লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২১:২৩:১৪
লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে চলমান তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জাতীয় সংসদে দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে বর্তমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের দেড় দশকের ভুল ও অপরিকল্পিত নীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের করা এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারা দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে লুকোচুরি করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম অভাবে সীমাহীন কষ্টে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজের মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিপর্যয় এক দিনে ঘটেনি; বিগত দেড় দশক ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতিমালার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে আজ সাধারণ মানুষকে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংকটের গভীরতা তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। বিগত সরকার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা গড়ে তুললেও প্রয়োজনীয় জ্বালানির বন্দোবস্ত করতে পারেনি। বর্তমানে দেশে ১২ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে প্রতিদিন ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও দেশীয় উত্তোলন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে সেই চাহিদামতো জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে রাখতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে মাতারবাড়ীর আরেকটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির শর্ত মোতাবেক ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার কথা থাকলেও দিনের বেলায় মাত্র ৯০০ এবং রাতে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) বিপর্যয় ঘটায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ভেঙে পড়েছিল, যা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৫ আগস্ট সচল করা সম্ভব হয়েছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাধ্য হয়ে সরকারকে এখন অতিব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখতে হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার এসব বেসরকারি উৎপাদনকারীর কাছে প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশাল দেনা রেখে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সংকট সামাল দিতে দ্রুত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যাতে কেন্দ্রগুলো জ্বালানি আমদানি সচল রাখতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির আশা প্রকাশ করে তিনি রাত ৮টার পর শপিংমল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে মানার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাসাবাড়ি বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পর নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা যাবে। এই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে নেবে।

একইসঙ্গে দেশে সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরঞ্জাম আমদানিতে বড় ধরনের কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এখন থেকে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারিসহ সংশ্লিষ্ট সামগ্রী আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিতে হবে এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বিশেষ সুবিধা বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও আগামী ছয় মাস পর্যন্ত পাবেন। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই নীতির ফলে সৌর খাতে দ্রুত ব্যাপক বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে এবং আগামী গ্রীষ্মে নাগরিকদের আর এমন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সইতে হবে না।

/আশিক


প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ২০:৪৬:৪৭
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার সেবার মান উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাঁদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার। রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এই ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে, যাতে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সার্বিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রতিটি নাগরিক ও সরকারের দায়িত্ব। অতীত সরকারের ঘাটতিগুলো কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি সরকারি নানা প্রতিষ্ঠান ও আদালতগুলোতে সাংকেতিক ভাষা (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্ত করার ওপর জোর দেন। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষায় দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং নারী প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় সমাজকল্যাণ, আইন ও নারী মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে সঠিক তথ্য সংগ্রহের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং সরকারি চাকরিতে তাঁদের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। এ ছাড়া শহরের গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা, ‘পিংক বাস’ পরিষেবার উন্নয়ন এবং প্রবেশগম্যতা না থাকলে কোনো নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার মতো কঠোর নীতি অনুসরণের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ এবং জাতীয় সংসদে তাঁদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সাংবিধানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সুসংহত করার বিষয়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিপিকেএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের পরিচালনায় দেশজুড়ে আসা ৩০ জন প্রতিনিধি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের নানা দাবিনামা তুলে ধরেন। মতবিনিময়কালে মো. মহসিন নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহারস্বরূপ একটি ক্যাপ নিয়ে আসলে তারেক রহমান নিজে মঞ্চ থেকে নেমে এসে সহমর্মিতার সঙ্গে উপহারটি গ্রহণ করেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের দলগত সহযোগিতার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বক্তব্য দেন।

/আশিক


ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষা করতে হবে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৮:৪৮:২০
ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষা করতে হবে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই অধিকার রাষ্ট্র ও সংবিধান থেকেই পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে যে অধিকার প্রদান করেছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

সভায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘ ঐতিহ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব নিদর্শনের দেশ। বর্তমান সময়ের হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়, বরং যুগান্তর ধরে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষ সুপ্রাচীনকাল থেকে একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। এ দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকলা—সবকিছুর মধ্যেই এই সুদৃঢ় সম্মিলন ও সম্প্রীতির সোনালী নিদর্শন সবসময় খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এই অসাম্প্রদায়িক বন্ধন ও সৌহার্দ্য নষ্ট করার জন্য নানা মহলে কুচক্রী মহল বিভিন্নভাবে বিভাজন সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

একাত্তরের মুক্তিযাহের চেতনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই এই দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছে এবং ১৯৭১ সালে যুদ্ধের ময়দানে একসঙ্গে রক্ত দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। আজও সেই অবস্থানেই দেশ অনড় রয়েছে এবং এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে যে কোনো ধরনের মূল্য দিতে প্রস্তুত রয়েছে জাতি। এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই উগ্রবাদী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ স্বভাবগতভাবেই চরমপন্থা পছন্দ করে না, আর আমাদের এই উদার ও মধ্যপন্থী ধারাটিকেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখতে হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান যে দেশ বর্তমানে একটি বড় ট্রানজিশন বা রূপান্তরকালের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। একটি দীর্ঘ ও ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে যাত্রার এই সময়টিতে তিনি সকলকে অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে দেশের কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে তিনি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগণের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি-দাওয়া পূরণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের যথাযথ সহযোগিতার জোরালো আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

/আশিক


ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৮:৩৫:১০
ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২১ অক্টোবর দাম্মামের ফ্লাইট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ঢাকা থেকে রিয়াদের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

এ সময় সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশিরা বিশ্বের যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, তাদের অবশ্যই সেই দেশের প্রচলিত আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

/আশিক


মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৭:৩১:২৭
মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এই আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত চলে। এই সময় তিনি রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি মিরপুর-১০ নম্বরের হকারমুক্ত ফুটপাতও স্বচক্ষে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি একে একে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। এই ধারাবাহিক পরিদর্শনের পরবর্তী ধাপে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন। এরপর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালও পরিদর্শন করেন তিনি।

এই পরিদর্শনের একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল প্রধানমন্ত্রীর তার নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শন। সেখানে তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ বক্তব্য রাখেন এবং একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও দেশজুড়ে বেশি বেশি গাছ লাগানোর উদাত্ত আহ্বান জানান। এরপর তিনি ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আকস্মিক পরিদর্শনের সময় অনেক স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ঘাটতি দেখে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দেন। এর আগে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনকালে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন তিনি।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধূমপানরত অবস্থায় দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। সে সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষের ভেতরের পরিবেশও অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এই গুরুতর অনিয়মের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন, যার ফলশ্রুতিতে অভিযুক্ত চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর বাইরে মিরপুর-১০ নম্বরে গিয়ে হকারমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শন করেন তিনি, যেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

এই অভাবনীয় ও আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পথচলতি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বদা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর তিনি জোরালো গুরুত্বারোপ করেন।

/আশিক


বৈশ্বিক এক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা তুলে ধরল ঢাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ২০:৩৪:৩৮
বৈশ্বিক এক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা তুলে ধরল ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স-বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়া বা সিআইসিএ-এর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির এই মঞ্চটিকে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অটল সমর্থনের কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সদস্যদেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যকর অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের পেশ করা প্রথম প্রস্তাবটি হলো ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা এবং সেগুলোর নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বিভিন্ন অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে আরও বেশি পরিমাণে সরাসরি বা ফিজিক্যাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার ওপর জোর দেন।

তার তৃতীয় প্রস্তাবে সদস্যদেশগুলোর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বা আইসিটি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও আদান-প্রদান জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে নতুন নতুন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য একটি নিরাপদ, উন্মুক্ত ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিসর গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট আস্থা তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের অন্য অংশে প্রতিমন্ত্রী সিআইসিএকে একটি সুস্পষ্ট আইনি মর্যাদা, শক্তিশালী ও কার্যকর সচিবালয়, নির্ভরযোগ্য আর্থিক উৎস এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগী শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত ব্যবস্থাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তরিত করার পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থানের কথা জানান। উল্লেখ্য, ‘শক্তিশালী সিআইসিএ: এশিয়ায় সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজারবাইজানের সভাপতিত্বে এবারের সপ্তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এশিয়ার সাধারণ জনগণের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারকে সামনে নিয়ে এসেছে।

এদিকে শীর্ষ সম্মেলনের একটি বিশেষ পর্বে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল তাৎক্ষণিকভাবে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও একযোগে এই বয়কট কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ইসরায়েলি নেতার বক্তব্য বর্জন করেন।

উল্লেখ্য, এশিয়া মহাদেশজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, নিরাপত্তা এবং সুদৃঢ় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য সামনে রেখে ১৯৯৯ সালে সিআইসিএ গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে লাও পিডিআর নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ায় এই আঞ্চলিক সংস্থাটির মোট সদস্যদেশের সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে ২৯টিতে পৌঁছেছে। এবারের সম্মেলনে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদের জন্য সিআইসিএর পরবর্তী সভাপতি হিসেবে আজারবাইজানের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব হিসেবে সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

/আশিক


দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: তদন্তের দাবি ও বিএনপির বিক্ষোভ

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৯:২৫:১৫
দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: তদন্তের দাবি ও বিএনপির বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

​কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।​বিক্ষোভ সমাবেশ ও নেতাকর্মীদের অভিযোগ

সম্প্রতি দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেবিদ্বারের ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে প্রচলিত নিয়মনীতি মানা হয়নি। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জন ডিলারের মধ্যে অন্তত ১৩ জন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা তাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তারা।

​সমাবেশে ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান (জিয়া) অভিযোগ করেন, তাঁর ইউনিয়নের ডিও লেটার অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।​এ সময় সমাবেশে বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সী, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী মাসুদ হাসান এবং দেবিদ্বার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান মোল্লাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

​তদন্ত দাবি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

সার ডিলার নিয়োগের এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, কুমিল্লা বিভাগীয় কমিশনার, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা এবং কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ ও তদন্ত কামনা করেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​আলোচিত এই ডিলার নিয়োগ তালিকায় দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সী ও সাইদুর রহমান লিটন, বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য. কুমিল্লা উত্তর জেলার সাবেক সদস্য সচিব এফ এম তারেক, বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন এবং সাবেক সদস্য সচিব কাজী মাসুদ কাজীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।​সংসদীয় কমিটির সদস্যের আশ্বাস

সার ও ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল জানিয়েছেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের কোনো তথ্য বা অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।​ইউএনওকে স্মারকলিপি প্রদান

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তাঁরা সার ডিলার নিয়োগে ওঠা অনিয়ম, অর্থের বিনিময়ে ডিও লেটার বিক্রির অভিযোগ এবং বিতর্কিত তালিকা নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

​কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি সার বিতরণব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নিয়োগ তালিকার নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় কৃষকরা।


ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা: জেনে নিন ৮টি বর্জনীয় শর্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৯:২১:২৪
ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা: জেনে নিন ৮টি বর্জনীয় শর্ত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই কোটি নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে মাসিক নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কর্মসূচির খসড়া এবং উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে। এই নীতিমালার আওতায় সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত বা বর্জনীয় বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে আট ধরনের পরিবার এ সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারের নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করা সচ্ছল, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত কোনো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। একই সঙ্গে, পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান কিংবা এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হন, তবে তিনি এ সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা পেলেও ওই পরিবার এ সুবিধার বাইরে থাকবে, যদিও প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রাপ্ত বিশেষ পেনশনের ক্ষেত্রে এই নিয়মে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং সম্পত্তির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেও বেশ কিছু পরিবারকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে অথবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি স্থায়ী আমানত বা এফডিআর থাকলে তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। পাশাপাশি, পরিবারের যেকোনো সদস্যের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান—যেমন ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক বা সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার থাকলে পরিবারটি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। একইভাবে, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে এবং নিয়মিত কর প্রদানকারী করযোগ্য আয়ের কেউ পরিবারে থাকলে তারা এ সুবিধা পাবেন না।

জমির মালিকানার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক পাঁচ শূন্য একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে না। এ ছাড়া পরিবারের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও এই সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করতে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সরাসরি এপিআই সংযোগ ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। এছাড়া তথ্যে কোনো ধরনের অসংগতি দেখা দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে আবেদন বাতিল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কেবল প্রকৃত ও প্রাপ্য অভাবী পরিবারগুলোই এই সহায়তা লাভ করতে পারে।

/আশিক


শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:৪৬:১৯
শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত
ছবি : সংগৃহীত

দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের ফাইল বা মামলা আটকে নেই এবং পুরো কার্যক্রম নিজস্ব গতিতেই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ দেশের আলোচিত বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান ও মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুদকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির মহাপরিচালক।

ব্রিফিংয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৪১ দিনের ব্যবধানে কমিশন মোট ১২১টি নতুন মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ৬১টি মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিটও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সারা দেশজুড়ে দুর্নীতি দমনে ৬১টি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। আদালতের মাধ্যমে মোট ৬৮টি নথির বিপরীতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং তা অবরুদ্ধ করার আইনি অনুমোদন পাওয়া গেছে। এমনকি আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২২ জন ব্যক্তির বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি।

সাংবাদিকরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, এসব উচ্চপর্যায়ের বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। যৌথ তদন্ত দল বা জেআইটির (JIT) মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগের সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান ও আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং জেআইটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও সাক্ষ্যগ্রহণ করছেন। আইনের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই প্রতিটি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের সুনির্দিষ্ট কোনো বড় অগ্রগতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি জানান যে এ বিষয়ে একেকটি অনুসন্ধানের দায়িত্বে পৃথক কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছেন এবং তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তা পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

সাংবাদিকরা এ সময় প্রশ্ন তোলেন যে দুদক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলমান রাখবে, কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর যদি কেবল ‘কার্যক্রম চলমান’ হয় তবে মামলার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয় না। এর জবাবে মহাপরিচালক মন্তব্য করেন যে বর্তমান কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের সময় খুব বেশি দিন হয়নি, সবেমাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় পার হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্থাটি যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন করেছে, মূলত সেই পরিসংখ্যানই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে এবং কমিশনের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশে পালিয়ে থাকা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমও চলমান। কেবল দুদক একা নয়, এর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গভীরভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ঘটলেই তা গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

/আশিক


সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:২৮:৪০
সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল
ছবি : সংগৃহীত

আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়ার (সিকা) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে সম্মেলন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাকুতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল প্রতিবাদস্বরূপ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও এই ওয়াকআউটে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সম্পূর্ণ বয়কট করেন। উল্লেখ্য, এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক নিরাপত্তা এবং আস্থা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে আজারবাইজানের রাজধানীতে বর্তমানে এই সপ্তম সিকা শীর্ষ সম্মেলনটি চলছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: