মার্কিন হামলার পর বৈশ্বিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৮:১৪:৫৮
মার্কিন হামলার পর বৈশ্বিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশকে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা ও অস্ত্র অর্জনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই।

তার দাবি, মার্কিন প্রশাসনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক পারমাণবিক অস্থিতিশীলতা ও সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আক্রমণ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শনিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনের বরাতে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস এই তথ্য প্রচার করে। মোহসেন রেজাই আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য থাকা কিংবা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) মেনে চলার মতো পদক্ষেপগুলোও কোনো সার্বভৌম দেশকে মার্কিন আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ তোলেন ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে তারা।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে রেজাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানকে তাদের সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতি ও বৈদেশিক কূটনৈতিক কৌশল নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তেহরানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ধরন ও কূটনৈতিক নীতিতেও বড় ধরনের সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


গুহাবাড়ির কঠিন লড়াই থেকে লাল চীনের মসনদ: শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার রূপকথা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৯:১৭:৫০
গুহাবাড়ির কঠিন লড়াই থেকে লাল চীনের মসনদ: শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার রূপকথা
ছবি : সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় ১৪ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন শি জিনপিং। এই সময়ে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনের শক্ত অবস্থান তৈরিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তবে ৭৩ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী নেতার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন সবসময় এতটা মসৃণ ছিল না। একসময় তিনি ছিলেন চীনের ক্ষমতাসীন রাজ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, যা তাকে 'রাজপুত্র' উপাধি দিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এক পর্যায়ে পরিবারের প্রায় সব সুবিধাই হারাতে হয়েছিল তাকে।

১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন শি জিনপিং। তার বাবা শি ঝংজুন ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম প্রথম সারির নেতা ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী। শৈশবে নামকরা স্কুলে পড়াশোনা এবং বিশেষ কিছু সুবিধা পেলেও ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে বদলে যায় পরিস্থিতি। শি ঝংজুনকে 'দলবিরোধী' চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করে গ্রামাঞ্চলের কারখানায় পাঠানো হয় এবং দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বাবার পতনের প্রভাবে কিশোর শি জিনপিংকেও 'প্রতিবিপ্লবী' সন্তান হিসেবে পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। মাও জেদংয়ের আহ্বানে শহরের লাখো তরুণের মতো ১৫ বছর বয়সে শি-কেও গ্রামে চলে যেতে হয়। শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামের একটি গুহাবাড়িতে টানা সাত বছর কাটান তিনি। এই কঠিন সময়ে কৃষিকাজ, সার বহন ও নালা খননের মতো তীব্র শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে, যা তাকে বাস্তবিক জীবনবোধ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়।

২২ বছর বয়সে গ্রাম ছেড়ে বেইজিংয়ের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিংহুয়া বিশ্বিবদ্যালয়ে রাসায়নিক প্রকৌশলে ভর্তি হন শি। পড়ালেখা শেষে ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন, যা পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হয়। মাও জেদংয়ের মৃত্যুর পর তার বাবা রাজনৈতিক পুনর্বাসন পেলে বাবার পুরোনো যোগাযোগও শি-র রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে গতি আনে। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৯ সালে সাবেক চীনা রাষ্ট্রদূতের মেয়ে কে লিংলিংকে বিয়ে করলেও তিন বছর পর তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তিনি খ্যাতনামা সামরিক লোকসংগীত শিল্পী পেং লিউয়ানকে বিয়ে করেন। ১৯৯২ সালে জন্ম নেওয়া তাঁদের একমাত্র কন্যা শি মিংজে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্বিবদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়।

২০০৭ সালে সাংহাইয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব সামলানোর পর শি জিনপিং চীনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করে নেন। এরপর ২০১২ সালে হু জিনতাওয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মেয়াদে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিশ্চিত করেছে চীন।

একই সময়ে হংকং, শিনজিয়াং ও তিব্বতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ‘শি জিনপিং চিন্তাধারা’ নামে নতুন রাজনৈতিক মতাদর্শ সংবিধানে যুক্ত করেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় তার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ভারতের নরেন্দ্র মোদীর মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনা করছেন কিশোর বয়সে কঠিন বাস্তবতা পার করে উঠে আসা এই লৌহমানব।

/আশিক


তিন বছর ধরে জ্বলছে গাজা: ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে শোক ও অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৮:৩৬:০৭
তিন বছর ধরে জ্বলছে গাজা: ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে শোক ও অস্থিরতা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে ইসরাইলজুড়ে নানা স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এই দিনটিতে নিহতদের স্মরণে বুধবার দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রার্থনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, তিন বছর আগের ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী সেই ঘটনার পরই গাজায় পূর্ণ মাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তবুও উপত্যকাটিতে হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় আরও ১,৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইসরাইল তাদের এসব পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে দাবি করে আসছে, হামলার মূল লক্ষ্য কেবল হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও সশস্ত্র যোদ্ধাদের পরাস্ত করা।

হামলার তিন বছর পূর্তিতে ইসরাইলের বিভিন্ন শহর এবং যেসব এলাকা সরাসরি আক্রান্ত হয়েছিল, সেখানে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিশেষ করে কিবুতজ কাফার আজা এলাকায় নিহতদের স্মরণে নিস্তব্ধতা পালন ও বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অনেক বাসিন্দা আজও নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেননি। এছাড়া যে নোভা সংগীত উৎসবে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিলেন, সেখানে জড়ো হয়ে স্বজনেরা তাঁদের প্রিয়জনদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানান।

তিন বছর আগে শুরু হওয়া এই সহিংসতা ও যুদ্ধ গাজা এবং ইসরাইল অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় এক সুদূরপ্রসারী ও গভীর প্রভাব ফেলে চলেছে। বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এসব কর্মসূচি একদিকে যেমন ইসরাইলে নিহত ও জিম্মিদের স্মৃতিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে পুরো অঞ্চলের অস্থিতিশীল বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।

/আশিক


নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: মহাকাশ স্টেশন নাকি ট্রাম্প, আলোচনায় যাদের নাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৭:৫২:১৬
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: মহাকাশ স্টেশন নাকি ট্রাম্প, আলোচনায় যাদের নাম
ছবি : সংগৃহীত

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতুহল ও আলোচনা তীব্র হচ্ছে। সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় এবার অন্যতম বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) নাম। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বেশ কয়েকটি পূর্বাভাসদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষক এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জাতীয় স্বার্থের সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যে বিভিন্ন দেশের যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত এই মহাকাশ স্টেশনকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি অনন্য প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নোবেল কমিটির পূর্বাভাসদাতা হাকন গেরলোভের মতে, আইএসএস-কে পুরস্কৃত করা হলে তা বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক ঐক্যের জন্য একটি ব্যতিক্রমী এবং জোরালো বার্তা পাঠাবে।

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। যার মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা রয়েছে। সম্ভাব্য বিশ্বনেতাদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য আলোচনায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প একাধিকবার শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা তাকে মনোনীত করার দাবি করলেও, নোবেল কমিটি সাধারণত ব্যক্তিগত মনোনয়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে না। বৈশ্বিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত ইস্যুতে ট্রাম্পকে ঘিরে নানান বিতর্ক বিদ্যমান থাকায় তার সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই তালিকায় অন্যতম নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাইরে বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ, মানবিক সংকট ও অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত বেশ কয়েকটি সংস্থাও জোর আলোচনায় রয়েছে। সুদান, ইউক্রেন ও গাজা সংকট মোকাবিলায় বিশেষ অবদানের জন্য সুদানের জরুরি ত্রাণকর্মীদের নেটওয়ার্ক, ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মিকোলা কুলেবা এবং আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংগঠন 'সেভ দ্য চিলড্রেন'-এর নাম তালিকায় এসেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা সংগঠন 'কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস' (সিপিজে) এবং দুটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক আদালতের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে যখন সামরিক উত্তেজনা ও সহিংস সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন মানবিক কাজ ও আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনকে উৎসাহিত করতে এ বছরের শান্তি পুরস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। নরওয়ের অসলোতে আগামী ৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। ৯ অক্টোবরের সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়েই অবসান ঘটবে বিশ্বজুড়ে চলা সমস্ত জল্পনা-কল্পনার।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২১:৫৭:৪০
হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখালে তার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা জবাব দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক আক্রমণের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত ও প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও কঠোর, যা প্রতিপক্ষের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। বিশেষ করে 'কুহ-ই কোলাং' বা 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' অঞ্চলে কোনো আক্রমণের চেষ্টা করা হলে তার সমুচিত জবাব দিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যেই শত্রুদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ও স্পর্শকাতর স্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চূড়ান্ত করে রেখেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তার নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র, আধুনিক ড্রোন, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌ ও স্থলভাগের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বাড়িয়েছে। বর্তমানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পার্টনার নেটওয়ার্কের আওতায় এক হাজারের বেশি সামরিক উপকরণ ও সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে, যেখানে কিছু বিশেষ প্রযুক্তির অস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা পূর্বের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি অর্জিত হয়েছে।

এ ছাড়াও মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরে তালায়ি-নিক জানান, চলমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি, চুক্তি ও পরামর্শ মূলক লেনদেন বিন্দুমাত্র কমেনি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরও বেশি জোরদার ও সুসংহত হয়েছে। ইসরায়েল মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (CENTCOM) সহায়তায় নতুন করে ইরানে আগ্রাসনের পরিকল্পনা করছে—এমন সংবাদ প্রকাশের পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর সতর্কবার্তা ও সক্ষমতার তথ্য সামনে আনা হলো।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল, সাথে থাকছে মার্কিন বাহিনী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২১:১৮:০২
ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল, সাথে থাকছে মার্কিন বাহিনী
ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: আইডিএফ

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা শঙ্কাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কিংবা এককভাবে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। সোমবার (০৫ অক্টোবর) দেশীয় একাধিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই কৌশলগত প্রস্তুতির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি দৈনিক ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী বা তাদের সমর্থিত রাজনৈতিক অক্ষ থেকে সম্ভাব্য আক্রমণের পাল্টা জবাব দেওয়া কিংবা পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম (Preemptive) বিমান হামলা চালানোর লক্ষ্যেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) তাদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাতে জানানো হয়েছে যে, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে বড় ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাত বা বিমান হামলায় জড়ানোর সম্ভাবনা কিছুটা কম।

একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সামরিক সংকট মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলে অতিরিক্ত মার্কিন সৈন্য ও সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘ওয়াল্লা’। বর্তমানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিতে ইসরায়েলে প্রায় তিন হাজার মার্কিন সৈন্য সক্রিয় রয়েছে এবং তারা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) সাথে যৌথভাবে কাজ করছে।

অন্যদিকে এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান সংঘাত এড়িয়ে একটি ন্যায়সংগত সমঝোতায় পৌঁছাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৭টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠায় ইরান। তবে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, তেহরানের দেওয়া শর্তাবলি ওয়াশিংটনের নিকট গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


সৌদি আরবের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৯:৪৬:৫০
সৌদি আরবের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। একই সাথে হামলায় বিমানবন্দর দুটির গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার জাজান প্রদেশের কিং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নাজরান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জিএসিএ যৌথভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সৌদি বিবৃতির কড়া পর্যালোচনায় কোনো গোষ্ঠীর নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও, ইয়েমেনের সানাভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। হুতিদের দাবি, তারা সৌদি আরবের জাজান ও নাজরানের কৌশলগত কেন্দ্র ছাড়াও রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা বিমানবন্দর, রাবিগে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান আরামকো এবং একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের এই ধারাবাহিক হামলা ও সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও বেসামরিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং রিয়াদ তার সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন ও ইরানি উত্তেজনার মাঝে রিয়াদে নতুন কূটনৈতিক সেশন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৯:৪২:৫৩
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন ও ইরানি উত্তেজনার মাঝে রিয়াদে নতুন কূটনৈতিক সেশন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চরম নিরাপত্তা সংকট ও ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরে সৌদি আরব পৌঁছেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও নিরাপত্তা বৈঠকে অংশ নিতেই সরকারি এই সফরে রিয়াদে উপস্থিত হয়েছেন তিনি।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা-র বরাতে জানা গেছে, রাজধানী রিয়াদে পৌঁছে প্রেসিডেন্ট আল-শারা সৌদি যুবরাজের সাথে আনুষ্ঠানিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সিরিয়া-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আধুনিকায়ন এবং সার্বিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট আল-শারার এই সৌদি সফরের সময়কাল অত্যন্ত কৌশলগত ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন ও সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বিশেষ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত যৌথ সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশেষ করে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উদ্ভুত সংকটে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার অক্ষ হিসেবে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এই পরিবর্তিত ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে রিয়াদে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠককে অত্র অঞ্চলের নতুন নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের অন্যতম কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আল জাজিরা


তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও গঙ্গা চুক্তি নিয়ে মোদিকে তথ্য দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৮:২৯:০৩
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও গঙ্গা চুক্তি নিয়ে মোদিকে তথ্য দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী
ছবি: বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এক জরুরি ও অনির্ধারিত সফরে নয়াদিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক একটার দিকে সাউথ ব্লকে দুই নেতার মাঝে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নতুন সরকারের রূপরেখা, আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ঢাকার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করতেই হাইকমিশনারের এই হঠাৎ সফর। গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছান তিনি। তবে কূটনৈতিক কৌশলগত কারণে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন কিংবা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

পেশাদার কূটনীতিকের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক নিয়োগ হিসেবে গত এপ্রিলে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকার সাথে নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক, সীমান্ত ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিষয়ে তিনি জানান, সফরটি অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে, তবে এর কার্যকর প্রস্তুতির জন্য উভয় পক্ষকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া উচিত।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে ঢাকা-নয়াদিল্লির একাধিক অমীমাংসিত ইস্যু ঝুলে রয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া, দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার ৩০ বছর মেয়াদী পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গ এতে প্রধান হিসেবে উঠে এসেছে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর ঢাকার এক অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার ত্রিবেদী মন্তব্য করেছিলেন, অমীমাংসিত সংবেদনশীল বিষয়গুলো রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়; বরং নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা এবং পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ওপর ভিত্তি করেই এগোতে হবে।

/আশিক


আমরা আজ আরও শক্তিশালী: ভিডিও প্রকাশ করে মাখোঁর কড়া বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৮:০৮:৩৭
আমরা আজ আরও শক্তিশালী: ভিডিও প্রকাশ করে মাখোঁর কড়া বার্তা
ফরাসি নৌবাহিনীর এম৫১ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পরীক্ষার দৃশ্য। পুরোনো ছবি: গেটি ইমেজেস

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহেই নিজেদের নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'এম৫১.৩' (M51.3)-এর সফল প্রথম পরীক্ষা চালিয়েছে ফ্রান্স। পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অননাস্রিক বা অ-পারমাণবিক অস্ত্রবাহী এই এম৫১.৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশের বির্টানি (Brittany) উপকূলীয় অঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। সম্প্রতি বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন শেষে ফরাসি নৌবাহিনীর পারমাণবিক সাবমেরিন 'লে ভিজিলঁ' (Le Vigilant) সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের উপযোগী কি না, তা যাচাই করতেই এই সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে অনুসরণ করে চালোনো এই পরীক্ষায় কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড রাখা হয়নি।

বিবৃতিতে কৌশলগত কারণে রাশিয়ার নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি মস্কোর উদ্দেশ্যে এক স্পষ্ট বার্তা। সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী রুশ ছিটমহল 'কালিনিনগ্রাদ' নিয়ে পশ্চিমাদের সতর্ক করে দেন এবং প্রয়োজনে কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। তবে ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো সামরিক কার্যক্রমই রাশিয়ার ভূখণ্ডের জন্য হুমকি নয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক মাধ্যম এক্সে উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রকাশ করে দৃঢ়ভাবে জানান, আজ ফ্রান্স সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী এবং যার কাছে এই বার্তা পৌঁছানো প্রয়োজন, সেখানে তা স্পষ্ট ও জোরালোভাবে পৌঁছানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের অধিকারী ফ্রান্স বার্ষিক প্রায় ৫৬০ কোটি ইউরো ব্যয় করে তাদের ২৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি আধুনিকায়ন করছে। ফ্রান্সের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি তাদের চারটি ব্যালিস্টিক সাবমেরিন। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই এম৫১.৩ সংস্করণটির সুনির্দিষ্ট পাল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে অপ্রকাশিত থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে এটি প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার বা তারও বেশি দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।

সূত্র : রয়টার্স

পাঠকের মতামত: