বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৮:১১:৫৮
বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিক, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার বন্ধ হয়ে থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং ধাপে ধাপে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল করা হবে, যাতে শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ ও আয় নিশ্চিত করতে পারেন।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রও এগিয়ে যাবে। তার ভাষায়, দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ, তাই তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা শ্রমিকদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা উপেক্ষিত হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতেই সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।

সমাবেশে তিনি আরও ঘোষণা দেন, শ্রমিক পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

কৃষকদের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। তার মতে, কৃষি ও শ্রম খাতকে শক্তিশালী না করলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেচব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও সময়মতো পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এ কারণে সরকার বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও জলাধার সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থা উন্নত হয় এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

তারেক রহমান বলেন, কৃষক ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন করতে পারলে পুরো বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিল্পখাত পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

-রফিক


সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৫:০৮:৫৭
সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে বক্তব্য রাখছেন।

জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্র, শহীদদের আত্মত্যাগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি সংকট, নারী উন্নয়ন, সংসদীয় সহযোগিতা, অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।

প্রথমেই আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আজ আমাদেরকে এই তৌফিক দিয়েছেন যে, আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনের ভিত্তিতে এই জাতীয় সংসদে বসতে পেরেছি।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে প্রায় এক মাস ২৫ দিন ধরে এই সংসদ পরিচালিত হয়েছে। এই সময়জুড়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে আলোচনা করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

মাননীয় স্পিকার,

বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে। আমি স্মরণ করতে চাই ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। আমি স্মরণ করতে চাই ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে নির্মমভাবে নিহত মানুষদের। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করেন। আমি স্মরণ করতে চাই ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল মানুষকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই সেই সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের, যারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও আহত হয়েছেন।

মাননীয় স্পিকার,

আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, তারাও এই সংসদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। এই সংসদের প্রায় প্রতিটি সদস্য তাদের বক্তব্যের শুরুতে বিভিন্ন সময়ের শহীদদের স্মরণ করেছেন। আমরা ভবিষ্যতেও তাদের স্মরণ করব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধুই কি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই শহীদদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? অবশ্যই নয়। যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের একটি স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, অন্যের স্বাধীনতাকে সম্মান করে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে। তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ তার যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, মর্যাদার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা যথার্থভাবেই কৃষকের কথা বলেছেন। আমরাও দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে গ্রামে গিয়েছি, কৃষকের কাছে গিয়েছি, কৃষাণীর কাছে গিয়েছি। আমরা জানি আমাদের কৃষকদের বাস্তব অবস্থা কী। আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, কৃষকদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে “কৃষক কার্ড”-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে সরকার গঠন করার পর আমরা দ্রুততার সঙ্গে সেই কাজ শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছি। শুধু ধানচাষি নয়, মৎস্যচাষি, গবাদিপশুপালকসহ সব ধরনের কৃষকের কাছে আমরা ধীরে ধীরে পৌঁছাতে চাই।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমিও চাই না, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা এভাবেই থাকুক। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন আমাকে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ব্রিটেনে থাকাকালে আমি সেখানকার স্কুলগুলো দেখেছি। ছোট ছোট বাচ্চারা সুন্দর পোশাক পরে, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে স্কুলে যাচ্ছে। তখন আমার মনে হতো, আহা, আমার দেশের স্কুলগুলোও যদি এমন হতো! আজ আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা হাঁটছি। এই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস এবং জুতার ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাক।

মাননীয় স্পিকার,

আমি নিজেও এই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছি। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেও পড়েছিলাম। তাই আমি চাই, আমাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক।

মাননীয় স্পিকার,

বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও এসেছে। দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে। আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একমত যে, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সমাধান বের করা সম্ভব। সেই কারণেই আমরা যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান বের করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

মাননীয় স্পিকার,

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকার মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। যেসব মেয়ে ভালো ফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু শিক্ষাই নয়, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই আমরা “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি চালু করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে যে অর্থ দেওয়া হবে, সেটিকে আমরা ব্যয় নয়; বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। কারণ, এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে বিষয়গুলো দেখার নির্দেশনা দিয়েছি। চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটার পরও আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। কারণ, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার।

মাননীয় স্পিকার,

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে আগেই নির্দেশনা দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য। আমাদের প্রথম দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো। এই কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচি আমরা আবারও শুরু করেছি। এই কর্মসূচি শুধু সেচের জন্য নয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যদি আমরা কাজ শুরু করি, এর সুফল পেতে হয়তো ২০ বছর সময় লাগবে। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই কাজ শুরু করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমরা শিক্ষা খাতে বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করেছি। স্বাস্থ্য খাতেও জিডিপির একটি বড় অংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এক। আমাদের উদ্দেশ্য এক। আমাদের গন্তব্য এক। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের উদ্দেশ্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমাদের গন্তব্য একটি আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ।

মাননীয় স্পিকার,

গণতান্ত্রিক সংসদে মতভেদ থাকবে। “এগ্রি টু ডিসএগ্রি” গণতন্ত্রের স্বীকৃত নীতি। যে বিষয়গুলোতে মতভেদ আছে, আমরা বিরোধী দলের সঙ্গে বসব, আলোচনা করব এবং দেশের স্বার্থে সমাধান বের করব। আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিরোধী দলকে দেওয়া আমাদের প্রস্তাব এখনো বহাল আছে। আমরা চাই, এই সংসদ সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হোক।

মাননীয় স্পিকার,

বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে তাদের সমস্যার সমাধান বেশি চায়। একজন বেকার যুবক চাকরি চায়। একজন মা তার অসুস্থ সন্তানের জন্য ওষুধ চায়। একজন কৃষক তার ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ চায়। শুধু ঐতিহাসিক বিতর্ক দিয়ে তাদের কষ্ট দূর হবে না।

মাননীয় স্পিকার,

এই চেয়ারে বসে আমি প্রতিনিয়ত অনুভব করি, এটি আরামের চেয়ার নয়। এটি দায়িত্বের চেয়ার। এই চেয়ার আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়:

“You have to take the right decision, not the popular decision.”

আমাদের পপুলার সিদ্ধান্ত নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আগামী অধিবেশনে আমরা আলোচনা করতে চাই, কীভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যায়, কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, কীভাবে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেবা নিশ্চিত করা যায়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সংসদ নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। সুতরাং আমরা বিতর্ক করব, আলোচনা করব, কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ। আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ। আর আমরা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। আমরা কেউই ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না। কারণ, এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর।

মাননীয় স্পিকার,

আমি আবারও পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাকে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারকে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের, বিরোধীদলীয় নেতা ও সদস্যদের, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, চিকিৎসক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে।

আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর তারা দেশকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সবশেষে আমি সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি:

আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি।দেশ ও জনগণের প্রত্যাশার সর্বোচ্চ সম্মান করি।কারণ, দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি।

সবচেয়ে আগে বাংলাদেশ।সবচেয়ে আগে দেশের জনগণ।সবচেয়ে আগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।

আসসালামু আলাইকুম।"


৫ আগস্টের শহীদদের স্বপ্ন পূরণই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ২১:৪৫:২০
৫ আগস্টের শহীদদের স্বপ্ন পূরণই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের শিক্ষা, নারী উন্নয়ন এবং জাতীয় সংকট নিরসনে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি যেমন তাঁর দীর্ঘ প্রবাস জীবনের আবেগঘন স্মৃতি তুলে ধরেছেন, তেমনি জুলাই মাস থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উপহারের ঘোষণা দিয়ে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবন কাটাতে হয়েছে।

ব্রিটেনে থাকাকালীন ওখানকার স্কুলগুলোর উন্নত পরিবেশ দেখে তিনি সবসময় ভাবতেন, কবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এমন সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদান করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমি শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান অবস্থা চাই না, আমূল পরিবর্তন চাই।"

দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে প্রধানমন্ত্রী এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, বিএনপি এর আগে মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল, আর এবার তাঁর সরকার স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে সম্পূর্ণ ফ্রি বা অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে ভালো ফলের ভিত্তিতে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও থাকবে যাতে মেধাবী ছাত্রীরা উৎসাহ পায়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষ মুক্তভাবে কথা বলবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পাবে; তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণ করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দিয়ে বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করার কথা জানান এবং এ লক্ষ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। দেশের সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত এবং জবাবদিহিমূলক সরকার। জনগণের দেখাশোনা করাই এই সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।

/আশিক


রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন না থাকলে দেশ অরাজকতায় পড়ত: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ২০:১৭:২১
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন না থাকলে দেশ অরাজকতায় পড়ত: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আজ এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যদি দায়িত্বে না থাকতেন, তবে দেশ এক চরম অরাজকতার মুখে পড়ত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সংবিধানকে জাতীয় অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত, তাই সংবিধান নিয়ে আমাদের কথা বলতেই হবে।”

একই অধিবেশনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ যখন রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাচ্ছেন, তখন মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য সরকারের ভেতরে কৌশলগত অবস্থানের ভিন্নতা স্পষ্ট করে তুলেছে। এছাড়া তিনি তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের মধ্যকার লন্ডন বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ওই ঐতিহাসিক বৈঠকের কারণেই আজ দেশের রাজনীতি এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া যেভাবে সার্বভৌমত্বের পতাকা তুলে নিয়েছেন এবং গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তা পুরো এশিয়ায় বিরল।

তাঁর মতে, খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বারবার সংকট থেকে রক্ষা করেছে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান প্রজন্মের নেতা তারেক রহমানের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে বলেন, তারেক রহমান দেশ গড়ার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন, যা তাঁর রক্তে মিশে আছে। সারা দেশের মানুষ এখন তারেক রহমানের সেই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

/আশিক


অতীতেও লুটপাটের সুযোগ দেয়নি বিএনপি, এবারও দেবে না: অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১৭:৫৩:৫৫
অতীতেও লুটপাটের সুযোগ দেয়নি বিএনপি, এবারও দেবে না: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারকে লুটপাটমুক্ত রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, অতীতেও বিএনপির আমলে শেয়ারবাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদেও কেউ এমন কোনো সুযোগ পাবে না। সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের প্রক্রিয়ার সময় তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।

অধিবেশনে বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিগত ১৫ বছরের পুঁজিবাজারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেন যে, গত দেড় দশকে একটি বিশেষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

রুমিন ফারহানা এই লুটপাটে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-তে দক্ষ ও যোগ্য মানুষ নিয়োগের মাধ্যমে বাজারের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান। অর্থমন্ত্রী রুমিন ফারহানার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও বিলটি বিশেষ কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়ায় নতুন করে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

এদিকে, সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কড়া সমালোচনা করা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান যোগ্য লোকদের সঠিক স্থানে বসানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। জবাবে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্স আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো এবং ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে কোনো ‘রাজনৈতিক নিয়োগ’ না দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গভর্নরের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন তুললে অর্থমন্ত্রী তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘দলকে সমর্থন করা মানেই দলের লোক হওয়া নয়’। দীর্ঘ আলোচনা ও বাদানুবাদ শেষে বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও সংসদে ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশোধন বিল-২০২৬’ এবং বিএসইসি সংক্রান্ত বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

/আশিক


ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পুরনো আইন সংস্কারের ঘোষণা দিলেন আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১২:১১:০৯
ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পুরনো আইন সংস্কারের ঘোষণা দিলেন আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পুরনো এবং অপ্রাসঙ্গিক আইনগুলো বাতিল বা সংশোধন করে নতুনভাবে প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইনগুলো চিহ্নিত করতে ল’ কমিশন কাজ শুরু করেছে। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া প্রায় ২৪ হাজার হয়রানিমূলক মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭৩ সালে ‘দ্য বাংলাদেশ ল’স (রিভিশন অ্যান্ড ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট’ এর মাধ্যমে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের অনেক আইন সুসংহত ও বাতিল করা হয়েছিল। তবে বর্তমানেও কিছু আইন রয়েছে যা অকার্যকর বা অপ্রাসঙ্গিক। ল’ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের আলোকে সরকার পর্যায়ক্রমে এসব আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করবে।

তিনি আরও জানান, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৩,৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাকিগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এদিন সংসদে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এজাহারে রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় সরকারের কাছে এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

ফ্যাসিবাদের আমলে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও সরকারের কাছে সংরক্ষিত নেই বলে তিনি জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সরকারের এই আইনি সংস্কার পরিকল্পনা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

/আশিক


হজ পালনের উদ্দেশ্যে ৯৮টি ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছেছেন ৩৯ হাজারের বেশি হাজি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১১:৫৭:৫৪
হজ পালনের উদ্দেশ্যে ৯৮টি ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছেছেন ৩৯ হাজারের বেশি হাজি
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সৌদি আরব যাত্রা পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের বুলেটিন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯৮টি ফ্লাইটে ৩৯ হাজার ৩৫৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তবে এই পবিত্র যাত্রার মাঝেই বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে; হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে পাঁচজন মক্কায় এবং দুইজন মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মদিনায় রংপুরের মো. শামসুল আলম (৬৩) নামে এক সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

আইটি হেল্পডেস্কের তথ্যমতে, সৌদি পৌঁছানো হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৩১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৩৫ হাজার ৩২৩ জন। ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৪৪টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৬টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করেছে।

এ বছর এ পর্যন্ত মারা যাওয়া সাতজনই পুরুষ এবং তাদের অধিকাংশের বয়স ৫৮ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। এর আগে টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর ও শেরপুরের হজযাত্রীরাও সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন তারেক রহমান। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশ থেকে বাকি হজযাত্রীদের পাঠানোর কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করছে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো। সৌদি আরবে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক সহায়তায় কাজ করছে মক্কা ও মদিনার হজ মিশন।

/আশিক


চট্টগ্রাম ও ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ২১:৫৩:০৩
চট্টগ্রাম ও ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চলছে বলে জাতীয় সংসদে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বন্দরনগরীর জলাবদ্ধতার তীব্রতার কথা তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী এই সমস্যার জন্য নগরবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে যে বিশাল জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ যে অবর্ণনীয় কষ্ট পাচ্ছে, তা তিনি সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে এতে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, জলাবদ্ধতা কেবল চট্টগ্রাম নয় বরং রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশেরই এক দীর্ঘদিনের সমস্যা। তিনি অতীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে বলেন, সেই সময় খাল খননের মাধ্যমেই দেশে জলাধার তৈরি এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

বর্তমান সরকার সেই একই মডেলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সারাদেশে খাল খনন ও সংস্কারের মেগা প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। তিনি জানান, শহর অঞ্চলের ড্রেন ও নালাগুলো পরিষ্কার করার জন্য সরকার নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ ও জনবল নিয়োগ দিচ্ছে, তবে নাগরিকদের অসচেতনতা এই কাজের সুফল পেতে বাধা দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী দুঃখের সাথে জানান যে, অনেক জায়গায় ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও ময়লা ফেলে সেগুলো আবারও ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার খাল খনন ও ড্রেনেজ সিস্টেম উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখবে, কিন্তু জনগণের সচেতনতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। প্লাস্টিক ও পলিথিনের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করার জন্য তিনি জনমত তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকার জনগণকে সচেতন করার নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি অঙ্গীকার করেন যে, সরকার চট্টগ্রামের এই জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে বিশেষ বরাদ্দ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাবে, যাতে ভবিষ্যতে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরবাসীকে আর চরম ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

/আশিক


এখন থেকে এনআইডি আবেদনে যা যা লাগবে: নতুন নির্দেশনা জারি করল ইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ২১:৩৮:১১
এখন থেকে এনআইডি আবেদনে যা যা লাগবে: নতুন নির্দেশনা জারি করল ইসি
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে সংশোধনজনিত জটিলতা এড়াতে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) ইসির এনআইডি শাখা থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক আদেশে জানানো হয়েছে যে, নতুন ভোটার হওয়া বা এনআইডি আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী যদি মাধ্যমিক পাশ হন, তবে তার এসএসসির সনদ সার্ভারে আপলোড করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক। মূলত শিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্ম তারিখ ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এসএসসির সনদ সবথেকে নির্ভরযোগ্য দলিল হওয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসির এনআইডি শাখার পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটার নিবন্ধনের সময় আবেদনকারীর জন্ম সনদ ও অন্যান্য নথির পাশাপাশি এখন থেকে এসএসসির সনদ অবশ্যই ডাটাবেজে যুক্ত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারী উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও পরে তথ্য সংশোধনের সময় তা অস্বীকার করেন, যা কর্মকর্তাদের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করে। এই সমস্যা সমাধানে নতুন ভোটার যদি উচ্চ মাধ্যমিক বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত হন, তবে তার এসএসসির সনদের পাশাপাশি সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদটিও সংগ্রহ করে নথিতে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এসব সনদের মূল কপি বা ফটোকপি নিবন্ধন ফরম ও জন্ম সনদের সাথে প্রতিটি নির্বাচন অফিসে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। এর ফলে এনআইডি ডাটাবেজে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সংশোধন প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজ ও দ্রুততর হবে। এই কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত মাঠ অফিসগুলো পরিদর্শন করবেন এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নথি যাচাই করে কমিশনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন।

/আশিক


পুলিশ-সাংবাদিক সুসম্পর্ক গড়তে ইউনেস্কোর নতুন প্রশিক্ষণ প্রকল্প

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৯:৩২:২৬
পুলিশ-সাংবাদিক সুসম্পর্ক গড়তে ইউনেস্কোর নতুন প্রশিক্ষণ প্রকল্প
ছবি : সংগৃহীত

ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুসান ভাইজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, সংস্কার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ জানান যে, পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর কিছু চলমান প্রকল্প রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের প্রশিক্ষণের বিষয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত পেলে আগামী জুনের মধ্যেই এই কর্মসূচি শুরু করতে চায় তারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই উদ্যোগে সম্মতি প্রদান করেন এবং দ্রুত প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য যে, বিগত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এসপি ও ওসি পদমর্যাদার ৭ শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে ইউনেস্কো বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইউনেস্কোর এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মিডিয়া শাখায় কর্মরত অফিসারদের এই প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী মনে করেন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে এর সাথে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা জানান যে, পুলিশের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্যও তারা অনুরূপ বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো শনিবারের মতো ছুটির দিনে আয়োজন করার পরামর্শ দেন, যাতে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের মধ্যে একটি পেশাদার ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: