গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৯:১২:৫৬
গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান

দেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, স্বৈরাচারের সময়ে যারা গুপ্তবেশে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল, এখন সেই গুপ্তদের ভেতরেই স্বৈরাচারী শক্তি লুকিয়ে থেকে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না।

শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, কেআইবি মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত সভায় তারেক রহমান বলেন, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে তিনি পরিষ্কারভাবে বলতে চান, প্রত্যেককে নিজের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক ধারা ও নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রাখতে চায়। তবে কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে দেশের আইনে তা নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার শুধু প্রশাসনিক ক্ষমতার জায়গা থেকে নয়, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তাই আইনশৃঙ্খলা, গণতন্ত্র ও জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

গুপ্ত রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময় একটি রাজনৈতিক দল গুপ্তবেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। পরে তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে বিষয়টি স্বীকার করেছে। এখন যদি সেই গুপ্ত শক্তিগুলো আবার স্বৈরাচারকে সামনে আনার কাজ করে, তাহলে বিষয়টি জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং কে কাকে আড়াল করছে, তা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের শক্তি একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। ১৯৮৬, ১৯৯৬, গত এক যুগ এবং বর্তমান সময়েও তারা বিভিন্নভাবে একে অন্যকে রক্ষা করার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানের মতে, এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের মানুষ কষ্টে আছে, এটি সরকার অস্বীকার করছে না। এ জন্য দল ও সরকারের পক্ষ থেকে তিনি দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার মালিক এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষের কাছেও ক্ষমা চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিগত এক যুগের বেশি সময় দেশ কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা বাংলাদেশিরা দেখেছেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কীভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং দেশকে কীভাবে আমদানিনির্ভর ও পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে, জনগণ তা পর্যবেক্ষণ করেছে। তাঁর দাবি, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই গত নির্বাচনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

সরকার গঠনের পর দেশের অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। শুধু অর্থনীতি নয়, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বহুবিধ প্রশাসনিক সমস্যা নিয়েই সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। এর ওপর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি সংকট বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে এই সমস্যা সমাধানে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে দীর্ঘদিনের সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে বিশ্বে আবারও নানা ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই বাংলাদেশ যেন দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পনা করছে।

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সরকার দীর্ঘদিন পর্যন্ত দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে জনগণের ওপর চাপ কমানোর জন্য সাম্প্রতিক বাজেটে প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়নি। বরং কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চায়। এমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নিরপেক্ষ মানুষ, প্রত্যেকে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবেন। কাউকে বক্তব্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হবে না। তবে গণতন্ত্রের নামে অরাজকতা বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগও দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ছয় মাস আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানজনক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এসব প্রতিশ্রুতির প্রতিটিই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

বিএনপিই জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক ম্যানিফেস্টো দিয়েছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নানা ধরনের গায়েবি প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিএনপি দেশের সংকট মোকাবিলায় কংক্রিট পরিকল্পনা দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, দেশের প্রতিটি সংকটকালে জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে সংকট থেকে বের করার চেষ্টা করেছে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সরকার ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করতে চায়। বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী যদি প্রত্যেকে প্রতিবছর পাঁচটি করে গাছ লাগান, তাহলে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সেই কর্মসূচি আবার চালু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কার্যক্রমে গর্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতী দল, আইনজীবী দল, মৎস্যজীবী দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আছে। গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে দলের কমিটি রয়েছে। এসব সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে দলকে বিব্রত করতে না পারে। দলের নাম ব্যবহার করে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটিকে দলীয় প্রতিজ্ঞা হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা ছিল। এত বড় একটি রাজনৈতিক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর মধ্যে কেউ কেউ হয়তো কোথাও এমন কাজ করে থাকতে পারেন, যা দল ও দেশকে বিব্রত করেছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং দল ও দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে এমপি বা মন্ত্রী করা সম্ভব নয়। অধিকাংশ নেতাকর্মী দীর্ঘ সময় কর্মী হিসেবেই থাকেন। তবে যারা সত্যিকার অর্থে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নেতা এবং খালেদা জিয়াকে মা হিসেবে মানেন, তাদের দেশ ও দল গঠনের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।


বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনা শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ২০:১৮:২৮
বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনা শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

গঠনমূলক বিরোধিতার চর্চা না করে কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের সঙ্গে চরম গাদ্দারি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমানসহ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরকার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সবার আসা উচিত ছিল। তিনি বলেন, “বিএনপি বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। আমরা জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনায় এসেছি আর অন্য দলগুলো বিরোধী দল হয়েছে। বিরোধী দল মানেই গঠনমূলক সমালোচনা করা, শুধু বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।” পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৌলিক অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধন শেষে উদ্যান প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং উদ্যানসংলগ্ন আধুনিক গ্রন্থাগার, জলাশয় ও রিলিফ ভাস্কর্যগুলো ঘুরে দেখেন। ঐতিহাসিক ২৩ একর আয়তনের ওসমানী উদ্যানে প্রায় এক একর জুড়ে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই ছাড়াও ১৯৫২, ’৭১ ও ২০২৪-এর ইতিহাস সংবলিত ১৭১ ফুট দীর্ঘ রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, শহীদ পরিবারের সদস্যগণ এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:৫৭:০৬
আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উত্তরাঞ্চলে এখন সাজসাজ রব ও ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী এক ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ দিনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই তিন অঞ্চলে সফর করবেন। সফরকালে তিনি বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও দলীয় কর্মকর্তারা। মাঠ পরিদর্শন শেষে ভূমিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি রাজশাহী এসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে গিয়ে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর হয়ে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনের পর দুপুরে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জনসভা শেষে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে জে এম সেন হলের রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতেই ঢাকায় ফিরবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ঘিরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও জনসভার মঞ্চ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় মন্ত্রী ও নেতারা জানান, জনসভাস্থল থেকে রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—ঢাকা-সৈয়দপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিমানবন্দরে কার্গো চলাচল এবং আখচাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির ও বিভাগীয় কমিশনারের সমন্বয়ে চার শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে গোটা শহরে নজিরবিহীন ও সর্বোচ্চ ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

/আশিক


আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:৫৪:২৩
আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উত্তরাঞ্চলে এখন সাজসাজ রব ও ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী এক ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ দিনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই তিন অঞ্চলে সফর করবেন। সফরকালে তিনি বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও দলীয় কর্মকর্তারা। মাঠ পরিদর্শন শেষে ভূমিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি রাজশাহী এসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে গিয়ে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর হয়ে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনের পর দুপুরে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জনসভা শেষে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে জে এম সেন হলের রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতেই ঢাকায় ফিরবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ঘিরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও জনসভার মঞ্চ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় মন্ত্রী ও নেতারা জানান, জনসভাস্থল থেকে রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—ঢাকা-সৈয়দপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিমানবন্দরে কার্গো চলাচল এবং আখচাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির ও বিভাগীয় কমিশনারের সমন্বয়ে চার শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে গোটা শহরে নজিরবিহীন ও সর্বোচ্চ ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

/আশিক


জ্বালানি খাতই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, দ্রুত স্থিতিশীলতার আশ্বাস অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:৪৯:২৩
জ্বালানি খাতই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, দ্রুত স্থিতিশীলতার আশ্বাস অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন জাতীয় অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে অর্থ পাচারের গভীর ধাক্কা সামলে নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট মেটাতে ৩ থেকে ৪টি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পাশাপাশি মাতারবাড়ীর পর খুলনার কাছে ২০ মিটার গভীরতার একটি স্থানে আধুনিক জ্বালানি হাব গড়ে তোলার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া দেশের অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সকে শক্তিশালী করে ১৫০টি নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং আবাসিক ও শিল্পখাতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে পূর্ণাঙ্গ কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দুর্নীতি কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি আলাদা বিভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার পুনর্গঠনে হংকং পুঁজিবাজারে একটি ডেডিকেটেড ইকুইটি ফান্ড গঠনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথে সফল আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবসার খরচ কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত পুনরায় দ্রুত প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। উক্ত সম্মেলনে এফআইসিসিআই প্রতিনিধি, শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও দেশি-বিদেশি বিন্যোগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


বিশ্বজুড়ে সংঘাতের মাঝে বাংলাদেশে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত দুর্গাপূজা: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:৪৫:৩৬
বিশ্বজুড়ে সংঘাতের মাঝে বাংলাদেশে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত দুর্গাপূজা: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও হিংসা-বিদ্বেষের আবহ বিরাজ করলেও বাংলাদেশে পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন—এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এবং এর আগে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে বিদ্যমান ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ইতিহাস বিশ্বের বুকে বিরল। রমনা কালী মন্দিরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ ও পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা গোষ্ঠীর হাতে এই পবিত্র স্থানটি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পদক্ষেপে এই মন্দিরটি পুনরায় তার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার ও অপব্যাখ্যার কড়া সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সব জটিলতা ও সমস্যা নিরসনে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রীতি, ন্যায় ও মানবকল্যাণের বার্তা দেওয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করে আয়োজক ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার ও মন্দির কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ভিসামুক্ত ভ্রমণ: ৩৫টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:৪১:৪৭
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ভিসামুক্ত ভ্রমণ: ৩৫টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেক বাংলাদেশি। ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেরই বিদেশ ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হলেও ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে ৩৫টি দেশে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স’-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান এখন ৯৭তম।

সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা পূর্ব-অনুমোদিত ভিসা ছাড়াই অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসা ও ট্রাভেল অথরাইজেশনের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৫টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছেন। এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের পাশাপাশি আফ্রিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং ওশেনিয়ার বেশ কিছু আকর্ষণীয় দ্বীপরাষ্ট্র রয়েছে। তবে এ বছর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকার শীর্ষে যথারীতি অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর।

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধাপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় হলো নেপাল ও মালদ্বীপ, যেখানে বিমানবন্দর বা সীমান্তেই সরাসরি বিনামূল্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পাওয়া যায়। তবে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ছুটির দিনগুলোতে বিদেশ ভ্রমণের আগে ফ্লাইট বুকিংয়ের পাশাপাশি নির্দিষ্ট দেশের হালনাগাদ প্রবেশ নীতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

/আশিক


স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:২৫:২৩
স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সব নির্বাচন একসঙ্গে সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, বর্তমানে কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত রয়েছে। ইউপি নির্বাচনের কাজ উল্লেখযোগ্য ধাপে এগিয়ে নেওয়ার পরই কেবল অন্যান্য স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এসব তথ্য জানান। চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানিক সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজ ব্যক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এই সময়ের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। আবহাওয়া, মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন অনিবার্য কারণে নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি ও নির্ধারিত সময়সূচিতে নমনীয়তা বা পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে কি না, কিংবা নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রথম ধাপে সেনা মোতায়েন করা হবে কি না—এসব প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ জানান, তফসিল পূর্ববর্তী পর্যায়ে আলোচনার বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকবে, তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশের সুযোগ নেই। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আইনি পরিবর্তন না করেও ইসির সেনা মোতায়েনের সাংবিধানিক ও আইনি এখতিয়ার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

/আশিক


সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:২১:৪০
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন
ছবি : সংগৃহীত

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সার্বিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা আপাতত পুরোনো বা আগের হারেই তাদের যাবতীয় ভাতা পাবেন। অর্থাৎ, চলতি বছরের ৩০ জুন যে হারে ভাতা দেওয়া হতো, পরবর্তী সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক আদেশ না আসা পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা সেই হারেই ভাতা পেতে থাকবেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। ভাতা আপাতত বৃদ্ধি না পেলেও চলতি মাস (অক্টোবর) থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন স্কেল অনুযায়ী বাড়তি মূল বেতন উত্তোলন করতে পারবেন। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মূল বেতন বাস্তবায়নের ধাপে ভাতা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারেই তা প্রদান করা হবে। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ধরা হয়েছে, যা ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮—এই দুই অর্থবছরে মোট তিনটি ধাপে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে। সে অনুযায়ী ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের আইবাস ডাবল প্লাস (iBAS++) পদ্ধতিতে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ (Pay Fixation) প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই পে ফিক্সেশন কার্যক্রম আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চলতি মাসের শেষেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতন হাতে পাবেন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

/আশিক


ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:০৮:৫৮
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সকল ধর্মের মানুষের উৎসব নিরাপদে উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ‘কঠিন চীবর দান’ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ সমন্বিত নিরাপত্তার ঘোষণা দেওয়া হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করার সুযোগ নেই এবং স্বাধীন উপাসনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান) সহ সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুরে প্রবারণা পূর্ণিমার ঐতিহ্যবাহী ফানুস ওড়ানো ও কঠিন চীবর দান উৎসবকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত নজরদারি ও কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান দুর্গাপূজায় ব্যবহৃত বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং অ্যাপভিত্তিক মনিটরিং সেলের আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর মতোই প্রবারণা পূর্ণিমাতেও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো উস্কানিমূলক গুজব ও ব্যক্তিগত বিরোধকে ধর্মীয় ইস্যু বানিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মন্ত্রী। সভায় উপস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথেরসহ বিশিষ্ট বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা দেশের সকল বৌদ্ধ বিহারের তালিকা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলে মন্ত্রী তা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পাঠানোর আশ্বাস দেন। চলমান দুর্গাপূজার মতোই আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমাও অত্যন্ত উৎসবমুখর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

/আশিক

পাঠকের মতামত: