ঢাকার যানজট থেকে মুক্তি? পথে আর থামবে না কোনো গাড়ি!

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২১:১০:১৯
ঢাকার যানজট থেকে মুক্তি? পথে আর থামবে না কোনো গাড়ি!
ছবি : সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইনোভেশন টিমের প্রস্তাবিত এই মডেলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সিগন্যালমুক্ত করার নকশা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণে অবস্থিত প্রধান পাঁচটি সড়ক এবং পূর্ব-পশ্চিমে থাকা তিনটি সড়কের মোট ১০৫ কিলোমিটার এলাকাকে এই ‘জিরো সিগন্যাল’ জোনের আওতায় আনা হবে।

এই পথে যাতায়াতের সময় কোনো মোড়ে বা ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইটে আর কোনো গাড়িকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। এর পরিবর্তে ৩৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক ওভারপাস, আন্ডারপাস, ইন্টারচেঞ্জ এবং ইউলুপ। এর ফলে প্রতিটি মোড় দিয়ে যানবাহন কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি বা ডানে-বামে মোড় নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

এই মডেলে শুধু বড় গাড়ি নয়, বরং ধীরগতির যানবাহনের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। রিকশা বা ভ্যানের মতো ধীরগতির যানবাহনের জন্য মূল সড়কের পাশেই আলাদা লেন তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে এগুলো দ্রুতগামী যানবাহনের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।

একই সঙ্গে পথচারীদের নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের জন্য প্রচুর সংখ্যক ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই মডেলের কারিগরি দিকগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় এবং পরবর্তীতে একটি টেকনিক্যাল উপকমিটি গঠন করে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে এই মেগা প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। এই প্রক্রিয়ার জন্য ইতিমধ্যেই একজন ফোকাল পারসন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার রাজপথ হবে বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর মতো আধুনিক এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া থেকে মুক্তি পাবে লাখ লাখ মানুষ। বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, এটি কেবল যানজটই কমাবে না, বরং রাজধানীর সার্বিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: বাসস


নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২০:২৯:৪৬
নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

রাঙ্গামাটি জেলায় নানিয়ারচর জোনে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অর্গানিক কম্পোস্ট সার প্রস্তুতকরণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার ১০.৩০ মি‌নি‌টে উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, জোনের উপ-অধিনায়ক, এ্যাডজুটেন্ট, কৃষি কর্মকর্তা, বন বিভাগ কর্মকর্তা, স্থানীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, নানিয়ারচর থানা প্রতিনিধি, নানিয়ারচর বাজার কমিটির সভাপতি, সাংবাদিকবৃন্দ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্যবৃন্দ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপনের গুরুত্ব, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকান্ডে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এছাড়াও, সভায় গৃহস্থালি ও কৃষিজ বর্জ্য ব্যবহার করে অর্গানিক কম্পোস্ট সার তৈরির পদ্ধতি, এর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উপকারিতা এবং কৃষিক্ষেত্রে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদেরকে জৈব সার উৎপাদণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ হ্রাস, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জৈব সার উৎপাদনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। একইসঙ্গে নানিয়ারচর উপজেলাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নানিয়ারচর জোন ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের ১০ দফা দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে ২৫ লক্ষ মানুষ

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২০:২১:০১
মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের ১০ দফা দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে ২৫ লক্ষ মানুষ
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

মৌলভীবাজার জেলার ২৫ লক্ষ মানুষের প্রাণীর দাবি,মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়,ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং মনুনদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন, জেলার হাওরগুলো সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যানজট নিরসনে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, কুলাউড়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ, ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপন এবং রেলসেবার মান উন্নয়ন করা সহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের চুড়ান্ত অনুমোদনের দাবীতে বিআইএস মৌলভীবাজার এর উদ্যোগে গত ১৪ জুন সোমবার দুপুর ১টার দিকে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্ত‌রদেন। মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ালর্ড ওয়াইড এর উপদেষ্টা বৃটেনের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী নুরুল ইসলাম মাহবুব। উপস্থিত ছিলেন বিআইএস এর আজীবন সদস্য দেলওয়ার হোসেন, কার্যকরী পরিষদের রেদয়ান আহমদ ছামী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিকে মৌলভীবাজারে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ক্যাম্পেইন গ্রুপের এডমিন ও গ্রুপ ক্রিয়েটার এবং মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এর ফাউন্ডার্স প্রেসিডেন্ট কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর ব'লেন ১৭ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে আমরা শুধু একটি রাজনৈতিক সফর হিসেবে নয়, বরং আমাদের জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছি।

মৌলভীবাজার সম্ভাবনাময় একটি জেলা। পর্যটন, কৃষি, চা-শিল্প এবং প্রবাসীদের অবদানে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কিছু ন্যায্য প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেষ করে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি। এটি শুধু চিকিৎসা শিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে না, বরং সমগ্র অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার জেলার শিক্ষার আলোকে আর ও বেগবান প্রসারিত করতে মৌলভীবাজার জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং পর্যটন জেলার যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়নের মানসে শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু ও মনুনদী খনন সহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের চুড়ান্ত অনুমোদন দেখতে চায় জেলাবাসী যাহা মৌলভীবাজার জেলার ২৫ লক্ষ মানুষের প্রাণীর দাবি।

উল্লেখ্য যে, মৌলভীবাজার সদরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, মৌলভীবাজার জেলা সড়ককে চার লেইনে উত্তীর্ণ, মৌলভীবাজারে বাই পাস সড়ক সহ মনুনদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন, মনুনদীতে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ, শ্রীমঙ্গল থেকে মৌলভীবাজার হয়ে শেরপুর ইপিজেড জোন অবধি রেললাইন করা,মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের বর্তমান সমস্যা দূরিকরণ, চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি ও মৌলভীবাজার জেলা থেকে নিরক্ষতা দূরীকরণ, দারিদ্র মুক্ত করা এই অঞ্চলের হাওর রক্ষায় এবং পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিঘাত থেকে মৌলভীবাজার জেলাকে সুরক্ষা সহ দশ দফা দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে বিগত একযুগ ধরে ক্যাম্পেইন গ্রুপ হিসাবে মৌলভীবাজারে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই ওয়ালর্ড ওয়াইড ক্যাম্পেইন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও মৌলভীবাজার জেলা সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বময় জেলাবাসী ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে দেশে বিদেশে সভা সমাবেশ গোলটেবিল বৈঠক, মানববন্ধন, গণ সাক্ষর অভিযান ও প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান সহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এছাড়াও ইউনিটি অব মৌলভীবাজার, বি আই এস মৌলভীবাজার, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব মৌলভীবাজার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এর পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার জেলাবাসী বিশ্বময় ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছেন। মৌলভীবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২০১৭ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছে বিশ্বময় মৌলভীবাজার জেলাবাসী। সেই দাবি এখন গণদাবীতে পরিণত হয়েছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশে-প্রবাসে গোলটেবিল বৈঠক, সেমিনার, আলোচনা সভা, স্মারকলিপি প্রদান, জেলাব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, মানববন্ধনসহ আমাদের কর্মসূচি চলমান। নানা স্থানে লিখিত ও মৌখিক ধর্না দিচ্ছি আমরা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এই সব কর্মসূচীতে সকলেই মৌলভীবাজারে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিক দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন।​মৌলভীবাজার একটি অগ্রসরমান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ এলাকা। সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই জেলার বনজ ও খনিজ সম্পদ শিল্প, পর্যটন শিল্প, চা শিল্প ও আগর শিল্প ইত্যাদি।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিকে করেছে সমৃদ্ধ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এই জেলার আরো উন্নয়ন সময়ের দাবি। পর্যটনের জন্য সমৃদ্ধ এই জেলা। এই জেলার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে যারা প্রাইভেট মেডিকেলে টাকার অভাবে পড়তে পারে না। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় প্রতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। যার ফলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার বাড়ছে। ৭টি উপজেলার প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের জন্য নাই কোনো মেডিকেল কলেজ। অনেক মুমূর্ষ রোগীকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। যে কারণে অনেক মুমূর্ষ রোগী সিলেট অথবা ঢাকা নেওয়ার পথেই মৃত্যুমুখে পতিত হন। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় মৌলভীবাজারে দ্রুত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে শুরু করার জন্য আমরা সবিনয় নিবেদন করছি।

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও অর্থনীতিতে হাওরাঞ্চলের অবদান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বর্ষায় হাওরের দৃষ্টিনন্দন বিশাল জলরাশি দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যের সবচেয়ে বড় উৎসস্থল। শুকনো মৌসুমে এসব হাওর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার। দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ তথা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে নিরন্তর ভূমিকা রাখছে হাওরাঞ্চল। হাওর-নদী-চা বাগান-ঝরনা-পাহাড়ি টিলা-খাল-বিলের অপূর্ব সমন্বয়ে সৃষ্ট আমাদের মৌলভীবাজার। জেলার ভূপ্রকৃতির ফুসফুসের ভূমিকা পালন করছে: উজানের চা-বাগান বেষ্টিত পাহাড়-জঙ্গল। আর কিডনির ভূমিকা পালন করছে: ভাটি অঞ্চলের ছোট-বড় হাওর, এই হাওরগুলো রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতির জন্য সিলেট বিভাগের পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্রে আগতদের যাতাযাতের সুবিধার্থে প্রবাসী জনগোষ্ঠী অধ‍্যুষিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক শমশেরনগর বিমান বন্দরটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সরাসরি ফ্লাইট চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি।যোগাযোগ ব্যবস্থা আমাদের যে বেহাল দশা তা থেকে মুক্ত করতে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ করে আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথের উন্নয়ন করতে হবে ঢাকা সিলেট রেলপথের ডাবল লাইন এবং জেলা সদর,কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গলের যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক জরুরী মানুষের চরম ভোগান্তি লাঘবের জন্য।

উন্নত সমৃদ্ধশালী জাতিগঠনে উচ্চ শিক্ষার বিকল্প নাই। দেশের মানুষ অবগত আছেন আপনার সরকার শিক্ষাখাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধিসহ শিক্ষার উন্নয়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম মেয়াদেই স্বল্পতম সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের কর্ম প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। এ উদ্যোগ গ্রহণ করার কারণে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার সুযোগ সহজলভ্য করা হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা চাই সরকারের এ প্রশংসনীয় উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মৌলভীবাজার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত সমৃদ্ধ হোক। আমাদের মৌলভীবাজার এর রয়েছে গর্ব করার মত বিভিন্ন গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ইতিহাসের সেই গৌরবকে ধরে রাখতে হলে তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তরুণরাই সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলাবাসীর দাবি ও প্রত্যাশা মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের দাবি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সহ ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী বিমানে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাবেন। সেখান থেকে সড়ক পথে মৌলভীবাজার যাবেন।


আজ কোথায় কেনাকাটা করা যাবে না? দেখুন তালিকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৮:২৯:২২
আজ কোথায় কেনাকাটা করা যাবে না? দেখুন তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত নানা প্রয়োজনে হাজারো মানুষ বিভিন্ন মার্কেট, শপিং মল ও বাণিজ্যিক এলাকায় যাতায়াত করেন। তবে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকলে অনেক সময় দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে গিয়েও বন্ধ দোকানপাট ও শপিং সেন্টারের সামনে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই অপ্রয়োজনীয় সময় ও ভোগান্তি এড়াতে বের হওয়ার আগে আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চল এবং জনপ্রিয় কেনাকাটার কেন্দ্র নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে ধানমন্ডি, ফার্মগেট, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল এলাকায় কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ যেসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরিপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা ও লালমাটিয়া এলাকা। এসব অঞ্চলে অধিকাংশ দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

এদিকে রাজধানীর কয়েকটি অত্যন্ত জনপ্রিয় শপিং মল ও মার্কেটেও আজ সাপ্তাহিক ছুটি পালন করা হচ্ছে। ফলে সেখানে কেনাকাটার সুযোগ থাকবে না। বন্ধ থাকা মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালেব প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কারওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেট এবং অর্কিড প্লাজা।

রাজধানীর এই শপিং কেন্দ্রগুলো প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতার সমাগমে মুখর থাকে। বিশেষ করে নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, বসুন্ধরা সিটি ও ধানমন্ডি এলাকার মার্কেটগুলো পোশাক, ইলেকট্রনিকস পণ্য, বই, গৃহস্থালি সামগ্রী ও বিভিন্ন ফ্যাশন সামগ্রীর জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়। তাই এসব এলাকায় যাওয়ার আগে সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

-রাফসান


টেকনাফে বোটসহ ৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি!

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২১:৫৬:০৫
টেকনাফে বোটসহ ৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি!
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর মোহনা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে দুটি মাছ ধরার ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সোমবার (১৫ জুন) সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী।

ইউএনও জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে জেলেরা অপহৃত বা আটক হওয়ার খবরটি পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের জলসীমার একদম প্রান্তিক এলাকা থেকে সাতজন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাছ ধরার সময় জেলেরা অসচেতনতাবশত বা ভুলক্রমে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করায় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের স্পিডবোট নিয়ে এসে আটক করে। অপহৃত এই জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন সমন্বিত কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করেছে।

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান ঘটনার ভৌগোলিক বিবরণ দিয়ে জানান, টেকনাফ ২-বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ শাহপরীর দ্বীপ বিওপির (সীমান্ত ফাঁড়ি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মিয়ানমারের ‘নাইক্ষ্যংদিয়া’ নামক এলাকার কাছাকাছি স্থান থেকে ওই জেলেদের বোটসহ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় জেলে ও মাঝিমাল্লাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব পাড়া ঘাট থেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা বোট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ওই জেলেরা। দিনভর মাছ ধরা শেষে উপকূলে ফেরার পথে সাগরের তীব্র স্রোতের কারণে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমার ভেতরে কিছুটা ঢুকে পড়েন। ঠিক তখনই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে তাদের ঘিরে ফেলে এবং বোটসহ ধরে নিয়ে যায়।

আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা ওই সাত জেলে হলেন— ফয়সাল (২৬), জলিল (১৬), আজম (১২), হেলাল (১১), লালয়া (১৯), সৈয়দ আলম (২১) ও ফয়সাল (২২)। আটক হওয়া দুটি মাছ ধরার বোটের প্রকৃত মালিক শাহপরীর দ্বীপের কোনাপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাজ্জাক (৪০)।

সীমান্তবর্তী এই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশি জেলেরা প্রায় সময়ই মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বা সে দেশের বিভিন্ন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি, মারধর ও অপহরণের শিকার হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম দুশ্চিন্তায় থাকা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

/আশিক


আর্থিক অনটন ও পারিবারিক অশান্তিতে অবচেতন মনে রামিসা খুন

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২০:২৪:৪২
আর্থিক অনটন ও পারিবারিক অশান্তিতে অবচেতন মনে রামিসা খুন
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে বিচারালয়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দায়ের করা এক বিশেষ জেল আপিলে নিজের দোষ স্বীকার করে এই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দাবি করেন, সে সময় তীব্র আর্থিক অনটন, চরম পারিবারিক অশান্তি এবং অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণেই সম্পূর্ণ অবচেতন মনে এই ভয়াবহ অপরাধটি সংঘটিত হয়ে গেছে। নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের চরম বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে তিনি আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছেন।

রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত জেল আপিল শুনানিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা নিজের সপক্ষে যুক্তি ও সাফাই গেয়ে বলেন, তিনি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত অসচ্ছল এবং দরিদ্র। পেশাগত জীবনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত ইয়াবাসহ অন্যান্য মরণঘাতী মাদকে তীব্রভাবে আসক্ত ছিলেন। এই মাদকাসক্তির কারণে তাঁর নিজের পরিবারে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া-বিবাদ ও কলহ লেগেই থাকত। তবে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পূর্বে তিনি আর অন্য কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

আসামি তাঁর জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, শিশু ভিকটিমের সঙ্গে যে পাশবিক ও নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে, তা সম্পূর্ণভাবে তীব্র নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘটেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, চরম আর্থিক অভাব, অনবরত পারিবারিক অশান্তি এবং অতিরিক্ত নেশা করার কারণেই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও অবচেতনভাবে হয়ে গেছে; ঠিক কীভাবে যে এই ঘটনাটি ঘটে গেল তা তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি। বর্তমানে তাঁর একমাত্র ছেলের পড়াশোনা ও পরিবারের সামগ্রিক ভরণ-পোষণ করার মতো দ্বিতীয় আর কোনো অভিভাবক নেই উল্লেখ করে তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেন।

অন্যদিকে, এই জঘন্য মামলার অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে জেল আপিলে খালাস চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নিজেদের ফাঁসির দণ্ড মওকুফের আবেদন জানিয়ে জেল আপিল করেন এই দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। রোববার হাইকোর্ট আসামিদের করা এই জেল আপিলটি পরবর্তী আইনি শুনানির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন।

/আশিক


রোববার বন্ধ থাকবে ঢাকার যেসব মার্কেট

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১১:১৪:০৪
রোববার বন্ধ থাকবে ঢাকার যেসব মার্কেট
ছবি: সংগৃহীত

সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা অবকাশের সময় অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা, বাজার কিংবা ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা করেন। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট ও শপিং সেন্টারের নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে অনেক সময় গন্তব্যে পৌঁছে বিপাকে পড়তে হয় ক্রেতাদের। তাই অপ্রয়োজনীয় সময় ও ভোগান্তি এড়াতে রোববার (১৪ জুন) কোন কোন এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে, তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া জরুরি।

রাজধানীর উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় আজ সাপ্তাহিক ছুটি পালিত হচ্ছে। ফলে এসব অঞ্চলের অধিকাংশ দোকান, শোরুম, বাজার ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে মিরপুর, আগারগাঁও, পল্লবী, কাফরুল, মহাখালী, বনানী ও গুলশান এলাকার বাসিন্দাদের কেনাকাটার পরিকল্পনা করার আগে বিষয়টি মাথায় রাখতে বলা হয়েছে।

আজ যেসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকবে তার মধ্যে রয়েছে আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩ ও মিরপুর-১৪ এলাকা। একইসঙ্গে ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে।

এছাড়া রাজধানীর অভিজাত বাণিজ্যিক অঞ্চল গুলশান-১, গুলশান-২, বনানী, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, নিউ ডিওএইচএস ও ওল্ড ডিওএইচএসের অনেক দোকানপাটও আজ বন্ধ থাকবে। ফলে শপিং, রেস্তোরাঁ বা বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে দক্ষিণ ও পূর্ব ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও সাপ্তাহিক বন্ধ পালন করা হচ্ছে। রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, শনির আখড়া, দনিয়া ও রায়েরবাগ এলাকার অনেক দোকানপাট আজ খোলা থাকবে না। যাত্রাবাড়ী ও কমলাপুরের কিছু অংশেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

মার্কেটগুলোর মধ্যে বন্ধ থাকবে রাজধানীর জনপ্রিয় প্রযুক্তিপণ্য কেনাবেচার কেন্দ্র বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আইডিবি)। পাশাপাশি পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসী পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, রজনীগন্ধা মার্কেট এবং ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্সও আজ বন্ধ থাকবে।

গুলশান ও বনানী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শপিং কমপ্লেক্সগুলোর মধ্যে বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ ও ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার এবং আল-আমিন সুপার মার্কেটেও আজ কেনাকাটার সুযোগ থাকছে না।

এছাড়া রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স এবং মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেটও রোববার সাপ্তাহিক বন্ধের আওতায় রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ভিন্ন ভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক ছুটি পালিত হওয়ায় ক্রেতাদের আগেভাগে তথ্য জেনে বের হওয়া উচিত। এতে যেমন সময় সাশ্রয় হবে, তেমনি যানজট পেরিয়ে গিয়ে বন্ধ মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে হতাশ হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।

-রাফসান


পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ২১:৫৭:১২
পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান
ছবি: সমকাল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তদন্তের স্বার্থে ব্যাগ তল্লাশি করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনো প্রকার যাচাই বা তল্লাশি ছাড়াই চলন্ত গাড়ি থেকে নামিয়ে আচমকা শারীরিক হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত শুক্রবার রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামার পর তিনি যখন পুনরায় গাড়িতে উঠছিলেন, তখন একজন পুলিশ সদস্য ভেতরে ঢুকে সরাসরি তাঁর গলা চেপে ধরেন।

অতর্কিত এই হামলায় তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে পুলিশ তাঁর সাথে থাকা ব্যাগ বা অন্য কিছু পরীক্ষা না করেই সরাসরি থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানে নিজের খেলোয়াড়ী পরিচয় দেওয়ার পরও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার সম্মানজনক আচরণ পাননি।

চট্টগ্রামের খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ওসির নেতিবাচক আচরণ ও পরবর্তী নাটকীয় পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এই অফস্পিনার জানান, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান অত্যন্ত উগ্র মেজাজে তাঁকে চোখ নিচে নামিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই ওসির মুঠোফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনে কথা বলা শেষ করার পরপরই ওসির আচরণে আমূল পরিবর্তন আসে এবং তিনি অত্যন্ত নরম সুরে নাঈমকে বসার অনুরোধ জানান।

রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক সহায়তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নাঈম হাসান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওই সময়ে যদি স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পথচারীরা এগিয়ে না আসতেন, তবে পুলিশের আচরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত। প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন সাধারণ মানুষ তাঁর পক্ষে অন্যায়ের প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নাঈমের অনুরোধে তাঁরা গাড়ির পেছন পেছন থানা পর্যন্ত গিয়েছিলেন বলেই পুলিশ পরবর্তীকালে অন্য কোনো অনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

সরাসরি পুলিশি হেনস্তার শিকার হওয়ার পর থেকে তীব্র মানসিক ট্রমা ও বিপর্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান এই ক্রিকেটার। শুক্রবার রাতের ঘটনার পর থেকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাতে পারেননি এবং বারবার একই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মানসিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এই মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিতে তিনি কিছুটা সময় সম্পূর্ণ একা থাকতে চান বলেও গণমাধ্যমকে অনুরোধ করেন।

ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ নাগরিক যেন এমন রাষ্ট্রীয় বা আইনি হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন নাঈম। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম নিয়মিত মুখ এবং অফস্পিনার নাঈম হাসান এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ১৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে মোট ৪৮টি উইকেট শিকার করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে টেস্টের এক ইনিংসে চারবার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার অনন্য কৃতিত্ব রয়েছে এই তরুণ ক্রিকেটারের।

/আশিক


আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা: কৃষিমন্ত্রী

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ২১:৪১:১৭
আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, আগামী প্রজন্মকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য একটি পৃথিবী উপহার দিতে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা বর্তমানে যে সমাজে বসবাস করছি, সেটি অতীত প্রজন্মের কাছ থেকে পাওয়া।শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘গুণীজন সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অতীত প্রজন্ম ভালো কাজ করেছেন বলেই আজ আমরা একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সমাজে বসবাস করার সুযোগ পেয়েছি। সমাজে কিছু সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি থাকলেও পৃথিবী সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো, যারা সমাজের জন্য ভালো কাজ করছেন, তাদের সম্মানিত করা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক কিছু রেখে যাওয়া।মন্ত্রী বলেন, আমরা যে যেই অবস্থানে আছি, সেখান থেকেই সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দেওয়াই হোক আমাদের মূল ভাবনা। আগে নিজেকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে, তারপর অন্যকে ভালো হওয়ার আহ্বান জানাতে হবে। এই সমাজ আমাদের, এই পৃথিবীও আমাদের। অতীত থেকে আমরা যা পেয়েছি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার চেয়ে ভালো কিছু দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সমাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদান এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ কুমিল্লার পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ‘গুণীজন সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

এ বছর সম্মাননা পেয়েছেন বিশিষ্ট ছড়াকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক দুলাল, চিকিৎসা ও মানবসেবায় অবদানের জন্য ডা. আব্দুল লতিফ, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ জামিল আহমেদ খন্দকার, চিকিৎসা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য ডা. গোলাম শাহজাহান এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বদরুল হুদা জেনু।

এর আগে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ইয়াসমিন রীমা এবং সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান।

এ সময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ও কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পাশাপাশি গুণীজন সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লা জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, সিপিবি নেতা শেখ আবদুল মান্নান, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মো. তরিকুল ইসলাম, কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাফিজ, দৈনিক শিরোনামের সম্পাদক নীতিশ সাহা, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান এবং অজিত গুহ কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ কুমিল্লার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গুণীজনদের সম্মাননার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।


নিখোঁজ নাটক ফাঁস! উদ্ধারের পরই শিবির নেতার বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা  

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ২১:৩৭:৩২
নিখোঁজ নাটক ফাঁস! উদ্ধারের পরই শিবির নেতার বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা  
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজের একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হওয়া জিসান মিয়া প্রধান (২৮) নামে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে এ মামলা হয়।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, গত ২০ মে জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ে করবে বলে সম্মতি দেন।

বিবৃতিতে পুলিশ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জিসান বিয়ে না করার টালবাহানায় নিজেই আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় তিনি তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের জিডি করান। এদিকে জিসানের উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানকে প্রধান আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সমকালকে বলেন, নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জের ধরে সে নিজে আত্মগোপনে ছিল। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে মামলাটি করা হয়। ওই নারী তার বিরুদ্ধে ভ্রূণ নষ্টসহ বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন।

এর আগে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ।

অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি শিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

পাঠকের মতামত: