ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়: আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদী সতর্কতা

তীব্র তাপপ্রবাহের অসহনীয় দহনের পর দেশজুড়ে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হওয়ায় জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, কৃষিখাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে মে মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস বলছে, আবহাওয়া আরও চরম রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ অথবা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও ৫ থেকে ৮ দিন হালকা বা মাঝারি ধরনের শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি কৃষি ও জানমালের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা মে মাসে সাধারণত স্বাভাবিক থাকার কথা থাকলেও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
বৃষ্টির এই ধারা স্থায়ী হবে না। মে মাসে দেশে ১ থেকে ৩টি মৃদু বা মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এছাড়া মাসের কোনো এক সময়ে দেশের ওপর দিয়ে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ের মাঝেই আবার প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অস্থির হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে আপাতত স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকলেও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এই অঞ্চলগুলোতে আকস্মিক পানির চাপ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
/আশিক
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ এ প্লান এর ব্যাখ্যা: লক্ষ্য জলবায়ু-সহিষ্ণু স্মার্ট কৃষি
একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদ বৈঠকে প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপন করা হয়। এদিন রাষ্ট্রীয় কাজে সরকার প্রধান ঢাকার বাইরে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, "এই পরিকল্পনার আওতায় উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষকেরা হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।"
কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দিতে গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম চলছে এবং এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে সরকার। এই লক্ষে চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৫৬৭.৯৬ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, যার ফলে দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। পাশাপাশি সুলভ মূল্যে সার ও উচ্চফলনশীল বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং কৃষিতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ও ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ু মোকাবিলায় ৩৪ হাজার কোটির পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা:টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার পানি সম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ অন্যতম।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৩ মে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প ১ম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মানির্ভর এলাকায় নদী সিস্টেম পুনরুজ্জীবিত হবে, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা হ্রাস পাবে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা হবে। এছাড়া এই প্রকল্প থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা দেশের জিডিপিতে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ করবে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় জেলাগুলোতে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা হবে যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সাধারণ মানুষের পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
/আশিক
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে সরকার
সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে অপরাধ দমনে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ‘মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে এই বিষয়টি সবসময় জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সবসময়ই আত্মরক্ষার অজুহাতে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। তবে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি বলে তিনি জানান।
সংসদে অনুপ্রবেশের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের পক্ষ থেকে অন্তত ৩৬ বার পুশইনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে।
/আশিক
আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা: বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সদ্য স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) চুক্তি দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এটি উপস্থাপন করা হয়।
রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি ‘এআরটি’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির একটি বড় সুবিধা হলো—মার্কিন তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে এখন শূন্য শুল্ক (Duty-free) সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।" এই চুক্তিটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কূটনীতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদে নতুন নতুন বাজার তৈরি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কসুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের সাথে প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ), ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) এবং কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সম্পাদনের প্রক্রিয়া পুরোদমে চলমান।
এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ‘সিইপিএ’ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সাথে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের কার্যক্রমও অনেকদূর এগিয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) ও দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট ‘মারকোসুর’-এর মতো বড় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, পণ্য বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিডা, বেজা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি এখন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।
কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও কূটনৈতিক সফলতা আসছে উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, "সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির প্রক্রিয়াও বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।"
/আশিক
হামের টিকা সংগ্রহে গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং এর ফলে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি বা অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে এর কারণ এবং সরকারের করণীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ, রোগের বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে সাম্প্রতিক কোনো পরিবর্তনের কারণে কর্মসূচিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা গভীর তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছে।
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, টিকার সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, রোগ নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া হামের টিকাদানের আওতা আরও সম্প্রসারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
/আশিক
সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপন্স) ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই হত্যাকাণ্ড ও সীমান্ত সহিংসতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবং জোরালোভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে। সীমান্তে বিএসএফের এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।
সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চুক্তি না থাকলেও প্রতিটি আলোচনার স্তরে বিএসএফের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আরও আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশের ক্রমাগত কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপের কারণে বিএসএফ এখন সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে 'নন-লেথাল উইপন্স' বা অমরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এবং নিহতের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
/আশিক
বিগত এক যুগের মতো জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী
বিগত এক যুগ ধরে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া জনগণের অর্থ আর কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাচার রোধ করে সেই অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের অর্থায়ন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই—বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।" তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্যই কাজ করা হবে, ফলে দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে টাকার কোনো অভাব হবে না।
টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আজ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে চোখ-কান খোলা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সমবেত জনতা ঐক্যমত পোষণ করেন কিনা জানতে চাইলে, উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের সর্বস্তরের মানুষ সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।
বিএনপিকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেই জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।"
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে কম্পিউটারের বাটন চেপে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সাথে তিনি চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
/আশিক
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
দেশজুড়ে মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বেতন প্রদানের প্রক্রিয়া চালু করা হলে ভবিষ্যতে আর মাসের পর মাস কিংবা সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে না শিক্ষকদের।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পে নতুন করে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবেই সরাসরি বেতন ও ভাতা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে দেশের বেশিরভাগ মাদ্রাসায় বেতন পরিশোধে নিয়মিত বিলম্ব হচ্ছিল।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন সংসদে অভিযোগ করেন যে, জুন মাসের ১৬ তারিখ পার হলেও বহু মাদ্রাসা শিক্ষক এখনো বেতন পাননি। এমনকি একজন শিক্ষক অর্থাভাবে নিজের মায়ের চিকিৎসা করাতেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্য সংসদে উপস্থাপনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করে।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে এমইএমআইএস প্রকল্প প্রথম অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় প্রকল্প থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়েছিল, যার কারণে মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বর্তমান সরকার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতে প্রকল্পটিতে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে। গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশোধনের ফলে প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে লাখো শিক্ষক-কর্মচারীর আর্থিক ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতদিন দেশের আটটি বিভাগের মাত্র আটটি মাদ্রাসায় পরীক্ষামূলকভাবে ইএফটি ব্যবস্থায় বেতন দেওয়া হতো। কিন্তু বাকি হাজারো প্রতিষ্ঠানে এখনো কাগজপত্রনির্ভর ম্যানুয়াল পদ্ধতিই অনুসরণ করা হচ্ছে।
এই অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায় প্রতি মাসেই বেতন পরিশোধে কয়েকদিন বিলম্ব ঘটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষক ও কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবনে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় রূপান্তর হলে শুধু সময়ই সাশ্রয় হবে না, একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়বে। পাশাপাশি ভুল-ত্রুটি, ফাইল জটিলতা ও মানবিক নির্ভরশীলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, সংশোধিত এমইএমআইএস প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা দূর হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইএফটি কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর দপ্তরে দৌড়াতে হবে না। নির্ধারিত সময়েই সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বেতন পৌঁছে যাবে।
শিক্ষা খাতের পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়; বরং দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
-রফিক
সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিন, ভালো কাজের পথ দেখান: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থে আমাদের হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। অতীতে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "আমার সঙ্গে যা হয়েছে—এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সেই চেষ্টা করতে হবে। অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।" মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের বাকশাল আমলের সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "আজকের এই দিনে বাংলাদেশের চারটি সংবাদপত্র বাদে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। বাকশাল গঠন করে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং সংবাদপত্রের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই এবং বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে তিনি সাংবাদিকদের গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানান এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ প্রজন্মের মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিপুল শক্তিকে ইতিবাচক খাতে ব্যবহার করতে হবে। এর প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা। তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি।
সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে।" তবে এত বড় আয়োজন সংবাদমাধ্যমে উপযুক্ত গুরুত্ব না পাওয়ায় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। যুবসমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে শুধু বিশেষ দিনগুলোতে নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিজ্ঞান মেলার আয়োজন চালু রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন নৃশংসতার ভিডিওর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দেন। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করতে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান। মতবিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
দেশের আকাশে মহররমের চাঁদ দেখা গেছে
বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার) সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান। ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহ আলম এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। এছাড়াও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব আলম, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হকসহ বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় অংশ নেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পর্তুগালের লাকি সিক্স ও ২০২৬ বিশ্বকাপ: ভাগ্য কি এবার রোনালদোর পাশে থাকবে?
- প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা
- জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ এ প্লান এর ব্যাখ্যা: লক্ষ্য জলবায়ু-সহিষ্ণু স্মার্ট কৃষি
- ৯ম পে স্কেলের সবুজ সংকেত: জেনে নিন কোন গ্রেডের মূল বেতন কত
- অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে সরকার
- আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা: বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানকে ১৭০ কোটি ডলার নগদ ঘুষ দিয়েছিল ওবামা প্রশাসন: ট্রাম্প
- রাত ১টার মধ্যে দেশের ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ফুটবলপ্রেমী শিশুদের জন্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এক আদর্শ উদাহরণ
- মেসিই সর্বকালের সেরা, বিশ্ববাসীর এখন এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া উচিত: রোনালদো
- চট্টগ্রামে প্রথম টি-টুয়েন্টি হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের
- হামের টিকা সংগ্রহে গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
- সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কাঠামোকে খুবই শক্তিশালী: ট্রাম্প
- ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা; পরীক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বোর্ডের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা
- বিগত এক যুগের মতো জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী
- ১৭ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আর্জেন্টিনাকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
- মেটার বড় ঘোষণা, ব্যবহারকারীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন ফিচার
- মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- রোববার ১৮ ঘণ্টা পানি পাবে না যেসব এলাকা
- ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? জবাব দিলেন জেডি ভ্যান্স
- আজ ১ মহররম, জেনে নিন আজকের নামাজের সময়সূচি
- সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, রুপার বাজারেও পরিবর্তন
- কেমন থাকবে আজ রাজধানীর আবহাওয়া
- "মেসি এখন ফুটবলেরও ঊর্ধ্বে"
- ডলার ও ইউরোর দাম স্থিতিশীল, প্রবাসী আয়ে স্বস্তি
- আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকে উড়ছে আর্জেন্টিনা
- দেশি-বিদেশি মদদে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি: নাহিদ ইসলাম
- তীব্র সমালোচনার মুখে নতি স্বীকার করল ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা
- একজন মেসির জন্য পুরো দল প্রস্তুত করা অর্থহীন: হুঙ্কার আলজেরিয়া কোচের
- সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিন, ভালো কাজের পথ দেখান: প্রধানমন্ত্রী
- দেশের আকাশে মহররমের চাঁদ দেখা গেছে
- নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের ১০ দফা দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে ২৫ লক্ষ মানুষ
- সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ: আলজেরিয়া ম্যাচের আগে বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নিলেন মেসি
- আমি না থাকলে ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প
- চীনের কিনহাই প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
- জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের
- প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, কার পাল্লা ভারী?
- দিল্লি বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি আসলেই শান্তি ফিরবে নাকি নতুন সংকটের শুরু?
- ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু? সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল
- ১৬ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- দিল্লি ঘটনার ব্যাখ্যায় মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
- আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জানুন কোথায়
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- ব্র্যাকের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
- ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল, ভাতা ও সুবিধা বেড়ে বেতন হচ্ছে যত
- মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী








