দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:২৬:৩২
দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে অতীতের মতো অন্ধকার ও দুঃসময় যাতে আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকায় ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ২০১৩ সালে নিহত যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রিজভী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দলীয় পুলিশ বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে; সেই রক্তক্ষয়ী দুর্দিনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

স্মরণসভায় হারুনুর রশিদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে রিজভী বলেন, কোনো লুটপাট বা ব্যাংক দুর্নীতির সুবিধাভোগী হয়ে নয়, বরং নির্ভেজাল বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শ রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হয়ে তিনি প্রাণ দিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম এবং নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বক্তব্য দেন। স্মরণসভা শেষে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুলিতে নিহত হওয়া হারুনের স্ত্রী জোহরা আক্তার ও সন্তানদের হাতে একটি নতুন নির্মিত ঘরের চাবি ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন রিজভী।

/আশিক


গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৭:৩১:৪৬
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি
ছবি: কালবেলা

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার ও দুর্নীতিবাজ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এসব পুরোনো অপশক্তির নতুন করে একীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক লড়াই আরও বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি, মাদক কারবারে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অধ্যায় বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। রক্ত ও জীবন দিয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষ এবং ছাত্র-তরুণরা এই স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে। তবে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা ও দোসররা এখনো বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে এনসিপির মূল সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার, বেকারদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী হওয়ার যে মহান প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তা আলোর মুখ দেখছে না। উল্টো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লাগামহীন দুর্নীতি, আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন করে দলীয়করণের অভিযোগ সামনে আসছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। এ অবস্থায় পুলিশকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ ছাড়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সম্প্রতি পুলিশের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান মানে কখনোই আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে পারে না।

স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। মাদকের ভয়াবহ রূপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ দেশে কখনোই মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট টিকে থাকতে পারে না। আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা এই কারবারে মদদ দিয়েছেন, আর এখন বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠছে। মাদকবিরোধী অভিযানে কেবল চুনোপুঁটি ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার না করে মূল মদদদাতা ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং সাংবাদিকদের হয়রানির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সত্য বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নির্যাতন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, মধ্যবিত্ত ও তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতা বাড়ানোর জোরালো দাবি তোলেন। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতের আমূল সংস্কার, ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর তাগিদ দেন।

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি ও আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন চুক্তিতে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গঙ্গা ও পদ্মার পানির অধিকার রক্ষা এবং নদীতীরবর্তী কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে সংসদে অবিলম্বে বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান তিনি। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের জোটগত হিসাব যাই থাক না কেন, স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবেই অংশ নেবে। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি অতিদ্রুত নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণহত্যার দ্রুত বিচার, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এনসিপি সব সময় রাজপথে থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে অঙ্গীকার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের পকেটে ফিরতি টিকিট থাকে: হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৯:৪২:২৭
প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের পকেটে ফিরতি টিকিট থাকে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের পকেটে সব সময় ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট থাকে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যেসব লোকজন রয়েছে, হয় তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, নয়তো তাদের বিদেশের ভিসা আছে অথবা পকেটে সবসময় ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট কাটা থাকে। অতীতেও এই মুখগুলো কেউ দেখেনি এবং ভবিষ্যতেও দেশের কোনো সংকটময় মুহূর্তে তাদের দেখা যাবে না। যেকোনো সমস্যা তৈরি হলেই তারা এই ফিরতি টিকিটের মাধ্যমে দেশ ছেড়ে চলে যাবেন।

লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লন্ডন থেকে আসা এই মানুষগুলো নিজেরাও ভালো করে জানেন এবং বিশ্বাস করেন যে তারা দুই বছরের বেশি এখানে টিকতে পারবেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষ যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, তাদের বিশ্বাস ছিল পাঁচ বছরের জন্য। এখন ভুল বুঝতে পেরে সাধারণ মানুষ অনুশোচনায় ভুগলেও প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের ব্যক্তিরা জনসাধারণের সামনে না এসে বরং সুযোগ বুঝে দেশ লুটেপুটে আবার বিদেশে পাড়ি জমানোর বন্দোবস্ত করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নিরাপত্তার খাতিরে একজন প্রতিমন্ত্রীকে যদি অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতে হয়, তবে বুঝতে হবে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করছে না। যার দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে, সরকার তাকে জবাবদিহির আওতায় না এনে কেবল আইওয়াশ করার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি মিথ্যা কথা বলে সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করার অভিযোগ এনে মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দ্রুত পদত্যাগ দাবি করেন। এছাড়া বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ইতিহাস দলটির নেই।

প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাতে মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা ঘুমান এবং কেবল কুমড়ার ভর্তা ও সবজি খান। তিনি বেগম জিয়ার সন্তান হওয়ায় তাদের প্রতি রাজনৈতিক মায়া ও আন্তরিকতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত না ঘুমালে এবং পুষ্টিকর খাবার না খেলে মানুষের পক্ষে সূক্ষ্ম বা যৌক্তিক চিন্তা করা অসম্ভব। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ভুল হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এমন একটি অস্বাস্থ্যকর ও ক্লান্তিকর জীবনযাপনে ব্যস্ত রেখে তার আশপাশের বেতনভুক তোষামোদী চক্র মূলত লুটপাটে মগ্ন রয়েছে। জাপানে গিয়েও না ঘুমিয়ে মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে সেলিব্রেট করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেখতে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন এই রাজনৈতিক নেতা।

/আশিক


রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব ও মন্ত্রীদের স্বজনপ্রীতির কঠোর সমালোচনা এনসিপি নেতার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৯:২৮:১৬
রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব ও মন্ত্রীদের স্বজনপ্রীতির কঠোর সমালোচনা এনসিপি নেতার
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত তাঁর বিতর্কিত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কঠোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আইজিপি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে ধরে নিতে হবে যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানী ঢাকার মুগদায় আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আইজিপির বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে পুরো পুলিশ বাহিনীকে অপমান করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা যখন নিজেদের জনগণের সত্যিকারের বন্ধু ও সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখন আইজিপি বাহিনীটিকে পুনরায় লাঠিবাহিনী, ক্রসফায়ার ও চাঁদাবাজদের বাহিনীতে পরিণত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ সময় নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে এবং বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করতে পুলিশ সদস্যদের রক্ত ও পোশাককে ব্যবহার করে থাকে; তাই তাঁদের কোনো অবৈধ আদেশ না শোনার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। এছাড়া আইজিপির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার গুঞ্জন রয়েছে বলেও তিনি সমাবেশে দাবি করেন।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, সাধারণ মানুষ তো বটেই, বর্তমানে পুলিশ ও মন্ত্রীরাও নিরাপদ নন। মন্ত্রী, চাঁদাবাজ ও ডাকাতরা পর্যন্ত অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সন্ত্রাসীরাই মন্ত্রী হয়েছে নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হয়েছেন! রাতের ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা এবং খুলনায় পুলিশের ভয়ের পরিবেশের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

পাশাপাশি রাজনীতিতে স্বজনপ্রীতি, মন্ত্রীদের পরিবারের ঠিকাদারি ব্যবসা এবং বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভরতার সমালোচনা করেন তিনি। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মুগদার বাসিন্দাদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘জনতার প্রার্থী’ হিসেবে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যের শেষাংশে ২০০৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির তৎকালীন ভূমিকা ও নতুন রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রসঙ্গেও কড়া সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

/আশিক


তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি এবারও টালবাহানা করছে: এনসিপি আহ্বায়ক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৯:১৯:০৯
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি এবারও টালবাহানা করছে: এনসিপি আহ্বায়ক
কথা বলছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: কালবেলা

বিএনপি কখনোই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতা করেনি বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি এবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নানামুখী টালবাহানা করছে এবং সেখানে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। সোমবার (২৬ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সারাদেশে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে এনসিপির অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় সভার প্রাক্কালে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলো এই দাবি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে বিএনপি সেই ফর্মুলা না মেনে একতরফা নির্বাচন করে টিকতে না পেরে আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়া ২০০৬ সালেও বিচার বিভাগকে রাজনীতিকরণ করে নিজেদের পছন্দের বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানানোর মাধ্যমে বিএনপি নাটক করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিও সর্বদা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে, তবে আওয়ামী লীগ সফল হলেও বিএনপি সফল হতে পারেনি।

মুন্সীগঞ্জে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, মুন্সিগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম ও সদস্যসচিব মারুফ হাসান মন্টিসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


আপনি আসেন, আমরা আপনার অপেক্ষায় আছি: শেখ হাসিনাকে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৮:৪৭:০৬
আপনি আসেন, আমরা আপনার অপেক্ষায় আছি: শেখ হাসিনাকে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “আপনি (শেখ হাসিনা) আসেন, আমরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছি। বাংলাদেশের মানুষ আপনার অপেক্ষায় আছে।” সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ‘বাংলাদেশ উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিষদ’ আয়োজিত ‘বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ফসল হিসেবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে হুইপ দুলু বলেন, বিগত সরকারের সীমাহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের ফলে দেশ এক ভঙ্গুর অর্থনীতির মুখে পড়েছিল। সেই চরম বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এবং জনগণের বিশাল প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিগত দুই দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং কোনো সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা ছিল না। ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমেই মূলত দেশ আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে এবং মানুষ ফিরে পেয়েছে তাদের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে হুইপ জানান, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ইমাম ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিতদের ভাতার আওতায় নিয়ে আসার বিশেষ পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্জিত এই গণতন্ত্র যেন পুনরায় কোনো সংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে বিরোধী দলসহ সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর কোনো সুযোগ না দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

/আশিক


ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:০২:৪৭
ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আয়োজিত লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ও ভারতের মধ্যে গোপন আঁতাতের কারণেই দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা আজ চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, বিএনপি সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা অবৈধভাবে ও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছেন, তারা কোনো অবস্থাতেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন না।

এ সময় বর্তমান প্রশাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকরা জনগণের করের টাকা ও সরকারি তহবিল অপচয় করে নিজেদের ব্যক্তিগত ও দলীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ধরনের অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।

/আশিক


জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: রাশেদ খান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৯:৪০:৪৯
জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: রাশেদ খান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে গেলেও সরকারের কিছু করার ক্ষমতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি এনসিপির বর্তমান রাজনীতিকে ‘সুবিধাবাদী জিন্দাবাদের রাজনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

ওই ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, পদত্যাগের ঠিক আগের রাতে আসিফ মাহমুদ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বিএনপিতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করার কনফার্মেশন চেয়েছিলেন। এছাড়া মাহফুজ আলমও বিএনপিতে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাউকে নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করাতে রাজি না হওয়ায় আসিফ মাহমুদ বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন বলে রাশেদ খান দাবি করেন।

পোস্টে আরও বলা হয়, অধিক আসন সমঝোতার আশায় এনসিপির শীর্ষ নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় ধরনা দিলেও বিএনপি তাদের মাত্র চারটি আসন ছাড়তে রাজি হয়। পরবর্তীতে অধিক আসন ও নির্বাচনী খরচের আশায় দলটি জামায়াত জোটে ভিড়েছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তার মতে, এখন হয়তো আলাদা কোনো সুবিধা পেতে কিংবা জামায়াতের পরামর্শে বিএনপিকে চাপের মুখে রাখার কৌশল হিসেবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে এনসিপি।

এনসিপির এই কর্মসূচি পুরোপুরি ব্যর্থ হবে বলে দাবি করে রাশেদ খান বলেন, বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেও এনসিপি কিছু করতে পারবে না; কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সুযোগে নেতা হননি, বরং দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার ফলেই তিনি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। জামায়াত ও এনসিপির ৯০ জন এমপির মেধা ও যোগ্যতার বিপরীতে একমাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ অবস্থান করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মূল যন্ত্রণা এখানেই। তার মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে বিএনপিকে চাপে রাখতে পারলে তারা সুবিধা আদায় করতে পারবে বলে মনে করে, কিন্তু বিএনপি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে বিধায় তাদের কাছ থেকে কোনো রাজনৈতিক ভাগা বা সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

/আশিক


দেশে ফেরার গুঞ্জনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি: আতঙ্ক ছড়ানোর নেপথ্যে কারা?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৮:৩০:১৬
দেশে ফেরার গুঞ্জনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি: আতঙ্ক ছড়ানোর নেপথ্যে কারা?
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার গুঞ্জন ঘিরে ডিসেম্বর মাসকে লক্ষ্য করে দেশজুড়ে নানা ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অকারণে ককটেল বিস্ফোরণ, সন্ত্রাস ও ঝটিকা মিছিলের মতো ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক তৈরি করাই এসব তৎপরতার প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অপতৎপরতার পেছনে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত, নাকি এর পেছনে সরকারের ভেতরের কোনো মহলের ইন্ধন রয়েছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, এসব ঘটনার পেছনে আসলে কারা রয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত। অপরাধী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হোক বা অন্য কেউ, তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল অভিযোগ করে বলেন, বিজয়ের মাসকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ তাদের পুরোনো সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত করছে, তবে দেশবাসী এখন অনেক সচেতন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ জানান, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তাদের এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ও যৌথ অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক এই অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়েছে সংস্কৃতি ও ব্যবসা ক্ষেত্রেও। শনিবার ভোরে রাজধানীর মগবাজারে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় তিনি গাড়িতে না থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ঘটনাটি সংস্কৃতি অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া পুরান ঢাকার হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কার্যালয় ও গুদামে হামলা চালিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম জড়িয়ে মামলার বাদীকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, অবস্থান আড়াল করতে ডার্ক ওয়েব ও ভিপিএন ব্যবহার করে বিদেশি ভার্চুয়াল নম্বর ও অ্যানক্রিপ্টেড অ্যাপসের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ খুলনা ও দেশের বিভিন্ন জেলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এ ধরনের হুমকি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে খুলনা বিভাগীয় অঞ্চলসহ কয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

/আশিক


বর্তমান সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ২০:৪১:১০
বর্তমান সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে পুরোপুরি মূল্যহীন ও বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের একক একচ্ছত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য কিংবা সাধারণ জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান সরকারকে ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পরপরই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করা হয়েছে। গণভোটকে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বর্তমান প্রশাসনকে ‘জুলাই গাদ্দার সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকার পরিবহন খাতে নির্বিচারে চাঁদাবাজির তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের মতো বর্তমান আমলেও বিভিন্ন রুটের গাড়ি থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে, যার একাংশ নতুন ক্ষমতাসীন দলের পকেটে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম, এলপিজি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সায়দাবাদে গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে হামলার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং দেশকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ এনে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রক্ষা ও বৈষম্য দূর করতে দেশবাসীকে আবারও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান এনসিপির এই শীর্ষ নেতা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: