যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা

রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন ও নৌপথকে কার্যকর করতে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে পুনরায় ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নৌমন্ত্রী জানান, ঢাকার চারপাশে বিগত এক দশক ধরে ওয়াটার বাস সেবা চালু থাকলেও তীব্র অব্যবস্থাপনার কারণে এই খাতে গত ১০ বছরে মোট ৫৭ কোটি টাকা—অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ ইতিমধ্যে পূর্বের ত্রুটি ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং নগরবাসীর অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে নতুন করে ওয়াটার বাস নামানো হচ্ছে।
ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার নদীগুলোর পরিবেশ ধ্বংসকারী কেমিক্যাল, তরল ও কঠিন বর্জ্যের ৪২৪টি সুনির্দিষ্ট স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীগুলোকে পুরোপুরি দূষণমুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে; পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য যাতে সরাসরি নদীতে না পড়ে, সে বিষয়ে পরিবেশ ও শিল্প মন্ত্রণালয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী: ভারতীয় হাইকমিশনার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, সঠিক সময়েই এই সফরের সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন হবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভারত সরকারের সফরের স্থায়ী আমন্ত্রণ রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যকার সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা আগামীতেও অক্ষুণ্ণ থাকবে।
শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বিশ্বাস ও বাস্তব সহযোগিতার কাজ কখনোই থেমে থাকে না। শীর্ষ বৈঠক আজ না হলেও অদূর ভবিষ্যতে হবে, তবে কেবল বৈঠকের অপেক্ষায় না থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার এবং মাঠপর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া জরুরি। পরিবেশগত বিষয়ে যৌথ উদ্যোগের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বাতাস, নদী, জলবায়ু কিংবা বন্যপ্রাণীর কোনো সীমারেখা নেই; তাই সুন্দরবন সংরক্ষণ, কার্বন ক্রেডিট এবং হাতি চলাচলের করিডোর ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি আনা আবশ্যক।
অন্যদিকে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, যেকোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমীকরণের চেয়ে দুই দেশের জনগণের স্বার্থ, বাণিজ্যিক লেনদেন ও পরিবেশগত আন্তঃনির্ভরতা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। তাই কোনো পক্ষের মাধ্যমেই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পথ রুদ্ধ হবে না এবং কর্মকর্তা পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
/আশিক
বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল সংসদে পাসের জন্য উত্থাপনের প্রতিবাদে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশন বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আপত্তি জানানোর সুযোগ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানান, দুর্বল আইনের পাসের অংশীদার বিরোধী দল হবে না। এ কারণে তারা আলোচনায় অংশ না নিয়ে সরাসরি ওয়াকআউট করছেন। বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের পর সভাপতি হিসেবে স্পিকার তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই দুটি বিল অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল। এদিন আইনমন্ত্রীর পর গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উত্থাপন করার কথা ছিল। তবে বিলের কাঠামো ও কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল করার সময় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আইন দুটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর রূপে আনা হবে। কিন্তু বর্তমান বিলে আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে এবং মানবাধিকার কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ বা অভিন্ন কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি যুক্তি তুলে ধরেন, প্রস্তাবিত আইনে সাধারণ নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্তের এখতিয়ার পেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রের কর্মচারী হলেও তারা এ দেশেরই নাগরিক; ফলে একই দেশে নাগরিকদের জন্য আইনের এমন দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ বর্জন করেন।
/আশিক
সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
বৃদ্ধ পিতা-মাতার সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখিয়ে নিয়ে তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক প্রবণতা রোধে জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। তবে বিলটি পাস হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিরোধীদলীয় নেতারা অভিযোগ তুলেছেন যে, এই আইনটি মুসলিম শরিয়াহ আইনের ‘হেবা’ বা নিঃশর্ত দান বিধির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সন্তানরা বাবা-মার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়ে তাঁদের ফ্ল্যাটের কোনো এক কোণে বা শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে দেয়—যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বিলটি সংসদে আনার জন্য আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তিনি বাস্তবসম্মত সুরক্ষার স্বার্থে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনীর প্রস্তাব তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা প্রস্তাব করেন, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণে অবহেলা করলে দানপত্র বাতিলের একতরফা অধিকার দাতা পিতা-মাতাকে দিতে হবে। একই সঙ্গে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নির্যাতন বা অবহেলার শিকার হলে পারিবারিক আদালতে গিয়ে রেজিস্ট্রি দলিল বাতিলের আবেদন করার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া পিতা-মাতার জীবদ্দশায় তাদের সম্মতি ছাড়া লিখিত সম্পত্তি ব্যাংকে মর্গেজ রেখে ঋণ নেওয়া বা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি, যাতে ঋণের দায়ে বাবা-মাকে বাড়িছাড়া হতে না হয়। সবশেষে জেলা জজ আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে দ্রুত বিচার ও জরুরি চিকিৎসা বা আর্থিক প্রয়োজনের নিষ্পত্তির বিধান রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
/আশিক
ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী অপ্রচলনযোগ্য, ত্রুটিপূর্ণ, ছেঁড়া-ফাটা ও দাবিযোগ্য নোট নিয়মিতভাবে বিনিময়ের সেবা দেওয়ার জন্য দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের (বেলাল) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা নিশ্চিত করেন।
সংসদ সদস্য তাঁর প্রশ্নে উল্লেখ করেন, সাধারণ ও নিম্নআয়ের বহু মানুষ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ছেঁড়া-ফাটা ও অতিব্যবহৃত কাগুজে মুদ্রা সংগ্রহ করে নতুন টাকার সঙ্গে বিনিময় করে জীবিকা নির্বাহ করেন; কিন্তু বর্তমানে নতুন টাকা দেওয়া স্থগিত থাকায় তাঁদের উপার্জনের পথ ব্যাহত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কার্যক্রমটি পুনরায় নির্বিঘ্ন করা হবে কি না, তা তিনি জানতে চান।
উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষকে ত্রুটিপূর্ণ নোট পরিবর্তনের সেবা প্রদান করা স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমেরই একটি অংশ এবং এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংকে জারি করা আছে। এই সেবা কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ নেই, বরং চলমান রয়েছে। এছাড়া নতুন নোট মুদ্রণ ও বাজারে ছাড়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের লেনদেন ও কাউন্টার সেবার মাধ্যমে নতুন নোট নিয়মিতভাবেই জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
/আশিক
‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
সংঘাত, সংঘর্ষ কিংবা প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক ভালোবাসার ভিত্তিতে একটি মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক নাগরিক সংবর্ধনা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াই ও রক্তের বিনিময়ে দেশ আজ নতুন এক সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। এই অর্জিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মজবুত করাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও সংঘাতের পথ ছেড়ে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও পরমতসহিষ্ণুতার চর্চায় জোর দেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি।
এলাকার উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ঘোষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে; যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়া জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ঐতিহাসিক শিবগঞ্জ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা জানান। পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদকমুক্ত থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে আজীবন সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
/আশিক
বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চাঁদের মতো, দেখা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না: এমপি মনিরুল
বাংলাদেশ ব্যাংকে সাধারণ মানুষের যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকলে বুঝতে হবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ মানুষের কাছে ‘চাঁদের মতো—দেখা যায়, শোনা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না’। এর জবাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজের পরিধি ও নিয়মতান্ত্রিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন অর্থমন্ত্রী।
একই অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী তিনি জানান, দেশের রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়।
অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, এই ছয়টি ব্যাংকের মোট খেলাপির অর্ধেকের বেশি পুঞ্জীভূত হয়েছে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানেই। সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসি। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসিতে ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে (বিডিবিএল) ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত এই বিপুল পরিমাণের তথ্য আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
জাতীয় সংসদে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের হিসাব তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্র
দেশের নাগরিকদের বর্তমান মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সা। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এই পরিমাণ ঋণ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
ঋণের সার্বিক বোঝা ও নির্ভরতা কমাতে সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ও দক্ষ ব্যবহার এবং জাতীয় ঋণ ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্বের (এনটিআর) পরিধি বাড়িয়ে সরকারের নিজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারহীন ব্যয় কড়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি ঋণের ঝুঁকি ও সুদের চাপ প্রশমনে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি বাজারকে সক্রিয় করার কাজ চলছে।
উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা হ্রাসে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের নির্ধারিত সিলিং কঠোরভাবে অনুসরণের পাশাপাশি এর সুদের হার বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগের কথা জানান আমির খসরু। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে সরকারের ‘অ্যানুয়াল বোরোয়িং প্ল্যান’ ও নগদ অর্থের প্রবাহ নজরদারিতে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ কঠোরভাবে অনুসরণ করে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন অর্থমন্ত্রী।
/আশিক
গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
দেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, স্বৈরাচারের সময়ে যারা গুপ্তবেশে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল, এখন সেই গুপ্তদের ভেতরেই স্বৈরাচারী শক্তি লুকিয়ে থেকে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না।
শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, কেআইবি মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত সভায় তারেক রহমান বলেন, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে তিনি পরিষ্কারভাবে বলতে চান, প্রত্যেককে নিজের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক ধারা ও নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রাখতে চায়। তবে কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে দেশের আইনে তা নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার শুধু প্রশাসনিক ক্ষমতার জায়গা থেকে নয়, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তাই আইনশৃঙ্খলা, গণতন্ত্র ও জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
গুপ্ত রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময় একটি রাজনৈতিক দল গুপ্তবেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। পরে তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে বিষয়টি স্বীকার করেছে। এখন যদি সেই গুপ্ত শক্তিগুলো আবার স্বৈরাচারকে সামনে আনার কাজ করে, তাহলে বিষয়টি জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং কে কাকে আড়াল করছে, তা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের শক্তি একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। ১৯৮৬, ১৯৯৬, গত এক যুগ এবং বর্তমান সময়েও তারা বিভিন্নভাবে একে অন্যকে রক্ষা করার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানের মতে, এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের মানুষ কষ্টে আছে, এটি সরকার অস্বীকার করছে না। এ জন্য দল ও সরকারের পক্ষ থেকে তিনি দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার মালিক এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষের কাছেও ক্ষমা চান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিগত এক যুগের বেশি সময় দেশ কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা বাংলাদেশিরা দেখেছেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কীভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং দেশকে কীভাবে আমদানিনির্ভর ও পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে, জনগণ তা পর্যবেক্ষণ করেছে। তাঁর দাবি, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই গত নির্বাচনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
সরকার গঠনের পর দেশের অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। শুধু অর্থনীতি নয়, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বহুবিধ প্রশাসনিক সমস্যা নিয়েই সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। এর ওপর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি সংকট বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে এই সমস্যা সমাধানে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে দীর্ঘদিনের সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে বিশ্বে আবারও নানা ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই বাংলাদেশ যেন দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পনা করছে।
জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সরকার দীর্ঘদিন পর্যন্ত দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে জনগণের ওপর চাপ কমানোর জন্য সাম্প্রতিক বাজেটে প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়নি। বরং কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চায়। এমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নিরপেক্ষ মানুষ, প্রত্যেকে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবেন। কাউকে বক্তব্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হবে না। তবে গণতন্ত্রের নামে অরাজকতা বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগও দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ছয় মাস আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানজনক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এসব প্রতিশ্রুতির প্রতিটিই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
বিএনপিই জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক ম্যানিফেস্টো দিয়েছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নানা ধরনের গায়েবি প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিএনপি দেশের সংকট মোকাবিলায় কংক্রিট পরিকল্পনা দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, দেশের প্রতিটি সংকটকালে জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে সংকট থেকে বের করার চেষ্টা করেছে।
পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সরকার ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করতে চায়। বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী যদি প্রত্যেকে প্রতিবছর পাঁচটি করে গাছ লাগান, তাহলে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সেই কর্মসূচি আবার চালু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কার্যক্রমে গর্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতী দল, আইনজীবী দল, মৎস্যজীবী দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আছে। গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে দলের কমিটি রয়েছে। এসব সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে দলকে বিব্রত করতে না পারে। দলের নাম ব্যবহার করে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটিকে দলীয় প্রতিজ্ঞা হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা ছিল। এত বড় একটি রাজনৈতিক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর মধ্যে কেউ কেউ হয়তো কোথাও এমন কাজ করে থাকতে পারেন, যা দল ও দেশকে বিব্রত করেছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং দল ও দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সবাইকে এমপি বা মন্ত্রী করা সম্ভব নয়। অধিকাংশ নেতাকর্মী দীর্ঘ সময় কর্মী হিসেবেই থাকেন। তবে যারা সত্যিকার অর্থে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নেতা এবং খালেদা জিয়াকে মা হিসেবে মানেন, তাদের দেশ ও দল গঠনের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক হিসেবে দেশে বসবাস করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া শুভ জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা নৃগোষ্ঠী—ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার ও অনুষ্ঠান পালন করবেন, তবে জাতীয় পরিচয়ে সবাই হবেন শুধুই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধানে সব নাগরিকের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা, উপাসনালয় স্থাপন ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে বিধান রয়েছে, তা শুধু সংবিধানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকারের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি সনাতন ধর্মের মানুষদের কেবল নিজেদের ‘ভোট ব্যাংক’ বানিয়ে রেখেছিল, তবে সেই ভ্রান্ত ধারণা এখন ভেঙে গেছে। তিনি সবাইকে নিজেদের কখনো ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সবার আগে বাংলাদেশ—তাই ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের আগে প্রত্যেকের মূল পরিচয় হওয়া উচিত একজন স্বাধীন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী: ভারতীয় হাইকমিশনার
- বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ
- আইপিএলের ধাক্কা এড়াতে পিএসএলের সূচিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
- ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে রেখে আইসিসির বহুজাতিক সিরিজের পরিকল্পনা
- সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
- ৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
- লংমার্চে পথচারীদের ভোগান্তি: দেশবাসীর কাছে জামায়াত জোটের দুঃখ প্রকাশ
- আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি
- আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি টানলেও ক্লাবে নতুন কীর্তি মহাতারকার
- ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- ‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
- আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লংড্রাইভ: রাশেদ খাঁনের দাবি
- ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
- চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: গিরং বন্দরে চলছে জটিল উদ্ধার তৎপরতা
- বিপিএল না হওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- অস্ত্রের ঘাটতির তথ্য ফাঁস: পেন্টাগনের ৫০ শীর্ষ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা
- বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চাঁদের মতো, দেখা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না: এমপি মনিরুল
- ওয়াশিংটনকে ‘যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ নতুন হুঁশিয়ারি শীর্ষ নেতার
- জাতীয় সংসদে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের হিসাব তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্র
- গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ
- রাতে রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও দেখা যেতে পারে মেসিকে
- শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে ‘নো কমেন্ট’, তারেক রহমানের সফর নিয়ে যা বলল ভারত
- দেবিদ্বারে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বল্লভপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন
- নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন, আহত মা-ভাই
- নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
- বিনা মূল্যে ২ লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ, রয়েছে চাকরির সুযোগ
- ‘চিকেনস নেক’-এ সমান্তরাল মহাসড়ক এনএইচ-৩২৭ বানাচ্ছে ভারত
- দলবদলের বাজারে নতুন চমক, ইউরোপ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে তরুণ উইঙ্গার
- লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
- কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
- সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ
- মধ্যপ্রাচ্যে সেনা নিরাপত্তা জোরদারে পেন্টাগনের নতুন পদক্ষেপ
- নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
- আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের বিকল্প পরিকল্পনা দিন: রিজভী
- সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
- মামলার ৮ দিন পর মাদরাসায় অভিযান, কেন হয়নি কেউ গ্রেপ্তার
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- র্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন
- জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার আর্থিক প্যাকেজ চালু
- ‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল
- সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু: পুলিশ সদরদপ্তর
- লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
- সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহের রহস্য উন্মোচনে বড় মাইলফলকের সামনে বিজ্ঞানীরা
- নতুন সামরিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ল ইরানে
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ








