মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৯:০৪:১৫
মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ
ছবি : সংগৃহীত

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট পক্ষ অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত জিইয়ে রাখতে গভীরভাবে আগ্রহী। সোমবার (৩১ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং কোনো ধরনের যুদ্ধ বা সংঘাতকে স্বাগতও জানায় না। তবে ওয়াশিংটন তাদের পূর্বের প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়নে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উভয় নেতার এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক রুটে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত রাখা এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইরানে অবস্থিত চাবাহার বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতির বিষয়গুলো আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ চাবাহার বন্দরের একটি বিশেষ টার্মিনালে ভারতের প্রায় ১২ কোটি মার্কিন ডলারের বৃহৎ বিনিয়োগ রয়েছে। তবে প্রকল্পটিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ওপর থাকা বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ গত রোববারই শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বিষয়টি বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


জাহাজে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৯:০৪:১৬
জাহাজে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় জোড়া কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক হামলায় অজ্ঞাত বস্তু বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজ দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর লোহিত সাগর ও সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিমজ্জিত হয়। এই মর্মান্তিক ও নাশকতামূলক ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বিশালাকার কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ আচমকা প্রজেক্টাইলের আঘাতের শিকার হয়। এতে জাহাজটিতে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং পরবর্তীতে তা সমুদ্রের পানিতে ডুবে যায় বলে সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি নিশ্চিত করেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সিএনএন কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, জাহাজটি সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার সময় সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উদগিরণ হচ্ছিল। স্যাটেলাইট চিত্রেও ঘটনাস্থলজুড়ে পণ্যসামগ্রী এবং তেলের বড় স্তর ভাসতে দেখা গেছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি দাবি করেছে যে অননুমোদিত পথে চলার সময় এটি সমুদ্রের মাইন বিস্ফোরণে ডুবেছে, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা—এটি ড্রোন বা প্রজেক্টাইল হামলার ফল।

অন্যদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘কেপ দাও’ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) নিশ্চিতকরণ অনুযায়ী বুধবার সাগরে ডুবে যায়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ওই ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান। আইএমওর তথ্য মতে, চলতি বছর হরমুজ প্রণালিতে একাধিক জাহাজে নাশকতা চালানো হলেও ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত জোরদার হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় জাহাজ ডুবে যাওয়ার এটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘটনা। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে আন্তর্জাতিক এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বেড়েছে।

সূত্র: সিএনএন


সিরিয়ার দারা প্রদেশে বাড়ি ও গুদামে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্নিসংযোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:০২:১৯
সিরিয়ার দারা প্রদেশে বাড়ি ও গুদামে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্নিসংযোগ
ছবি : সংগৃহীত

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের পশ্চিম দারার ওয়াদি আল-রাক্কাদ এলাকায় একটি বাড়ি ও পশুখাদ্য সংরক্ষণের গুদামে অগ্নিসংযোগ করেছে ইসরায়েলি সেনারা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল ইখবারিয়া টিভির খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনারা ওই এলাকায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে একটি আবাসিক বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। পরবর্তীতে বাড়িটিতে এবং তার কাছাকাছি অবস্থিত পশুখাদ্য সংরক্ষণের একটি গুদামে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই আকস্মিক নাশকতার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। পুরো বিষয়টির ওপর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের পর গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে দেশটিতে নিজেদের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার পাশাপাশি ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমির বাফার জোনে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত করে চলেছে দেশটি। ইসরায়েলি এই অনধিকার প্রবেশ এবং ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ। দামেস্কের স্পষ্ট অভিযোগ, ইসরায়েলের এই ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড সরাসরি সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

একই সঙ্গে ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তিতে নির্ধারিত নির্দিষ্ট অবস্থানে ইসরায়েলি বাহিনীকে অবিলম্বে ফিরে যাওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়ে আসছে সিরিয়া। এদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষে পারস্পরিক সমঝোতা এবং ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি পুনর্বহালের লক্ষ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় মধ্যস্থতায় দামেস্ক ও তেল আবিবের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আল-ইখবারিয়া টিভি ও আনাদোলু এজেন্সি


সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ২০:০৯:২৯
সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোর জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদি। গত মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো সৌদি আরব সফরে গিয়ে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

ইরাকি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড ইরাকের মাটি থেকে হতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সবসময় সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই তাদের মূল নীতি।

এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি বড় নিরাপত্তা ঘটনা। গত মাসে সৌদি আরবের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে যে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, তা পরবর্তীতে ইরাক থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে নিশ্চিত করা হয়। ওই হামলার জেরে সৌদি আরবকে সাময়িকভাবে তাদের তেল রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়েছিল। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল স্থানান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনটিতে বর্তমানে পুনরায় তেল সরবরাহ ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এই নাশকতার ঘটনার পরেই ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নিজে রিয়াদ সফরে গিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো আগ্রাসন ও হামলা রোধে সৌদি যুবরাজকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করলেন।

সূত্র: আল-জাজিরা


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৮:৫৬:৪৬
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ‘চল্লিশ দিনের যুদ্ধ’-এর পরবর্তী সময়ে নিজেদের অস্ত্রাগারে আরও বেশি উন্নত ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র যুক্ত করার বড় দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহেব্বি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের মুখে ইরান আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে হোসেইন মহেব্বি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত অবাস্তব ও অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত হবে। তবে এরপরেও যুদ্ধের বড় ধরনের ঝুঁকি বা আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর পেছনের মূল কারণ হিসেবে তিনি মন্তব্য করেন যে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সফলতা অর্জন বা একটি দৃশ্যমান ‘জয়’ দেখানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো ধরনের অবিবেচকের মতো হঠকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

ইরান কর্র্তৃক উচ্চারিত এই নতুন ও কঠোর সতর্কবার্তা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আগে থেকেই বিরাজমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদকে আরও বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র অত্যন্ত জোরালো ভাষায় জানান যে, দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ড নিরাপত্তা রক্ষায় দেশের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাতের সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য অত্যন্ত চড়া মূল্য ও উপযুক্ত মাশুল গুনতে হবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৮:৫১:২০
ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে নিজের সতর্ক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে পুনরায় হামলা চালানো একেবারেই ‘উপযুক্ত নয়’। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর রাজনৈতিক জোট বিজয়ী হলেও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভিরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

ইসরায়েলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘আর্মি রেডিও’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলো করেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে এই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের নির্বাচন এবং এর ঠিক এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠেইয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই সামরিক এই পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু বেশ আগ্রহী ছিলেন। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র এক দিন পর নেতানিয়াহুর এই নতুন মন্তব্য সামনে এল, যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বক্তব্যকে আগের রিপোর্টের সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে দেখার আগে সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর জোট জয়লাভ করলেও কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বেন-গভির এই পদের প্রতি প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর একক ইশারায় হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল নেতৃত্ব তাঁর নিজের দল ‘লিকুদ পার্টি’র হাতেই ন্যস্ত থাকবে।

নেতানিয়াহুর এই দ্বিমুখী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ঠিক আগে সম্ভাব্য সরকার গঠন প্রক্রিয়া এবং দেশের অতি সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়গুলোর ভবিষ্যৎ দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় ও যৌক্তিকতা নিয়ে তাঁর সংযত মন্তব্য এবং অন্যদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান—এই দুটি বিষয়ই ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আল জাজিরা


সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:১১:০৪
সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থাপনা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হুথিদের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, সৌদি জোট যদি সানায় তাদের ঘোষিত বিমান হামলা বাস্তবায়ন করে, তবে তার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত জ্বালানি জায়ান্ট আরামকোর সদর দপ্তর, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদস্থ আরামকোর তেল শোধনাগার। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে এই সংবেদনশীল এলাকাগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

এর আগে সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি সানার উক্ত তেল স্থাপনায় সামরিক অভিযানের কথা জানান এবং সেখানকার বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগ করার বার্তা দেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও হুথি বাহিনীর মধ্যকার প্রত্যক্ষ সংঘাত এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয় রিয়াদ।

এদিকে মঙ্গলবারও রিয়াদ অভিমুখে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়, যা সৌদি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তবে এসব ড্রোন ঠিক কোন লক্ষ্যবস্তুতে কিংবা কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তুর্কি আল মালিকি বিস্তারিত কিছু জানাননি। সানায় বিমান হামলার তোড়জোড় এবং হুথিদের পাল্টা রিয়াদ-দাম্মামে আক্রমণের সতর্কবার্তায় পুরো অঞ্চলে চরম সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

/আশিক


জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৯:১১:১২
জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতে যৌথভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য ইসরায়েলের দেওয়া এক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। সোমবার হিব্রু ভাষার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আনাদোলু আরবি।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় রিয়াদকে এই প্রস্তাবে রাজি করানোর জোর চেষ্টা চালিয়েছিল তেল আবিব। মূলত হুথিবিরোধী অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় সাধন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ সুগম করাই ছিল ইসরায়েলের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তবে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে একেবারেই আগ্রহী নন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুবরাজের ধারণা, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না করে তেল আবিবের সঙ্গে হাত মেলালে কিংবা ইসরায়েলের সহায়তায় জোট গড়লে সৌদি আরবসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের জনমনে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। সৌদি যুবরাজের এই কঠোর ও নীতিগত আপত্তির কারণে ইয়েমেন ও হুথিবিরোধী কার্যক্রমে ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আপাতত সম্পূর্ণভাবে নাকচ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রিয়াদ সবসময় বলে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক সমাধান ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলায় হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ সবসময় নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভয় ও অস্থিতিশীলতা ছড়াতে চায়। একটি শক্তিশালী মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তুলতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সৌদি আরবে হুথিদের হামলা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এর পাশাপাশি চলতি অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ থেকে সৌদির পাঁচটি বিমানবন্দরে অন্তত ১০টি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে এ পর্যন্ত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। এসব হামলায় বিমান চলাচলের পাশাপাশি দেশটির অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মূলত গত জুলাই থেকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে এই তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদির বেসামরিক বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলো।

/আশিক


রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৮:৫৭:১৭
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা দেশটির বহুল প্রচলিত নিরাপদ ভাবমূর্তি এবং অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেও রিয়াদকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল সৌদি প্রশাসন, এই হামলা তাতে মারাত্মক ধাক্কা দিয়েছে।

শনিবারের ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের একজন ধর্মীয় নেতাও রয়েছেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার দ্বিতীয় দফার হামলায় আরও একজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এর ফলে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল ও মোহাম্মদসহ অনেক প্রবাসী মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বেসামরিক বিমানবন্দর ও জনবহুল স্থানে এমন হামলার পর পরিবার নিয়ে ভবিষ্যতে সেখানে থাকা নিরাপদ হবে কি না, তা নিয়ে তারা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে সৌদির ভাবমূর্তিও এখন প্রশ্নের মুখে। আগামীতে দেশটির বড় বিনিয়োগ সম্মেলন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে রিয়াদের অর্থনৈতিক রূপকল্প মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি জোটের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে।

এদিকে এই সংকটের মাঝে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য—যে সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই রক্ষা করতে সক্ষম—রিয়াদকে আরও হতাশ করেছে। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিরাপত্তা নির্ভরতার পর বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব নিজেদের কৌশলগত মিত্র খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে। তারই প্রতিফলন হিসেবে গত আগস্টে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র গুরুত্ব এখন অনেক বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে হুথিদের এই আগ্রাসন কেবল সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই কাঁপিয়ে দেয়নি, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এক নতুন সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে অনূদিত


হামলার পূর্বভাস কেন দেওয়া হলো না? সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৮:১০:১৯
হামলার পূর্বভাস কেন দেওয়া হলো না? সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
হামলার সময় সিসিটিভিতে ধারণ হওয়া একটি মুহূর্ত। গত শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে। ছবি: এএফপি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় হতাহতের বড় ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব হামলায় ১৮ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব হামলার ঠিক কয়েকদিন আগেই সাধারণ নাগরিকদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার সরকারি ব্যবস্থাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সাম্প্রতিক অন্তত চারটি বড় হামলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা পাননি সাধারণ মানুষ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আগাম সতর্কবার্তা না দেওয়ার এই বিষয়টি সৌদি সরকারের চরম দুর্বলতা এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আরব ও পশ্চিমা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেও সবকিছু স্বাভাবিক দেখানোর এক ধরনের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি সরকার। মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক ফেলো সুলতান আলামের ভাষায়, সৌদি প্রশাসন মূলত ‘দুই কূল রক্ষা করতে চাইছে’—একদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায়, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি অংশীজনদের আস্থা ধরে রাখতে চায়। তবে রয়টার্স এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিভিল ডিফেন্স ও সরকারি মিডিয়া অফিসে যোগাযোগ করলেও তাদের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই কৌশল শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হতে পারে, কারণ আগাম সতর্কবার্তা না থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর গত সোমবার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ রিয়াদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে নতুন করে সম্ভাব্য হুমকির সতর্কতা জারি করেছে। তবে রিয়াদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসন কিছু স্পষ্ট করেনি।

দেশের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন এবং প্রতিরক্ষা ঘাটতির কথাও স্বীকার করেছেন বিশ্লেষকরা। সরকারঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলী শিহাবি জানিয়েছেন যে, দেশটির বিশাল পরিসরে অসংখ্য বিমানবন্দর, পাইপলাইন ও তেল স্থাপনা রয়েছে এবং সেগুলোর সব একসঙ্গে রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি রয়েছে।

এতসব নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও হামলার মধ্যেও সৌদি আরব যে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক জ্বালানি সম্মেলনে। হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার দেশটিতে একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেখানে শীর্ষ তেল কোম্পানির নির্বাহীরা অংশ নেননি, তবে সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুবরাজের ভাই ও দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান স্বীকার করেন যে ঝুঁকির পুরোপুরি অবসান হয়নি। তবুও আন্তর্জাতিক অতিথিদের উদ্দেশে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে দেশ নিরাপদ রয়েছে এবং সৌদি সরকার তাদের অর্থনৈতিক রূপকল্প ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: