ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৯:৫২:০২
ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণা নিছক কোনো বক্তব্য নয়; বরং এর পেছনে দলের চরম বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল রয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, দেশে ফিরতে চাইলে শেখ হাসিনাকে চরম আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে; আর যদি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি না ফেরেন, তবে ১ জানুয়ারি থেকেই তাঁর নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা চূড়ান্তভাবে ধসে পড়বে এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম এই বক্তব্যকে মূলত ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি ও স্লোগান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং অসংখ্য মামলার আসামি হিসেবে দেশে ফেরা মাত্রই তাঁকে কঠোর আইনি মুখোমুখি হতে হবে, যা তাঁর বর্তমান বয়স ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত না ফিরলে ট্রাভেল পাস বা বিমান অবতরণের অনুমতি না মেলার মতো বাহানা তৈরি করা হতে পারে, যা নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট দূর করতে পারবে না।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত হলেও এমন কোনো পদক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়াবে। সবচেয়ে বড় বাস্তব প্রতিবন্ধকতা হলো, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য থাকলেও শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার প্রশ্নে জুলাইয়ের পক্ষের সব রাজনৈতিক শক্তি ও সরকারের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐকমত্য রয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উল্লেখ করেন, হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় কোনো অনুশোচনা না করে বলপ্রয়োগের জেদ দেখিয়ে দেশে ফিরে দল পুনর্গঠন করার স্বপ্ন দেখা ‘অমাবস্যার দিনে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো’।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং নির্ধারিত ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় আপিলের আইনগত সুযোগও শেষ হয়ে গেছে। ফলে ভারত থেকে প্রত্যর্পণ চুক্তি বা নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার কোনো বিকল্প আইনি পথ খোলা নেই।

/আশিক


কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের দেশ নয় বাংলাদেশ, ২০ কোটির মানুষের: বিরোধীদলীয় হুইপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৯:৩০:২৬
কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের দেশ নয় বাংলাদেশ, ২০ কোটির মানুষের: বিরোধীদলীয় হুইপ
ছবি: কালবেলা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের আনা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপ ছিল ‘গুম-খুন কমিশন’ বাতিল ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনি পরিবর্তন আনা।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আগের অধ্যাদেশে গুমের সঙ্গে জড়িত সংস্থাকে তদন্ত থেকে বাইরে রাখার সুস্পষ্ট নিয়ম থাকলেও তা বদলে ফেলা হয়েছে। ফলে পুলিশ অপরাধের সাথে যুক্ত থাকলে পুলিশই তার তদন্ত করবে—এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী তার অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে উল্টো পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রাখায় সাধারণ নাগরিকরা ভীতিতে কোনো প্রতিকারই চাইতে পারবে না।

এটিকে দেশে আবারও গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করার চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের সম্পত্তি নয়, এ দেশ ২০ কোটি মানুষের। কোনো দল আবারও স্বৈরাচারী মানসিকতা দেখালে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতা তাদেরও একইভাবে ক্ষমতাচ্যুত করবে। এছাড়া মেয়াদ শেষের আগেই সব উপাচার্য পরিবর্তন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক পুনর্বাসনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পান এবং বাকি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসনহীন থাকেন।

অথচ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা অনুৎপাদনশীল খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামোগত উন্নয়নে নজর নেই। আগামী দুই বছরের মধ্যে রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২১:২৮:৪২
পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও দূর থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে কোনো অপরাধ না করলে বা সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে মাটি কামড়ে রাজনীতি করা উচিত ছিল। কোনো সৎ মানুষ পালিয়ে যায় না, বরং অপরাধী, চোর ও লুটেরারাই বিচারের ভয়ে দেশ ছাড়ে।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তিনি এই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী তরুণ নেতৃত্ব, সাধারণ জনগণ এবং সক্রিয় সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, সেই গণআন্দোলনে কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয় দিয়ে সেখান থেকে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইলে তা হতে হবে সমমর্যাদা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে। সীমান্তে ফেলানীর মতো হত্যাকাণ্ড এবং নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে অভিন্ন তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার সম্মানজনক সমাধানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো ধরনের একতরফা সম্পর্ক বাংলাদেশ আর মেনে নেবে না।

/আশিক


বক্তব্যের পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: সংসদে বিস্ফোরক রুমিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৯:৩৬:০১
বক্তব্যের পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: সংসদে বিস্ফোরক রুমিন
ছবি : সংগৃহীত

সংসদে আগের দিন বক্তব্য দিতে গিয়ে সরকারি দলের তীব্র বাধা ও পরবর্তীতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি আইনসভার পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির অবনতি নিয়ে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগে বুধবারের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় বিএনপির সদস্যদের ব্যাপক প্রতিবাদ ও হট্টগোলের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী অধিবেশনে তিনি যে বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তাতে বর্তমান সংসদে কোনো ভিন্নমত বা ‘ডিসেন্ট ভয়েস’ প্রকাশ করার গণতান্ত্রিক পরিবেশ অবশিষ্ট রয়েছে বলে তাঁর মনে হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বক্তব্য শেষ করার পর তাঁর আশপাশের সংসদ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেছেন, যা যেকোনো সংসদীয় শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের চরম পরিপন্থী।

বিগত একাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী অবস্থানে থেকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন তিনি একা দাঁড়িয়ে বিএনপির পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখতেন, তখনও তাঁকে একই ধরনের জঘন্য আচরণের মুখোমুখি হতে হতো। হাজারো মানুষের তাজা রক্তের বিনিময়ে ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে নতুন যে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেখানেও যদি ন্যূনতম গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না আসে, তবে সংসদে শুধুই নিয়মরক্ষার বিরোধী দল সেজে বিলের বিরোধিতায় ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য বসে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।

রুমিন ফারহানার এমন ক্ষুব্ধ ও আবেগপূর্ণ বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে সভাপতিমণ্ডলীর আসন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাঁকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। স্পিকার অতীত অপ্রীতিকর ঘটনা পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, "গতকাল যা হওয়ার, হয়ে গেছে।" একই সঙ্গে তিনি সরকারি ও বিরোধী—উভয় শিবিরের আইনপ্রণেতাদেরই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় পারস্পরিক সংযম ও সংসদীয় শালীনতা বজায় রাখার জোরালো নির্দেশনা দেন।

/আশিক


নাম বদলিয়ে নতুন বাহিনী গঠন বিশ্ব সম্প্রদায় মেনে নেবে না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৯:১৬:২২
নাম বদলিয়ে নতুন বাহিনী গঠন বিশ্ব সম্প্রদায় মেনে নেবে না: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

র‍্যাব বিলুপ্ত করে কেবল নাম পরিবর্তন করে একই কাঠামোর নতুন বাহিনী গঠন জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না বলে জাতীয় সংসদে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও মানবাধিকারের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট আইনটি কোনো অবস্থাতেই পাস না করে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধি অনুযায়ী সরকারি বিলটির ওপর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব উঠলে তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ ও তথ্যবহুল বক্তব্য রাখেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিলটির সংবেদনশীলতা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই প্রস্তাবনাটি জাতীয় জীবনের গতানুগতিক অন্য কোনো বিলের মতো নয়; বরং এটি সামগ্রিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রতিষ্ঠার পর বাহিনীটির ইতিবাচক কিছু অবদান থাকলেও তাদের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অতিমাত্রার নেতিবাচক কর্মকাণ্ড গোটা বিশ্বকে আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। সংসদে উপস্থিত অনেক সদস্যই এই বাহিনীর প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ নিগ্রহের শিকার উল্লেখ করে তিনি সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগমের স্বামীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সাথে সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা জোর দিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় সব মানবাধিকার সংস্থার দ্ব্যর্থহীন দাবি ছিল এই বিতর্কিত বাহিনীর স্থায়ী বিলুপ্তি; একে মোড়ক বদলে টিকিয়ে রাখা নয়। কিন্তু বর্তমানে প্রস্তাবিত আইনে স্থাপনা, জনবল, অস্ত্র ও লজিস্টিক সাপোর্ট সবকিছু অবিকল রেখে কেবল নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা জনগণের সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল।

মাত্র কয়েক দিন আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক নারী শিক্ষার্থীকে ওয়ারেন্ট ছাড়া তুলে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতায় ন্যূনতম পরিবর্তন আসেনি। নিজেদের অপরাধের তদন্ত নিজেদের মাধ্যমেই করার পুরোনো সংস্কৃতি বহাল রেখে এমন আইন পাস করা হলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ নতুন করে কলঙ্কিত হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই পরিস্থিতিতে বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস না করে প্রত্যাহার করে অংশীজনদের সাথে বিশদ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

/আশিক


মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি: সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ রুমিন ফারহানার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ২১:৩৭:০৬
মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি: সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ রুমিন ফারহানার
ছবি : সংগৃহীত

চলমান সংসদীয় পরিবেশের তীব্র সমালোচনা করে বর্তমান সংসদের অসহিষ্ণু আচরণকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সঙ্গে তুলনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি মন্তব্য করেন, জাতীয় সংসদের ভেতরে বর্তমান সরকারদলীয় সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে সংসদ পুরোনো আমলেই ফিরে গেছে; অতীতে কথা বললে যেমন হট্টগোল হতো, এখন ক্ষমতাসীন বিএনপিও একই রকম, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি অসহিষ্ণু আচরণ প্রদর্শন করছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একটি বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এসব ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তব্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক সরকারেরই একটি সুনির্দিষ্ট চরিত্র থাকে। তাঁর দাবি, বিএনপি সরকার গঠন করবে আর দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকট হবে না কিংবা মাঠপর্যায়ে সারের জন্য হাহাকার তৈরি হয়ে কৃষক লুটপাটে বাধ্য হবে না—এমন বাস্তবতা অতীতে দেখা যায়নি। দুর্নীতি ও আর্থিক খাতের অনিয়মের বিষয়টি টেনে তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন দলের অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় তারা ক্ষমতায় থাকলে দেশ ঋণখেলাপিতে শীর্ষ স্থানে পৌঁছায় এবং দুর্নীতির সূচকে নেতিবাচক রেকর্ড গড়ে। তাই বর্তমান বাস্তবতায় দেশে নজিরবিহীন ঋণখেলাপি তৈরি হওয়া ক্ষমতাসীনদের চরিত্রের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

সংসদ সদস্যের এমন ধারালো বক্তব্যে সরকারদলীয় বেঞ্চ থেকে তীব্র হইচই ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলে অধিবেশনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় সভাপতিমণ্ডলীতে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের সংযত হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। হট্টগোলের মধ্যেই রুমিন ফারহানা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্যই সমাজে ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। জাতীয় নির্বাচনের আগে আইনি মারপ্যাঁচে হাইকোর্টে গিয়ে সাময়িকভাবে খেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানো দেশের এক দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ বলেও তিনি খোঁচা দেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে সংসদ কক্ষে সরকারদলীয় সদস্যদের দিক থেকে পুনরায় দফায় দফায় চিৎকার ও হট্টগোল শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার পুনরায় হস্তক্ষেপ করে সবাইকে সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

/আশিক


গ্যাস-বিদ্যুৎ বাদ দিয়ে সরকার আশির দশকে ফিরতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ২১:২৭:১১
গ্যাস-বিদ্যুৎ বাদ দিয়ে সরকার আশির দশকে ফিরতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কড়া সমালোচনা করে সরকারের নীতিগত পশ্চাৎপদতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকের স্মৃতিচারণ নিয়ে একটি ট্রেন্ড চলছে এবং বর্তমান সরকারও যেন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকুচিত করে দেশকে কার্যত আশির দশকেই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখা।

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, বিশ্ব যখন দ্রুতগতিতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের কোনোভাবেই পিছিয়ে পড়া কাম্য নয়। তিনি সরকারকে পশ্চাৎমুখী না হয়ে ইতিবাচক আধুনিক ধারায় সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান। এ সময় সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সাম্প্রতিক প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই একসময় ভাইভাকে দলীয় নিয়োগের হাতিয়ার বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং বিসিএসে ভাইভার নম্বর ৫০ ও সাধারণ চাকরিতে ২০০ করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। অথচ ক্ষমতায় আসার পরই তারা উল্টো পথে হেঁটে ভাইভার নম্বর ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধির মতো অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সরকারি চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন এলে তা বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেবে বলে সরকারকে সতর্ক করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কোটা সংস্কার নিয়ে স্বেচ্ছাচারী আচরণের ফল হিসেবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা হারিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নিতে হয়েছে; ভাইভা ইস্যু নিয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে বর্তমান সরকার নিজেদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা অনুধাবন করতে পারছে না। ফলে রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত না চাপিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে যৌক্তিক সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির প্রেক্ষাপট টেনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দীর্ঘ পথপরিক্রমায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পর এখন একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। নির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে জনতার অনেক প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই অঙ্গীকারের কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে তার নির্মোহ বিচার সাধারণ জনগণকেই করতে হবে। জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলালের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এসএম ওয়াহেদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির উত্তরবঙ্গের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা। আলোচনা সভার সমাপনী পর্বে ‘৩৬ জুলাই’ শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

/আশিক


জামায়াতকে ছাড়া একাই লড়বে এনসিপি: ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ২১:০৭:৪৬
জামায়াতকে ছাড়া একাই লড়বে এনসিপি: ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে একক শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সর্বস্তরের নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার জোরালো প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। এই কৌশলের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ৩০ মার্চ দলটির পক্ষ থেকে পাঁচ সিটিতে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ এবং উত্তরে মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে মাঠের সার্বিক সমীকরণ বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এই নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুই শীর্ষ নেতাই ইতোমধ্যে আইনি নিয়ম মেনে ভোটার এলাকা স্থানান্তর সম্পন্ন করেছেন; আসিফ মাহমুদ আফতাবনগর এলাকার মাধ্যমে উত্তরের ভোটার হয়েছেন এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। উভয় নেতাই জানিয়েছেন, দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তে এই অদলবদল করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই চূড়ান্ত প্রার্থিতা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

ঢাকার দুই সিটির বাইরে বাকি তিন মহানগরেও প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১ দলীয় ঐক্যের হয়ে ঢাকা-৮ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও আসিফ মাহমুদ সেই নির্বাচনে অংশ নেননি। দলীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ না নেওয়ার অতীত নজির বিবেচনায় রেখেই শরিকরা আলাদাভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নির্বাচনী লড়াই আলাদা হলেও বৃহত্তর ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য অটুট থাকবে এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবিতে দলগুলো রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

/আশিক


অন্তর্বর্তী আমলের চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে দেশ, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: চরমোনাই পীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৭:৫৮:১১
অন্তর্বর্তী আমলের চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে দেশ, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: চরমোনাই পীর
ছবি : সংগৃহীত

গত নির্বাচন নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন থাকলেও তা মেনে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান প্রশাসন দেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের চেয়েও চরম অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরতে পরতে ব্যাপক দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়াই এর মূল কারণ। বর্তমান বাস্তবতাকে তিনি উপমা দিয়ে পাতি শিয়ালের জিম্মায় মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলুম মাদরাসায় আয়োজিত দলীয় কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন চরমোনাই পীর। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত নিজেদের দলীয় প্রতীক বা লোগো থেকে ‘আকিমুদ্দিন’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়ায় তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ে ইসলামের মূল ভিত্তি আর অবশিষ্ট নেই, ফলে দলটিকে প্রকৃত অর্থে ইসলামী দল হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। গত জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারেও জামায়াত ইসলামি অনুশাসন মেনে দেশ পরিচালনার কোনো অঙ্গীকার করেনি এবং দলটির আমির নিজেই প্রচলিত আইনি কাঠামোয় রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এসব নীতিগত পরিবর্তনের কারণে জামায়াত তার ইসলামী দলের চরিত্র হারিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যক্রমে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ এনে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন জনদাবিতে দলটি রাজপথে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছিল। অথচ সেই কর্মসূচি শেষ করে সংসদে গিয়ে দলের আমির মন্তব্য করেছেন যে বিদ্যুৎ সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। যদি সরকারের কোনো দায় না-ই থাকে, তবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ করে এমন আন্দোলনের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

একই সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকারও কড়া সমালোচনা করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা ক্ষমতায় এলে ইসলামি শরিয়াহর পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। অথচ ক্ষমতাসীন হয়ে তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে শরিয়াবিরোধী আইন পাস করেছে। সরকার অনতিবিলম্বে এসব শরিয়াহবিরোধী অবস্থান ও আইন থেকে সরে না আসলে এর বিরুদ্ধে রাজপথে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

/আশিক


শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ২১:৫১:০১
শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলে তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে যেতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বজনরাই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝালকাঠি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় জেলা এনসিপি আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শুরুর প্রাক্কালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

সারজিস আলম উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা নিজেদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন এবং যারা এখনো পঙ্গুত্ব ও ক্ষতের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেই পরিবারগুলোর রক্তক্ষরণ আজও থামেনি। ফলে শেখ হাসিনা দেশে পা রাখা মাত্রই সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষোভ ও প্রতিবাদই তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট হবে। একই সঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার স্বাভাবিক প্রয়াণ কিংবা শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা—কোনোটিই বাংলাদেশের মাটিতে ঘটবে না।

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে শুরুতে ফ্যামিলি কার্ডসহ নানামুখী নাগরিক কার্ড বিতরণের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কেবল এসব কার্ড তৈরির প্রকল্পের জন্যই সরকারি কোষাগার থেকে ২৪২ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ রাখা হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষের উপকারের দোহাই দিয়ে বিপুল ব্যয়ের এমন অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে বরাবরের মতোই বড় ধরনের সংশয় থেকে যায়। ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে যে এটি কার্যকরভাবে রূপায়ণ করা সম্ভব নয়, যে কারণে বর্তমানে এই উদ্যোগ নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের মাঝে এক ধরনের নীরবতা তৈরি হয়েছে। জনগণের ঘাম ঝরানো রাজস্ব ব্যয় করে এমন কোনো অনিশ্চিত ও অবাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থের শতভাগ স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল প্রয়োগের দাবি জানান।

/আশিক

পাঠকের মতামত: