দুবাই বিমানবন্দরের আধুনিক এআই প্রযুক্তির জালে ধরা পড়লেন বেনজীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৮:৩৫:৫২
দুবাই বিমানবন্দরের আধুনিক এআই প্রযুক্তির জালে ধরা পড়লেন বেনজীর
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতির একাধিক মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের শেষ রক্ষা হলো না আধুনিক প্রযুক্তির কড়া নজরদারির কারণে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির কারণেই মূলত ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী এই হাই-প্রোফাইল পলাতক আসামি শেষ পর্যন্ত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথে দুবাইয়ে ট্রানজিট নেওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বেনজীর আহমেদ লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর অথবা থাইল্যান্ডগামী একটি দূরপাল্লার ফ্লাইটে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর মূল পরিকল্পনা ছিল দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট বিরতি শেষে চূড়ান্ত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া। তবে দুবাই বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকা এআইভিত্তিক স্ক্যানিং সিস্টেমে তাঁর মুখমণ্ডল স্ক্যান করা মাত্রই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলে যায়। এর সাথে সাথেই বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ইন্টারপোলের বিশেষ সতর্কতা সংকেত বা অ্যালার্ট সিস্টেমটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রযুক্তিগতভাবে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে বেনজীর আহমেদকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, এই প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণের পরপরই আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অবশ্য এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো যৌথ বা আনুষ্ঠানিক লিখিত বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তবে দুবাই পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে পুরো প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বেনজীর আহমেদ যখন লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন, তখন অন্য সাধারণ ট্রানজিট যাত্রীদের মতোই তিনি স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

কিন্তু বিমানবন্দরের এআই ক্যামেরা তাঁর মুখমণ্ডল স্ক্যান করার পর আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তালিকার সাথে ম্যাচ করায় তাঁর নামে থাকা ইন্টারপোলের রেড নোটিশটি সামনে চলে আসে। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল শাখা দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষ করে তাঁকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার দেখায়।

এদিকে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিয়ে রবিবার জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, বর্তমান নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত সাবেক এই আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার বিষয়ে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে আসছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদ্যমান ফেডারেল আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা হস্তান্তরের আবেদন দাখিল করতে হয়। সরকার ইতিমধ্যেই সেই নির্দিষ্ট সময়সীমার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে বহিঃসমর্পণ আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিচ্ছে।

জাতীয় সংসদে দেওয়া সরকারি তথ্যানুযায়ী, সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং জালিয়াতি বা পাসপোর্ট আইনের একাধিক গুরুতর ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার নথি, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনের অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই এক্সট্রাডিশন বা আসামি হস্তান্তরের প্রস্তাবটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ঘটনাকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব সাফল্য। তাঁর মতে, এই আন্তর্জাতিক ও আইনি সাফল্য এটিই প্রমাণ করে যে অপরাধী সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে যতই প্রভাবশালী কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন, সঠিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আইনি সদিচ্ছা থাকলে তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো পুরোপুরি সম্ভব। এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের একজন শীর্ষস্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ইন্টারপোল ও দুবাই পুলিশের এই সফল যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

/আশিক


কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যবস্থা করেছি: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২১:৪২:৩০
কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যবস্থা করেছি: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের একজন নাগরিকও যেন আইনি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য সরকার আইনি সহায়তা প্রদানকারী এনজিওগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত ‘ক্ষুদ্রঋণ খাতে কর্মসংস্থান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য বিমোচন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। প্রবীণ মা-বাবার মৌলিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এই সংশোধনীকে মুসলিম পারিবারিক হেবা আইনের পরিপন্থী বা লঙ্ঘন হিসেবে অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। অথচ সংশোধিত আইনেই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, হেবা, দান, উইল বা অন্য যেকোনো ধর্মীয় ও বৈধ আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তরে এই আইনের কোনো বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। যারা না পড়ে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের আইনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

/আশিক


আমদানি ঘাটতির মুখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২০:৪৮:৪৪
আমদানি ঘাটতির মুখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি
ছবি : সংগৃহীত

কয়লা সংকট কাটিয়ে পুরোদমে উৎপাদনে ফেরার কয়েক দিনের মাথায় ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রটির ৮০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে আগে থেকেই গ্যাস ও জ্বালানি ঘাটতিতে থাকা দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা নতুন করে তীব্র সংকটে পড়েছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়লা সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটিতে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চলছিল। দীর্ঘ এক মাস পর আগস্টের শেষভাগে উৎপাদন স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও নতুন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর পিক আওয়ারের পর থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসত, সেখানে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ৬৯১ থেকে ৭০০ মেগাওয়াটে।

ঝাড়খণ্ডের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট দুটি ইউনিটের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পিডিবি জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে, তবে ইউনিটটি ঠিক কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘাটতি পূরণে বিকল্প উৎস না থাকায় চলমান পরিস্থিতিতে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া তাৎক্ষণিক কোনো উপায় থাকছে না।

/আশিক


দুর্গাপূজায় ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল ভারতের আমদানিকারকরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৮:৫৭:৪৬
দুর্গাপূজায় ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল ভারতের আমদানিকারকরা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছেন ভারতের মৎস্য আমদানিকারকেরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) কলকাতার ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পুনরায় নিয়মিত ইলিশ রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানায়। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল ও আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত ইলিশ আমদানি করে আসছিলেন। তবে ২০১২ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে ইলিশ রপ্তানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজার উৎসব মৌসুমে বাংলাদেশ সরকার শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে মাত্র এক মাসের জন্য সীমিত আকারে ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়ে আসছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমার অনুমোদন তাদের সামগ্রিক ব্যবসায়িক লক্ষ্য ও চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

দুই বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের ঐতিহাসিক মেলবন্ধনের প্রসঙ্গ টেনে সংগঠনটি জানায়, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার মানুষের কাছে পদ্মার ইলিশ অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত একটি ঐতিহ্যবাহী পদ। উৎসবের আবহে ও দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ইলিশ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেওয়া হলে ভারতের জনগণ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যপ্রেমীরা বাংলাদেশের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ থাকবে বলে চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্র: এএনআই


শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ ও গুমের নির্দেশদাতা: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৮:১৪:৫৪
শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ ও গুমের নির্দেশদাতা: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ এবং গুমের প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রদত্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, শেখ হাসিনা নিজেই সমস্ত গুমের মূল নির্দেশদাতা ছিলেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা মিলনায়তনে স্থানীয় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্পিকার উল্লেখ করেন, বিগত শাসনামলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজনকে গণভবনে ডেকে নিয়ে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে মিথ্যা সান্ত্বনা দিতেন এবং স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। অথচ তিনি নিজেই পুরোপুরি অবগত ছিলেন যে অপহৃত ব্যক্তিরা কোথায় বন্দি রয়েছেন। শেখ হাসিনার এই কপট আচরণ ও অভিনয়ের স্বরূপ আজ জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আইনজীবী মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের প্রসঙ্গ টেনে মেজর হাফিজ বলেন, একজন নির্দোষ আইনজীবীকে একটানা আট বছর হাতকড়া পরিয়ে গোপন আয়নাঘরে আটকে রাখার মতো নৃশংস ও অমানবিক কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা এমনভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন যে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ আদালতের বিচারপতি থেকে শুরু করে জাতীয় মসজিদের খতিব পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। মতবিনিময় সভায় লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাজিনুর ইসলাম কবির হাওলাদারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


‘আসুন এবার দেশ ও রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৮:১০:৫৬
‘আসুন এবার দেশ ও রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

তরুণ সমাজের সম্মিলিত শক্তির ওপর আস্থা প্রকাশ করে দেশ পুনর্গঠন ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণেরাই প্রমাণ করেছে যে ইচ্ছা থাকলে তারা দেশকে বদলে দিতে পারে। পরিবর্তনের সেই ধারাকে অব্যাহত রেখে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অন্তত ৮০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন তিনি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত্রতত্র ফেলে রাখা ভাঙারি, কাগজপত্র, প্লাস্টিক ও মাটির পাত্রে জমে থাকা পানিতেই এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে। ব্যক্তিগত অসচেতনতায় ফেলা ছোটখাটো বর্জ্য জমা হয়ে একসময় রোগজীবাণুর আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়, যা নিজের ও পরিবারের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে। তিনি আরও যোগ করেন, পরিচ্ছন্ন থাকা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা কোনো জটিল কাজ নয়; শুধু প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা ও অভ্যাস পরিবর্তন।

ডেঙ্গুমুক্ত দেশ গড়তে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা সময় বের করে নিজের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থল পরিষ্কার করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার মানসিকতাকে নিরুৎসাহিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আগামী দিনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

/আশিক


দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২২:২৮:৫৬
দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোট শ্রমশক্তি ৭ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার জন, যার মধ্যে কর্মসংস্থানে রয়েছেন ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার মানুষ এবং বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২০ হাজার জন। ফলে জাতীয় পর্যায়ে বর্তমান বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রী খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরে জানান, দেশের মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে এখনও সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ মানুষ যুক্ত রয়েছেন কৃষি খাতে, যার সংখ্যা ৩ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার। সেবা খাতে নিয়োজিত রয়েছেন ২ কোটি ৬২ লাখ ২০ হাজার জন, যা মোট কর্মসংস্থানের ৩৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এছাড়া শিল্প খাতে কাজ করছেন মোট কর্মসংস্থানের ১৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ বা ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের পল্লী এলাকায় শ্রমশক্তির উপস্থিতি শহরের তুলনায় বহুগুণ বেশি। ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, গ্রামে মোট শ্রমশক্তি ৫ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার, যার মধ্যে কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন ৫ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার জন। বিপরীতে শহর অঞ্চলে মোট ১ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার শ্রমশক্তির মধ্যে কর্মসংস্থানে রয়েছেন ১ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার মানুষ।

এ ছাড়া জরিপে শ্রমশক্তির বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর পরিসংখ্যান প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, দেশে মোট ৫ কোটি ৪ লাখ মানুষ বর্তমানে অর্থনৈতিক শ্রমশক্তির বাইরে অবস্থান করছেন। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যাই সিংহভাগ—৩ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার জন; আর পুরুষ রয়েছেন ১ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার জন।

/আশিক


লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে বিএনপিই সবার আগে করত: তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২১:২১:৪৮
লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে বিএনপিই সবার আগে করত: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

গাড়ির লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে বিএনপি নিজেই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিরোধীদলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষকে যে নিদারুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, সে ব্যাপারে সরকার পুরোপুরি অবগত। এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলের গঠনমূলক সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হলেও তারা বিপুলসংখ্যক গাড়িবহর নিয়ে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিয়েছে, যা বাস্তব সমাধানের চেয়ে জনগণকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজিত করে ভিন্ন ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা মাত্র। সরকারি কিংবা বিরোধী—সব দলের সংসদ সদস্যদেরই রাজপথে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির বদলে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে সততার সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে এই বিশাল সংকট পাওয়া গেলেও সরকার একে কোনো ‘অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করে দায়িত্ব এড়াতে চায় না বলে স্পষ্ট করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতের মতো দায় চাপানোর রাজনীতি না করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসন কাজ করছে। এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাত তুলে অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি বদল এবং ব্যাংকের লেনদেন সংকুচিত করার মতো লোকদেখানো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিতর্কিত ‘কুইক রেন্টাল’ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে লাভবান করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে ঋণগ্রস্ত ও সম্পূর্ণ ফতুর করে ফেলা হয়েছে, যা বর্তমান গভীর সংকটের মূল কারণ।

/আশিক


বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়েই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২১:০৯:০৫
বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়েই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জাতীয় সংসদে বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে সে ব্যাপারে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। তবে এই সংকট বর্তমান প্রশাসনের সৃষ্টি নয়, বরং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘদিনের দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভুল নীতিমালার প্রত্যক্ষ ফল।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকার পাশের একটি বিশেষ দেশকে একতরফা ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন এবং নতুন কূপ খননের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রেখেছিল। এর ফলেই আজ দেশকে চরম জ্বালানি ঘাটতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতেও যেকোনো জাতীয় বিপর্যয় ও সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে বারবার ধ্বংসের হাত থেকে টেনে তুলেছে বিএনপি। গণতন্ত্রকামী সাধারণ মানুষের জাতীয় সংসদের কাছে যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে সরকার দায়বদ্ধ। তাই যেকোনো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণে বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়েই সরকার সব ধরনের সংকট কাটিয়ে উঠতে চায় বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

/আশিক


স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে র‌্যাবের মতো শক্তিশালী ফোর্স অপরিহার্য: লুৎফুজ্জামান বাবর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২০:২৯:১০
স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে র‌্যাবের মতো শক্তিশালী ফোর্স অপরিহার্য: লুৎফুজ্জামান বাবর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ জনগণের জান-মালের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে র‌্যাবের মতো একটি শক্তিশালী ও বিশেষায়িত এলিট ফোর্সের উপস্থিতি অপরিহার্য বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর ওপর আলোচনাকালে তিনি এই সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিলটির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে বিরোধী দলীয় সদস্যরা কেবল সাম্প্রতিক সমস্যাগুলোর ওপর আলোকপাত করছেন। তবে বাহিনীটির প্রতিষ্ঠার শুরুর সাফল্য, বিশেষ করে দেশজুড়ে জেএমবিসহ ভয়াবহ জঙ্গি নেটওয়ার্ক দমন ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিষ্ক্রিয়করণে তাদের অবিস্মরণীয় অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতের বিএনপি সরকারের মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এই বাহিনীকে কখনো কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়নি, বরং সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গেই পরিচালিত হয়েছিল।

অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিদেশি কোনো মদদে সংঘটিত সম্ভাব্য সন্ত্রাসী নাশকতা মোকাবিলার প্রেক্ষাপটে বিশেষায়িত বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম বলে অভিমত দেন বাবর। তিনি জানান, বাহিনীর কাঠামো সরাসরি বদলানোর প্রাথমিক ইচ্ছা না থাকলেও বর্তমান সার্বিক বাস্তবতায় নতুন আঙ্গিকে ‘এসআরবি’ গঠন একটি সময়োপযোগী রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ। রাষ্ট্রের গভীর কৌশলগত নিরাপত্তার কারণে অনেক সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ্যে উন্মোচন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই বিলটি এখনই পাস করা জরুরি এবং ভবিষ্যতে মাঠের বাস্তবতায় যেকোনো সংশোধনের সুযোগ তো উন্মুক্ত থাকছেই।

/আশিক

পাঠকের মতামত: