মধ্যপ্রাচ্যে ছড়াচ্ছে যুদ্ধ: ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে যৌথ হামলা বাহরাইন-কুয়েতের

উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন ও কুয়েত চলতি মাসের শুরুর দিকে নীরবে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ইরানের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। শুক্রবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কেন্দ্রগুলো ছাড়াও ইরানের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামোর ওপর এই হামলা পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা বাহরাইন ও কুয়েতের ইতিহাসে এটাই প্রথম।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই যৌথ সামরিক অভিযানে হামলা চালানোর সম্ভাব্য স্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য জোগানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামূলক আকাশ নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করেছে। এই পদক্ষেপ ইরানকে কৌশলগতভাবে মোকাবিলায় আরব দেশগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান গোপন সামরিক সমন্বয়ের বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান তার পাল্টা আক্রমণের একটি বড় অংশ বাহরাইন ও কুয়েতের দিকে জোরদার করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দুটি দেশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের পর্যালোচনায় তুলে ধরেছে যে, বাহরাইন ও কুয়েতের বিমানবাহিনীর আকার মার্কিন বা ইউরোপীয় যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল এবং তা আয়তনে ছোট। তবে তা সত্ত্বেও ইরানের ক্রমাগত সামরিক আক্রমণের মুখে প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে শান্ত থাকার অবস্থান থেকে তারা সরে এসেছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গত দুই সপ্তাহে আরও বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর আওতায় বলবৎ থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি আর বহাল থাকছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি পাল্টাপাল্টি আক্রমণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরে নানা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে খবর প্রকাশিত হলেও তেহরানের দাবি, তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক আস্তানা ও সরঞ্জামকে নিশানা বানিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে ইরানের অভ্যন্তরে বাহরাইন ও কুয়েতের এই কথিত বিমান হামলার দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের সরকার কিংবা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
নতুন সামরিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ল ইরানে
ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় দেশটির নৌবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি নিশ্চিত করে, গত কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনীর দফায় দফায় পরিচালিত নতুন সামরিক অভিযানে ইরানি নৌবাহিনীর ওই সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন। তবে নিহত নৌসদস্যদের পরিচয় কিংবা সুনির্দিষ্ট কোন স্থানে তাঁরা হামলার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গত ৩০ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নির্বিচার বোমাবর্ষণ শুরু করার পর দেশটিতে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত এবং ১৪০ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হতাহতদের বড় একটি অংশই নিরীহ নারী ও শিশু। নতুন করে সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ায় দেশটিতে হতাহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
গত রোববার পারস্য উপসাগরের কৌশলগত লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার মধ্য দিয়েই মূলত দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বিস্ফোরক রূপ নেয়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় এক মাস ধরে চলা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, সাগরে মাইন বহনে সক্ষম উন্নত রকেট মোতায়েনের প্রস্তুতি শনাক্ত করার পরই তারা ইরানের দুটি রকেট লঞ্চার বা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ওই আঘাত হেনেছিল।
লারাক দ্বীপে হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে জোরালো হামলা চালায়। কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায় তেহরান। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পুনরায় ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আইআরজিসির একাধিক কৌশলগত অবস্থান ও ঘাঁটিতে পাল্টা বিমান হামলা চালায়, যা আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
সৌদিতে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ বা লাল সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের বরাতে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই বৈরী আবহাওয়া ও সতর্কবার্তা বহাল থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এনসিএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত জাজান, আসির, আল বাহা এবং পবিত্র মক্কা অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় বজ্রঝড়ের পাশাপাশি মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে জাজান ও আসির প্রদেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা আশঙ্কাজনক রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে নাজরান অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। জাজান প্রদেশের আল রাইত, হারুব, আল দাইর, আল হাইদাবি, ফাইফা, আল আরিদাহ, আল হারিস, আল তুওয়াল, আল দারব, বাইশ, সাবিয়া, দামাদ, আবু আরিশ, আহাদ আল মাসারিহাহ, সামতাহ, জাজান মূল শহর এবং ফরাসান দ্বীপপুঞ্জে থেমে থেমে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আসির প্রদেশের আভা, খামিস মুশাইত, আহাদ রুফাইদাহ, সারাত উবাইদাহ, আল হারজাহ, দাহরান আল জানুব, আল নামাস, আল ফারশাহ, তানোমাহ, রিজাল আলমা, বারিক, মাহায়িল আসির, আল মাজারদাহ ও বলকারন এলাকাতেও ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল, গভীর উপত্যকা (ওয়াদি) ও পাহাড়ি ঢালগুলোতে হঠাৎ মারাত্মক ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
এই চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিশেষ করে দূরপাল্লার যানবাহনচালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সৌদি বেসামরিক কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে জলাবদ্ধ উপত্যকা ও পাহাড়ি ঢলপ্রবণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিপজ্জনক রুটে যাতায়াত না করতে এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারিত নিরাপত্তা নির্দেশনাগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করার তাগিদ দিয়েছে প্রশাসন।
সূত্র: গালফ নিউজ
দীর্ঘ ২৩ বছরের উপস্থিতির ইতি, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়ছে সব মার্কিন সেনা
দীর্ঘ ২৩ বছরের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির পর অবশেষে ইরাক থেকে সব মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের সার্বিক অভিযান এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ৩০ সেপ্টেম্বর অতিক্রান্ত হওয়ার পর অর্থাৎ ১ অক্টোবর থেকে ইরাকের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর বিদেশি মুক্ত হওয়ার এই দিনটিকে ইরাকের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির সরকার।
এর আগে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেই সফরকালে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সাথে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সেনা প্রত্যাহারের এই সুনির্দিষ্ট সময়সূচির বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছান দুই দেশের নীতি নির্ধারকরা।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তৎকালীন ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের শাসন উৎখাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে এক যৌথ অভিযান শুরু হয়েছিল, যার পর থেকেই দেশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কৌশলগত বিভিন্ন ধাপে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখা হয়েছিল।
/আশিক
ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামুদ্রিক রুট চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি সামুদ্রিক রুট চালুর বিষয়ে তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত প্রণালির নতুন ট্রাফিক রুট ও আইনি কাঠামো নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। পুরোনো নৌপথ বিভাজন ব্যবস্থার ওপর ইরানের আপত্তি থাকায় প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়াতে আপাতত একটি অস্থায়ী পথ নিয়েই দুই দেশ কাজ করছে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আরাগচি স্পষ্ট জানান, চুক্তি কাছাকাছি হলেও গত জুনে স্বাক্ষরিত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণসহ কিছু শর্ত পূরণ না হলে এই জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না।
অন্যদিকে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বিষয়টিতে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ওমান ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনার সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত নয়। প্রণালি উন্মুক্ত করার পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিজস্ব শর্তাবলি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলেই কেবল এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার বিপরীতে তেহরানও পাল্টা আঘাত হানে। পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে পরবর্তীতে ১৮ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও পারস্য উপসাগরে অবাধ চলাচল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিরোধের কারণে বর্তমানে সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
২০২৩ সালের ইসরায়েলি হামলার ক্ষত: আড়াই বছর পর উদ্ধার ৪০ শিশুর দেহাবশেষ
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর উদ্ধার করা হয়েছে ১১২ জন ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ, যাদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনই শিশু। নির্মম এই হামলায় সাবরার বেদুইন বংশোদ্ভূত ফিলিস্তিনি গোত্র ‘আল-হাসায়না’ একপ্রকার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। উদ্ধারকৃত দেহাবশেষগুলো ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও রীতি অনুযায়ী গণদাফন সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ফিলিস্তিনি সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গভীর রাতে গাজা সিটির পুরোনো সাবরা এলাকার একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আল-হাসায়না (আবু শারিয়া নামেও পরিচিত) পরিবারের ৩০৮ জন সদস্য নিহত হন। ওই সময়ে অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় প্রাণহানির মাত্রা ছিল ভয়াবহ।
হামলার পরপরই প্রায় অর্ধেক মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ১৫৩ জনের অবশিষ্টাংশ ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়ে থাকে। সম্প্রতি উদ্ধারকারী দলের ৪০ জন সদস্য দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে টানা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অবশেষে ১১২ জনের দেহাবশেষ বের করে আনতে সক্ষম হন।
গত মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রস্তুত করা একটি সমতল স্থানে নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীরা সমবেত হন। মরদেহগুলোর ছবি দিয়ে সাজানো কফিনগুলো কাঁধে নিয়ে শোকাহত জনতা জানাজায় অংশ নেন এবং স্থানীয় কবরস্থানে তা দাফন করা হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এটিকে গাজা যুদ্ধের অন্যতম বৃহত্তম শোকাবহ গণজানাজা হিসেবে অবহিত করেছে।
এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন সামরিক অভিযানে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮১ জনে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে, সীমান্তজুড়ে দফায় দফায় হামলায় হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
/আশিক
যুদ্ধের বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, আকাশ প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যাপক আধুনিকায়ন
বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন অস্ত্র সংযোজন এবং সেনা সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কৌশলগত সংস্কারের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সেনাবাহিনীর সার্বিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র স্পষ্ট করেন যে, বর্তমানের জটিল ও বহুমাত্রিক সংঘাত পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সক্ষমতা কেবল নতুন সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে না; বরং পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক যান ও অস্ত্রের সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানি প্রকৌশলী ও কারিগরি দলগুলোর নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রস্তুত করা এসব সামরিক সরঞ্জাম সেনাবাহিনীর স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
আক্রমিনিয়া আরও জানান, নতুন প্রযুক্তির প্রবর্তন ও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেশের ভৌগোলিক ও আঞ্চলিক সুরক্ষায় 'আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা'-কে (Air Defense) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শত্রুর যেকোনো আকাশপথের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং দেশের অতিসংবেদনশীল অবকাঠামোগুলোর সার্বিক সুরক্ষায় এই বিভাগটিকে অত্যাধুনিক রূপে সাজানো হয়েছে।
সামরিক শক্তির টেকনিক্যাল দিকের বাইরে সেনাদের মানসিক দৃঢ়তার ওপর জোর দিয়ে মুখপাত্র উল্লেখ করেন, একটি বাহিনীর মূল চালিকাশক্তি হলো তার সদস্যদের আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা। বর্তমানে ইরানি সেনাসদস্যরা উচ্চ মনোবল ও 'জিহাদি চেতনা' নিয়ে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য বহিরাগত আগ্রাসন মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন। অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে দেশীয় প্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট সামরিক কৌশলের ওপর ভর করে সামনের যেকোনো আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
পদত্যাগের হুমকি দিলে সরাসরি গ্রহণের হুঁশিয়ারি, পেজেশকিয়ান-খামেনি দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার গুঞ্জন ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যদি আর মাত্র একবার পদত্যাগের হুমকি বা প্রস্তাব জমা দেন, তবে তা সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্জুর করা হবে। সর্বোচ্চ নেতার এক বৈবাহিক আত্মীয়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হলেও প্রেসিডেন্টের দপ্তর এই দাবিকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন ও স্পষ্ট মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ-বাগের খারাযি—যার বোন মোজতবা খামেনির ভাইয়ের স্ত্রী—দাবি করেন যে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ বার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু সুপ্রিম লিডারের কাছ থেকে চূড়ান্ত বার্তা পাওয়ার পর তিনি পিছু হটেছেন। খারাযি সর্বোচ্চ নেতার কথা উদ্ধৃত করে জানান, পেজেশকিয়ান যদি নতুন করে আর একবারও পদত্যাগের কথা বলেন, তবে সর্বোচ্চ নেতা আর দেরি না করে পত্রে অনুমোদন লিখে দেবেন এবং সেখানেই সবকিছু সমাপ্ত হবে। খারাযির মতে, এই কড়া বার্তার পর প্রেসিডেন্ট আর পদত্যাগের সাহস পাচ্ছেন না।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসে পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশ পায়। সেই আবেদনে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, তাঁর সরকারকে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে পরিকল্পিতভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে এবং উগ্রপন্থী রিভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিয়েছে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এই জাতীয় সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ও তথ্যবিষয়ক ডেপুটি মেহেদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে পরাজিত চরমপন্থীদের একটি অশুভ জোট দেশের অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। ব্যালট বাক্সে গণরায় না পেয়ে দুই বছর পরও তারা জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং প্রকারান্তরে দেশের শত্রুদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে।
একই বিষয়ে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আলী-আসগর শাফিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, খারাযির সাথে মোজতবা খামেনির সরাসরি কোনো যোগাযোগ বা বৈঠকই নেই, ফলে তাঁর এই দাবিগুলো এক ধরণের কাল্পনিক গল্প ছাড়া কিছু নয়। তিনি জানান, মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক নিয়ে ক্ষুব্ধ একটি বিশেষ গোষ্ঠী কৃত্রিমভাবে এই গুজব ছড়াচ্ছে। সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক কর্মী আহমদ জাইদাবাদিও এই ঘটনাকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভিডিও বক্তব্যে খারাযি আরও কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি পেশ করেন। তিনি জানান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদ থেকে মোহাম্মদ-বাগের জোলক্যাদরকে সরিয়ে মোহসেন রেজাইকে নতুন দায়িত্ব দিতে যাচ্ছেন সর্বোচ্চ নেতা। এছাড়া সমঝোতা আলোচনায় হস্তক্ষেপ না করতে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে কোনো প্রকার কূটনৈতিক আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মূলত গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করেই পেজেশকিয়ান সরকার ও দেশের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান এই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। চরমপন্থীদের দাবি, এই চুক্তি সর্বোচ্চ নেতার মূল নীতিমালার সম্পূর্ণ বিরোধী। যদিও প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সিকিউরিটি কাউন্সিলের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি সদস্যের সম্মতি এবং খোদ সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন নিয়েই সরকার এই ঐতিহাসিক চুক্তির পথে এগিয়েছে।
/আশিক
ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও কঠোর অবস্থানের মুখে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল-আহেদ প্রকাশ করেছে, ইরানের সামরিক শক্তি এবং মার্কিন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে কাজ করা নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কাই মূলত ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে কাজ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের নীতিগত দৃঢ়তা এবং মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকির পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিতের প্রক্রিয়াটিতে তিনি সায় দিয়েছেন।
আল-আহেদ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন—ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি সামরিক হামলা না চালানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সূত্র: পার্সটুডে
ইউক্রেন ও হুতিদের প্রবেশে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত ইরান যুদ্ধ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা ধারণ করেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। এসব ঘটনায় সমগ্র অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
টানা ১৩ রাত ব্যাপক বিমান হামলার পর গত শনিবার ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ বহাল থাকলেও কেন হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
একই দিনে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বা স্থাপনায় কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি। অথচ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আক্রমণের জবাবে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছিল তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ, উপসাগরীয় মিত্রদের গভীর উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস আপাতত হামলা না বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।
অন্য এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। ওই বৈঠকের পর সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে জিজানের একটি শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি আরামকো।
ইয়ানবুর উদ্দেশ্যে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অনুরূপভাবে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী মারিব ও আল-জাওফ অঞ্চলে হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষই নতুন করে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে, ফলে দেশটিতে আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার ইরান অভিযোগ করেছে, কাস্পিয়ান সাগরে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইরানের জাহাজে আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাল্টা দাবি করেছেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারির জন্য সংগৃহীত সংবেদনশীল স্যাটেলাইট তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে, যা তেহরানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতায় সরাসরি সহায়তা করছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
- অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা
- সাইকেলে ছয় দেশ পাড়ি দিয়ে হজ পালনের উদ্দেশ্যে নরসিংদীর সজিবের যাত্রা
- ক্যালেন্ডারের সংখ্যা নাকি মনের অনুভূতি: বার্ধক্যের আসল পরিচয় আসলে কী?
- ঢাকার দুই সিটির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ: মাঠে নামছে তরুণ নেতৃত্ব
- ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী
- জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ও ভবিষ্যৎ এআই: মানব মূল্যবোধ রক্ষা কতটা কঠিন?
- অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ
- এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ, পদক জয়ের অভিযানে বাংলাদেশ
- যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিল দিচ্ছে পুরো বিশ্ব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- যানজট কমাতে রাজধানীতে ফের কার্যকর হচ্ছে বিকল্প নৌপরিবহন
- সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দোয়া
- ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রিতে খামেনির নাম যেভাবে সামনে এল
- মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- দেশে শেখ হাসিনার নামে কত টাকার সম্পদ, জানা গেল হিসাব
- যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী: ভারতীয় হাইকমিশনার
- বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ
- আইপিএলের ধাক্কা এড়াতে পিএসএলের সূচিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
- ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে রেখে আইসিসির বহুজাতিক সিরিজের পরিকল্পনা
- সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
- ৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
- লংমার্চে পথচারীদের ভোগান্তি: দেশবাসীর কাছে জামায়াত জোটের দুঃখ প্রকাশ
- আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি
- আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি টানলেও ক্লাবে নতুন কীর্তি মহাতারকার
- ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- ‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
- আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লংড্রাইভ: রাশেদ খাঁনের দাবি
- ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
- চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: গিরং বন্দরে চলছে জটিল উদ্ধার তৎপরতা
- বিপিএল না হওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- অস্ত্রের ঘাটতির তথ্য ফাঁস: পেন্টাগনের ৫০ শীর্ষ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা
- বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চাঁদের মতো, দেখা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না: এমপি মনিরুল
- ওয়াশিংটনকে ‘যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ নতুন হুঁশিয়ারি শীর্ষ নেতার
- জাতীয় সংসদে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের হিসাব তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্র
- গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ
- রাতে রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও দেখা যেতে পারে মেসিকে
- শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে ‘নো কমেন্ট’, তারেক রহমানের সফর নিয়ে যা বলল ভারত
- দেবিদ্বারে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বল্লভপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন
- নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন, আহত মা-ভাই
- নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
- বিনা মূল্যে ২ লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ, রয়েছে চাকরির সুযোগ
- ‘চিকেনস নেক’-এ সমান্তরাল মহাসড়ক এনএইচ-৩২৭ বানাচ্ছে ভারত
- দলবদলের বাজারে নতুন চমক, ইউরোপ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে তরুণ উইঙ্গার
- লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
- কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
- সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ক্রিকেটের নতুন বিশ্বমঞ্চের দায়িত্ব পেল ভারত
- দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ








