৩০ দিনের চূড়ান্ত ডেডলাইন! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ২০:০২:২৭
৩০ দিনের চূড়ান্ত ডেডলাইন! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এখন চলছে চরম কূটনৈতিক লড়াই। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘নূর নিউজ’ জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোতে আগ্রহী নয়; বরং তারা ৩০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায়। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরিস্থিতি আবার যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তেহরানের এই প্রস্তাবে কয়েকটি শর্তকে 'রেড লাইন' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো

তেহরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার।

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর চলমান নৌ-অবরোধের অবসান।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাদের স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার।

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও সব ধরনের বৈরী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।

যদিও গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তবে দুই দেশের মধ্যে পর্দার অন্তরালে আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়নি। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখনো কার্যকর থাকায় কূটনৈতিক সফলতার একটি ক্ষীণ আশা দেখা যাচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ রোববার (৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সাথে দীর্ঘ ফোনালাপ করেছেন। উল্লেখ্য, ওমান ঐতিহাসিকভাবেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে 'ব্যাক-চ্যানেল' বা গোপন আলোচনার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ৩০ দিনের সময়সীমা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির একটি কৌশল। একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে তেহরান তাদের অর্থনীতি সচল করতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড়। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প এই ১৪ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে কী পদক্ষেপ নেন—শান্তি না কি নতুন কোনো সংঘাত।

সূত্র: আলজাজিরা।


প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ২১:৪২:১৮
প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই আমন্ত্রণের একটি ছিল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহু-খাতভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) সভাপতি হিসেবে ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে যোগদানের। মঙ্গলবার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ ও আমন্ত্রণ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতা প্রসঙ্গে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আগেই একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে আরেকটি আমন্ত্রণ পাঠানো হয়; ফলে তিনি মূলত দুটি পৃথক আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলেন। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সদস্য, অংশীদার দেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিমসটেকের বর্তমান প্রধান হিসেবে বাংলাদেশকে আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল যে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এককভাবে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও স্পষ্ট করেছিলেন যে আমন্ত্রণটি কেবল বিমসটেক প্রধান হিসেবেই এসেছে। ঢাকা থেকে এমন অবস্থানের প্রেক্ষাপটেই নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো। রণধীর জয়সওয়াল পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের যে আলাদা আমন্ত্রণ ভারত জানিয়েছিল, তা এখনো কার্যকর ও বহাল রয়েছে।

/আশিক


চলমান সামরিক সংঘাতকে 'পবিত্র যুদ্ধ' আখ্যা দিয়ে যা বললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ২০:০৫:১৮
চলমান সামরিক সংঘাতকে 'পবিত্র যুদ্ধ' আখ্যা দিয়ে যা বললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ কর্মকাণ্ড ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও নিবিড় ও সম্প্রসারিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার বর্তমান সামরিক তৎপরতাকে ‘পবিত্র যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এই তথ্য প্রকাশ করে।

উত্তর কোরিয়ার ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তার প্রত্যুত্তরেই মস্কোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন কিম জং উন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সহযোগিতা ও প্রতিষ্ঠিত জোটের ওপর ভিত্তি করে রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের যৌথ তৎপরতা সুসমন্বিতভাবে আরও এগিয়ে নিতে পিয়ংইয়ং সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

রাশিয়ার চলমান যুদ্ধকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক ‘পবিত্র যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেন কিম। এই লড়াইয়ে মস্কোর নিশ্চিত বিজয় আসবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং জানান যে ভ্লাদিমির পুতিন ও রাশিয়ার জনগণের প্রতি তাঁর দেশের অকৃত্রিম সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিবৃতির মাধ্যমে মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থানের প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করলেন কিম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার কৌশলগত ঐক্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে; বিশেষ করে ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানোর পশ্চিমা অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এই সামরিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মস্কোর পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক জোরদার করার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন কিম জং উন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাঠানো অভিনন্দন বার্তার জবাবে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে পিয়ংইয়ং যৌথভাবে বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ৯ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুতিন ও শি উভয়েই অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যার প্রেক্ষিতে পৃথক দুই বার্তায় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরলেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা।

সূত্র : রয়টার্স


পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন শহরে প্রশাসনের জরুরি বার্তা, যা ঘটল সৌদি আরবে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:২১:৩৪
পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন শহরে প্রশাসনের জরুরি বার্তা, যা ঘটল সৌদি আরবে
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন প্রধান শহর মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কায় সর্বসাধারণের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচারিত এক জরুরি নির্দেশনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে এবং সরকারের সুরক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর (সিভিল ডিফেন্স) জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় জরুরি সতর্কবার্তা প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম ফর ইমার্জেন্সিস’-এর মাধ্যমে নাগরিকদের মুঠোফোনে এই সতর্কবার্তাগুলো পাঠানো হয়। তবে এই নির্দেশনায় সম্ভাব্য ঝুঁকির প্রকৃত ধরন কিংবা সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সতর্কবার্তায় জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের বিলম্ব না করে নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নাগরিকদের ভবনের ভেতরের দিকের সুরক্ষিত কক্ষে জানালা থেকে দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান নিতে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থান, জানালা, বারান্দা ও ভবনের ছাদ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে সিভিল ডিফেন্স। যেসব ব্যক্তি সতর্কবার্তা জারির সময় ঘরের বাইরে বা রাস্তায় অবস্থান করছিলেন, তাদের কালবিলম্ব না করে নিকটবর্তী কোনো শক্ত ভবনের ভেতরে প্রবেশ করার অথবা যেকোনো মজবুত কাঠামোর আড়ালে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কে থাকা গাড়িচালকদের সতর্কবার্তা পাওয়ার সাথে সাথে ফ্লাইওভার, সেতু ও সুউচ্চ ভবনের আশপাশ এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও যেকোনো ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে কেবল সরকারি তথ্যমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

মূলত ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত কয়েক দিন ধরেই হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও কৌশলগত বেসামরিক-সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে; যার জবাবে সৌদি জোট বাহিনীও ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুতিদের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা জোরদার করেছে।

সূত্র- আনাদোলু এজেন্সি


শর্ত পূরণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৮:৫৮:৫৯
শর্ত পূরণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে আবারও আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিজস্ব শর্তাবলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে বসবে না তারা। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ইরানের পক্ষ থেকে এমন অনমনীয় প্রতিক্রিয়া সামনে এলো। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি বা কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় এখনও হয়নি বলে অবস্থান নেওয়ার পর এবারই প্রথম আলোচনার সম্ভাবনার কথা বললেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন বার্তার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি ট্রাম্পের বক্তব্যকে পরস্পরবিরোধী বলে কটাক্ষ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের এ ধরনের দ্বিমুখী কথাবার্তায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই; কারণ তিনি কখনো আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন, আবার কখনো আলোচনায় প্রস্তুত থাকার দাবি করেন।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে রেজায়ি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। সামনে যে পরিস্থিতি আসছে, কেবল ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে তা প্রতিহত করা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই পবিত্র মক্কায় বিরল সতর্কতা জারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৮:০৭:৫৫
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই পবিত্র মক্কায় বিরল সতর্কতা জারি
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে একটি বিরল নিরাপত্তামূলক সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সতর্কতা জারির কিছু সময় পরই তা আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মক্কার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর জেদ্দা ও তাইফেও একই ধরনের হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা প্রদান করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর থেকে ইসলামের প্রধানতম পবিত্র নগরী মক্কায় এ ধরনের হামলার সতর্কতা জারির ঘটনা এটিই প্রথম।

বিগত কয়েক দিন ধরেই সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো নিশানা করে ধারাবাহিক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ পরিচালনা করছে হুতিরা। সোমবার ইয়েমেনের দিক থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়, যার পাল্টায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সৌদি জোট। অন্যদিকে হুতিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়েছে যে, বিগত পাঁচ দিনের ব্যবধানে তাদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও অবস্থান নিশানা করে সৌদি আরব তিন শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। সোমবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি অভিযোগ করে, এসব অভিযানে এফ-১৫ এবং ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কাজে লাগিয়েছে সৌদি বাহিনী; পাশাপাশি সৌদির এই অভিযান অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত করার হুমকিও দিয়েছে তারা।

সৌদি আরবের বিমান আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে হুতি গোষ্ঠী। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, ওই অভিযানে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার নজরদারি ব্যবস্থা, রানওয়ে ও প্রধান অস্ত্রভাণ্ডারে সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে।

টানা দুই সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে আবারও পূর্ণমাত্রার রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করলে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযানে নামে; পরবর্তীতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাধ্যমে বড় ধরনের আক্রমণ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক এই উত্তেজনায় পুরো নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

সূত্র: এ এফপি


সৌদি শহরগুলোতে রেড অ্যালার্ট ও গাজায় জ্বালানি সংকট: মহাবিপর্যয়ের মুখে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ০৮:০১:৩৩
সৌদি শহরগুলোতে রেড অ্যালার্ট ও গাজায় জ্বালানি সংকট: মহাবিপর্যয়ের মুখে মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি এক অভূতপূর্ব সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সৌদির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা থেকে শুরু করে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের নৌপথ এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি—সবক্ষেত্রেই যুদ্ধের তীব্র প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।

সৌদিতে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা ও হুথিদের হামলা

সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স বিভাগ থেকে জেদ্দা, ইয়ানবু এবং তায়েফ গভর্নরেটে "সম্ভাব্য বিপদের" আশঙ্কায় জরুরি জননিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জোট বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ইয়েমেনি বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশার মতে, হুথিরা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে পুরো ইয়েমেনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদ, আকাশসীমা এবং সমুদ্রবন্দরের ওপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইতোমধ্যে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘গ্রেটার’ এবং ‘লেসার’ হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নিয়েছে। জবাবে সৌদি যুদ্ধবিমান গত ২৪ ঘণ্টায় ৬টি প্রদেশে ৫৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দুবাব এবং আল-খোখা অঞ্চলে হুথি ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।

গাজায় হাসপাতালগুলোতে আলো নেভানোর পথে ডব্লিউএইচও

এক চরম মানবিক সংকটে গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পর্যাপ্ত তহবিলের ঘাটতি দেখিয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে গাজার ২০টিরও বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল জেনারেটর বন্ধ হওয়া নয়; বরং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র, ইনকিউবেটরের শিশু এবং ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে। এদিকে গাজা সিটির একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় আরও অন্তত একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও তেহরান-ওয়াশিংটন অচলাবস্থা

পারস্য উপসাগরে নৌপথের সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়েছে। ওমান উপকূলে পানামার পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার 'এল গায়া' (El Gaia)-র ওপর হামলার ঘটনায় মার্কিন সেন্টকম (CENTCOM) দাবি করেছে, জাহাজটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, লারাক দ্বীপের কাছে লারক সংলগ্ন কারগান বন্দরে দুটি মাছ ধরার নৌকায় ড্রোন হামলায় নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে তল্লাশি চলছে। ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন "ইরান চুক্তি করতে চায়", তবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজায়ি তা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তেহরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

কূটনৈতিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন

কূটনৈতিক অঙ্গনে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখতে যৌথ আঞ্চলিক পদক্ষেপের বিষয়ে লেবাননের স্পিকার নাবিহ বেরির সাথে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এছাড়া লেবাননের কফর তিFileType পাবলিক স্কুলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় পুরো ভবনটি ধসে পড়েছে। অপরদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্টের চক্রান্ত করছে। মার্কিন বিরোধিতার মুখে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে অংশ নেওয়া থেকে আটকে দেওয়া হয়েছে ইরানের পরমাণু প্রধানকে।


সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে বড় আঘাত, জ্বালানি বিশ্বে অশনিসংকেত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ২১:৪০:৪১
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে বড় আঘাত, জ্বালানি বিশ্বে অশনিসংকেত
ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি তেল পাইপলাইন। ছবি: রয়টার্স

ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন দ্রুত সচল করা সম্ভব না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশটির রপ্তানি মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বর্তমান বিশ্ব সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ড্রোন হামলার শিকার হয়ে দেশটির ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের একটি প্রধান পাম্পিং স্টেশন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে পাম্পিং স্টেশনটির কিছু অংশ আগুনে ভস্মীভূত হওয়ার দৃশ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দীর্ঘ পাইপলাইনের সাহায্যে সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আরব উপদ্বীপের মূল ভূখণ্ড পার করে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তর করত। বিগত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের জ্বালানি রপ্তানি চরমভাবে ব্যাহত হলেও এই বিকল্প পাইপলাইনটির ওপর ভর করেই সৌদি আরব তাদের আন্তর্জাতিক সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

তবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় ইয়ানবু বন্দরে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন চলার মতো তেলের মজুত অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্প সূত্র। একইভাবে মিশরের আইন সুখনা এবং সিদি কেরির বন্দরেও কয়েক দিনের সমপরিমাণ তেল মজুত থাকলেও তা সম্পূর্ণ পূর্ণ নয়, যার ফলে মূল পাইপলাইনটি অবিলম্বে চালু না হলে এসব বিকল্প মজুতও পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়বে। রয়টার্সকে দেওয়া সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি পুরোপুরি মেরামত করতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যদিও জরুরি ভিত্তিতে আংশিক সরবরাহ সচল করার বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পাইপলাইনে আঘাতের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ মার্কিন ডলারে ঠেকেছে, যা বিগত মে মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও শুক্রবার ডিজেলের গড় মূল্য নতুন রেকর্ড গড়ে গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার অতিক্রম করেছে। ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহতভাবে সৌদি তেল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানা এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকারী পেরিম দ্বীপ দখলে নেওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকট এক নতুন বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে; আর এই উত্তেজনার মধ্যেই ঐকমত্য সৃষ্টির স্বার্থে ওমানের মধ্যস্থতায় পূর্বনির্ধারিত একটি আঞ্চলিক শান্তি বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৭:৫৯:২২
সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই সামরিক তৎপরতার তথ্য সামনে আনেন। তিনি জানান, ওই সামরিক ঘাঁটির রানওয়ে, রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোঁড়া হয়েছে। এই অভিযানের ফলে ঘাঁটিটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

হুতি মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক তীব্র বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। গোষ্ঠীটির অভিযোগ, বিগত পাঁচ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় তিন শতাধিক বিমান হামলা পরিচালনা করেছে সৌদি যুদ্ধবিমান। এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সৌদি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে হামলার প্রেক্ষিতে খামিস মুশাইত এলাকায় সাময়িকভাবে সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা উল্লেখ করে এবং স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পাশাপাশি জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে দেশটির সংঘাত নিরসনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, যা দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:৩৬:০৬
‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শত্রুদের সামরিক হুমকি ও চাপ প্রয়োগের নীতিকে তেহরান বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয় না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ ইবনুর রেজা। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও ধারাবাহিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বা অবস্থান একচুলও নড়চড় করা যাবে না; যারা এমনটি মনে করছেন তারা মারাত্মক কৌশলগত ভুলের মধ্যে রয়েছেন।

ইবনুর রেজা দাবি করেন, শত্রুপক্ষের বারবার হুমকি দেওয়ার প্রবণতা প্রমাণ করে তাদের মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা গভীর অচলাবস্থায় পড়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েই তারা হুমকির মতো অকার্যকর রাজনৈতিক বিবৃতি দিচ্ছে, যার পেছনে বাস্তবসম্মত সামরিক সক্ষমতার ভিত্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রক্তক্ষয়ী অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতিকেই সরাসরি দায়ী করে তিনি বলেন, এ সংকট তাদের ভুল হিসাব-নিকাশেরই পরিণতি। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেহরান কখনোই তার প্রতিবেশী রাষ্ট্র কিংবা এ অঞ্চলের সাধারণ জনগণের জন্য হুমকি ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: