আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, দেশের বাজারে উল্টো পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৮:০৫:৩৭
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, দেশের বাজারে উল্টো পতন
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক সূচকে কিছুটা পতন দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রিনিচ মান সময় (GMT) সকাল ৬টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মূল মান পরিবর্তনহীনতার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগস্টে সরবরাহযোগ্য স্বর্ণের ফিউচার্স মার্কেট লেনদেন পরিচালনা করছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও সুদের হার সংক্রান্ত স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা চোখ রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী সভার ওপর। ফেড চেয়ারম্যানের বার্তা এবং ডলারের মানের তারতম্যই আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মূল্যবান ধাতুর বাজারের দিক নির্ধারণ করবে।

এদিকে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও স্থানীয় চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের বাজারে ফের কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকেই দেশজুড়ে নতুন এই নির্ধারিত দর কার্যকর রয়েছে।

বাজুসের নতুন রেট অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি (খাঁটি) স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার সমন্বয় করে দাম আবার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৯:৩৪:২৭
রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে লিটারপ্রতি ১৫ টাকা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়েরও জোরালো দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তবে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলেও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি ও বাজারমূল্য পর্যালোচনা করার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত পরিবহন এবং আমদানি ব্যয় যুক্ত হওয়ায় আগের দামে পণ্য সরবরাহ করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতেই রমজানের আগেই ভোজ্যতেল লিটারপ্রতি ১৫ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। অন্যদিকে, খেজুর আমদানিকারকরা জানান যে বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয়। উচ্চ শুল্কায়নমূল্য এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সার্বিক আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। তারা আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পণ্য পরিবহনে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং বিকল্প পথে পণ্য আনতে বাধ্য হওয়ায় খরচ আরও বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে চলমান জটিলতাগুলো দূর না হলে আসন্ন রমজানে পণ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ মিসর, সৌদি আরব, ইরা ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করে থাকে। কিন্তু সব ধরনের খেজুরের জন্য যদি একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হয়, তবে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই খেজুরের জাত, মান এবং প্রকৃত বাজারমূল্য বিবেচনা করে একটি অত্যন্ত যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এসংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে রমজানকে সামনে রেখে দেশের বাজারে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভোজ্যতেল আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার টন।

একই সময়ে ভোজ্যতেল আমদানির জন্য ৮ লাখ ৫ হাজার টনের ঋণপত্র খোলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। একইভাবে, চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, যা গত বছরের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি এবং এর বিপরীতে ৮ লাখ ১০ হাজার টনের এলসি খোলা হয়েছে। রমজানের ইফতারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছোলার আমদানিও ব্যাপকহারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৮২ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১২ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ছোলা আমদানি বেড়েছে ৭০ হাজার টন এবং এর জন্য ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের ঋণপত্র খোলা হয়েছে। এছাড়া মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা গত বছরের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি এবং খেজুর আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টন, যা গত বছর ছিল মাত্র ৪ হাজার টন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পবিত্র রমজান মাসে ইফতার ও সেহরির কারণে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুর, মুরগি ও ডিমের চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

বৈঠকে বড় ব্যবসায়ীদের আধিপত্যের কারণে ছোট ডাল মিলগুলোর সংকটের বিষয়টিও জোরালোভাবে উঠে আসে। বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী নেসার উদ্দিন জানান, দেশের ছোলার চাহিদা সম্পূর্ণভাবেই আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং ডালের মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বড় ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় ছোট ডাল মিলগুলো টিকতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ছোট ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

অন্যদিকে, পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা বৈঠকে জানান যে বর্তমানে দেশের বাজারে ডিম ও মুরগির উৎপাদন সন্তোষজনক ও স্বাভাবিক রয়েছে। খামার পর্যায়ে ডিমের দাম প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা থেকে কমে ১০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। বড় ধরনের কোনো রোগবালাইয়ের প্রকোপ না থাকায় আসন্ন রমজানে পোল্ট্রি পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় জানানো হয়েছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা বাড়লেও মসুর ডালের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে কোনো ধরনের শুল্ক-কর না থাকলেও চিনি ও ফল আমদানির বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা হলে বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় রাখা সম্ভব হবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, রমজান মাসে এক মাসেই শুধু চিনির চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টনে গিয়ে ঠেকে। একই সঙ্গে ভোজ্যতেল, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের চাহিদাও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। মুরগি ও ডিম ছাড়া এসব নিত্যপণ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য মূলত আমদানির ওপরই ভরসা করতে হয়। তাই রমজানের বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত আমদানি এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করার এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানান।

এ ক্ষেত্রে সরকার ব্যবসায়ীদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, এনবিআর, টিসিবি, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, এফবিসিসিআই এবং পুলিশ, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের উর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


স্বর্ণের বাজার নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৮:১৬:০৮
স্বর্ণের বাজার নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার বড় ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৩০০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। আন্তর্জাতিক এই বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়েছে যে, এর ফলে ভারতের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম লাইভমিন্টের গত ২৭ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেপি মরগ্যান এর আগে পূর্বাভাস দিয়ে বলেছিল যে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ডলারে পৌঁছাবে। আর তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তা আরও বেড়ে ৬ হাজার ৩০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে।

ভারতের বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (এমসিএক্স) গত ২৯ জানুয়ারি প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম রেকর্ড ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৯ রুপিতে উঠেছিল। তবে পরবর্তীতে দরপতনের ধারায় গত ২৭ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে দাম কমে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ রুপিতে নেমে আসে। বর্তমান বাজারদর এবং মুদ্রার বিনিময় হার বিবেচনা করলে ভারতের বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা হতে পারে। সেই হিসেবে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদহার হ্রাসের সম্ভাবনা, মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান এবং বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। পাশাপাশি, মূল্যস্ফীতির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সম্পদের সুরক্ষা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের বাড়তি চাহিদাও এর দাম বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে স্বর্ণের দাম দীর্ঘমেয়াদে বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও স্বল্প মেয়াদে বাজারের গতিপ্রকৃতি বেশ অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে মার্কিন সুদের হার, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় যেকোনো ধরনের পরিবর্তন স্বর্ণের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জেপি মরগ্যানের পূর্বাভাস অনুযায়ী দাম বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও, নির্দিষ্ট সময়ে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কি না—তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা নেই।

এদিকে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজার প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, এই হিসাবটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের বাজারদর ও মুদ্রা বিনিময়ের হারের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারের পূর্বাভাস নয়। মূলত আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, দেশীয় শুল্ক, ভ্যাট, কর এবং স্থানীয় বাজারের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম ভিন্ন হতে পারে।

/আশিক


নতুন পে-স্কেলে ভাতা না বাড়ায় বড় ধাক্কা, হতাশ সরকারি কর্মচারীরা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ২০:৩৩:০৫
নতুন পে-স্কেলে ভাতা না বাড়ায় বড় ধাক্কা, হতাশ সরকারি কর্মচারীরা
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং গত ৫ অক্টোবর থেকে আইবাসে (iBAS++) তথ্য হালনাগাদ শুরু হয়েছে। নতুন এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বর্ধিত অর্থ কর্মীরা পেলেও আপাতত ৩০ জুনের হারেই ভাতা বহাল রাখা হয়েছে এবং ভাতা বাড়েনি। অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার কর্মচারীরা এই কাঠামোর আওতায় রয়েছেন।

এদিকে বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত ও এর প্রভাব নিয়ে বিশিষ্টজনেরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মন্তব্য করেছেন যে, শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমে না; বরং মনিটরিং জোরদার ও দুর্নীতিবাজদের কঠোরভাবে দমন না করলে মাসিক বেতন কোটি টাকা করলেও দুর্নীতি বন্ধ হবে না। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, বেতন বৃদ্ধির ফলে অর্থের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও তা ১৭ কোটি মানুষের দেশে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো পর্যায়ে পৌঁছায় না। তবে এর সামগ্রিক প্রভাব অর্থনীতির ওপর পড়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সুসমন্বয় বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মত দিয়েছেন।

/আশিক


এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে যেভাবে দেখবেন বিলম্বের প্রদেয় অর্থের পরিমাণ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৮:৩৯:২৫
এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে যেভাবে দেখবেন বিলম্বের প্রদেয় অর্থের পরিমাণ
ছবি : সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে কত টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে, তা নিয়ে করদাতাদের মনে নানা প্রশ্ন থাকে। তবে সবার জন্য জরিমানার পরিমাণ এক নয়; করবর্ষ, করদাতার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনি বিধান অনুযায়ী এই অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে খুব সহজেই বিলম্বে রিটার্ন জমা দেওয়ার সম্ভাব্য প্রদেয় অর্থ দেখে নেওয়া সম্ভব।

ই-রিটার্ন সিস্টেমে বিলম্বে রিটার্ন জমা দেওয়ার সম্ভাব্য খরচ বা জরিমানার পরিমাণ দেখার ধাপগুলো হলো

১. প্রথমে এনবিআরের ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: https://etaxnbr.gov.bd/

২. নিজের টিআইএন ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।

৩. পেজের ওপরের Assessment Year অপশন থেকে সংশ্লিষ্ট করবর্ষ নির্বাচন করুন।

৪. মেনু থেকে Submission → Regular e-Return অপশনে প্রবেশ করুন।

৫. Return Scheme অংশে ‘Delayed u/s 174’ লেখা রয়েছে কি না তা চেক করুন; এটি থাকলে বুঝবেন রিটার্নটি বিলম্বে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

৬. পরবর্তী ধাপগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে Save & Continue চাপুন।

৭. এরপর Tax & Payment অংশে যান।

৮. সেখানে Total Amount Payable (u/s 174) ঘরে প্রদর্শিত অর্থ দেখে নিন। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হতে পারে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

জরিমানা কি সবার জন্য একই?

না, সবার জন্য জরিমানার পরিমাণ এক নয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত করের হিসাব প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যদিকে, ধারা ২৬৬ অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার জন্য জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। তাই সিস্টেমে প্রদর্শিত Total Amount Payable-এর পুরো অর্থকে কেবল জরিমানা মনে করা ঠিক নয়, কারণ এর মধ্যে প্রযোজ্য কর ও অন্যান্য ফি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এছাড়া ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট থেকে আগের বছরের রিটার্ন দেখতে Tax Record → Return এবং রিটার্নের ইতিহাস দেখতে Tax Record → History অপশনে যেতে হবে। অন্যদিকে, রিটার্ন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ সংগ্রহ করতে Tax Record → Acknowledgement অপশনে গিয়ে সহজেই তা ডাউনলোড করা সম্ভব।

/আশিক


ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় লাগাম টানছে স্বর্ণের বাজারমূল্য

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৮:১৫:১৭
ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় লাগাম টানছে স্বর্ণের বাজারমূল্য
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হ্রাসের ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন মুদ্রানীতি বৈঠকের ঠিক আগে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪ দশমিক ৪৯ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে গত শুক্রবার দাম কমে ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে নেমেছিল, যা ছিল গত ২০ জুলাইয়ের পর থেকে সর্বনিম্ন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বরের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভোর মতে, অনেক বিনিয়োগকারী প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের এই স্তরটিকে স্বর্ণ কেনার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন, যা অতীতেও দামের জন্য শক্তিশালী সমর্থন জুগিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলারে নেমে আসায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও, আগামী দিনে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কা স্বর্ণের দামের বড় লাফে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। তবুও বিনিয়োগকারীরা আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর মাসের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারের এই ওঠানামার প্রভাব হিসেবে দেশের বাজারেও বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


আন্তর্জাতিক বাজারের পতনের ধাক্কা, দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম কত?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৮:৫০:৪৯
আন্তর্জাতিক বাজারের পতনের ধাক্কা, দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম কত?
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে দরপতন। গত নয় মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ১ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি। সর্বশেষ গত রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ৩ হাজার ৯৯০ ডলারে, যা গত ২৯ জানুয়ারি রেকর্ড করা হয়েছিল ৫ হাজার ৩১৮ ডলারে। বিশ্ববাজারে সাধারণত আউন্স হিসেবে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়। সে হিসেবে প্রায় ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রামের এক আউন্স এবং ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামের এক ভরি অনুযায়ী এক আউন্স স্বর্ণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ দশমিক ৪৩ ভরি।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই পতনের প্রভাব রয়েছে দেশীয় বাজারেও। দেশের বাজারে রোববার ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং এর জেরে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখার জোরালো সম্ভাবনা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের পরিবর্তে সুদযুক্ত সম্পদে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী হন। সম্প্রতি সৌদি আরবে হুথিদের হামলার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানির এই উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

তাছাড়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি তেলের দামের পাশাপাশি বন্ডের মুনাফাও বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিকভাবে স্বর্ণের বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মূল নজর রয়েছে আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারণী বৈঠকের দিকে। একই সঙ্গে মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের নতুন তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে বাজার, যা মূল্যস্ফীতি পরিমাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা এবং সুদের হার সংক্রান্ত আগামী সিদ্ধান্তগুলোর ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ।

/আশিক


চার মাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ সাপ্তাহিক পতনের মুখে মূল্যবান ধাতু

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৭:২৮:৫৭
চার মাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ সাপ্তাহিক পতনের মুখে মূল্যবান ধাতু
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে স্বর্ণের বাজার। টানা দরপতনের ফলে মূল্যবান ধাতুটির দাম গত চার মাসেরও অধিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন হতে চলেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৩.৩৪ ডলারে নেমে আসে, যা গত ২০ জুলাইয়ের পর থেকে সর্বনিম্ন। চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে স্বর্ণের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া ডিসেম্বরে সরবরাহের নির্ধারিত মার্কিন ফিউচার চুক্তিতে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে হুথিদের ড্রোন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। তেলের দাম দীর্ঘ সময় ঊর্ধ্বমুখী থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যার ফলে ফেড দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখতে পারে। যেহেতু স্বর্ণ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সুদ আয় হয় না, তাই সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক লাভজনক বা সুদবাহী সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যা সরাসরি স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাজারের সার্বিক দৃষ্টি এখন আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের ওপর নিবদ্ধ রয়েছে। বাজারের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বরে তা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্বর্ণের পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুগুলোর দামও নিম্নমুখী রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৮:২৪:৩৭
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়া, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ এবং সৌদি আরবের একাধিক তেল অবকাঠামোয় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।

এরই জেরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় নিকট ভবিষ্যতেও তেলের আকাশছোঁয়া দাম অব্যাহত থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.৩৫ ডলার বা ৩.০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১২.১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত ১৮ মে-র পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ২.৬৮ ডলার বা ২.৭৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। পিভিএম অয়েলের প্রখ্যাত বাজার বিশ্লেষক তামাস ভার্গা পরিস্থিতি মূল্যায়নে জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আক্রমণ এবং সৌদির তেল অবকাঠামোয় হুথি হামলার ধাক্কায় মধ্যপ্রাচ্যের স্বাভাবিক তেল সরবরাহের খবরগুলো পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে।

এদিকে সৌদি আরবে মার্কিন মিশনের কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারকে অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। বুধবার সৌদির দাম্মাম বেসামরিক বিমানবন্দর ও একটি তেলক্ষেত্রে হুথি হামলায় চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে, ইরানের আইআরজিসি স্পষ্ট সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পুনরায় কঠোর আঘাত হানা হবে। ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার এই চরম অবনতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য স্টার


বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দরপতন: কেমন আছে স্বর্ণ ও রুপার বাজার?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ২০:০৩:৩৯
বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দরপতন: কেমন আছে স্বর্ণ ও রুপার বাজার?
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর বেচাকেনায় মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে; যার মধ্যে রুপার দর অপরিবর্তিত থাকলেও স্বর্ণ, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে আসা সর্বশেষ বাজারদর অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপা ৫৭ দশমিক ৯৭৪ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে।

অপরদিকে শিল্প ও অলংকার খাতে ব্যবহৃত অন্য দুটি মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বিশ্ববাজার দর নিম্নমুখী ছিল। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৩৬ ডলারে ঠেকেছে। একই ধারায় প্যালাডিয়ামের দর ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৬১ ডলারে এসে নেমেছে।

একই সময়ে বিশ্ববাজারে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ধাতু স্বর্ণের দামেও দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক মান সময় (জিএমটি) সকাল ৯টা ৯ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২০ দশমিক ৪৯ ডলারে স্থির হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য চুক্তিকৃত স্বর্ণের দরও সমপরিমাণ অর্থাৎ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৯ দশমিক ১০ ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

পাঠকের মতামত: