টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ২১:৪৮:১১
টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র দুই দিনে। ১২৫ ওভার বা ৭৫০ বলে শেষ হওয়া ম্যাচে দুই দলের ৩০টি উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানের জয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে ম্যাকাইয়ের উইকেটের আচরণ নিয়েই এখন বেশি আলোচনা। ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড মনে করছেন, অতিরিক্ত পেস ও অসমান বাউন্সের এমন উইকেট শক্তিশালী কোনো দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জন্যই বিপদ ডেকে আনতে পারত।

‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’ ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনার সময় ব্রড বলেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে এক ইনিংসে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরলেও তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষ করে ম্যাকাইয়ের উইকেটে বল যেভাবে নড়াচড়া ও অসমান বাউন্স করেছে, সেটিকে তিনি অস্বাভাবিক বলে মনে করেন।

ব্রডের মতে, নিজেদের খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও মানসিক শক্তিতে যদি কোনো দল প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকে, তাহলে তাদের তুলনামূলক ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা উচিত। কারণ অতিরিক্ত পেস-সহায়ক উইকেট ম্যাচের ফলকে অনিশ্চিত করে দিতে পারে। বাংলাদেশ টস জিতে প্রথমে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াই বড় বিপদে পড়তে পারত বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই ইংলিশ পেসার।

ম্যাকাই টেস্টে প্রথম দিনেই ১৮টি উইকেট পড়ে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াও ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। ২১০ রানে থামে তাদের একমাত্র ইনিংস। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯৫ রানে গুটিয়ে গেলে ইনিংস ও ৫১ রানের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মিচেল স্টার্ক। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান এই বাঁহাতি পেসার। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ দুই ইনিংসে বড় ধসের মুখে পড়ে।

এই ম্যাচটি বলের হিসেবে পুরুষদের টেস্ট ইতিহাসের যৌথভাবে চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ। মাত্র ৭৫০ বলে শেষ হওয়া এই টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও দীর্ঘদিন পর সবচেয়ে দ্রুত শেষ হওয়া টেস্টগুলোর একটি। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ সাত টেস্টের মধ্যে এটি তৃতীয় ম্যাচ, যা দুই দিনের মধ্যেই শেষ হলো।

তবে শুধু পিচ নয়, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্রড। বিশেষ করে মারনাস লাবুশেনের দীর্ঘদিনের ফর্মহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিন নম্বর পজিশনে লাবুশেনের জায়গা নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে বলে মনে করেন সাবেক এই ইংলিশ পেসার।

ব্রডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে লাবুশেনের ব্যাটিং গড় ২৫-এর নিচে। এত দীর্ঘ সময় ধরে একজন টপ-অর্ডার ব্যাটারের এমন ফর্মহীনতা অস্ট্রেলিয়ার জন্য উদ্বেগের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুই টেস্টের সিরিজে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র দুই দিনেই ম্যাচ শেষ করে সিরিজ ১-১ সমতায় ফেরায় অস্ট্রেলিয়া।

—সত্য প্রতিবেদন/আশিক


উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে কোচদের ধাক্কাধাক্কি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ২১:২৯:২৩
উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে কোচদের ধাক্কাধাক্কি
ছবি : সংগৃহীত

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের টিম হোটেলে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। দলের ইংলিশ প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স। গত বুধবার টিম হোটেলেই এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুই কোচের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে প্রধান কোচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চান। খবর পেয়ে পুলিশ টিম হোটেলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তবে কী কারণে দুই কোচের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল কিংবা পুলিশকে ঠিক কী অভিযোগ জানানো হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ঠিক আগে কোচিং স্টাফের এমন দ্বন্দ্বে দলের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম বলেন, ‘বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। আশা করি খুব শিগগির একটি সুন্দর সমাধান হয়ে যাবে।’

তবে ডেভেলপমেন্ট কমিটির অনেক সদস্যই ঘটনার বিষয়ে শুরুতে অবগত ছিলেন না। কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে কমিটির আরেক সদস্য মঞ্জুরুল করিম জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হওয়ার কথা এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আগামী ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে।

—সত্য প্রতিবেদন/আশিক


মেসির পাশে আবার ডি মারিয়া? মায়ামি নিয়ে নতুন গুঞ্জন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:০৮:৩৬
মেসির পাশে আবার ডি মারিয়া? মায়ামি নিয়ে নতুন গুঞ্জন
ছবি : সংগৃহীত

কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে রহস্য তৈরি করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল ডি মারিয়া। ৩৮ বছর বয়সেও অবসরের ঘোষণা না দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে; তবে ক্যারিয়ারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করতে চান। আর তার এই মন্তব্যের পরই সম্ভাব্য নতুন গন্তব্য হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে মেজর লিগ সকারের ইন্টার মায়ামি।

রোজারিও সেন্ট্রালের লিবার্তাদোরেস অভিযান শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে ডি মারিয়ার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। বরং তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে আর্জেন্টিনাতেই থেকে যাবেন, নতুন কোনো ক্লাবে যাবেন নাকি শেষ পর্যন্ত বুটজোড়া তুলে রাখবেন এই তিন সম্ভাবনাই আপাতত আলোচনায় রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে GOAL-এর প্রতিবেদন ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইন্টার মায়ামি। অতীতেও ডি মারিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির নাম জড়িয়েছিল। তাকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো চুক্তি হয়নি। এবার ২০২৭ মৌসুম সামনে রেখে সেই সম্ভাবনাই আবার ফুটবল মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ডি মারিয়া বা ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে নতুন কোনো চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

ডি মারিয়ার মায়ামিতে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এত আগ্রহের বড় কারণ অবশ্যই Lionel Messi। দীর্ঘদিন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে খেলার সুবাদে মেসি ও Ángel Di María শুধু ঘনিষ্ঠ বন্ধুই নন, মাঠেও তাদের বোঝাপড়া আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক স্বর্ণযুগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। ডি মারিয়া যদি এমএলএসে পাড়ি জমান, তাহলে জাতীয় দলের সাবেক দুই সতীর্থকে আবার একই ক্লাবের জার্সিতে দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই দুই তারকার যৌথ সাফল্যের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার স্বর্ণপদক জয়ের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন দুজন। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে ডি মারিয়ার গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়েছিল। সেই সাফল্যের বহু বছর পর সিনিয়র জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালগুলোতে বারবার মেসির পাশে ম্যাচ নির্ধারক হয়ে ওঠেন ডি মারিয়া।

সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ডি মারিয়ার দুর্দান্ত লব করা গোলেই আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে জয় পায়। দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার পর বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা, একই সঙ্গে মেসির সিনিয়র আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বড় ট্রফিও আসে সেই রাতে।

পরের বছর ওয়েম্বলিতে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জয়ের পথেও ডি মারিয়া গোল করেন। এরপর আসে আর্জেন্টিনা ফুটবলের বহু প্রতীক্ষিত কাতার বিশ্বকাপ। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেন ডি মারিয়া। পেনাল্টি আদায়ের পর নিজেও গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। নাটকীয় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিতে ৩৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা ছিল জাতীয় দলের হয়ে ডি মারিয়ার শেষ অধ্যায়। কলম্বিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। ফলে মেসি-ডি মারিয়া জুটিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবার দেখার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেলেও ক্লাব ফুটবলে পুনর্মিলনের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

তবে ইন্টার মায়ামির সম্ভাবনাকে এখনই নিশ্চিত দলবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একজন ৩৮ বছর বয়সী খেলোয়াড়কে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার শারীরিক অবস্থা, চুক্তির মেয়াদ, বেতন কাঠামো, এমএলএসের রোস্টার বিধি এবং ইন্টার মায়ামির ২০২৭ সালের দল পরিকল্পনা সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একইভাবে রোজারিও সেন্ট্রালে থেকে ক্যারিয়ার শেষ করার আবেগও ডি মারিয়ার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ডি মারিয়ার ক্যারিয়ারের সঙ্গে রোজারিও সেন্ট্রালের সম্পর্ক বিশেষ আবেগের। এখান থেকেই পেশাদার ফুটবলে উঠে এসে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। পরে বেনফিকা, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, প্যারিস সেন্ট জার্মেই, জুভেন্টাসের মতো ইউরোপের বড় ক্লাবে খেলার পর আবার বেনফিকায় ফেরেন। শেষ পর্যন্ত শৈশবের ক্লাব রোজারিওতে ফিরে আসা তার ক্যারিয়ারের বৃত্ত পূরণের মতোই ছিল।

এখন তাই ডি মারিয়ার সামনে দুটি আবেগঘন সম্ভাবনা শৈশবের ক্লাবে থেকেই ফুটবলকে বিদায় জানানো, অথবা আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে পুরোনো বন্ধু মেসির সঙ্গে নতুন গল্প লেখা। তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ইন্টার মায়ামি সেই গল্পের গন্তব্য হবে কি না, সেটিই আগামী দলবদলের বাজারে অন্যতম আকর্ষণীয় প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।

-রাফসান


ট্রেডমার্ক লুক বদলে নতুন চেহারায় হাজির ম্যানচেস্টার সিটির তারকা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২১:২৬:০২
ট্রেডমার্ক লুক বদলে নতুন চেহারায় হাজির ম্যানচেস্টার সিটির তারকা
ছবি : সংগৃহীত

ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘ভাইকিং’ লুক বদলে একেবারে নতুন বেশে হাজির হয়েছেন। নতুন মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে নিজের ট্রেডমার্ক লম্বা স্বর্ণালি চুল কেটে ছোট ‘বাজ কাট’ স্টাইলে রূপ দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নতুন হেয়ারস্টাইলের একটি ভিডিও পোস্ট করেন হালান্ড। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কখনো পনিটেল, কখনো খোলা চুলে মাঠে নামা হালান্ডের অন্যতম পরিচয় হয়ে উঠেছিল তাঁর লম্বা চুল। হঠাৎ এই পরিবর্তনের ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে বেশ আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এর আগে সাবেক সুইডিশ তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাঁকে চুল না কাটার পরামর্শ দিলেও নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে সেই পথ থেকে সরে এসেছেন এই তারকা। গত সপ্তাহে কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচেও লম্বা চুলে দেখা গেলেও প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে একেবারে নতুন লুকেই ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাঠে নামবেন হালান্ড।

/আশিক


ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর: ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২০:০৫:০৯
ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর: ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত
ছবি : সংগৃহীত

কলকাতা থেকে ব্রাজিলে ফেরার পথে হঠাৎ ঢাকায় এসে পৌঁছায় ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তারা সরাসরি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গিয়ে মাঠ ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন।

আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল দল। সেই ম্যাচের প্রস্তুতি ও ভেন্যু দেখার পর দেশে ফেরার ট্রানজিটের সময় তারা ঢাকার মাঠে প্রবেশ করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মাঠের ঘাস, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি, ডাগআউট ও মিডিয়া বক্সসহ পুরো স্টেডিয়ামের প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। পরিদর্শন শেষে ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশে ম্যাচ খেলা কিংবা বাংলাদেশ জাতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামার বিষয়ে ব্রাজিল প্রতিনিধিরা ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মাঠের সার্বিক অবস্থা নিয়ে তারা নিজেদের ফেডারেশনে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবেন এবং অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত হলে পুনরায় আসার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সন্ধ্যায় বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে ৩০ সেপ্টেম্বর বা ১ অক্টোবর ঢাকায় অনুশীলন-বিরতি নেওয়া যায় কি না—সে সংক্রান্ত প্রাথমিক বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সরাসরি বাংলাদেশের মাটিতে খেলা দেখার স্বপ্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের এই আকস্মিক সফর ও আনুষ্ঠানিক আগ্রহ সেই প্রত্যাশাকে কিছুটা উসকে দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাফুফের মাঠ প্রস্তুতি ও ব্রাজিলিয়ান ফেডারেশনের পরবর্তী মূল্যায়নের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।

/আশিক


তিন ইনিংসেই স্টার্কের শিকার: দুঃস্বপ্নের অস্ট্রেলিয়া সফর লিটনের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৯:০৬:৪৫
তিন ইনিংসেই স্টার্কের শিকার: দুঃস্বপ্নের অস্ট্রেলিয়া সফর লিটনের
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়েই অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় টাইগাররা। তবে সিরিজের শেষটা বাংলাদেশের জন্য সুখকর হয়নি। ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে লাল-সবুজের দল।

সিরিজের সমাপ্তি পরাজয়ে হলেও সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে খালি হাতে দেশে ফিরছে না বাংলাদেশ। তবে এই ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফরটি ব্যক্তিগতভাবে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের জন্য চরম এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সফরের দুই টেস্ট মিলিয়ে তিনটি ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েও কোনো রান যোগ করতে পারেননি তিনি।

ইনজুরির কারণে সফরের শুরু থেকেই লিটনের অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কাফ মাসলের চোটের কারণে শুরুতে তিনি প্রথম টেস্টের মূল স্কোয়াডে জায়গা পাননি। পরবর্তীতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় নাটকীয় উন্নতি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

টেস্ট ফরম্যাটে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় লিটনকে ঘিরে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। অতীতে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে বহুবার দলের পরিত্রাতা হয়ে ইনিংস সামলেছেন তিনি।

তবে প্রত্যাশার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়েন লিটন। দুই টেস্টের তিন ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে তিনি উপহার দিয়েছেন টানা তিনটি শূন্য রানের ইনিংস। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনটি ইনিংসেই তাকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন অজি বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক, যা এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের জন্য রীতিমতো এক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল।

/আশিক


টেস্টের প্রথম দিন শেষে লড়াইয়ে ফেরার প্রত্যয় বাংলাদেশি পেসারের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২০:৩৪:১৭
টেস্টের প্রথম দিন শেষে লড়াইয়ে ফেরার প্রত্যয় বাংলাদেশি পেসারের
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চলমান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে অবিস্মরণীয় জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টের শুরুতেই বড় ধরনের ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথম দিনেই মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। জবাবে প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৬৫ রান, যার ফলে স্বাগতিকরা ইতোমধ্যে ১০১ রানের লিড নিশ্চিত করেছে।

ব্যাট হাতে দল ব্যর্থ হলেও বল হাতে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছেন তারকা পেসার শরীফুল ইসলাম। প্রথম দিনের খেলা শেষে তিনি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানান, টেস্ট ম্যাচ এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং দলীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন তারা।

ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর ঐতিহাসিক ম্যাচে একাদশে ছিলেন না শরীফুল। দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পেয়েই বল হাতে অনন্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে তিনি জানান, ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো টেস্টের এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট লাভ করার অনুভূতি সত্যিই দুর্দান্ত এবং এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মিচেল স্টার্ক ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে চেপে ধরেন। পরবর্তীতে বল হাতে মাঠে নেমে স্টার্কের মতোই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সমান ৬টি উইকেট তুলে নেন শরীফুল ইসলাম। স্টার্কের সমান উইকেট শিকারের এই সমীকরণ বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে উল্লেখ করে শরীফুল বলেন, স্টার্কের মতো বিশ্বমানের বোলারের সমান উইকেট অর্জন তার কাছে বেশ ভালো লাগার একটি বিষয়।

সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে বর্তমানে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার অনুকূলে থাকলেও শরীফুলের আগুনে স্পেলে প্রাপ্ত ৬ উইকেটের সুবাদে লড়াইয়ের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি জিইয়ে রেখেছে বাংলাদেশ দল।

/আশিক


আন্তর্জাতিক ফুটবলে দারুণ সুযোগ: বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৯:১৪:৪৪
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দারুণ সুযোগ: বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তে তৈরি হওয়া সুযোগ পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগিয়ে বড় মঞ্চে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ায় আয়োজিতব্য ফিফা আসিয়ান কাপের ডিভিশন-১-এ অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র লাভ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আসরটি থেকে ভারত নাম প্রত্যাহার করায় তাদের খালি জায়গাতেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের এই অন্তর্ভুক্তি চূড়ান্ত হলো।

ভারত এই টুর্নামেন্টে না খেলার সিদ্ধান্ত জানানোর পরপরই সেখানে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ। তবে বিষয়টির চূড়ান্ত রূপ পেতে ফিফার অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা ছিল। ফিফার পক্ষ থেকে ইতিবাচক সংকেত আসার পর শনিবার (২২ আগস্ট) বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফিফার সম্পূর্ণ অর্থায়নে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে আসিয়ান কাপের ডিভিশন-১ অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের বিন্যাস অনুযায়ী মোট আটটি দলকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। ভারতের পরিবর্তে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে ‘এ’ গ্রুপে, যেখানে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর।

আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো বাংলাদেশের ফুটবল দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সুযোগ তৈরি করেছে। নতুন এই ফরম্যাটে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলই ন্যূনতম চারটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের পর পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে দলগুলো পরবর্তী ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল লড়বে ফাইনাল ট্রফির জন্য, রানার্সআপ দলগুলো নামবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এবং পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলো যথাক্রমে পঞ্চম ও সপ্তম স্থানের প্লে-অফ ম্যাচে অংশ নেবে।

আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বাফুফের জন্য সুবিধাজনক, কারণ দলগুলোর যাবতীয় যাতায়াত ও আবাসন খরচ আয়োজক কর্তৃপক্ষই বহন করবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য নির্ধারিত আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থাও থাকছে।

আসলে ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ নির্ধারিত থাকায় আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তাদের এই সরে যাওয়ার ফলেই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে টুর্নামেন্টে খেলার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়।

নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে নিজেদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এই প্রতিযোগিতাকে দারুণ এক সুযোগ হিসেবে দেখছে দেশের ফুটবল প্রশাসন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা মূল প্রতিযোগিতার আগে দলের সক্ষমতা ও কৌশল যাচাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

/আশিক


মারাকানাকে ঘিরে বিশ্বকাপের বিরল রেকর্ড, সামনে নতুন অধ্যায়

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২১:৩০:২৯
মারাকানাকে ঘিরে বিশ্বকাপের বিরল রেকর্ড, সামনে নতুন অধ্যায়
ছবি : সংগৃহীত

এক যুগ আগে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। প্রায় ১৩ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আয়োজক হতে যাচ্ছে এই স্টেডিয়াম। ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ও ফাইনাল—দুটিই অনুষ্ঠিত হবে মারাকানায়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ৩২ দলের এই বিশ্বকাপের অগ্রিম সূচি প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুন মারাকানা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ব্রাজিলের ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে। দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম নারী বিশ্বকাপ।

প্রায় এক মাসের প্রতিযোগিতা শেষে আগামী ২৫ জুলাই একই স্টেডিয়ামে হবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল। অর্থাৎ টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ—দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক মারাকানায়।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসও দীর্ঘদিনের। ১৯৫০ সালের পুরুষ বিশ্বকাপের ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের পরাজয়ের সাক্ষী ছিল মারাকানা। এবার সেই একই মাঠে নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ফিফা জানিয়েছে, ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের আট আয়োজক শহরের প্রতিটিতে অন্তত সাতটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি শহরেই অন্তত একটি নকআউট ম্যাচ রাখা হয়েছে। ব্রাসিলিয়া, পোর্তো আলেগ্রে, রেসিফি ও সালভাদরে শেষ ষোলো পর্যন্ত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর কোয়ার্টার-ফাইনালের ম্যাচ হবে বেলো হরিজন্তে, ফোর্তালেজা, রিও ডি জেনেইরো ও সাও পাওলোতে। সেমিফাইনালের আয়োজক শহর হিসেবে থাকছে রিও ডি জেনেইরো ও সাও পাওলো।

সূচি প্রকাশের মধ্য দিয়ে মারাকানা আরও একটি বিরল কীর্তির অংশ হতে যাচ্ছে। পুরুষ ও নারী—দুই ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করা তৃতীয় স্টেডিয়াম হবে এটি। এর আগে সুইডেনের রাসুন্দা স্টেডিয়াম এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাসাডেনার রোজ বোল এই কীর্তি অর্জন করেছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের আবেগ, রং ও উচ্ছ্বাসের কথা ভাবলেই তিনি রোমাঞ্চিত হন। তাঁর মতে, আটটি আয়োজক শহর তাদের বৈচিত্র্যের মাধ্যমে বিশ্বকাপকে আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তুলবে।

ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিন পেলেগ্রিনোও মনে করেন, গ্যালারির উচ্ছ্বাসের প্রভাব মাঠের খেলায় পড়বে। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়েরা সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া সেই শক্তি অনুভব করবেন এবং মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তা ফিরিয়ে দেবেন। এতে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা অনুপ্রাণিত হবেন বলেও তিনি মনে করেন।

২০২৭ নারী বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি চলতি বছরের শেষ দিকে প্রকাশ করা হবে।

/আশিক


বিপিএল নিয়ে সব ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল বিসিবি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২১:১৫:৫৫
বিপিএল নিয়ে সব ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল বিসিবি
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১৩তম আসর আয়োজন নিয়ে চলমান আলোচনা ও ধোঁয়াশার অবসান ঘটেছে। চলতি বছরে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। দায়িত্ব নেওয়ার পর লোকসান ও নানা জটিলতার কারণে জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল আয়োজন না করার যে অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন, সেটিই বহাল রেখেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে ‘গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি’র আনুষ্ঠানিক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি।

সাংবাদিকদের তামিম ইকবাল বলেন, চলতি বছর বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি রূপরেখা ও ফর্মুলা নিয়ে বোর্ড কাজ করছে। পরিকল্পনার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হবে। নতুন এই পরিকল্পনা আগের চেয়ে ভিন্ন এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে ২০১৪ সালে এবং করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালে বিপিএল আয়োজন করা হয়নি। এবার টুর্নামেন্ট না হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক, আর্থিক ও নীতিগত বিভিন্ন জটিলতার কথা তুলে ধরেছেন বিসিবি সভাপতি।

তামিম ইকবাল জানান, বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর বোর্ডের নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করাই ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির গাফিলতি এবং এতে বিসিবির আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, বিপিএল বারবার সংকটে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো নিয়ম-নীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের শিথিলতা। রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজির স্থায়িত্ব ও নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজশাহী তাদের বকেয়া পরিশোধ করলেও সার্বিকভাবে নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে জানান তিনি।

লোকসান করে বিপিএল আয়োজনের বিপক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তামিম ইকবাল বলেন, কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট চলাকালে সরে গেলে বা নিয়ম ভঙ্গ করলে এর আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত বিসিবির ওপর পড়ে। গত দুই বছরে এভাবে বোর্ডের প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক একটি টুর্নামেন্ট থেকে বোর্ডের লাভ হওয়ার কথা থাকলেও কেন সেখানে ক্ষতি হবে?

তিনি বলেন, এসব মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে বিপিএল আয়োজন করা যুক্তিসঙ্গত হবে না।

তবে বিপিএল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বিসিবির নেই বলে জানিয়েছেন তামিম। তাঁর ভাষ্য, টুর্নামেন্টটি চালুর বিষয়ে বোর্ডের সদিচ্ছা রয়েছে। তবে দ্রুত আয়োজনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ছয় মাস বা এক বছর সময় নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে খেলাপি ও নিয়ম ভঙ্গকারী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান বিসিবি সভাপতি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: