জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:২৩:১৫
জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ বিগত ১৭ বছরের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর উত্তরাধিকার এবং মাত্রাতিরিক্ত আমদানিনির্ভর নীতি—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, বিদ্যমান জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কাটিয়ে সৌরসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটানো এবং সাধারণ গ্রাহকদের শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদকে রূপান্তর করার সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন ফাউন্ডেশনগুলোর ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবার কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগকে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ এবং সমৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার অধীনে ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের নানা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, সরকারের উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফাউন্ডেশনগুলো পাঁচটি ক্লাস্টারে ভাগ হয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফাউন্ডেশনগুলোকে। বিগত সরকারের ত্রুটিপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কারণে দারিদ্র্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি পর্যন্ত বেড়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সমন্বিত পরিকল্পনায় তেমন ব্যর্থতার সুযোগ থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহকদের উৎপাদকে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে বাজেটে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো ২০ শয্যা এবং পরবর্তীতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর আর কোনো সম্প্রসারণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চতুর্থ পদক্ষেপ হিসেবে আজীবন মেয়াদি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরে ড. তিতুমীর জানান, এর আওতায় দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সরাসরি অধিকারভোগী হিসেবে নিবন্ধিত করা হবে এবং এ খাতের বিকল্প অর্থায়নে জাকাতের তহবিলকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম বিষয় হিসেবে বাস্তবায়নের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। ফাউন্ডেশনগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসব দায়িত্ব গ্রহণে অঙ্গীকার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর জানান, সরকার ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তুলতে চায়। আগামী পাঁচ বছরে ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনগুলো ইতোমধ্যে ২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া গত ছয় মাসে ঝুলে থাকা ৩০০টির বেশি নেট-মিটারিং আবেদন নিষ্পত্তি করে জাতীয় গ্রিডে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে বাজেটে বরাদ্দকৃত দুই হাজার কোটি টাকা আইডকল এবং বিআইএফএফএলের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, যেখানে উৎপাদককে ২০ শতাংশ ও পিকেএসএফের সহযোগী এনজিওর মতো কোনো অ্যাগ্রিগেটরকে ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে এবং সরকার ৬০ শতাংশ ঋণ সহায়তা দেবে। এতে ঋণের সুদের হার কমে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেমে আসবে। তুলনামূলক ব্যয় বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, যেখানে দেশীয় গ্যাসে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ৪ থেকে ৫ টাকা, সেখানে এলএনজি দিয়ে উৎপাদনে খরচ দাঁড়ায় ৬৪ টাকা; ফলে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সাশ্রয় হবে।

শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাঁচ বছরের করকাঠামোর ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ ও দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা, অর্থায়নের উৎস, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ—বিনিয়োগকারীদের এই পাঁচটি প্রধান চাহিদাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করেছে, যার আওতায় ৪০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই ঋণ বিতরণ শুরু হবে এবং ঋণের সুদের পার্থক্যজনিত ব্যয় বহন করবে অর্থ বিভাগ।

২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির অভীষ্ট লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

/আশিক


ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৯:১২:১৬
ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক হিসেবে দেশে বসবাস করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া শুভ জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা নৃগোষ্ঠী—ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার ও অনুষ্ঠান পালন করবেন, তবে জাতীয় পরিচয়ে সবাই হবেন শুধুই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধানে সব নাগরিকের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা, উপাসনালয় স্থাপন ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে বিধান রয়েছে, তা শুধু সংবিধানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকারের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি সনাতন ধর্মের মানুষদের কেবল নিজেদের ‘ভোট ব্যাংক’ বানিয়ে রেখেছিল, তবে সেই ভ্রান্ত ধারণা এখন ভেঙে গেছে। তিনি সবাইকে নিজেদের কখনো ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সবার আগে বাংলাদেশ—তাই ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের আগে প্রত্যেকের মূল পরিচয় হওয়া উচিত একজন স্বাধীন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে।

/আশিক


২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৯:০৮:৩৯
২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

২৪টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অবৈধভাবে একক নিয়ন্ত্রণ ও দখলে রাখার অভিযোগে বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্ট সব শেয়ার আগামী তিন মাসের জন্য অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ লঙ্ঘন করে গড়ে তোলা এই আধিপত্য বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত শেয়ার বাজেয়াপ্তে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. লুৎফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার ‘ইসলামিক ইকনোমিক রিসার্চ ব্যুরো’ (আইইআরবি) জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিল।

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ১৪ক ও ১৪খ ধারা অনুযায়ী কোনো একক পরিবার বা গ্রুপ কোনো ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। অতিরিক্ত শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার আইনি বিধান রয়েছে। অথচ এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারের ছদ্মাবরণে ব্যাংকটির ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। শুনানি শেষে আদালত ২৪ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই বিপুল শেয়ার তিন মাসের জন্য অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যর্থতা নিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।

/আশি


সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৮:১০:৫৩
সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালগুলো পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যসেবার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের মিথ্যা আশ্বাস ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র কাজ করে। এই চক্রকে নির্মূল করতে ডিজিএফআই, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিট একযোগে সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে বহু হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করায় এই উপদ্রব আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে।

অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান জরিমানার পাশাপাশি সিলগালা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বেসরকারি ক্লিনিকে ভুয়া সনদধারী চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেগুলো কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। মন্ত্রী জানান, তিনি নিজে এ ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে সরাসরি অভিযানের তদারকি করছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত এক মাসে ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন এবং সেবার মান, খাবারের মান ও চিকিৎসকদের আচরণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে উন্নত হয়েছে।

/আশিক


র‍্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২১:৩৮:১১
র‍্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন
ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ বিল। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে তোলেন। অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিলটি উত্থাপনের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটি মূল্যায়নে সংসদীয় কমিটিকে আরও সময় দেওয়ার দাবি জানিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শর্তে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত আইনে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সাইবার ক্রাইম, গুম, মাদক ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলের কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকায় সদর দপ্তর রেখে পুলিশের আওতাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠিত হবে। ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক, যিনি ইউনিটের প্রশাসনিক, অপারেশনাল ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনা করবেন। সাব-ইন্সপেক্টর বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা জব্দ আলামত নিজেদের হেফাজতে আটকে না রেখে অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

সদস্যদের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিলে কঠোর গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত, পদাবনতি কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো দণ্ড দেওয়া যাবে, যার বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে। এছাড়া সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, ব্যক্তিগত অভিযোগ ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিরসনে মানবাধিকারকর্মী ও বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যার অনুসন্ধানকালে দেওয়ানি আদালতের মতো এখতিয়ার থাকবে।

/আশিক


‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২১:১৯:৩১
‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নির্ধারিত প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম (গাজী নজরুল ইসলাম)। সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে অধিবেশনের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী তাঁর লিখিত প্রশ্নটি বাতিল হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে ৪০৮ নম্বর ক্রমিকে তাঁর এই প্রশ্নটি উত্থাপনের কথা ছিল।

লিখিত প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে চেয়েছিলেন, দেশে বর্তমানে শ্রম আদালতের মোট সংখ্যা কত, সেগুলো কোথায় কোথায় অবস্থিত এবং এসব আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কত। একই সঙ্গে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কী কী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা-ও তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন।

অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্নটি উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। তবে মাইকে নাম ডাকার পর স্পিকার ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখেন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের আসনে উপস্থিত নেই। এ সময় স্পিকার হাস্যরসাত্মক কণ্ঠে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করে ওঠেন, ‘জি এম তো নাই’। স্পিকারের এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে হালকা হাসির রোল পড়ে যায়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। ওই ঘটনার জেরে গাজী নজরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পরবর্তী সময়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও তাঁকে আর আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

/আশিক


সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু: পুলিশ সদরদপ্তর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২১:১৩:২৯
সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু: পুলিশ সদরদপ্তর
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কিংবা তারা নিজ দায়িত্বে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে ওই প্রতিবেদনগুলোতে কতজন শিশু উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে সেই তথ্য উল্লেখ না থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং বাস্তব চিত্র আড়ালে পড়ে। এই অস্পষ্টতা দূর করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিটি থানার মাধ্যমে সার্বিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

পুলিশের বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের প্রথম সাত মাসে শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ জন। অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। এই বয়সসীমার মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেছে এবং এখনো সন্ধান মেলেনি ১ হাজার ৯৭০ জনের। সব মিলিয়ে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের ৮৭ শতাংশকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে বেড়াতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা, নাম-ঠিকানা ঠিকমতো বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় ভুল পথে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে পরিবারের ওপর অভিমান, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক লজ্জার ভয়, লাগামহীন স্বাধীন জীবনের প্রতি আকর্ষণ, পারিবারিক কলহ ও বন্ধুদের কুপ্রভাবের মতো কারণগুলো প্রধান ভূমিকা রেখেছে। পুলিশ সদরদপ্তর আরও জানিয়েছে, অনলাইন জিডি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হওয়ায় এখন নিখোঁজের তথ্য দ্রুত নথিভুক্ত হচ্ছে। অতীতের চিত্র তুলে ধরে পুলিশ জানায়, নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ছিল ২২ হাজার ৫৫০টি।

/আশিক


অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৯:৩১:৩৫
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
সাবেক রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। গ্রাফিক্স: ইত্তেফাক

জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের কুমিল্লার বিভিন্ন মৌজা ও দাগে অবস্থিত ১৮টি জমি এবং টয়োটা ব্র্যান্ডের দুটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দের (ক্রোক) আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ জারি করেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা আদালতে এই আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি মো. মুজিবুল হক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একজন সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজ নামে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৫১ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এই সুনির্দিষ্ট অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

আদালতে জমা দেওয়া দুদকের নথিতে আরও বলা হয়, মামলাটির তদন্ত চলাকালে রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখা গেছে যে আসামি তাঁর এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গোপনে বিক্রি, স্থানান্তর বা বেহাত করার তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হলে রাষ্ট্র মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। সেই যুক্তিতেই আসামির জমি, গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধে অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করা হয়েছিল।

/আশিক


বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে বন্ধ হলো চার শতাধিক কারখানা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৯:২৭:৫০
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে বন্ধ হলো চার শতাধিক কারখানা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) অন্তর্ভুক্ত ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ১২৩টি কারখানা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ করেন।

পোশাক কারখানাগুলো বন্ধের পেছনের কারণ তুলে ধরতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ একাধিক সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছাড়াও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা রপ্তানি খাতকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ইউরোপের বাজারে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব নজরদারি সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতে কাজের ক্রয়াদেশ না দেওয়ার প্রবণতাও এই খাতের জন্য বড় আঘাত হয়ে এসেছে। বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব কারখানার সুনির্দিষ্ট পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজার ধরে রাখতে সরকারের নেওয়া নীতিগত সহায়তার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে ডিউটি ড্র-ব্যাক ও শুল্ক বন্ডের বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা এবং ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটার শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং সামগ্রিক খাতে বিশেষ নগদ প্রণোদনা হিসেবে মিলছে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ।

একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলাভিত্তিক বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশজুড়ে কঠোর তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত দাম নেওয়া, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি ও মূল্যতালিকা না টানানোর মতো অপরাধে নিয়মিত জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও কার্টেল বা যোগসাজশের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। জনস্বার্থে বাজার মনিটরিং ও আইনি অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে বলে সংসদে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

/আশিক


প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড ও শীর্ষে নতুন দেশ, সংসদে তথ্য উপস্থাপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৮:১৮:৩৪
প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড ও শীর্ষে নতুন দেশ, সংসদে তথ্য উপস্থাপন
গ্রাফিক্স: কালবেলা

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে, অন্যদিকে পূর্ববর্তী অর্থবছরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র বড় পতনের মুখে পড়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনের বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন (৩ হাজার ৫৫৮ কোটি ৯৩ লাখ) মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ হাজার ২৬০ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার বেশি।

আলোচ্য অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীরা। এর আগের অর্থবছরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়েছিল ৪ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ কমে ৩ হাজার ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, ফলে দেশটি পঞ্চম অবস্থানে নেমে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আরও জানান, এই সময়ে রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে মোট ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: