তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট

ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে এর প্রভাবে বৃষ্টির পরিমাণ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে দেশের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও সামান্য বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে অন্ধ্র প্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তা উপকূল অতিক্রম করা শুরু করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে এবং পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা সমুদ্রসৈকত উত্তাল হয়ে ওঠায় স্থানীয় প্রশাসন পর্যটক ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতেও এই ঝড়ের আঘাত হানার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানিয়েছেন, স্থলভাগে উঠে আসার পর ঘূর্ণিঝড়টির গতি অনেক কমে গেছে এবং এটি ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে।
কমগতির এই ঝড়ের প্রভাবে খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার ফলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়েছিল এবং রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের গতি মন্থর হওয়ায় আগের ধারণার চেয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
/আশিক
আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে এবং পরবর্তীতে আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) এটি ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার রয়েছে, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
/আশিক
ঢাকায় দুপুরে বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস: কাঁপতে পারে ৬ বিভাগ
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বজ্রবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ঢাকা ছাড়াও দেশের আরও ৫টি বিভাগে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অফিসের বিশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, যা অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
সিনপটিক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান। এর প্রভাবে আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ ভোরে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে। হঠাৎ ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কায় নগরবাসীকে চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
/আশিক
আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
সারা দেশে পৌষের মাঝামাঝি সময়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। যদিও আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে এখন পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়নি, তবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় এবং দিনের বেলা সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সোমবার ভোরে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন ১৩.৮ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে পার্থক্য ছিল মাত্র ১.৭ ডিগ্রি, যার ফলে রাজধানীবাসী হাড়কাঁপানো শীতের কবলে পড়েছেন।
আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা জানিয়েছেন, আগামী ১ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তাপমাত্রা খুব একটা না কমলেও ৬ জানুয়ারি থেকে পারদ নামতে শুরু করবে। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) এই শৈত্যপ্রবাহের নাম দিয়েছে ‘কনকন’। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে এই শৈত্যপ্রবাহের সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ দেখা যাবে, বিশেষ করে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিতে নেমে আসতে পারে।
কুয়াশার তীব্রতার কারণে মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময়ে মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার দাপট থাকবে, যার ফলে বিমান, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। তবে বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। শীতের এই বৈরী পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
২১০০ সালের মধ্যে ২০ কোটি মানুষ ঘরহারা হতে পারে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ চিত্র
বিশ্বজুড়ে গরম বেড়ে যাওয়ার খবর প্রায়ই শোনা যায় তবে অধিকাংশ বাসযোগ্য এলাকায় পরিস্থিতি এখনো মানুষের জন্য জীবনযাপন অসহনীয় নয়। বিশেষ করে শুষ্ক অঞ্চলে গরম হলেও শরীর ঘাম দিয়ে নিজেকে ঠাণ্ডা রাখতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ ফেলছে এমন কিছু জায়গা যেখানে গরমের সঙ্গে আর্দ্রতাও বেশি থাকে। মধ্যপ্রাচ্য পাকিস্তান ও ভারতের কিছু এলাকায় গরমে সামুদ্রিক আর্দ্রতা যুক্ত হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। সেখানে ঘাম দ্রুত বাষ্পীভূত হয় না তাই শরীর ঠাণ্ডা হয় না এবং দীর্ঘ সময় থাকলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।
গবেষকরা ওয়েট বাল্ব থার্মোমিটার ব্যবহার করে এই ঝুঁকি মাপেন। যদি ওয়েট বাল্ব তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয় তবে শরীর যথেষ্ট তাপ বের করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ ২০২৪ সালের মে মাসে দিল্লিতে তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে অনেক মানুষ তাপদাহে মারা গিয়েছিলেন। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপজ্জনক গরম এবং আর্দ্রতা আরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্ট ও মরুভূমি এলাকায় যেখানে কৃষিকাজে জল স্প্রে করা হয় সেসব অঞ্চলেও গরম ও আর্দ্রতার ঝুঁকি বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন যখন আমরা কয়লা তেল বা গ্যাস জ্বালাই তখন কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয় যা বায়ুমণ্ডলে জমে সূর্যের তাপ ধরে রাখে। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু গরমের সমস্যা নয় বরং এটি আগুন খরা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়। একুশ শতকের শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রায় ২০ কোটি মানুষ বাসস্থান হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া কৃষি ও অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
খারাপ খবর হলো যতক্ষণ আমরা কার্বন জ্বালাব তাপমাত্রা বাড়তেই থাকবে। তবে ভালো খবর হলো আমরা সোলার ও উইন্ড পাওয়ারের মতো পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহার করে কার্বন নির্গমন কমাতে পারি। গত ১৫ বছরে পরিষ্কার শক্তি আরও সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য হয়েছে এবং প্রায় সব দেশ জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সম্মত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করেই এই পৃথিবী বাসযোগ্য রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র : এনডিটিভি
২৫০ বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ: বাংলাদেশ কি বড় ভূমিকম্পের দ্বারপ্রান্তে?
বাংলাদেশ আবারও একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত এই সকালের কম্পন খুব বেশি ক্ষতি না করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি মোটেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং উপনিবেশিক যুগ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ধারাবাহিক সিসমিক সক্রিয়তার অংশ। আজকের ভূমিকম্প বাংলাদেশের দীর্ঘ ভূমিকম্প-ইতিহাসকে নতুনভাবে সামনে এনেছে এবং দেখিয়েছে যে দেশটি এখনো বড় ধরনের কম্পনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়।
দেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান এমন যে বাংলাদেশের নিচ দিয়ে তিনটি টেকটোনিক প্লেটের চাপের রেখা চলে গেছে। এই কারণে কয়েক শতাব্দী ধরে বাংলাদেশ নানা সময়ে বড় কম্পনের অভিঘাত সহ্য করেছে। ১৭৬২ সালের আরাকান ভূমিকম্প যার মাত্রা প্রায় ৮ দশমিক ৮ ধরা হয়, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার উপকূলের বৃহৎ ভূমি পরিবর্তন ঘটায়। উপকূলের অনেক অংশ নিচে নেমে যায় এবং কোথাও কোথাও নতুন চর ও দ্বীপ সৃষ্টি হয়। এই ভূমিকম্প এখনো বাংলাদেশের ভূ-ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভূ-পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
১৮৯৭ সালের শিলং ভূমিকম্প ছিল আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা। প্রায় ৮ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্পে সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল এবং রংপুরসহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বহু ভবন ধসে পড়ে, রেললাইন বেঁকে যায় এবং জমিতে দীর্ঘ ফাটল সৃষ্টি হয়। এই ভূমিকম্প বাংলাদেশের ভূমিকম্প-ঝুঁকির কেন্দ্রীয়তা স্পষ্ট করে দেয়।
এরপর ১৯১৮ এবং ১৯২৩ সালে নেত্রকোনা অঞ্চলে ঘটে দুটি বড় ভূমিকম্প। এই দুই ঘটনার ধাক্কায় বহু ঘরবাড়ি, ধর্মীয় স্থাপন এবং স্থানীয় স্থাপনা ধসের মুখে পড়ে। উপকেন্দ্র ছিল নেত্রকোনা ময়মনসিংহ অঞ্চল। উভয় ঘটনায় প্রাণহানি হওয়ায় কেন্দ্রীয় বাংলাদেশের ভূমিকম্প-সংবেদনশীলতা আবারও সামনে আসে।
উপনিবেশিক যুগের আরেক বড় ঘটনা ১৯৫০ সালের আসাম ভূমিকম্প। প্রায় ৮ দশমিক ৬ মাত্রার এই কম্পনের উপকেন্দ্র ছিল ভারতের অরুণাচল সীমান্ত, তবে এর ধাক্কা বাংলাদেশেও শক্তভাবে অনুভূত হয়। উত্তর পূর্বাঞ্চলে বহু স্থাপনায় ফাটল দেখা দেয়।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মাঝারি মাত্রার একাধিক ভূমিকম্প ঘটে। ১৯৮৮ সালের সিলেট ভূমিকম্পে বহু ভবনে ফাটল ও ধসের ঘটনা ঘটে। ১৯৮৯ সালে খুলনা অঞ্চলে এবং ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে এবং প্রাণহানি হয়। ১৯৯৯ সালে মহেশখালী দ্বীপে ভূমিকম্পে অন্তত ছয়জন নিহত হন। ২০০৩ সালে রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অনুভূত কম্পন আবারও পাহাড়ধসসহ নানা ক্ষতি তৈরি করে।
সাম্প্রতিক সময়েও সিসমিক সক্রিয়তা বাংলাদেশের জন্য নতুন চিন্তার কারণ। ২০১৬ সালে মণিপুর ভূমিকম্প, ২০১৭ সালে ত্রিপুরার ভূমিকম্প এবং ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ধারাবাহিক ছোট মাঝারি ভূমিকম্প দেশের প্রস্তুতিহীনতার বিষয়টি সামনে আনে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের আশপাশে ২ মাত্রার বেশি শক্তির একশটিরও বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে অঞ্চলটি এখন অত্যন্ত সক্রিয় এবং বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিদ্যমান।
আজকের ভূমিকম্পও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। কম গভীরতার কারণে কম্পনটি বহু এলাকায় তীব্রভাবে অনুভূত হয়। ঘনবসতি, দুর্বল ভবন, নরম পলিমাটি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন বাংলাদেশের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে অল্প শক্তির ভূমিকম্পও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় বিপদের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এমন ধারণা বিজ্ঞানসম্মত নয়। বরং ছোট কম্পনগুলো দেখাচ্ছে ভূতলের নিচে টেনশন জমছে যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইঙ্গিত হতে পারে।
বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস, সাম্প্রতিক সিসমিক প্যাটার্ন এবং আজকের ভূমিকম্প মিলিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। দেশটি ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে কখনোই নিরাপদ ছিল না এবং এখনো নয়। উন্নত ও ভূমিকম্প সহনশীল নির্মাণ, কড়া বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প ঝুঁকি যুক্ত করা এবং জনগণকে সচেতন করা এখন সময়ের দাবি।
আজকের ভূমিকম্প আমাদের কী শিক্ষা দিচ্ছে: একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
আজকের ভূমিকম্প বাংলাদেশের মানুষকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে ভূমিকম্প এদেশে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয় বরং একটি স্থায়ী বাস্তবতা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত কম্পনটি স্বল্প সময়ের হলেও এটি মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং অনেকে ভবন থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই ভূমিকম্প ভবিষ্যতের আরও বড় সম্ভাব্য বিপদের সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল এবং এটি বহুদিনের বাস্তবতা
বাংলাদেশ এমন একটি স্থানে অবস্থিত যেখানে পৃথিবীর তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেট পরস্পরের সংযোগস্থলে রয়েছে। ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট এবং বার্মা মাইক্রো প্লেটের সংঘর্ষপ্রবণ অবস্থান বাংলাদেশকে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বিশেষ করে ইন্ডো বার্মা সাবডাকশন জোনে দীর্ঘদিন ধরে টেকটোনিক চাপ জমে আছে যা বড় মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে। বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক গবেষণা বলছে এই অঞ্চলে শক্তি সঞ্চয়ের প্রকৃতি বিবেচনায় ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে।
ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন ঘন ঘন অনুভূত হওয়া এই অঞ্চলের সক্রিয়তার একটি স্বাভাবিক ইঙ্গিত। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ফল্ট লাইনগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং সিসমিক গতিবিধির ধারাবাহিকতা বজায় আছে। তাই বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকির দিক থেকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
ঘনবসতি এবং দুর্বল অবকাঠামো আমাদের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে
বাংলাদেশের বড় শহরগুলো, বিশেষ করে ঢাকা, বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ নগর কেন্দ্র। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অনুমোদনহীন নির্মাণ এবং নরম পলিমাটির ওপর অসংখ্য ভবন নির্মাণ বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উন্নত দেশের মতো এখানে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনশীলভাবে নির্মাণ করা হয়নি। ফলে একই মাত্রার ভূমিকম্প বিদেশে কম ক্ষতি করলেও বাংলাদেশে অধিক ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এর পাশাপাশি গ্যাসলাইন, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক, সেতু এবং উড়ালসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও বড় ভূমিকম্প প্রতিরোধে পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও পাইপলাইন বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধস বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো গৌণ বিপর্যয় ঘটতে পারে। ফলস্বরূপ মৃত্যুহার এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে পারে।
ছোট ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের শক্তি কমিয়ে দেয় এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল
বাংলাদেশে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হলে নাকি ভূগর্ভের চাপ মুক্ত হয়ে যায় এবং বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কমে যায়। ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার গবেষণা বলছে ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা দূর করে না বরং সক্রিয় ফল্ট লাইনের চলমান ভূ-চাপের একটি সাধারণ ইঙ্গিত।
ইতিহাস বলছে যেসব অঞ্চলে বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয়েছে তারও আগে অনেক জায়গায় ছোট কম্পন দেখা গিয়েছে। তাই ছোট ভূমিকম্পকে নিরাপত্তার লক্ষণ হিসেবে দেখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বরং এগুলো ভূগর্ভে সিসমিক শক্তির সক্রিয়তার একটি সতর্ক সংকেত যা মানুষকে আরও সচেতন ও প্রস্তুত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।
নির্দিষ্ট সময় ধরে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়
প্রতি ভূমিকম্পের পরই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে অমুক সময়ে বা নির্দিষ্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে। এসব দাবি মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কিন্তু পৃথিবীর কোন আধুনিক বৈজ্ঞানিক সংস্থা এখনো নির্দিষ্ট দিন, সময় বা ঘণ্টা ধরে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়নি। ভূমিকম্প একটি অত্যন্ত জটিল প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং এর সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা এখনো বিজ্ঞানের নাগালের বাইরে।
কেবল ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল, সম্ভাব্য মাত্রা এবং সিসমিক সক্রিয়তার ধরণ নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণ করতে পারেন। নির্দিষ্ট সময় ধরে ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী শুধুই গুজব এবং আতঙ্ক ছড়ানোর একটি পদ্ধতি। তাই ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য জানতে সর্বদা বৈজ্ঞানিক উৎসের ওপর নির্ভর করা এবং গুজবকে প্রত্যাখ্যান করা অত্যন্ত জরুরি।
আজকের ভূমিকম্প ছিল সতর্ক সংকেত
আজকের ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাস্তব এবং যেকোনো সময় বিপর্যয় ঘটতে পারে। ভূ-অবস্থান, সক্রিয় ফল্ট লাইন, ঘনবসতি, দুর্বল ভবন এবং প্রস্তুতিহীনতা বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় তবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব যদি বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং জনগণকে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি শেখানো হয়।
ভূমিকম্পের প্রধান কারণ গুলো কি কি
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভূতত্ত্ববিদরা। তাদের মতে, ভূমিকম্পের প্রধান কারণ হলো পৃথিবীর নিচের স্তরে টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়া। তবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, শিলাস্তরে ফাটল সৃষ্টি হওয়া, ভূমিধস এবং মানুষের বিভিন্ন কার্যক্রমও এই ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়াই বড় কারণ
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, পৃথিবীর ভূত্বক বিশাল কয়েকটি টেকটোনিক প্লেট নিয়ে গঠিত, যেগুলো সবসময় নীরবে নড়াচড়া করে। যখন এই প্লেটগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়, দূরে সরে যায় বা ঘর্ষণ তৈরি করে, তখন শিলাস্তরে প্রচণ্ড চাপ জমা হয়। কোনো এক পর্যায়ে এই চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়ে ভয়ঙ্কর কম্পন তৈরি করে যাকে আমরা ভূমিকম্প বলে জানি।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলকে ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কারণ ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলে শিলাস্তরের ওপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করছে।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও সৃষ্টি করে কম্পন
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে ভূমিকম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আগ্নেয়গিরির ভেতরে গলিত লাভা ও গ্যাস যখন জোরে বের হয়ে আসে, তখন ভূপৃষ্ঠে স্বাভাবিকভাবেই কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। এটিকে আগ্নেয় কম্পন বলা হয়।
শিলাস্তরে ফাটল ও শিলাচ্যুতি
ভূপৃষ্ঠের গভীরে শিলাস্তরের ভেতর ছোট বা বড় ফাটল তৈরি হলে সেখানে একধরনের শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে। এই শক্তি যখন হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে, তখন ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এই ধরনের ভূমিকম্প কখনও খুবই তীব্র হতে পারে কারণ এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে জমা হওয়া চাপ একসঙ্গে মুক্ত করে।
ভূমিধসে সৃষ্টি হতে পারে ভূমিকম্পের মতো ঝাঁকুনি
বৃহৎ আকারের ভূমিধসে ভূমি দ্রুত নিচে নেমে যেতে থাকে, যার ফলে সৃষ্ট কম্পন মানুষের কাছে ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়। পাহাড়ি বা ভঙ্গুর মাটির অঞ্চলে এই ঝুঁকি বাড়ে।
মানবসৃষ্ট কারণেও বাড়ছে ভূমিকম্প
যেখানে পৃথিবী কোটি কোটি বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে ভূমিকম্প সৃষ্টি করছে, সেখানে সাম্প্রতিক যুগে মানুষের কার্যকলাপও এই ঝুঁকিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
খনি বিস্ফোরণ
গভীর খনিতে বিস্ফোরণ চালালে মাটির নিচের স্থিতি নষ্ট হয়ে কম্পন তৈরি হতে পারে।
হাইড্রোলিক ফ্র্যাকচারিং বা ফ্র্যাকিং
প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনে ব্যবহৃত এই পদ্ধতিতে উচ্চচাপে তরল ঢুকিয়ে শিলাস্তর ভাঙা হয়। এর ফলে ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও চীনে এই ধরনের ভূমিকম্প বেশ কয়েকবার নথিবদ্ধ হয়েছে।
পারমাণবিক পরীক্ষা
ভূগর্ভে পরিচালিত পারমাণবিক পরীক্ষার ফলে শক্তিশালী কম্পন সৃষ্টি হয়, যা আশপাশের অঞ্চলে ভূমিকম্পের মতো প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক কারণগুলো মানবনিয়ন্ত্রিত নয়, তবে মানবসৃষ্ট ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। একইসঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ভবন নির্মাণবিধি কঠোরভাবে মানা হলে ভূমিকম্পে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।
পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা: ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধের কারণ

সাদিক আহমেদ প্রান্ত
পরিবেশ কর্মী ও কলাম লেখক
এক সময় বাংলাদেশের নদীগুলো ছিল জীবনের উৎস। কৃষকরা নদীর পানি ব্যবহার করে জমিতে সেচ দিতেন, খাল-বিল ছিল মাছ ও কৃষির আশ্রয়স্থল। চারদিকে ছিল অফুরন্ত পানির সরবরাহ, আর পানির সংকট তখন কারো কল্পনাতেও আসেনি। কিন্তু আজ সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব এখন এক বৈশ্বিক সংকট, যা ভবিষ্যতে মানব সভ্যতার অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দশকে পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হবে মিঠা পানির সংকট। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগবে। বর্তমানে বিশ্বের ২.২ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানির সেবা থেকে বঞ্চিত, এবং ২০২২ সালে ৭৮৩ মিলিয়ন মানুষ ভুগেছে অপুষ্টিতে। অন্যদিকে ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৯৮০ কোটিতে, যা পানি ও খাদ্য উভয়ের ওপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করবে।
পানি আজ কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি এখন এক ভূরাজনৈতিক ইস্যু। একবিংশ শতাব্দীতে দেশগুলোর মধ্যে পানি সংকট নিয়ে টানাপোড়েন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়। মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে নীলনদকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ভারত ও পাকিস্তানের সিন্ধু চুক্তি নিয়ে উত্তেজনা, কিংবা গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের পানি বণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘ আলোচনাই প্রমাণ করছে যে ভবিষ্যতের সংঘাতের কেন্দ্রে থাকবে পানি। অতীতে যুদ্ধ হয়েছে তেল ও ভূমির জন্য, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে পানির জন্য। বিশেষজ্ঞদের এই সতর্কবার্তা এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব সম্ভাবনা।
পানির সংকট কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও বৈষম্যের প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে। ২০১১ সালে চিলির কোকিম্বো অঞ্চলে পানি সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ করা হলে কৃষক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী মারাত্মক সংকটে পড়ে। আবার ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে “ডে জিরো” ঘোষণা করা হয়, যখন প্রতিজন নাগরিককে দিনে মাত্র ৫০ লিটার পানি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলো দেখায় যে পুঁজিবাদী বিশ্বে পানি এখন বাজারে বিক্রি হওয়া এক পণ্য, যার মূল্য নির্ধারিত হয় মুনাফার ভিত্তিতে, মানুষের প্রয়োজনের ভিত্তিতে নয়।
জলবায়ু পরিবর্তন একসঙ্গে প্রভাব ফেলছে পানির প্রাপ্যতা ও খাদ্য উৎপাদনে। হিমবাহ গলে যাচ্ছে, নদীর প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার মাটিকে বিষাক্ত করছে, ফলে ফসলের উৎপাদন কমছে এবং খাদ্য ঘাটতি বাড়ছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, জলাশয় দখল ও অতিরিক্ত পাম্পিংয়ের ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামছে। এর ফলে কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য সবকিছুই হুমকির মুখে পড়ছে।
পানির অভাব সরাসরি প্রভাব ফেলছে খাদ্য নিরাপত্তায়। কৃষি উৎপাদন হ্রাস পেলে খাদ্যের দাম বেড়ে যায়, অপুষ্টি বৃদ্ধি পায়, আর দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবেই পানি সংকট ও খাদ্য সংকট এখন একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্ধকারের মাঝেও আশার আলো আছে। মানবজাতি ইতিমধ্যেই এমন অনেক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যা পানি ও খাদ্য সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। হাইড্রোপনিক ও ভার্টিক্যাল ফার্মিং শহুরে কৃষিতে এক নতুন দিগন্ত খুলেছে। এতে প্রচলিত কৃষির তুলনায় ৯০ শতাংশ পানি সাশ্রয় হয় এবং ফলন ১০০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। ড্রিপ সেচ প্রযুক্তি ফসলের শিকড়ে সরাসরি পানি পৌঁছে দিয়ে অপচয় কমায় ও উৎপাদন বাড়ায়। বায়োটেকনোলজির অগ্রগতিতে তৈরি হয়েছে এমন ফসল, যা খরা, লবণাক্ততা বা অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যেও টিকে থাকতে পারে। খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘ড্রট-রেসিস্ট্যান্ট’ ধান ও গমের জাত, যা স্বল্প পানিতে উৎপাদন সম্ভব করছে।
পানিশোধনের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুনত্ব। রিভার্স অসমোসিস, লাইফস্ট্র, এবং ইলেক্ট্রোডায়ালাইসিস প্রযুক্তি দূষিত পানিকে বিশুদ্ধ করছে। যদিও এসব প্রযুক্তি এখনো ব্যয়বহুল, কিন্তু সহযোগিতা ও ব্যাপক উৎপাদনের মাধ্যমে এগুলোকে সুলভ করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, ইসরাইল তার ব্যবহৃত বৃষ্টির ৮৫ শতাংশ পানি পুনর্ব্যবহার করে, যা বিশ্বে অন্যতম সেরা উদাহরণ।
যত উন্নত প্রযুক্তিই উদ্ভাবিত হোক, যদি ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে পানির অপচয় বন্ধ না করা যায়, তবে কোনো প্রযুক্তিই টেকসই সমাধান দিতে পারবে না। প্রতিটি ফোঁটা পানি অপচয় মানে একটি প্রাণের জন্য হুমকি। এখনই প্রয়োজন সচেতনতা ও মনোভাবের পরিবর্তন।
বিশ্বের সীমান্তনদীগুলোর পানি বণ্টন এখন এক জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। জাতিসংঘের উচিত আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ করে নিশ্চিত করা যে কোনো দেশ একতরফাভাবে বাঁধ নির্মাণ করে অন্য দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে না পারে। একই সঙ্গে দরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি স্থানান্তর। বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি উদ্ভাবন যেন কেবল ধনী দেশ বা কোম্পানির একচেটিয়া সম্পদ না হয়, বরং তা বৈশ্বিক মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্ব দ্রুত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, যেখানে পানি ও খাদ্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নির্ভর করবে আজ আমরা কীভাবে এই সম্পদ ব্যবহার, সংরক্ষণ ও ন্যায্যভাবে বণ্টন করি তার ওপর। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও নৈতিকতার সম্মিলিত প্রয়াস, সঙ্গে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই আসন্ন সংকট মোকাবিলার একমাত্র কার্যকর পথ।
আমাদের যুদ্ধ হোক অস্ত্রের নয়, সচেতনতার, সংযমের ও মানবিকতার। যখন আমরা অবহেলায় পানি নষ্ট করি, তখন পৃথিবীর কোথাও কেউ তৃষ্ণায় কাতরায়।
লেখক: সাদিক আহমেদ প্রান্ত,পরিবেশ কর্মী ও কলাম লেখক,কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ।
যোগাযোগ: [email protected]
ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকার আকাশ আংশিকভাবে থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময়ে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বাতাস দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে।
সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৫ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হবে ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২১ মিনিটে, এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪ মিনিটে।
একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ জায়গা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গা, এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গা আজ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
এ ছাড়া, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। আবহাওয়াবিদরা মনে করাচ্ছেন, নাগরিকরা হঠাৎ বৃষ্টির জন্য প্রস্তুত থাকলে দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব।
পাঠকের মতামত:
- তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট
- বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যেসব এলাকায় মিলবে না বিদ্যুৎ
- ক্ষমতা নয়, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংস্কারই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
- দৈনিক মাত্র চার ঘণ্টা ঘুম ডেকে আনছে বড় বিপদ
- তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ইসরায়েলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- রমজানে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
- বাংলাদেশের ৫ খাতে জাপানি বিনিয়োগের বড় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
- বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, প্রভাবে অস্থিরতার আভাস
- গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি
- বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জাপানের জোরালো সমর্থনের ঘোষণা
- ডি-থ্রি ট্রফিতে শক্তিশালী দল গড়ল ওয়ালটন, লক্ষ্য শিরোপা
- ক্রসফায়ার বা কাস্টডিয়াল ডেথ সরকার সহ্য করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
- পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
- হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?
- বিক্রির কদিন না যেতেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোনে ফাটল!
- হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারে আসছে নতুন কড়াকড়ি
- প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের পকেটে ফিরতি টিকিট থাকে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের
- চেলসির তরুণ তুর্কি এস্তেভাওকে দলে ভেড়াতে মরিয়া পিএসজি
- ব্রাজিলে লুলার প্রত্যাবর্তন, লাতিন আমেরিকায় চাপে ট্রাম্প
- হুথি উত্তেজনার মাঝে সৌদিতে রহস্যময় জরুরি সতর্কতা
- স্বর্ণের বাজার নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস
- আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা, আবারও আসছে ডিভি লটারি সুযোগ
- ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার দুই নেতার
- স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চাইলেন ডা. জুবাইদা রহমান
- বিরোধীরা জিতলেও এখনই ক্ষমতা ছাড়ছেন না নেতানিয়াহু
- গভীর সংকটে চীনের বাজার, বড় পতনের মুখে শেয়ারমূল্য
- ইসরায়েল ভোটের প্রাক্কালে মস্কোয় পেজেশকিয়ানের কূটনৈতিক চাল
- নতুন পে-স্কেলে ভাতা না বাড়ায় বড় ধাক্কা, হতাশ সরকারি কর্মচারীরা
- সৌদি গমনে ব্যর্থ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে প্রবেশের সুযোগ
- আঞ্জনি হলে ঘরোয়া পরিচর্যায় কোন কাজগুলো করা একেবারেই নিরাপদ নয়?
- ইসরায়েলে ২৬তম নেসেট নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন নাগরিকরা
- ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছে তিন দেশ
- রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব ও মন্ত্রীদের স্বজনপ্রীতির কঠোর সমালোচনা এনসিপি নেতার
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি এবারও টালবাহানা করছে: এনসিপি আহ্বায়ক
- শেষ হলো বিসিবির নতুন ডি-থ্রি টুর্নামেন্টের আকর্ষণীয় ক্রিকেটার নিলাম
- আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’
- আপনি আসেন, আমরা আপনার অপেক্ষায় আছি: শেখ হাসিনাকে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
- এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে যেভাবে দেখবেন বিলম্বের প্রদেয় অর্থের পরিমাণ
- আলোচনার আড়ালে শর্ত চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ইসমাইল বাঘাইয়ের
- সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের অনন্য রেকর্ড
- ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় লাগাম টানছে স্বর্ণের বাজারমূল্য
- বাদাম বিক্রেতা থেকে ব্রাজিলের শ্রমিক নেতা ও সফল প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা
- জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- খুলনার স্টেডিয়াম ও বিকেএসপির অবকাঠামোগত উন্নয়নের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
- ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ কি আঘাত হানবে? যা জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- ইরানের ‘জানফাদা’ কর্মসূচি: সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালনায় উদ্বুদ্ধ করার নেপথ্য কারণ
- 'এখন থেকে ১০ হাজার লোক নিয়ে চলব': সরাইল থানায় এমপি রুমিন ও ওসির তীব্র বাগ্বিতণ্ডার পেছনে আসল ঘটনা কী?
- ভিডিও বানিয়ে আয়ের সুযোগ দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স
- সৌদি মিডিয়ার খবর দেখে দুই বাংলাদেশির প্রাণদণ্ডের তথ্য জানল কনস্যুলেট
- জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: রাশেদ খান
- শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে ১৮ ডিসেম্বরের আলটিমেটাম
- টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বলের ইতিহাস ও নতুন বিশ্বরেকর্ড
- ইরানের পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের: মাঝপথে রুখে দিলেন ট্রাম্প
- যে আতঙ্কে খালি করা হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল কোম্পানির সদর দপ্তর: বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত?
- প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন এক রাজনৈতিক নেতা: রাশেদ খাঁন
- এআই চ্যাট গোপনে রাখতে মেটার পর এবার ওপেনএআইয়ের বড় পদক্ষেপ
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী ৫ দিনের বিশেষ পূর্বাভাস
- আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন রুখতে বড় সামরিক অভিযানের নির্দেশ নেতানিয়াহুর








