ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়: আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদী সতর্কতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৭:৫০:৫০
ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়: আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদী সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহের অসহনীয় দহনের পর দেশজুড়ে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হওয়ায় জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, কৃষিখাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে মে মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস বলছে, আবহাওয়া আরও চরম রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ অথবা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও ৫ থেকে ৮ দিন হালকা বা মাঝারি ধরনের শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি কৃষি ও জানমালের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা মে মাসে সাধারণত স্বাভাবিক থাকার কথা থাকলেও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

বৃষ্টির এই ধারা স্থায়ী হবে না। মে মাসে দেশে ১ থেকে ৩টি মৃদু বা মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এছাড়া মাসের কোনো এক সময়ে দেশের ওপর দিয়ে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ের মাঝেই আবার প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অস্থির হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে আপাতত স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকলেও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এই অঞ্চলগুলোতে আকস্মিক পানির চাপ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

/আশিক


সরকার বা পদ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়: জনপ্রশাসনকে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১২:৪৫:২০
সরকার বা পদ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়: জনপ্রশাসনকে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দেশের যেকোনো প্রান্তে দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকার বা প্রশাসনের কোনো পদই চিরস্থায়ী নয়।

বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে টেকনিক্যাল ও কৌশলগত উপায়ে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এছাড়া বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি জেলা প্রশাসকদের একটি বিশেষ নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রাত ৭টার পর মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং এ বিষয়ে ডিসিদের নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।

এদিন সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। তিনি সচিবালয়ে নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনস্থলে যান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের ডিসি সম্মেলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কৃচ্ছ্রসাধন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এবার সম্মেলনের বাজেট উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে মাত্র ৭১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম।

সচিব আরও বলেন, একটি দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পর দেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। তাই জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়াতেই এবারের সম্মেলনের সময় একদিন বাড়িয়ে চার দিন করা হয়েছে।

আগামীকাল সোমবার ডিসিরা জাতীয় সংসদ চত্বরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে এবং মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে সাক্ষাৎ করবেন। আজ রাত সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

/আশিক


ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন: মাঠ প্রশাসনের জন্য একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১১:৪৮:৫৪
ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন: মাঠ প্রশাসনের জন্য একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এর কিছুক্ষণ পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

আগামী ৬ মে পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে দেশের আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) অংশগ্রহণ করছেন। প্রতিবছর সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি ত্বরান্বিত করা এবং মাঠ প্রশাসনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নীতিনির্ধারণী আলোচনার জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গতকাল শনিবার (২ মে) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের সম্মেলনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি। তিনি জানান, এবারের সম্মেলনে আলোচনার জন্য মাঠ প্রশাসন থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৯৮টি প্রস্তাবকে চূড়ান্ত কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সম্পর্কিত, যা বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন। এবারের সম্মেলনে মোট ৩৪টি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা কেবল সরকারের সঙ্গেই নয়, বরং রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন।

এসব বৈঠকে তাঁরা রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন। এছাড়া স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ডিসিদের পৃথক কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

/আশিক


গোপনে ও প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র করছে দুটি দল: নাম না নিয়ে কাদের ইঙ্গিত করলেন প্রধানমন্ত্রী?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২১:১৮:২২
গোপনে ও প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র করছে দুটি দল: নাম না নিয়ে কাদের ইঙ্গিত করলেন প্রধানমন্ত্রী?
ছবি : সংগৃহীত

সিলেট সফরের শেষ পর্যায়ে দলীয় কর্মী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি দুটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, “কেউ প্রকাশ্যে এবং কেউ গোপনে এখনও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং তাদের রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে।” তিনি নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ষড়যন্ত্র রুখতে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো বিকল্প নেই। জনগণ যে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে, তা ধরে রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি বা ‘গ্রুপিং’ রাজনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। দলীয় এমপি ও নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দলের কর্মীদের অমুকের লোক বা তমুকের লোক বলে ভাগ করবেন না। এতে বিভক্তি বাড়ে এবং দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি কর্মীদের মনে করিয়ে দেন যে, ‘সরকারি দলের লোক’—এই অহংকার মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে নিজেকে দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ভাবতে হবে। কারো আচরণে যেন সাধারণ মানুষ বা দলের ত্যাগী কর্মীরা কষ্ট না পায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

আন্দোলন-সংগ্রামে কর্মীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দলের প্রতি আপনাদের যে মায়া ও মমতা, তা অমূল্য। তবে কেউ ভুল করলে প্রথমে তাকে বোঝাতে হবে, শাসন করতে হবে; আর যদি তাতেও কাজ না হয়, তবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আগামী তিন মাসের একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী কয়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী রাতেই সিলেট ত্যাগ করেন।

/আশিক


সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে নতুন ইতিহাস: উদ্বোধন হলো প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্রকল্প

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২০:২৭:৩০
সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে নতুন ইতিহাস: উদ্বোধন হলো প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্রকল্প
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সন্ধ্যায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা এই দেশের মানুষকে আবারও স্বাধীন করেছে।”

শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি শিশু হবে বাংলাদেশের একেকজন ‘অ্যাম্বাসাডর’। খেলাধুলা ও মেধার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার ও দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি এখন থেকেই তরুণ প্রজন্মকে নিতে হবে।

এই অনন্য কর্মসূচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান স্মৃতিচারণা করেন যে, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে বসে তিনি প্রথম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারলে তৃণমূলের প্রতিভা বিকাশে এই প্রকল্প চালু করবেন। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে আজ থেকে এই যাত্রা শুরু হলো।

প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, তাঁর সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী শিশুদের পাশে থাকবে। কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড়, গায়ক বা মিউজিশিয়ান—যে যা-ই হতে চায়, সরকার তাকে সেই পরিবেশ ও সহযোগিতা প্রদান করবে। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের স্বাগত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী অনলাইনে সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

/আশিক


ঘরে ঘরে যাবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাস্টারপ্ল্যান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১৭:০৮:১৬
ঘরে ঘরে যাবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাস্টারপ্ল্যান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এবং টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। শনিবার সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, দেশে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। প্রধানমন্ত্রীর মতে, গ্রামীণ নারীদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা হবে অপরিসীম; তাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন নিয়ে কাজ করবেন যাতে ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদরোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। সুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়লে হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে এবং যারা প্রকৃত অসুস্থ তাঁরা আরও উন্নত সেবা পাবেন—এই লক্ষ্যেই সরকার স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে জোর দিচ্ছে।

সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে জাতীয় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি নদীগুলোর তলদেশে প্লাস্টিক ও পলিথিনের পুরু স্তর জমা হওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি সিলেটের সুরমা নদী এবং ঢাকার বুড়িগঙ্গার উদাহরণ টেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়া রোধ করতে দেশব্যাপী ‘খাল খনন কর্মসূচি’র গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা এবং প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করার মাধ্যমেই কেবল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব। একই দিনে তিনি সুরমা নদীর তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যাপ্রতিরোধী প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে সিলেটের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী রেলওয়ে সেক্টরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে সাড়ে ৯ ঘণ্টা লাগলেও সড়কপথে ঢাকা পৌঁছাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। এই সমস্যা সমাধানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তিনি রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডাবল লাইনে রূপান্তরের ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী যুক্তি দেন যে, কেবল রাস্তা বাড়ালে ফসলি জমি নষ্ট হবে এবং যানজট বাড়বে; তাই জনবহুল এই দেশে রেল যোগাযোগই সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান। এছাড়াও তিনি সিলেটের আইটি পার্ক পুনরায় সচল করা, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং বন্ধ কলকারখানাগুলো বেসরকারি খাতের সহায়তায় চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে সরকার গঠনের আড়াই মাসের মাথায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি আড়াই মাস বয়সের শিশু যেমন হাঁটতে পারে না, তেমনি সরকারের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তবুও সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। শিশুদের মধ্য থেকে আগামীর তারকা খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধনকে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বৃদ্ধির একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। মাজারে জিয়ারত, উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দলীয় সভায় যোগদানের মাধ্যমে তাঁর এই ব্যস্ততম সিলেট সফরটি মূলত সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।


উইলস লিটল ফ্লাওয়ারে বিচারপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ: আইনমন্ত্রী যা বললেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১৬:২৪:২০
উইলস লিটল ফ্লাওয়ারে বিচারপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ: আইনমন্ত্রী যা বললেন
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ফাইল ছবি।

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতি এবং একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ দেশের বিচারিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল দশম শ্রেণির একটি পদার্থবিজ্ঞান ক্লাসে এক শিক্ষার্থীর অশোভন আচরণ এবং তার প্রেক্ষিতে শিক্ষকের চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক, যিনি একজন উচ্চপদস্থ বিচারপতি, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই শিক্ষককে নিজ বাসভবনে ডেকে নিয়ে চরমভাবে অপমান ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে রাজপথের বিক্ষোভ এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি পেশ পর্যন্ত গড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে, যেখানে অনেকেই একজন বিচারপতির এমন ব্যক্তিগত আচরণকে পদের অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

শনিবার ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সাংবাদিকরা যখন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চান, তখন মন্ত্রী সরাসরি জানান যে এই বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে যদি সদাচারণ বহির্ভূত বা 'মিসকন্ডাক্ট'-এর অভিযোগ আসে, তবে সেটি তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব কেবল 'সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল'-এর। দেশের সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার বা নির্বাহী বিভাগ এ ধরনের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আইনমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, অভিযুক্ত বিচারপতির বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কাঠামোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের এই ঘটনাটি কেবল একটি একক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় পদের নৈতিক সীমা এবং শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার এক বৃহত্তর প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসরুমের একটি সাধারণ শৃঙ্খলাজনিত বিষয়কে যেভাবে বিচারপতির বাসভবন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক দাবি করেছেন যে, ১৮ এপ্রিল তাকে সমঝোতার কথা বলে ডেকে নিয়ে চরম মানসিক চাপের মুখে ফেলা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে যাতে বিচারিক পদের মর্যাদা ব্যবহার করে কেউ সাধারণ নাগরিক বা শিক্ষকদের ওপর অন্যায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। আইনমন্ত্রীর স্বচ্ছ বক্তব্যের পর এখন জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এই অভিযোগটি আমলে নিয়ে কোনো দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত শুরু করবে কি না।

উল্লেখ্য যে, ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে মূলত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণাটি বিচার ব্যবস্থার সংষ্কার ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনের উপায় নিয়ে আলোকপাত করে। তবে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান যখন বিচারিক প্রক্রিয়ার উৎকর্ষ নিয়ে কথা বলছিলেন, তখনই উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের এই চাঞ্চল্যকর ইস্যুটি সামনে চলে আসে। বর্তমানে বিষয়টি দেশের সচেতন মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যেখানে একদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আত্মসম্মান ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা সমান্তরালভাবে আলোচিত হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিতর্কের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে।


মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই শাহজালালের দরগায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১৩:০০:৪০
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই শাহজালালের দরগায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের আকাশ ভেঙে নামা বৃষ্টিও দমাতে পারেনি সাধারণ মানুষের আবেগ আর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে। আজ শনিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান। মাজারে তিনি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।

এই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিমানবন্দর থেকে দরগাগেট এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। তারেক রহমানও হাত নেড়ে সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন।

মাজার জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নগরের চাঁদনী ঘাটে যান। সেখানে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক গৃহীত শহরের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি একটি সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন, যেখানে তিনি সিলেটের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী খাল খনন কার্যক্রম এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি এই সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। সব কর্মসূচি শেষে আজ রাতেই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

/আশিক


পাম্পে গাড়ির লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে: জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১২:৩২:১৭
পাম্পে গাড়ির লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে: জ্বালানিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দাবি করেছেন যে, সম্প্রতি দেশে যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল তা মূলত ‘কৃত্রিম’। আজ রাজধানীতে এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের পেছনে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর গাফিলতি ছিল প্রধান কারণ। জ্বালানি সচিবের দেওয়া নির্দেশনাগুলো অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেই এই ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, পাম্পের এই দীর্ঘ লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁর দপ্তরের লোকজনও সব ক্ষেত্রে ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি; অন্যথায় এই সংকট এতোটা প্রকট হতো না। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং কোথাও কোনো দীর্ঘ লাইন নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৭৫ দিন তিনি মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলাতেই ব্যস্ত ছিলেন। আজই প্রথম তিনি তাঁর মন্ত্রণালয়ের খনিজ সম্পদ বিভাগ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের বাজেট ও গবেষণা খাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছর ধরে দেশে মেগা বাজেট হলেও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যে দেশ গবেষণায় পিছিয়ে থাকে, তারা সারাজীবনই অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হয়।” দেশকে স্বনির্ভর করতে হলে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গবেষণায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে তারেক রহমান: বিমানবন্দরে রাজকীয় সংবর্ধনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১১:৩৬:১৮
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে তারেক রহমান: বিমানবন্দরে রাজকীয় সংবর্ধনা
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে আজ সকালে সিলেটে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুত্তাদীর এবং শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান এবং এরপর খাদিম নগরে হযরত শাহ পরাণ (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। আধ্যাত্মিক এই মাজার জিয়ারত শেষে সকাল ১১টায় তিনি শহরের চাঁদনী ঘাটে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং একটি সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন।

দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ‘বাইশা নদী পুনঃখনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা কৃষি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ ও বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে তিনি বহুল প্রতীক্ষিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে বিএনপির এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে আজ।

সফরের শেষ ভাগে বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা এই সিলেট থেকেই শুরু করেছিলেন তারেক রহমান, আর আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই পুণ্যভূমিতে তাঁর প্রথম পদচারণা রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: