শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১০:০৩:৩৯
শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার, ১ মে ২০২৬। বাংলা তারিখ ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ এবং হিজরি ১২ জিলকদ ১৪৪৭। পবিত্র জুমার দিনে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ঢাকায় ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৪টা ৫ মিনিটে। সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে। দুপুরের জোহরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ১১টা ৫৯ মিনিটে।

বিকেলের আসরের নামাজ আদায় করা যাবে ৪টা ৩১ মিনিট থেকে। এরপর মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে। রাতের এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ৫০ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আগামীকাল শনিবার, ২ মে ফজরের নামাজের সময় অপরিবর্তিত থাকলেও সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৩ মিনিটে।

এদিকে বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য নামাজের সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যদিকে খুলনায় ঢাকার সময়ের সঙ্গে ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করতে হবে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, নামাজের নির্ধারিত ওয়াক্ত মেনে ইবাদত করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। বিশেষ করে জুমার দিনে সময়মতো নামাজ আদায় ও বেশি বেশি নফল ইবাদত, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

(সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১০:২৯:৫৫
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬), বৈশাখের তপ্ত রোদের মাঝে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শুরুর সময় ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বিস্তারিত সময় হলো

আজকের নামাজের সময়সূচি ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত

আজ ৩০ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ এবং আরবি ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকায় আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে এবং আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে।

সূর্যাস্তের ঠিক পরেই সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মাগরিবের আজান দেওয়া হবে এবং এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৪৯ মিনিটে।

আগামীকাল শুক্রবার (১ মে ২০২৬) ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ৮ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে। স্থানভেদে ঢাকার সময়ের সাথে এক বা দুই মিনিট কম-বেশি হতে পারে।

/আশিক


দরুদ শরিফ কেন মুমিনের নিত্য আমল হওয়া উচিত?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১২:১৫:৪৫
দরুদ শরিফ কেন মুমিনের নিত্য আমল হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু একটি জিকির নয়; বরং নবীপ্রেম, ঈমান, শ্রদ্ধা ও আল্লাহর আনুগত্যের এক অনন্য প্রকাশ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, দরুদ শরিফ এমন একটি আমল, যা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং আল্লাহর রহমত লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নিজেই নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।”(সুরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬)

ইসলামি গবেষকদের মতে, এই আয়াতের বিশেষত্ব হলো, এখানে আল্লাহ নিজে ও ফেরেশতাদের দরুদ পাঠের কথা উল্লেখ করার পর মুমিনদের একই আমলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি দরুদ শরিফের মর্যাদা ও গুরুত্বকে অত্যন্ত উচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে।

দরুদ পাঠে রহমত, গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন, ১০টি গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং তার মর্যাদা ১০ গুণ বাড়িয়ে দেন।(সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ১২৯৭)

আলেমরা বলেন, মানুষের জীবনে অনেক আমল রয়েছে, কিন্তু এমন কম আমলই আছে যেখানে অল্প সময়ে এত ব্যাপক প্রতিদানের ঘোষণা এসেছে। তাই দরুদ শরিফকে “বরকতের জিকির” বলেও উল্লেখ করেন অনেক ইসলামি স্কলার।

দুশ্চিন্তা দূর ও মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কেউ যদি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে, তাহলে তার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং গুনাহ ক্ষমা করা হবে।(জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)

ইসলামি মনোবিশ্লেষকদের মতে, দরুদ পাঠ মানুষের হৃদয়ে নবীজির স্মরণকে জাগ্রত রাখে, যা মানসিক অস্থিরতা কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত দরুদ পাঠ করলে অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি ও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়।

নবীজির শাফাআত লাভের গুরুত্বপূর্ণ আমল

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় ১০ বার করে নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে, সে কিয়ামতের দিন নবীজির শাফাআত লাভ করবে।(তাবারানি, ২/২৬১)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি হবে সেই, যে সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছে।(জামে তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৪)

ইসলামি গবেষকদের মতে, কিয়ামতের কঠিন দিনে নবীজির নৈকট্য লাভ করা একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের বিষয়গুলোর একটি।

দরুদ পাঠ সরাসরি পৌঁছে যায় নবীজির কাছে

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কেউ যখন আমার ওপর সালাম পাঠায়, আল্লাহ আমার রুহ ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি তার সালামের জবাব দিতে পারি।”(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২০৪১)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, ফেরেশতারা নবী (সা.)-কে উম্মতের পাঠানো সালামের সংবাদ পৌঁছে দেন।(সিলসিলাহ আস-সহিহাহ: ১৫৩০)

এ কারণে ইসলামি আলেমরা বলেন, দরুদ ও সালাম পাঠ শুধু মুখের উচ্চারণ নয়; বরং এটি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি মাধ্যম।

দোয়া কবুলের অন্যতম উপায়

রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে শুনলেন, কিন্তু সে দরুদ পাঠ করেনি। তখন তিনি বলেন, “এই ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে।” এরপর তিনি শিক্ষা দেন, দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীর ওপর দরুদ পাঠ করতে হবে।(জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৪৭)

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, দরুদ পাঠ দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এবং বান্দাকে আল্লাহর রহমতের আরও নিকটবর্তী করে।

ঈমান ও নবীপ্রেমের পরিচয়

দরুদ শরিফকে নবীপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। একজন মানুষ যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকে বেশি স্মরণ করে। তাই আলেমদের মতে, নিয়মিত দরুদ পাঠ মানুষের হৃদয়ে রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা গভীর করে তোলে এবং সুন্নাহর প্রতি অনুরাগ বাড়ায়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,“যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো, তাঁকে সম্মান করো ও মর্যাদা দাও।”(সুরা আল-ফাতহ, আয়াত: ৯)

কিয়ামতের দিন অনুশোচনা থেকে মুক্তি

হাদিসে এসেছে, কোনো মজলিসে আল্লাহর জিকির ও নবীর ওপর দরুদ পাঠ ছাড়া উঠে গেলে তা কিয়ামতের দিন আফসোসের কারণ হবে।(সহিহ আল-জামি, হাদিস: ২৭৩৮)

তাই ইসলামি শিক্ষাবিদরা বলেন, প্রতিদিনের জীবনে, বিশেষ করে জুমার দিন, নামাজের পর, দোয়ার সময় এবং অবসরে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।

দরুদ শরিফের জনপ্রিয় কিছু পাঠ

সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দরুদ হলো:“সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”

আর বহুল প্রচলিত দরুদে ইবরাহিম হলো:“আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ…”

ইসলামি স্কলারদের মতে, দরুদ শরিফ শুধু আখিরাতের মুক্তির আমল নয়; বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বরকত, মানসিক প্রশান্তি এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের এক মহিমান্বিত মাধ্যম।


জানুন রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল 

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১১:৩৯:৪১
জানুন রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল 
ছবি: সংগৃহীত

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই চায় একটি স্বচ্ছল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন। জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতার একটি হলো রিজিক বা জীবিকা। পরিবার, সন্তান, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান থেকে শুরু করে প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে রিজিকের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইসলাম রিজিককে শুধু অর্থ বা খাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং সুস্বাস্থ্য, জ্ঞান, মানসিক প্রশান্তি, ভালো পরিবার, নিরাপত্তা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকেও রিজিকের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। মানুষ চেষ্টা করবে, পরিশ্রম করবে, পরিকল্পনা করবে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিজিকের ফয়সালা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। কুরআন ও হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো মানুষের জীবনে বরকত, সচ্ছলতা এবং মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনে। ইসলামি গবেষকরা বলেন, এসব আমল শুধু আধ্যাত্মিক উন্নতির মাধ্যম নয়; বরং মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরি করে।

১. তওবা ও ইস্তিগফার: রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল

ইসলামে তওবা ও ইস্তিগফারকে জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে হজরত নূহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন এবং জানিয়েছেন, আল্লাহ তাদের ওপর অঝোর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করবেন এবং বাগান ও নদী দান করবেন।

ইসলামি স্কলারদের মতে, গুনাহ মানুষের রিজিকে সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে। যখন মানুষ আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তখন তার জন্য নতুন নতুন কল্যাণের দরজা খুলে যায়। নিয়মিত “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং হৃদয়ের অস্থিরতা কমায়।

২. তাকওয়া ও আল্লাহভীতি

কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করেনি।”

তাফসিরবিদদের মতে, তাকওয়া শুধু ভয় নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার নাম। একজন মুত্তাকি মানুষের জীবনে আল্লাহ এমনভাবে বরকত দান করেন, যা বাহ্যিক হিসাবের বাইরে চলে যায়।

৩. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা

তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি মানুষ আল্লাহর ওপর প্রকৃত ভরসা করতে পারত, তাহলে পাখিদের মতো রিজিক পেত। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট ভরে ফিরে আসে।

তবে ইসলামি আলেমরা স্পষ্ট করেছেন, তাওয়াক্কুল মানে অলসতা নয়। বরং যথাসাধ্য চেষ্টা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি বিশ্বাস রাখতে হবে যে, সফলতার মালিক আল্লাহ।

৪. ইবাদতের প্রতি মনোযোগ

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য নিজেকে ফারেগ কর, আমি তোমার অন্তরকে সম্পদশালী করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব।”

ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, ইবাদত শুধু নামাজ-রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরিচালিত জীবনব্যবস্থাই প্রকৃত ইবাদত। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে, তার অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং জীবনে বরকত বাড়ে।

৫. হজ ও ওমরা পালন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরা পালন করলে তা গুনাহ ও দারিদ্র্য দূর করে দেয়। আলেমদের মতে, হজ ও ওমরা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং জীবনে নতুন বরকতের সূচনা ঘটায়।

৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি রিজিক বৃদ্ধি ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ায় এবং পারিবারিক বরকত সৃষ্টি করে।

৭. আল্লাহর পথে ব্যয় করা

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমরা যা ব্যয় কর, আল্লাহ তার বিনিময় দেন।” ইসলামি গবেষকদের মতে, দান-সদকা কখনো সম্পদ কমায় না; বরং এতে জীবনে বরকত বৃদ্ধি পায়।

গরিব, এতিম, অসহায় ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা মানুষের রিজিকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা।

৮. দ্বীনের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা

হাদিসে এমন একটি ঘটনার কথা এসেছে, যেখানে নবীজি (সা.) বলেছেন, ধর্মীয় জ্ঞানার্জনে নিয়োজিত ব্যক্তির কারণেও অন্য কেউ রিজিক পেতে পারে। ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত মানুষদের সহায়তা করা বরকতময় আমল।

৯. অসহায়দের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুর্বল ও অসহায় মানুষদের কারণেই আল্লাহ সাহায্য ও রিজিক দান করেন। আলেমরা বলেন, সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক কাজ নয়; বরং এটি আল্লাহর রহমত লাভেরও গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

১০. আল্লাহর পথে হিজরত

কুরআনে বলা হয়েছে, “যে আল্লাহর পথে দেশত্যাগ করে, সে পৃথিবীতে বহু আশ্রয় ও স্বচ্ছলতা লাভ করবে।” ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কষ্ট স্বীকার করলে আল্লাহ তার জন্য উত্তম ব্যবস্থা করে দেন।

ইসলামি গবেষকদের মতে, রিজিকের প্রকৃত বরকত আসে আল্লাহর আনুগত্য, সততা, পরিশ্রম এবং নেক আমলের মাধ্যমে। শুধু অর্থসম্পদ বৃদ্ধি নয়; বরং শান্তিপূর্ণ, সম্মানজনক ও প্রশান্তিময় জীবনই প্রকৃত সচ্ছলতা। তাই একজন মুমিনের উচিত দুনিয়ার উপার্জনের পাশাপাশি আখিরাতের সফলতার জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করা।


প্রতিদিন ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়লে মিলবে যে উপকার

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১১:২৯:৪৫
প্রতিদিন ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়লে মিলবে যে উপকার
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। “আস্তাগফিরুল্লাহ” শব্দটির অর্থ, “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।” দেখতে ছোট ও সহজ এই জিকিরের ফজিলত এতটাই বিস্তৃত যে কুরআন ও হাদিসে বারবার এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; বরং এটি মানুষের আত্মিক উন্নতি, মানসিক প্রশান্তি, রিযিক বৃদ্ধি এবং পারিবারিক কল্যাণের অন্যতম চাবিকাঠি।

ইসলামি গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ যত বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, তার অন্তর তত বেশি পরিশুদ্ধ হবে। গুনাহ মানুষের হৃদয়কে ভারী করে তোলে, আত্মাকে দুর্বল করে এবং জীবনে অশান্তি তৈরি করে। ইস্তিগফার সেই অন্তরকে পরিষ্কার করে আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরিয়ে আনে। এ কারণেই ইসলামি চিন্তাবিদরা ইস্তিগফারকে “আত্মার পরিশুদ্ধির ওষুধ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

পবিত্র কুরআনে হজরত নূহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদীর ব্যবস্থা করবেন। আলেমদের মতে, এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ইস্তিগফার শুধু আখিরাতের মুক্তির পথ নয়, বরং দুনিয়ার জীবনের বরকত ও সমৃদ্ধিরও অন্যতম মাধ্যম।

হাদিস শরিফেও ইস্তিগফারের অসংখ্য ফজিলতের কথা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন, সব সংকট থেকে উদ্ধার করেন এবং এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। ইসলামি গবেষকদের মতে, এই হাদিস মানুষের জীবনে ইস্তিগফারের বাস্তব প্রভাবের একটি গভীর বার্তা বহন করে।

বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, হতাশা, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা মানুষের জীবনের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনোবিজ্ঞানী ও ইসলামি স্কলারদের মতে, আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফার মানুষের মানসিক স্থিরতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত ইস্তিগফার মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে, হতাশা কমায় এবং অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি তৈরি করে। অনেকেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে ইস্তিগফার তাদের মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।

ইসলামে ইস্তিগফারের সঙ্গে রিযিক বৃদ্ধির সম্পর্কও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আলেমরা বলেন, অনেক সময় গুনাহ মানুষের রিযিক সংকুচিত করে দেয়। যখন মানুষ তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তখন আল্লাহ তার জন্য নতুন নতুন কল্যাণের দরজা খুলে দেন। ব্যবসা, চাকরি, পরিবার বা জীবনের অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে বরকত লাভের জন্য ইস্তিগফারকে অত্যন্ত কার্যকর আমল হিসেবে ধরা হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন ইস্তিগফারের সর্বোত্তম উদাহরণ। সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বারের বেশি ইস্তিগফার করতেন। অথচ তিনি ছিলেন নিষ্পাপ। ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, এতে উম্মতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। যদি আল্লাহর রাসুল (সা.) এত বেশি ইস্তিগফার করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা কতটা বেশি, তা সহজেই বোঝা যায়।

ইস্তিগফারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি মানুষকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও গুনাহের পথ থেকে দূরে রাখে। নিয়মিত ইস্তিগফার করলে মানুষ নিজের ভুল সম্পর্কে সচেতন হয় এবং আল্লাহর ভয় ও দায়িত্ববোধ তার মধ্যে বৃদ্ধি পায়। ফলে গুনাহ থেকে ফিরে আসা সহজ হয় এবং নেক আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।

ইসলামে “সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার” নামে একটি বিশেষ দোয়ার কথাও এসেছে, যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ যদি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল বা সন্ধ্যায় এই দোয়া পড়ে এবং এরপর মৃত্যু হয়, তবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া সবচেয়ে সহজ ইস্তিগফার হলো শুধু “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা। আর বহুল প্রচলিত পূর্ণাঙ্গ ইস্তিগফার হলো: “আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহ।”

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর, তাহাজ্জুদের সময়, জুমার দিন এবং যেকোনো অবসরে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা অত্যন্ত উত্তম। বিশেষ করে যখন মানুষ বিপদে পড়ে, হতাশ হয় বা জীবনে অস্থিরতা অনুভব করে, তখন ইস্তিগফার তার অন্তরে নতুন আশা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

তারা আরও বলেন, ইস্তিগফার শুধু মুখের জিকির নয়; বরং এটি হৃদয়ের অনুশোচনা, গুনাহ থেকে ফিরে আসার অঙ্গীকার এবং আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে যাওয়ার একটি আত্মিক যাত্রা। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ কখনো তাকে নিরাশ করেন না।


আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওয়াক্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১০:৩০:১৩
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওয়াক্ত
ছবি : সংগৃহীত

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। শত ব্যস্ততার মাঝেও পরকালীন সাফল্যের জন্য মুমিন মুসলমানের উচিত সময়মতো অন্তত ফরজ নামাজটুকু আদায় করে নেওয়া। আজ বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা, ১০ জ্বিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি হলো

আজকের জোহর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে এবং আসর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে।

সূর্যাস্তের সাথে সাথে অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে মাগরিবের সময়।

রাতের প্রধান ইবাদত এশা শুরু হবে ৭টা ৪৮ মিনিটে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবারের জন্য ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ০৬ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে ৫টা ২৪ মিনিটে।

ঢাকার সময়ের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময় থেকে চট্টগ্রাম ৫ মিনিট এবং সিলেট ৬ মিনিট বিয়োগ করে নিতে হবে। অন্যদিকে ঢাকার সময়ের সাথে খুলনা ৩ মিনিট, রাজশাহী ৭ মিনিট, রংপুর ৮ মিনিট এবং বরিশাল ১ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামাজের সঠিক সময় জেনে নিতে হবে।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওয়াক্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১০:২২:২১
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওয়াক্ত
ছবি : সংগৃহীত

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুমিনের জন্য মহান আল্লাহর এক অনন্য উপহার। দুনিয়ার হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও পরকালীন সাফল্যের জন্য ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামে ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল ইবাদতেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে সময়ের স্বল্পতা থাকলে অন্তত ফরজটুকু আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।

আজ মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি; ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা; ৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। আপনার ইবাদতের সুবিধার্থে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি দেওয়া হলো।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি

জোহর: ১১টা ৫৮ মিনিট।

আসর: বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট।

মাগরিব: সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিট।

এশা: রাত ৭টা ৪৬ মিনিট।

ফজর (আগামীকাল): ভোর ৪টা ১৪ মিনিট।

সূর্যোদয় (আগামীকাল): ভোর ৫টা ২৮ মিনিট।

সূর্যাস্ত (আজ): সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিট।

বিভিন্ন জেলার সময়ের পার্থক্য

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রামের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।

যোগ করতে হবে

বরিশালের জন্য ১ মিনিট, খুলনার জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট এবং রংপুরের জন্য ৮ মিনিট সময় যোগ করতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন। আমিন।

/আশিক


আজ সোমবারের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১০:৩২:১৫
আজ সোমবারের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আধ্যাত্মিক সান্নিধ্য অর্জনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামের প্রতিটি বিধানের মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর যৌক্তিকতা ও মানবকল্যাণ। ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ে অন্তত ফরজ নামাজটুকু আদায় করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। ফরজ ও সুন্নতের পাশাপাশি নফল ইবাদতের মাধ্যমেও আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব।

আজ সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা এবং ৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি দেওয়া হলো

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

ফজর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ০৯ মিনিটে।

সুবহে সাদিক বা সেহরির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৪টা ০৬ মিনিট।

জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০০ মিনিটে এবং আসরের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ২৯ মিনিটে।

মাগরিবের নামাজ আদায়ের সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিট এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে।

বিভাগীয় শহর অনুযায়ী সময়ের পরিবর্তন

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন।

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের ক্ষেত্রে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

যোগ করতে হবে

ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালের ক্ষেত্রে ১ মিনিট যোগ করে নামাজ আদায় করতে হবে।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১০:১৬:৪৪
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য অর্জনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামের প্রতিটি বিধান ও আমলের মধ্যে যেমন গভীর যৌক্তিকতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য। ইসলামে এমন কোনো বিধান নেই যা পালন করা মানুষের জন্য অসাধ্য। দৈনন্দিন জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের বাইরেও নফল ইবাদতের বিশেষ সওয়াব রয়েছে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও অন্তত ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজটুকু আদায় করে নেওয়া প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।

আজ ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা এবং ৭ জ্বিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি

আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩২ মিনিটে।

সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় করতে হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে।

রাতের শেষ ইবাদত এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে।

এছাড়া আগামীকাল সোমবার ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৪টা ০৮ মিনিটে।

বিভাগীয় শহর অনুযায়ী সময়ের পরিবর্তন

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন। চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে যোগ করতে হবে খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট।

/আশিক


আজ নামাজের সময়সূচি দেখে নিন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ০৭:২৭:৪৯
আজ নামাজের সময়সূচি দেখে নিন
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন্দ্রীয় ইবাদত হিসেবে বিবেচিত হয় সালাত বা নামাজ। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়, বরং একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবন, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ইসলামি শরিয়তে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য নফল নামাজেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, নামাজ মানুষকে অশ্লীলতা, অন্যায় এবং গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখে। পবিত্র কুরআনে সালাতকে সফল মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসেও নামাজকে মুমিনের মেরুদণ্ড এবং ইসলাম ধর্মের স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আলেমদের মতে, একজন মানুষের ঈমানি জীবনের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় তার নামাজে নিয়মিততা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে।

আজ শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ৬ জিলক্বদ ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নির্ধারিত সময়ে জামাতে অংশ নেওয়া এবং যথাসময়ে সালাত আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আজকের নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী, ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৪টা ১১ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় ফরজ সালাত যোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০০ মিনিটে। বিকেলের আসরের নামাজ আদায় করা যাবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। দিনের শেষ ফরজ নামাজ এশার সময় শুরু হবে রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে।

পাঠকের মতামত: