ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো হতে পারে না: স্পিকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:০৪:২০
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো হতে পারে না: স্পিকার
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো কোনো সম্পর্কে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, বরং তা হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্ককে যেভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, বাংলাদেশ আর সেই ধরনের সম্পর্কে বিশ্বাসী নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েনের কারণ তুলে ধরে স্পিকার জানান, ব্রিকস জোটের বিষয়ে ভারত এখনো বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেনি এবং এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষের দিক থেকে কোনো ইতিবাচক মনোভাবও দেখা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত যথাযথ মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ জানায়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দেওয়াকে বাংলাদেশ কোনোভাবেই প্রতিবেশীসুলভ আচরণ বলে মনে করে না। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা থাকলেও নয়াদিল্লির দিক থেকে সুসম্পর্ক রক্ষার কার্যকর সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম দেশের সঙ্গে অপর সার্বভৌম দেশের পারস্পরিক সম্মানজনক সম্পর্কই কাম্য।

বিগত সরকারের শাসনকাল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, টানা প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা শাসনামলে দেশের প্রতিটি খাত ও প্রশাসনিক কাঠামোতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। হত্যা, গুম, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচার বিগত সব নজিরকে অতিক্রম করে দেশকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গেছে, যা থেকে উত্তরণে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।

এদিকে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বিদ্যমান আইন-কানুন সংশোধনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কিছু বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য গড়ে না ওঠায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংসদ পরিচালনায় নিজের নিরপেক্ষ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল সমঝোতায় পৌঁছালে জনগণ দীর্ঘ সময়ের দুঃশাসন থেকে মুক্তি লাভ করবে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাবে বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত আইনগত পরিবর্তন নিশ্চিত করা যাবে এবং সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হলে দেশের নাগরিকরা এর সুফল ভোগ করবেন।

মতবিনিময়কালে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা ছাড়াও স্থানীয় ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন স্পিকার। পরবর্তীতে ‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তার কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ বিষয়ে স্পিকার জানান, সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা আগেই যাচাই করা হয়েছে এবং পাশাপাশি নতুন মহাসড়কের সম্ভাব্যতাও পরীক্ষা করে দেখা হবে; সার্বিক বিবেচনায় যেটি অধিক উপযোগী প্রমাণিত হবে, সরকার সে অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা।

/আশিক


যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ২০:১০:৩৮
যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা যান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে জাপান থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি টোকিও নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। এই বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী দলের অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের সদস্যরাও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আনুমানিক রাত ২টার দিকে ফ্লাইটটির ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

এর আগে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় টোকিও থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ফ্লাইটটির। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বোর্ডিং ও পুশব্যাক শেষে উড়োজাহাজটি রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময়ই ককপিটে স্পয়লারসংক্রান্ত কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটের দিকে রানওয়ে থেকেই বিমানটিকে পুনরায় পার্কিং বে-তে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর পাইলট ইমামুল যাত্রীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেন যে, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ফ্লাইটটি তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়ন করতে পারছে না এবং প্রকৌশলীরা তা সারানোর কাজ করছেন।

ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করে ত্রুটি সফলভাবে সারিয়ে তোলেন। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা বিলম্বে আকাশে ওড়ে ভিভিআইপি ফ্লাইটটি। উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের এক ফলপ্রসূ সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী এই ফ্লাইটে দেশের পথে রওনা হয়েছেন।

/আশিক


রূপপুর প্রজেক্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক: মিলল বায়েরার অনুমোদন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৯:৫১:১৩
রূপপুর প্রজেক্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক: মিলল বায়েরার অনুমোদন

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) এই ঐতিহাসিক অনুমোদন প্রদান করে। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদ উপায়ে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর গাইডলাইন অনুসরণ করে এবং রাশিয়ার সরাসরি কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘বি ওয়ান’ স্টেজ ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে চুল্লির স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন জটিল ও সংবেদনশীল কারিগরি পরীক্ষাগুলো সফলতার সঙ্গে পার করা হয়েছে। এই ধাপের পর পরবর্তী ‘বি টু’ স্টেজে পারমাণবিক চুল্লিকে প্রাথমিক অপারেশনের উপযোগী করে তোলা হয়, যার ধারাবাহিকতায় এখন ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বা পরমাণুর বিভাজন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এই পর্যায়ে এসে পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা ফিশন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে যখন ক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে, তখন তা সফলভাবে জাতীয় গ্রিড বা সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করা হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। উল্লেখ্য, এই প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রমও ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে রাশিয়া।

/আশিক


ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামি হাজিরে বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৯:০৯:৪৩
ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামি হাজিরে বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামিদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হলে দেশের বিচারব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত চত্বরে ‘ই-পারিবারিক আপিল আদালত’-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিচারপ্রক্রিয়াকে আধুনিক ও গতিশীল করতে সরকার নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিদিন কারাগার থেকে হাজিরা দেওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা এবং আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বন্দি আনা-নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দুরূহ ও ঝামেলার। প্রতিদিন এত বড় বহর বা মোবিলাইজেশনের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি ও কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়। এর ফলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট একটি বড় সেক্টরকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেবল আদালতের এই কার্যক্রমেই ব্যস্ত থাকতে হয়। এই কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করা গেলে বিচারব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সুফল মিলবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর আওতায় আসামিরা কারাগারে থেকে কিংবা নির্দিষ্ট সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থেকেই আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট কারা কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে আদালত তাদের ডিজিটাল উপস্থিতি নিশ্চিত করে নিচ্ছেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকার আরও বড় পরিসরে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মামলার জট নিরসনের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের মামলাজট দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার এখন অত্যন্ত বাছাই করে এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দক্ষ বিচারক নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে সাধারণ মানুষের আস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সারা দেশে বিচারাধীন প্রায় ৪৬ লাখ মামলা নিষ্পত্তি করার কাজটি মাত্র ২৩০০ জন বিচারকের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ক্লান্তিকর। এর পাশাপাশি বিচার বিভাগের কিছু জুডিশিয়াল কর্মকর্তা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে গাফিলতি করছেন এবং আয়েশি জীবন কাটাচ্ছেন বলেও তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশের চলমান সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধা, শহীদ পরিবারগুলোর সদস্য, অভিজ্ঞ আইনজীবী, সংবাদকর্মীসহ রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই সংস্কারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


জাপান সফর শেষে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৭:৫৩:০৫
জাপান সফর শেষে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি
ছবি : সংগৃহীত

চার দিনের সরকারি সফর শেষে জাপান থেকে ঢাকা ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি উড্ডয়নের কথা থাকলেও স্পয়লারে ত্রুটি ধরা পড়ায় শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, ভিভিআইপি যাত্রীদের বহনকারী বিজি-৩৭৭ নম্বর ফ্লাইটটির নির্ধারিত সময়েই বোর্ডিং সম্পন্ন হয়। এরপর উড়োজাহাজটিকে টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করে রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময় ককপিটের মনিটরে স্পয়লারের ত্রুটিসংক্রান্ত সতর্কসংকেত দেখতে পান পাইলট। তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানটিকে পুনরায় নির্ধারিত পার্কিং বে-তে ফিরিয়ে নেন।

ত্রুটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটির কারিগরি পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কারিগরি দল বর্তমানে ত্রুটি সারানোর জন্য কাজ করছে। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিমানটি সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত করে পুনরায় উড্ডয়ন উপযোগী করতে দুই থেকে তিন ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে। তবে মেরামতের কাজ সফলভাবে শেষ হওয়া এবং সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই ফ্লাইটটির পরবর্তী যাত্রার সময় চূড়ান্ত হবে।

উল্লেখ্য, উড়োজাহাজের ডানায় থাকা স্পয়লার সাধারণত অবতরণের সময় গতি নিয়ন্ত্রণে এবং উড্ডয়নের বিভিন্ন ধাপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেও যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মেরামত ও পরীক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

এদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমেদ উড্ডয়ন বিলম্বিত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে ত্রুটি সারাতে প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে টোকিও গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন।

/আশিক


বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারকসহ সাতটি চুক্তি সই

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ২০:৫৩:১৪
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারকসহ সাতটি চুক্তি সই
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মোট চারটি সমঝোতা স্মারক, দুটি অনুদান চুক্তি ও একটি অভিপ্রায়পত্র সই হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চলমান জাপান সফরকালে দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) চার দিনের এক সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিও পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে জাপানে গেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

/আশিক


ক্ষমতা নয়, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংস্কারই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৯:০৯:১৭
ক্ষমতা নয়, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংস্কারই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতিতে কার ক্ষমতা বাড়ল বা কমল তার চেয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওর একটি হোটেলে বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। সরকার ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো কাজগুলোতে কারো কোনো দ্বিমত থাকার কারণ নেই।

অনুষ্ঠানে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়াতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ থেকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, এসব হাসপাতালে শিশু ও গাইনি ওয়ার্ডের ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া অর্থনীতিকে গতিশীল করতে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের বন্ধ থাকা ৪৬টি কারখানা চালু করার পাশাপাশি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সব ধরনের সুযোগ সৃষ্টির কাজ বর্তমান সরকার করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা যত মজবুত হবে, জাতির ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল হবে। আগামী বছর থেকে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক ভাষা শিক্ষার সুযোগ রাখা এবং আসছে জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কিত শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। জাপান সরকারের বাংলাদেশে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকেও আটঘাট বেঁধে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং প্রবাসীদের দেশের একেকজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।

/আশিক


তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৮:৫২:৪৫
তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাপান সফরে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে সফরসঙ্গী করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানির হলরুমে বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপান আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা না করে কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে সরকারপ্রধান তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে এবং তার কোনো অবদান নেই কিংবা সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, একটি মহল তাকে হেয় করতে গিয়ে তার রাষ্ট্রীয় সম্মানপ্রাপ্তি সহ্য করতে পারছে না।

বুধবারের সভায় দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের বিদেশের মাটিতে দেশের একেকজন মূল প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, জাপান সফরকালে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব, সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। তবে এই বিনিয়োগ দ্রুত দেশে নিয়ে আসতে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিশেষে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশের প্রতিটি শিশুর সুশিক্ষা, চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী-উপদেষ্টাগণ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাপান বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৮:২৩:১৭
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অনিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং সাব-এজেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক অভিবাসন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে এবং ১ নভেম্বর থেকে তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ৩৩৮টি বড় লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে এবং তাদের চাহিদাপত্র এফডব্লিউসিএমএস ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সত্যায়ন করা হচ্ছে। দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রথম ধাপে পাঠানো ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে বিমান ভাড়া, মেডিকেল ও সার্ভিস চার্জ মিলিয়ে মোট ব্যয় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। অন্যদিকে, বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি থাকবে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করাতে এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্বে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করার জন্য কর্মীদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বাংলাদেশের ৫ খাতে জাপানি বিনিয়োগের বড় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৭:৪৪:৫৪
বাংলাদেশের ৫ খাতে জাপানি বিনিয়োগের বড় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

টোকিওর জেট্রো হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল জাপান এবং বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি দুই দেশের এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কাজ করলেও দেশটিতে জাপানের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এখনও ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচে রয়েছে। গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রফতানি ১.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জাপান থেকে আমদানি ২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল উল্লেখ করে তিনি এই সম্পর্ককে কেবল উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, দুই দেশ সম্প্রতি একটি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য কোনো দেশের সাথে স্বাক্ষরিত প্রথম এ ধরনের চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানে এবং স্টিল, অটোমোটিভ পার্টস ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশের ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, গড় বয়স ২৭ বছরের তরুণ জনশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বড় সুবিধা হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটিতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি অটোমোটিভ উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ—এই মূল পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় আকারের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। অটোমোটিভ খাতে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে টয়োটার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।

জ্বালানি খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাপানের ‘জেরা’র সাথে কাজ করছে। প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার বিষয়ে তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স এবং ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিংকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ‘বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক’ এবং উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক আইটি পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। সেই সাথে জাপান স্পেস সায়েন্স ও স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশ সক্ষমতা জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রেল ও লজিস্টিকস খাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে আধুনিক ও দ্রুতগতির উন্নত রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানান তিনি। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সুমিতোমো কর্পোরেশন দ্বারা জাপানি মানে উন্নত আড়াইহাজারের ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জাপানি কোম্পানিগুলোর নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো এবং সহজ কাস্টমস ও কর ব্যবস্থার উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব সমাধানে কাজ করছে এবং ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষ পেশাদার গড়ে তোলার মাধ্যমে উভয় দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটানোর কথা তিনি জানান।

যৌথভাবে এই ফোরামের আয়োজন করে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) এবং জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। অনুষ্ঠানে জেট্রো সভাপতি সুসুমু কাতাওকা সূচনা বক্তব্য দেন এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি ওয়াকায়ামা অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির ঢাকা শাখার জেনারেল ম্যানেজার কেনইচিরো কাওয়ামোতো, ওয়াইকেকে কর্পোরেশনের গ্লোবাল সেলসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেইসুকে আরাতানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: