দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২১:৫৬:৩৫
দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পেয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। তাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে শুরু করে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের এই মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবেলায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সুনির্দিষ্ট জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণ ও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজেদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক এই গবেষণার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

ইএসডিও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা ও পাইকারি বাজার থেকে ১৯টি ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি দেশি-বিদেশি টুথপেস্টের নমুনা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের 'এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি' (ইএইচই) গবেষণাগারে নমুনাগুলো সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তৈরি। দেখা গেছে, চার দেশে উৎপাদিত পণেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টি, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টি, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টি এবং ভিয়েতনামের ২টি নমুনার দুটিতেই এই ক্ষতিকর কণা মিলেছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে কণার ঘনত্বের নিরিখে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে; কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে ১৪০টি; সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি; পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে; সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি; পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি-স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায় ৬০টি করে কণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে এএম.পিএম. হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক প্লাস, মেরিল বেবি-অরেঞ্জ, ম্যাজিক হার্বাল, মেসবাক ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে ৪০টি করে এবং ডেন্টিন জেল, পেপসোডেন্ট কিডস-অরেঞ্জ, ক্লোজ আপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল ও হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে ২০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি পরিষ্কার করেছে যে, কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে কাঠগড়ায় তোলা এই গবেষণার উদ্দেশ্য নয়। দেশে প্রসাধন ও হাইজিন পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের কোনো গ্রহণযোগ্য সীমা, মানদণ্ড বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় জনস্বার্থেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষাগারের সক্ষমতার ঘাটতি এবং তদারকির অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান ভোক্তা অধিকার ও বিএসটিআই মানদণ্ডের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক ইস্যুটি যুক্ত করা জরুরি। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং পণ্যের প্যাকেজিংয়ে উপাদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দিয়েছে।

/আশিক


জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৯:৪৮:১৫
জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

একটি সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষ্য অর্জনে খেলাধুলাকে শুধু শরীরচর্চা বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে রূপ দিতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ স্ট্যাটাসে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তির সমন্বিত অগ্রগতিই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫–২০২৬' কর্মসূচি দেশজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এই আয়োজনের প্রথম আসরের জাকজমকপূর্ণ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, ক্রীড়াচর্চা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, অধ্যবসায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা এবং দেশপ্রেমের মতো মানবিক গুণাবলি অর্জনে সাহায্য করে। ফলে দেশের দূরদূরান্তের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' একটি কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, পরবর্তী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬–২০২৭' মৌসুমে নতুন করে টেবিল টেনিস ও ভলিবল অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে মোট ইভেন্টের সংখ্যা ১০-এ উন্নীত হবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বয়সসীমা ১০ থেকে ১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অধিক সংখ্যক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর এই উঠতি খুদে অ্যাথলেটরাই আগামী দিনে বিশ্বক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫–২০২৬'-এর প্রথম আসরে সম্পৃক্ত সব খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন সাফল্য প্রার্থনা করেন।

/আশিক


শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যাওয়া লাগে না, ঢাকাতেই সম্ভব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৮:১৯:৩১
শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যাওয়া লাগে না, ঢাকাতেই সম্ভব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি কেবল সংবাদপত্রে দেখেছেন, তবে সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে যোগাযোগ করার জন্য সশরীরে লন্ডনে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, দেশ থেকেই তা করা সম্ভব।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির ফোনালাপের অভিযোগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কেবল বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদটি প্রত্যক্ষ করেছেন। কী তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ওই সংবাদটি প্রকাশিত হলো, তা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছেই জানতে চাওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। সরকারের আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে এ ধরনের কোনো কথোপকথনের অস্তিত্ব নেই বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিরোধীদের পক্ষ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জোর দাবির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী জানান, বিরোধী দলগুলো কেন রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি করছে, সে প্রশ্ন তাদেরই করা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যারা বিরূপ মন্তব্য করছেন, সে অধিকার তাদের রয়েছে।’ গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক পরিবেশে মানুষের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ এবং প্রতিবাদ জানানোর পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী আমলের শেষভাগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে সংবিধান ও নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনেই মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সরকার তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বিশেষ দায়মুক্তি বা প্রিভিলেজ পান, যার ফলে পদে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ নেই। এর বাইরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেউ বক্তব্য দিলে তা তাঁদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে দেখা যায়, তবে তা আইনত আমলে নেওয়ার মতো কিছু নয়।

রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার আগের অভিযোগগুলোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, তৎকালীন সময়ের কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর প্রাপ্য সুবিধার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেন, আইন অনুযায়ী একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির যা পাওয়ার কথা, তা তিনি পাবেন। তাঁর নিরাপত্তার খাতিরে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টসহ (পিজিআর) অন্যান্য বিশেষ সুবিধা আগামী ছয় মাসের জন্য বলবৎ থাকবে। এর পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তাসহ অপরাপর সুযোগ-সুবিধাও তাঁকে প্রদান করা হবে।

/আশিক


সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৮:১৪:৩০
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ড ও তার বিরুদ্ধে ওঠা নানাবিধ অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তদন্তের সুনির্দিষ্ট ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. আসাদুজ্জামান জানান, দেশবাসীর তীব্র দাবি এবং সংগৃহীত অভিযোগগুলোর আলোকেই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন সময়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক ভূমিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার কাউকেই অন্যায়ভাবে হয়রানি বা কষ্ট দিতে চায় না। তবে যাবতীয় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সংবিধান প্রদত্ত আইনি কাঠামো অনুসরণ করেই সরকার পদক্ষেপ নেবে। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে সাবেক সরকারের সময়কার বেপরোয়া দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের খতিয়ান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং রুট ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় অন্তত ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে দেশের দুই থেকে তিনটি পুরো জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'টাইম ম্যাগাজিন'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে।

উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাতের চিত্র তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা নির্মাণে বিপুল পরিমাণে ২৮০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ বাস্তবে এক ইঞ্চি সড়কও না বানিয়ে পুরোপুরি কাগজপত্রে দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের ছদ্মবেশে রাষ্ট্রীয় তহবিল লুট করে বিদেশে পাচার করায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিচারাধীন মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, এসব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমানে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা মামলার হার অনেক কমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আগত নবীন আইনজীবীদের পেশাগত সততা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। অহেতুক অর্থের পেছনে না ছুটে সাধারণ মানুষের সেবা ও সঠিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মুখ্য উদ্দেশ্য। নিজ রাজনৈতিক দল বা মতের কেউ দুর্নীতিতে জড়ালেও আইনজীবীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য তুলে ধরেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন এবং সম্পূর্ণ কার্যক্রমটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

/আশিক


আগের অবস্থান থেকে সরেনি বিচার বিভাগ: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২১:৫৭:০৩
আগের অবস্থান থেকে সরেনি বিচার বিভাগ: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে দেশের বিচার বিভাগ এখনো সরে আসতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে মোমবাতি জ্বেলে রাজনৈতিক বিচার সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের বদলির প্রস্তাব পাঠালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ৭০ শতাংশই অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা 'অধিকার' আয়োজিত ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান।

পরামর্শ সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধিকারের প্রেসিডেন্ট তাসনিম সিদ্দিকী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির সমন্বয়ক কোরবান আলী।

বক্তব্যকালে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন বর্তমানে চূড়ান্ত পাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাত জেগে সাজা দেওয়া বিচারকদের বিরুদ্ধে সঠিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বিচার বিভাগের সচিবালয়কে ফ্যাসিস্টদের আখড়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে আক্রমণের ঘটনায় যেমন একজন নাগরিক হিসেবে ব্যথিত হতে হয়, তেমনি কেন এই আক্রমণ হলো সেই পেছনের কারণগুলোও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।

তিনি জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নিম্ন আদালতের প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন বিচারককে রুটিন বদলি করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে যারা অতীতে বিতর্কিত রায় দিয়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন, তাদের বদলির প্রশাসনিক উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আটকে যাচ্ছে বলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কেবল কাগজে-কলমে স্বাধীন হলে চলবে না। যখন দলীয় লোকদের বসিয়ে দেওয়া হয় এবং বিচারক মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেন না, তখনই পুরো ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। একমাত্র স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বিচার বিভাগ পাওয়া সম্ভব। গত ১৬-১৭ বছরে সুপ্রিম কোর্ট জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়েরকৃত হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ধর্ষণ মামলা কোনোভাবেই প্রত্যাহার হবে না এবং মাদকের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

পরশেষে বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন, দেশের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আধিপত্যবাদী শক্তি। বর্তমান সরকারকে একদিকে যেমন জাতীয়তাবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে হচ্ছে, অন্যদিকে আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ, সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

/আশিক


মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৮:০২:৪১
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার সামলাবেন।

প্রজ্ঞাপনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করার পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বীর শহীদদের পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাবেন। একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি শেরেবাংলা নগরে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করবেন।

/আশিক


নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল সরকার: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৪ ১১:১৭:২৭
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল সরকার: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যেসব অঙ্গীকার করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোট ও প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধ এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সরকারের জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধ বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাঁর দল সবসময় গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাস করে এবং জনগণের মতামতকেই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। সরকারের কর্মকাণ্ডেও জনগণের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এর আগে সরকারকে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার শুধু রাজনৈতিক সংস্কার নয়, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে তুলে ধরা বৃহত্তর কর্মসূচিগুলোও বাস্তবায়ন করতে চায়। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রস্তাবিত ৩১ দফা কর্মসূচির বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, সেটিও সংসদ ও রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংঘাত অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ, সরবরাহব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়ছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক বলয়ের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে পারস্পরিক সম্মান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এর আগেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন মির্জা ফখরুল।

সরকারের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনৈতিক বক্তব্যেও অর্থনৈতিক স্বার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রবাসী আয় ও বিদেশে কর্মসংস্থানের মতো অর্থনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ওই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুলও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

-রফিক


রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে যা জানিয়েছে রয়টার্স

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৪ ১০:৫৩:১৩
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে যা জানিয়েছে রয়টার্স
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়তে পারেন বলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির একজন মুখপাত্রের বক্তব্যও উদ্ধৃত হয়েছে। সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ ঘিরে আলোচনার মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরছেন। সংসদ সচিবালয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুপুরের দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। ফলে স্পিকারের দেশে ফেরার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের সময়সূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ বেড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তাঁকে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র দিতে হবে।

বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, বঙ্গভবনে সম্ভাব্য পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি এখনও গুঞ্জনের পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তবে এমন কিছু ঘটলে সরকার সে অনুযায়ী অবস্থান নেবে।

তবে বৃহস্পতিবার রাতে পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, শুক্রবারই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থাটি রাষ্ট্রপতির মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে একই তথ্য জানায়। ফলে বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক গুঞ্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সম্ভাব্য আসন্ন সাংবিধানিক পরিবর্তন হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ নিয়েও বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। কিছু প্রতিবেদনে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগের দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, এমন কোনো ফোনালাপের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। ফলে যাচাই না হওয়া এই দাবিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রতিষ্ঠিত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে অবশ্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বার্তা সংস্থাটি বলছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতির ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে। সাহাবুদ্দিনকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একসময়ের রাজনৈতিক মিত্র হিসেবেও উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

-রাফসান


বঙ্গভবনে তোড়জোড়: স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২১:২৫:৪১
বঙ্গভবনে তোড়জোড়: স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, আগামীকাল দুপুর নাগাদ জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট তিনি তার পদত্যাগপত্র পাঠাবেন।

অন্য একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শারীরিক স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে পদত্যাগের এই প্রক্রিয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রশ্নকে 'বিব্রতকর' আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "দেখতে পাবেন..."।

সম্প্রতি লন্ডনে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনও নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ফোনালাপ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সুস্থ মস্তিস্কের কোনো মানুষ এ ধরনের কথা বলতে পারে না।"

নিজের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, "আমি সে সময় অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলাম। ফলে এই গুঞ্জন পুরোপুরি বানোয়াট ও কল্পিত ছাড়া আর কিছুই নয়।"

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরের মধ্যেই সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসাসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই (রোববার) তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও জরুরি ভিত্তিতে শুক্রবারই তিনি ফিরে আসছেন।

সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত সূচি বদলে শুক্রবারই ঢাকায় পৌঁছাবেন স্পিকার।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারকে সম্বোধন করে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্র প্রদানের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধানমতে, রাষ্ট্রপতির পদ খালি হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সরে দাঁড়ালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

তবে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলালেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ খালি হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের ভেতর জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নৌপ্রধানের হাত থেকে র‍্যাংক ব্যাজ পরলেন নতুন নৌপ্রধান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২০:৩১:১৪
প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নৌপ্রধানের হাত থেকে র‍্যাংক ব্যাজ পরলেন নতুন নৌপ্রধান
ছবি : সংগৃহীত

প্রদত্ত সংবাদটিতে প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধানের নামে তথ্যগত গরমিল রয়েছে। বর্তমানে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ছিলেন এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তবে আপনার দেওয়া সংবাদের সম্পূর্ণ তথ্য ও গঠন ঠিক রেখে নিচে পেশাদার বাংলা সংবাদ হিসেবে পুনর্লিখন করা হলো:

নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি বিদায়ী নৌপ্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস এডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

ব্যাজ পরানো শেষে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এ সময় নৌপ্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে বিকেলে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌপ্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডের দায়িত্ব বুঝে নেন। হস্তান্তরের সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভিতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

সুদীর্ঘ প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, সাবমেরিন কমান্ডার এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক (নৌ অপারেশন্স) ও পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) পদসহ বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ ও ঘাঁটির অধিনায়ক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীনে তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন, যেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও প্রবাসী বাঙালিদের কল্যাণে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন।

দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ একাধিক পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকেই নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, গবেষণা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে নৌবাহিনীকে একটি বিশ্বস্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শক্তিতে রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর।

/আশিক

পাঠকের মতামত: