স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২০:০৫:১৯
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিন নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও নিরপেক্ষতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করার বিষয়ে কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। রাষ্ট্রপতিও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত নথিপত্র আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে ফেরত আসায় এবং কারিগরি প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়ায় কমিশন এখন তফসিল ঘোষণার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

ভোটের সম্ভাব্য সময়সূচি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সিইসি জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনও নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তবে আসন্ন দুর্গাপূজা, বন্যা পরিস্থিতি, শীতকালীন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে রোজা, ঈদ ও বর্ষা মৌসুমের কারণে নির্বাচনের জন্য উপযোগী সময় বেশ সীমিত। বার্ষিক পরীক্ষা সমন্বয় করে সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্পন্ন হতে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত গড়াতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দেশি ও প্রবাসী ভোটারদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে পোস্টাল ব্যালট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে অন্য কমিশনও এ ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে পারে, সেজন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়া নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দ্রুতই সমন্বয় সভা করা হবে এবং প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেন যে, কমিশন নির্বাচনে 'ভোটার সার্বভৌমত্ব' প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে সাধারণ ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত।

/আশিক


মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ১৮:১৬:২৭
মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

‘মক্কা প্যাক্ট’ বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা এবং এটি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে অন্যদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তাঁর সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে গত ৭ আগস্ট যে ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে, বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে দেশের কী ধরনের সুবিধা হতে পারে। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চুক্তিটি বর্তমানে উল্লেখিত তিন দেশের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে এবং ঢাকা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছে। তবে এতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে আসেনি, কারণ এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত মূল সদস্য দেশগুলোর আগ্রহ ও অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি বাংলাদেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে সরকার তা নিশ্চয়ই ইতিবাচকভাবে ভেবে দেখবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসার আগে এই চুক্তির বিস্তারিত লাভ-ক্ষতি বা ভালোমন্দ নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি এবং সময় হলে সরকার সবদিক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করবে। তবে জোটটি যদি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হয়, তবে তা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর আত্মরক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই কাজ করবে। এটি একান্তই মুসলিম বিশ্বের ভেতরের বিষয় হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যদের এ নিয়ে অযথা উৎকণ্ঠিত হওয়ার অবকাশ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

/আশিক


২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ১৮:০৮:৪০
২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১৯ হাজার ৬৪১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাঁর প্রশ্নে ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট কতজনকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং এর বছরভিত্তিক হিসাব জানতে চান। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ইস্যুকৃত মোট ১৯ হাজার ৬৪১টি লাইসেন্সের মধ্যে ৭ হাজার ৩০৮টি শটগান, ৫ হাজার ৩৪৭টি পিস্তল, ৫৯৪টি রিভলভার, ৯৪৮টি রাইফেল এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ৫ হাজার ৪৪৪টি অস্ত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই দীর্ঘ সময়ের বছরভিত্তিক পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দেশের ৬৪ জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করে প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সে কারণে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আপাতত এই আংশিক হিসাব সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।

/আশিক


খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৯:২০:৩৭
খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সরকারিভাবে কোনো খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা বন্ধ এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা প্রতিরোধ বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করানো জরুরি। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ছাড়া বিদেশে গিয়ে কর্মীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

এ লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনি এলাকায় পাঁচটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মীদের ইংরেজি, আরবি, জাপানি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষায় প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা জানা থাকলে কর্মীরা কর্মস্থলে যোগাযোগ ও দৈনন্দিন কাজে তুলনামূলকভাবে সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন।

তিনি বিদেশ যেতে আগ্রহীদের দালাল বা অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে সরকারি ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ভাষাগত প্রশিক্ষণ অর্জনের পর বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী বিপুলসংখ্যক কর্মীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসনের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পথও আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: বাসস


দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৮:১৪:৩০
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি সরবরাহ সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ঢাকায় পরিকল্পিত লোডশেডিং করে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য জেলা ও গ্রামাঞ্চলে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট ও পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। গ্রিডের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি জটিল রূপ নিয়েছে।

এই ঘাটতির প্রভাব সুষমভাবে বণ্টন করতে ঢাকার দুই প্রধান বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাভুক্ত এলাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। রাজধানীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কিছুটা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অংশটি ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর বাইরের শিল্প-কারখানায় সরবরাহ যেমন স্থিতিশীল হচ্ছে, তেমনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিও কিছুটা কমে আসছে।

সরকারের মূল লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গ্রাহক শ্রেণিকে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন না রেখে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের বোঝা সুষম রাখা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া, প্ল্যান্টগুলোর ত্রুটি দূর করা এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাবে।

এদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানী থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে অন্য এলাকায় পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে সাময়িক স্বস্তির উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১১:৩৪:৪২
দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হলেও আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত দুবার সেই উদ্যোগ শেষ মুহূর্তে থমকে গেছে। সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাননি। ফলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে কোন বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের এই সফরের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে।

তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসা ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বেও বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অর্থাৎ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দুই পথেই তার দিল্লি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও আগস্টে পরিকল্পিত সফরগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রশ্ন। ঢাকার অবস্থান হলো, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা কঠিন।

অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য ভিন্ন। দিল্লি বলছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, সেগুলো তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড; এসব বক্তব্যকে ভারত সরকারের অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বাইরে দুই রাজধানীর মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ রয়ে গেছে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। বিশেষ করে ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের একটি আয়োজনে শেখ হাসিনার অনলাইনে যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে ঢাকা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। বাংলাদেশের একটি অংশের ধারণা, ভারতের অন্তত নীরব সম্মতি ছাড়া দিল্লিকেন্দ্রিক এমন রাজনৈতিক উপস্থিতি সহজ হতো না। ঢাকা এ নিয়ে প্রকাশ্যেও অসন্তোষ জানিয়েছে।

ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলে আবার ভিন্ন একটি মূল্যায়ন রয়েছে। তাদের একটি অংশ মনে করে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শেখ হাসিনা সরাসরি বাংলাদেশে ফিরে গেলে যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সেটি সামাল দেওয়া বর্তমান সরকারের জন্যও সহজ হবে না এমন বিশ্লেষণ দিল্লির কিছু মহলে রয়েছে। তবে এটি ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়; বরং সংশ্লিষ্ট মহলের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

ফলে একই ইস্যুকে ঢাকা ও দিল্লি দুই ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিচার এবং জনমতের সঙ্গে যুক্ত; ভারতের জন্য এটি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ও বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দুই ক্ষেত্রকে যতটা সম্ভব পৃথক রাখার প্রশ্ন।

দিল্লি চাইছে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে তৈরি বিরোধের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মতো পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে আলোচনা এগিয়ে যাক। ভারতীয় কূটনৈতিক মহল থেকে ঢাকাকে এমন বার্তাও দেওয়া হচ্ছে যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন আটকে রাখা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

কিন্তু ঢাকার সামনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামল এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মধ্যে তাকে ঘিরে তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক বক্তব্য অব্যাহত রাখলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর দেশে কীভাবে গ্রহণ করা হবে, সেটিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কাছ থেকে অন্তত এমন দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায়—ভারতের ভূখণ্ড বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অন্যদিকে দিল্লির কর্মকর্তাদের একটি অংশ প্রত্যর্পণের পরিবর্তে শেখ হাসিনার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে তুলনামূলকভাবে কম জটিল সমাধান হিসেবে দেখছেন।

এই প্রশ্নে কোনো গ্রহণযোগ্য সমঝোতা তৈরি হলে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দূর হতে পারে বলে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে ধারণা রয়েছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, প্রত্যর্পণ বা সম্ভাব্য বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে এখনো এমন কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

তারেক রহমানকে দ্রুত দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানোর পেছনে ভারতের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থও রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের বেশ কয়েকটি সহযোগিতা প্রকল্পের গতি কমেছে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো প্রকল্প এবং সীমান্তসহ একাধিক বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, সেটিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। তারেক রহমান ইতোমধ্যে বেইজিং সফর করায় দিল্লির কাছে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে দ্রুত সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বাংলাদেশের জন্যও ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্কের প্রয়োজন রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য, দীর্ঘ সীমান্ত, অভিন্ন নদী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা এবং সড়ক-রেল যোগাযোগের কারণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ভিত্তিতে পরিচালনা করা কঠিন। ফলে উভয় পক্ষই সম্পর্ক সচল রাখতে আগ্রহী হলেও কোন রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে তা করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এই অচলাবস্থা কাটানোর সম্ভাব্য পথ হিসেবে সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের তুলনায় বহুপক্ষীয় সম্মেলনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দিক থেকে তুলনামূলকভাবে কম স্পর্শকাতর হতে পারে। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে অংশ নিলে সফরটিকে সরাসরি ভারত সফরের পরিবর্তে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবেও উপস্থাপন করা সম্ভব।

তারেক রহমান ব্রিকসের আয়োজনে দিল্লি গেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সুযোগও তৈরি হতে পারে। বহুপক্ষীয় সম্মেলনের সাইডলাইনে এ ধরনের বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্বাভাবিক ঘটনা। সে ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রশ্নটি এখন শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফরের সময়সূচিতে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও প্রত্যর্পণ প্রশ্ন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জনমত, ভারতের কৌশলগত স্বার্থ, চীন ফ্যাক্টর এবং দুই দেশের আটকে থাকা দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা জড়িয়ে গেছে।

-রফিক


ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ২১:৩৩:৩৫
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদ আজও বিভিন্নভাবে জন্ম নেয় এবং নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করে। নিজ দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে গুম-হত্যার মতো অন্যায় সৃষ্টি করা হয়। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সমাজকে মুক্ত করতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিশু-কিশোর শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’তে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম মানুষকে প্রতিনিয়ত শক্তি জোগায়। তার গান, কবিতা ও জীবনদর্শন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস সৃষ্টি করে।

জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সাধারণ রাজনীতিবিদদের তুলনায় রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার পথ অনেক বেশি কঠিন। একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের বিকাশের পথও সুগম করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার তূর্যবাদক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ চালু করেছিলেন। একই সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তিনি নিয়েছিলেন।

রিজভী আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার পিতার সেই উদ্যোগকে অনুসরণ করে এ বছর ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষে’ শিশুদের শারীরিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করা হয়েছে।

সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী রংপুরে একটি শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণতা ও মাদকের প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে নজরুলের গান, কবিতা ও জীবনদর্শনের ব্যাপক চর্চা প্রয়োজন।

‘চল্ চল্ চল্’ রণসংগীতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নজরুল পিছিয়ে পড়া জাতিকে অলসতা ঝেড়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিশ্বদরবারে এগিয়ে যাওয়ার দিশা দেখিয়েছেন। তার গান মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা দেয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন আহমেদ স্টালিন। এ সময় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৯:৪০:৪১
চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে আলোচনা শেষে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে এর বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, এমআরসিএ হিসেবে জে-১০সিই এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন বৈঠক হয়েছে। ওই আলোচনার ভিত্তিতে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে।

চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তার দাবি, ওই সংঘাতে চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে এ ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের দাবির স্বাধীন যাচাই নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সতর্কতা রয়েছে

জাহেদ উর রহমান বলেন, জে-১০ একটি মাল্টিরোল ফাইটার এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের যুদ্ধবিমানের দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, একই ধরনের সক্ষমতার রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলকভাবে কম। ফলে জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বিভিন্ন নথি ও প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য উদ্যোগের কথা উঠে এসেছিল। সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত চুক্তি ও মূল্য নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি ব্যবস্থাও যুক্ত রয়েছে। এসব সরঞ্জাম সংগ্রহের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা ও নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৯:২১:১৪
মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে। তাঁর জীবন ছিল পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপরও মহানবী (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হতে পারে। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাই তাঁর আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাণীর শেষে মহান আল্লাহর কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেন তিনি।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আবারও আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছি, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৮:২২:২৭
আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছি, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, তিনি সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কারও আত্মীয় হিসেবে নয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের আরও পেশাদারভাবে প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক তাকে মন্ত্রীর আত্মীয় হিসেবেও উল্লেখ করেন। জবাবে পার্থ বলেন, তিনি আশা করেছিলেন প্রশ্নটি আরও পেশাদারভাবে করা হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করছিলাম আপনার প্রশ্নটা আরও প্রফেশনাল হবে। আমি এখানে বসা তথ্যমন্ত্রী হিসেবে, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়। আশা করি আরও প্রফেশনাল ওয়েতে প্রশ্ন করবেন।’

সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পেতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না এবং কবে নাগাদ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাওয়া যাবে— জানতে চান ওই সাংবাদিক।

জবাবে পার্থ বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন—এটি বাংলাদেশ সরকারের জানা। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় শর্ত ও অনুরোধ ভারতের কাছে জানানো হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তার জানা মতে, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করতে পারে।

এ বিষয়ে পার্থ বলেন, রাজনৈতিকভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি যদি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি শেখ হাসিনার জন্য খুব একটা সুখবর হবে না বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, শুধু শেখ হাসিনাই নন, বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: