সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১০:১৬:০৮
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই চুক্তি আগামী তিন দশক ধরে দুই দেশের পারমাণবিক সহযোগিতার কাঠামো নির্ধারণ করবে এবং সৌদির জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Uranium Enrichment)-এর সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে। যদিও এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ বেসামরিক প্রয়োজনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার, তবুও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ একই প্রযুক্তি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।

চুক্তিটি কয়েক হাজার কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে মার্কিন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যাতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীরা এই বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণ এবং তদারকি থাকলে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করবে এবং এর অপব্যবহারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তাঁদের মতে, সরাসরি মার্কিন সম্পৃক্ততা থাকলে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সহজ হবে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সৌদি আরবের পারমাণবিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে যেন কর্মসূচিটি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের দিকে না যায় এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

তবে এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং পারমাণবিক বিস্তাররোধ (Non-Proliferation) বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা দেওয়া ভবিষ্যতে আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। দেশটির যুক্তি, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। তবে সমালোচকদের মতে, অঞ্চলটিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদির এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে নতুন ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হতে পারে। সেখানে এটি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় চুক্তির বিভিন্ন শর্ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক বিস্তাররোধসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক নীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ২০:০৮:০৫
টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়
ছবি : সংগৃহীত

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীদের মূল টার্গেট টাইগার ছিলেন না; মূলত অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা মুম্বাইয়ে প্রবেশ করেছিল।

পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যে জানা যায়, বিহারের ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান ও ফুল সিং নামের তিন তরুণ গত রোববার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ফুটবল খেলে ফেরার পথে অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, প্রধান টার্গেটের নাগাল না পাওয়ায় এবং ইনস্টাগ্রাম রিল ও ভক্তদের ভিডিওর মাধ্যমে টাইগার শ্রফের চলাফেরার তথ্য ও পুলিশি নিরাপত্তার অভাব দেখে তারা তাকেই সহজ লক্ষ্যবস্তু বানায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অভিনেতাকে হত্যা করে বলিউডে ত্রাস সৃষ্টি করা।

হামলার সময় টাইগার ও তার গাড়িচালককে লক্ষ্য করে মোট সাত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তবে অস্ত্রের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হামলাকারীরা পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি এবং আহত অবস্থাতেই অভিনেতা নিরাপদে স্থান ত্যাগ করেন।

এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিতের পাঠানো একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘটনার দায় স্বীকার করা হয়। ওই বার্তায় দাবি করা হয়, সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে নিষেধ করা হলেও টাইগার তা না মানায় তাকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পে সালমান খানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেলে বা তাদের নির্দেশনা অমান্য করলে পরিণাম যে কী হতে পারে, তার চূড়ান্ত হুশিয়ারিও দেওয়া হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, এই মিশনে অংশ নেওয়ার জন্য হামলাকারীদের অগ্রিম ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল এবং কাজ শেষে আরও অর্থের পাশাপাশি বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। অপারেশন শেষে তারা তাদের মূল নিয়ন্ত্রকদের মিশন সফল হওয়ার খবরও জানায়। এদিকে ঘটনার পর গত সোমবার টাইগার শ্রফের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মুম্বাইয়ে কোনো ধরনের গুণ্ডামি বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/আশিক


সৌদি আরবের সুরক্ষায় এবার যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৯:৫৭:৫৯
সৌদি আরবের সুরক্ষায় এবার যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবের নগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় যুক্তরাজ্য রাজকীয় বিমানবাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, রয়্যাল এয়ারফোর্সের এই টাইফুন ফাইটার জেটগুলো কেবল সৌদি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজেই ব্যবহৃত হবে। ইয়েমেনের ভেতরে গিয়ে কোনো আক্রমণাত্মক হামলায় এসব বিমান অংশ নেবে না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হুথিদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য তার পূর্ব বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ বাড়ালো।

গত জুলাই মাস থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে, যখন সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের এক ফ্লাইট অবতরণের সময় সৌদি জোট হামলা চালায়। এর জবাবে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে হামলার পরিধি বাড়ায়। একদিকে সমুদ্রপথে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে হুথিদের এই আক্রমণাত্বক অবস্থান, অন্যদিকে ইয়েমেনের ভেতরে স্থানীয় সরকারি বাহিনীর সাথে হুথিদের ভূখণ্ড দখলের তীব্র লড়াই—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে সংঘাত এখন আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন


ফ্রান্সের মতো ঋণসংকটে কি পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? উদ্বেগে বিশ্ব অর্থনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৮:৩৮:১৪
ফ্রান্সের মতো ঋণসংকটে কি পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? উদ্বেগে বিশ্ব অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ, চড়া সুদের হার এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্স। জিডিপির প্রায় ১১৯ শতাংশে পৌঁছানো ঋণ ও ৫.৪ শতাংশ বাজেট ঘাটতি কাটাতে দেশটির অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষমতা যখন পুরো পশ্চিমা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলছে, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রও কি একই ধরনের ভয়াবহ ঋণসংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর সরকারি বন্ডের সুদের হার দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চলতি দশকের শেষে তাদের সম্মিলিত ঋণ জিডিপিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ইতিমধ্যেই ৩২ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ কোটি ডলারে, যেখানে কর রাজস্বের প্রতি ৭ ডলারের ১ ডলারই চলে যাচ্ছে ঋণের সুদ মেটাতে। তবুও মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি বা রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে আধিপত্য, শক্তিশালী আইনি কাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধির বদৌলতে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের চেয়ে তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সরাসরি সংকট এড়িয়ে চললেও দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী বছর ঋণসীমা (Debt Ceiling) বাড়ানো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য মতবিরোধ নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির মতে, ঋণসীমা সময়মতো না বাড়ানো হলে অর্থ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম ঋণখেলাপির মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে ফ্রান্সের বাজেট সংকট যেমন ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত ঋণবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন


ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জেরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৮:২১:২১
ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জেরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার সিঁথির দণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে মক্কার পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াত (কালো পাথর) চুম্বনের সময় এক পুরুষকে এক নারীর মাথায় ধাক্কা দিতে দেখা যায় এবং দাবি করা হয় যে এটিই সেই দণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির অপরাধের দৃশ্য। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে সৌদির দুই পবিত্র মসজিদ (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী) পরিচালনা কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই পবিত্র মসজিদ কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়, সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংবলিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি ওই বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত সংবাদের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত বা কোনো ধরনের প্রামাণ্য দলিল নয়। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে মসজিদের ভেতর ‘অনৈতিক কাজ’ করার অভিযোগে তাদের দণ্ড কার্যকরের তথ্য জানালেও, ঠিক কোন স্থানে কিংবা কবে এই ঘটনা ঘটেছিল—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

এদিকে দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি থাকা নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, প্রতি সপ্তাহে একদিন পরিবারকে ফোন করার সুযোগ পেলেও বিচারের সঠিক ধাপ কিংবা ফাঁসির আগাম কোনো তথ্য তাঁদের জানানো হয়নি। আকস্মিকভাবে দণ্ড কার্যকরের খবরে পরিবারটি শোকাহত হলেও, ইন্টারনেটে ভুয়া ও অপপ্রচারের মাধ্যমে ছবি-ভিডিও ছড়ানোর ফলে প্রবাসীদের প্রকৃত আইনি পরিস্থিতি ও সত্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: খালিজ টাইমস


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মাঝে ইসলামাবাদে মধ্যস্থতা, উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে তেহরানে আসিম মুনির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৭:৪২:৪৫
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মাঝে ইসলামাবাদে মধ্যস্থতা, উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে তেহরানে আসিম মুনির
ছবি : সংগৃহীত

পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংকট নিরসনে কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা শক্তিশালী করতে এক উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ ও তাসনিম নিউজের যৌথ প্রতিবেদনে শীর্ষ এই পাক সামরিক কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থাগুলোর বরাতে জানা যায়, তেহরান সফরকালে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা প্রশমন, সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান সূত্র উদ্ভাবন এবং সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিবিড় আলোচনা হবে।

চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের পটভূমিতে ইসলামাবাদ শুরু থেকেই উভয় পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে দুই চিরবৈরী দেশের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসিম মুনিরের এই জরুরি ও অপ্রত্যাশিত তেহরান সফর আঞ্চলিক রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানো ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা


মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বাড়ার আশঙ্কা: ১২ দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:৩৮:৪৯
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বাড়ার আশঙ্কা: ১২ দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও দেশটির সমর্থিত মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোতে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো থেকে আলাদা আলাদা বার্তা প্রকাশ করে নিজ নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আকাশসীমা বন্ধ, আকস্মিক বিমান ফ্লাইট বাতিল এবং সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম বিঘ্ন ঘটার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে হুশিয়ার করা হয়েছে।

তুর্কিভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত দ্রুত সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত এবং এ অঞ্চলে সফরের পরিকল্পনা করা মার্কিন নাগরিকদের আগাম বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ইউএই ও সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি রিয়াদসহ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রাণহানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। সংঘাতের তীব্রতা অতি দ্রুত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিদেশে মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে টার্গেট করা হতে পারে বলে ওয়াশিংটন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার জবাবে হুথিরা তেল স্থাপনা ও মূল অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাতের হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে রূপ নিয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ার মুখে মার্কিন নাগরিকদের কনস্যুলার অ্যারফেয়ার্স ব্যুরো ও বিমান সংস্থার হালনাগাদ তথ্যের ওপর নজর রাখতে সতর্ক করা হয়েছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


আমাদেরও অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর নতুন হুমকির কড়া জবাব ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:৩৪:০০
আমাদেরও অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর নতুন হুমকির কড়া জবাব ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নতুন হুংকারকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের শঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের "খুব শীঘ্রই কাজ শেষ করে দেওয়ার" হুঁশিয়ারি এবং ওয়াশিংটনের সাহায্য ছাড়াই ইসরায়েলের একলা আক্রমণের প্রস্তুতির কথা প্রকাশের পর তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন চরম সীমায় পৌঁছেছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো নিজ নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই সামরিক বার্তার কড়া জবাব দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যকে লক্ষ্য করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, "আমাদেরও কিছু কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে" এবং ডেনাল্ড ট্রাম্পকে আবারও ভাগ্য পরীক্ষা না করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক সংকট ও কারাদণ্ড এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে জোর করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে আনার অভিযোগ এনেছেন আরাগচি।

অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের ক্ষেত্রে সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ও সামুদ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্কে সমন্বিত পাল্টা আঘাত হানা হবে।

সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত থাকলেও আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার টেবিল বজায় থাকবে নাকি দুর্ঘটনাবশত নতুন এক পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হবে—তা নিয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন বৈশ্বিক রাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ব্লক বা সচল রাখার ওপর বিশ্ববাজারের তেলের সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

সূত্র: গালফ নিউজ


জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড পুড়িয়ে ছাই করার হুমকি আইআরজিসির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৭:৫৪:১০
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড পুড়িয়ে ছাই করার হুমকি আইআরজিসির
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর শত্রুপক্ষ যেকোনো ধরনের হামলা চালালে তার চরম জবাবে দখলকৃত ভূখণ্ডকে পুড়িয়ে চিরতরে ছাই করে দেওয়ার নজিরবিহীন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরোধ লড়াইয়ের মুখে দখলদারদের সিনাই মরুভূমিতে উদ্বাস্তু হতে হবে বলেও চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাহিনীটির মুখপাত্র।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

বার্তায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেন, ইরানের জাতীয় জ্বালানি কাঠামোর ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ হলে দেশটির প্রতিভাবান তরুণ বিজ্ঞানীরা অতি দ্রুত তা পুনর্নির্মাণ ও সচল করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু ইরানের ওপর হামলার কোনো দুঃসাহস দেখালে তার পাল্টা জবাবে দখলকৃত সমগ্র অঞ্চলকে পোড়ামাটিতে পরিণত করা হবে এবং শত্রুদের সেখান থেকে পালিয়ে সিনাই মরুভূমিতে গিয়ে আশ্রয় ও উদ্বাস্তু জীবন বেছে নিতে হবে। পরিশেষে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, "বিশ্ব খুব শিগগিরই দেখতে পাবে, প্রকৃতপক্ষে কী ঘটতে যাচ্ছে।"

/আশিক


হরমুজ প্রণালি কি আবার খুলে যাচ্ছে? শর্ত সাপেক্ষে তেহরানের নতুন বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২০:২৯:৩৪
হরমুজ প্রণালি কি আবার খুলে যাচ্ছে? শর্ত সাপেক্ষে তেহরানের নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন কূটনৈতিক শর্ত ও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরাকের বাগদাদে এক ধর্মীয় সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া শর্ত ও কথা মেনে চললে মাত্র ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যেই এই জলপথ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব। গত সেপ্টেম্বরে দুই পক্ষের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের কাছে এই বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেছিল তেহরান।

মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি ওই প্রস্তাবের জবাবে কিছু মতামত পাঠালেও মূল আলোচনা মূলত হোয়াইট হাউসের পূর্বশর্তের কারণে থমকে রয়েছে। ইরানের স্পষ্ট দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে ইরানি বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন একতরফা অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান থেকে সরে এসে আগে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে গত আট মাস ধরে চলা এই সংকটের অবসান ঘটাতে হলে ইরানকে পারমাণবিক বিষয়ে বড় ছাড় দিতে হবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করেছে। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের দাবি মেনে নিলে প্রস্তাবিত ৭ দিনের সময়সীমার মধ্যেই জলপথ সচল করা এবং পরের দিনই বৈঠকে বসা সম্ভব, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পরাশক্তির অনড় অবস্থানের কারণে অচলাবস্থা কাটেনি।

সূত্র: রয়টার্স

পাঠকের মতামত: