গাজা ইস্যুতে ‘গণহত্যা’ বলেও কেন ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ব্রাজিলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১১:৪২:০৮
গাজা ইস্যুতে ‘গণহত্যা’ বলেও কেন ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ব্রাজিলের
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযানকে তিনি ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রাজিলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকায় দেশটির ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

ফ্রান্স সফরকালে দেওয়া বক্তব্যে লুলা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও বাস্তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি বহাল রয়েছে। ফলে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, বক্তব্য ও বাস্তব নীতির মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে।

সম্প্রতি ব্রাজিল সরকারের বিশেষ উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান কিছু চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলছে। বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা খাতের অংশীদারিত্ব নতুন করে পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কূটনৈতিক কিংবা বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আমোরিমের মতে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইসরায়েলে অবস্থানরত ব্রাজিলীয় নাগরিকদের জন্য নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুক্তিকে যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে করছেন না।

সাও পাওলোর পন্টিফিকাল ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ব্রুনো হুবারম্যান মনে করেন, ইসরায়েলে বসবাসকারী ব্রাজিলীয়দের কনস্যুলার সেবা দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। তার মতে, রামাল্লাহ ও পূর্ব জেরুজালেমে ব্রাজিলের কূটনৈতিক উপস্থিতি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। ফলে শুধুমাত্র কনস্যুলার সেবার যুক্তিতে সম্পর্ক বহাল রাখার বিষয়টি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রুনো লিমা রোচা মনে করেন, ব্রাজিল সরকারের সতর্ক অবস্থানের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় ভূমিকা রাখছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সংসদে বর্তমানে ইসরায়েলপন্থী এবং ইভানজেলিক্যাল মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রতিনিধিদের প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ফলে সরকার চাইলে সহজে কঠোর অবস্থানে যেতে পারছে না।

রোচা বলেন, অতীতের আরব-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ব্রাজিলের রাজনৈতিক বাস্তবতা এমন ছিল না। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারকে অনেক হিসাব-নিকাশ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করেন, লুলার বক্তব্য যদি সত্যিই মানবাধিকারভিত্তিক নীতির প্রতিফলন হয়, তাহলে অন্তত সাময়িকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করা উচিত। তাদের মতে, বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব নীতির মিল না থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রাজিলের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এদিকে ব্রাজিলের নাগরিক সমাজও সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও মানবাধিকারকর্মীরা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তারা বিশেষ করে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ এবং ইসরায়েলি পণ্যের বয়কটের আহ্বান জানাচ্ছেন।

গত ১৫ জুন দেশটির বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ব্রাজিল সরকারের কাছে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের ১২তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ব্রাজিল। একই বছরে ব্রাজিল ইসরায়েলে প্রায় ৭২৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯.৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ইসরায়েল থেকে ব্রাজিলের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানির তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে জ্বালানি তেল, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ। এরপর রয়েছে গরুর মাংস এবং সয়াবিন। বিপরীতে ইসরায়েল থেকে ব্রাজিল প্রধানত কীটনাশক, রাসায়নিক সার, প্রযুক্তি ও বিমানসংক্রান্ত পণ্য আমদানি করে।

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ব্রাজিল ইসরায়েলে প্রায় ২১৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও আমদানি করেছে ৫২৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হলে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে। অর্থনৈতিক দিক থেকে ব্রাজিলের জন্য ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ হলেও অপরিহার্য নয়। কারণ দেশটির মোট রপ্তানির মাত্র শূন্য দশমিক চার শতাংশ যায় ইসরায়েলে।

অর্থনীতিবিদ ডায়ানা শাইবের মতে, ব্রাজিল তুলনামূলক সহজেই বিকল্প বাজার খুঁজে নিতে পারবে। কিন্তু খাদ্য ও জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের জন্য ব্রাজিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই সম্পর্কের অবনতি হলে ইসরায়েলও চাপের মুখে পড়তে পারে।

এদিকে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক গভীর। সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর আমলে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতাও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের জেরে ব্রাজিল ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। লুলা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে তেল আবিব তাকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ব্রাজিলও তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়।

-রাফসান


দুই যুদ্ধ একসূত্রে: ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত কি এখন মহাযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২২:০৫:৩২
দুই যুদ্ধ একসূত্রে: ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত কি এখন মহাযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৫ জুলাই সংঘটিত এ হামলার পর তেহরান ও কিয়েভের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরোক্ষ উত্তেজনা এবার সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

ইউক্রেনের সামরিক সূত্রের দাবি, আক্রান্ত জাহাজটি ইরান থেকে রাশিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে তেহরান এ দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ বলে দাবি করেছে। ঘটনায় এক নাবিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইরানি কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসা তেহরান এখন নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করতে পারে না।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে রাশিয়াকে ইরানের তৈরি দূরপাল্লার শাহেদ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা শুরু হয়। রুশ সেনাদের ইরানি ড্রোন ব্যবহারে সহায়তার জবাবে ইউক্রেনও নিজস্ব ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি উন্নত করে। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমর্থনে ইউক্রেন প্রায় ২০০ জনের বেশি সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠায় এবং কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি জোরদার করে।

অন্যদিকে, কিয়েভের অভিযোগ—রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর গোয়েন্দা স্যাটেলাইট তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে, যা তেহরানের সামরিক পরিকল্পনায় সাহায্য করছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কাস্পিয়ান সাগরের এই হামলাকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ইসরায়েলের উস্কানিতে ইউরোপকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াতেই ইউক্রেন এ হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে তিনি রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এতদিন দুটি পৃথক আন্তর্জাতিক সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হলেও, কাস্পিয়ান সাগরে হামলার ফলে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট এখন একটি অভিন্ন ভূরাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে।

/আশিক


বৈঠকের আগেই চটলেন ট্রাম্প: তোপের মুখে নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২১:৫৫:৫৭
বৈঠকের আগেই চটলেন ট্রাম্প: তোপের মুখে নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পূর্বে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কিছু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কৌশল ও অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন।

সংবাদ মাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন অবস্থান তুলে ধরে জানানো হয়, ইরানের গোপন পারমাণবিক সাইট ও সামরিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে মার্কিন প্রশাসনকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তেহরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো স্থায়ী সমাধান না পৌঁছানো পর্যন্ত মার্কিন সামরিক সংপৃক্ততা ধরে রাখতেই তেল আবিবের পক্ষ থেকে এসব বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে এক অপ্রকাশ্য কূটনৈতিক আলোচনা চলার সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর মুহূর্তে মার্কিন-ইসরায়েল শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের সাথে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বা নতুন আলোচনা ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে দেশটির বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে পুনরায় কঠোর আঘাত হানা হতে পারে।

এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি সরকার ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলেও, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংঘাত বা মার্কিন সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ একেবারেই সমর্থন করছে না। তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় দু'দেশের মধ্যে সামান্য নীতিনির্ধারণী মতপার্থক্য থাকলেও ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের জন্য অহেতুক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ এড়াতে এবার হোয়াইট হাউসের বৈঠকে কিছুটা নমনীয় বা কৌশলী মনোভাব দেখাতে পারেন নেতানিয়াহু।

সূত্র: আল-জাজিরা।


চুক্তি না হলে ইরানের 'পিকেক্স মাউন্টেন' পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২০:১২:৩২
চুক্তি না হলে ইরানের 'পিকেক্স মাউন্টেন' পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে দেশটির অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্র ‘পিকেক্স মাউন্টেন’ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বেসামরিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং দেশটির সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র বা যোগাযোগ অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকাটাই তাঁর প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার।

ইরানের নাতানজ পরমাণু কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘পিকেক্স মাউন্টেন’ মূলত দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম সুরক্ষিত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। কৌশলগত এই সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় আকারের সামরিক হামলা চালানো বা এটি অকার্যকর করে দেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা সমান্তরালে বজায় রয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরান যদি কার্যকর সমঝোতায় না আসে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বজায় রাখে, তবে ওয়াশিংটন তাদের ওপর সামরিক চাপ ও হামলা আরো বিস্তৃত করতে কোনো দ্বিধা করবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা।


পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৮:৪১:৩৪
পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক হামলা পরিচালনার সুবিধার্থে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটির ব্যবহারের খবরের পাশাপাশি কাটজ একটি কড়া সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, ইসরায়েল পুনরায় কোনো আঘাতের শিকার হলে দেশটি তার সমস্ত শক্তি দিয়ে সর্বাত্মক পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইসরায়েলের ডানপন্থী সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, যদিও এই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে, তবে বর্তমানে ইরানিরা এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশের ওপর আঘাত হানলেও কেবল ইসরায়েল রাষ্ট্রকে আপাতত স্পর্শ করছে না।

মার্কিন বিমান বাহিনীর কৌশলগত অবস্থান ও ইসরায়েলি ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষ ভালোভাবেই অবগত রয়েছে যে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো মূলত ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটি থেকেই ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করছে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশল ও সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে কাটজ আরও উল্লেখ করেন, এর অর্থ এই নয় যে আগামী দিনে ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব; কিন্তু এর স্পষ্ট বার্তা হলো যে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসরায়েলি বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা সুনির্দিষ্ট করা আছে। তিনি ও তাঁদের প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যদি কোনোভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ চালানো হয়, তবে তাঁরা তাদের পূর্ণ সামরিক সামর্থ্য নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর পাল্টা আঘাত হানবেন।

সূত্র- ডন


জাপানের ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৮:৩২:০৬
জাপানের ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের দক্ষিণ প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো প্রিফেকচারে ৭.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সির তথ্যমতে, এই ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী এই প্রকম্পনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একটি ভবন ধসে পড়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলে অন্তত ১ মিটার বা ৩.২৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের অতি দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ ও উচ্চ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার এবং সরকারি জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে নিশ্চিত করেছে যে, ইতোমধ্যে নির্ধারিত উচ্চতার কিছু সুনামি ঢেউ উপকূলে রেকর্ড করা হয়ে থাকতে পারে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবজীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। শক্তিশালী এই কম্পনের পর তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো অস্বাভাবিকতা বা বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা যায়নি বলে পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।

ভূমিকম্পের ব্যাপকতার কারণে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা এবং মিয়াজাকি প্রিফেকচারে সর্বোচ্চ জরুরি সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান চারটি প্রধান টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে এবং প্যাসিফিক রিং অব ফায়ারের ওপর অবস্থিত হওয়ার কারণে প্রতি বছর শত শত ছোট-বড় ভূকম্পনের মুখোমুখি হয়।

সূত্র: এনডিটিভি।


২০৩৬ সালের মধ্যে অর্থের প্রয়োজনই ফুরিয়ে যাবে: ইলন মাস্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৯:৫১:৫৬
২০৩৬ সালের মধ্যে অর্থের প্রয়োজনই ফুরিয়ে যাবে: ইলন মাস্ক
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের এবং টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দাবি করেছেন যে, আগামী ২০৩৬ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রচলিত অর্থের গুরুত্ব অনেকটাই হারিয়ে যাবে। ব্রিটিশ সংবাদ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও হিউম্যানয়েড রোবট এমন বিপুল পরিমাণ পণ্য ও সেবা উৎপাদন করবে, যা মানবজাতির চাহিদার সীমানাকেও ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে বিশ্বে দেখা দেবে এক অবিশ্বাস্য বস্তুগত প্রাচুর্য।

মার্কিন অর্থবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের বরাতে জানা যায়, মাস্ক মনে করেন মানুষ মূলত খাদ্য, বাসস্থান, বিনোদন কিংবা যাতায়াতের মতো পণ্য ও সেবা পাওয়ার জন্যই অর্থ উপার্জন ও সঞ্চয় করে। কিন্তু এআই এবং রোবোটিক্স যদি এই সমস্ত সেবা ও পণ্য এতটাই সহজলভ্য করে ফেলে যে তা মানুষের ব্যবহারের চেয়েও উদ্বৃত্ত থাকে, তবে মুদ্রা বা অর্থের প্রাসঙ্গিকতাই হারিয়ে যাবে। আর এ রূপান্তরকে তিনি ভবিষ্যতের সবচেয়ে ইতিবাচক সম্ভাবনা বলে দেখছেন।

তবে এই উজ্জ্বল সম্ভাবনার পাশাপাশি এক বড় আশঙ্কার কথাও শুনিয়েছেন এই ধনকুবের। তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০৩৬ সালের মধ্যে সুপার-ইন্টেলিজেন্ট প্রযুক্তির কারণে মানবজাতি হয়তো রোবট ও এআইয়ের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। এআইয়ের সাথে মানুষের বুদ্ধিমত্তার পার্থক্যের তুলনা টেনে তিনি বলেন, মানুষের বুদ্ধিমত্তার সাথে শিম্পাঞ্জির যে তফাত, এআইয়ের শক্তি তার চেয়েও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ফলে শিম্পাঞ্জি যেমন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, মানুষও এআইকে নিজের অধীনে রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।

মাস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই এআই মানবজাতির সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। মানুষ হওয়া ব্যতীত প্রায় প্রতিটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাজই এআই মানুষের চেয়ে নিখুঁতভাবে করতে সক্ষম হবে। তবে প্রচলিত অর্থের গুরুত্ব কমলে তার জায়গায় কী ধরণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আসবে, সেটির কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা তিনি দেননি।

এআইয়ের এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রাকে থামানোর কোনো বাস্তবমুখী উপায় নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, গতি থামানোর কোনো বোতাম থাকলেও তা হয়তো অলস বসে চেপে দেওয়া উচিত হবে না।

এদিকে মাস্কের বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে, বিশ্ব ইতোমধ্যে 'সিঙ্গুলারিটি' যুগে প্রবেশ করেছে—যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত মানব সক্ষমতাকে অতিক্রম করে বহুদূর এগিয়ে যাচ্ছে।

/আশিক


লেবাননে হামলা না থামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: মোজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৮:২৬:৫৯
লেবাননে হামলা না থামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: মোজতবা খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ও সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি চুক্তি হবে না বলে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা বা সমঝোতার প্রধান ও প্রথম পূর্বশর্ত হলো লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও হামলার সম্পূর্ণ এবং শর্তহীন অবসান ঘটানো।

লেবাননের সার্বভৌমত্ব, দেশটির সীমানার অখণ্ডতা রক্ষা এবং হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত সমর্থন দেওয়াকে তেহরানের অন্যতম নীতিগত দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ কিংবা সংকট নিরসনে যেকোনো চুক্তির টেবিলে লেবানন ইস্যুকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই আঞ্চলিক সংকট প্রশমনে প্রাথমিক সমঝোতা হলেও পরবর্তীতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি নিয়ে চরম বিরোধের কারণে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। অন্যদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় সম্প্রতি প্রণীত কাঠামোগত চুক্তিটিকে সম্পূর্ণ একপেশে ও ইসরায়েলঘেঁষা আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

লেবানন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত না করে ইসরায়েল এখনও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে সামরিক অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩২৯ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান স্থগিতকে নিজেদের কৌশলগত জয় দাবি করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৯:৪৩:০৮
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান স্থগিতকে নিজেদের কৌশলগত জয় দাবি করল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

টানা প্রায় দুই সপ্তাহের বিধ্বংসী বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আপাতত স্থবির হওয়াকে নিজেদের বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে তেহরান। দেশটির সামরিক নেতৃত্বের দাবি, তীব্র হামলা চালিয়েও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চরম ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন এবং তারা এখন সিদ্ধান্তহীনতা ও মানসিক ক্লান্তিতে ভুগছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাত দিয়ে এ খবর জানা গেছে।

রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া বলেন, “আমরা এখনো ওয়াশিংটনের কোনো সুস্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট যুদ্ধকৌশল দেখতে পাচ্ছি না। বাস্তবতা হলো, তারা কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক ক্লান্তি ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে।”

আমির আকরামিনিয়া আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক চাপ ও হামলা চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারেনি কিংবা ইরানের মূল প্রতিরক্ষা শক্তিকে দুর্বল বা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর এখন লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবমুখী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখতে ইসরায়েল অনবরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উসকানি দিচ্ছে এবং তাকে ভুল গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে।

আইআরজিসি মুখপাত্রের দাবি, গত দুই সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় তারা অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছেন। যদিও ওয়াশিংটন সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা গোপন করার চেষ্টা করছে, তবে জর্ডানসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে হামলার কথা স্বীকার করেছে। বিশেষ করে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন।

এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি ও মার্কিন অস্ত্রাগারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই পর্যালোচনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সূত্র নিশ্চিত করে যে, টানা দুই সপ্তাহের জোরালো অভিযানের পর আপাতত ইরানে বিমান হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে গুলির ঘটনা, নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২০:০২:২৫
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে গুলির ঘটনা, নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করে অন্তত চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তথ্য তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় আইআরজিসি নৌবাহিনী সেগুলোর গতিপথ রোধ করতে সতর্কতামূলক গুলি চালায়। এই পরিস্থিতিতে কোনো উপায় না দেখে জাহাজগুলো তাদের আগের দিক পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়।

আইআরজিসির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলো দক্ষিণ করিডোরের যে রুটটি ব্যবহারের চেষ্টা করছিল, তা তেহরানের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ‘অনিরাপদ ও অবৈধ’।

পাশাপাশি আইআরজিসি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, নির্ধারিত নির্দেশিকা বা অনুমোদিত রুট না মেনে যদি অন্য কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ব বাজারের জ্বালানি ও খনিজ তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই সামুদ্রিক রুটে বাণিজ্যিক নৌযানের যাতায়াত নিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও কড়াকড়ি বহুগুণ বাড়িয়েছে ইরান। বিশেষ করে ওমান উপকূল সংলগ্ন রুট ব্যবহারকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিজেদের ভৌগোলিক সীমান্তে আনার কৌশল দেখা যাচ্ছে আইআরজিসির ব্যবহারে। নতুন করে সংঘটিত এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: