ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন

চাকরি-বাকরিতে মেধাকে তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে এখন আর ইন্টারভিউ বা মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না; বিএনপির একটি পোর্টফোলিও বা ছাত্রদলের কোনো পদ থাকাটাই চাকরির প্রধান যোগ্যতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের বিগত শাসন আমলের সঙ্গে তুলনা টেনে জামায়াত সেক্রেটারি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করে সেখানে ছাত্রলীগ বসানো হয়েছিল। এখন কেবল নাম পরিবর্তন হলেও চরিত্র একই রয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আগের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। দলটির স্লোগানে 'সবার আগে বাংলাদেশ' বলা হলেও বাস্তবে সব জায়গায় 'সবার আগে বিএনপি' নীতি প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি এই অপরিণামদর্শী পথ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে সামসুল আলমের নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁকে চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিত্ব আখ্যা দিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, অবসরের পর তাঁকে বিএনপির সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। মূলত নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতেই এ ধরনের রাজনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ ও আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক কৌশল: ব্যারিস্টার পার্থ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাম্প্রতিক আলোচনাকে কেবল দল টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ ধরনের আলোচনার কোনো বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই। সোমবার বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মাদরাসা বাজারে সরকারের খাল খনন কর্মসূচি পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের সার্বিক প্রেক্ষাপট টেনে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে দেশে ফেরা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়াও অত্যন্ত কঠিন হবে। দুই বছর আগের নিজেদের রিমান্ডের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের বর্তমান মানসিকতা, তাদের তাজা রক্ত ও অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করলে জুলাইকে বাদ দিয়ে দেশে রাজনীতি করার কথা চিন্তা করাও অসম্ভব।
খাল খনন কর্মসূচির ওই পরিদর্শনকালে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ, জেলা বিজেপি সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহসহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার পার্থ ভোলা সদর উপজেলার চরম নদীভাঙন কবলিত শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। আগামী একনেক সভায় ওই এলাকার ভাঙন রোধে পর্যাপ্ত সরকারি অনুদান ও বরাদ্দ পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি পরিচালিত খাল খনন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
/আশিক
সময় থাকতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনুন: জামায়াত আমির
মিরপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবদলের এক কর্মী নিহত এবং আরও দুজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি প্রদান এবং দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় জামায়াত আমির নিহতের আত্মার মাগফিরাত প্রার্থনা এবং আহত ব্যক্তিদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।
সামাজিক যোগযোগমাধ্যমের পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত রাতে রাজধানীর কাফরুলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যিনি প্রাণ হারিয়েছেন, তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে একই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আহত দুইজনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
তিনি প্রশাসনকে কঠোর বার্তা দিয়ে উল্লেখ করেন, ‘অনতিবিলম্বে খুনি ও দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। রাজপথে এ ধরনের খুনাখুনি সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি করে। রাষ্ট্রের ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবিলম্বে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণে এনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। পরিস্থিতি হাতছাড়া হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে যুবদলের এক কর্মী নিহত হন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে।
/আশিক
গণরায় না মানলে পাঁচ বছর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না সরকার: নাহিদ ইসলাম
সরকার যদি জুলাই বিপ্লবের সংস্কার পরিকল্পনা এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে তারা আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপির তারেক রহমানকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি জনরায়কে সম্মান জানিয়ে পাঁচ বছর নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান, নাকি শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্বৈরশাসকদের মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে চান।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের বিচারের দাবিতে এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্ব রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশ-বিদেশে তরুণদের যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী উত্থান ঘটছে, তা মূলত জুলাই বিপ্লবেরই বিশ্বজনীন ধারাবাহিকতা। তিনি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ও জুলাই বিপ্লবীদের পক্ষ থেকে ভারতে আন্দোলনরত তরুণদের আন্তরিক সাধুবাদ জানান।
দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান তরুণদের প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী যখন গণদাবি ও তরুণ সমাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের নতুন সরকার সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটছে।
নাহিদ ইসলাম আফসোস প্রকাশ করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর গঠিত নতুন সরকার জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় বসেই তারা গণরায়কে অবজ্ঞা করা শুরু করেছে। গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে এবং 'জুলাই সনদের' পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট দিলেও সরকার সেই স্পষ্ট রায়কে এড়িয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নিজেদের দলের ভেতর কোনো গুণগত পরিবর্তন আনেনি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্যেও পৌঁছাতে পারেনি। তারা যদি জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগ, ১৪০০ শহীদের অবদান এবং তরুণদের রক্তের কথা ভুলে যায়, তবে এর পরিণতি তারেক রহমানের সরকারকেই চূড়ান্তভাবে ভোগ করতে হবে।
সংবিধান সংস্কার বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে 'সংস্কার নাকি সংশোধন' বিতর্ক তৈরি করার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। ঐকমত্য কমিশনে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে সাধারণ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী 'সংস্কার পরিষদ' বা 'গণপরিষদ'। ওই সময় বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও গণভোটে সম্মতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর তা বেমালুম ভুলে গেছে। তাদের দলীয় ২১ দফায় সংস্কারের কথা থাকলেও এখন তারা কেবল সংশোধনের কথা বলছে। একই সঙ্গে কিছু বুদ্ধিজীবীও এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে ৩১ দফার মুলা ঝুলিয়ে দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করে এসেছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তীব্র গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম মধ্যবিত্তের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বাজেটের নামে জনগণের ওপর অতিরিক্ত কর চাপানো হচ্ছে। সঠিক সংস্কার না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতাও মিলছে না। ফলে সংস্কার ও সঠিক বিচার না করলে তারেক রহমানের সরকার জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে আবারও নতুন করে দলীয়করণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় বর্তমান কমিশনারদের সসম্মানে পদত্যাগ করা উচিত।
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে এই সরকারকে আর কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া হবে না। তিনি সিলেটবাসীকে আহ্বান জানান, জুলাই বিপ্লবের মতো আবারও সুশাসন, সার্বভৌমত্ব ও গণরায়ের পক্ষে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে। তিনি নিশ্চিত করেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও পরিবর্তনের পক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য আগের মতোই সুদৃঢ় থাকবে।
/আশিক
নজরুলকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তাঁকে ঘিরে বিতর্ক এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আলোচনা প্রথমে দলীয় শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত আচরণের প্রশ্নে সীমিত থাকলেও এখন তা তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সেই সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্কে রূপ নিয়েছে। জামায়াত দলীয় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েই ২২ জুলাই তাঁকে বহিষ্কার করে।
বহিষ্কারের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন নতুন ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে। সর্বশেষ একটি ভিডিওতে তাঁকে এক নারীর সঙ্গে একটি হোটেলে প্রবেশ এবং লবি, করিডর ও সিঁড়িঘরে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর পূর্ণ প্রেক্ষাপট, ধারণের সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্ক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছে তার বাইরে কোনো সম্পর্ক বা অপরাধ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। বাংলাদেশ প্রতিদিনও নতুন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানিয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত একটি ভিডিও নিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, সেখানে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ভিডিওটি তাঁর সম্মতি ছাড়া ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই দাবির পরও বিতর্ক থামেনি। বরং জামায়াত নিজস্ব সাংগঠনিক তদন্ত শুরু করে এবং তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলন’ পাওয়ার কথা জানায়। এরপর রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বহিষ্কারের পর বিষয়টি শুধু দলীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি জামায়াত। ২৩ জুলাই দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরিত চিঠি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দপ্তর ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এখানেই সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সেই দল থেকে নিজে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। কিন্তু বর্তমান অনুচ্ছেদের ভাষায় দল কর্তৃক বহিষ্কারকে আলাদাভাবে আসন শূন্য হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই শুধু দল থেকে বহিষ্কার হলেই গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি সংবিধানের পাঠ থেকে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচনের পর অযোগ্য হয়ে পড়েছেন কি না অথবা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর আসন শূন্য হওয়া উচিত কি না, এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে। কমিশন শুনানি ও আইনগত পর্যালোচনার পর যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই চূড়ান্ত বলে সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে।
এই কারণেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সরাসরি সংসদ সদস্যের আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সংসদ বা স্পিকারের কাছ থেকে যথাযথ রেফারেন্স এলে কমিশন আইন অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে। এর ফলে গাজী নজরুলের ভবিষ্যৎ সংসদীয় অবস্থান নির্ধারণে স্পিকার, সংসদ সচিবালয় এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ওবায়দুর রহমান ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুলসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোস্তাসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।
ঘটনার প্রভাব পড়েছে গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগরেও। সেখানে তাঁকে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে। জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর স্থানীয়ভাবে মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
-রফিক
রাজপথে ও সংসদে সংগ্রাম চলবে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণা
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের রাজপথের লড়াই অবিরাম চলবে। দেশের জনগণের সম্পূর্ণ মুক্তি নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদের সর্বশেষ অবশিষ্টাংশ বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা', 'গণভোটের রায় বাস্তবায়ন' এবং 'জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে'র দাবিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের দেওয়া রায়কে কোনোভাবেই অবমাননা করা যাবে না। অতীতে যারা জনগণের জনমতকে তোয়াক্কা করেনি বা অপমান করেছে, ইতিহাস স্বাক্ষী তাদের চিরকাল চড়া মাশুল দিতে হয়েছে। তাই সময় গড়ালেও বর্তমান বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসীকে সম্মান দিলে তারাও সরকারকে গ্রহণ করবে এবং যথাযথ সম্মান ফেরত দেবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি টেনে জামায়াত আমির বলেন, ওই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের সার্বিক দায়িত্ব এককভাবে সরকারকেই বহন করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনের পর কেন সেই গণভোটকে সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ বলা হচ্ছে? যদি গণভোটই অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে সেই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধতা পায়—সরকারের কাছে সেই হিসাব দাবি করেন তিনি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেল, সেই বীর যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বা তাদের দেওয়া ঋণ শোধে সরকারের কোনো লক্ষণীয় উদ্যোগ নেই। অনতিবিলম্বে জুলাই আন্দোলনের গণহত্যাকারী ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
/আশিক
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
সংবাদে বেশ কিছু নাম ও রাজনৈতিক পদের তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলম কখনোই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদটি বর্তমানে তাদের কারও নয়। নাহিদ ইসলাম মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তবে আপনার দেওয়া সংবাদের মূল বক্তব্য ও গঠন ঠিক রেখে নিচে পুনর্লিখন করা হলো:
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। জামালপুরে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।
একইসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত কোনো অগ্রগতি না হলে আবারও রাজপথে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে তোলার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুর শহরের ফৌজদারি মোড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাপ্তির পর আয়োজিত এক জনসভায় এসব মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কেন রাষ্ট্রপতির মনে হলো যে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এই রাষ্ট্রপতিকে সরাতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেবল পদত্যাগ নয়, পদত্যাগের পর তার গ্রেপ্তার দেখতে চায় জনগণ।
জামালপুরের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আগের বছরও জামালপুরের সাধারণ মানুষ আন্দোলনকারীদের পাশে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি জেলা শহরের ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে—জেলা পুলিশ প্রশাসন ও পুলিশ সুপারকে সে হিসাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিলেও এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ গ্রহণ করা হয়নি। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও সতর্ক করে দেন, সরকার যদি জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য না দেয়, তবে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। সরকার নিজেদের নিরাপদ ভাবলে ভুল করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আবারও সারাদেশে ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির জামালপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ মো. শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশের শেষপর্যায়ে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এতে জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আবু সাইদ মো. শামীম এবং জামালপুর পৌরসভার মেয়র পদে আবিদ সৌরভকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
/আশিক
রাষ্ট্রপতির অপসারণকে সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন আসিফ মাহমুদ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে সুসংবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিজস্ব প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির বিষয়ে যে সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল, তা অনেক আগেই রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। এই ইস্যুতে বিএনপিকে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও বিষয়টিকে তারা যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে আরও লেখেন, সঠিক সময়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বর্তমানের এই বিতর্ক ও সমালোচনার কোনো সুযোগ থাকত না। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে এই অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলায় একে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তিনি।
/আশিক
আইনের ফাঁকফোকর নাকি সংবিধানের দোহাই? বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য নির্ধারণে জটিলতা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর এমপি পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চিফ হুইপ দাবি করেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর সংসদ সদস্যপদও হারাবেন এবং নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের মতে, চিফ হুইপের এই ধারণা আইনত সঠিক নয় এবং এটি সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “বহিষ্কার যদি করে থাকে, তাঁর সংসদ সদস্য পদও থাকবে না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দলে যোগ দেন বা দলের প্রতীকে নির্বাচিত হন, তবে তিনি দলের সদস্য। ফলে দল বহিষ্কার করলে তিনি আর পার্টির মেম্বার থাকেন না এবং সেই হিসেবে পদ হারাবেন। নির্বাচন কমিশনই তাঁর পদ হারানোর ঘোষণা দেবে।”
তবে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চিফ হুইপের এই যুক্তি আইনি ভিত্তিহীন। ৭০ অনুচ্ছেদের মূল লক্ষ্য হলো সংসদ সদস্যদের দল পরিবর্তন (Floor Crossing) রোধ করা।
অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল দুটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হয়
১. তিনি যদি নিজ রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ (Resign) করেন।
২. সংসদে নিজ দলের পক্ষে ভোট না দিয়ে দলের বিরুদ্ধে ভোটদান (Vote against the party) করেন বা অনুপস্থিত থাকেন।
সংবিধানে দল থেকে কোনো সদস্যকে ‘বহিষ্কার’ করা হলে পদ শূন্য হওয়ার কথা কোথাও উল্লেখ নেই। একাধিক আইনি বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দিয়েছেন, অতীতেও দল থেকে বহিষ্কৃত অনেক সংসদ সদস্য সংসদে তাঁদের পদে বহাল ছিলেন, কারণ দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া আর নিজে দলত্যাগ করা এক বিষয় নয়। দল কাউকে বহিষ্কার করলে তিনি সংসদে অনির্দিষ্টকালের জন্য 'স্বতন্ত্র' বা অবাধ্য সদস্য হিসেবে অবস্থান করার অধিকার রাখেন, যদি না তিনি নিজে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সম্প্রতি অনৈতিক সম্পর্কের বিতর্কিত ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শেষে জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রেক্ষাপটে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে পরিচালনা করে, তা এখন আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় একটি পরীক্ষামূলক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে
বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
দেশে ধর্ম ও রাজনীতির নামে নতুন বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও গুরুত্ব রয়েছে; ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মকে ছোট বা খাটো করার সুযোগ নেই।
বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত এক বিশেষ প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে একদম নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপি বা জামায়াত পরিচয়ে বিশেষ কোনো পক্ষপাত বা অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ ভালোবাসা অর্জন করেই নির্বাচিত হতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন, নতুন জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরবর্তীতে জাতীয় সংগঠন ও এডহক কমিটি গঠন করা হবে, যার জাতীয় কাউন্সিলে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন।
সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে নতুন সরকার শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন। চলতি বছরের মধ্যেই ৪১ লাখ পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, 'কৃষক কার্ড' চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা প্রদান এবং নদী ও খাল খনন কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের উন্নয়ন কেবল ইউএনও বা সরকারি আমলাদের দিয়ে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন বাড়াতে হবে। প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে বর্তমান সামান্য ভাতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্যায্য বরখাস্ত বন্ধে নতুন আইন পাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।
আওয়ামী লীগের অতীতের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব আরও যোগ করেন, “আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসাথে যেতে পারে না। ৭১ থেকে ২৪ পর্যন্ত যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে”।
সূত্র: বাসস
পাঠকের মতামত:
- ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন
- রাত ১টার মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, ১ নম্বর সংকেত
- পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের
- জাপানের ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা
- দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার
- মিরপুরে টিসিবির লাইনে মর্মান্তিক দেয়াল ধস, প্রাণ হারালেন ২ জন
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, উপকৃত ৭১৪ পরিবার
- যুক্তরাজ্যে ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম মেজবান অনুষ্ঠিত
- স্বৈরাচারের দুঃশাসনে ক্ষতবিক্ষত: ১০ নম্বর গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন বিএনপি
- ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন পদ্ধতি
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা বাড়ল
- ২০৩০ বিশ্বকাপ ঘিরে ফিফার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, খেলা হবে ৬ দেশে
- সুন্দর দেশ গড়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ২০৩৬ সালের মধ্যে অর্থের প্রয়োজনই ফুরিয়ে যাবে: ইলন মাস্ক
- জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে বিদেশের লিগে নতুন শুরুর সামনে শামীম
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইউক্রেন ও হুতিদের প্রবেশে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত ইরান যুদ্ধ
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক কৌশল: ব্যারিস্টার পার্থ
- লেবাননে হামলা না থামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: মোজতবা খামেনি
- হজ ২০২৭: প্রাথমিক নিবন্ধনের বিস্তারিত নিয়ম জারি করল সরকার
- শর্ত সাপেক্ষে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর অনুমতি
- অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: শামা ওবায়েদ
- পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি বহাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
- দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ
- ফরিদপুরে হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানে সোলার লাইট চুরি, অন্ধকারে আচ্ছন্ন এলাকা
- কোরআনের চোখে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারা?
- মার্ভেল ভক্তদের জন্য দারুণ খবর: 'ব্ল্যাক প্যান্থার ৩' মুক্তির সব তথ্য প্রকাশ্যে
- প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে জামায়াত ও বিদেশি শক্তির হাত: শুভেন্দু অধিকারী
- হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইনের আঘাতে তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ
- জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান স্থগিতকে নিজেদের কৌশলগত জয় দাবি করল ইরান
- বিশ্বকাপ ফাইনালই ছিল মেসির শেষ ম্যাচ, বিস্ফোরক বার্তা সতীর্থ পারেদেসের
- উত্তাল বঙ্গোপসাগর: আরও শক্তি সঞ্চয় করছে মৌসুমি নিম্নচাপ
- সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল নিয়ে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস
- শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যাওয়া লাগে না, ঢাকাতেই সম্ভব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে: আইনমন্ত্রী
- সময় থাকতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনুন: জামায়াত আমির
- আগের অবস্থান থেকে সরেনি বিচার বিভাগ: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
- শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর এবার দিল্লিতে সরকার পতনের ডাক
- যুক্তরাজ্যে ‘‘দ্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল’’ এর উদ্যোগে মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত
- এশীয় সফরে তিন ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা, তৃতীয় ভেন্যু হতে পারে কলকাতা
- বৃষ্টির দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
- গণরায় না মানলে পাঁচ বছর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না সরকার: নাহিদ ইসলাম
- হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে গুলির ঘটনা, নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি
- জয়ী ছাত্র আন্দোলন: যন্তর মন্তর ছেড়ে ঘরে ফেরার ডাক দিল সিজেপি
- ফাইনাল হারলেও ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে বড় সুখবর পেল আর্জেন্টিনা
- বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ, চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
- চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সান্তোস, নজর নেইমারে
- মধ্যপ্রাচ্যে ছড়াচ্ছে যুদ্ধ: ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে যৌথ হামলা বাহরাইন-কুয়েতের
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও থামছে না সিজেপির আন্দোলন, বাকি ২ দাবি
- আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
- সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
- তেল রপ্তানি বন্ধ হলে কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন ভরিপ্রতি সর্বশেষ দাম
- কমনওয়েলথ গেমস থেকে দ্য হানড্রেড, আজকের সূচি
- গ্রেফতারের পর মোদিকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
- বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বল জয়ের পরই রদ্রির জন্য বড় দুঃসংবাদ
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে যা জানিয়েছে রয়টার্স
- স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত
- তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা
- ইরানের জব্দ অর্থ এবার জাহাজের ক্ষতিপূরণে!
- গাজী নজরুলের বিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়, ভাইরাল কাজীর অডিও
- গাজী নজরুল বিতর্কে ফেসবুকে তাসনিম জারার বক্তব্য
- বেসরকারি হজে কত খরচ? প্রকাশ হলো ৩ প্যাকেজ








