সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ২১:১৭:৫৫
সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

বৃদ্ধ পিতা-মাতার সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখিয়ে নিয়ে তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক প্রবণতা রোধে জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। তবে বিলটি পাস হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিরোধীদলীয় নেতারা অভিযোগ তুলেছেন যে, এই আইনটি মুসলিম শরিয়াহ আইনের ‘হেবা’ বা নিঃশর্ত দান বিধির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সন্তানরা বাবা-মার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়ে তাঁদের ফ্ল্যাটের কোনো এক কোণে বা শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে দেয়—যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বিলটি সংসদে আনার জন্য আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তিনি বাস্তবসম্মত সুরক্ষার স্বার্থে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনীর প্রস্তাব তুলে ধরেন।

রুমিন ফারহানা প্রস্তাব করেন, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণে অবহেলা করলে দানপত্র বাতিলের একতরফা অধিকার দাতা পিতা-মাতাকে দিতে হবে। একই সঙ্গে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নির্যাতন বা অবহেলার শিকার হলে পারিবারিক আদালতে গিয়ে রেজিস্ট্রি দলিল বাতিলের আবেদন করার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া পিতা-মাতার জীবদ্দশায় তাদের সম্মতি ছাড়া লিখিত সম্পত্তি ব্যাংকে মর্গেজ রেখে ঋণ নেওয়া বা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি, যাতে ঋণের দায়ে বাবা-মাকে বাড়িছাড়া হতে না হয়। সবশেষে জেলা জজ আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে দ্রুত বিচার ও জরুরি চিকিৎসা বা আর্থিক প্রয়োজনের নিষ্পত্তির বিধান রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ২০:২২:০৮
ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী অপ্রচলনযোগ্য, ত্রুটিপূর্ণ, ছেঁড়া-ফাটা ও দাবিযোগ্য নোট নিয়মিতভাবে বিনিময়ের সেবা দেওয়ার জন্য দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের (বেলাল) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা নিশ্চিত করেন।

সংসদ সদস্য তাঁর প্রশ্নে উল্লেখ করেন, সাধারণ ও নিম্নআয়ের বহু মানুষ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ছেঁড়া-ফাটা ও অতিব্যবহৃত কাগুজে মুদ্রা সংগ্রহ করে নতুন টাকার সঙ্গে বিনিময় করে জীবিকা নির্বাহ করেন; কিন্তু বর্তমানে নতুন টাকা দেওয়া স্থগিত থাকায় তাঁদের উপার্জনের পথ ব্যাহত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কার্যক্রমটি পুনরায় নির্বিঘ্ন করা হবে কি না, তা তিনি জানতে চান।

উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষকে ত্রুটিপূর্ণ নোট পরিবর্তনের সেবা প্রদান করা স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমেরই একটি অংশ এবং এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংকে জারি করা আছে। এই সেবা কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ নেই, বরং চলমান রয়েছে। এছাড়া নতুন নোট মুদ্রণ ও বাজারে ছাড়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের লেনদেন ও কাউন্টার সেবার মাধ্যমে নতুন নোট নিয়মিতভাবেই জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ২০:১৮:০৪
‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

সংঘাত, সংঘর্ষ কিংবা প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক ভালোবাসার ভিত্তিতে একটি মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক নাগরিক সংবর্ধনা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াই ও রক্তের বিনিময়ে দেশ আজ নতুন এক সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। এই অর্জিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মজবুত করাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও সংঘাতের পথ ছেড়ে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও পরমতসহিষ্ণুতার চর্চায় জোর দেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি।

এলাকার উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ঘোষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে; যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়া জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ঐতিহাসিক শিবগঞ্জ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা জানান। পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদকমুক্ত থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে আজীবন সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চাঁদের মতো, দেখা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না: এমপি মনিরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৮:১৬:১৩
বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চাঁদের মতো, দেখা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না: এমপি মনিরুল
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাধারণ মানুষের যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকলে বুঝতে হবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ মানুষের কাছে ‘চাঁদের মতো—দেখা যায়, শোনা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না’। এর জবাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজের পরিধি ও নিয়মতান্ত্রিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন অর্থমন্ত্রী।

একই অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী তিনি জানান, দেশের রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়।

অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, এই ছয়টি ব্যাংকের মোট খেলাপির অর্ধেকের বেশি পুঞ্জীভূত হয়েছে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানেই। সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসি। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসিতে ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে (বিডিবিএল) ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত এই বিপুল পরিমাণের তথ্য আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


জাতীয় সংসদে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের হিসাব তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্র

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৮:০৪:৩২
জাতীয় সংসদে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের হিসাব তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্র
ছবি : সংগৃহীত

দেশের নাগরিকদের বর্তমান মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সা। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এই পরিমাণ ঋণ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

ঋণের সার্বিক বোঝা ও নির্ভরতা কমাতে সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ও দক্ষ ব্যবহার এবং জাতীয় ঋণ ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্বের (এনটিআর) পরিধি বাড়িয়ে সরকারের নিজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারহীন ব্যয় কড়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি ঋণের ঝুঁকি ও সুদের চাপ প্রশমনে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি বাজারকে সক্রিয় করার কাজ চলছে।

উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা হ্রাসে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের নির্ধারিত সিলিং কঠোরভাবে অনুসরণের পাশাপাশি এর সুদের হার বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগের কথা জানান আমির খসরু। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে সরকারের ‘অ্যানুয়াল বোরোয়িং প্ল্যান’ ও নগদ অর্থের প্রবাহ নজরদারিতে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ কঠোরভাবে অনুসরণ করে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন অর্থমন্ত্রী।

/আশিক


গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৯:১২:৫৬
গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান

দেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, স্বৈরাচারের সময়ে যারা গুপ্তবেশে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল, এখন সেই গুপ্তদের ভেতরেই স্বৈরাচারী শক্তি লুকিয়ে থেকে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না।

শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, কেআইবি মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত সভায় তারেক রহমান বলেন, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে তিনি পরিষ্কারভাবে বলতে চান, প্রত্যেককে নিজের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক ধারা ও নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রাখতে চায়। তবে কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে দেশের আইনে তা নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার শুধু প্রশাসনিক ক্ষমতার জায়গা থেকে নয়, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তাই আইনশৃঙ্খলা, গণতন্ত্র ও জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

গুপ্ত রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময় একটি রাজনৈতিক দল গুপ্তবেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। পরে তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে বিষয়টি স্বীকার করেছে। এখন যদি সেই গুপ্ত শক্তিগুলো আবার স্বৈরাচারকে সামনে আনার কাজ করে, তাহলে বিষয়টি জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং কে কাকে আড়াল করছে, তা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের শক্তি একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। ১৯৮৬, ১৯৯৬, গত এক যুগ এবং বর্তমান সময়েও তারা বিভিন্নভাবে একে অন্যকে রক্ষা করার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানের মতে, এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের মানুষ কষ্টে আছে, এটি সরকার অস্বীকার করছে না। এ জন্য দল ও সরকারের পক্ষ থেকে তিনি দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার মালিক এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষের কাছেও ক্ষমা চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিগত এক যুগের বেশি সময় দেশ কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা বাংলাদেশিরা দেখেছেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কীভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং দেশকে কীভাবে আমদানিনির্ভর ও পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে, জনগণ তা পর্যবেক্ষণ করেছে। তাঁর দাবি, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই গত নির্বাচনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

সরকার গঠনের পর দেশের অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। শুধু অর্থনীতি নয়, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বহুবিধ প্রশাসনিক সমস্যা নিয়েই সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। এর ওপর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি সংকট বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে এই সমস্যা সমাধানে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে দীর্ঘদিনের সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে বিশ্বে আবারও নানা ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই বাংলাদেশ যেন দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পনা করছে।

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সরকার দীর্ঘদিন পর্যন্ত দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে জনগণের ওপর চাপ কমানোর জন্য সাম্প্রতিক বাজেটে প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়নি। বরং কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চায়। এমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নিরপেক্ষ মানুষ, প্রত্যেকে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবেন। কাউকে বক্তব্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হবে না। তবে গণতন্ত্রের নামে অরাজকতা বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগও দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ছয় মাস আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানজনক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এসব প্রতিশ্রুতির প্রতিটিই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

বিএনপিই জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক ম্যানিফেস্টো দিয়েছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নানা ধরনের গায়েবি প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিএনপি দেশের সংকট মোকাবিলায় কংক্রিট পরিকল্পনা দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, দেশের প্রতিটি সংকটকালে জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে সংকট থেকে বের করার চেষ্টা করেছে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সরকার ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করতে চায়। বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী যদি প্রত্যেকে প্রতিবছর পাঁচটি করে গাছ লাগান, তাহলে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সেই কর্মসূচি আবার চালু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কার্যক্রমে গর্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতী দল, আইনজীবী দল, মৎস্যজীবী দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আছে। গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে দলের কমিটি রয়েছে। এসব সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে দলকে বিব্রত করতে না পারে। দলের নাম ব্যবহার করে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটিকে দলীয় প্রতিজ্ঞা হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা ছিল। এত বড় একটি রাজনৈতিক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর মধ্যে কেউ কেউ হয়তো কোথাও এমন কাজ করে থাকতে পারেন, যা দল ও দেশকে বিব্রত করেছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং দল ও দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে এমপি বা মন্ত্রী করা সম্ভব নয়। অধিকাংশ নেতাকর্মী দীর্ঘ সময় কর্মী হিসেবেই থাকেন। তবে যারা সত্যিকার অর্থে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নেতা এবং খালেদা জিয়াকে মা হিসেবে মানেন, তাদের দেশ ও দল গঠনের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।


ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৯:১২:১৬
ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক হিসেবে দেশে বসবাস করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া শুভ জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা নৃগোষ্ঠী—ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার ও অনুষ্ঠান পালন করবেন, তবে জাতীয় পরিচয়ে সবাই হবেন শুধুই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধানে সব নাগরিকের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা, উপাসনালয় স্থাপন ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে বিধান রয়েছে, তা শুধু সংবিধানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকারের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি সনাতন ধর্মের মানুষদের কেবল নিজেদের ‘ভোট ব্যাংক’ বানিয়ে রেখেছিল, তবে সেই ভ্রান্ত ধারণা এখন ভেঙে গেছে। তিনি সবাইকে নিজেদের কখনো ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সবার আগে বাংলাদেশ—তাই ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের আগে প্রত্যেকের মূল পরিচয় হওয়া উচিত একজন স্বাধীন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে।

/আশিক


২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৯:০৮:৩৯
২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

২৪টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অবৈধভাবে একক নিয়ন্ত্রণ ও দখলে রাখার অভিযোগে বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্ট সব শেয়ার আগামী তিন মাসের জন্য অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ লঙ্ঘন করে গড়ে তোলা এই আধিপত্য বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত শেয়ার বাজেয়াপ্তে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. লুৎফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার ‘ইসলামিক ইকনোমিক রিসার্চ ব্যুরো’ (আইইআরবি) জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিল।

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ১৪ক ও ১৪খ ধারা অনুযায়ী কোনো একক পরিবার বা গ্রুপ কোনো ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। অতিরিক্ত শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার আইনি বিধান রয়েছে। অথচ এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারের ছদ্মাবরণে ব্যাংকটির ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। শুনানি শেষে আদালত ২৪ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই বিপুল শেয়ার তিন মাসের জন্য অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যর্থতা নিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।

/আশি


সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৮:১০:৫৩
সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালগুলো পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যসেবার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের মিথ্যা আশ্বাস ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র কাজ করে। এই চক্রকে নির্মূল করতে ডিজিএফআই, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিট একযোগে সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে বহু হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করায় এই উপদ্রব আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে।

অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান জরিমানার পাশাপাশি সিলগালা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বেসরকারি ক্লিনিকে ভুয়া সনদধারী চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেগুলো কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। মন্ত্রী জানান, তিনি নিজে এ ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে সরাসরি অভিযানের তদারকি করছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত এক মাসে ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন এবং সেবার মান, খাবারের মান ও চিকিৎসকদের আচরণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে উন্নত হয়েছে।

/আশিক


র‍্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২১:৩৮:১১
র‍্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন
ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ বিল। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে তোলেন। অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিলটি উত্থাপনের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটি মূল্যায়নে সংসদীয় কমিটিকে আরও সময় দেওয়ার দাবি জানিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শর্তে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত আইনে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সাইবার ক্রাইম, গুম, মাদক ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলের কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকায় সদর দপ্তর রেখে পুলিশের আওতাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠিত হবে। ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক, যিনি ইউনিটের প্রশাসনিক, অপারেশনাল ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনা করবেন। সাব-ইন্সপেক্টর বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা জব্দ আলামত নিজেদের হেফাজতে আটকে না রেখে অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

সদস্যদের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিলে কঠোর গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত, পদাবনতি কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো দণ্ড দেওয়া যাবে, যার বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে। এছাড়া সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, ব্যক্তিগত অভিযোগ ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিরসনে মানবাধিকারকর্মী ও বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যার অনুসন্ধানকালে দেওয়ানি আদালতের মতো এখতিয়ার থাকবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: