অবসরভাতা প্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১১:০৩:১৪
অবসরভাতা প্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে অবসর-উত্তর আর্থিক সুবিধার অপেক্ষায় থাকা হাজারো শিক্ষকের জন্য স্বস্তির বার্তা দিল সরকার। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষক এখনো অবসরকালীন প্রাপ্য অর্থ হাতে না পাওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে নতুন কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকেই বকেয়া অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হবে।

শনিবার (১৩ জুন) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, অবসর সুবিধার অর্থ না পাওয়া শিক্ষকদের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক উপকারভোগী শিক্ষককে ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের বাকি প্রাপ্য অর্থও পরিশোধ করা হবে। দীর্ঘদিনের এই আর্থিক জটিলতা নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষকদের কল্যাণে সরকারের নতুন পরিকল্পনার মধ্যে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা দেওয়া হলেও সেটিকে শতভাগে উন্নীত করার প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। বাজেট অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন ড. মিলন। তিনি জানান, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের ব্যাপক সংকট রয়েছে। প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে প্রক্রিয়াটি আপাতত থমকে আছে। সরকার আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক মামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

শিক্ষা খাতের উন্নয়ন কার্যক্রমে মামলা জট বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়োগ, পদোন্নতি, অবসর সুবিধা এবং প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্ত আদালতের নিষ্পত্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে শিক্ষা ব্যবস্থার গতি আরও বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের অনেক অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

-রফিক


ক্রসফায়ার বা কাস্টডিয়াল ডেথ সরকার সহ্য করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ২০:৪৪:২৮
ক্রসফায়ার বা কাস্টডিয়াল ডেথ সরকার সহ্য করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে তাকে সরাসরি নাকচ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন যে আইজিপির এ ধরনের মন্তব্য করা একদমই ঠিক হয়নি এবং উচিত হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির একজন সহজ-সরল মানুষ এবং মূলত আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয় বোঝাতে গিয়ে তিনি অসতর্কতাবশত ওই কথাটি বলে ফেলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। সরকার কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (কাস্টডিয়াল ডেথ) বরদাশত করবে না এবং এ বিষয়ে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুদৃঢ় উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন যে, এখন পর্যন্ত দেশে ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির মন্তব্য করেছিলেন যে, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি সে সময় আরও বলেন যে পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ বলে আখ্যায়িত করে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।

আইজিপির এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী যুবদলের এক অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন যে, দীর্ঘকাল গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা দলের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে পুলিশপ্রধানের মুখে এমন বক্তব্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও ভাবনার বিষয়।

পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেই ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়েছিল যে, আইজিপি মূলত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি; বরং অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতেই তিনি রূপক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

সূত্র: প্রথম আলো


গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ২০:২৯:৫৫
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
ছবি : সংগৃহীত

গ্রিড বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক অফিসিয়াল বার্তার মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি।

গঠিত এই কমিটির প্রধান বা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের সঞ্চালন-২ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলী। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে মূলত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মূল নেপথ্য কারণগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সফলভাবে প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে চরম ভোগান্তি ও বিদ্যুৎ বিঘ্ন ঘটে। এই ঘটনার পরপরই দ্রুত জাতীয় গ্রিডের জরুরি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরলস প্রচেষ্টার পর একই দিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় গ্রিডের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার কাজ সফলভাবে শেষ হয়। এরপর গ্রিড লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো সচল রেখেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক করে আনা হয়।

/আশিক


পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ২০:২১:১৭
পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
ছবি : সংগৃহীত

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপন এবং ভ্রমণসংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করেছে সরকার। নতুন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু করে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন দ্বীপটিতে ভ্রমণের পাশাপাশি রাতেও নিরাপদে থাকতে পারবেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সংশোধিত নির্দেশনা জারি করা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপন নিয়ে পূর্বে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওই পুরো সময়জুড়েই পর্যটকেরা দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল, তাতে গত বছরের ২২ অক্টোবর জারি করা পুরোনো প্রজ্ঞাপনের নিয়ম বহাল রাখা হয়েছিল। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা কেবল দিনের বেলা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে একই দিনে ফিরে আসতে পারবেন এবং কেবল ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতে থাকার অনুমতি থাকবে—এমন বিধান থাকায় পর্যটক, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ী এবং জাহাজমালিকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সরকারের নজরে আসার পর এই সংশোধিত সিদ্ধান্ত এল।

নতুন সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যটকদের জন্য অন্যান্য যেসব নিয়ম বহাল থাকছে তার মধ্যে রয়েছে

আগের নিয়মের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকেই পর্যটকবাহী জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার্থে এবার পর্যটক যাতায়াতের দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা বা কোটা বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণকারী প্রতিটি পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে।

দ্বীপে যাতায়াতের জন্য আগের মতো এবারও পর্যটকদের নির্দিষ্ট ‘ট্রাভেল পাস’ সংগ্রহ করতে হবে।

/আশিক


ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার দুই নেতার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৮:০৪:২৩
ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার দুই নেতার
ছবি : সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারে নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-এ দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালুর আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপান যে সহযোগিতা প্রদান করে আসছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

উভয় নেতার বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমসারির স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর অন্যতম। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অবিরাম ভূমিকা পালন করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন ভিত্তির ওপর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুই দফা জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

/আশিক


স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চাইলেন ডা. জুবাইদা রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৭:৫৮:৪৮
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চাইলেন ডা. জুবাইদা রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামোর উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে স্থানীয় সময় বিকেলে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা, নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে বর্তমান প্রশাসন নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা প্রদান এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর মতো যুগান্তকারী উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবাকে নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত আগ্রহের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা, অর্জিত জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের সমসাময়িক নানা নতুন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ এবং জাপান উভয় রাষ্ট্রই গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মহৎ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি টেকসই সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শক্তিশালী অর্থনীতি নির্মাণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং মানুষকে দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য কূটনীতির অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সঠিক ও সময়োপযোগী স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য খাতের গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। শিশুসহ দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন যে প্রশংসনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি এবং বাংলাদেশে এই সংস্থার কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলায় আরও বেশি অর্থায়ন এবং সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানান।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মানুষের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত যেকোনো ইতিবাচক পদক্ষেপে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ আন্তরিকতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়াসহ বাংলাদেশ ও জাপানের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


সৌদি গমনে ব্যর্থ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে প্রবেশের সুযোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ২০:২২:২৮
সৌদি গমনে ব্যর্থ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে প্রবেশের সুযোগ
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ফ্লাইট বিপর্যয় এবং আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারা বাংলাদেশি কর্মীরা ফের দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এসব কর্মীদের পুনরায় প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যেখানে ৩ লাখ টাকায় বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত; অতিরিক্ত ঋণের বোঝার কারণে কর্মীদের উপার্জনের বড় একটি সময় পার হয়ে যায়। অভিবাসন সহজ করতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর পাশাপশি সরাসরি অভিযোগ জানাতে উন্মুক্ত ইমেইল সেবা শুরুর কথাও জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক রমজানে সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া অনুষ্ঠানে জানান, সৌদিতে নিজ দেশের পর বাংলাদেশিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং দুই দেশের সুসম্পর্ক শ্রম খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সভায় অন্যান্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরাও বিএমইটি ছাড়পত্র ও ‘তাকামুল’ পরীক্ষার ফি কমানোর দাবি উত্থাপন করেন।

/আশিক


জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৭:৫৬:৫৭
জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তাঁর বাংলাদেশ সফরকালে ঢাকায় হওয়া ফলপ্রসূ বৈঠকটি স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব এবং জাইকার অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী গড়ে তোলা এবং কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত বছরের মতো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সার্বিক সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এসব বহুমুখী উদ্যোগ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

/আশিক


মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা ছিল কি না জানাল সংসদীয় কমিটি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:৩০:০৮
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা ছিল কি না জানাল সংসদীয় কমিটি
ছবি : সংগৃহীত

মক্কায় বাংলাদেশের দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা বা দুর্বলতা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চৌদ্দ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর একটি তালিকা পাঠালেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি এবং জেল বা মেয়াদের ধারণা করলেও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বুঝতে পারেননি।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গও গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায় যে, সৌদি আরবে কর্মরত নারী শ্রমিকদের ১ থেকে ২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন। তবে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী উল্লেখ করেন যে শতকরা হার কম মনে হলেও বাস্তব সংখ্যায় এই পরিমাণ অনেক বেশি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৬৪ জন নারী কর্মীকে উদ্ধার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন করার কথা জানানো হলেও এই ধরনের অমানবিক ঘটনা সম্পূর্ণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী এবং সানজিদা ইসলাম। এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সৌদি আরবের পাঠানো বন্দীদের তালিকার বিষয়ে দেশটির কাছে কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়েছে মন্ত্রণালয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কনস্যুলেটের কার্যক্রম আরও সতর্ক করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


সাংবাদিকদের অবমাননা ও পেটানোর হুমকি, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৯:২৬:০১
সাংবাদিকদের অবমাননা ও পেটানোর হুমকি, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ
ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা ও তাদের পিটিয়ে সাজা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ইসলামী বক্তা সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নিম্ন আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম রোববার (২৫ অক্টোবর) এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি হস্তান্তরের সাত দিনের মধ্যে ওই বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করে তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে; অন্যথায় অবমাননা, মানহানি ও হামলার হুমকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাংবাদিকদের আক্রমণ করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, দেশের সংবাদকর্মীরা পেশাগত সততা হারিয়ে ভুল তথ্য ছড়ায় এবং তারা দেশবিরোধী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে চালিত হয়। একইসঙ্গে তরুণ এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি সংবাদকর্মীদের শারীকভাবে লাঞ্ছিত করার চরম উসকানিমূলক কথা বলেন।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, উক্ত মাহফিলে তার দেওয়া এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিক সমাজ ও তাদের পেশার জন্য চরম অবজ্ঞাকর এবং এটি পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বক্তা নিজে ও তার অনুসারীদের দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের মতো ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় গণমাধ্যমে কাজের জন্য একটি ভীতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকের মতে, এই বক্তব্য পুরো সাংবাদিক সমাজের সম্মানহানি করেছে এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি চরম উসকানি হিসেবে কাজ করেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: