ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ

বিগত সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমান প্রশাসনকে গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের অপশাসনের ফলে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। এমন এক চরম অস্থিতিশীল ও দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিকূল মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকেই দেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে নিজের সংসদীয় এলাকা ভোলার নতুনবাজারে আয়োজিত এক জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোলার দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘ভোলা-বরিশাল সেতু’ নির্মাণ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বীপজেলা ভোলার প্রতিটি নাগরিক এই সেতুর স্বপ্ন দেখছেন এবং এর বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহাসড়কের বিষয়টিও যথাযথভাবে বিবেচনা করছে। তিনি এই মেগা প্রকল্প ঘিরে কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ভোলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। জাতীয় সংসদে এই সেতুর পক্ষে জোরালো দাবি উত্থাপনের বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ভোলা-বরিশাল সেতুর ডিপিপি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর পাশাপাশি ভোলার সার্বিক উন্নয়নে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, নদীভাঙন রোধে ৭০০ কোটি টাকা এবং সড়ক সংস্কারের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক সততা ও অবস্থান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে গত ছয় মাসের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে একটি টাকার দুর্নীতিরও কোনো নজির মেলেনি। এই সময়ে এলাকায় কোনো রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা, অহেতুক হয়রানি কিংবা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো অপরাধী, চোর কিংবা সন্ত্রাসী তাঁর দলের লোক হতে পারে না। দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি, ডাকাতি বা অপকর্মে জড়ালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, টিআর, জিআর, ঠিকাদারি কমিশন কিংবা দুর্নীতির মানসিকতা তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদর্শের পরিপন্থী। আল্লাহর রহমত ও সাধারণ ভোলাবাসীর নিঃস্বার্থ সমর্থনেই তিনি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে বুধবার সকালে সড়কপথে রাজধানী ঢাকা থেকে বরিশাল নদী বন্দরে পৌঁছান তথ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে স্পিডবোটে করে দুপুরে ভোলার খেয়াঘাট লঞ্চঘাটে পৌঁছালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এবং পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার। এ সময় ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ, উপজেলা বিজেপির সভাপতি আব্দুল জলিল ও সম্পাদক বুলবুলসহ বিএনপি এবং বিজেপির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
তদন্ত শুরুর আগেই সত্যতা পাওয়ার দাবিতে মানহানি হয়েছে: আসিফ মাহমুদ
দুর্নীতির অভিযোগে নিজের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরুর আগেই ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া বক্তব্যে তাঁর মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করেন, যার ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধান শুরুর আগেই প্রমাণ মেলার খবর প্রকাশিত হয়। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক মানহানি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর দুদক মুখপাত্র সাংবাদিকদের মেসেজ দিয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান। এমন কাণ্ডের মাধ্যমে যে মানহানি ঘটানো হলো, সেজন্য কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে কি না—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এর আগে সাবেক এই উপদেষ্টাসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠনের কথা জানায় দুদক। এই তালিকায় থাকা বাকি তিন কর্মকর্তা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগের বরাতে জানা যায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে পদোন্নতি, বদলি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদায়নের বিনিময়ে ৭৬ লাখ টাকা এবং ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি বাবদ দেড় কোটি টাকাসহ বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যে মোট দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থ লেনদেন হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, মন্ত্রণালয়ের উল্লিখিত তিন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। এই চক্রটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন কেনাকাটা, দরপত্র ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় একচ্ছত্র প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি সংঘটিত করেছে।
/আশিক
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়িত না হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জনগণের স্বার্থে নেওয়া যেকোনো ইতিবাচক পদক্ষেপে জামায়াত সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন দেবে। তবে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অহিংস, দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক পন্থায় তারা রাজপথে জোরালো অবস্থান নেবেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জনদুর্ভোগ এবং সংসদ ও রাজপথে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বিশদ মতবিনিময় করেছেন জামায়াত আমির। গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সাধারণ মানুষ যে জনাদেশ দিয়েছে, তা কার্যকর না হলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীরাও পরামর্শ দেন যে জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত থাকলে তা জনসমক্ষে পরিষ্কার করা উচিত এবং জনগণের রায় তারা মানবে কি না, সে বিষয়ে দলগুলোর অবস্থান সুস্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক নানা জনগুরুত্বপূর্ণ সংকট নিয়েও খোলামেলা আলোচনা হয়। নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকট, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, সন্ত্রাস এবং সংকীর্ণ দলীয়করণের বিষয়গুলো সভায় বিশেষভাবে উঠে আসে। জামায়াত আমিরের বরাতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু সংবাদ পরিবেশনই নয়, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং একটি সুদৃঢ় জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের রয়েছে অপরিসীম ভূমিকা। বিরোধীদলীয় নেতা সাংবাদিকদের প্রতি জামায়াতের যেকোনো ভুলত্রুটি ও বিচ্যুতি খোলামেলা ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ নির্বাহীরা তাঁদের পেশাগত নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকটের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীরা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ও ওয়েজ বোর্ডের আওতায় থাকলেও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কোনো স্থায়ী বেতন কাঠামো বা চাকরিগত নিরাপত্তা নেই। গণমাধ্যম নির্বাহীদের এসব উদ্বেগের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান আশ্বস্ত করেন যে একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে টেলিভিশন সাংবাদিকদের দাবি ও সংকট নিরসনে জামায়াত সংসদে এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদক, বার্তা প্রধান ও প্রধান বার্তা সম্পাদকরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম এবং অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলালসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
ছয় মাসে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, লোডশেডিং ও বেকারত্ব বাড়ছে: চরমোনাই পীর
নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্ব এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও এর কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, বিগত ছয় মাসে পরিস্থিতির উন্নয়ন তো দূরের কথা, বহু ক্ষেত্রে তা আরও অবনতিশীল হয়েছে। পোশাক শিল্পে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিকের বেকার হয়ে পড়া, গড়ে প্রতিদিন ১০টি হত্যাকাণ্ড, অসহনীয় লোডশেডিং এবং তীব্র জ্বালানি সংকট সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের আটক করলেও পরবর্তীতে প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হয় না। এমন কি নিম্ন আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা হলেও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে স্পষ্ট করে।
রেজাউল করীম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই পুলিশি তৎপরতার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে—এটাই ছিল সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। কিন্তু সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তাদের বাহিনীকে কার্যকর ও সক্রিয় করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মানুষের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান এবং দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান। অন্যথায় জনঅসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের গতিপ্রকৃতি প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যাপারে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত হতাশাজনক। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে উঠলেও সর্বশেষ নির্বাচনে সেই সমঝোতার তোয়াক্কা করা হয়নি। সংস্কারের অন্যান্য মূল বিষয়েও সরকার কার্যত বিরোধী অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবিধানিক দুর্বলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটির সুযোগ নিয়েই অতীতে দেশে স্বৈরশাসনের পথ সুগম হয়েছিল। তাই জুলাই সনদের আলোকে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে; অন্যথায় উদ্ভূত যেকোনো মারাত্মক পরিণতির দায়ভার বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।
/আশিক
রয়্যাল রিসোর্টে আমাকে হত্যার নীলনকশা করেছিল আওয়ামী লীগ: মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সালে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার নীলনকশা করেছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। তবে সেই ষড়যন্ত্রে তারাই শেষ পর্যন্ত ফেঁসে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে মাওলানা ইকবাল হোসাইন স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই সভার আয়োজন করে।
মামুনুল হক বলেন, ঘটনার দিন সাধারণ জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগের লোকজন জীবন বাঁচাতে অনুনয়-বিনয় করেছিল। পরিস্থিতি এমন রূপ নেয় যে, ঘটনার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রয়্যাল রিসোর্ট এলাকায় দলটির কাউকে পাওয়া যায়নি এবং তারা বাড়িঘর ফেলে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
বিগত সরকারের দায়ের করা বিভিন্ন মামলা ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ দমন করতেই ফ্যাসিবাদী সরকার সে সময় ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলার কৌশল নিয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন সেই মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে ২০২১ সালের রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনাসহ হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা থেকেই অব্যাহতি মিলেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সে সময় রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনায় হওয়া সাজানো মামলায় খেলাফত মজলিসের সোনারগাঁ থানা শাখার তৎকালীন সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে নির্মম ও অমানবিক নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, যা একটি হত্যাকাণ্ড।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান।
সভায় খেলাফত মজলিস ও হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন স্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। স্মৃতিচারণা ও আলোচনা পর্ব শেষে মরহুম মাওলানা ইকবাল হোসাইনের মাগফিরাত ও রুহের শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
/আশিক
সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল উত্থাপন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং সংস্কারের মূল দাবিকে পাশ কাটিয়ে একতরফা সংসদ পরিচালনার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টা ৭ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন কার্যাবলির অংশ হিসেবে তিনটি সরকারি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার, গণভোট ও বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের একপেশে মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল চাপিয়ে দিয়ে সংসদের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের মূল দাবিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের আইনি ভিত্তি ও সংসদীয় বিধিবিধান মানা হয়নি দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও গণভোটের বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল অনড়। কোনো নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়ার অংশ না হওয়ার নীতিগত অবস্থান থেকেই তারা সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
বিরোধীদলীয় সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ছাড়ার সময় সভাপতিমণ্ডলীর আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁদের ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ওয়াকআউটের অধিকার থাকলেও সব বিষয়ে সংসদের ভেতর আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমেই জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তবে বিরোধী দল অধিবেশন ত্যাগ করার পর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
/আশিক
বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থানের দুরবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের ভাষায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—কখন আসে আর কখন যায় তা কেউ বুঝতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
জ্বালানি খাতের সংকট এবং অর্থনৈতিক অভিঘাতের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকটের সময়ে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার থাকলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রায় ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া তো দূরের কথা, যারা বর্তমানে কর্মরত আছেন তাঁদের জীবিকা কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল মূল অগ্রাধিকার। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাস্তব সংকটকে ব্যঙ্গ ও বাকচাতুর্য দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা এতই প্রকট যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রীর মতো দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দিলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।
বাজার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য জানান, বর্তমানে বাজারে কোনো সাধারণ সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। পাশাপাশি চাল ও ডিমের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে, বিশেষ করে মিনিকেট চালের অস্বাভাবিক দামে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে খোলাবাজারে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনের করুণ চিত্রও তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
/আশিক
এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চেয়েছেন, গত ছয় মাসে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এই জবাব চান। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন যে এটি কোনো প্রশ্ন হলো নাকি পল্টনের বক্তৃতা, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে অভিহিত করলেও সেখানে গান-বাজনা, সিনেমা ও নৌকাবাইচ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই বাস্তবতায় গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন—তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল না থাকার বিষয়গুলো ভিন্ন। পাশাপাশি হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে উল্লেখিত হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যানের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কিসের ভিত্তিতে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা দৃশ্যমান উন্নতির প্রমাণ।
রামিসা থেকে শুরু করে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢালাওভাবে ব্যর্থতার অভিযোগ না তুলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে কথা বলতে হবে। তিনি জানান, বিচারিক দায়িত্ব আদালতের হলেও সরকার দ্রুত তদন্ত ও বিচারে সার্বিক সহযোগিতা করছে। সংসদে ঢালাও বক্তব্যের বদলে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনায় ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে বিধি অনুযায়ী নোটিশ দিলে সে বিষয়ে সংসদে বিতর্ক করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
/আশিক
বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
বাংলাদেশ একদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি মন্তব্য করেন যে, জনগণের বিপুল সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে অতীতের মতোই একটি পক্ষ দলটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তবে কোনো অপচেষ্টাই জামায়াতের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করতে পারবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রেখে রাজপথ এবং সংসদে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয়ে জামায়াত কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। সংসদে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সরকার জনদাবি উপেক্ষা করলে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তৃণমূল পর্যায়কে একটি আদর্শ সংগঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে সংগঠনকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। যাদের ভিত্তি জনগণের মাঝে প্রোথিত, তাদের রুখে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। এ সময় তিনি শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠাতব্য ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
/আশিক
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
একটি প্রতারণা মামলায় আদালতের সাজা ও জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। রায় ঘোষণার পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই গুলশান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ
- লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
- তদন্ত শুরুর আগেই সত্যতা পাওয়ার দাবিতে মানহানি হয়েছে: আসিফ মাহমুদ
- ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু: শাহবাজ শরিফ
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ধাক্কা লাগল বিশ্ববাজারে
- লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় চমক আনতে পারে অ্যাপল
- দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস গড়ে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশি ব্যাটার
- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নতি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- বিশ্ববাজারের ধাক্কায় মূল্যবান ধাতুর দামে বড় পতন
- জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- এলপিজির দামে এলো নতুন সমন্বয়, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থেকেই
- দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
- আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
- বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
- দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
- আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন: রয়টার্স
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- মধ্যরাত পর্যন্ত ১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- বিপিএলে দুর্নীতির থাবা, সাবেক পরিচালকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
- বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
- ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ট্রেজারি বন্ড ও বৈশ্বিক প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা
- অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
- টুর্নামেন্টের মাঝপথে ক্যারিবীয় লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার
- দেশের ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
- জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানাপোড়েন, সামনে বড় ওঠানামার আভাস
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ভারত সিরিজ নিয়ে মুখ খুললেন বোর্ডপ্রধান, জানালেন সর্বশেষ পরিস্থিতি
- ২১ বছরের পুরোনো মায়া কাটিয়ে নতুন স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি মিডফিল্ডার
- আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
- দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
- মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
- নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
- জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
- এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ: চূড়ান্ত হলো গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
- ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ঘিরে নতুন জটিলতা: বড় তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা








