শর্ত পূরণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৮:৫৮:৫৯
শর্ত পূরণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে আবারও আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিজস্ব শর্তাবলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে বসবে না তারা। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ইরানের পক্ষ থেকে এমন অনমনীয় প্রতিক্রিয়া সামনে এলো। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি বা কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় এখনও হয়নি বলে অবস্থান নেওয়ার পর এবারই প্রথম আলোচনার সম্ভাবনার কথা বললেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন বার্তার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি ট্রাম্পের বক্তব্যকে পরস্পরবিরোধী বলে কটাক্ষ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের এ ধরনের দ্বিমুখী কথাবার্তায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই; কারণ তিনি কখনো আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন, আবার কখনো আলোচনায় প্রস্তুত থাকার দাবি করেন।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে রেজায়ি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। সামনে যে পরিস্থিতি আসছে, কেবল ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে তা প্রতিহত করা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই পবিত্র মক্কায় বিরল সতর্কতা জারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৮:০৭:৫৫
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই পবিত্র মক্কায় বিরল সতর্কতা জারি
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে একটি বিরল নিরাপত্তামূলক সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সতর্কতা জারির কিছু সময় পরই তা আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মক্কার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর জেদ্দা ও তাইফেও একই ধরনের হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা প্রদান করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর থেকে ইসলামের প্রধানতম পবিত্র নগরী মক্কায় এ ধরনের হামলার সতর্কতা জারির ঘটনা এটিই প্রথম।

বিগত কয়েক দিন ধরেই সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো নিশানা করে ধারাবাহিক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ পরিচালনা করছে হুতিরা। সোমবার ইয়েমেনের দিক থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়, যার পাল্টায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সৌদি জোট। অন্যদিকে হুতিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়েছে যে, বিগত পাঁচ দিনের ব্যবধানে তাদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও অবস্থান নিশানা করে সৌদি আরব তিন শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। সোমবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি অভিযোগ করে, এসব অভিযানে এফ-১৫ এবং ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কাজে লাগিয়েছে সৌদি বাহিনী; পাশাপাশি সৌদির এই অভিযান অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত করার হুমকিও দিয়েছে তারা।

সৌদি আরবের বিমান আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে হুতি গোষ্ঠী। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, ওই অভিযানে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার নজরদারি ব্যবস্থা, রানওয়ে ও প্রধান অস্ত্রভাণ্ডারে সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে।

টানা দুই সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে আবারও পূর্ণমাত্রার রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করলে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযানে নামে; পরবর্তীতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাধ্যমে বড় ধরনের আক্রমণ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক এই উত্তেজনায় পুরো নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

সূত্র: এ এফপি


সৌদি শহরগুলোতে রেড অ্যালার্ট ও গাজায় জ্বালানি সংকট: মহাবিপর্যয়ের মুখে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ০৮:০১:৩৩
সৌদি শহরগুলোতে রেড অ্যালার্ট ও গাজায় জ্বালানি সংকট: মহাবিপর্যয়ের মুখে মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি এক অভূতপূর্ব সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সৌদির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা থেকে শুরু করে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের নৌপথ এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি—সবক্ষেত্রেই যুদ্ধের তীব্র প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।

সৌদিতে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা ও হুথিদের হামলা

সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স বিভাগ থেকে জেদ্দা, ইয়ানবু এবং তায়েফ গভর্নরেটে "সম্ভাব্য বিপদের" আশঙ্কায় জরুরি জননিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জোট বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ইয়েমেনি বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশার মতে, হুথিরা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে পুরো ইয়েমেনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদ, আকাশসীমা এবং সমুদ্রবন্দরের ওপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইতোমধ্যে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘গ্রেটার’ এবং ‘লেসার’ হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নিয়েছে। জবাবে সৌদি যুদ্ধবিমান গত ২৪ ঘণ্টায় ৬টি প্রদেশে ৫৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দুবাব এবং আল-খোখা অঞ্চলে হুথি ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।

গাজায় হাসপাতালগুলোতে আলো নেভানোর পথে ডব্লিউএইচও

এক চরম মানবিক সংকটে গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পর্যাপ্ত তহবিলের ঘাটতি দেখিয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে গাজার ২০টিরও বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল জেনারেটর বন্ধ হওয়া নয়; বরং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র, ইনকিউবেটরের শিশু এবং ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে। এদিকে গাজা সিটির একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় আরও অন্তত একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও তেহরান-ওয়াশিংটন অচলাবস্থা

পারস্য উপসাগরে নৌপথের সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়েছে। ওমান উপকূলে পানামার পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার 'এল গায়া' (El Gaia)-র ওপর হামলার ঘটনায় মার্কিন সেন্টকম (CENTCOM) দাবি করেছে, জাহাজটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, লারাক দ্বীপের কাছে লারক সংলগ্ন কারগান বন্দরে দুটি মাছ ধরার নৌকায় ড্রোন হামলায় নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে তল্লাশি চলছে। ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন "ইরান চুক্তি করতে চায়", তবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজায়ি তা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তেহরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

কূটনৈতিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন

কূটনৈতিক অঙ্গনে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখতে যৌথ আঞ্চলিক পদক্ষেপের বিষয়ে লেবাননের স্পিকার নাবিহ বেরির সাথে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এছাড়া লেবাননের কফর তিFileType পাবলিক স্কুলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় পুরো ভবনটি ধসে পড়েছে। অপরদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্টের চক্রান্ত করছে। মার্কিন বিরোধিতার মুখে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে অংশ নেওয়া থেকে আটকে দেওয়া হয়েছে ইরানের পরমাণু প্রধানকে।


সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে বড় আঘাত, জ্বালানি বিশ্বে অশনিসংকেত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ২১:৪০:৪১
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে বড় আঘাত, জ্বালানি বিশ্বে অশনিসংকেত
ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি তেল পাইপলাইন। ছবি: রয়টার্স

ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন দ্রুত সচল করা সম্ভব না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশটির রপ্তানি মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বর্তমান বিশ্ব সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ড্রোন হামলার শিকার হয়ে দেশটির ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের একটি প্রধান পাম্পিং স্টেশন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে পাম্পিং স্টেশনটির কিছু অংশ আগুনে ভস্মীভূত হওয়ার দৃশ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দীর্ঘ পাইপলাইনের সাহায্যে সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আরব উপদ্বীপের মূল ভূখণ্ড পার করে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তর করত। বিগত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের জ্বালানি রপ্তানি চরমভাবে ব্যাহত হলেও এই বিকল্প পাইপলাইনটির ওপর ভর করেই সৌদি আরব তাদের আন্তর্জাতিক সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

তবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় ইয়ানবু বন্দরে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন চলার মতো তেলের মজুত অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্প সূত্র। একইভাবে মিশরের আইন সুখনা এবং সিদি কেরির বন্দরেও কয়েক দিনের সমপরিমাণ তেল মজুত থাকলেও তা সম্পূর্ণ পূর্ণ নয়, যার ফলে মূল পাইপলাইনটি অবিলম্বে চালু না হলে এসব বিকল্প মজুতও পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়বে। রয়টার্সকে দেওয়া সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি পুরোপুরি মেরামত করতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যদিও জরুরি ভিত্তিতে আংশিক সরবরাহ সচল করার বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পাইপলাইনে আঘাতের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ মার্কিন ডলারে ঠেকেছে, যা বিগত মে মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও শুক্রবার ডিজেলের গড় মূল্য নতুন রেকর্ড গড়ে গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার অতিক্রম করেছে। ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহতভাবে সৌদি তেল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানা এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকারী পেরিম দ্বীপ দখলে নেওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকট এক নতুন বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে; আর এই উত্তেজনার মধ্যেই ঐকমত্য সৃষ্টির স্বার্থে ওমানের মধ্যস্থতায় পূর্বনির্ধারিত একটি আঞ্চলিক শান্তি বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৭:৫৯:২২
সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই সামরিক তৎপরতার তথ্য সামনে আনেন। তিনি জানান, ওই সামরিক ঘাঁটির রানওয়ে, রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোঁড়া হয়েছে। এই অভিযানের ফলে ঘাঁটিটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

হুতি মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক তীব্র বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। গোষ্ঠীটির অভিযোগ, বিগত পাঁচ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় তিন শতাধিক বিমান হামলা পরিচালনা করেছে সৌদি যুদ্ধবিমান। এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সৌদি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে হামলার প্রেক্ষিতে খামিস মুশাইত এলাকায় সাময়িকভাবে সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা উল্লেখ করে এবং স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পাশাপাশি জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে দেশটির সংঘাত নিরসনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, যা দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:৩৬:০৬
‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শত্রুদের সামরিক হুমকি ও চাপ প্রয়োগের নীতিকে তেহরান বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয় না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ ইবনুর রেজা। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও ধারাবাহিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বা অবস্থান একচুলও নড়চড় করা যাবে না; যারা এমনটি মনে করছেন তারা মারাত্মক কৌশলগত ভুলের মধ্যে রয়েছেন।

ইবনুর রেজা দাবি করেন, শত্রুপক্ষের বারবার হুমকি দেওয়ার প্রবণতা প্রমাণ করে তাদের মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা গভীর অচলাবস্থায় পড়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েই তারা হুমকির মতো অকার্যকর রাজনৈতিক বিবৃতি দিচ্ছে, যার পেছনে বাস্তবসম্মত সামরিক সক্ষমতার ভিত্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রক্তক্ষয়ী অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতিকেই সরাসরি দায়ী করে তিনি বলেন, এ সংকট তাদের ভুল হিসাব-নিকাশেরই পরিণতি। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেহরান কখনোই তার প্রতিবেশী রাষ্ট্র কিংবা এ অঞ্চলের সাধারণ জনগণের জন্য হুমকি ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

/আশিক


৯/১১-র আগেই ভারতে হামলার ছক কষেছিল বিন লাদেন: সিআইএ-র গোপন নথিতে ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:০৫:২২
৯/১১-র আগেই ভারতে হামলার ছক কষেছিল বিন লাদেন: সিআইএ-র গোপন নথিতে ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রাক্কালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রকাশিত গোপন নথি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশের জন্য প্রস্তুতকৃত ওই ৭১টি উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ৯/১১ হামলার বহু আগে থেকেই আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন ভারতসহ একাধিক রাষ্ট্রে বড় ধরনের নাশকতার সুদূরপ্রসারী ছক কষেছিলেন। ‘বিন লাদেনের জঙ্গি নেটওয়ার্ক এখনও বড় বিপদ’ শীর্ষক নথিতে উল্লেখ ছিল, ভারত ছাড়াও মিশর, পাকিস্তান, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ায় সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা চালাচ্ছিল জঙ্গিগোষ্ঠীটি; যদিও হামলার সুনির্দিষ্ট কৌশল বা সময়সীমা সেখানে উল্লেখ ছিল না।

প্রকাশিত নথির সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হলো আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা। ১৯৯৮ সাল থেকেই খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিস্ফোরকভর্তি বিমান ব্যবহার করে হামলার ঝুঁকির ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দারা নিয়মিত সতর্ক করে আসছিলেন। এমনকি মূল হামলার মাত্র এক মাস আগে, ২০০১ সালের ৬ আগস্ট প্রেসিডেন্ট বুশকে দেওয়া বিশেষ ব্রিফিংয়ের শিরোনামই ছিল ‘আমেরিকায় আঘাত হানতে বদ্ধপরিকর বিন লাদেন’। সেখানে মার্কিন ভূখণ্ডের ভেতরেই আল কায়েদার সক্রিয় নেটওয়ার্কের উপস্থিতির সুস্পষ্ট প্রমাণ দেওয়া হলেও তৎকালীন প্রশাসন কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এত বড় বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে আড়াই দশক পর আবারও নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে চাই: ডাবলিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে তোলপাড় লন্ডন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:০০:১৬
একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে চাই: ডাবলিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে তোলপাড় লন্ডন
ছবি : সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে যুক্তরাজ্যভুক্ত উত্তর আয়ারল্যান্ড ও স্বাধীন প্রজাতন্ত্রী আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ড যদি একত্রিত হয়ে যায়, তবে তা হবে একটি চমৎকার ঘটনা এবং কোনো না কোনো দিন এমনটি ঘটবেই। তবে পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের এমন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মন্তব্যের মুখে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেন আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মার্টিন।

ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য অবস্থানে যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আয়ারল্যান্ড একীভূতকরণ প্রশ্নে লন্ডনের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সুস্পষ্ট সম্মতি বা পরিস্থিতি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত উত্তর আয়ারল্যান্ডে নতুন কোনো গণভোটের সুযোগ নেই। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ব্রিটিশপন্থী দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ওয়াশিংটন, লন্ডন বা ডাবলিন ঠিক করে দেবে না; এটি নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার স্থানীয় জনগণের।

সফরকালে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যিনি ২০১৯ সালে শ্যানন বিমানবন্দরে ট্রাম্পের সফরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। এবারের সফরকে কেন্দ্র করেও ডাবলিনের রাস্তায় যুদ্ধবিরোধী দল ও সাধারণ নাগরিকেরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা মূলত ট্রাম্পের বৈশ্বিক সামরিক আগ্রাসন নীতি, আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতা খর্ব করার প্রয়াস, গাজায় ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের নিঃশর্ত সমর্থন এবং সফরের নিরাপত্তায় বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সূত্র: আলজাজিরা


বাব আল-মান্দেবে হুথিদের থাবা ও হরমুজে ইরানের কড়া শর্ত: মহায়ুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১২:১২:২৩
বাব আল-মান্দেবে হুথিদের থাবা ও হরমুজে ইরানের কড়া শর্ত: মহায়ুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?

লোহিত সাগরের কৌশলগত পয়েন্ট বাব আল-মান্দেব ও পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, অন্যদিকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষযে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের একটি প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হয়েছে। তবে এই চুক্তির অধীনে এখনই নৌপথটি খুলে দেওয়া হচ্ছে না। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এর বরাতে জানা গেছে, প্রণালীটি পুনরায় চালু হওয়া না-হওয়া সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

ইরান-ওমান সমঝোতা ও কড়া শর্ত

ইরানের সমঝোতা প্রতিনিধিদলের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ওমানের সাথে এই বোঝাপড়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর তেহরানের একক সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যেকোনো নৌযানকে বাধ্যতামূলকভাবে ইরানের তৈরি প্রটোকল বা নীতিমালা মেনে চলাচল করতে হবে। ওয়াশিংটন যে দক্ষিণাঞ্চলীয় রুটটি উন্মুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল, সেই পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। সোমবার ওমানে উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশসমূহ ও ইরাকের সাথে ইরানের বৈঠকে বসার কথা থাকলেও, এটি মূলত ইরান ও ওমানের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা। অন্যান্য দেশগুলোকে কেবল নতুন ট্রানজিট প্রটোকল সম্পর্কে অবহিত করার জন্যই ডাকা হয়েছে।

বাব আল-মান্দেবে হুথিদের দাপট ও মানবিক বিপর্যয়

ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে যাওয়ায় সৌদি সীমান্ত এলাকায় সংঘাত আরও জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের আল-তুয়াল এলাকায় হুথিদের প্রজেক্টাইল হামলায় দুজন আহত হন এবং বেশ কিছু অবকাঠামো ধ্বংস হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী লোহিত সাগর উপকূল থেকে পিছু হটলেও তারা মারিব এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য সুলতান আল-আরাদা। ভয়াবহ এই লড়াইয়ের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১,৪০০ শরণার্থী সমুদ্রপথে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে এবং গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ।

‘মক্কা চুক্তি’ ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি

এমতাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন যেন হস্তক্ষেপ না করে, তার জন্য হুথিরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে হুথিরা গাজায় কাসাম ব্রিগেডের কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে প্রতিরোধ জোরদারের ডাক দিয়েছে। সৌদি জ্বালানি খাত ও আন্তর্জাতিক নৌপথে ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা সমঝোতা বা ‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয় করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে আঞ্চলিক এই যুদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক সামরিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২১:৫১:৪৭
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং একতরফা বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী একপাক্ষিক চাপ বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতে হবে। অবাধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্মুক্ত অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত নিয়েও সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং তা পুরো বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং সাধারণ নিরপরাধ মানুষের জীবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শীর্ষ এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্যদেশগুলোর শীর্ষ নেতারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। স্বাগতিক দেশ হিসেবে সম্মেলনের সূচনালগ্নে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভূরাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সব দেশকে এক সুতোয় বাঁধার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সূত্র: এএফপি

পাঠকের মতামত: