দুবাই বিমানবন্দরের আধুনিক এআই প্রযুক্তির জালে ধরা পড়লেন বেনজীর

দুর্নীতির একাধিক মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের শেষ রক্ষা হলো না আধুনিক প্রযুক্তির কড়া নজরদারির কারণে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির কারণেই মূলত ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী এই হাই-প্রোফাইল পলাতক আসামি শেষ পর্যন্ত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথে দুবাইয়ে ট্রানজিট নেওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বেনজীর আহমেদ লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর অথবা থাইল্যান্ডগামী একটি দূরপাল্লার ফ্লাইটে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর মূল পরিকল্পনা ছিল দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট বিরতি শেষে চূড়ান্ত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া। তবে দুবাই বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকা এআইভিত্তিক স্ক্যানিং সিস্টেমে তাঁর মুখমণ্ডল স্ক্যান করা মাত্রই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলে যায়। এর সাথে সাথেই বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ইন্টারপোলের বিশেষ সতর্কতা সংকেত বা অ্যালার্ট সিস্টেমটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রযুক্তিগতভাবে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে বেনজীর আহমেদকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, এই প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণের পরপরই আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অবশ্য এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো যৌথ বা আনুষ্ঠানিক লিখিত বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তবে দুবাই পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে পুরো প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বেনজীর আহমেদ যখন লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন, তখন অন্য সাধারণ ট্রানজিট যাত্রীদের মতোই তিনি স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।
কিন্তু বিমানবন্দরের এআই ক্যামেরা তাঁর মুখমণ্ডল স্ক্যান করার পর আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তালিকার সাথে ম্যাচ করায় তাঁর নামে থাকা ইন্টারপোলের রেড নোটিশটি সামনে চলে আসে। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল শাখা দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষ করে তাঁকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার দেখায়।
এদিকে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিয়ে রবিবার জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, বর্তমান নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত সাবেক এই আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার বিষয়ে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে আসছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদ্যমান ফেডারেল আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা হস্তান্তরের আবেদন দাখিল করতে হয়। সরকার ইতিমধ্যেই সেই নির্দিষ্ট সময়সীমার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে বহিঃসমর্পণ আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিচ্ছে।
জাতীয় সংসদে দেওয়া সরকারি তথ্যানুযায়ী, সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং জালিয়াতি বা পাসপোর্ট আইনের একাধিক গুরুতর ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার নথি, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনের অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই এক্সট্রাডিশন বা আসামি হস্তান্তরের প্রস্তাবটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ঘটনাকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব সাফল্য। তাঁর মতে, এই আন্তর্জাতিক ও আইনি সাফল্য এটিই প্রমাণ করে যে অপরাধী সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে যতই প্রভাবশালী কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন, সঠিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আইনি সদিচ্ছা থাকলে তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো পুরোপুরি সম্ভব। এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের একজন শীর্ষস্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ইন্টারপোল ও দুবাই পুলিশের এই সফল যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
/আশিক
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অসম্মতি: শিক্ষামন্ত্রী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠতম কার্যদিবসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী সংসদের সামনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম। তিনি তাঁর প্রশ্নে উল্লেখ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যে সহকারী শিক্ষক (সংগীত) পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে, তার বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি কী?
সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী তাঁর লিখিত পুঙ্খানুপুঙ্খ উত্তরে সংসদকে স্পষ্টভাবে জানান যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষায়িত সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি নতুন করে তৈরি বা সৃজনের বিষয়ে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক অসম্মতি প্রদান করা হয়েছে। ফলে এই পদে নিয়োগের প্রক্রিয়াটি আপাতত আর এগোচ্ছে না।
একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে বর্তমানে বিদ্যমান দুই শিফটের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পর্যায়ক্রমে এক শিফটের বিদ্যালয়ে রূপান্তর করার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যালয়গুলোতে আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
/আশিক
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত শতাধিক
দেশে গত চব্বিশ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে আরও শতাধিক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে, তবে গত একদিনে নিশ্চিত হামের কারণে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
রোববার (১৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশু মারা গেছে। এই চার মৃত্যুর পর চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত কেবল হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। এছাড়া একই সময়ে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯২ জন শিশু। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫২ জনে।
সরকারি প্রতিবেদনে দেশের বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৫২ জন শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে আরও ৭৫ জন শিশু। সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৮৫ হাজার ৯৫১ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৩ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭০ হাজার ৫৭৯ জন শিশু। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসব শিশুদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন।
/আশিক
দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে ঘিরে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। দুবাইভিত্তিক একাধিক সূত্রের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকের সময় তার কাছে বাংলাদেশ, পর্তুগাল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতা জোরদার হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুবাইয়ের একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর পরপরই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে। এরপর থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিপত্র ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে।
বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের আটকের বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা ও কূটনৈতিক পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুবাই ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় শুরু হয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে এখন কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আইন, প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
দুদকের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পদের উৎস, অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে নজরদারির আওতায় আনা হয় এবং পরবর্তীতে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
-রাফসান
সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের অনুকরণে গড়ে তোলার পরিবর্তে নিজস্ব বাস্তবতা, সম্ভাবনা ও শক্তির ভিত্তিতে আরও উন্নত ও কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর ভাষায়, দেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘সিঙ্গাপুর’ কিংবা ‘কানাডা’ হওয়া নয়; বরং একটি ‘বেটার বাংলাদেশ’ নির্মাণ করা, যেখানে উন্নয়ন, সুশাসন, নাগরিক সুবিধা ও জীবনমানের সমন্বিত অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে বাংলাদেশকে বিভিন্ন উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই অন্য কারও প্রতিচ্ছবি হওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশকে তার নিজস্ব শক্তি ও সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। রাষ্ট্রের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে নাগরিক, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং তরুণ প্রজন্ম—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। জাতীয় উন্নয়নকে তিনি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
কক্সবাজারের সম্ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর হওয়া সত্ত্বেও কক্সবাজার এখনো তার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেনি। তিনি শহরে প্রবেশের সময় সমুদ্রসৈকতকে তুলে ধরা বড় সাইনবোর্ড দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, শুধু প্রচারণা নয়, বাস্তব উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কক্সবাজারকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক এবং পর্যটকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শহরের রাস্তাঘাট, পরিবেশ, যানবাহন ব্যবস্থা এবং জনসেবা এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শহরের মান নির্ধারিত হয় তার শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক নিরাপত্তা দিয়ে। কক্সবাজারে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে যানবাহন নিয়ম মেনে চলবে, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা থাকবে এবং পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।
দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত সাড়ে চার মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে তাঁর মনে হয়েছে, অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বহু বছর আগেই বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এখন একসঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করতে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ খাতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করা।
কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটন, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে তিনি কক্সবাজারে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নীল অর্থনীতি এবং সামুদ্রিক গবেষণার জন্য এই ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে পরিকল্পনার পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি। তিনি সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিভিন্ন প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। পরে গভীর রাতে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
-রফিক
পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা, পরিকল্পনা ও নীতিগত অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি ছিল তুলনামূলক ধীর। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সেই চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ বা ছাদভিত্তিক সৌরশক্তি ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে সরকারের ঘোষিত কর ও শুল্ক সুবিধাকে জ্বালানি খাতের অন্যতম যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব প্রধান উপকরণের ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি, ডিসি কেবল এবং মাউন্টিং স্ট্রাকচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম এখন শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা যাবে। আগে এসব পণ্যের ওপর প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর শুল্ক ও করের বোঝা ছিল, যা প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিত।
সরকার শুধু শুল্ক ছাড়েই থেমে থাকেনি। সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত পূর্ণ আয়কর অবকাশের সুবিধাও ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, তারা বিদ্যুৎ বিলে ৫ শতাংশ পর্যন্ত রিবেট বা ছাড় পাবে। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ভবন এবং বড় আবাসিক প্রকল্পগুলোর জন্য সৌরবিদ্যুৎ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, আগে এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ব্যয় হতো প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ কোটি টাকা। নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হলে সেই ব্যয় কমে ২.৭৫ থেকে ৩ কোটি টাকার মধ্যে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ প্রকল্পভেদে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যাটারির মূল্যও প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতিগত পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে শিল্পখাতে। বর্তমানে শিল্পকারখানাগুলোকে পিক আওয়ারে ইউনিটপ্রতি ১৬ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। বিপরীতে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ থেকে দীর্ঘমেয়াদে গড় উৎপাদন খরচ প্রতি ইউনিট প্রায় ৩ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে শিল্প মালিকদের বড় অংশ সৌরশক্তির দিকে ঝুঁকতে পারেন।
দেশের অন্যতম বৃহৎ সৌর প্যানেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওমেরা সোলারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহিম মনে করেন, অতীতে সৌরশক্তি নিয়ে বহু আলোচনা হলেও এবার বাস্তবসম্মত আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক। পাকিস্তান ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের পর সৌর পণ্যের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দ্রুত রুফটপ সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটায়। কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির সৌরশক্তি সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির অংশ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। একইভাবে ভিয়েতনামও আকর্ষণীয় নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে কয়েক বছরের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশেও একই ধরনের সম্ভাবনার কথা বলছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আগামী দুই বছরের মধ্যেই নতুন করে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে শিল্প কারখানার ছাদ থেকেই ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক প্রভাবও হতে পারে ব্যাপক। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ৪ হাজার মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ বাস্তবায়ন করা গেলে বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি সাশ্রয় সম্ভব। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগও তৈরি হবে।
-রফিক
অবসরভাতা প্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর
দীর্ঘদিন ধরে অবসর-উত্তর আর্থিক সুবিধার অপেক্ষায় থাকা হাজারো শিক্ষকের জন্য স্বস্তির বার্তা দিল সরকার। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষক এখনো অবসরকালীন প্রাপ্য অর্থ হাতে না পাওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে নতুন কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকেই বকেয়া অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হবে।
শনিবার (১৩ জুন) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, অবসর সুবিধার অর্থ না পাওয়া শিক্ষকদের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক উপকারভোগী শিক্ষককে ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের বাকি প্রাপ্য অর্থও পরিশোধ করা হবে। দীর্ঘদিনের এই আর্থিক জটিলতা নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষকদের কল্যাণে সরকারের নতুন পরিকল্পনার মধ্যে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা দেওয়া হলেও সেটিকে শতভাগে উন্নীত করার প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। বাজেট অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন ড. মিলন। তিনি জানান, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের ব্যাপক সংকট রয়েছে। প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে প্রক্রিয়াটি আপাতত থমকে আছে। সরকার আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক মামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
শিক্ষা খাতের উন্নয়ন কার্যক্রমে মামলা জট বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়োগ, পদোন্নতি, অবসর সুবিধা এবং প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্ত আদালতের নিষ্পত্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে শিক্ষা ব্যবস্থার গতি আরও বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের অনেক অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
-রফিক
ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পর দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট ঘোষণার পর থেকে দেশের সচেতন ও সাধারণ নাগরিকেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাজেট-পরবর্তী বাজার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকালে দেশের বিভিন্ন খবরের কাগজগুলো পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যে, সব পত্রিকায় একটি খবর বিশেষভাবে এসেছে। প্রতি বছর সাধারণত বাজেট উপস্থাপনের পরদিনই বাজারে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে যেত। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে, গত পরশু দিন নতুন বাজেট পেশ করার পর এবারই প্রথম ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে এবং বাজারে কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি।
কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার অথবা ছয় লেনে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন অতি দ্রুত এই মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে রূপান্তরের মূল কাজ শুরু করবে। পর্যটন নগরীর গুরুত্ব, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানাবিধ ভৌগোলিক কারণে কক্সবাজার অঞ্চলটি দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই এই সড়কটি অনেক আগেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করা উচিত ছিল।
যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থবিরতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি যখন এই সড়ক দিয়ে কক্সবাজার এসেছিলেন, তখন রাস্তাটি যে অবস্থায় ছিল, এবার এসেও ঠিক একই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এবার আর কোনো অবহেলা নয়, অচিরেই এই মহাসড়কের আধুনিকায়নের কাজ শুরু করা হবে।
জনসভায় স্থানীয় লবণ চাষিদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুঃখগাথা নিয়েও বিশদ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষিরা যে তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন, সেই বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তাই এই এলাকারই সন্তান এবং বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিশেষ অনুরোধ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লবণের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে চাষিদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে, দেশীয় লবণশিল্প রক্ষা পাবে এবং প্রান্তিক চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও বাজেটের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ যেন নাগালের মধ্যে থাকে, সেই লক্ষ্যে সদ্য ঘোষিত বাজেটে চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় ট্যাক্স বা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকার চায় এর সরাসরি সুফল যেন দেশের প্রতিটি নাগরিক পান। অথচ একটি বিশেষ মহল এই গণমুখী বাজেটের বিরুদ্ধে অনর্থক অবস্থান নিয়েছে। তারা মূলত দেশের মানুষের কল্যাণ ও অগ্রগতি চায় না বলেই এই বাজেট নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি করছে।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সার্বিক কল্যাণে বর্তমান সরকার পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের সময় নাগরিকদের আঙুলে দেওয়া ভোটের কালি এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি, এর মধ্যেই বিএনপি সরকার দেশের কৃষক ও শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারকে রাষ্ট্রীয় এই কার্ড সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী ও চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিমের যৌথ সঞ্চালনায় এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনৈতিক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
অর্থনীতিতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
অর্থনীতিতে সাম্য ও সমতা প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি অলিগার্ক বা অবৈধ প্রভাবশালীদের চক্র ভেঙে দেওয়া বর্তমান বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর, স্থিতিশীল ও শিল্পভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। এমন একটি দেশ গঠন করা হবে যেখানে প্রত্যেক নাগরিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং মর্যাদার ক্ষেত্রে সমান অধিকার লাভ করবেন।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি বিশেষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনটির যৌথ আয়োজক ছিল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
সম্মেলনে নিজের উপস্থিতির উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, তিনি সেখানে কোনো সাধারণ প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেননি। বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং জাতীয় মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনে বর্তমান সরকারের যে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রয়েছে, তা সবার সামনে তুলে ধরতেই তিনি এই আয়োজনে এসেছেন।
অনুষ্ঠানের নির্ধারিত বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে তিনি আরও বলেন, এই অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি মোকাবিলা করা, দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিস্থাপকতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং নতুন উদ্দীপনা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই ভাবনাটি মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সামগ্রিক মানসিকতাকেই নিখুঁতভাবে ধারণ করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সম্মেলনটির আয়োজন স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে বর্তমান সরকার যেকোনো পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সরকারের কাজের সময়কাল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ১০০ দিনের কিছু বেশি সময় পার হয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যেও সরকারের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং সুনির্দিষ্ট। দেশের নাগরিকদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল ও শিল্পোন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে সরকার বদ্ধপরিকর।
এর আগে একই দিন সকালে যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এক বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে গিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও তিনি দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং অলিগার্কদের সিন্ডিকেট ধ্বংস করার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিশন বাস্তবে রূপ দিতে যুবদলের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। একই সাথে তরুণ প্রজন্মের হাতে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব ও নেতৃত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমেই সরকার দেশকে প্রগতি ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
/আশিক
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দূষণমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি এক আবেগঘন ও যুগান্তকারী আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজের সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যার যেখানে যতটুকু সম্ভব অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ করার অনুরোধ করেছেন তিনি। আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) বেলা তিনটায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের প্রতি এই বিশেষ আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ জলবায়ু ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আকুল আহ্বান জানাব—আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন আগামী দিনে একটি চমৎকার ও সবুজ পরিবেশে বুক ভরে বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে পারে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজ থেকেই প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে খালি জায়গা আছে সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা যদি সবাই মিলে দেশব্যাপী এই মহৎ বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে এতটুকু নিশ্চিতভাবে আশা করা যায় যে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাবে। আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সন্তানদের জন্য একটি পরিষ্কার ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।"
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলাম যে, মহান আল্লাহর রহমতে আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, তবে দেশজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল বছরে অন্তত ৫ কোটি গাছ লাগানো। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই আজ আমরা আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী মোট ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের এই মহাপরিকল্পনা শুরু করলাম।"
সবুজায়নের এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেশের বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরা সংযুক্ত আছেন। আপনাদের সকলের প্রতি আমার কঠোর নির্দেশনা থাকবে যে, নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর, সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখন থেকেই সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।" বক্তব্যের শেষে দেশবাসীকে পুনরায় উদ্বুদ্ধ করে তিনি বলেন, "আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজ এই জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
আমাদের তীব্র ইচ্ছা ও দৃঢ় প্রত্যাশা—আমরা আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত ও পরিষ্কার শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সেরকম একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, ইনশাআল্লাহ।" সরকারের এই বিশাল পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- দুবাই বিমানবন্দরের আধুনিক এআই প্রযুক্তির জালে ধরা পড়লেন বেনজীর
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অসম্মতি: শিক্ষামন্ত্রী
- বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা
- দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত শতাধিক
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
- ১৪ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- বিশ্বকাপ দেখবেন কোথায়? জেনে নিন সব মাধ্যম
- ‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
- দানিলোর স্বীকারোক্তি: ‘প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি’
- নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফের তেল আবিবে বিক্ষোভ, রাস্তায় ইসরায়েলিরা
- গাজা ইস্যুতে ‘গণহত্যা’ বলেও কেন ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ব্রাজিলের
- একদিনে ৬ বিশ্বকাপ ম্যাচ, ব্যস্ত ক্রীড়াসূচি
- রোববার বন্ধ থাকবে ঢাকার যেসব মার্কেট
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- অবসরভাতা প্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ স্বর্ণবাজারে বড় উল্লম্ফন
- ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী
- পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান
- বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৮৮ বছরের অপরাজেয় উদ্বোধনী রেকর্ডের সামনে এবার মরক্কো
- আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা: কৃষিমন্ত্রী
- নিখোঁজ নাটক ফাঁস! উদ্ধারের পরই শিবির নেতার বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা
- সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
- অর্থনীতিতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
- সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
- আমরা কাউকে ভয় পাই না, ব্রাজিলকে হারিয়েই মাঠ ছাড়ব: হাকিমি
- বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী
- ভোরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান: নেইমার কি থাকছেন শেষ পর্যন্ত?
- ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত ডোনাল্ড ট্রাম্প!
- ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির চূড়ান্ত বিজয় দেখবে বিশ্ব
- ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
- বাংলাদেশের ব্রাজিল উন্মাদনা এবার লাতিন আমেরিকায়: মুগ্ধতা ছড়াল বিখ্যাত ‘জি গ্লোবো’
- ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অপরাধে দুই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম
- এক বিড়ালেই থমকে গেল মেট্রোরেলের সব চাকা, বন্ধ মেট্রোরেল চলাচল
- ঘরে বসেই বিশ্বকাপ, টিভি ও অ্যাপে দেখার সুযোগ, জেনে নিন সব মাধ্যম
- ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির
- মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী
- এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে কমলো যত টাকা
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় কী আছে? জানালেন কূটনীতিক
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- রূপপুর নিয়ে বড় ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
- উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: মির্জা ফখরুল
- জেডি ভ্যান্সের সফর জল্পনা, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- আজকের খেলার সূচি, কখন কোথায় দেখবেন?
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান








