বাইকারদের জন্য দারুণ খবর: বড় পরিবর্তনের পথে সরকার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৮:২৬:৩৪
বাইকারদের জন্য দারুণ খবর: বড় পরিবর্তনের পথে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

দেশে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় (সিবিইউ) ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ দিয়ে নতুন আমদানিনীতি আদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার (২৪ আগস্ট) ‘আমদানিনীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ শীর্ষক এই গেজেট জারি করা হয়।

পূর্ববর্তী ২০২১-২০২৪ সালের আমদানিনীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি বা সিবিইউ অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। নতুন নীতিমালায় সেই সীমা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে ৩৭৫ সিসিতে উন্নীত করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের মাঝারি ও উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেল সরাসরি বাংলাদেশে আমদানির পথ সুগম হলো। এর প্রভাবে দেশের বাজারে উন্নত প্রযুক্তির নতুন নতুন মডেল ও ব্র্যান্ডের আগমন ঘটবে, যা একই সঙ্গে স্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করবে।

মোটরসাইকেল আমদানির শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি সামগ্রিক আমদানি প্রক্রিয়াকে সহজ ও গতিশীল করতে নতুন নীতিমালায় আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকরা ঋণপত্র বা এলসি খোলার বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে কোনো ধরনের মূল্যসীমা ছাড়াই সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন। পূর্বেও চুক্তির মাধ্যমে আমদানির নিয়ম চালু ছিল, তবে বিভিন্ন খাতের ওপর নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত প্রযোজ্য ছিল। নতুন আদেশে সেই সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রচলিত ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন নীতিতে দেশে ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ আমদানি সুবিধা এবং রপ্তানিমুখী বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়াকেও আরও সহজতর করা হয়েছে।

/আশিক


তিন মাসের সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৮:০৮:৩৭
তিন মাসের সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কিছুটা কমেছে। দিনের শুরুতে তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং ডলারের দর শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনো শক্তিশালী রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৬৩৪ দশমিক ৭৬ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দিনের লেনদেনে স্বর্ণের দাম ১৪ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৬৮৯ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়ায়।

সাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, মঙ্গলবার স্বর্ণের দর কমার অন্যতম প্রধান কারণ মুনাফা তুলে নেওয়া। এর পাশাপাশি গত সপ্তাহের দরপতনের পর ডলারের দামও কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তবে তার মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পেছনে যেসব কারণ কাজ করছে, সেগুলো এখনো বহাল রয়েছে। আগামী কয়েক মাসেও এসব কারণ স্বর্ণের দামকে সমর্থন দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি নোট ও বন্ডের বাইব্যাক কার্যক্রমে তারল্য সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণার পর ডলারের দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। তবে মঙ্গলবার ডলার কিছুটা শক্তিশালী হওয়ায় ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দিকে। বুধবার প্রকাশিতব্য পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার্স (পিসিই) মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের পাশাপাশি শুক্রবার বার্ষিক জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যের দিকেও নজর রাখছেন তারা। এসব তথ্য ও বক্তব্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে ফেডের পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করবেন বিনিয়োগকারীরা।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ এবং সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন ট্রেডাররা। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণে বিনিয়োগ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যে শক্তিশালী রয়েছে, তার আরেকটি চিত্র পাওয়া গেছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফে ৪৬ দশমিক ৭ মেট্রিক টন, অর্থাৎ প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। গত ১০ মাসের মধ্যে এক সপ্তাহে এটিই ছিল সর্বোচ্চ চাহিদা।

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এমন ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়াতে পারে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৪৮ দশমিক ১৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ১ হাজার ৩২৪ দশমিক ৫৬ ডলারে নেমেছে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামার মধ্যেই দেশের বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম, ডলারের বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক সুদের হার এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর সামনে স্বর্ণের বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

/আশিক


আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১০:২৯:৫১
আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন করে দর সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা হয়েছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি এখন আড়াই লাখ টাকার আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করে। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত মূল্য মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই দর বহাল থাকবে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকায় বিক্রি হবে।

তবে বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্যে একটি অসঙ্গতি রয়েছে। বিজ্ঞপ্তির শুরুতে ২২ ক্যারেটের নতুন দর ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা করার কথা বলা হলেও আপনার সরবরাহ করা নতুন মূল্যতালিকার অংশে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে, যা আসলে ২২ আগস্টের আগের দর। কারণ ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকার সঙ্গে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা যোগ করলে নতুন মূল্য দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। তাই সংবাদে নতুন ২২ ক্যারেটের দর হিসেবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা ব্যবহার করাই সংখ্যাগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সর্বশেষ সমন্বয়ের মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আবার দাম বাড়ানো হলো। গত শনিবার (২২ আগস্ট) বাজুস ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা করেছিল। সে সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

দুই দফার সমন্বয় হিসাব করলে ২২ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৭ হাজার ১১৫ টাকা বেড়েছে। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ আড়াই লাখ টাকার সীমা থেকে মাত্র ২ হাজার ২৫৭ টাকা দূরে রয়েছে। ফলে আরেকটি মাঝারি মাত্রার মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেই দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো ভালো মানের স্বর্ণের ঘোষিত ভরি আড়াই লাখ টাকা অতিক্রম করতে পারে।

চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে অস্বাভাবিক ঘনঘন দর পরিবর্তনও ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নজর কেড়েছে। বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১০৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ দফা দাম বাড়ানো, ৫১ দফা কমানো এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। তুলনায় পুরো ২০২৫ সালে ৯৩ বার দর পরিবর্তন হয়েছিল এর মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।

বাজুস আরও জানিয়েছে, ঘোষিত মূল্যের পাশাপাশি অলংকারের নকশা ও কারুকাজ অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য অলংকারের ঘোষিত বিক্রয়মূল্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে একই ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। পুরোনো গহনা বদল বা বিক্রির ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ ও পারচেজ নীতি কার্যকর থাকবে।

-রাফসান


নবম পে-স্কেলের অপেক্ষার অবসান, গেজেট নিয়ে নতুন আভাস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ২১:১১:৪৬
নবম পে-স্কেলের অপেক্ষার অবসান, গেজেট নিয়ে নতুন আভাস
ছবি : সংগৃহীত

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে এমন আভাস পাওয়ায় নতুন পে-স্কেলের প্রত্যাশায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আবারও আশার সঞ্চার হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত এসেছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে। নবম পে-স্কেলের দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে রোববার (২৩ আগস্ট) তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা। তাদের আশ্বস্ত করে মুখ্যসচিব বলেন, ‘যা দেওয়া হবে, আপনারা পেয়ে খুশি হবেন।’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের কাছে মুখ্যসচিবের এই বক্তব্যকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে জুলাইয়ে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের আলোচনা ছিল। পরে আগস্টের মধ্যেও প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনার কথা বলা হয়। তবে বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিসিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে সময়সূচি পিছিয়ে যায়।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বড় কোনো অনিশ্চয়তা নেই। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাব চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটির আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক হতে পারে। এসব বৈঠকে সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হবে। এরপর সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তবে সেপ্টেম্বর মাসে গেজেট প্রকাশ হলে নতুন বেতন কাঠামো জুলাই থেকে কার্যকর হবে কি না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হতে পারে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে কয়েক মাস দেরি হলেও কার্যকর তারিখ ১ জুলাই রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সব সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধা কার্যকর করার একটি পদ্ধতি বিবেচনায় রয়েছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে সচিব কমিটি কিছু ক্ষেত্রে এই হার পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে।

প্রচারিত খসড়া অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ মূল বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। গ্রেড-২-এ ১ লাখ ২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গ্রেড-৪-এ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা, গ্রেড-৫-এ ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং গ্রেড-৬-এ ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রস্তাব রয়েছে।

গ্রেড-৭-এ ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-৮-এ ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং গ্রেড-৯-এ ৩৯ হাজার ১০০ থেকে ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতন হতে পারে।

গ্রেড-১০-এ ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা, গ্রেড-১১-এ ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১২-এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রস্তাব রয়েছে। নিম্নতর গ্রেডগুলোতেও বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

গ্রেড-১৩ থেকে ২০ পর্যন্ত প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতন যথাক্রমে ২৪ হাজার–৫৮ হাজার, ২৩ হাজার ৫০০–৫৬ হাজার ৮০০, ২২ হাজার ৮০০–৫৫ হাজার ২০০, ২১ হাজার ৯০০–৫২ হাজার ৯০০, ২১ হাজার ৪০০–৫১ হাজার ৯০০, ২১ হাজার–৫০ হাজার ৯০০, ২০ হাজার ৫০০–৪৯ হাজার ৬০০ এবং ২০ হাজার–৪৮ হাজার ৮০০ টাকা।

মুখ্যসচিবের আশ্বাসের পর পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক বলেন, ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই সময়ে দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি দুটি পে-স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনের মহাসচিব আশিকুল ইসলাম পে-কমিশনের সুপারিশ করা তিনটি উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা বহাল রাখা, বেতন কাঠামোর বৈষম্য দূর করা এবং সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার নিচে না নামানোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতিও চেয়েছেন।

গত ১৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, অষ্টম পে-স্কেলের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখন মূল কাজ হলো অবশিষ্ট সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করা। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলেই গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

অর্থাৎ জুলাইয়ের প্রত্যাশা পেরিয়ে আগস্টও শেষের পথে। এবার সরকারি চাকরিজীবীদের চোখ সেপ্টেম্বরের দিকে। আর মুখ্যসচিবের ‘খুশি হবেন’ মন্তব্য সেই অপেক্ষায় নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গেজেট প্রকাশ হবে কি না, তা নির্ভর করবে পর্যালোচনা, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ হয় তার ওপর।

—সত্য প্রতিবেদন/আশিক


সোনা-রুপার আজকের দাম, দেখে নিন একনজরে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:৫৪:৫৬
সোনা-রুপার আজকের দাম, দেখে নিন একনজরে
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে সোনার দাম উচ্চ পর্যায়েই অবস্থান করছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, সেই দর অনুযায়ী বর্তমানে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। একই সঙ্গে রুপার বাজারেও তুলনামূলক উচ্চ দাম দেখা যাচ্ছে; ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়।

বাজুস গত ২২ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সোনা ও রুপার সংশোধিত মূল্য কার্যকর করেছে। সংগঠনটির পরবর্তী মূল্য সমন্বয় না আসা পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দরই কার্যকর থাকার কথা। ফলে নতুন করে দাম পরিবর্তনের ঘোষণা না এলে আজও ক্রেতাদের সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী সোনা ও রুপার গহনা কিনতে হবে।

বর্তমান মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম সোনার গহনার দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারিত রয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা। আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা কিনতে খরচ হবে ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা।

তুলনামূলক কম দামের সনাতন পদ্ধতির সোনাও এখন দেড় লাখ টাকার সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে। এই মানের প্রতি ভরি সোনার বর্তমান মূল্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা। ফলে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সোনার গহনা কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

সোনার পাশাপাশি রুপার গহনার দামও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। বাজুসের নির্ধারিত দর অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার মূল্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৪৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

সোনার বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দর, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং সরবরাহ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় দেশের বাজারে মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে দেশের বাজারেও নতুন করে দর সমন্বয়ের সম্ভাবনা থাকে।

ক্রেতাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গহনা কেনার চূড়ান্ত খরচ কেবল প্রতি ভরির ঘোষিত মূল্যের ওপর নির্ভর করে না। গহনার নকশা ও কারুকাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি এবং পাথর বা অন্যান্য উপাদান ব্যবহৃত হলে সংশ্লিষ্ট খরচও বিবেচনায় আসতে পারে। তাই কেনাকাটার আগে সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চূড়ান্ত মূল্য ও বিলের বিস্তারিত জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর ২২ ক্যারেটের সোনা আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি অবস্থান করায় দেশের মূল্যবান ধাতুর বাজারে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের। বাজুস নতুন কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ২২ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া দামই বহাল থাকবে।

সূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)


সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বড় অগ্রগতির খবর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২০:২৪:৩০
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বড় অগ্রগতির খবর
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বহুল প্রতীক্ষিত এ গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর অক্টোবর থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুসারে কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বর্ধিত বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া হিসেবে ধাপে ধাপে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির নির্ধারিত হার, বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনার কারণে প্রক্রিয়াটিতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লেগেছে। এ সংক্রান্ত অবশিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করে সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে গেজেট আকারে জারি করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আর্থিক সংস্থানের বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরকার ঋণ গ্রহণ করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে চূড়ান্ত বৈঠকের পর প্রতিবেদনটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগেই জানিয়েছিলেন যে, বর্তমান অর্থবছর থেকেই এটি কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে আর্থিক চাপ সহনীয় রাখতে প্রাথমিকভাবে মূল বেতন কার্যকর করে পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয় করা হতে পারে।

/আশিক


ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হলেন আশিক চৌধুরী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১১:০২:৩৩
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হলেন আশিক চৌধুরী
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বিনিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাঁকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সংস্থাটির শীর্ষ পদে তাঁর নিয়োগ যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। সরকারি আদেশে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ, নিয়োগের আইনি ভিত্তি এবং অন্যান্য পেশাগত সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রযোজ্য শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৩-এর ৮(৫) ধারা অনুসারে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, সেদিন থেকে তাঁর এক বছরের চুক্তির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

নিয়োগের অন্যতম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁকে অন্য কোনো পেশা বা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। অর্থাৎ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর পেশাগত মনোযোগ ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যক্রমেই কেন্দ্রীভূত রাখতে হবে।

তবে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধাসহ নিয়োগের অন্যান্য বিস্তারিত শর্ত প্রজ্ঞাপনে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব বিষয় পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন নেতৃত্ব এমন সময়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, যখন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যবসার প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অর্থনৈতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে নতুন নিয়োগ বিনিয়োগ পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

বিশেষ করে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নতুন চেয়ারম্যানের মেয়াদে এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেদিকেও ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে অবশ্য তাঁর এক বছরের মেয়াদে নির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা, বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা কিংবা অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের পর ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঘোষিত নীতি ও কর্মপরিকল্পনাতেই নতুন নেতৃত্বের অগ্রাধিকার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

-রফিক


দুই দিনেই ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১০:৪৯:৪৭
দুই দিনেই ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দর শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং নতুন কোনো ঘোষণা না আসায় আজ রোববারও একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে প্রতি ভরিতে দিতে হবে ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা।

নতুন মূল্য নির্ধারণের কারণ হিসেবে স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে বাজুস। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারের খাঁটি স্বর্ণের মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সার্বিক বাজার বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামাও দেশের বাজারে খাঁটি স্বর্ণের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতির মাধ্যমে প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বর্ণের মূল্যের পাশাপাশি অলংকার কেনার ক্ষেত্রে মজুরির বিষয়টিও ক্রেতাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা ও তৈরির জটিলতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত স্বর্ণমূল্যের সঙ্গে মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে ঘোষিত মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের ওপর গ্রাহকের কাছ থেকে একই ভ্যাট দ্বিতীয়বার আলাদাভাবে আদায় করার সুযোগ নেই।

সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির আগে গত ২০ আগস্টও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা করা হয়। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবার ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার সীমা অতিক্রম করেছে।

দুই দফার হিসাব করলে ২০ আগস্টের মূল্যবৃদ্ধির আগের দর থেকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে মোট ৯ হাজার ৩৩১ টাকা বেড়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন বৃদ্ধি দেশের জুয়েলারি বাজারে স্বর্ণের মূল্য কতটা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটিই তুলে ধরছে। বিশেষ করে বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য অলংকার কেনার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের ব্যয়ের ওপর এই ঊর্ধ্বগতি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে ঘন ঘন দর পরিবর্তনের প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে। বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ১০৬ বার দেশের স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৫১ দফায় কমানো হয়েছে। এ ছাড়া একবার ভ্যাট-সংক্রান্ত সমন্বয় হয়েছে। অর্থাৎ বছরের এ পর্যায় পর্যন্ত গড়ে প্রায় দুই দিনের ব্যবধানে একবার স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্য সাধারণত ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মার্কিন ডলারের গতিপ্রকৃতি, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার ও ফেডারেল রিজার্ভের নীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদার মতো একাধিক বিষয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা হলে স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাংলাদেশে বাজুসের মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের বাজারদরই ঘোষিত সিদ্ধান্তের প্রত্যক্ষ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন দর কার্যকর থাকায় আজ রোববার দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকায় বিক্রি হবে। বাজুস পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই দরই কার্যকর থাকবে।

-রফিক


সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বড় খবর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২২:০৩:১৯
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বড় খবর
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নতুন বেতনকাঠামোর অগ্রগতি এবং জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা জানান, সাধারণত বেতনকাঠামো নির্ধারণের কাজ তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে পে সার্ভিস কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর পে কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে সচিব কমিটিও তাদের মতামত পাঠিয়েছে। অন্যদিকে জুডিশিয়াল পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

এই প্রক্রিয়ার বাকি কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন বেতনকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানেই এটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সময়সীমা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিতুমীর।

মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে প্রায় ১৪ লাখ নিয়মিত সরকারি চাকরিজীবীর পাশাপাশি পেনশনভোগীসহ মোট প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বার্থ জড়িত। তবে শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে—সরকার এমন কোনো দাবি করছে না। বরং একটি যৌক্তিক ও কার্যকর বেতনকাঠামো তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের বেতনকাঠামোর সরাসরি তুলনা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা। তাঁর মতে, বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কাজের ধরন, দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহের পরিধি বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। উন্নয়ন বা বেতন বাস্তবায়নে ঋণ নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মতো রাষ্ট্রের জন্যও ঋণ নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

তবে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার, ঋণের শর্ত, পরিশোধের সময়সীমা এবং মোট ঋণ জিডিপির কত শতাংশ—এসব বিষয় বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন উপদেষ্টা।

ঋণের সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও ভুল ও বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান ব্যবহার করে উন্নয়নের প্রচার চালানো হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিতুমীর। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন শীতে পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং আগামী গ্রীষ্মে জ্বালানি খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে ২০২৯ সালের মধ্যে বড় অর্থনীতির প্রয়োজন মেটানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি সরবরাহে জটিলতার বিষয়ে উপদেষ্টা অপ্রত্যাশিত বৈশ্বিক সংকট বা ‘ফোর্স মেজারস’ এবং হরমুজ প্রণালির সংকটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সরবরাহের বিকল্প হিসেবে কাতারের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস এবং নতুন পরিবহন পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় খাদ্যের মতো জ্বালানিরও ‘বাফার মজুত’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী নভেম্বর নাগাদ দেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন ব্লকের দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ‘নো পাওয়ার, নো পে’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

/আশিক


হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ, তেল পরিবহনে বড় পরিবর্তন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৯:৫৬:৩০
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ, তেল পরিবহনে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি নৌ-করিডোর চালু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নতুন এই রুট ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার ওমানের দক্ষিণ উপকূলীয় চ্যানেল ব্যবহার করে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। সূত্রের দাবি, বর্তমানে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় অর্ধেক।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে প্রচুর জাহাজ চলাচল করছে।

তেলের দামও কমে এসেছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৩৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তার বদলে বর্তমানে দাম কমে ৮৪ থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যে রয়েছে।

ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা আরও কমতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য, মানুষ ইতোমধ্যে বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে এবং রেকর্ডসংখ্যক পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও বিপুল পরিমাণ তেল বিদেশে পাঠাতে সক্ষম হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল এখনো স্বাভাবিক গতিতে ফিরেনি। হামলার আশঙ্কায় অনেক পরিবহন সংস্থা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মাত্র ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি। গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

তবে কেপলার জানিয়েছে, নিজেদের অবস্থান শনাক্ত হওয়া এড়াতে অনেক তেলবাহী ট্যাংকার ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে। এ কারণে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের তুলনায় প্রকৃত জাহাজ চলাচলের সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল অব্যাহত আছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক তেলবাজারের নজর রয়েছে। এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের স্বাভাবিকতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

পাঠকের মতামত: