হয়রানি করে কোনো কর আদায় নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৯:৪৮:১৫
হয়রানি করে কোনো কর আদায় নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার হয়রানি বা অসুবিধায় না ফেলে করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো কর আরোপ কিংবা রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া সরকার চাপিয়ে দেবে না। করদাতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু, কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে এনবিআর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভ্যাট রিটার্ন প্রতি মাসের পরিবর্তে দ্বিমাসিক বা এক মাস অন্তর দাখিলের পূর্বের নিয়ম ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে সব অংশীজনের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি করদাতাদের অনিষ্পন্ন রাজস্ব বিরোধ ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ এবং টানা তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল নিয়ে যে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে দ্রুত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী মহলের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি অনেকটাই ব্যবসায়ীদের দেওয়া করের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাঁদের বৈধ ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা তৈরি করা হবে না। ব্যবসায়ীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হয়রানিমুক্ত ও আস্থার পরিবেশ বজায় রেখে রাজস্ব আহরণ পরিচালনা করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় ২২ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে সংবাদকর্মীরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

/আশিক


ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তৎপর দূতাবাস, সংসদে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৮:০১:৪০
ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তৎপর দূতাবাস, সংসদে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই কূটনৈতিক তৎপরতার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধার ওপর আঘাত মূলত দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপরই আঘাতের শামিল। তিনি জানান, গত সোমবার ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, তাঁর ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও তাঁদের সন্তানের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও বিতাড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আকস্মিক হামলা চালায়।

ঘটনার পরপরই নেওয়া প্রশাসনিক উদ্যোগ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার সকালেই পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে বিশদ কথা হয়েছে। ইতালির স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে এবং ভুক্তভোগী বাঁধনকে সর্বোচ্চ আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ইতালির স্থানীয় পুলিশ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সার্বক্ষণিকভাবে অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাঁকে যাবতীয় সহায়তা দিচ্ছে। অভিনেত্রী বাঁধন স্থানীয় পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এই অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস অত্যন্ত গুরুত্ব ও কঠোরতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করবে।

/আশিক


শেখ হাসিনার আসতে হবে না, আমরা ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৭:৫৫:১৩
শেখ হাসিনার আসতে হবে না, আমরা ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও অনড় বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে নিজ ইচ্ছায় ফিরতে হবে না, বরং সরকার তাঁকে আইনগতভাবে আটক করে ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার দাবিকে ভারত সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের সঙ্গে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা আইনের দৃষ্টিতে একজন চিহ্নিত ও পলাতক অপরাধী এবং তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। এমনকি প্রধান কৌঁসুলির বরাত দিয়ে তিনি জানান, রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করার আইনগত সময়সীমাও ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। ফলে তাঁর জন্য সর্বোচ্চ সাজাই অপেক্ষমাণ এবং সরকার তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে ফিরিয়ে আনবে।

ভারতে অবস্থানকালে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া সাক্ষাৎকার ও সংবাদ সম্মেলনের ঘটনায় গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাহেদ উর রহমান। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের পূর্ব পর্যন্ত ভারত সরকার তাঁকে এমন প্রকাশ্য তৎপরতা থেকে বিরত রাখবে—এটাই ছিল প্রত্যাশা। ভারতে তাঁর বর্তমান আইনি মর্যাদা কী এবং তিনি এমন রাজনৈতিক বা গণমাধ্যমভিত্তিক অধিকার ভোগ করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা নেই। এই পরিস্থিতি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য মোটেই ইতিবাচক নয় এবং ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণের দাবিতে কোনো কৌশল নয়, বরং শতভাগ আন্তরিক অবস্থান বজায় রেখেছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে অন্তত প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়া বন্ধ রাখা উচিত ছিল। এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রশ্ন করার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষকে কতটা বিক্ষুব্ধ ও বিরক্ত করছে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একদিকে সহযোগিতার ইতিবাচক বার্তা দেওয়া এবং অন্যদিকে এমন আচরণ বজায় রাখা দুই দেশের মাঝে প্রয়োজনীয় আস্থার পরিবেশ তৈরির পরিপন্থী। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার দুই বছরেরও বেশি সময় পর শেখ হাসিনা সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বরে দেশে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন।

/আশিক


অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ২১:৪৬:১৬
অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে ডিজিটাল নিবন্ধন, কিউআর কোড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় এনে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অটোরিকশা ব্যবস্থাপনায় ইতিমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় প্রতিটি যানকে ডিজিটাল নিবন্ধনে নিয়ে আসা হবে এবং যুক্ত করা হবে কিউআর কোড ও সার্বক্ষণিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, যার ফলে একটি বৈধ নম্বর জালিয়াতি করে একাধিক অটোরিকশা চালানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।

সোমবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধির আওতায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তৈরি নীতিমালায় চালকদের জীবিকা ও কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। একই সাথে সড়কের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এসব যানবাহনকে একটি নিয়মতান্ত্রিক নজরদারির ভেতরে আনা হবে। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির বদলে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে নীতিমালায় সুস্পষ্ট ও কঠোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারের ব্যাপক বিস্তারের তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার সচল রয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। অথচ এগুলোর বিপরীতে সরকারের অনুমোদিত বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। কেবল রাজধানীতেই প্রায় ৪৮ হাজার অনুমোদনহীন ও অবৈধ চার্জিং স্টেশন গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ডেসকো ও ডিপিডিসি যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে নিয়মিত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে।

গত এক দশকে অটোরিকশা ও ইজিবাইক গ্রামীণ ও শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাশ্রয়ী ভাড়ার এই বাহন চালক, গ্যারেজকর্মী, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ সেবাদাতাদের বড় একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। তবে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই বাহনের লাগামহীন বৃদ্ধি বিদ্যুৎ বণ্টন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও সড়কের নিরাপত্তার ওপর বড় হুমকি তৈরি করেছে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে সংঘটিত ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ১১ জন। এর মধ্যে মোট দুর্ঘটনার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ঘটনার সঙ্গেই অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল।

এর আগে আলোচনার সূত্রপাত করে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু জানান, রাজধানীর ১৭টি ট্রাফিক সিগন্যালে স্থাপিত ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ক্যামেরার কল্যাণে লালবাতি অমান্য, অনিয়মিত লেন বদল কিংবা মাত্রাতিরিক্ত গতির মতো অপরাধ অনেকটাই কমেছে। তবে কোনো ধরনের নম্বর প্লেট না থাকার কারণে অটোরিকশার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের চিত্র এআই ক্যামেরায় ধরা পড়লেও চালকদের শনাক্ত করে জরিমানা কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, স্বল্প ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে যানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় এটি বন্ধ না করে ড্রাইভিং লাইসেন্স, চালকের সঠিক প্রশিক্ষণ ও নম্বর প্লেট নিশ্চিত করা উচিত। পরবর্তীতে সম্পূরক প্রশ্নে তিনি অটোরিকশা জব্দ বা ডাম্পিংয়ের বদলে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের সুযোগ, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং অবকাঠামো নির্মাণ, বিআরটিএর প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন এবং সুনির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক চলাচলের রূপরেখা প্রস্তাব করেন।

উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধান সড়কগুলো অটোরিকশামুক্ত রাখতে নিয়মিত পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। প্রাথমিক সফলতার পর তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি আধুনিক এআই ক্যামেরা বসানোর কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, যা পরবর্তীতে পুরো শহরে বিস্তৃত করা হবে। সরকার কোনোভাবেই জীবিকার উৎস বন্ধ না করে বরং ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি নিয়মনিষ্ঠ কাঠামোর প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জাতীয় অর্থনীতি, সড়কের সুরক্ষা, পরিবেশ এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে খুব দ্রুতই এই নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হবে।

সূত্র: বাসস


১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ২১:১৩:৫৭
১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির পারদ কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, আগস্টে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা আগের মাস জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারদর কিছুটা কমে আসার কারণেই গড় মূল্যস্ফীতির এই নিম্নগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে খাদ্যপণ্যের দাম কমলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবা খাতের ব্যয়ের চাপ বিপরীতভাবে বেড়েছে। একই সময়ে মানুষের মজুরি বৃদ্ধির গতিও শ্লথ হয়ে পড়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-এর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়াই মূল ভূমিকা পালন করেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যবৃদ্ধির অব্যাহত চাপ রয়েই গেছে। বার্ষিক ব্যবধানে গড় মূল্যস্ফীতি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। চলতি আগস্টের ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যে পণ্য বা সেবা কিনতে ১০০ টাকা লাগত, চলতি বছরের একই সময়ে সেই পণ্য বা সেবার জন্য গুনতে হয়েছে ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয়ে ভোক্তাদের বাড়তি ব্যয় হয়েছে ৮ টাকা ২৬ পয়সা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশে, যা জুলাই ও গত বছরের আগস্ট—উভয় সময়েই ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। ফলে মাসিক হিসাবে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ এবং বার্ষিক ব্যবধানে কমেছে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত খাতে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ মাসিক ব্যবধানে কিছুটা বাড়লেও এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

গ্রাম ও শহর—উভয় অঞ্চলেই সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে সামান্য পতনের ধারা দেখা গেছে। গ্রামীণ এলাকায় আগস্টে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে আগস্টে ঠেকেছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশে; গত বছরের আগস্টে যা ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

শহরাঞ্চলের চিত্রেও সাধারণ মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২০ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাই ও গত বছরের আগস্টে সমহারে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে ছিল। শহরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৭ দশমিক ২১ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি উল্টো বেড়ে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশে উঠেছে, যা জুলাই মাসে ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আয়ের সমন্বয় বজায় রাখতে পারছে না সাধারণ মানুষের মজুরি। আগস্টে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে। এর আগের মাস জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।

খাতভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, আগস্টে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার জুলাইয়ের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে নেমে আগস্টে হয়েছে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আর সেবা খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশে।

এর ফলে আগস্ট মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হলেও মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির হারের তুলনায় সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। এই পার্থক্যের কারণে ভোক্তাদের প্রকৃত আয় ও সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি আর্থিক চাপের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তির প্রবণতা দেখা গেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে, সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশে। এর পূর্ববর্তী একই সময়ে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত এই চলমান গড় ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বার্ষিক চলমান গড় মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

/আশিক


যানজট কমাতে রাজধানীতে ফের কার্যকর হচ্ছে বিকল্প নৌপরিবহন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৯:৪২:০৩
যানজট কমাতে রাজধানীতে ফের কার্যকর হচ্ছে বিকল্প নৌপরিবহন
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহন বাড়াতে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে আবারও ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নৌমন্ত্রী জানান, ঢাকার চারপাশে বিগত ১০ বছর ধরে ওয়াটার বাস চলাচল করলেও অব্যবস্থাপনার কারণে এ সময়ে খাতটিতে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা—অর্থাৎ বার্ষিক গড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো লোকসান হয়েছে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পূর্বের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার অধীনে দ্রুতই নতুন করে ওয়াটার বাস নামানো হবে। এছাড়া মন্ত্রী জানান, দেশের মোট ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারে নিয়মিত ও সংরক্ষণমূলক ড্রেজিং চালিয়ে নাব্যতা সচল রাখা হচ্ছে।

ঢাকার নদীগুলোর দূষণ রোধে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে রাসায়নিক, তরল ও কঠিন বর্জ্য ফেলার মোট ৪২৪টি দূষণস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। পাঁচটি প্রধান নদীকে দূষণমুক্ত করতে এবং নদীর তীর সংরক্ষণে ওয়াসা, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। পাশাপাশি শিল্পবর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব বন্ধে পরিবেশ ও শিল্প মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

/আশিক


দেশে শেখ হাসিনার নামে কত টাকার সম্পদ, জানা গেল হিসাব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৮:১৭:৩৯
দেশে শেখ হাসিনার নামে কত টাকার সম্পদ, জানা গেল হিসাব
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কীভাবে তা জুলাই শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করতে কাজ করছে প্রসিকিউশন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা কার্যকর হবে ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ বা অতীত কার্যকর নীতিতে; ফলে পূর্বের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হবে না।

সম্পদ বাজেয়াপ্তের এই উদ্যোগের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে শেখ হাসিনার ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্যমতে, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজের নামে মোট প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব দাখিল করেছিলেন।

হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর নগদ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্রে ২৫ লাখ টাকা এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ছিল। উপহার হিসেবে পাওয়া তিনটি ব্যক্তিগত মোটরগাড়ি ছাড়া তাঁর কাছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার সোনা ও মূল্যবান ধাতু এবং ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ছিল। স্থাবর সম্পদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, গাজীপুর ও রংপুরে মোট ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমি (মূল্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা), ঢাকার পূর্বাচলে ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকার প্লট এবং টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক জমির অংশবিশেষ (অর্জনমূল্য ৫ লাখ টাকা) অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন এবং দেশে থাকা তাঁর সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

/আশিক


যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৮:১০:২০
যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন ও নৌপথকে কার্যকর করতে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে পুনরায় ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নৌমন্ত্রী জানান, ঢাকার চারপাশে বিগত এক দশক ধরে ওয়াটার বাস সেবা চালু থাকলেও তীব্র অব্যবস্থাপনার কারণে এই খাতে গত ১০ বছরে মোট ৫৭ কোটি টাকা—অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ ইতিমধ্যে পূর্বের ত্রুটি ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং নগরবাসীর অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে নতুন করে ওয়াটার বাস নামানো হচ্ছে।

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার নদীগুলোর পরিবেশ ধ্বংসকারী কেমিক্যাল, তরল ও কঠিন বর্জ্যের ৪২৪টি সুনির্দিষ্ট স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীগুলোকে পুরোপুরি দূষণমুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে; পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য যাতে সরাসরি নদীতে না পড়ে, সে বিষয়ে পরিবেশ ও শিল্প মন্ত্রণালয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী: ভারতীয় হাইকমিশনার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৭:৫৯:০০
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী: ভারতীয় হাইকমিশনার
সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, সঠিক সময়েই এই সফরের সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন হবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভারত সরকারের সফরের স্থায়ী আমন্ত্রণ রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যকার সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা আগামীতেও অক্ষুণ্ণ থাকবে।

শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বিশ্বাস ও বাস্তব সহযোগিতার কাজ কখনোই থেমে থাকে না। শীর্ষ বৈঠক আজ না হলেও অদূর ভবিষ্যতে হবে, তবে কেবল বৈঠকের অপেক্ষায় না থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার এবং মাঠপর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া জরুরি। পরিবেশগত বিষয়ে যৌথ উদ্যোগের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বাতাস, নদী, জলবায়ু কিংবা বন্যপ্রাণীর কোনো সীমারেখা নেই; তাই সুন্দরবন সংরক্ষণ, কার্বন ক্রেডিট এবং হাতি চলাচলের করিডোর ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি আনা আবশ্যক।

অন্যদিকে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, যেকোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমীকরণের চেয়ে দুই দেশের জনগণের স্বার্থ, বাণিজ্যিক লেনদেন ও পরিবেশগত আন্তঃনির্ভরতা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। তাই কোনো পক্ষের মাধ্যমেই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পথ রুদ্ধ হবে না এবং কর্মকর্তা পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

/আশিক


বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ২১:৪৮:৪৩
বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল সংসদে পাসের জন্য উত্থাপনের প্রতিবাদে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশন বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আপত্তি জানানোর সুযোগ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানান, দুর্বল আইনের পাসের অংশীদার বিরোধী দল হবে না। এ কারণে তারা আলোচনায় অংশ না নিয়ে সরাসরি ওয়াকআউট করছেন। বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের পর সভাপতি হিসেবে স্পিকার তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই দুটি বিল অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল। এদিন আইনমন্ত্রীর পর গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উত্থাপন করার কথা ছিল। তবে বিলের কাঠামো ও কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল করার সময় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আইন দুটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর রূপে আনা হবে। কিন্তু বর্তমান বিলে আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে এবং মানবাধিকার কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ বা অভিন্ন কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি।

তিনি যুক্তি তুলে ধরেন, প্রস্তাবিত আইনে সাধারণ নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্তের এখতিয়ার পেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রের কর্মচারী হলেও তারা এ দেশেরই নাগরিক; ফলে একই দেশে নাগরিকদের জন্য আইনের এমন দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ বর্জন করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশের প্রাক্কালে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)... বিস্তারিত