মধ্যপ্রাচ্যে ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এখন ধ্বংসস্তূপ

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এখন এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। সিএনএন-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত হামলায় এই অঞ্চলের অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র এবং উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র বিশ্লেষণ করে সিএনএন দাবি করেছে, এর মধ্যে বেশ কিছু ঘাঁটি বর্তমানে কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একজন মার্কিন কংগ্রেসনাল এইড এই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের যে কৌশলগত অবস্থান ছিল, এই হামলার ফলে তার একটি বড় অংশই এখন অচল হয়ে পড়েছে।
সিএনএন-এর তদন্তে কয়েক ডজন স্যাটেলাইট ছবি এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং দুষ্প্রাপ্য সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মূলত উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে নির্ভুলভাবে আঘাত করেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাডার ব্যবস্থাগুলো ওই অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে দামি সম্পদ ছিল, যা প্রতিস্থাপন করা যেমন ব্যয়সাধ্য, তেমনি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। ক্ষয়ক্ষতির এমন নজিরবিহীন মাত্রা দেখে পেন্টাগনের ভেতরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এই যুদ্ধের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও আকাশচুম্বী। পেন্টাগনের কমপট্রোলার জুলস জে হার্স্ট থ্রি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে সিএনএন-এর নিজস্ব সূত্র দাবি করেছে, অভ্যন্তরীণ প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী এই ব্যয়ের পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি)।
যুদ্ধের এই বিশাল আর্থিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। একজন সৌদি কর্মকর্তা সিএনএন-কে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা কোনোভাবেই অভেদ্য নয়। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের ওপর হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহৃত হওয়ায় তারা কেবল আত্মরক্ষার্থেই এই পাল্টা আঘাত হেনেছে।
সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কার মুখে তেহরান আগেভাগেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের (এফডিডি) নির্বাহী পরিচালক জনাথন শ্যানজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। তবে শ্যানজারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন বুঝে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব হাত গুটিয়ে বসে না থেকে বরং কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য আগেভাগেই আক্রমণ চালিয়ে বসার ঝুঁকি রয়েছে।
চলমান এই উত্তেজনার ফলে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারণায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে। শুধু পেট্রল বা জ্বালানি তেলই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও পণ্য ও সেবার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এই সামরিক কার্যক্রমে মার্কিন করদাতাদের ব্যয় ইতোমধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে।
তবে শ্যানজারের এই বিশ্লেষণটি একান্তই সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি মূল্যায়ন মাত্র, যেখানে ইরানের সুনির্দিষ্ট কোনো আগাম হামলার পরিকল্পনা বা নিশ্চিত সামরিক পদক্ষেপের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, হামলার সময় নিয়ে এই অনিশ্চয়তা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার আশঙ্কা সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
নেতানিয়াহুর দলের অভিযোগ খারিজ করে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে দেশটির আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরি ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পায়নি ইসরায়েলি পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এই জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে এবারের নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনা বরং বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় বেশ কম ছিল।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক হিব্রুভাষী সংবাদমাধ্যমকে ইসরায়েলি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে লিকুদ পার্টি যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছে, সেগুলোর সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের গোয়েন্দা তথ্যপ্রমাণ বা তদন্তভিত্তিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, নেসেটের সাম্প্রতিক এই নির্বাচনে ইসরায়েলি আরব দলগুলো বেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর আগে ইসরায়েলের ইতিহাসে কোনো নির্বাচনে আরব দলগুলো এত বেশি আসন লাভ করতে পারেনি।
এই অপ্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লিকুদ পার্টি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করে যে, আরব দলগুলো ভোট চুরি করেছে। দলটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, দুর্নীতি, হুমকি ও সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এমনকি এসব অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথাও বলেছিল লিকুদ পার্টি।
এদিকে, নির্বাচনের প্রায় সব আসনেই ভোট গণনা শেষে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট সব মিলিয়ে ৫৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি এবং তাদের সমমনা জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এর ফলে ইসরায়েলের বর্তমান সংসদে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা ও সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এই সময়ে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে পুলিশের দেওয়া এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। মার্কিন আদালতের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন এই কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত নির্দেশনার মাধ্যমে জানা যেতে পারে যে এবারের কর্মসূচিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী ঐতিহাসিকভা্রে কম অভিবাসী পাঠানো দেশের নাগরিকদের জন্য এই ডিভি লটারি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ লাভ করেন। তবে উচ্চ অভিবাসন হারের কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই ডিভি লটারি কর্মসূচির যোগ্য দেশের তালিকার বাইরে রয়েছে। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই এবারের ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ অক্টোবর ডিভি লটারি ২০২৭-এর যোগ্যতা, শর্তাবলি ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশের কথা ছিল এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে তা ৩০ দিন পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং স্থগিতাদেশ চেয়েছে। এ কারণে নিবন্ধন শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ও পুরো প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আবেদনের শেষ তারিখ, ফল প্রকাশের সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও ওয়েবসাইট (https://travel.state.gov/) অনুসরণ করা জরুরি।
সাধারণত ডিভি লটারিতে অংশ নিতে আবেদনকারীকে যোগ্য দেশের নাগরিক হতে হয় এবং নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা নির্দিষ্ট পেশায় প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন পেশায় নির্ধারিত সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয়। তবে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুযোগ নির্ভর করবে ২০২৭ সালের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের যোগ্যতার অবস্থান এবং মার্কিন প্রশাসনের প্রযোজ্য চূড়ান্ত নিয়মের ওপর।
সূত্র: ফোর্বস
ইসরায়েলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক ফল ও এক্সিট পোলের পূর্বাভাসে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। ১২০ আসনের নেসেটে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন কোনো জোটই নিশ্চিত করতে না পারায় পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী ২৭টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে লিকুদ পার্টি এগিয়ে রয়েছে এবং নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি ও আইজেনকটের বিরোধী জোট ৫০টি আসন পেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সিট পোলেও দুই জোটের মধ্যে সমানে সমান লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন ছোট দলগুলোর হাতে চলে গেছে, যার মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৬ থেকে ১৯টির মধ্যে হতে পারে। তবে নেতানিয়াহু ও ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—উভয় পক্ষই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা বা বিরোধিতা প্রকাশ করায় রাজনৈতিক সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়েছে। নেতানিয়াহুর জোটে লিকুদ পার্টির পাশাপাশি শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, রিলিজিয়াস জায়োনিজম এবং ওতজমা ইয়েহুদিত রয়েছে; অন্যদিকে বিরোধী জোটে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু এবং ডেমোক্র্যাটস দলগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা রয়েছে এবং এরপর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দিয়ে দায়িত্ব দেবেন, প্রয়োজনে যা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। প্রথম ব্যক্তি ব্যর্থ হলে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মতো পুনরায় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে পারে দেশটি। দীর্ঘ ১৯ বছর ক্ষমতায় থাকা এবং বর্তমানে দুর্নীতির বিচার চলাকালীন নেতানিয়াহু নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
/আশিক
হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে তাদের হামলা বন্ধ করার শর্তে ইরানকে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব—এমন এক চাঞ্চল্যকর দাবি প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরা터 প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের ধ্বংসাত্মক হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করাই এই গোপন প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, গত সপ্তাহে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের আকস্মিক তেহরান সফরের সময় এই চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে আঞ্চলিক কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দেয় তেহরান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে চড়ে তেহরানে অবতরণ করেছিলেন, সেই বিমানে করেই তিনি শারীরিকভাবে নগদ ১০০ কোটি ডলার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বা স্বাধীন কোনো সূত্রের পক্ষ থেকে এই দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশের প্রতিনিধিদলের এই তেহরান সফর মূলত চলমান আঞ্চলিক সংকটের উত্তেজনা প্রশমিত করার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। এর মূল লক্ষ্য পারস্পরিক সংলাপ ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ উন্মুক্ত করা এবং কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতার উদ্যোগগুলোকে জোরালো সমর্থন দেওয়া। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনও অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
যদিও মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির নিয়মানুযায়ী কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে সম্মিলিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে, তবুও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন না করে নিজেদের ভূমিকা কেবল সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর মধ্যেই সীমিত রেখেছে। অন্যদিকে, এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই এবং প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদির বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের ধারাবাহিক ও শক্তিশালী ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ চাপের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল রপ্তানিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। হুথিদের আকস্মিক তীব্র হামলার কারণে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অতীতে বেশ কিছুদিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং সৌদির একটি বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। ‘ইসরাইল হায়োম’-এর সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, হুথিদের সঙ্গে বর্তমান এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হলো তিন বছর আগে করা পূর্বের চুক্তিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দুই পক্ষের ব্যর্থতা।
প্রস্তাবিত নতুন চুক্তি অনুযায়ী, সৌদির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি সমঝোতা বজায় রাখতে হুথিদের মোটা অঙ্কের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে রিয়াদ। এই বিশাল অর্থ মূলত হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি অঞ্চলের অবহেলিত বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং দীর্ঘবঞ্চনার শিকার সরকারি খাতের কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের কাজে ব্যবহারের কথা রয়েছে।
এর বিনিময়ে হুথিদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলা এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরে সব ধরনের হামলা চিরতরে বন্ধ করার কড়া শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা প্রকাশ্যে অভিযোগ করে আসছে যে সৌদি আরব ইতিপূর্বে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি থেকে নানা অজুহাতে সরে এসেছে, এবং তাদের এই অনড় অবস্থানের পেছনে তেহরানের প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি, নগদ ১০০ কোটি ডলার বিমানে বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে এই খবরটি যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সূত্র: এনডিটিভি
ব্রাজিলে লুলার প্রত্যাবর্তন, লাতিন আমেরিকায় চাপে ট্রাম্প
ব্রাজিলের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নির্বাচনী প্রত্যাবর্তন লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ওয়াশিংটনের চাপ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগের মুখে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লুলার অনড় অবস্থান তাকে দারুণ রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে। লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে ডানপন্থী ও ট্রাম্পঘনিষ্ঠ নেতাদের উত্থান ঘটলেও, ব্রাজিলে লুলার এই বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কৌশলকে বেশ জটিল করে তুলেছে।
নির্বাচনে জয়ের পর দেওয়া ভাষণে লুলা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন যে, ব্রাজিল কারও পেছনের উঠান হয়ে থাকা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তার এই বক্তব্যের মূল নিশানা ছিল ওয়াশিংটন। যদিও সাধারণত পররাষ্ট্রনীতি কোনো দেশের নির্বাচনী ফলাফলের প্রধান নির্ধারক হয় না, তবে ব্রাজিলের ক্ষেত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লুলার কড়া অবস্থান ভোটারদের মনে তীব্র দেশপ্রেমের জোয়ার তৈরি করেছিল। সাবেক এই শ্রমিকনেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যেকোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা শক্তির অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তার অবিচল ও দৃঢ় মনোভাব সেই পরিচিত রাজনৈতিক ভাবমূর্তির সঙ্গেই পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আশ্চর্যজনকভাবে, লুলার এই দৃঢ়তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনেও একধরনের সম্মানবোধ তৈরি করেছে বলে প্রতীয়মান হয়। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ট্রাম্প জানান যে তিনি লুলাকে পছন্দ করেন এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ ভালো। তবে একই সঙ্গে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের না নেওয়ার দাবি করলেও নির্বাচনকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের এমন দ্বৈত অবস্থান দুই নেতার মধ্যকার সম্পর্কের জটিলতাই ফুটিয়ে তোলে। ট্রাম্প সরাসরি লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান না নিলেও, ফ্লাভিওর বাবা তথা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ফ্লাভিও নিজেও নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।
এর আগে প্রায় এক বছর আগে লুলার সঙ্গে তার বাসভবনে কথা বলার সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। সে সময় লুলা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং নিজে থেকে ফোন করারও কোনো পরিকল্পনা তার নেই। এর অংশ হিসেবেই পূর্বে ব্রাজিলের ওপর কঠোর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। মনে করা হয়, জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলা অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলাটিকে ট্রাম্প ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে দেখার কারণে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। বিশ্বের অনেক মিত্রদেশ ট্রাম্পের সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিরোধ এড়িয়ে চলার পথ বেছে নিলেও, লুলা এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ পাল্টা অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় মার্কিন অযাচিত হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। প্রচারণায় তাকে ‘ব্রাজিল ব্রাজিলীয়দের’—এমন বার্তা লেখা বিশেষ নীল টুপি পরে অংশ নিতে দেখা যায়, যা তার জনসমর্থন আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুল্ক আরোপের পক্ষে তদবির চালিয়ে যাওয়া বলসোনারো পরিবারকে দেশপ্রেমহীন বলেও অভিযুক্ত করেন লুলা। দেশপ্রেমের বিষয়ে সাধারণত নিজেদের শক্ত অবস্থান দাবি করে আসা ব্রাজিলের ডানপন্থী শিবিরের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে বেশ অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতি তৈরি করে। এমনকি ব্রাজিলের কৃষি খাতের প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও, যারা মূলত বলসোনারোর সমর্থক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, লুলার বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে কিছুটা পিছু হটলেও পরবর্তীতে তা আবার বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এসবকিছুর মাঝেই দুই দেশের হিমশীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। জাতিসংঘে দুই নেতার সাক্ষাতের পর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটিকে ট্রাম্প ‘খুব ভালো’ এবং লুলা ‘খুব সন্তুষ্ট’ বলে অভিহিত করেন। এই ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, যেকোনো আপসহীন ও দৃঢ়চেতা নেতার প্রতি ট্রাম্পের মনে একপ্রকার প্রচ্ছন্ন শ্রদ্ধা কাজ করে।
তাহলে লুলার এই জয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তুষ্ট হওয়ার আসল কারণ কী? সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্রে ডানপন্থী শক্তির প্রভাব লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। ইকুয়েডর, চিলি, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা ও পেরুর মতো দেশগুলোতে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছেন। এই মিত্রদের হাতিয়ার বানিয়ে পশ্চিম গোলার্ধে নিজস্ব আধিপত্য পাকাপোক্ত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ট্রাম্প প্রশাসন ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
লাতিন আমেরিকাবিষয়ক গবেষক ক্রিস্টোফার সাবাতিনির মতে, প্রথম দফার নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারো কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প হয়তো ভেবেছিলেন ব্রাজিল হতে চলেছে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার। লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ব্রাজিল যদি ট্রাম্পের ‘শিল্ড অব আমেরিকাস’ জোটে যোগ দিয়ে মাদক পাচারবিরোধী উদ্যোগে অংশ নিত, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় জয় হতো। পাশাপাশি, চীনের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত থাকা ব্রাজিলে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রবেশাধিকার পাওয়ারও জোরালো মার্কিন স্বার্থ ছিল। লুলার জয়ে সেই সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আগামী চার বছরের মেয়াদে ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নতুন করে ছক কষতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন।
সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ জিইয়ে রাখার মতো বেশ কিছু অমীমাংসিত ক্ষেত্র রয়ে গেছে। চলতি বছরের শুরুতে ব্রাজিল অভিযোগ করে যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় সফরে আসতে চাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকার করে ব্রাজিল, যার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করে। অবশ্য ওয়াশিংটন ব্রাজিলের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প যদি ভবিষ্যতেও ব্রাজিলের নির্বাচনকে বারবার ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে আখ্যায়িত করতে থাকেন, তবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া, লাতিন আমেরিকায় যেকোনো ধরনের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধী লুলা।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অপচেষ্টা কিংবা মাদক পাচারের অভিযোগে সন্দেহভাজন নৌযানে বোমা হামলা চালানোর মতো মার্কিন পদক্ষেপগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। ফ্লাভিও বলসোনারোর তদবিরের সূত্রে যুক্তরাষ্ট্র যখন ব্রাজিলের দুটি প্রধান অপরাধী চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, তখনও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন লুলা। তার জোরালো আশঙ্কা ছিল যে এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ ব্রাজিলের সার্বিক সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি বয়ে আনতে পারে। লাতিন আমেরিকার বামপন্থী রাজনীতির কাছে এই বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ গত শতাব্দীর এই অঞ্চলে সংঘটিত একাধিক নৃশংস সামরিক স্বৈরশাসনের পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার কালো ইতিহাস রয়েছে।
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির উদীয়মান খাতগুলোও এখন যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিল সম্পর্কের নতুন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। লুলার নির্বাচনী প্রচারশিবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছিল যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব করছে। মেটা এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্বীকার করে যে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে লুলার পক্ষের কয়েকটি পোস্ট ভুলবশত মুছে ফেলা হয়েছিল বা সেগুলোর প্রচার সীমিত করা হয়েছিল।
এর কড়া জবাব হিসেবে লুলার সমর্থকেরা অ্যালগরিদমের সমস্ত প্রভাব পাশ কাটিয়ে তাদের মূল বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রায় এক কোটি সদস্যের বিশাল সব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, ব্রাজিলের অত্যন্ত সফল তাৎক্ষণিক অর্থ লেনদেনব্যবস্থা ‘পিক্স’ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের গভীর অসন্তোষ রয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটানো এই ডিজিটাল ব্যবস্থা অত্যন্ত দ্রুত ও সহজে গ্রাহকদের অর্থ লেনদেনের সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে, পিক্সের ক্রমবর্ধমান বিস্তার ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো বড় বড় মার্কিন পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র ব্যবসার পথে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক চাপ সৃষ্টি করছে।
নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপের সময় দুই পক্ষের রাজনৈতিক বিভাজন ছিল অত্যন্ত প্রকাশ্য। বলসোনারোর বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা প্রকাশ্যে ওড়াতে দেখা গেছে। এমনকি একটি সমাবেশে ‘ট্রাম্প, ব্রাজিলে পারমাণবিক হামলা চালাও’ লেখা একটি অবাস্তব বেলুন পর্যন্ত প্রদর্শিত হয়েছিল। এর বিপরীতে লুলা ও তার অনুসারীরা ভোটারদের সতর্ক করে বলেছিলেন যে ফ্লাভিও বলসোনারো দেশের নিজস্ব স্বার্থের চেয়ে মার্কিন স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে এত কিছুর পরও দুই দেশের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্বকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার উপায় নেই। চীনের পরেই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ব্রাজিলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
ফলে রাজনৈতিক নানা মতপার্থক্য সত্ত্বেও দুই দেশের অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আপাতত ট্রাম্প ও লুলার মধ্যে কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো সম্পর্ক বজায় থাকলেও তা কত দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন কতটা হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালায় এবং তার জবাবে লুলা কতটা আপসহীন ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন তার ওপর। সব মিলিয়ে, ব্রাজিলে লুলার এই প্রত্যাবর্তন কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; বরং এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার মধ্যকার এক দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েনকে বিশ্ববাসীর সামনে অত্যন্ত স্পষ্ট করে তুলেছে।
/আশিক
হুথি উত্তেজনার মাঝে সৌদিতে রহস্যময় জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আভা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাজরান শহরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জারি করা জরুরি সতর্কতা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির সিভিল ডিফেন্স জাতীয় জরুরি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এই সতর্কতা জারি করেছিল। সেই সময় সাইরেন বাজিয়ে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার এবং নির্ধারিত সুরক্ষামূলক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজরান শহরে সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র আট মিনিটের মাথায় তা তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আভা শহর থেকেও একইভাবে সতর্কতা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।
প্রাথমিকভাবে জারি করা সেই সতর্কবার্তায় কী ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া এ ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদির সীমান্ত ও আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। হুথিরা প্রায়শই সৌদির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসার দাবি করে এবং এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও সেসব আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করার কথা জানিয়ে থাকে।
/আশিক
আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা, আবারও আসছে ডিভি লটারি সুযোগ
২০২৭ সালের ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড লটারি বা ডিভি লটারি কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন আদালত। যেসব দেশ থেকে সচরাচর যুক্তরাষ্ট্রে খুব বেশি অভিবাসী আসার সুযোগ পান না, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা গত ১৪ অক্টোবর এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নিবন্ধন কার্যক্রম টানা ৩০ দিন পর্যন্ত চালু থাকতে পারে। তবে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সময়সূচি, নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত এবং সঠিক আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রেড ঈগল ল নামক একটি আইন প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় আসে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু না করার মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত এই কর্মসূচি আটকে রেখেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অন্যদিকে লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটিও আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়। বহুল পরিচিত এই ডিভি লটারির মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়া হয়ে থাকে। এতে নির্বাচিত ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি সুযোগ লাভ করেন।
অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মতো এই লটারিতে অংশগ্রহণের জন্য আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির অফার বা কোনো নিয়োগকর্তার স্পন্সরশিপের প্রয়োজন হয় না। তবে লটারিতে নাম নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয়ে যায় না; বরং নির্বাচিত আবেদনকারীদের নির্ধারিত সব যোগ্যতা যথাযথভাবে পূরণ করতে হয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয় এবং কঠোর অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া সফলভাবে পার করতে হয়। সাধারণত এই কার্যক্রমে আবেদনের জন্য আবেদনকারীকে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে অথবা এর বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের ‘ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’-এ স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এই কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। ১৯৬৫ পরবর্তী অভিবাসন ব্যবস্থার ফলে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসীদের ক্ষেত্রে যে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছিল, তা দূর করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। পরিবার বা পেশাগত দক্ষতার বাইরে অনগ্রসর ও কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত মোট ভিসার সংখ্যার মধ্যে মূল আবেদনকারীর বৈধ স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
/আশিক
বিরোধীরা জিতলেও এখনই ক্ষমতা ছাড়ছেন না নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের ফল বিরোধীদের পক্ষে গেলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমতা ছাড়তে নাও হতে পারে। নতুন সরকার গঠনে কয়েক মাস সময় লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে, গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেতানিয়াহুর হাতেই থেকে যাবে। ইউরোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ফেলো ইয়োসি মেকেলবার্গ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলিরা ভোট প্রদানের সময় তিনি বলেন, নির্বাচনের ঠিক পরদিনই নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে না। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার সামরিক অভিযান অনুমোদনের ক্ষমতাসহ উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা ধরে রাখবে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ওই ঘটনার পর প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং হামলার আগের নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার জবাবদিহির দাবি দেশটির রাজনীতিতে জোরালোভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইসরায়েলের ইতিহাসের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই নির্বাচনকে একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপের ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট কিংবা সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—কোনো পক্ষই ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। এর ফলে বিরোধীরা বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং এই সুযোগে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় বহাল থাকতে পারেন।
ইসরায়েলের নির্বাচন শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সময়টির মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জল্পনাও জোরদার হয়েছে। মেকেলবার্গের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে সংঘাত শুরুর সময় নির্ধারণে বড় প্রভাব রাখবে। দুই দেশের এই নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর ফলাফল ইরানে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হবে কি না তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
তার মতে, বিরোধীদের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তির ওপর ইসরায়েলের অতিমাত্রার নির্ভরতা পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থ তার ভবিষ্যতের সামরিক সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। মেকেলবার্গ মন্তব্য করেন যে, নেতানিয়াহুর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে, কারণ তার নীতির সঙ্গে দুর্নীতির বিচার এবং যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমনকি ইরানকে ঘিরে নতুন কোনো সংকট তৈরির সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ইসরায়েলে সরকার পরিবর্তন হলে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং প্রতিবেশী লেবাননের বিষয়ে দেশটির সামগ্রিক নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তার ধারণা, বিরোধীদের সরকার গঠিত হলে গাজা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং লেবাননের সঙ্গে নিরাপত্তাবিষয়ক সমঝোতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে নতুন জোটে কোন কোন দল অন্তর্ভুক্ত হবে, তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো শেষ পর্যন্ত সরকারে যুক্ত হবে কি না, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মিল থাকলেও, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের নিজ নিজ অবস্থানে বেশ বড় ধরনের বিভেদ রয়েছে।
মেকেলবার্গ সতর্ক করে জানান যে, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রাতারাতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে দখলদারির বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল করা এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ তৈরির উদ্যোগ অবশ্যই নেওয়া যেতে পারে। নতুন এই সরকার অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যগুলো কতটা সফলভাবে সমাধান করতে পারবে, তার ওপরই দেশটির আঞ্চলিক নীতির ভবিষ্যৎ রূপ পরিবর্তন নির্ভর করবে।
সূত্র : ইউরো নিউজ
পাঠকের মতামত:
- ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত প্রার্থী
- ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি: মানতে হবে যেসব কড়া শর্ত
- টাকার বিনিময়ে ভোট ও কারচুপির অভিযোগে বিতর্কিত রোনালদোর ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ জয়
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা
- যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- রূপপুর প্রজেক্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক: মিলল বায়েরার অনুমোদন
- নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
- কফি স্ক্রাবেই মিলবে কোরিয়ানদের মতো ‘গ্লাস স্কিন’
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামি হাজিরে বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী
- সংকটের মাঝেই এলপিজির কমিশন ২ থেকে ৩ গুণ বাড়ানোর দাবি
- ফের ঊর্ধ্বমুখী মার্কিন মুদ্রা: খোলা বাজারে ও ব্যাংকে বাড়ছে ডলারের দাম
- নেতানিয়াহুর দলের অভিযোগ খারিজ করে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
- ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার
- ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?
- তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতিকে জানাতে হবে: নাহিদ ইসলাম
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন
- জাপান সফর শেষে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি
- বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারকসহ সাতটি চুক্তি সই
- চ্যাটজিপিটিতে এলো নতুন ‘মেমরি আর্কিটেকচার’ ও চ্যাট লক সুবিধা
- নরম সুরে কথা বলে পানির ন্যায্য হিস্যা মিলবে না: রুহুল কবির রিজভী
- বিএনপির নিজেদের নেতাকর্মীও এখন নিরাপদ নন: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে কর্মী বাড়াচ্ছে রাশিয়া
- জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের কর নথিপত্র জব্দের নির্দেশ আদালতের
- হোয়াটসঅ্যাপে ‘No’ লিখলেই কি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়?
- তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট
- বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যেসব এলাকায় মিলবে না বিদ্যুৎ
- ক্ষমতা নয়, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংস্কারই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
- দৈনিক মাত্র চার ঘণ্টা ঘুম ডেকে আনছে বড় বিপদ
- তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ইসরায়েলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- রমজানে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
- বাংলাদেশের ৫ খাতে জাপানি বিনিয়োগের বড় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
- বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, প্রভাবে অস্থিরতার আভাস
- গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি
- বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জাপানের জোরালো সমর্থনের ঘোষণা
- ডি-থ্রি ট্রফিতে শক্তিশালী দল গড়ল ওয়ালটন, লক্ষ্য শিরোপা
- ক্রসফায়ার বা কাস্টডিয়াল ডেথ সরকার সহ্য করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
- পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
- হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?
- বিক্রির কদিন না যেতেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোনে ফাটল!
- হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারে আসছে নতুন কড়াকড়ি
- প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের পকেটে ফিরতি টিকিট থাকে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের
- চেলসির তরুণ তুর্কি এস্তেভাওকে দলে ভেড়াতে মরিয়া পিএসজি
- ব্রাজিলে লুলার প্রত্যাবর্তন, লাতিন আমেরিকায় চাপে ট্রাম্প
- হুথি উত্তেজনার মাঝে সৌদিতে রহস্যময় জরুরি সতর্কতা
- স্বর্ণের বাজার নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস
- 'এখন থেকে ১০ হাজার লোক নিয়ে চলব': সরাইল থানায় এমপি রুমিন ও ওসির তীব্র বাগ্বিতণ্ডার পেছনে আসল ঘটনা কী?
- জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: রাশেদ খান
- ইরানের পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’
- প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন এক রাজনৈতিক নেতা: রাশেদ খাঁন
- নতুন পে-স্কেলে ভাতা না বাড়ায় বড় ধাক্কা, হতাশ সরকারি কর্মচারীরা
- যে আতঙ্কে খালি করা হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল কোম্পানির সদর দপ্তর: বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত?
- এপস্টিন ফাইলে নাম জড়িয়ে সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনা হুথি নেতাদের
- মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের অংশীদার জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক: শামা ওবায়েদ
- অন্যের নামে জমি রেকর্ড হলে করণীয় কী?
- সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের অনন্য রেকর্ড
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন রুখতে বড় সামরিক অভিযানের নির্দেশ নেতানিয়াহুর
- বড় ধাক্কা খেল সান্তোস, বড় নিষেধাজ্ঞায় নেইমার
- ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম








