চ্যাটজিপিটিতে এলো নতুন ‘মেমরি আর্কিটেকচার’ ও চ্যাট লক সুবিধা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ২০:৪১:১৯
চ্যাটজিপিটিতে এলো নতুন ‘মেমরি আর্কিটেকচার’ ও চ্যাট লক সুবিধা
ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও ডেটা সুরক্ষা আরও সুনিশ্চিত করতে নতুন ‘মেমরি আর্কিটেকচার’ বা চ্যাট লক করার সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে হওয়া সব কথোপকথন চার সংখ্যার গোপন পিন অথবা বায়োমেট্রিক পদ্ধতি যেমন ফেস আইডি কিংবা টাচ আইডির মাধ্যমে ‘লকড পিনে’ নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে। ব্যবহারকারীরা যখন তাদের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ আনলক অবস্থায় রেখে কোথাও চলে যান, তখন অন্য কারও পক্ষে এই ফিচারের কারণে সেই চ্যাটগুলোতে প্রবেশ করা বা কথোপকথন পড়া আর সম্ভব হবে না।

যেহেতু ব্যবহারকারীরা প্রায়ই চ্যাটজিপিটির সঙ্গে নানা ধরনের সংবেদনশীল তথ্য ও ব্যক্তিগত আলাপচারিতা শেয়ার করে থাকেন, তাই এই কথোপকথনগুলো পুরোপুরি গোপন রাখার তাগিদ সবসময়ই থাকে। সেই দিক বিবেচনা করে চ্যাটজিপিটির এই নতুন লকড পিন ফিচারটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তিবিশ্লেষকরা। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং ডেটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই ফিচারটি বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই নতুন সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাইবার ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শও দিচ্ছেন। ব্যবহারকারী যদি চার ডিজিটের পিনটি ভুলে যান, তবে মেমরি থেকে শুরু করে সমস্ত গোপন ফাইল বা গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পিনটি অন্য কোথাও নিরাপদে লিখে রাখা কিংবা বিশেষভাবে মনে রাখার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রযুক্তিগত এই সুরক্ষার পাশাপাশি চ্যাটজিপিটির সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চটজলদি বা সংক্ষিপ্ত উত্তরের খোঁজে না থেকে চ্যাটজিপিটিকে আরও সুশৃঙ্খল ও গভীর গবেষণামূলক কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যা ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন নানা জরুরি কাজ আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে।

/আশিক


হোয়াটসঅ্যাপে ‘No’ লিখলেই কি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়?

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৯:৩৫:৪৭
হোয়াটসঅ্যাপে ‘No’ লিখলেই কি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়?
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার ভুয়া বার্তা এবং ‘No’ লিখে উত্তর পাঠানোর আতঙ্কজনক অপপ্রচারের বিষয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী মূল তথ্যের কোনো পরিবর্তন না করে সম্পূর্ণ ইউনিক ও পেশাদার ভাষায় এটি সাজানো হয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপে অচেনা নম্বর থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে গ্রাহককে ‘না’ বা ‘নো’ লিখে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়া দাবি অনুযায়ী, এই একটি সাধারণ শব্দের উত্তর দিলেই নিমিষেই ব্যাংক হিসাবের সব অর্থ শূন্য হয়ে যেতে পারে। তবে শুধু ‘নো’ লিখে মেসেজের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ বা ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হলেও আতঙ্কিত না হয়ে এই দাবির পেছনের কৌশল ও সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সাধারণ টেক্সট মেসেজের উত্তর দেওয়া আর কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

সাধারণত এই ধরনের কথিত প্রতারণার শুরু হয় কোনো অপরিচিত বা আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আসা একটি ভীতিকর বার্তার মাধ্যমে। ওই বার্তায় দাবি করা হয় যে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়।

বার্তায় আরও বলা হয় যে এই লেনদেনটি গ্রাহকের নিজের না হয়ে থাকলে তাকে দ্রুত ‘No’ লিখে উত্তর পাঠাতে হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে হঠাৎ টাকা কেটে নেওয়ার এমন খবর পেলে যেকোনো মানুষের পক্ষেই উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক, আর এই মানবিক দুর্বলতা বা আতঙ্ককেই প্রতারকেরা তাদের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। তবে কেবল একটি সাধারণ শব্দ লিখে মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার মাধ্যমে কীভাবে সরাসরি ব্যাংক হিসাবের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব, তার কোনো সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা এই দাবির মধ্যে নেই।

হোয়াটসঅ্যাপে শুধু ‘No’ লিখে উত্তর পাঠালেই ফোন হ্যাক হয়ে যাওয়া কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে যাওয়ার মতো কোনো প্রযুক্তিগত পদ্ধতি বা নিয়ম প্রতিষ্ঠিত নয়। আলোচ্য দাবির ক্ষেত্রেও অর্থ চুরির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কিংবা ঘটনার কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত বিবরণ তুলে ধরা হয়নি। প্রচলিত সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে সাধারণত ক্ষতিকর বা ভুয়া লিংকে ক্লিক করানো, ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি হাতিয়ে নেওয়া, ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড বা পিন সংগ্রহ করা কিংবা কোনো সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করানোর মতো নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এসব পদ্ধতির মাধ্যমেই মূলত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং আর্থিক নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। অন্যদিকে, এই নির্দিষ্ট দাবিতে বলা হচ্ছে যে প্রতারকেরা কোনো ওটিপি চাইবে না বা কোনো লিংকে ক্লিক করতেও বলবে না, কেবল ‘No’ লিখে উত্তর দিলেই টাকা উধাও হয়ে যাবে। যদিও এ ক্ষেত্রে ‘অটো-এক্সিকিউশন ফাইল অ্যাটাক’ নামক একটি কৌশলের কথা উল্লেখ করা হয়, তবে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ ছাড়া এই ব্যাখ্যাকে পুরোপুরি সত্য বা প্রতিষ্ঠিত বলে ধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

হোয়াটসঅ্যাপে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে এ ধরনের সন্দেহজনক বার্তা এলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে লেনদেনের প্রকৃত তথ্য যাচাই করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার ওপর চোখ বন্ধ করে নির্ভর না করে সবসময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অফিশিয়াল অ্যাপ বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজের লেনদেনের বিবরণী যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংকের নির্দিষ্ট অফিশিয়াল হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে বার্তাটির সত্যতা নিশ্চিত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বার্তায় যদি কোনো ধরনের লিংক দেওয়া থাকে, তবে তাতে ভুলেও ক্লিক করা যাবে না।

অপরিচিত কোনো উৎস থেকে পাঠানো কোনো ধরনের ফাইল ডাউনলোড বা নতুন অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ওটিপি, এটিএম পিন, ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড কিংবা কার্ডের গোপনীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য কখনো অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। সন্দেহজনক নম্বরটি হোয়াটসঅ্যাপে অবিলম্বে রিপোর্ট ও ব্লক করে দিতে হবে এবং নিজের ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট রাখতে হবে।

যদি কখনো সত্যিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো ধরনের অপরিচিত বা সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হতে দেখা যায়, তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকের অফিশিয়াল হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কার্ড বা ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বার্তা, ফোন নম্বর, লেনদেনের সঠিক সময় এবং পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

এই তথ্যগুলো ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে এবং পরবর্তী আইনগত তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো আর্থিক জালিয়াতি বা সাইবার প্রতারণার শিকার হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পুলিশের সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ দমন ইউনিটেও দ্রুত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সূত্র: মিনট


বিক্রির কদিন না যেতেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোনে ফাটল!

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৯:৫৭:৫৯
বিক্রির কদিন না যেতেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোনে ফাটল!
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে বিক্রির মাত্র কয়েক দিনের মাথায় অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং ডিভাইস ‘আইফোন ডুও’-এর স্ক্রিনে ফাটল দেখা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী। বিষয়টি নিয়ে চারদিকে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর, ডিভাইসটির অল্পসংখ্যক ইউনিটে এই ত্রুটি দেখা দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। তবে এটি বড় ধরনের কোনো কাঠামোগত ত্রুটি কি না, তা নির্ধারণের জন্য এখনো পর্যাপ্ত তথ্য হাতে নেই বলে মনে করছেন বিশিষ্ট প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রেডিটে এই স্ক্রিন ফেটে যাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করছেন প্রাথমিক ক্রেতারা। উল্লেখ্য, আলোচিত এই ডিভাইসটির প্রারম্ভিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার।

অ্যাপল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইফোন ডুয়োর ভেতরের মূল স্ক্রিনে খুব সীমিত সংখ্যক ইউনিটে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, কোনো গ্রাহক যদি স্ক্রিনসংক্রান্ত এ ধরনের কোনো সমস্যায় পড়েন, তবে দ্রুত ডিভাইসটি প্রতিস্থাপনের জন্য যেন তারা অ্যাপলকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার এক ব্যবহারকারী রেডিটে তার তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, ফোনটি হাতে পাওয়ার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই এর স্ক্রিনে ফাটল দেখা দেয়। এক বন্ধুকে সেটি দেখানোর সময় ফোনটি খোলার মুহূর্তে স্ক্রিনের নিচের অংশে তিনি কিছুটা অস্বাভাবিক অনুভুতি পান। ফোনটি সম্পূর্ণ খুলতে গেলে কড়কড় শব্দ হওয়ার পাশাপাশি স্ক্রিনটি ভেঙে যায়। ওই পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত একটি ছবিতে স্ক্রিনের একপাশে সাদা আলোর অস্বাভাবিক দাগ ফুটে উঠতে দেখা যায়, যা ডিসপ্লের গুরুতর ত্রুটির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। ওই ব্যবহারকারীর দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় অ্যাপল স্টোরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার ক্ষতিগ্রস্ত ফোনটি বদলে দেওয়া হয়েছে। তবে গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার আরেক ব্যবহারকারীও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করে জানিয়েছেন যে, তার ফোনটি খোলার সময়ও প্রায় ফাটলের মতো বিকট শব্দ হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একই ধরনের ডিসপ্লে জটিলতা দেখা দেয়। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের কিছু ব্যবহারকারীর কাছ থেকেও এজাতীয় স্ক্রিন সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

অ্যাপলের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, যেসব ডিভাইসে এই ত্রুটি দেখা দিয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহারের একদম শুরুর দিকেই সমস্যাগুলো প্রকাশ পাচ্ছে। তা সত্ত্বেও প্রাথমিক পর্যায়ের ক্রেতাদের সামগ্রিক প্রতিক্রিয়াকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই বর্ণনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটিই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম আলোচিত ও বড় পণ্য উন্মোচন। গত সেপ্টেম্বরে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হন বর্তমান প্রধান নির্বাহী টার্নাস।

খ্যাতনামা প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির (IDC) তথ্য ও বিশ্লেষণ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো মন্তব্য করেছেন যে, স্ক্রিনের এই সমস্যাটি ঠিক কতটা গুরুতর বা ব্যাপক, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। যেকোনো ব্র্যান্ডের নতুন কোনো ফিজিক্যাল পণ্য বাজারে আসার পর এ ধরনের টুকিটাকি ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৯ সালে স্যামসাংয়ের প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আসার সময়ও ঠিক একই ধরনের স্ক্রিন জটিলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জেরোনিমো বলেন, খুব দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারলে নতুন এই পণ্যশ্রেণির ওপর গ্রাহকদের আস্থায় বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তার মতে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ফোন প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে অ্যাপল সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপই গ্রহণ করেছে।

অন্যদিকে, অপর শীর্ষ প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিসিএসের (CCS) প্রধান বিশ্লেষক বেন উড জানিয়েছেন যে, আইফোন ডুয়োর স্ক্রিনজনিত এই ত্রুটির বিষয়টি নিয়ে তিনি আপাতত বেশ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন। এখন পর্যন্ত বাজারে আসা এই ডিভাইসে বড় বা ব্যাপক পরিসরে কোনো কাঠামোগত ত্রুটি ছড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও মন্তব্য করেছেন এই বিশেষজ্ঞ।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারে আসছে নতুন কড়াকড়ি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৯:৪৬:০৬
হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারে আসছে নতুন কড়াকড়ি
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সিম-বাইন্ডিং নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের সরকার। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মের ফলে যেসব ব্যবহারকারী নিবন্ধিত সিম কার্ড ফোনে সক্রিয় না রেখে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেন, তারা নানা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, নির্দিষ্ট তারিখ থেকেই সব ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং ভারতীয় মোবাইল নম্বরের অপব্যবহার রোধ করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ (ডিওটি)। মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে এই নতুন নিয়ম মেনে চলার জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সিম-বাইন্ডিং হলো মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেসেজিং অ্যাকাউন্টের সংযোগ আরও নিবিড়ভাবে নিশ্চিত করার একটি ব্যবস্থা। প্রস্তাবিত এই নিয়ম কার্যকর হলে ভারতীয় মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত মেসেজিং অ্যাপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নম্বরের সক্রিয় সিম বা ই-সিম ডিভাইসে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যবহারকারী নিবন্ধিত সিম ফোন থেকে খুলে ফেললে, নিষ্ক্রিয় করলে কিংবা পরিবর্তন করলে অ্যাপটি নম্বর যাচাই করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে। ফলে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আসার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটি ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব বাস্তবায়ন পদ্ধতির ওপর।

নতুন এই নিয়মের কারণে মূলত চার ধরনের ব্যবহারকারী বেশি প্রভাবিত হতে পারেন

সেকেন্ডারি ফোন ব্যবহারকারী

যারা একটি ফোনে মূল সিম রেখে অন্য ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম ব্যবহার করেন, তাঁদের ডিভাইসের সেটআপ নতুন করে যাচাই করতে হতে পারে।

সিম খুলে রাখা ব্যবহারকারী

অ্যাকাউন্ট সচল করার পর যারা ফোন থেকে নিবন্ধিত সিম কার্ডটি সরিয়ে ফেলেন, তাদের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা যাচাইসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে।

শুধু ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারী

যারা সেলুলার নেটওয়ার্কের বদলে মূলত ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে মেসেজিং অ্যাপ চালান, তাঁদের নিবন্ধিত নম্বরটি সচল রাখা এবং নতুন শর্ত পূরণ করা নিশ্চিত করতে হবে।

ডুয়াল-সিম ব্যবহারকারী

ফোনে একাধিক সিম থাকলে অ্যাকাউন্টটি ঠিক কোন নম্বর দিয়ে খোলা হয়েছে, তা সঠিকভাবে যাচাই করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীদের নিজেদের নিবন্ধিত নম্বরটি সবসময় সচল রাখা, অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত নম্বর যাচাই করা এবং অন্য ডিভাইসে অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। একই সঙ্গে ভারতের টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ ও অ্যাপ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাগুলোর প্রতি নজর রাখা দরকার।

উল্লেখ্য, এই নিয়মটি মূলত সিম ও মোবাইল নম্বর যাচাইসংক্রান্ত হওয়ায় পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো তথ্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া নিয়মটি যেহেতু মূলত ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারীদের জন্য প্রস্তাবিত, তাই বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের ওপর এর সরাসরি বা তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

/আশিক


অবৈধ মোবাইল ফোন নিয়ে বিটিআরসির বড় সিদ্ধান্ত

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ২০:০১:১৮
অবৈধ মোবাইল ফোন নিয়ে বিটিআরসির বড় সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

অবৈধভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান এবং অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ লক্ষ্যে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে বহুল আলোচিত জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হ্যান্ডসেট বন্ধের পাশাপাশি ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ ও মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) নানামুখী জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোনের ব্যাপ্তি বাড়ায় সরকার প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এনইআইআরের প্রথম ধাপে অপারেটরদের নেটওয়ার্কে বর্তমানে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে থাকা অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর ডাটাবেজে যুক্ত করা হবে এবং অবৈধ ও চোরাচালানের মাধ্যমে আসা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা হবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন ফোন ও অবৈধ হ্যান্ডসেট স্থায়ীভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন বা সংযোগ বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মোবাইল চুরি-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে এনইআইআর চালুর তাগিদ দেওয়া হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, অনিবন্ধিত ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং আর্থিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া বিটিআরসি পৃথক এক রূপরেখায় ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্কভিত্তিক হ্যান্ডসেটের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধের সিদ্ধান্তও অনুমোদন করেছে।

/আশিক


ভিডিও বানিয়ে আয়ের সুযোগ দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৯:০২:৪১
ভিডিও বানিয়ে আয়ের সুযোগ দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স
ছবি : সংগৃহীত

ভিডিও নির্মাতাদের অর্থ উপার্জনের নতুন সুযোগ করে দিতে ‘ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস’ নামের একটি বিশেষ ইনসেনটিভ কর্মসূচি চালু করেছে ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)। এই ব্যবস্থার অধীনে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ১৫টি মৌলিক ভিডিও পোস্ট করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার (বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা) আয় করতে পারবেন নির্মাতারা।

এক্সের অফিশিয়াল তথ্যানুযায়ী, মানসম্পন্ন ও অরিজিনাল ভিডিও প্রকাশে ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতেই নতুন এই বোনাস স্কিমটি আনা হয়েছে। সাধারণত অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভিউ, ওয়াচ-টাইম বা লাইকের ওপর ভিত্তি করে মনিটাইজেশন দেওয়া হলেও এক্সের এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই নির্দিষ্ট অংকের বোনাস নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ ভিডিওর ভিউসংখ্যা যাই হোক না কেন, শর্ত মানলেই আয় হবে।

তবে এই সুবিধা এখনই সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। প্রাথমিক পর্যায়ে কেবল এক্সের থেকে সরাসরি আমন্ত্রণ পাওয়া নির্বাচিত ক্রিয়েটররাই এতে অংশ নিতে পারবেন। অংশ নিতে আগ্রহী ক্রিয়েটরদের আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ক্রিয়েটর স্টুডিওর ‘প্রোগ্রামস’ ট্যাবে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

ভিডিও প্রকাশের ক্ষেত্রে এক্স বেশ কিছু কঠোর নীতি নির্ধারণ করেছে। বোনাস পেতে হলে নির্মাতাদের ভিন্ন ভিন্ন দিনে কমপক্ষে ১৫টি শর্ট-ফর্ম বা ভার্টিক্যাল (লম্বালম্বি) ভিডিও পোস্ট করতে হবে, যার দৈর্ঘ্য হতে হবে ৩ মিনিটের কম। ভিডিওগুলো অবশ্যই সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ওয়াটারমার্কবিহীন হতে হবে। রি-পোস্ট করা বা অন্য কারও কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট দিলে এই বোনাসের আওতায় আসবে না। প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বা নির্দিষ্টসংখ্যক অনুসারী না থাকলেও আমন্ত্রণপ্রাপ্ত যেকোনো ক্রিয়েটর এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন।

সূত্র: নিউজ১৮


এআই চ্যাট গোপনে রাখতে মেটার পর এবার ওপেনএআইয়ের বড় পদক্ষেপ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৭:৪২:৩২
এআই চ্যাট গোপনে রাখতে মেটার পর এবার ওপেনএআইয়ের বড় পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তাদের জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে ‘লকড চ্যাটস’ নামের একটি নতুন নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) নতুন এই সুবিধার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের নির্দিষ্ট চ্যাট গোপন পিন বা বায়োমেট্রিক সুরক্ষার মাধ্যমে অন্যদের চোখ থেকে আড়ালে রাখতে পারবেন।

নতুন এই সুরক্ষাব্যবস্থার অধীনে কোনো চ্যাট লক করা হলে তা সাধারণ চ্যাট হিস্ট্রি, পিন করা তালিকা কিংবা সার্চের ফলাফলেও দেখা যাবে না; বরং এসব গোপনীয় বার্তা স্থান পাবে ‘প্রজেক্টস’ মেনুর অধীনে থাকা ‘লকড চ্যাটস’ বিভাগে। চ্যাটজিপিটি ওয়েব ও ডেস্কটপ সংস্করণে চার অঙ্কের পিন নম্বর দিয়ে লক করা চ্যাট খোলা যাবে এবং অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ডিভাইসে ফেস আইডি বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো বায়োমেট্রিক সুবিধাও মিলবে। গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লক করা চ্যাটে দেওয়া নতুন কোনো তথ্য চ্যাটজিপিটির স্থায়ী স্মৃতি বা ‘মেমোরি’তে জমা হবে না। তবে নিরাপত্তা পিন ভুলে গিয়ে রিসেট করলে লক করা সব পুরনো চ্যাট স্থায়ীভাবে মুছে যাবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

ওপেনএআই স্পষ্ট করেছে যে, ‘লকড চ্যাটস’ কোনো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের বিকল্প নয়। এটি একই ডিভাইস ব্যবহারকারী অন্য মানুষদের হাত থেকে সাময়িক গোপনীয়তা রক্ষার অতিরিক্ত একটি মাধ্যম মাত্র। চ্যাটজিপিটির ফ্রি, প্লাস, প্রো, বিজনেসসহ প্রায় সব প্ল্যানের ব্যবহারকারীদের জন্যই পর্যায়ক্রমে ফিচারটি চালু করা হচ্ছে। তবে অস্থায়ী বা সাময়িক চ্যাট, আর্কাইভড বার্তা, গ্রুপ চ্যাট এবং শেয়ার করা লিংকের সংলাপগুলো লক করার আওতাভুক্ত থাকবে না।

/আশিক


গেমিং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসর বসতে চলেছে আগামী মাসেই

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:২৮:২৭
গেমিং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসর বসতে চলেছে আগামী মাসেই
ছবি : সংগৃহীত

ভিডিও গেমপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৯ নভেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ও মেগা বাজেটের গেম ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬’ (জিটিএ ৬)। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমসের নতুন ট্রেলার ও ঘোষণায় এই মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। গেমটির উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যয় সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা, যা গেমিং শিল্পে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।

এর আগে মানসম্মত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে গেমটির মুক্তির তারিখ দুই দফা পেছানো হয়েছিল। প্লেস্টেশন ৫ এবং এক্সবক্স সিরিজ এক্স ও সিরিজ এস কনসোলে গেমটি খেলার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে পিিসি (PC) সংস্করণের মুক্তির তারিখ বা নিনটেনডো সুইচ ২-এ আসার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি রকস্টার। যুক্তরাষ্ট্রে গেমটির স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণ ৭৯.৯৯ ডলারে এবং আলটিমেট সংস্করণ ৯৯.৯৯ ডলারে বিক্রির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১২ নভেম্বর থেকে গেমটি ডিজিটালভাবে প্রি-লোড বা ডাউনলোড করার সুযোগ পাবেন ব্যবহারকারীরা।

জিটিএ ৬-এর মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জেসন ও লুসিয়া নামের দুই চরিত্র। সিরিজের ত্রিমাত্রিক গেমগুলোর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী চরিত্র—অর্থাৎ লুসিয়াকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে মিশন সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন গেমাররা। গেমটির কাল্পনিক পটভূমি হিসেবে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘লিওনিডা’ অঙ্গরাজ্য এবং মিয়ামি শহরের আদলে তৈরি জনপ্রিয় ‘ভাইস সিটি’। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিটিএ ৫’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর, এবারের কিস্তিটি গেমিং দুনিয়ায় ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

/আশিক


অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে রাতের আকাশে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি ও হান্টার্স মুনের মেলা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২০:২৪:৩১
অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে রাতের আকাশে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি ও হান্টার্স মুনের মেলা
ছবি : সংগৃহীত

কার্তিকের শুষ্ক আবহে চলতি অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাতের আকাশে দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর মহাজাগতিক ঘটনা। এর মধ্যে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে হ্যালির ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি ‘ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি’, বছরের অন্যতম সুন্দর ‘হান্টার্স মুন’ বা শিকারি পূর্ণিমা এবং চাঁদ ও বিখ্যাত প্লেইয়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের (সেভেন সিস্টার্স) ঘনিষ্ঠ সংযোগ। জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র ও স্কাইম্যাপের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২১ থেকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই এসব চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করার দারুণ সুযোগ পাবেন দেশের আকাশপ্রেমীরা।

আসন্ন মহাজাগতিক ইভেন্টগুলোর মধ্যে আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে চরমে পৌঁছাবে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। আদর্শ পরিবেশে এই সময়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ২০টি উল্কা খসে পড়তে দেখা যেতে পারে, তবে চাঁদের উজ্জ্বল আলোর কারণে ভোরের আগের সময়টিতে উল্কা দেখার সুবর্ণ সুযোগ মিলবে। এর ঠিক পরপরই আগামী ২৬ অক্টোবর পূর্ণতা পাবে ‘হান্টার্স মুন’, যা ২৫ থেকে ২৬ অক্টোবর রাতে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদের রূপ নিয়ে উদ্ভাসিত হবে। এছাড়া ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে পূর্ব আকাশে প্লেইয়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের খুব কাছে অবস্থান করবে চাঁদ। পাশাপাশি শনি গ্রহসহ হেমন্তকালীন ক্যাসিওপিয়া ও পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডল পর্যবেক্ষণের জন্য শহরের আলোকদূষণ থেকে দূরে খোলা স্থানে সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিদরা।

/আশিক


মহাকাশে সবুজ ও গোলাপি রঙের ব্যতিক্রমী শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৮:১৮:৩২
মহাকাশে সবুজ ও গোলাপি রঙের ব্যতিক্রমী শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশে শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মানুষের চোখে সবুজ ও স্যামন মাছের মতো গোলাপি রঙের দুটি ব্যতিক্রমী নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালী ও রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মূলত সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঘন এই অবশিষ্টাংশগুলোর বাইরের স্তরে সংঘটিত ভৌত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াই তাদের আলোর বর্ণালীতে এই পরিবর্তন নিয়ে আসে।

সাধারণত নক্ষত্রের রং তার তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করলেও শ্বেত বামন নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য উপাদানের মিথস্ক্রিয়া রঙের ভিন্নতা তৈরি করে। গবেষণার অংশ হিসেবে পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী সবুজ রঙের নক্ষত্রটিতে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, আর গোলাপি রঙের নক্ষত্রটির এই অদ্ভুত রঙের পেছনে কার্বন অণুর উচ্চ ঘনত্বের সংযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

নক্ষত্রগুলো পৃথিবী থেকে বহুদূরে অবস্থিত হওয়ায় খালি চোখে সরাসরি তাদের দেখা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রের আলোকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী বিশ্লেষণ করে বর্ণালী তৈরি করেন, যা থেকে নক্ষত্রের রাসায়নিক গঠন ও সম্ভাব্য রং নির্ধারণ করা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, নক্ষত্রের চারপাশে থাকা কোনো গ্রহাণু বা পাথুরে মহাজাগতিক বস্তু ভেঙে তার ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ যখন নক্ষত্রের বাইরের স্তরে জমা হয়, তখন লোহা, ম্যাগনেশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো উপাদানগুলোর রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে বহু আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহের অভ্যন্তর সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও নতুন জরিপের মাধ্যমে এমন আরও অনেক শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গবেষকরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: