিছুটা কাঠামোগত পরিবর্তন বা পরিমার্জন আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১ জুলাই থেকেই যে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্ধিত আংশিক বেতনের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, বাজেটে অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণা সরকারি কর্মজীবী মহলে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

/আশিক


স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১১:০৯:৫৪
স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যহ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে। একের পর এক দাম কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ভরিপ্রতি স্বর্ণের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সর্বশেষ ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা চতুর্থবারের মতো স্বর্ণের দাম কমিয়েছে, যা বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দরে সব ধরনের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা। একইসঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা।

স্বর্ণের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে কমছে দাম। গত ১০ জুন ভরিপ্রতি ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। এর আগে ৬ জুন আরও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে দাম নামানো হয়েছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায়।

অন্যদিকে, ২ জুনের মূল্য সমন্বয়ে ভরিপ্রতি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল। সেই সময় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এরপর ধারাবাহিক চার দফা মূল্যহ্রাসের ফলে মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম মোট ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা কমেছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের মূল্য কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এই মূল্য সমন্বয়ের অন্যতম কারণ। বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণের দাম কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক এই মূল্যহ্রাসে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য যারা স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে আবার ওঠানামা দেখা যেতে পারে। ফলে বর্তমান মূল্যকে স্থায়ী বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বাজুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৭৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে ৩৬ বার কমানো হয়েছে। ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তনের এই প্রবণতা দেশের স্বর্ণবাজারে অস্থিরতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরছে।

-রাফসান


সোনার বাজারে রেকর্ড পতন, ১ লাখ ৮২ হাজারে মিলবে এক ভরি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ০৮:৫৮:৩৩
সোনার বাজারে রেকর্ড পতন, ১ লাখ ৮২ হাজারে মিলবে এক ভরি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ ও রুপার দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মূল্যবান এই দুই ধাতুর খুচরা বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে সারা দেশে কম দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ ও রুপা।

বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি ভরি রুপার দামও ৩৫০ টাকা হ্রাস পেয়েছে। ফলে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে স্বর্ণবাজারে ক্রেতাদের জন্য নতুন স্বস্তি তৈরি হয়েছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৪ টাকায়।

মাত্র কয়েকদিন আগেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ছিল আরও বেশি। গত ৬ জুন কার্যকর হওয়া মূল্য তালিকায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। সেই তুলনায় সর্বশেষ সমন্বয়ে বাজারে উল্লেখযোগ্য মূল্য হ্রাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য পরিবর্তন, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দরপতন এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা সরাসরি দেশের বাজারেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করেছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭২ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, আর ৩৫ বার কমেছে। অর্থাৎ বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় প্রতি তিন দিনে একবার করে স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।

শুধু স্বর্ণ নয়, একই সঙ্গে রুপার বাজারেও এসেছে বড় পরিবর্তন। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রুপার বাজারেও চলতি বছর মূল্য সমন্বয়ের হার উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৪৩ দফা রুপার দাম পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ২২ বার দাম বেড়েছে এবং ২১ বার কমেছে। ফলে বাজারে প্রায় সমান হারে মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যহ্রাসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের বিনিময় হার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতি এবং বৈশ্বিক স্বর্ণের চাহিদা-জোগানের পরিবর্তন সরাসরি স্বর্ণ ও রুপার দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের আচরণে পরিবর্তন আনছে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক দরপতনের ফলে বিয়ের মৌসুম এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য স্বর্ণ কেনার আগ্রহ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বাজারের অস্থিরতার কারণে ভবিষ্যতে দাম আবারও পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেই বছর ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার দাম হ্রাস পেয়েছিল। তুলনামূলকভাবে ২০২৬ সালে মূল্য সমন্বয়ের ধরণ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হলেও বাজারে অস্থিরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

-রাফসান


নতুন বাজেটে কমতে পারে চাল-ডালসহ ৬০ পণ্যের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২২:০৬:৪৮
নতুন বাজেটে কমতে পারে চাল-ডালসহ ৬০ পণ্যের দাম
সত্য নিউজ গ্রাফিক্স

আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমাতে একাধিক কর ছাড়ের প্রস্তাব আসতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ৬০টি কৃষি, ভোগ্য ও প্রযুক্তিপণ্যের ওপর উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এসব পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ হারে উৎসে কর রয়েছে। নতুন বাজেটে তা কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট উপস্থাপনের সময় এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন।

কর ছাড়ের আওতায় থাকা পণ্যের তালিকায় ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার মনে করছে, এসব পণ্যের কর কমানো হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় হ্রাস পাবে, যা ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য কমাতে সহায়ক হবে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, এর ফলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

নিত্যপণ্যের পাশাপাশি শিশুখাদ্য আমদানিতেও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে ১৫ শতাংশ শুল্ক থাকলেও তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানির ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতেও বেশ কিছু কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব কার্যকর হলে হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে প্রতি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে।

প্রযুক্তি খাতে মোবাইল সিমের ওপর বিদ্যমান কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হচ্ছে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনোদন ও সংস্কৃতি খাতের জন্যও কিছু সুবিধা রাখা হচ্ছে। গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা তরুণ শিল্পী ও নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারের নতুন রাজস্ব নীতিতে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, কর ছাড়ের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। /আশিক

পাঠকের মতামত: