৯/১১-র আগেই ভারতে হামলার ছক কষেছিল বিন লাদেন: সিআইএ-র গোপন নথিতে ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:০৫:২২
৯/১১-র আগেই ভারতে হামলার ছক কষেছিল বিন লাদেন: সিআইএ-র গোপন নথিতে ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রাক্কালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রকাশিত গোপন নথি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশের জন্য প্রস্তুতকৃত ওই ৭১টি উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ৯/১১ হামলার বহু আগে থেকেই আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন ভারতসহ একাধিক রাষ্ট্রে বড় ধরনের নাশকতার সুদূরপ্রসারী ছক কষেছিলেন। ‘বিন লাদেনের জঙ্গি নেটওয়ার্ক এখনও বড় বিপদ’ শীর্ষক নথিতে উল্লেখ ছিল, ভারত ছাড়াও মিশর, পাকিস্তান, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ায় সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা চালাচ্ছিল জঙ্গিগোষ্ঠীটি; যদিও হামলার সুনির্দিষ্ট কৌশল বা সময়সীমা সেখানে উল্লেখ ছিল না।

প্রকাশিত নথির সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হলো আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা। ১৯৯৮ সাল থেকেই খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিস্ফোরকভর্তি বিমান ব্যবহার করে হামলার ঝুঁকির ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দারা নিয়মিত সতর্ক করে আসছিলেন। এমনকি মূল হামলার মাত্র এক মাস আগে, ২০০১ সালের ৬ আগস্ট প্রেসিডেন্ট বুশকে দেওয়া বিশেষ ব্রিফিংয়ের শিরোনামই ছিল ‘আমেরিকায় আঘাত হানতে বদ্ধপরিকর বিন লাদেন’। সেখানে মার্কিন ভূখণ্ডের ভেতরেই আল কায়েদার সক্রিয় নেটওয়ার্কের উপস্থিতির সুস্পষ্ট প্রমাণ দেওয়া হলেও তৎকালীন প্রশাসন কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এত বড় বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে আড়াই দশক পর আবারও নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে চাই: ডাবলিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে তোলপাড় লন্ডন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:০০:১৬
একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে চাই: ডাবলিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে তোলপাড় লন্ডন
ছবি : সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে যুক্তরাজ্যভুক্ত উত্তর আয়ারল্যান্ড ও স্বাধীন প্রজাতন্ত্রী আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ড যদি একত্রিত হয়ে যায়, তবে তা হবে একটি চমৎকার ঘটনা এবং কোনো না কোনো দিন এমনটি ঘটবেই। তবে পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের এমন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মন্তব্যের মুখে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেন আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মার্টিন।

ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য অবস্থানে যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আয়ারল্যান্ড একীভূতকরণ প্রশ্নে লন্ডনের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সুস্পষ্ট সম্মতি বা পরিস্থিতি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত উত্তর আয়ারল্যান্ডে নতুন কোনো গণভোটের সুযোগ নেই। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ব্রিটিশপন্থী দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ওয়াশিংটন, লন্ডন বা ডাবলিন ঠিক করে দেবে না; এটি নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার স্থানীয় জনগণের।

সফরকালে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যিনি ২০১৯ সালে শ্যানন বিমানবন্দরে ট্রাম্পের সফরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। এবারের সফরকে কেন্দ্র করেও ডাবলিনের রাস্তায় যুদ্ধবিরোধী দল ও সাধারণ নাগরিকেরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা মূলত ট্রাম্পের বৈশ্বিক সামরিক আগ্রাসন নীতি, আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতা খর্ব করার প্রয়াস, গাজায় ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের নিঃশর্ত সমর্থন এবং সফরের নিরাপত্তায় বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সূত্র: আলজাজিরা


বাব আল-মান্দেবে হুথিদের থাবা ও হরমুজে ইরানের কড়া শর্ত: মহায়ুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১২:১২:২৩
বাব আল-মান্দেবে হুথিদের থাবা ও হরমুজে ইরানের কড়া শর্ত: মহায়ুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?

লোহিত সাগরের কৌশলগত পয়েন্ট বাব আল-মান্দেব ও পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, অন্যদিকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষযে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের একটি প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হয়েছে। তবে এই চুক্তির অধীনে এখনই নৌপথটি খুলে দেওয়া হচ্ছে না। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এর বরাতে জানা গেছে, প্রণালীটি পুনরায় চালু হওয়া না-হওয়া সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

ইরান-ওমান সমঝোতা ও কড়া শর্ত

ইরানের সমঝোতা প্রতিনিধিদলের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ওমানের সাথে এই বোঝাপড়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর তেহরানের একক সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যেকোনো নৌযানকে বাধ্যতামূলকভাবে ইরানের তৈরি প্রটোকল বা নীতিমালা মেনে চলাচল করতে হবে। ওয়াশিংটন যে দক্ষিণাঞ্চলীয় রুটটি উন্মুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল, সেই পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। সোমবার ওমানে উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশসমূহ ও ইরাকের সাথে ইরানের বৈঠকে বসার কথা থাকলেও, এটি মূলত ইরান ও ওমানের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা। অন্যান্য দেশগুলোকে কেবল নতুন ট্রানজিট প্রটোকল সম্পর্কে অবহিত করার জন্যই ডাকা হয়েছে।

বাব আল-মান্দেবে হুথিদের দাপট ও মানবিক বিপর্যয়

ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে যাওয়ায় সৌদি সীমান্ত এলাকায় সংঘাত আরও জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের আল-তুয়াল এলাকায় হুথিদের প্রজেক্টাইল হামলায় দুজন আহত হন এবং বেশ কিছু অবকাঠামো ধ্বংস হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী লোহিত সাগর উপকূল থেকে পিছু হটলেও তারা মারিব এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য সুলতান আল-আরাদা। ভয়াবহ এই লড়াইয়ের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১,৪০০ শরণার্থী সমুদ্রপথে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে এবং গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ।

‘মক্কা চুক্তি’ ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি

এমতাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন যেন হস্তক্ষেপ না করে, তার জন্য হুথিরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে হুথিরা গাজায় কাসাম ব্রিগেডের কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে প্রতিরোধ জোরদারের ডাক দিয়েছে। সৌদি জ্বালানি খাত ও আন্তর্জাতিক নৌপথে ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা সমঝোতা বা ‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয় করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে আঞ্চলিক এই যুদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক সামরিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২১:৫১:৪৭
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং একতরফা বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী একপাক্ষিক চাপ বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতে হবে। অবাধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্মুক্ত অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত নিয়েও সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং তা পুরো বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং সাধারণ নিরপরাধ মানুষের জীবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শীর্ষ এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্যদেশগুলোর শীর্ষ নেতারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। স্বাগতিক দেশ হিসেবে সম্মেলনের সূচনালগ্নে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভূরাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সব দেশকে এক সুতোয় বাঁধার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সূত্র: এএফপি


বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করল হুথিরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২০:০২:৩১
বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করল হুথিরা
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী আন্তর্জাতিক এই নৌপথ হুথিদের দখলে চলে যাওয়ায় বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।

বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহকারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের এই ধমনি রুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক তীব্র ধাক্কা লেগেছে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

/আশিক


লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রণালি ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৯:০৫:২৫
লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রণালি ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক সংকট মোকাবিলায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি সামরিক সহায়তার আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান বিস্তৃত সংঘাতের কারণে এই মুহূর্তে সরাসরি সেনা অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়; তবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখবে পেন্টাগন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইতিমধ্যে মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধিদল রিয়াদ সফর করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে গণমাধ্যম জানিয়েছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকার হলেও ওয়াশিংটন চায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরব নিজেই নেতৃত্ব দিক। তবে হুথিদের ওপর সরাসরি হামলা চালালে তেহরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন তীব্র আশঙ্কার কারণে রিয়াদ একটি যৌথ আন্তর্জাতিক জোট গঠন ও মার্কিন নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে চাইছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ না নিলেও প্রয়োজনে তাদের সহায়তাব্যতীত একাই হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে সৌদি আরব।

২০১৪ সালে শুরু হওয়া ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ ও ২০১৫ সালে রাজধানী সানা হুথিদের দখলে যাওয়ার পর সৌদি জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছিল, ২০২২ সালের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর তা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে পুরো অঞ্চল আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।

/আশিক


ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৮:৪৯:২২
ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির
এবারের সম্মেলনের আগে ব্রিকসের কূটনীতিকেরা কয়েক দিন ধরে যৌথ ঘোষণার ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। ছবি: এক্স

ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে সদস্যদেশগুলো একটি অভিন্ন যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক ‘ব্রিকস নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করা হবে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ঘোষণাপত্রে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ তীব্র নিন্দা জানানো এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ একমাত্র সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনের যৌথ ঘোষণার ভাষা নির্ধারণ নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিন্ন অবস্থানের কারণে সমঝোতা কঠিন রূপ নিয়েছিল। যুদ্ধের প্রভাবে গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে আবুধাবি, পাশাপাশি আমিরাতি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছিল।

এমনকি মে মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবারের সম্মেলনের আগে কয়েক দিনের টানা কূটনৈতিক দরকষাকষির পর এমন একটি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা হয়েছে, যা তেহরান ও আবুধাবি—উভয় পক্ষই গ্রহণ করেছে। সদস্যদেশগুলোর এই অমিল দূর করে অভিন্ন অবস্থানে নিয়ে আসাকে সভাপতি হিসেবে ভারতের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই জোট বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ডব্লিউটিওর মতো পশ্চিমা-প্রভাবিত প্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি আরও জোরালো করতে চাইছে।

এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। শীর্ষ বৈঠকের স্বাগতিক হিসেবে ভারত বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও জ্বালানি সরবরাহের সুরক্ষার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য এবং ব্রিকস অংশীদারদের মধ্যে একটি কার্যকর কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

সূত্র- এনডিটিভি ও রয়টার্স


দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২১:১৪:৪১
দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা
ছবি : সংগৃহীত

কয়েক দিনের কূটনৈতিক ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস জোটের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চীন ও ভারত উভয় দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই তিক্ত সংঘাতের দীর্ঘ সাত বছর পর এটিই হতে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। এর আগে ২০১৯ সালে তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে সর্বশেষ ভারত সফর করেছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের নানামুখী জটিলতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার পটভূমিতে বেইজিং-নয়াদিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় বাজারে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় ইলেকট্রনিকস ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাণিজ্যিক লেনদেন পুনরায় সচল হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানে এক আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে একমত হন যে উভয় দেশ ‘প্রতিযোগী নয়, বরং একে অপরের অংশীদার’। তবে আধুনিক ও সংবেদনশীল প্রযুক্তির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ কড়া নজরদারি বহাল থাকলেও দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত বছর রেকর্ড ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে তা আরও ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স


ইরান যুদ্ধ কবে থামবে, দিনক্ষণ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৯:১৯:৫৯
ইরান যুদ্ধ কবে থামবে, দিনক্ষণ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই সংঘাতের ইতি ঘটবে এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তেহরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে মার্কিন চাপের মুখে ইরান আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না, ফলে নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে। পরবর্তীতে টেক্সাসের মঞ্চেও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি জানান, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার স্বার্থে স্বল্পমেয়াদে এই অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যৌক্তিক।

যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করবে। তবে দাম সাধারণের নাগালের ভেতর পৌঁছাতে সামান্য সময় লাগতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন। সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবে গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তিন দফায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। উপসাগরীয় তেলক্ষেত্রে অচলাবস্থা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সামরিক বাধার কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। বুধবারও অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে স্পর্শ করে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিশানা করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করলে যুদ্ধ আঞ্চলিক রূপ নেয়।

সংঘাত শুরুর প্রাক্কালে এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু প্রায় সাত মাস পেরিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ওয়াশিংটনের ভেতরে তাঁর ওপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে খোদ রিপাবলিকান শিবিরের কট্টরপন্থী অংশের বড় একটি পক্ষ এখন এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ দ্রুত থামানোর পক্ষে জোর দিচ্ছে। চলমান এই যুদ্ধ অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি ডিজেলের দাম রেকর্ড মাত্রায় নিয়ে গেছে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার পুনরায় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এদিকে নির্বাচনের পটভূমিতে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান নির্বাচনে এমন একটি শক্তিকে জয়ী দেখতে চায় যারা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নমনীয় হবে এবং তাদের পারমাণবিক শক্তি অর্জনে ছাড় দেবে।

যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি, তবে তাঁর এই তির্যক মন্তব্য মূলত ডেমোক্র্যাট শিবিরের বিরুদ্ধেই অভিযোগ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তেহরান অবশ্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সর্বদাই শান্তিপূর্ণ দাবি করে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ যখন তুঙ্গে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ রাজনৈতিক সমীকরণ ছাপিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি।


পর্যটকদের জন্য বিশাল সুখবর: শিগগিরই আসছে মধ্যপ্রাচ্যের একীভূত ভিসা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ২১:১১:৪৭
পর্যটকদের জন্য বিশাল সুখবর: শিগগিরই আসছে মধ্যপ্রাচ্যের একীভূত ভিসা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে ভ্রমণের প্রক্রিয়া সহজ করতে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে প্রণীত এই একক ভিসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা একটিমাত্র ভিসা ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউইয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর বিশেষ অধিবেশনে এই ভিসা চালুর বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন জিসিসি মহাসচিব। তিনি জানান, একীভূত এই ভিসা ব্যবস্থা খুব দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে এবং বর্তমানে এটি বাস্তবায়নের কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে। তবে এই ভিসা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, এর ফি কত নির্ধারণ করা হবে কিংবা আবেদনের প্রক্রিয়া ও মেয়াদের বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

একক উপসাগরীয় পর্যটন ভিসার এই উদ্যোগটি গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন এবং পরের মাসেই তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মাররি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি অখণ্ড পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পর্যটন ভিসার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের নিজস্ব যাতায়াত আরও সহজ করতে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ নামক আরেকটি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন আল-বুদাইউই। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে এই ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা ফ্লাইটে ওঠার আগেই ইলেকট্রনিক সংযোগ ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে একবারেই অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাদের আর কোনো তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে না। তবে জিসিসি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, একক স্থানে ভ্রমণ প্রক্রিয়াটি মূলত উপসাগরীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, আর একীভূত পর্যটন ভিসাটি শুধুমাত্র বিদেশি পর্যটকদের অবাধ চলাচলের সুবিধা দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: