সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৪:৪১:২৩
সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের অনুকরণে গড়ে তোলার পরিবর্তে নিজস্ব বাস্তবতা, সম্ভাবনা ও শক্তির ভিত্তিতে আরও উন্নত ও কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর ভাষায়, দেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘সিঙ্গাপুর’ কিংবা ‘কানাডা’ হওয়া নয়; বরং একটি ‘বেটার বাংলাদেশ’ নির্মাণ করা, যেখানে উন্নয়ন, সুশাসন, নাগরিক সুবিধা ও জীবনমানের সমন্বিত অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে বাংলাদেশকে বিভিন্ন উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই অন্য কারও প্রতিচ্ছবি হওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশকে তার নিজস্ব শক্তি ও সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। রাষ্ট্রের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে নাগরিক, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং তরুণ প্রজন্ম—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। জাতীয় উন্নয়নকে তিনি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

কক্সবাজারের সম্ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর হওয়া সত্ত্বেও কক্সবাজার এখনো তার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেনি। তিনি শহরে প্রবেশের সময় সমুদ্রসৈকতকে তুলে ধরা বড় সাইনবোর্ড দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, শুধু প্রচারণা নয়, বাস্তব উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কক্সবাজারকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক এবং পর্যটকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শহরের রাস্তাঘাট, পরিবেশ, যানবাহন ব্যবস্থা এবং জনসেবা এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শহরের মান নির্ধারিত হয় তার শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক নিরাপত্তা দিয়ে। কক্সবাজারে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে যানবাহন নিয়ম মেনে চলবে, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা থাকবে এবং পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।

দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত সাড়ে চার মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে তাঁর মনে হয়েছে, অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বহু বছর আগেই বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এখন একসঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করতে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ খাতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করা।

কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটন, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে তিনি কক্সবাজারে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নীল অর্থনীতি এবং সামুদ্রিক গবেষণার জন্য এই ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে পরিকল্পনার পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি। তিনি সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিভিন্ন প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। পরে গভীর রাতে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

-রফিক


যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৮:২১:৪০
যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে পরিবেশবান্ধব, আধুনিক ও শতভাগ প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ কমাতে ইলেকট্রিক যানবাহনের (ইভি) ব্যবহার বাড়ানো, পুরনো বাস অপসারণে পরিবেশবান্ধব ‘স্ক্র্যাপ নীতি’ প্রণয়ন এবং ঢাকার অভ্যন্তরে যানজট নিরসনে টার্মিনাল পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। জাতীয় বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ, সময়োপযোগী, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিশ্বমানের পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে ইলেকট্রিক যানবাহনের প্রসারে ইতোমধ্যে কর বা শুল্ক কাঠামোতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে ইভি আমদানিতে প্রায় ৬২ শতাংশ কর প্রযোজ্য ছিল, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে যাতে উদ্যোক্তারা এই শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত হন এবং সাধারণ মানুষের পক্ষেও ইভি ক্রয় করা সহজ হয়। পাশাপাশি দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় ইভি চার্জিং অবকাঠামো বা চার্জিং স্টেশন স্থাপনের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নগরীর ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণে নতুন একটি কৌশলগত পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৫ বছর বা তার বেশি পুরনো এবং চলাচলের অনুপযোগী বাসগুলোকে কেবল স্রেফ 'ডাম্পিং' করে ফেলে রাখা হবে না। বরং পরিবেশসম্মত উপায়ে ‘স্ক্র্যাপিং’ করে সেখান থেকে লোহা, ইস্পাতসহ পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল পৃথক করা হবে, যা দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় নতুন করে কাজে লাগানো যাবে।

রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসনে বাস টার্মিনালগুলোর পুনর্বিন্যাসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে একই টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও সিটি বাস পরিচালিত হওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ঢাকার অভ্যন্তরীণ বাসস্ট্যান্ডগুলোকে শুধু সিটি বাস চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রাখা হবে এবং দূরপাল্লার বা আন্তঃজেলা বাসগুলোকে রাজধানীর প্রবেশমুখে নির্ধারিত আধুনিক টার্মিনালে স্থানান্তরিত করা হবে। এর ফলে শহরের মূল সড়কে ভারী বাসের চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেট্রো রেল, মনোরেল এবং আধুনিক ইলেকট্রিক সিটি বাসকে একই নেটওয়ার্কের আওতায় এনে একটি 'একীভূত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক' গড়ে তুলতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে যাত্রীরা খুব সহজেই একক টিকিট ও সমন্বিত নেটওয়ার্কে এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাতায়াত করতে পারবেন। এর ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর মানুষের নির্ভরতা কমবে এবং ঢাকাকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

/আশিক


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের আশ্বাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৮:১৩:০৪
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের আশ্বাস
ছবি : সংগৃহীত

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ কূটনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ ক‌রেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় হাইকমিশনার প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। উভয় পক্ষই অভিন্ন স্বার্থে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ ও কৌশলগত যোগাযোগ জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনার ঢাকায় তাঁর কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন। পরিচয়পত্র পেশের নির্দিষ্ট সময় পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কোনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, নতুন হাইকমিশনার দায়িত্ব পালনের পর সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটন ভিসা দেওয়া আবারও চালু করা হয়েছে, যা দীর্ঘ দিন ধরে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতায় আটকে ছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যকার জনগণের পর্যটন, চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৮:২৪:৩৩
দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার জরুরি সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এ সহযোগিতা ও সহায়তার আহ্বান জানান। ফোনালাপে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বাংলাদেশের গ্যাস সংকট উত্তরণে দ্রুত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রতিমন্ত্রী জানান, উদ্ভূত জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার চিঠিটি মালয়েশিয়ায় আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। চিঠিতে বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যকার বিরাট ঘাটতি কমাতে মালয়েশিয়ার সরাসরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ফোনালাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি তাঁর দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশকে কীভাবে দ্রুততম সময়ে সাহায্য করা যায় তা নির্ধারণ করবেন। মালয়েশিয়ার এই তাৎক্ষণিক সাড়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার আশ্বাস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকট নিরসনে কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখে মালয়েশিয়া জানাবে। দ্রুত কোনো পথ বের হলে তা দেশের জ্বালানি খাতের জন্য বড় স্বস্তি হবে, আর তা না হলেও কোন বিকল্প উপায়ে তারা সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির স্থায়ী সুযোগ ও কৌশলগত পথ নিয়ে বাংলাদেশ আগে থেকেই কাজ করে আসছে। এবার কেবল সরাসরি এলএনজি সরবরাহ পাওয়ার বিষয়ই নয়, বরং তাদের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে সংকট উত্তরণে মালয়েশিয়া কীভাবে সাহায্য করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


সুন্দর দেশ গড়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৯:৫৭:২২
সুন্দর দেশ গড়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার মূল দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই সামনে থেকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সাথে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও যেন বর্তমান প্রজন্ম নতুন সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে, সেই প্রত্যাশার কথা প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতা ও সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে এক সুন্দর ও টেকসই বাংলাদেশ নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি নতুনদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলার চর্চার পাশাপাশি পড়াশোনায় সমানভাবে মনোযোগী হতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম তাদের মেধা অনুযায়ী ভবিষ্যতে যে পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করতে চায়, সরকার সব সময় তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা প্রদান করবে।

বক্তব্যের শেষাংশে পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদের সুরক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মকে শৈশব থেকেই প্রকৃতির যত্ন নেওয়া শিখতে হবে এবং একই সাথে রাষ্ট্রের যাবতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিতে হবে।

/আশিক


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৯:৩৩:১০
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হলে নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, যেকোনো ধরনের বিনিয়োগের মূল পূর্বশর্তই হলো নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ এবং এ লক্ষ্যেই সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সোমবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দ্রুত শিল্পায়নের মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। বিনিয়োগকারীরা সবসময় তাদের পুঁজি নিরাপদ ও পরিবেশ অনুকূল রয়েছে কি না তা দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য শঙ্কা বা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তারাও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, সিইআইজেডসহ দেশের সব ইকোনমিক জোনের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব শিল্পাঞ্চলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। একই সাথে শিল্প এলাকায় কোনো ধরনের নাশকতা বা অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি কড়া সতর্ক বার্তা দেন।

চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান, চীনা সড়ক ও সেতু করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২২:০৯:১৬
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তা পুনরুদ্ধারে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ জানান, ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার অর্থনীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। তিনি মন্তব্য করেন, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া এখন চলমান। এ কারণেই বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি জানান, এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর দেশের অর্থনীতিতে যাতে নতুন করে কোনো সংকট বা স্থবিরতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার একাধিক কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক ও দেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেখানে কাজের পরিবেশ উন্নত করছে সরকার।

তিনি আরও জানান, দেশে নতুন বিনিয়োগের জন্য তৈরি পোশাক, কৃষি ও ক্রীড়া খাতকে অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

/আশিক


পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি বহাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২২:০০:২০
পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি বহাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীকে একটি সেবামুখী, পেশাদার ও জনবান্ধব সংগঠন হিসেবে পুনর্গঠন করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি কঠোরভাবে বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারীদের উপযুক্ত মূল্যায়ন ও পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে যারা আইন লঙ্ঘন করে নাগরিক সেবা ব্যাহত করবেন বা অনিয়মে জড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি তিরস্কারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠান শেষে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সংক্রান্ত প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসব বা রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে—এমন ধারণার ভিত্তি নেই এবং এটি স্রেফ কাকতালীয়। ইতোমধ্যে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফলভাবে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন, তাঁর পদত্যাগপত্র সংবিধানের বিধান মেনে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া ও গৃহীত হয়েছে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পদাধিকার বলে তিনি যে বিশেষ ইমিউনিটি ও আইনি সুরক্ষা পান, তা বলবৎ থাকবে। এছাড়া আইনানুগভাবে তাঁকে এসএসএফ, পিজিআর ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান না হওয়া নিয়ে মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন, তাড়াহুড়ো করে তৈরি প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় পুরো তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ে যোগ্যদের মাঝে বিশুদ্ধ তালিকা অনুযায়ী পদক প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে দুই ভিন্ন কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য মোট নয়জন পুলিশ সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৯৯৯ ও ঢাকা রেলওয়ে থানার যৌথ পদক্ষেপে মাত্র ৩০ মিনিটে এক প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাতজন এবং জীবন বাজি রেখে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের জন্য ডিএমপি ট্রাফিকের দুজন সার্জেন্ট এই পুরস্কার পান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২১:৫৬:৩৫
দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পেয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। তাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে শুরু করে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের এই মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবেলায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সুনির্দিষ্ট জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণ ও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজেদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক এই গবেষণার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

ইএসডিও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা ও পাইকারি বাজার থেকে ১৯টি ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি দেশি-বিদেশি টুথপেস্টের নমুনা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের 'এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি' (ইএইচই) গবেষণাগারে নমুনাগুলো সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তৈরি। দেখা গেছে, চার দেশে উৎপাদিত পণেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টি, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টি, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টি এবং ভিয়েতনামের ২টি নমুনার দুটিতেই এই ক্ষতিকর কণা মিলেছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে কণার ঘনত্বের নিরিখে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে; কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে ১৪০টি; সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি; পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে; সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি; পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি-স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায় ৬০টি করে কণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে এএম.পিএম. হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক প্লাস, মেরিল বেবি-অরেঞ্জ, ম্যাজিক হার্বাল, মেসবাক ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে ৪০টি করে এবং ডেন্টিন জেল, পেপসোডেন্ট কিডস-অরেঞ্জ, ক্লোজ আপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল ও হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে ২০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি পরিষ্কার করেছে যে, কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে কাঠগড়ায় তোলা এই গবেষণার উদ্দেশ্য নয়। দেশে প্রসাধন ও হাইজিন পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের কোনো গ্রহণযোগ্য সীমা, মানদণ্ড বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় জনস্বার্থেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষাগারের সক্ষমতার ঘাটতি এবং তদারকির অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান ভোক্তা অধিকার ও বিএসটিআই মানদণ্ডের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক ইস্যুটি যুক্ত করা জরুরি। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং পণ্যের প্যাকেজিংয়ে উপাদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দিয়েছে।

/আশিক


জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৯:৪৮:১৫
জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

একটি সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষ্য অর্জনে খেলাধুলাকে শুধু শরীরচর্চা বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে রূপ দিতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ স্ট্যাটাসে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তির সমন্বিত অগ্রগতিই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫–২০২৬' কর্মসূচি দেশজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এই আয়োজনের প্রথম আসরের জাকজমকপূর্ণ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, ক্রীড়াচর্চা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, অধ্যবসায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা এবং দেশপ্রেমের মতো মানবিক গুণাবলি অর্জনে সাহায্য করে। ফলে দেশের দূরদূরান্তের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' একটি কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, পরবর্তী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬–২০২৭' মৌসুমে নতুন করে টেবিল টেনিস ও ভলিবল অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে মোট ইভেন্টের সংখ্যা ১০-এ উন্নীত হবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বয়সসীমা ১০ থেকে ১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অধিক সংখ্যক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর এই উঠতি খুদে অ্যাথলেটরাই আগামী দিনে বিশ্বক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫–২০২৬'-এর প্রথম আসরে সম্পৃক্ত সব খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন সাফল্য প্রার্থনা করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: