হৃদরোগ আসার আগেই শরীর দেয় সংকেত: জেনে নিন রক্তনালির গোপন সংক্রামক

আপনার হার্টের রোগ কোনো ঘোষণা দিয়ে আসে না, তবে শরীর নিঃশব্দে এক বিশেষ সংকেত পাঠাতে থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, হৃদরোগ হানা দেওয়ার অনেক আগেই রক্তনালির ভেতরের অত্যন্ত সংবেদনশীল আস্তরণ বা ‘এন্ডোথেলিয়াম’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একেই বলা হয় ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’। এটি কোনো সরাসরি রোগ নয়, বরং ধমনিতে চর্বি জমা বা ব্লকেজ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়।
রক্তনালির সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায় যেভাবে
শরীরের প্রতিটি রক্তনালির ভেতরে এন্ডোথেলিয়াম নামক একটি আস্তরণ থাকে, যার কাজ হলো রক্তনালিকে নমনীয় রাখা এবং রক্ত চলাচলের পথ সুগম করা। এই স্তরটি শরীরকে প্রয়োজনীয় ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ সরবরাহ করে। কিন্তু ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন কমে যায় এবং রক্তনালিগুলো শক্ত ও সরু হতে শুরু করে।
কেন এটি বিপজ্জনক?
এন্ডোথেলিয়াম স্তরটি নষ্ট হয়ে গেলে রক্তনালির ভেতরে প্রদাহ শুরু হয় এবং এর নিচে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে ‘প্লাক’ তৈরি করে। এই প্লাকই মূলত ধমনিতে ব্লকেজ সৃষ্টি করে, যা থেকে পরবর্তী সময়ে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোক ঘটে। গবেষকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ শর্করা এবং ধূমপায়ীদের নিকোটিন এই স্তরটিকে সবচেয়ে দ্রুত ধ্বংস করে।
বাঁচার উপায় কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন এবং রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে রক্তনালির এই আস্তরণকে সুস্থ রাখা যায়।
/আশিক
দীর্ঘ কর্মঘণ্টা যেভাবে নিঃশব্দে ক্ষতি করছে আপনার হৃদযন্ত্রের
দীর্ঘ কর্মদিবস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের মতো বিষয়গুলো মানুষের হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে নিয়মিত ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করার সঙ্গে স্ট্রোক ও ইস্কেমিক হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পাশাপাশি শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সময় দেওয়া সমানভাবে জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
দীর্ঘ সময় কাজ করা নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণ হলো এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব। ডব্লিউএইচও ও আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহে আদর্শ ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ করার তুলনায় যদি কেউ ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করেন, তবে তার স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ এবং ইস্কেমিক হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এটি মূলত একটি জনসংখ্যাভিত্তিক পরিসংখ্যানগত হিসাব। এর অর্থ এই নয় যে দীর্ঘ সময় কাজ করলেই নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির অবধারিতভাবে হৃদরোগ হবে, বরং এটি অতিরিক্ত কাজের কারণে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার একটি জোরালো সতর্কবার্তা।
মানসিক চাপের কারণে শরীরে নানা ধরনের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে, যা হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে শরীরে বারবার মানসিক চাপজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং এ সময় নিঃসৃত স্ট্রেস হরমোন শরীরের রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়ে দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতিতে চললে হৃদ্স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত শরীরচর্চার সুযোগ কমে যায়, পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্টফুড খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে এবং ঘুমের সময় সংকুচিত হয়ে আসে। অনেকে আবার মানসিক চাপ কমাতে ধূমপান বা অতিরিক্ত মদ্যপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েন, যা সম্মিলিতভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা স্থূলতার সমস্যা রয়েছে কিংবা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অনেকে মনে করেন যে বয়স কম থাকা বা নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলে বুঝি অতিরিক্ত কাজের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পুরোপুরি নিরাপদ থাকা সম্ভব, কিন্তু ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কারণ শরীরচর্চা বজায় রাখার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক বিশ্রাম অপরিহার্য।
মাঝেমধ্যে এক সপ্তাহের ব্যস্ততা আর নিয়মিতভাবে প্রতি সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। যদি দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ক্লান্তি জেঁকে বসে, ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে, বারবার মাথাব্যথা হয়, রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকে কিংবা স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ করতেও অতিরিক্ত কষ্ট অনুভূত হয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে এর পাশাপাশি যদি কখনো বুকে তীব্র ব্যথা, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো জরুরি লক্ষণ দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
হৃদস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতাই যথেষ্ট নয়, কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদেরও বড় ধরনের দায়িত্ব রয়েছে। পেশাগত সফলতা মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সুস্থ ও দীর্ঘমেয়াদী জীবনযাপন তার চেয়েও বেশি অপরিহার্য। তাই কাজের পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের সঠিক যত্ন নেওয়া এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে ফলগুলো ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটায়
ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাদ্যতালিকা থেকেই এই পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব, যার জন্য ব্যয়বহুল কোনো কৃত্রিম উপায়ের প্রয়োজন হয় না। প্রকৃতিতে এমন অনেক ফল রয়েছে যা ভিটামিন সি-এর দারুণ উৎস।
ভিটামিন সি পেতে পেয়ারা অত্যন্ত কার্যকর একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে এই ভিটামিন থাকে এবং প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারা থেকে ২১৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। নিয়মিত ডায়েটে পেয়ারা রাখলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা সহজেই মেটানো সম্ভব।
ভিটামিন সি-এর আরেকটি ঐতিহ্যবাহী এবং চমৎকার উৎস হলো আমলকী। নিয়মিত আমলকী খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর পেঁপেতেও প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে প্রায় ৬২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা দৈনন্দিন পুষ্টির জোগান দিতে বড় ভূমিকা রাখে।
নিয়মিত পুষ্টির চাহিদা পূরণে স্ট্রবেরি চমৎকার একটি বিকল্প। এক কাপ পরিমাণ স্ট্রবেরি থেকে প্রায় ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এটি খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের ভিটামিনের ঘাটতি দূর করে।
কিউই ফলে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশ ভালো। একটি মাত্র কিউই ফল থেকে প্রায় ৬৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে কার্যকর।
স্বাদের জন্য পরিচিত আনারসে প্রচুর ভিটামিন সি থাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজও থাকে। এই ম্যাঙ্গানিজ উপাদানটি ভিটামিন সি-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বেশি জোরদার করতে সাহায্য করে।
/আশিক
ওজন ও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু তিন ধরনের সালাদ
ওজন কমানো বা ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা থাকলে অনেকেই একঘেয়ে সেদ্ধ খাবার কিংবা সাধারণ সালাদ খেয়ে থাকেন। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই যে স্বাদের সঙ্গে আপস করতে হবে, তা নয়। ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল ও অস্বাস্থ্যকর মেয়োনিজের পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ফাইবার ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সালাদ যুক্ত করা যেতে পারে। মাত্র ১৫ মিনিটেই ঘরে তৈরি করা সম্ভব এমন পুষ্টিকর তিন ধরনের সালাদের প্রস্তুত প্রণালি নিচে দেওয়া হলো:
১. মসুর ডাল ও গ্রিলড সবজির সালাদ
মসুর ডালে প্রচুর প্রোটিন এবং সবজিতে পর্যাপ্ত ফাইবার রয়েছে। এই উপাদানগুলো দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে সাহায্য করে।তৈরি করার পদ্ধতি: প্রথমে আধা কাপ মসুর ডাল ভালোভাবে সেদ্ধ করে নিতে হবে, যেন ডাল একেবারে গলে না যায়। এরপর একটি প্যানে সামান্য তেল দিয়ে ছোট টুকরো করে কাটা গাজর, শিম, ক্যাপসিকাম ও ব্রকলি হালকা ভেজে নিতে হবে। সামান্য লবণ ও গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে ঢেকে রাখলে সবজি সহজেই সেদ্ধ হয়ে যাবে। এরপর এর সঙ্গে সেদ্ধ ডাল মিশিয়ে ওপর থেকে ধনেপাতা কুচি ও অরিগ্যানো ছড়িয়ে পরিবেশন করা যায়। দুপুরের খাবারে ভাত বা রুটির বিকল্প হিসেবে কিংবা পরিপূরক হিসেবে এটি খাওয়া যেতে পারে।
২. মেডিটেরেনিয়ান প্রোটিন সালাদ
স্বাদ ও পুষ্টির চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি এই সালাদে শসা, টমেটো, পেঁয়াজ, পনির ও অলিভ ব্যবহার করা হয়। পনির থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন এবং সবজি থেকে ফাইবারের চাহিদা পূরণ হয়।তৈরি করার পদ্ধতি: শসা, টমেটো ও পেঁয়াজ ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। সঙ্গে কালো অলিভ যোগ করা যেতে পারে। পনির কিউব আকারে কেটে সামান্য মাখনে হালকা ভেজে নেওয়া ভালো, তবে কাঁচাও ব্যবহার করা যায়। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ওপর থেকে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিতে হবে। ড্রেসিংয়ের জন্য অল্প অলিভ অয়েল, লেবুর রস ও অরিগ্যানো ব্যবহার করা যায়। তবে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেল ও মাখনের পরিমাণ সবসময় সীমিত রাখাই শ্রেয়।
৩. বাঁধাকপি, গাজর ও রোস্টেড বাদামের সালাদ
যারা হালকা খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য বাঁধাকপি, গাজর ও বাদামের এই সালাদ একটি চমৎকার বিকল্প। বাঁধাকপি ও গাজরে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার এবং বাদাম জোগায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন।তৈরি করার পদ্ধতি: বাঁধাকপি খুব মিহি করে কুচিয়ে এবং গাজর গ্রেট করে নিতে হবে। এর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ রোস্ট করা বাদাম বা তিল, পাতিলেবুর রস, সামান্য মধু ও কাঁচা মরিচ কুচি মেশাতে হবে। সব উপকরণ ভালোভাবে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিলে স্বাদ ভালো হয়। পরিবেশনের ঠিক আগে ওপর থেকে আরও কিছু রোস্ট করা বাদাম ছড়িয়ে দিতে হবে।
ফ্যাটি লিভার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে করণীয়
ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ফ্যাটি লিভারের সুরক্ষায় সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমানো অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও পরিমিত বাদাম রাখা উচিত। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট সালাদ খেলেই ফ্যাটি লিভার সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। কোনো খাবার একা লিভারকে ডিটক্স করতে পারে না। তাই ফ্যাটি লিভারের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট তৈরি করা উচিত।
/আশিক
চিকিৎসা জার্নালে পুষ্টি ও লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ
নিয়মিত টমেটো খাওয়া লিভার সুস্থ রাখতে এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘নিউট্রিয়েন্টস’-এ প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এ সংক্রান্ত ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই গবেষণায় মানবদেহের বিপাকীয় প্রক্রিয়া এবং বিশেষভাবে লিভারের ওপর টমেটোর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়।
গবেষকদের মতে, টমেটোতে বিপুল পরিমাণে লাইকোপিন নামের একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা লিভারের সুরক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টমেটো গ্রহণের ফলে লিভারে চর্বি জমার পরিমাণ কম থাকে। লাইকোপিন মূলত লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং সামগ্রিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। এ ছাড়া টমেটোতে থাকা প্রাকৃতিক যৌগগুলো প্রদাহবিরোধী প্রভাব ফেলতে সক্ষম, যা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে অবদান রাখে।
রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি কাঁচা অবস্থায় সালাদ হিসেবে টমেটো সহজে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র টমেটো খাওয়াকে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র বা নিশ্চিত উপায় ভাবা উচিত নয়। লিভারের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রিত ওজন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। যেহেতু ফ্যাটি লিভার রোগ অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই তৈরি হতে পারে, তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সুষম জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
সূত্র: সামা টিভি
শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে হঠাৎ ঠান্ডা-গরমের মেজাজ বদলের কারণে গলা খুসখুস, ঢোক গিলতে ব্যথা বা শ্বাসনালিতে জমে থাকা কফ ও মিউকাসের অস্বস্তি ঘরে ঘরে বেড়ে যায়। ঘরোয়া পদ্ধতিতে গলার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মিউকাস পাতলা করে দ্রুত স্বস্তি পেতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে পেঁয়াজ, মধু ও অলিভ অয়েলের সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক পানীয়।
ঘরোয়া মিশ্রণটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে একটি পেঁয়াজ, এক টেবিল চামচ ভালো মানের অলিভ অয়েল এবং দুই টেবিল চামচ খাঁটি মধু। প্রস্তুতপ্রণালী অনুযায়ী, প্রথমে পেঁয়াজটি মোটা ও গোল চাকতির মতো কেটে কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ফোটাতে হবে। পেঁয়াজ ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে এলে পানি ছেঁকে নিয়ে তাতে অলিভ অয়েল ও মধু ভালোভাবে মিশিয়ে হালকা গরম অবস্থায় অল্প অল্প করে পান করতে হবে।
পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পেঁয়াজে থাকা সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট 'কুয়েরসেটিন' শ্বাসনালির প্রদাহ কমায় এবং জমে থাকা ঘন কফ পাতলা করে স্বাভাবিক উপায়ে বের হয়ে আসতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অলিভ অয়েলে বিদ্যমান 'ওলিওক্যানথাল' গলার টিস্যুর ওপর একটি মসৃণ ও স্বস্তিদায়ক প্রলেপ সৃষ্টি করে কাসির ফলে তৈরি হওয়া জ্বালাভাব প্রশমিত করে। আর মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ও মিউকাস উপশমকারী গুণাগুণ গলার খাঁজ কেটে দ্রুত আরাম পৌঁছে দেয়। তবে এই প্রাকৃতিক পানীয়টি কেবল সাময়িক লক্ষণীয় উপশমের জন্য কার্যকারী; যদি কফ বা গলার ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় কিংবা সঙ্গে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকে, তবে কালবিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
/আশিক
বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ কমতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হরমোনের এই ঘাটতিকে ‘লো টেস্টোস্টেরন’ বা সংক্ষেপে ‘লো টি’ বলা হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তদুর্ধ বয়সসীমার প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে অন্তত ২ জন এই হরমোনজনিত জটিলতায় ভুগে থাকেন।
অণ্ডকোষে উৎপাদিত এই অতি প্রয়োজনীয় হরমোনটি পুরুষাল যৌন আকাঙ্ক্ষা, পেশির সুদৃঢ় গঠন, হাড়ের সঠিক ঘনত্ব, শক্তি বৃদ্ধি ও শুক্রাণু উৎপাদনের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তবে হরমোন নিঃসরণ হ্রাস পাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় অসচেতনতার কারণে সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে এই হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর মধ্যে অন্যতম হলো যৌন উদ্দীপনা বা লিবিডো অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়া এবং যৌন মিলনকালে উত্থানজনিত জটিলতা সৃষ্টি হওয়া। এ ছাড়া মাথার চুলের পাশাপাশি হাত, পা ও মুখের লোম কমে যাওয়া, হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পেয়ে তা ভঙ্গুর হয়ে পড়া এবং দ্রুত শারীরিক শক্তি কমে যাওয়া এর প্রধান উপসর্গ। চিকিৎসকরা আরও জানান, এই হরমোনের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে ঘাটতি, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, নিদ্রাহীনতা এবং সারাক্ষণ শারীরিক অবসাদ ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা শারীরিক ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে চরম ঘাটতির ক্ষেত্রে নিছক জীবনযাত্রার পরিবর্তন পর্যাপ্ত নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্ট বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টরা ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন, ট্রান্সডার্মাল জেল বা প্যাচ, সাবকিউটেনিয়াস ইমপ্ল্যান্ট কিংবা সন্তান গ্রহণে ইচ্ছুক পুরুষদের ক্ষেত্রে 'ক্লোমিফিন সাইট্রেট'-এর মতো সুনির্দিষ্ট থেরাপি প্রয়োগ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে যেকোনো হরমোন থেরাপি গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সূত্র: ইউরোলজি স্পেশালিস্টস এনসি
বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়ার স্বাস্থ্যগত সমস্যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স' নামে পরিচিত। যেকোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে এই জটিলতা দেখা দিতে পারলেও সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, প্রাত্যহিক ঘুম, সামাজিক আত্মবিশ্বাস এবং জীবনযাত্রার মান ব্যাহত করলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর সিংহভাগ কারণই নিরাময় সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে। কাশি, হাঁচি, হাসি বা ভারী জিনিস তোলার সময় প্রস্রাব হওয়াকে বলা হয় ‘স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স’, যা সাধারণত নারীদের প্রসবপরবর্তী সময়ে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট অস্ত্রোপচারের পর বেশি দেখা যায়। আবার হঠাৎ তীব্র বেগ সামলাতে না পারার ঘটনাকে ‘আর্জেন্সি ইনকন্টিনেন্স’ এবং উভয় লক্ষণের উপস্থিতি থাকলে তাকে ‘মিক্সড ইনকন্টিনেন্স’ বলা হয়। এ ছাড়া মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হয়ে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব ঝরাকে ‘ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, একাধিকবার স্বাভাবিক প্রসব, বয়সের ভারে পেলভিক ফ্লোরের পেশি দুর্বল হওয়া কিংবা মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। অপরদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার কিংবা বয়সজনিত কারণে মূত্রনালিতে বাধা তৈরি হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে গণ্য করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি স্থূলতা, ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়ুরোগ এবং অতিরিক্ত চা-কফি বা অ্যালকোহল সেবনের কারণেও উভয় লিঙ্গের মানুষের এই রোগ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত পেলভিক ফ্লোর পেশির ব্যায়াম (কিগেল এক্সারসাইজ), অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিহার এবং সঠিক সময়ে প্রস্বাবের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে সমস্যাটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া, তলপেটে তীব্র ব্যথা বা জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটলে এটিকে কেবল বয়সকালের স্বাভাবিক পরিবর্তন না ভেবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা
ঘুমের সময় মাথার কাছে মোবাইল ফোন রাখার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সম্ভাব্য শারীরিক ক্ষতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক তথ্য ও মূল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতামত এবং আপনার প্রদান করা খবরের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এবং আন্তর্জাতিক অ-আয়নাইজিং রেডিয়েশন সুরক্ষা কমিশন (ICNIRP)-এর মতে, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (RF) হলো অ-আয়নাইজিং বিকিরণ (Non-ionizing radiation)। এক্স-রে বা গামা-রশ্মির মতো আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ (DNA) ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু মোবাইল ফোনের অ-আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ অণুর বন্ধন ভাঙতে পারে না বা শরীরের কোষ পুড়িয়ে ফেলতে পারে না। বহু বছরের ব্যাপক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মাথার কাছে ফোন রেখে ঘুমানোর সাথে ব্রেন টিউমার বা ব্রেন ক্যান্সারের প্রত্যক্ষ ও নিশ্চিত কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।
প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পকেটে ফোন রাখা বা প্রজনন অঙ্গের কাছাকাছি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে নিঃসৃত তাপ (Heat) ও দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োগে শুক্রাণুর গুণগত মানে আংশিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সাথে সরাসরি রেডিয়েশনের সংযোগ নিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণ নেই।
তবে মাথার কাছে মোবাইল রাখার অন্যান্য বাস্তবসম্মত শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে
১. ঘুমের ব্যাঘাত
নোটিফিকেশনের শব্দ, ভাইব্রেশন এবং ডিসপ্লের 'ব্লু লাইট' মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয় এবং মানসিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে মাইগ্রেন বা মাথাব্যথার লক্ষণ তীব্র হতে পারে।
২. অগ্নিঝুঁকি ও বিস্ফোরণ
বালিশ বা তোশকের নিচে ফোন রাখলে বাতাসের চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আগুন ধরা বা বিস্ফোরণের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নিরাপদ অভ্যাসের অংশ হিসেবে ঘুমানোর সময় ফোন বিছানা থেকে অন্তত কয়েক ফুট দূরে রাখা এবং রাত জেগে ব্যবহারের অভ্যাস এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
/আশিক
গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ
সাধারণত বুকে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ লুটিয়ে পড়াকে হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ মনে করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত উপসর্গ এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই নীরব ও সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়। হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘাম বের হওয়ার মতো শারীরিক অস্বস্তিকে অনেকেই গ্যাস্ট্রিক, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে ভুল করেন। তবে এসব সাধারণ শারীরিক উপসর্গও ক্ষেত্রবিশেষে হৃদরোগের মারাত্মক পূর্বসংকেত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি নারীদের হার্ট অ্যাটাকের চারটি তুলনামূলক কম পরিচিত ও বিভ্রান্তিকর লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রথমত, বুকের মাঝখানে অসচ্ছলতা বা অস্বস্তি হওয়া, যা সব সময় খুব তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে; বরং বুক চেপে থাকা, ভারী লাগা বা চাপ বোধ হওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যথা কেবল বুকের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থেকে চোয়াল, ঘাড়, পিঠ, এক বা দুই হাত এবং পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে অনেকেই এটিকে সাধারণ পেশির টান বা হজমের সমস্যা মনে করে ভুল করেন।
তৃতীয় প্রধান সতর্কসংকেত হলো হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। ভারী কোনো কাজ না করা সত্ত্বেও হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা হাঁসফাঁস লাগা হৃদযন্ত্রের জটিলতার অন্যতম লক্ষণ। চতুর্থত, হঠাৎ করেই শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘেমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বমি কিংবা মাথা ঝিমঝিম করার অনুভূতি হওয়া। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো ফ্লু, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা অ্যাসিডিটির কারণে হচ্ছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়।
ডা. কুনাল সুদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, কারণ অন্য অনেক সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও একই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে যদি এই ধরনের একাধিক উপসর্গ হঠাৎ করে শরীরে দেখা দেয় এবং তীব্র হতে থাকে, তবে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া বা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- খুলনার স্টেডিয়াম ও বিকেএসপির অবকাঠামোগত উন্নয়নের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
- ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ কি আঘাত হানবে? যা জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- ইরানের ‘জানফাদা’ কর্মসূচি: সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালনায় উদ্বুদ্ধ করার নেপথ্য কারণ
- মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা ছিল কি না জানাল সংসদীয় কমিটি
- আল-খলিলে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযান, বাস্তুচ্যুত দেড় হাজার ফিলিস্তিনি
- ইরানের পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম
- পুষ্টিতে ভরপুর কলা: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় একে রাখা কেন জরুরি
- জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: রাশেদ খান
- উচ্চশিক্ষিত ও স্থিতিশীল চাকরিজীবীদের ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধে বিপর্যয়
- সাংবাদিকদের অবমাননা ও পেটানোর হুমকি, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ
- আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই দক্ষ প্রকৌশলী গড়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
- আন্তর্জাতিক বাজারের পতনের ধাক্কা, দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম কত?
- দেশে ফেরার গুঞ্জনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি: আতঙ্ক ছড়ানোর নেপথ্যে কারা?
- বড় ধাক্কা খেল সান্তোস, বড় নিষেধাজ্ঞায় নেইমার
- অন্যের নামে জমি রেকর্ড হলে করণীয় কী?
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল
- পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দেখলেই ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
- লাখো শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসছে এইচএসসির ফল
- যেকোনো সামরিক সংঘাতে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
- আওয়ামী লীগের মতো নিজেদের ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করব না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বর্তমান সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
- আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি, অথচ নোবেল পাইনি: ট্রাম্প
- স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন লিওনেল মেসি
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন রুখতে বড় সামরিক অভিযানের নির্দেশ নেতানিয়াহুর
- প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতের তাগিদ আসিফ নজরুলের
- প্রেক্ষাগৃহে রজনীকান্তের উপস্থিতি ও বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস
- ফুটবল বিশ্বে নতুন জল্পনা: সেরা কোচের পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে যিনি
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের
- জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবিচল অবদানের স্বীকৃতি
- প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন এক রাজনৈতিক নেতা: রাশেদ খাঁন
- আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও পিছপা হব না: ধর্মমন্ত্রী
- চার মাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ সাপ্তাহিক পতনের মুখে মূল্যবান ধাতু
- মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের অংশীদার জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক: শামা ওবায়েদ
- এপস্টিন ফাইলে নাম জড়িয়ে সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনা হুথি নেতাদের
- 'এখন থেকে ১০ হাজার লোক নিয়ে চলব': সরাইল থানায় এমপি রুমিন ও ওসির তীব্র বাগ্বিতণ্ডার পেছনে আসল ঘটনা কী?
- যে আতঙ্কে খালি করা হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল কোম্পানির সদর দপ্তর: বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত?
- ভালো বা যোগ্য মানুষ দেখে রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন দেয় না: ডা. তাসনিম জারা
- টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বলের ইতিহাস ও নতুন বিশ্বরেকর্ড
- রিয়াদ ও মদিনায় বড় ধরনের ড্রোন হামলার দাবি সৌদি জোটের
- সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই: ডা. শফিকুর রহমান
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী ৫ দিনের বিশেষ পূর্বাভাস
- ৯৬-এর মতো আওয়ামী লীগ-জামায়াত মিলে ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন
- অবৈধ মোবাইল ফোন নিয়ে বিটিআরসির বড় সিদ্ধান্ত
- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী
- বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- বিভ্রান্তিকর ছবি ট্রোলের কড়া জবাব দিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
- ভিডিও বানিয়ে আয়ের সুযোগ দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স
- ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনায় রাজি রাশিয়া
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন
- শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ভিসামুক্ত ভ্রমণ: ৩৫টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জেরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
- আন্তর্জাতিক ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নজিরবিহীন সমীকরণের মুখে জাতীয় দল
- ইশরাকের উদ্যোগ ভালো হলেও হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি: ভোলায় স্পিকার মেজর হাফিজ
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের অস্থিরতায় বৈশ্বিক মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন দরপতন
- ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ
- বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনা শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- রাজশাহীর প্রায় ৩৯ হাজার আখচাষীকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বলিউডের জনপ্রিয় তারকার ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও বড় ধরনের সাফল্য
- অনলাইনে আবেদন করলেও মিলবে না ভোটার নিবন্ধন, যা করতে হবে
- খুলনার তেরখাদায় বিএনপির দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- আমাদেরও অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর নতুন হুমকির কড়া জবাব ইরানের
- মার্কিন ডিভি লটারি ফিরছে: সুযোগ কি পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা?
- বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার ঘোষণার চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারিত








