স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১১:০৯:৫৪
স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যহ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে। একের পর এক দাম কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ভরিপ্রতি স্বর্ণের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সর্বশেষ ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা চতুর্থবারের মতো স্বর্ণের দাম কমিয়েছে, যা বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দরে সব ধরনের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা। একইসঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা।

স্বর্ণের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে কমছে দাম। গত ১০ জুন ভরিপ্রতি ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। এর আগে ৬ জুন আরও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে দাম নামানো হয়েছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায়।

অন্যদিকে, ২ জুনের মূল্য সমন্বয়ে ভরিপ্রতি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল। সেই সময় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এরপর ধারাবাহিক চার দফা মূল্যহ্রাসের ফলে মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম মোট ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা কমেছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের মূল্য কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এই মূল্য সমন্বয়ের অন্যতম কারণ। বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণের দাম কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক এই মূল্যহ্রাসে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য যারা স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে আবার ওঠানামা দেখা যেতে পারে। ফলে বর্তমান মূল্যকে স্থায়ী বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বাজুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৭৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে ৩৬ বার কমানো হয়েছে। ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তনের এই প্রবণতা দেশের স্বর্ণবাজারে অস্থিরতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরছে।

-রাফসান


চার মাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ সাপ্তাহিক পতনের মুখে মূল্যবান ধাতু

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৭:২৮:৫৭
চার মাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ সাপ্তাহিক পতনের মুখে মূল্যবান ধাতু
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে স্বর্ণের বাজার। টানা দরপতনের ফলে মূল্যবান ধাতুটির দাম গত চার মাসেরও অধিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন হতে চলেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৩.৩৪ ডলারে নেমে আসে, যা গত ২০ জুলাইয়ের পর থেকে সর্বনিম্ন। চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে স্বর্ণের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া ডিসেম্বরে সরবরাহের নির্ধারিত মার্কিন ফিউচার চুক্তিতে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে হুথিদের ড্রোন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। তেলের দাম দীর্ঘ সময় ঊর্ধ্বমুখী থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যার ফলে ফেড দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখতে পারে। যেহেতু স্বর্ণ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সুদ আয় হয় না, তাই সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক লাভজনক বা সুদবাহী সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যা সরাসরি স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাজারের সার্বিক দৃষ্টি এখন আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের ওপর নিবদ্ধ রয়েছে। বাজারের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বরে তা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্বর্ণের পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুগুলোর দামও নিম্নমুখী রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৮:২৪:৩৭
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়া, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ এবং সৌদি আরবের একাধিক তেল অবকাঠামোয় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।

এরই জেরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় নিকট ভবিষ্যতেও তেলের আকাশছোঁয়া দাম অব্যাহত থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.৩৫ ডলার বা ৩.০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১২.১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত ১৮ মে-র পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ২.৬৮ ডলার বা ২.৭৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। পিভিএম অয়েলের প্রখ্যাত বাজার বিশ্লেষক তামাস ভার্গা পরিস্থিতি মূল্যায়নে জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আক্রমণ এবং সৌদির তেল অবকাঠামোয় হুথি হামলার ধাক্কায় মধ্যপ্রাচ্যের স্বাভাবিক তেল সরবরাহের খবরগুলো পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে।

এদিকে সৌদি আরবে মার্কিন মিশনের কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারকে অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। বুধবার সৌদির দাম্মাম বেসামরিক বিমানবন্দর ও একটি তেলক্ষেত্রে হুথি হামলায় চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে, ইরানের আইআরজিসি স্পষ্ট সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পুনরায় কঠোর আঘাত হানা হবে। ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার এই চরম অবনতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য স্টার


বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দরপতন: কেমন আছে স্বর্ণ ও রুপার বাজার?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ২০:০৩:৩৯
বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দরপতন: কেমন আছে স্বর্ণ ও রুপার বাজার?
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর বেচাকেনায় মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে; যার মধ্যে রুপার দর অপরিবর্তিত থাকলেও স্বর্ণ, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে আসা সর্বশেষ বাজারদর অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপা ৫৭ দশমিক ৯৭৪ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে।

অপরদিকে শিল্প ও অলংকার খাতে ব্যবহৃত অন্য দুটি মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বিশ্ববাজার দর নিম্নমুখী ছিল। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৩৬ ডলারে ঠেকেছে। একই ধারায় প্যালাডিয়ামের দর ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৬১ ডলারে এসে নেমেছে।

একই সময়ে বিশ্ববাজারে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ধাতু স্বর্ণের দামেও দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক মান সময় (জিএমটি) সকাল ৯টা ৯ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২০ দশমিক ৪৯ ডলারে স্থির হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য চুক্তিকৃত স্বর্ণের দরও সমপরিমাণ অর্থাৎ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৯ দশমিক ১০ ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের অস্থিরতায় বৈশ্বিক মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন দরপতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৭:৩৮:৪৩
আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের অস্থিরতায় বৈশ্বিক মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন দরপতন
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী বৈঠকের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছেন বিশ্বজুড়ে বিনোয়োগকারীরা। বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা এখন বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৯টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২০ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৯ দশমিক ১০ ডলারে স্থিতি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বিশ্বব্যাপী পরিবহন, উৎপাদন ও পণ্যের সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে তাদের নীতি নমনীয় না করে আরও কঠোর ও সতর্ক অবস্থান নিতে বাধ্য হতে পারে। অর্থনীতিতে চড়া সুদের হার বহাল থাকলে সুদবিহীন খাত হিসেবে স্বর্ণের সার্বিক আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়। এই জটিল অর্থনৈতিক মারপ্যাঁচে ফেডের আগামী সপ্তাহের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তই স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দর নির্ধারণে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র: রয়টার্স


বিশ্ব অর্থনীতির নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে গতিশীল মূল্যবান ধাতুর বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৭:৪৯:৪৮
বিশ্ব অর্থনীতির নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে গতিশীল মূল্যবান ধাতুর বাজার
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের বাজার কিছুটা মন্দা থাকায় বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ে দুশ্চিন্তা কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য ইতিবাচক মোড় নিয়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। আগামী সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রানীতিবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ওই বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে—বিনিয়োগকারীদের এমন অনুমানের ওপর ভর করেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ১৭১ ডলার ৬৫ সেন্টে পৌঁছায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য ০.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ১৯১ ডলার ৯০ সেন্টে উঠে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় নীতি নির্ধারণে ফেডের ওপর থেকে তাৎক্ষণিক চাপ হ্রাস পেয়েছে।

এ ছাড়া ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে একই সাথে মার্কিন ডলার ও নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের চাহিদা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারের স্বর্ণ ও রুপার মূল্যেও স্থিরতা দেখা গেছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা।

/আশিক


সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান, প্রকাশ্যে নতুন ডিজিটাল টুলস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২০:০৯:২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান, প্রকাশ্যে নতুন ডিজিটাল টুলস
ছবি : সংগৃহীত

পে স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বকেয়া বা 'এরিয়ার' বাবদ প্রাপ্ত অর্থের হিসাব নিয়ে যে জটিলতা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, তার সমাধানে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ এইচটিএমএল ভিত্তিক ‘পে স্কেল বকেয়া ক্যালকুলেটর’। এই ডিজিটাল সরঞ্জামটির সাহায্যে যেকোনো সরকারি কর্মচারী তাদের নতুন মূল বেতন, বাড়ি ভাড়ার পার্থক্য, বিশেষ সুবিধার সমন্বয় এবং ৩ মাসের মোট প্রাপ্ত নিট বকেয়ার সঠিক হিসাব চোখের পলকেই জেনে নিতে পারছেন।

এই ক্যালকুলেটরটি ব্যবহারের নিয়ম অত্যন্ত সহজ এবং ফাইলটি যেকোনো কম্পিউটার কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের মোবাইল ব্রাউজারে অফলাইনে সরাসরি কাজ করে। ব্যবহারকারীকে প্রিন্ট সুবিধার জন্য প্রথমে নাম, পদবি ও কার্যালয়ের নাম লিখতে হবে। এরপর ২০১৫ সালের স্কেল অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩০ জুনের গ্রেড এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ও ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের ইনক্রিমেন্টসহ তোলা বেতনের তথ্য প্রদান করতে হবে। একই সাথে কর্মস্থল নির্বাচন করলে এলাকা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি বাড়ি ভাড়ার হার হিসাবভুক্ত হবে। সাধারণ ক্ষেত্রে বকেয়ার সময়সীমা ৩ মাস (জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) ডিফল্ট হিসেবে থাকলেও ব্যবহারকারী তা প্রয়োজনমতো ১ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সমন্বয় করতে পারবেন।

তথ্যগুলো পূরণ করার সাথে সাথেই পে স্কেলের সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ৫০ শতাংশ এবং ১ থেকে ৯মনীত গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রথম ধাপ অনুযায়ী নতুন মূল বেতন ও বাড়ি ভাড়ার হিসাব স্ক্রিনে ফুটে উঠবে। একই সাথে বিলুপ্ত হওয়া বিশেষ সুবিধা (১০% বা ১৫%) বিয়োগ করে নিট মাসিক বকেয়া এবং সর্বমোট পাওনার পরিমাণ স্পষ্ট দেখা যাবে। বিবরণীটি এ৪ সাইজের কাগজে প্রিন্ট বা সরাসরি পিডিএফ হিসেবে সংরক্ষণের সুব্যবস্থাও রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ব্যবহারের পূর্বে অফিশিয়াল গেজেটের (এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬) স্কেল টেবিলের সাথে তথ্যগুলো একবার মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রস্তুতকারকরা।

/আশিক


সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে অনিশ্চয়তা ও দরপতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৭:৪০:৪৬
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে অনিশ্চয়তা ও দরপতন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার আবারও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও দরপতনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে সুদের হার ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণ বিক্রি করে লাভজনক বন্ডের দিকে হাত বাড়ান। এর ফলে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫ ডলার ১২ সেন্টে নেমে আসে, যা এক সপ্তাহে প্রায় ০.৭ শতাংশ পতন। তবে একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহের ফিউচার বাজারে দাম সামান্য বেড়ে ৪ হাজার ১৯৮ ডলার ২০ সেন্টে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয় পর্যায়েই মূল্যস্ফীতি সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, ডিসেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে বিশ্ববাজারে ডলার আরও শক্তিশালী হবে, যা অন্যান্য দেশের মুদ্রায় স্বর্ণ ক্রয়কে ব্যয়বহুল করে তুলে বৈশ্বিক চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে স্বল্পমেয়াদে ক্যাপিটাল ইকোনমিকস ও টিডি সিকিউরিটিজের বিশেষজ্ঞরা দরপতনের ইঙ্গিত দিলেও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হওয়ায় ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এর চূড়ান্ত গতিপথ নির্ভর করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী প্রভাবের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম এক লাফে অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে। নতুন সমন্বিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকায় নেমে এসেছে।

/আশিক


বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৯:০৫:৩৮
বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় কার্যদিবসেও মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে পতন লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রবণতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূলত স্বর্ণের বাজারে এই দরপতন দেখা দিয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তের স্পষ্ট ইঙ্গিত পেতেই মূলত বাজারসংশ্লিষ্টরা এখন অর্থনীতির এসব নতুন তথ্যের দিকে গভীর নজর রাখছেন।

এদিন বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দরও শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ৮০ ডলারে এসে ঠেকেছে।

ফরেক্স ডটকমের খ্যাতিমান বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, আজকের দিনে পরে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় অনেক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী বর্তমানে লেনদেন থেকে কিছুটা বিরত রয়েছেন। মূলত এই অর্থনৈতিক প্রতিবেদনটি মার্কিন ডলারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এবং ডলারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত অন্যান্য সম্পদের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক পরের দিনই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে দেশটির উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং খুচরা বিক্রির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত।

এদিকে জ্বালানি বাজারের তথ্যে দেখা গেছে, বুধবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, জলপথের ওই জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে নতুন কিছু কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়া রাখা এবং আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর প্রভাব বিস্তার করার একটি সুদূরপ্রসারী চেষ্টা হিসেবে তেহরান এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মার্কিন ডলারের লাগাতার ঊর্ধ্বগতি একসময় থমকে যাওয়ার পর এমন একটি সময় আসতে পারে যখন ডলারের দাম তার সর্বোচ্চ সীমার চূড়ায় পৌঁছে যাবে। আর ঠিক সেই মুহূর্তে স্বর্ণের বাজার আরও বেশি আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তাঁর ধারণা অনুযায়ী, চলতি বছরের পরবর্তী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঘুরে দাঁড়িয়ে পুনরায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলারের দিকে এবং অনুকূল পরিস্থিতিতে তা ৪ হাজার ৭০০ ডলারেও গিয়ে পৌঁছাতে পারে।

সাধারণত বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি ও পতন থেকে সুরক্ষার অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে গণ্য করা হয়। তবে একটা বিষয় লক্ষণীয় যে, স্বর্ণের হোল্ডিং থেকে কোনো ধরনের নিয়মিত সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সুদের হার বেড়ে গেলে সাধারণত স্বর্ণের মতো আয়হীন সম্পদে বিনিয়োগ করার প্রবণতা ও আকর্ষণ কিছুটা হলেও কমে যায়।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস এক বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য চলতি বছর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার আরও একবার বাড়াতে হতে পারে। এদিকে শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ বলে জোরালো ধারণা করছেন বাজারের অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই সামগ্রিক প্রভাবের পাশাপাশি বুধবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বেশ মিশ্র প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫৭ ডলারে নেমে এসেছে এবং প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীতে প্যালাডিয়ামের বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থেকে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৩২ দশমিক ৭০ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার এই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


জ্বালানি সংকট নিরসনে জিটুজি চুক্তিতে ৯ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:২৫:৪৮
জ্বালানি সংকট নিরসনে জিটুজি চুক্তিতে ৯ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি দেশের বাজার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ১০ হাজার টন চিনি কেনার একটি প্রস্তাবও সরকারের অনুমোদন লাভ করেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই আমদানিসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোতে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়।

বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক খ্যাতনামা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে মোট ৯ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে ট্রাফিগুরাকে সরবরাহকারী হিসেবে নির্দিষ্ট করে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল। এটি সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে আমদানি করা হবে এবং দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রয়োজনানুসারে এলএনজি কার্গোর পরিমাণ বাড়োনো বা কমানো সম্ভব হবে।

কৃষি উৎপাদনে সরবরাহ বজায় রাখতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সর্বমোট ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির সবুজ সংকেত দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিশাল পরিমাণ সার আমদানির উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও কানাডাকে। আমদানিকৃত চালানের মধ্যে ৮২ হাজার টন ইউরিয়া, ৪০ হাজার টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং অবশিষ্ট অংশে এমওপি সার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১০ হাজার টন চিনি কেনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দুইটি পৃথক চালানে এই চিনি সংগ্রহ করতে সরকারের খরচ হবে ১০০ কোটি টাকার বেশি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: