সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:১৮:১৩
সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল উত্থাপন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং সংস্কারের মূল দাবিকে পাশ কাটিয়ে একতরফা সংসদ পরিচালনার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টা ৭ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন কার্যাবলির অংশ হিসেবে তিনটি সরকারি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার, গণভোট ও বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের একপেশে মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেন।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল চাপিয়ে দিয়ে সংসদের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের মূল দাবিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের আইনি ভিত্তি ও সংসদীয় বিধিবিধান মানা হয়নি দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও গণভোটের বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল অনড়। কোনো নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়ার অংশ না হওয়ার নীতিগত অবস্থান থেকেই তারা সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।

বিরোধীদলীয় সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ছাড়ার সময় সভাপতিমণ্ডলীর আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁদের ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ওয়াকআউটের অধিকার থাকলেও সব বিষয়ে সংসদের ভেতর আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমেই জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তবে বিরোধী দল অধিবেশন ত্যাগ করার পর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

/আশিক


বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২০:০০:১৬
বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থানের দুরবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের ভাষায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—কখন আসে আর কখন যায় তা কেউ বুঝতে পারে না।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

জ্বালানি খাতের সংকট এবং অর্থনৈতিক অভিঘাতের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকটের সময়ে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার থাকলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রায় ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া তো দূরের কথা, যারা বর্তমানে কর্মরত আছেন তাঁদের জীবিকা কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল মূল অগ্রাধিকার। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাস্তব সংকটকে ব্যঙ্গ ও বাকচাতুর্য দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা এতই প্রকট যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রীর মতো দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দিলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।

বাজার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য জানান, বর্তমানে বাজারে কোনো সাধারণ সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। পাশাপাশি চাল ও ডিমের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে, বিশেষ করে মিনিকেট চালের অস্বাভাবিক দামে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে খোলাবাজারে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনের করুণ চিত্রও তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।

/আশিক


এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ১৮:১২:২৫
এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চেয়েছেন, গত ছয় মাসে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এই জবাব চান। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন যে এটি কোনো প্রশ্ন হলো নাকি পল্টনের বক্তৃতা, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে অভিহিত করলেও সেখানে গান-বাজনা, সিনেমা ও নৌকাবাইচ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই বাস্তবতায় গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন—তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল না থাকার বিষয়গুলো ভিন্ন। পাশাপাশি হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে উল্লেখিত হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যানের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কিসের ভিত্তিতে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা দৃশ্যমান উন্নতির প্রমাণ।

রামিসা থেকে শুরু করে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢালাওভাবে ব্যর্থতার অভিযোগ না তুলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে কথা বলতে হবে। তিনি জানান, বিচারিক দায়িত্ব আদালতের হলেও সরকার দ্রুত তদন্ত ও বিচারে সার্বিক সহযোগিতা করছে। সংসদে ঢালাও বক্তব্যের বদলে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনায় ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে বিধি অনুযায়ী নোটিশ দিলে সে বিষয়ে সংসদে বিতর্ক করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

/আশিক


বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ২১:৩৫:৪৯
বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ একদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি মন্তব্য করেন যে, জনগণের বিপুল সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে অতীতের মতোই একটি পক্ষ দলটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তবে কোনো অপচেষ্টাই জামায়াতের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করতে পারবে না।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রেখে রাজপথ এবং সংসদে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয়ে জামায়াত কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। সংসদে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সরকার জনদাবি উপেক্ষা করলে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তৃণমূল পর্যায়কে একটি আদর্শ সংগঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে সংগঠনকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। যাদের ভিত্তি জনগণের মাঝে প্রোথিত, তাদের রুখে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। এ সময় তিনি শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠাতব্য ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

/আশিক


সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ২১:১৬:২৭
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

একটি প্রতারণা মামলায় আদালতের সাজা ও জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। রায় ঘোষণার পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই গুলশান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।

/আশিক


প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়েছে: নাহিদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৮:২৫:২৭
প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়েছে: নাহিদ
ছবি : সংগৃহীত

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ—সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া এই তিন ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। জাতীয় নাগরিক পার্টির পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে সরকার আবারও ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে ফিরে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, গত ১৮০ দিনে প্রমাণ হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই।

সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ মোট ২৯টি ক্ষেত্রে সরকার অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনের জন্য একটি পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। সেখানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পর দেখা যাচ্ছে, অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি ক্ষেত্রেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

পুরোনো পরিকল্পনা ও নীতির পথেই সরকার দেশ পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, অপরিকল্পনা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়েছে। সরকার নিজেদের পরিকল্পনা থাকার কথা বললেও এখন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবর্তনের এই ধারা কোথায় গিয়ে শেষ হবে এবং একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকেও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সারা দেশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। ক্ষমতায় আসার আগে সরকার যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিল, তার কোনোটি বাস্তবে করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য এই সময় যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ছয় মাস পার হয়ে যাওয়ার পর সরকার আর এসব সমস্যার দায় অন্তর্বর্তী সরকার বা আগের সরকারের ওপর চাপাতে পারবে না। জনগণের কাছে এমন ব্যাখ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকার যদি বিদ্যমান সংকটগুলোর সমাধান না করে এবং পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা থেকে সরে না আসে, তাহলে তাদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে।

তিনি বলেন, আরও ছয় মাস পার হলে সরকার আগের সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকারের দায় দেখানোর সুযোগ পাবে না। তখন জনগণ সরকারের কাছ থেকেই সব সমস্যার সমাধানের প্রত্যাশা করবে।

এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ওষুধনীতি, সার, মানবাধিকার এবং ভূমি কমিশন আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

/আশিক


নতুন দায়িত্বের পর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২১:০৬:২১
নতুন দায়িত্বের পর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজের দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। এ সময় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

কার্যালয়ে আসার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, তিনি সবসময়ই নয়াপল্টনের কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরও এই কার্যালয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও কর্মকাণ্ড একইভাবে অব্যাহত রয়েছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ড. মাওলানা মুফতি মহীউদ্দীন ইকরাম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ শামসুদ্দিন পারভেজ এবং ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামসহ দলীয় নেতারা।

দলের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন নয়াপল্টন কার্যালয়ে থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন রিজভী। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পরও কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

/আশিক


চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত লড়াই নয়, ছিল লড়াইয়ের মহড়া: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৮:৩০:০০
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত লড়াই নয়, ছিল লড়াইয়ের মহড়া: শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ‘চূড়ান্ত লড়াই’ হিসেবে না দেখে একে সামনের মূল লড়াইয়ের প্রস্তুতি বা ‘মহড়া’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রবিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারে মহানবী (সা.) এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেমিনারে জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক আন্দোলনে যারা রাজপথে নেমেছিল, তারা নিঃশেষ হয়ে যায়নি কিংবা ঘুমিয়েও পড়েনি; বরং তারা পূর্ণ সজাগ দৃষ্টিতে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একটি চূড়ান্ত যুদ্ধের পূর্বে যেমন নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে বাহিনীকে প্রস্তুত করতে হয়, চব্বিশের আন্দোলনকেও তিনি তেমনই একটি মহড়া হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

ফ্যাসিবাদের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়, বরং এটি একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসের মতো। এই ভাইরাসে যে-ই আক্রান্ত হবে, সে-ই শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্টে পরিণত হতে বাধ্য।

বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, বিদ্যমান সরকারও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেখানো ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে অবিলম্বে সরে আসার তাগিদ দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বাংলাদেশের সচেতন জনগণ কোনো শাসককেই আবার ফ্যাসিবাদী পথে চলতে দেবে না।

রাষ্ট্র পরিচালনায় গঠনমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কোনো ইতিবাচক বা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। তবে সরকার যদি কোনো অবিচার করে, নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করে কিংবা ভুল পথে পরিচালিত হয়, তবে বিরোধী দল হিসেবে তা প্রতিরোধ ও তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া অবশ্যকর্তব্য।

দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও নাগরিক মর্যাদার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত প্রধান বলেন, বহির্বিশ্বে একটি রাষ্ট্রের অবস্থান পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো দেশটির পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের বর্তমান মান নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, যেকোনো দেশের সম্মান ও মর্যাদা সরাসরি তার জনগণের সামগ্রিক চরিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

দেশে দীর্ঘকাল ধরে ইতিহাস বিকৃতির যে অপচর্চা চলছে, তা থেকে ক্ষমতায় আসা কোনো সরকারই পুরোপুরি বের হতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। একই সাথে নাগরিকদের ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে জাদুঘরটি থেকে অতীতের বহু রাজনৈতিক ঘটনা ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের তথ্য ও প্রমাণ পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

/আশিক


কোরআনের আদর্শ বাস্তব জীবনে বাস্তবায়নেই মুক্তি মিলবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২২:৪৬:০৬
কোরআনের আদর্শ বাস্তব জীবনে বাস্তবায়নেই মুক্তি মিলবে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাস্তব জীবনে পবিত্র কোরআন সহিহভাবে ও অর্থসহ তিলাওয়াত করতে শেখা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব বা ফরজ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোরআন শুধু পাঠ করলেই হবে না; বরং তা যথাযথভাবে শিখতে হবে, মর্মার্থ উপলব্ধি করতে হবে এবং প্রাত্যহিক জীবনে এর বিধান মেনে চলতে হবে। তবেই ইহকাল ও পরকালে প্রকৃত মুক্তি অর্জন করা সম্ভব।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলটির কেন্দ্রীয় তা’লীমুল কুরআন বিভাগ আয়োজিত জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় তা’লীমুল কুরআন বিভাগের সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম পাটওয়ারী।

সম্মেলনে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহ মানবজাতির মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের নবী ও রাসুল হিসেবে মনোনীত করে তাদের ওপর ঐশী কিতাব নাজিল করেছেন। তাই আল্লাহর এই কালাম সঠিকভাবে পড়া ও অপরকে তা শেখানো জরুরি। মানবজাতি যখনই আল্লাহর কিতাবের নির্দেশনা মেনে চলেছে, তখনই সমাজে শান্তি ও মর্যাদা বজায় থেকেছে। পক্ষান্তরে ঐশী বিধান থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলেই অতীতে নানা বিপর্যয় এসেছে এবং মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে, যা বর্তমান সময়েও দৃশ্যমান। তাই কোরআনের শিক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে জীবনে ধারণ করাই মুক্তির একমাত্র উপায়।

কোরআন ও হাদিসের সঠিক জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছাড়া কোরআনের দিকনির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অন্য মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানাতে হলেও নিজের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শুধু মৌখিক প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কাছে আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেওয়াই প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পথ।

দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পেশ করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এবং তা’লীমুল কুরআন বিভাগের প্রধান ওস্তাদ মাওলানা আব্দুর রহিম।

/আশিক


ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২২:৩৭:১৯
ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে-শীর্ষক গোলটেবিলে আলোচকরা। ছবি- সত্য নিউজ।

কেবল সরকার বা রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক চর্চায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য গড়ে তোলা এবং সংঘাত ও প্রতিশোধনির্ভর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (BIISS) অডিটোরিয়ামে Alliance for Multidisciplinary Research and Analysis (AMRA) আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং নারী ও যুবনেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তাঁরা গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, কোন কোন পুরোনো প্রবণতা এখনো রয়ে গেছে এবং একটি গণতান্ত্রিক, সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন—এসব বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতা প্রয়োজন: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রয়োজন যেখানে সরকার ও বিরোধী দল দেশের স্বার্থে সহযোগিতা করবে, আবার গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে যৌক্তিক সমালোচনারও সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে এককভাবে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণ করা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলেরই এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা এমন সংসদ ও রাষ্ট্রকাঠামো চাই, যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে। গণতন্ত্রে অবশ্যই সমালোচনা থাকবে, তবে তা হতে হবে যৌক্তিক। অপপ্রচার, মিথ্যাচার কিংবা চরিত্রহনন গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার অংশ হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে বলে তার দায়িত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি। একই সঙ্গে বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো সরকারের ভালো উদ্যোগকে সমর্থন করা এবং যেসব সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে, সেগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করা।

প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরকার সরে এসেছে: ফারজানা শারমিন পুতুল

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, রাজনীতি সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্রই রয়েছে, তবে বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে আসার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে একটি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছি এবং তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। মাত্র ১৮০ দিন আগে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। পরিস্থিতি গুছিয়ে নিতে এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। এ কাজে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।”

নাগরিককে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে: সালেহ শিবলী

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে এ পরিবর্তনকে টেকসই করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি হওয়া প্রয়োজন যে তাঁরাই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের নাগরিকদের সেই মর্যাদায় বিবেচনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সালেহ শিবলী বলেন, “নিজেকে জনগণের চেয়ে ঊর্ধ্বে মনে না করাটাও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্যোগকে তার গুণগত মান ও জনস্বার্থের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। একইভাবে কোনো সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দলীয় আচরণ করছেন কি না, সেটিও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হওয়া প্রয়োজন।

দলীয় সংস্কার ছাড়া সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতিও বদলাবে না: কামাল আহমেদ

দ্য ডেইলি স্টার-এর কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আলোচনার পরিবর্তে শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অনেক সময় মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরিবর্তে বড় সমাবেশ বা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যায়। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আলোচনাভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক সংস্কার করতে না পারলে তারা সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতিও পরিবর্তন করতে পারবে না।”

গণমাধ্যমে কালো টাকা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কামাল আহমেদ। তাঁর মতে, গণমাধ্যমের একটি অংশে ব্যবসায়িক স্বার্থ, অর্থ ও ক্ষমতার মধ্যে একটি ক্ষতিকর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গণমাধ্যম সংস্কার-প্রক্রিয়ায় যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামোয় এখনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি: নুসরাত তাবাসসুম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রক্ষমতার কাঠামোয় এখনো উল্লেখযোগ্য বা মৌলিক পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনপ্রশাসন ও পুলিশকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কোনো মঞ্চ নয়, আর রাজনীতিও কোনো থিয়েটার নয়।”

পুলিশ যদি রাষ্ট্রের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন সরকারের সেবা করাকেই পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নুসরাত তাবাসসুম বলেন, “এত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশে পুলিশ যদি রাষ্ট্রের পরিবর্তে দলের কাজ করে এবং সরকারের সেবাকেই নিজের দায়িত্ব মনে করে, তাহলে কোনো গণ-অভ্যুত্থানই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না।”

দলের ভেতরে গণতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কঠিন: নজিবুর রহমান মোমেন

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেন বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ায় বৈষম্য দূর করা এবং রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রোধ করা অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে প্রথমে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

তিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের সংস্কৃতির সমালোচনা করেন এবং সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই সংঘাতমুখী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ভারসাম্য ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংঘাত, পরমত-অসহিষ্ণুতা, প্রতিশোধপরায়ণতা, পেশিশক্তির ব্যবহার, দলীয়করণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রবণতা গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এই প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

বক্তারা মনে করেন, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য কেবল আইন বা সাংবিধানিক কাঠামোর সংস্কার যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ, নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি, সাংগঠনিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার সম্পর্কেও মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর checks and balances, ভোটার ও নাগরিকদের প্রতি রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহিতা এবং জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারত্ব ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের সীমারেখা স্পষ্ট করার তাগিদ

আলোচনায় বক্তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, অপরাধ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিচার অবশ্যই হতে হবে; তবে বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন বা প্রতিশোধ গ্রহণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি দুর্বল হবে।

সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই সংঘাত ও প্রতিশোধের পথ পরিহার করে সংলাপ, সহাবস্থান, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।

নারীর মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান

রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নারীর প্রতি অবমাননাকর ও বিদ্বেষমূলক ভাষার ব্যবহার বন্ধ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে নারীবান্ধব সাংগঠনিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা দলীয় কাঠামোর সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রাজনৈতিক পরিসরে নারীকে কীভাবে দেখা হচ্ছে, তাঁদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে এবং নেতৃত্বে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ কতটা তৈরি হচ্ছে—এসবও রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

তরুণদের আন্দোলনের শক্তি থেকে নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে কেবল আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, নির্বাচনী শক্তি বা রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। তাঁদের ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল, সহনশীল ও নীতিনির্ধারণে সক্ষম রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এ জন্য রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক ও নাগরিক শিক্ষা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের মতামত তুলে ধরার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন

গোলটেবিলে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত রাজনীতিকীকরণ, সামাজিক সংহতির দুর্বলতা এবং গ্রামীণ বিচার ও সালিশব্যবস্থায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়ও আলোচিত হয়।

বক্তারা বলেন, স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যক্তিস্বার্থ বা ক্ষমতা বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় শাসন ও সামাজিক বিচারব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত, অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে হবে।

রাজনৈতিক সংস্কারকে সামাজিক প্রক্রিয়ায় রূপ দিতে হবে: AMRA

AMRA-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নকে শুধু সরকারি নীতি, আইন কিংবা কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ করে মতপার্থক্যকে শত্রুতা হিসেবে বিবেচনা না করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে গ্রহণ করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা জরুরি। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন সহিংসতা, প্রতিশোধ, চরিত্রহনন কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের দিকে না যায়—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গোলটেবিল আলোচনায় আমন্ত্রিত ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন; সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, এমপি; জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, এমপি; এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক ফরিদুল হক; আমার বাংলাদেশ পার্টির (AB Party) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি; দ্য ডেইলি স্টার-এর কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ; বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাহরীন আই. খান; প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা; সাংবাদিক ও কূটনীতিক আকবর হোসেন; নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. ওয়ারেসুল করিম; ন্যাশনাল পিপলস অ্যাসেম্বলির (NPA) মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেন, এমপি; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ আবদুল মান্নান; স্বাধীন সাংবাদিক শাহেদ আলম; এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন; নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমশিয়াত শরীফ; সাংবাদিক এহসান মাহমুদ; জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের এবং সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবি মো. হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। গোলটেবিল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী, আহ্বায়ক, Alliance for Multidisciplinary Research and Analysis (AMRA)।

AMRA জানিয়েছে, গোলটেবিলে উঠে আসা মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক দল, সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে এসব সুপারিশ একটি সংক্ষিপ্ত Policy Brief আকারে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

পাঠকের মতামত: