ইরানের ‘জানফাদা’ কর্মসূচি: সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালনায় উদ্বুদ্ধ করার নেপথ্য কারণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:৩৫:২২
ইরানের ‘জানফাদা’ কর্মসূচি: সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালনায় উদ্বুদ্ধ করার নেপথ্য কারণ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হওয়ার প্রেক্ষাপটে বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্র পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচিটিতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সম্ভাব্য হুমকি সফলভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘জানফাদা’ বা ‘যারা জীবন উৎসর্গ করেন’ নামক এই প্রতিরক্ষা কর্মসূচিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার চরম পর্যায়ে গত মার্চ মাসের শেষ দিকে চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে ইরানের বিস্তীর্ণ এলাক জুড়ে এই কর্মসূচিটির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেশের সাধারণ নারী ও পুরুষ উভয়কেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্য উন্মুক্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।

যদিও এই প্রশিক্ষণে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তবুও দেশের সর্বস্তরের সব বয়সের মানুষের জন্যই এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যে কোনো মুহূর্তে নতুন করে সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন গভীর আশঙ্কার মাঝেই তেহরান কর্তৃপক্ষ এই বেসামরিক সামরিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমকে আরও জোরদার ও বিস্তৃত করে চলেছে।

/আশিক


আল-খলিলে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযান, বাস্তুচ্যুত দেড় হাজার ফিলিস্তিনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:১৯:১২
আল-খলিলে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযান, বাস্তুচ্যুত দেড় হাজার ফিলিস্তিনি
ছবি : সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-খলিল শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান ভয়াবহ অভিযানে প্রায় ২৫০টি পরিবারের দেড় হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও আড়াই হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আল-খলিল পৌরসভার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মূলত দেইর বাহা ও আল-জিলদা এলাকার ৫০০ পরিবারের মধ্যে এই উচ্ছেদ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী ইতিমধ্যে উচ্ছেদের শিকার বাড়িগুলো চিহ্নিত করেছে এবং যেসব পরিবার এখনও বাড়ি ছাড়েনি, তাদের নিজেদের কোনো যানবাহন ব্যবহার না করেই অবিলম্বে বসতি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ ধরিয়ে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-খলিলের গভর্নর খালেদ দুদিন জানান, এই আকস্মিক ও বর্বর অভিযানে দুইশটিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। তিনি ইসরায়েলের এই দমনপীড়ন বন্ধ করতে দ্রুত জরুরি আন্তর্জাতিক ও আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবারই গভর্নরেট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গোত্রীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে একটি বিশেষ সংকট ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় শনিবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আল-খলিলের বিভিন্ন অঞ্চলে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি এবং আবাসিক এলাকা ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা মূলত ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক ‘নাকবা’র পুনরাবৃত্তি এবং পরিকল্পিত জাতিগত নিধনের স্পষ্ট প্রচেষ্টা।

ইসরায়েলের এই জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে ফিলিস্তিনের সব দূতাবাস ও মিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে আল-খলিলের ফার্শ আল-হাওয়া এলাকায় ভবন ও বাণিজ্যিক দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া, ঘরে ঘরে তল্লাশি এবং অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনিকে আটকের মতো ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি শহর, গ্রাম এবং শরণার্থীশিবিরগুলোর সমস্ত প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বাড়িঘর হারিয়ে বহু অসহায় পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে। মূলত অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর যাতায়াত পথ নিরাপদ ও সুদৃঢ় করতেই দখলদার বাহিনী এখন স্থানীয় বিভিন্ন ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা জানিয়েছে যে ২০২২ সালের শেষ দিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তারা ১০৪টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে এবং পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে ১৬০টি কৃষিভিত্তিক বসতি-চৌকি গড়ে তুলেছে। ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পাশাপাশি তাদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গবাদিপশু ধ্বংসের ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক ঐতিহাসিক রায়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতি সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে তা অবিলম্বে অবসানের নির্দেশ দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও বসতি সম্প্রসারণের এই তৎপরতা ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।

আল-খলিলের এই নৃশংস অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সংস্থাটির মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ একে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের পরিকল্পিত উচ্ছেদ নীতির অংশ হিসেবে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আল-খলিল ও আশপাশের অঞ্চলের জনতাত্ত্বিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বদলে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। নির্বিচারে ভবন ধ্বংস ও গণহারে মানুষ উচ্ছেদের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং জেনেভা কনভেনশনের চরম লঙ্ঘন। এছাড়া ইব্রাহিমি মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং তা বন্ধ রাখার মতো ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের চক্রান্তেরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি।

পার্সটুডে


ইরানের পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:০৬:৩৪
ইরানের পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য চূড়ান্ত অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করবে বলে জোরালো সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আসন্ন নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণ সংক্রান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি একটি প্রতীকী ছবিও প্রকাশ করেন। টাইমস অব ইসরায়েলের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় ব্যর্থ বা অক্ষম কোনো নেতাকে নির্বাচন করা হলে ইসরায়েলি জনসাধারণ ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার ইউভাল ব্লুমবার্গের বক্তব্য তুলে ধরে নেতানিয়াহু তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে ইসরায়েল বর্তমানে অত্যন্ত বাস্তব ও প্রত্যক্ষ অস্তিত্বগত সংকটের মুখোমুখি রয়েছে। তার মতে, তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হয়ে ওঠে, তবে দেশের অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ বা রাজনৈতিক বিতর্কই আর কোনো গুরুত্ব বহন করবে না। মধ্য ইসরায়েলে যদি দুটি পারমাণবিক বোমা আঘাত হানে, তবে এই ধরনের অর্থহীন বিতর্ক নিয়ে কারোরই মাথা ব্যথা থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান ক্ষমতাকালেই কেবল ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কার্যকর সুযোগ রয়েছে। এই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইসরায়েলিদের কখনো ক্ষমা করবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন। ইরানকে কঠোরহস্তে মোকাবিলার যোগ্য একমাত্র নেতা হিসেবে নিজেকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরার অংশ হিসেবেই তিনি এই তীব্র ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল


উচ্চশিক্ষিত ও স্থিতিশীল চাকরিজীবীদের ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধে বিপর্যয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৯:৩৪:৫০
উচ্চশিক্ষিত ও স্থিতিশীল চাকরিজীবীদের ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধে বিপর্যয়
ছবি : সংগৃহীত

চীনে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ ও খেলাপি গ্রাহকদের সংখ্যা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমন একশ্রেণির গ্রাহক, যাঁদের একসময় ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য মনে করা হতো। উচ্চশিক্ষিত, মধ্যবয়সী এবং সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই চাকরিজীবীরা অর্থনৈতিক মন্দা, বেতন হ্রাস ও চাকরি হারানোর কারণে মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের ব্যাংকিং ক্রেডিট অ্যাসেটস রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড সার্কুলেশন সেন্টারে তালিকাভুক্ত অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রান্তিকে নতুন তালিকাভুক্ত খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

এর মধ্যে মূল ঋণ ও সুদ—দুটি অংশই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং মোট খেলাপি ঋণের ৩৫ দশমিক ২ শতাংশই এসেছে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া থেকে। অক্টোবর পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মে আরও ৮২টি নতুন খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও যুক্ত হয়েছে, যার বড় অংশের গ্রাহকদের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।

মধ্যবয়সী এসব চাকরিজীবীদের বিপাকে পড়ার মূল কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বয়সে মানুষের আর্থিক ও পারিবারিক দায়দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধ, সংসার চালানো এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার খরচ সামলানোর চাপ থাকে তাদের ওপর। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণে আয় কমে যাওয়া বা চাকরি হারানোর মতো ঘটনা যুক্ত হওয়ায় তাঁরা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। চীনের স্বাধীন বিশ্লেষক ডং জেংয়ের মতে, পশ্চিমা দেশের তুলনায় চীনের মধ্যবয়সীরাই ক্রেডিট কার্ডের প্রধান ব্যবহারকারী হওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটে তাঁরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন।

ব্যাংকগুলোর নথিতে দেখা গেছে, খেলাপি হওয়া এই গ্রাহকদের একটি বড় অংশ কলেজ ডিগ্রিধারী বা উচ্চ পেশাগত দক্ষতাসম্পন্ন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরে কর্মরত স্থিতিশীল ক্যারিয়ারের অধিকারী ব্যক্তিরাও এখন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, আর্থিক সংকটে পড়লে গ্রাহকরা সাধারণত নিজের বাসস্থান রক্ষা এবং পরিবারের মৌলিক খরচ মেটানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন, যার ফলে ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থেকে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান এই সংকটের বীজ রোপিত হয়েছিল ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে। সে সময় গ্রাহকসংখ্যা দ্রুত বাড়াতে ব্যাংকগুলো, বিশেষ করে সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য ক্রেডিট কার্ড অনুমোদনের শর্ত বেশ শিথিল করেছিল। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে পুরোনো সেই শিথিল নীতির ঝুঁকি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটিতে মোট ৩২২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউয়ানের অনাদায়ী ঋণের পোর্টফোলিও নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় চীনের ব্যাংকগুলো বর্তমানে নতুন ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নতুন কার্ড দেওয়া কমালেই এই সংকট কাটবে না, কারণ বিগত বছরগুলোর শিথিল নীতির প্রভাবে সৃষ্ট এই সমস্যাটি এখন কেবল ব্যাংকিং খাতের গণ্ডি পেরিয়ে একটি বড় সামাজিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট


মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৭:১৬:২০
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতি ও সামরিক সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বর্তমান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন।

ওবামা তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল ও অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে তিনি এমন একটি অপ্রয়োজনীয় সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু করার কথা উল্লেখ করেন, যার জন্য সাধারণ মানুষ বা আন্তর্জাতিক মহল থেকে কখনোই কোনো দাবি জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ সামরিক আগ্রাসনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দিয়েছে ইরান, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

সাবেক প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি আক্রমণাত্মক পোস্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওবামাকে নিশানা করে ট্রাম্প বলেন যে তিনি একজন অত্যন্ত অযোগ্য প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির (জেসিপিওএ) প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ওবামা প্রশাসন অতীতে ইরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিয়ে তোষণ করেছিল এবং তাদের সেই নীতির ফলেই তেহরানের জন্য সহজ উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ সুগম হয়েছিল।

/আশিক


পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দেখলেই ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ২৩:৩৮:৩১
পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দেখলেই ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা কিংবা কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকির মুখে তেহরান নমনীয় না হয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করলে তা ডুবিয়ে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান।

শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে নতুন করে মার্কিন সেনা পাঠানোর যেকোনো পরিকল্পনা দুঃস্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংসের দাবি করলেও নিজেদের কোনো যুদ্ধজাহাজ তেহরানের জলসীমার কাছাকাছি পাঠানোর সাহস পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের উসকানি বা আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। সংঘাতের তীব্র আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে একের পর এক তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতও নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে একটি কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তাতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান অংশ নেয়নি। তুরস্ক ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বড় ধরনের দাবানলে জ্বলে উঠবে। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও আগ্রাসী আচরণ বন্ধ না হলে তারা কোনো ধরনের সংলাপে বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও উন্মুক্ত করা হবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা


যেকোনো সামরিক সংঘাতে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ২০:৪৯:০৮
যেকোনো সামরিক সংঘাতে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত গণমাধ্যমে প্রচার ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে বারবার সামরিক হুমকির কৌশল বেছে নেন বলে মন্তব্য করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়ালে তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান বাস্তবতায় শত্রুপক্ষীয় মার্কিন বাহিনী কোনো কার্যকর সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে অক্ষম, যা তারা নিজেরাও খুব ভালোভাবেই জানে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলা চালানোর হুমকি মূলত লোকদেখানো এবং এটি গণমাধ্যমে আলোচনার খোরাক জোগাতে ও ইরানি জনগণের মনোবল ভাঙার একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল মাত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে কোনো আগ্রাসন চালানো হলেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান প্রস্তুতি ও সুনির্দিষ্ট কার্যপরিকল্পনার কারণে তার প্রতিক্রিয়া হবে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী বলে সতর্ক করেন জেনারেল মোহেব্বি।

সূত্র : সিবিএস নিউজ


আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি, অথচ নোবেল পাইনি: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ২০:২৯:৩১
আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি, অথচ নোবেল পাইনি: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এক নির্বাচনী সমাবেশে ফের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সামরিক সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব নিজের করে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ওপর চড়া শুল্কের হুমকি ও মার্কিন বাণিজ্য বন্ধের ভয় দেখিয়ে তিনি তাদের যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করেছিলেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফ্লোরিডার সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, গত বছর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে তিনি তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বাতিল করাসহ তাদের ওপর ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। তাঁর এই কড়া হুঁশিয়ারির ফলেই উভয় দেশ শেষ পর্যন্ত গোলাগুলি বন্ধ করতে বাধ্য হয় বলে জানান তিনি। যদিও সে সময় কোন পক্ষের ঠিক কতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

বক্তৃতায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি তাঁর নিজ কূটনৈতিক দক্ষতাবলেই জাতিসংঘের কোনো রূপ সাহায্য ছাড়াই বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত মোট আটটি ভিন্ন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। তবে এই বিশাল কূটনৈতিক সাফল্যের পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় নিজের হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতগুলো সংঘাতের নিষ্পত্তি করা সত্ত্বেও তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়নি।

সূত্র : ফোর্বস


ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন রুখতে বড় সামরিক অভিযানের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৯:১৯:১৮
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন রুখতে বড় সামরিক অভিযানের নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ছবি : সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক হামলার জের ধরে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের যেকোনো প্রক্রিয়া চিরতরে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) জন্য ‘বড় চমক’ বা আকস্মিক পদক্ষেপ অপেক্ষা করছে বলে প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

শুক্রবার গভীর রাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই হুঙ্কার দেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এমন সরাসরি প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি জানান, আকস্মিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। নিজের সামরিক বা রাজনৈতিক কৌশলগুলো গোপন রাখাই শ্রেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের হুমকি নিষ্ক্রিয় করতে এমন কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা প্রতিপক্ষের জন্য বড় ধরনের চমক হয়ে আসবে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের যেকোনো উদ্যোগ ইসরায়েল রুখে দেবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এছাড়া সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক কূটনীতি ও আব্রাহাম চুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্ত ছাড়াই খুব শীঘ্রই আরও একাধিক আরব ও মুসলিম দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কে যুক্ত হতে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর এই কঠোর হুঁশিয়ারির পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

আল জাজিরা


এপস্টিন ফাইলে নাম জড়িয়ে সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনা হুথি নেতাদের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৭:১৯:২৬
এপস্টিন ফাইলে নাম জড়িয়ে সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনা হুথি নেতাদের
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা বা প্রচারযুদ্ধে সম্পূর্ণ নতুন এক কৌশল ও হাতিয়ার বেছে নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। প্রচলিত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন নয়, বরং কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী ও অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টিনের ফাঁস হওয়া নথিকে কাজে লাগিয়ে রিয়াদকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে গোষ্ঠীটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিকে কেন্দ্র করে সাইবার প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে হুথিরা। ওই সব নথির একটি অংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সৌদি রাজদরবারের সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা একসময় জেফরি এপস্টিনকে পবিত্র কাবার গিলাফের নকশা ও আবরণসংবলিত একটি বিশেষ ট্যাপেস্ট্রি বা দেয়ালচিত্র উপহার দিয়েছিলেন।

এই তথ্যটিকে লুফে নিয়ে হুথি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, বিবৃতি, ভিডিও এবং প্রতিবাদী সংগীতের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। হুথি নেতারা এটিকে হাতিয়ার করে দাবি করছেন, যারা একসময় এপস্টিনের মতো কুখ্যাত অপরাধীকে কাবার পবিত্র গিলাফ উপহার দিয়েছিল, তারাই আবার মক্কার পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করার মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।

চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে চরম আকার ধারণ করায় হুথিদের এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও প্রচারণাও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচারের অংশ হিসেবে হুথি প্রধান আবদুল মালিক আল-হুতি ও দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত নিয়মিত তাদের বক্তব্যে এপস্টিন ফাইলের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন।

এ ছাড়া ২৭ লাখেরও বেশি ফলোয়ার থাকা জনপ্রিয় ইয়েমেনি কৌতুকাভিনেতা মোস্তফা আল-মোমারি এই ইস্যু নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করেছেন এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পীরা গান রচনা করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থান ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সৌদি রাজপরিবারকে জড়িয়ে হুথিরা মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক মনোভাব তৈরির সুদূরপ্রসারী কৌশল নিয়েছে।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস

পাঠকের মতামত: