ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা, মুসলিম ঐক্যের ডাক দিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৯:৩০:২২
ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা, মুসলিম ঐক্যের ডাক দিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানান এবং ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি অভিনন্দনপত্র তাঁর কাছে হস্তান্তর করেন।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক মেলবন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ ও জালাল উদ্দিন রুমির মতো বিশ্বখ্যাত পারস্য মনীষীদের সাহিত্যকর্মের প্রভাব তুলে ধরেন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীতে ইরানের মানুষের প্রতি অনুরাগের কথা স্মরণ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ছে। তিনি সংলাপ, সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। ইরানে চলমান সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানিতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্যের ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি।

ইরানের রাষ্ট্রদূত মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের ঘটনাটি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। আগামী দিনে বাণিজ্য, সংস্কৃতিসহ বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। জবাবে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রদূতকে পূর্ণ সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইরান দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জুলাই বিপ্লবের ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ফিরছে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৯:২৬:১১
জুলাই বিপ্লবের ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ফিরছে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন ও রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেন, নাগরিকের জান-মালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধানতম অগ্রাধিকার। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের (জামায়াতে ইসলামী) টেবিলে উপস্থাপিত এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ ও সহিংস অপরাধ কঠোর হস্তে দমনে বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক তৎপরতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সংকটকালীন পরিস্থিতি ও ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে বাহিনীর মনোবল পুরোপুরি ফিরিয়ে এনে পুলিশকে পূর্ণ শক্তিতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের উপযোগী করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে গৃহীত ত্রিস্তরীয় কৌশলগত রূপরেখার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও বড় ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশ নিরবচ্ছিন্ন অপারেশনাল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে বলেও সংসদকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

/আশিক


সংসদ সদস্যদের নম্বর হ্যাক করে টাকার দাবি: অধিবেশনে সতর্ক করলেন চিফ হুইপ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৯:১৩:০৬
সংসদ সদস্যদের নম্বর হ্যাক করে টাকার দাবি: অধিবেশনে সতর্ক করলেন চিফ হুইপ
ছবি : সংগৃহীত

মুঠোফোনের নম্বর হ্যাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কবজা, ভয়েস ক্লোনিং এবং স্বাক্ষর জাল করে জাতীয় সংসদ সদস্যদের নামে প্রতারণার ঘটনায় আইনপ্রণেতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই গুরুতর সাইবার প্রতারণার বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনেন এবং সরকারি ও বিরোধী—উভয় দলের সংসদ সদস্যদেরই এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।

চিফ হুইপ নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সংসদকে জানান, তাঁর কাছেও সহকর্মী সংসদ সদস্যদের নম্বর ব্যবহার করে ‘জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা পাঠান’, ‘৩০ হাজার টাকা পাঠান’ কিংবা ‘২৫ হাজার টাকা পাঠান’ লিখে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের সংযোগে পাওয়া যায়নি, যা প্রমাণ করে তাদের মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকার চক্রের কবলে চলে গেছে। তিনি বলেন, শুধু আর্থিক প্রতারণাই নয়; আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভয়েস ক্লোন করা এবং সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষর হুবহু জাল করে নথিপত্র তৈরির মাধ্যমেও নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে চক্রটি। এই অভিনব প্রতারণা সম্পর্কে আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের কল্যাণে সারা দেশের মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় অধিবেশন পরিচালনাকারী ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল চিফ হুইপের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মূল দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগ তথা রাষ্ট্রের; ব্যক্তি পর্যায়ে ভুক্তভোগীদের এখানে কোনো দায় নেই। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে চিফ হুইপ জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ইতোমধ্যে এ ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুততম সময়ে কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।

এর আগে একই অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদীয় ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর আলোকপাত করেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের সব লবিতে আধুনিক ‘ফেস রিডিং’ বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ ডিভাইস থাকা সত্ত্বেও উপস্থিত প্রায় ১২০-১২২ জন সদস্য ছাড়া বাকিরা তা নিয়মিত ব্যবহার করছেন না। সংসদ সচিবালয়ের নির্দেশনার আলোকে সংসদের প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় সব সংসদ সদস্যকে বাধ্যতামূলকভাবে ফেস রিডিং ডিভাইস ব্যবহারের অনুরোধ জানান তিনি।

/আশিক


ডিএমপির সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি মামলায় দুদকের বড় পদক্ষেপ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ২১:৪১:১৫
ডিএমপির সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি মামলায় দুদকের বড় পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও তাঁর ভাই এ বি এম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দায়েরকৃত এ মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

দুদকের দীর্ঘ তদন্তে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা (১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকা) এবং তাঁর ভাই শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অকাট্য তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, হারুনের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকা। তবে আয়কর নথি খতিয়ে দেখে তাঁর ব্যয় বাদে নিট বৈধ সঞ্চয় পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা। হারুনের দৃশ্যমান সম্পদের তালিকায় রয়েছে দক্ষিণখানের আশিয়ান সিটিতে ৫ কাঠার প্লট, বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮২ একর জমি, বনানীতে ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ জমিসহ বহুতল ভবন, উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে আটতলা আলিশান বাড়ি এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও টেকনাফের মূল্যবান জমি।

অন্যদিকে হারুনের ভাই এ বি এম শাহরিয়ারের মোট ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার সম্পদের বিপরীতে বিগত পাঁচটি করবর্ষের হিসাব পর্যালোচনায় পারিবারিক ব্যয় বাদে সঞ্চয়ের সক্ষমতা মিলেছে মাত্র ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা; যার ফলে অবশিষ্ট ১৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দুদকের তদন্তে স্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে যে, পুলিশের শীর্ষ ক্ষমতাধর পদে থাকার সুযোগ নিয়ে হারুন ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন এবং অপরাধলব্ধ আয়ের উৎস গোপন ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং সম্পন্ন করেন। তাঁর ভাই শাহরিয়ার এসব অর্থ স্থানান্তর ও সম্পদ আড়াল করতে প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখেন। এর প্রেক্ষিতে তাঁদের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, দণ্ডবিধির ১০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ২১:০৪:১২
কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কৃষিকাজে ব্যবহৃত সব ধরনের ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের পরিবর্তে কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প সরবরাহ করা হবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান জানান, সেচ ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে ডিজেলভিত্তিক পাম্পগুলোকে পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আমদানিনির্ভরতা হ্রাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করেছে। এই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরপ্রকল্প থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য ও পানিবিদ্যুৎসহ অন্যান্য অপ্রচলিত উৎস থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচশত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো অপরিহার্য যন্ত্রাংশের ওপর থেকে শুল্ক ও বিভিন্ন কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া নেট মিটারিং পদ্ধতির আওতায় ছাদভিত্তিক উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে আগামী তিন বছরের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাটারি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রচলিত অ্যাসিডযুক্ত লেড ব্যাটারি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় সরকার লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। দেশে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারী শিল্পকারখানা স্থাপনে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নীতিগত চিন্তাভাবনাও সরকারের রয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

/আশিক


মহানগরের উড়াল সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধানের রূপরেখা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৯:৫০:১২
মহানগরের উড়াল সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধানের রূপরেখা
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপন সম্পন্ন হলে তেজগাঁও টোল প্লাজাসহ পুরো এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের তীব্র চাপ লক্ষণীয় মাত্রায় কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে ধীরগতি ও কারিগরি জটিলতার কারণে সৃষ্ট যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন সেতুমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে তিন ধাপে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাওলা থেকে বনানী এবং বনানী থেকে মগবাজার হয়ে কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত রুটের মধ্যে বর্তমানে কাওলা থেকে এফডিসি ক্রসিং পর্যন্ত অংশটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এই চালু থাকা অংশে স্থাপিত বিমানবন্দর, কুড়িল, বনানী-১, বনানী-২, মহাখালী ও তেজগাঁও—এই পাঁচটি টোল প্লাজার মধ্যে বিমানবন্দর ও তেজগাঁওয়ে গাড়ির চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। মূলত তেজগাঁও ছাড়া বর্তমানে উত্তরমুখী হওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই জট তৈরি হচ্ছে। তবে এক্সপ্রেসওয়ের মূল নকশা অনুযায়ী সোনারগাঁও গোলচত্বর থেকে উত্তরমুখী আরও একটি প্রবেশ র‍্যাম্পের নির্মাণকাজ চলছে, যা চালু হলে চাপ বিভক্ত হয়ে যাবে।

এর পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ এবং নির্মাণাধীন র‍্যাম্পগুলো পুরোপুরি চালু হলে তেজগাঁওসহ এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে বিদ্যমান ট্রাফিক চাপ অনেকটাই নিরসন হবে।

টোল প্লাজায় দীর্ঘসূত্রতা দূর করে টোল আদায় প্রক্রিয়া দ্রুত ও আধুনিক করতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতি কার্যকর করার তথ্যও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, বর্তমানে চালু থাকা অংশের বিমানবন্দর প্লাজায় ৬টির মধ্যে ২টি লেন, কুড়িলে ৬টির মধ্যে ২টি লেন, বনানী-১ এ ৫টির মধ্যে ১টি লেন এবং তেজগাঁও টোল প্লাজায় ৪টির মধ্যে ২টি লেনসহ সর্বমোট ৭টি লেনে স্বয়ংক্রিয় ইটিসি ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এই ডিজিটাল টোল সিস্টেমে মোট ১ হাজার ৮৭৭টি গাড়ি সফলভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।

/আশিক


বাঁধনের ওপর হামলার জেরে ভিসায় প্রভাব পড়বে কি? যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:৫১:১১
বাঁধনের ওপর হামলার জেরে ভিসায় প্রভাব পড়বে কি? যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি ও লজিস্টিক সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, মিলানের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে বাঁধনের দায়ের করা মামলার কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিনি যতদিন ইতালিতে অবস্থান করবেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ইতালি বা ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না—এমন আশঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, প্রবাসে অবস্থানের ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশের প্রচলিত আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের আবশ্যিক দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী কিংবা চাকরিজীবীরা যখন যুক্তরাজ্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে যান, তখন স্থানীয় বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাটাই স্বাভাবিক সাধারণ রীতি। ভেনিসের ঘটনাকে অত্যন্ত জঘন্য হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মিলান কনস্যুলেটের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে বাঁধনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর করা ফৌজদারি মামলা পরিচালনা ও আইনি সুরক্ষায় রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা সর্বোচ্চ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

বিদেশের মাটিতে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করে। শুধু ভেনিসের এই ঘটনাই নয়, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই প্রবাসী কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার হলে কিংবা দেশের অভ্যন্তরে এমন কোনো ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে সরকারপ্রধান অত্যন্ত কঠোর হাতে তা দমন ও নিয়ন্ত্রণ করবেন বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

/আশিক


ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:১৫:৩৩
ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, ফ্যাসিবাদের নাগপাশ ছিন্ন করে জাতি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে বটে, তবে এর জন্য চুকানো মূল্য ছিল অপরিসীম।

রাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারী আহতদের ত্যাগের ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবে না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি সচিব এবং জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা।

সাধারণ দর্শনার্থীর মতো প্রবেশ টিকিট কেটে জাদুঘরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ নামের বিশেষ পদচারণ পথ ধরে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক বাঁক প্রত্যক্ষ করেন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের দুঃশাসনের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে নির্মিত শহীদ স্মারক এবং কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’-এর প্রতিরূপ ঘুরে দেখেন তিনি। অভ্যুত্থানের শহীদ ও ত্যাগীদের অমর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে জাদুঘর চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপ্রধান। একই সাথে তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহের নারকীয় হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের নির্মম অভিযান, গুমের ঘটনা ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের নানাবিধ ঐতিহাসিক প্রমাণাদি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত শহীদদের ব্যক্তিগত চিঠি, স্মারক এবং আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল মুহূর্তগুলোর চিত্র দেখার সময় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন। পরবর্তীতে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র চলাকালে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। পরিদর্শন সমাপ্ত করে মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষরকালে রাষ্ট্রপতি লেখেন, এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়পরায়ণ, শোষণহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই সমকালীন প্রধান কর্তব্য। আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এই জাদুঘরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি দেশে আর কোনোদিন যেন এমন বর্বর হত্যাযজ্ঞ ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার তাগিদ দেন।

শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ছাত্র-জনতার নিঃস্বার্থ রক্তদান বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও মুক্তির ইতিহাসে এক অবিনাশী অধ্যায় হয়ে থাকবে। শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি জাতি এই বীরত্বকে আজীবন কৃতজ্ঞতায় স্মরণে রাখবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতির সামনে প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক নথির বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

/আশিক


প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির ৯টি মূল কারণ জাতীয় সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:০৯:৪৯
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির ৯টি মূল কারণ জাতীয় সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বৃদ্ধির পেছনে সুনির্দিষ্ট একাধিক কাঠামোগত কারণ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্প অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং কেনাকাটা বা ক্রয় প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান নানা দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার জন্ম দেয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সীমা ও আর্থিক ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বর্তমান সরকারের নজরে আসার পরই তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও বাড়তি ব্যয়ের পেছনে থাকা মূল কারণগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চিহ্নিত সমস্যাগুলোর বিশদ বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্বল সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি, শুরুতেই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঠিক হিসাব না থাকা, অনুপযুক্ত প্রকল্প এলাকা নির্বাচন, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং সেবা সংযোগ বা ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

এছাড়া সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় নেওয়া, যথাসময়ে প্রকল্প পরিচালক বা পিডি নিয়োগ না দেওয়া, তদারকি ও নজরদারির ঘাটতি এবং অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাজেটের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাবকেও প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জটিল এই সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু আধুনিক ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

/আশিক


ব্যাংক খাতের সাবেক শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:০৫:২৬
ব্যাংক খাতের সাবেক শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধান
ছবি : সংগৃহীত

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থিক খাতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গভীর যোগাযোগ ও শীর্ষ পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বছরের পর বছর ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) শীর্ষ পদটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

এই প্রভাবকে ব্যবহার করে তিনি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এক ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও তহবিলের নামে অন্যান্য ব্যাংকের ওপর চাঁদা আদায়ের চাপ তৈরির অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে, যার কারণে সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে। এই অঘোষিত ক্ষমতার জোরেই তিনি দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণের জালে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন, যার সিংহভাগ দেশে উৎপাদনশীল খাতে না রেখে অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে পাচার করে গড়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক সম্পদের সাম্রাজ্য।

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এই বিপুল বিস্তার খতিয়ে দেখতে গিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুক্তরাজ্য, হংকং এবং ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত স্বায়ত্তশাসিত আইল অব ম্যান ও জার্সি দ্বীপপুঞ্জে নজরুলের বিপুল আর্থিক সাম্রাজ্যের সুনির্দিষ্ট সন্ধান পেয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, আমদানি-রপ্তানির ভুয়া লেনদেন, ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যের আড়ালে এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।

টাকা সরানোর এই অবিশ্বাস্য কৌশলের কারণে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের চোখে তিনি ছিলেন এক 'ম্যাজিক মাস্টার'। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জার্সি দ্বীপের বিখ্যাত ইউবিএস ব্যাংকে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামের প্রকৃত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড'-এর হিসাবে থাকা প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড (৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড) আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অর্থ যাতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া না যায়, সে লক্ষ্যে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এই অ্যাকাউন্ট ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দের আনুষ্ঠানিক আদেশ দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১৯ সালের মে মাসে আইল অব ম্যানের ঠিকানায় 'ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড' প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং একই বছরের অক্টোবরে জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে হিসাব খুলে পাচার করা বিপুল অর্থ জমা রাখা শুরু হয়। ব্যাংকঋণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই অর্থ সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছিল। অন্যদিকে দেশের ব্যাংকগুলোতে নজরুলের প্রতারণার জাল ছিল সমান বিস্তৃত। নাসা গ্রুপের বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও সুতা তৈরির প্রতিষ্ঠানের নামে এক ব্যাংকের ঋণ দিয়ে আরেক ব্যাংকের দায় শোধ এবং বিশেষ বিবেচনায় নিয়মবহির্ভূত ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলের কৌশল চালিয়ে গেছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনেও এসব অনিয়মের সত্যতা মেলে, যার মধ্যে শুধু একটি ব্যাংক থেকেই নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে, যার প্রায় ৯৯৮ কোটি টাকাই দেওয়া হয়েছিল অনৈতিক বিশেষ সুবিধায়। দেশীয় ব্যাংকগুলোকে ফাঁকা করে বিদেশে একাধিক কাগুজে কোম্পানি খুলে ব্যবসা পরিচালনা, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ এবং সম্পদ অর্জনের এই পুরো নেটওয়ার্ক এখন দুদকের আইনি জালে আটকা পড়তে শুরু করেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশের প্রাক্কালে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)... বিস্তারিত