বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১৮:৩২:৩৭
বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‌‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়ে নতুন অর্থবছরকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এবারের বাজেটকে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য কল্যাণমুখী ও সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের প্রতিটি বিষয়ই মূলত এক একটি প্রত্যক্ষ নীতি এবং আমরা খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে, দেশের সব নাগরিকের জন্য আমরা কীভাবে সেগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করব, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে অর্থমন্ত্রী নিজের একটি ব্যক্তিগত ও রসাত্মক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমার এক বন্ধু আমাকে কিছুটা বামপন্থি-ঘেঁষা নীতির অনুসারী বলে আখ্যা দিয়েছিল, কারণ আমরা এবার বাজেটে প্রচুর সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি। তবে তাঁর মতে, এটি কোনো তত্ত্বের বিষয় নয়, বাস্তব সত্য হলো দেশের যে মানুষগুলো দীর্ঘকাল ধরে অর্থনৈতিক নীতির বাইরে বা অবহেলিত ছিলেন, তাদের মূল স্রোতে আনা সরকারের প্রধান কর্তব্য।

দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার সবসময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল, তা হলো কীভাবে এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। আর ঠিক এখানেই 'সৃজনশীল অর্থনীতি'র ধারণাটি চলে আসে, যার মাধ্যমে দেশের সব নাগরিককে অর্থনীতির আওতার মধ্যে আনা সম্ভব হবে।

এই সৃজনশীল অর্থনীতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী দেশের গ্রামীণ কারিগর, নাট্যশিল্পী, গায়ক, ডিজাইনার বা চিত্রশিল্পীদের উদাহরণ টেনে বলেন, সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই গ্রামীণ কারিগরদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পণ্য আছে, কিন্তু তাদের কখনোই অর্থনীতির মূল স্রোতে আনা হয়নি এবং তাদের পণ্যগুলো থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনো টেকসই ব্যবস্থাও ছিল না।

অথচ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যদি বড় পরিবর্তনের কথা ভাবা যায়, তবে দেখা যাবে যে বিশ্বের এমন অনেক উন্নত দেশ আছে যারা শুধু এই সৃজনশীল অর্থনীতি থেকেই প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করছে। উদাহরণস্বরূপ আশির দশকে থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না, কিন্তু তারা শুধু এই সৃজনশীল অর্থনীতিতে সফলভাবে প্রবেশ করেই নিজেদের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে ফেলেছিল। বাংলাদেশও সেই একই মডেলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার স্বপ্ন দেখছে।

তবে অর্থমন্ত্রী বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কল্যাণমুখী বলে যতই আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করুন না কেন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই নীতিগত রূপরেখাকে বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে আনা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতির বাজারে এই বিশাল কল্যাণমূলক তহবিলের জোগান দেওয়া এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে প্রকৃত প্রান্তিক মানুষের কাছে সুফল পৌঁছে দেওয়া সরকারের জন্য সহজ হবে না। শুধু নীতি গ্রহণ বা কাগজের সুন্দর প্রকল্পই যথেষ্ট নয়, বরং থাইল্যান্ডের মতো বৈশ্বিক বাজার সংযোগ নিশ্চিত না করতে পারলে গ্রামীণ কারিগরদের মূল স্রোতে আনার এই সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাটি কেবল একটি তাত্ত্বিক বিলাসিতা হিসেবেই থেকে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

/আশিক


টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বিএসটিআইয়ের

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২১:৩৬:৪৪
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বিএসটিআইয়ের
ছবি : সংগৃহীত

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বেসরকারি গবেষণার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট উদ্বেগের মাঝে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে নিরাপদ বা ক্ষতিকর হিসেবে সিদ্ধান্ত দেওয়া যৌক্তিক নয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, তারা বাজার এবং উৎপাদন কারখানা উভয় স্থান থেকেই টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে দেশি ও বিদেশি স্বীকৃত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরীক্ষায় মানদণ্ড লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নামক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার দাবি করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বিএসটিআই জানায়, ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের এই প্লাস্টিক কণার সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশ্বব্যাপী এখনও চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলমান। ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কাসহ বহু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেই এর অনিচ্ছাকৃত উপস্থিতির সীমা বা পরীক্ষার অভিন্ন কোনো মানদণ্ড এখনও নির্ধারিত হয়নি।

বিএসটিআই আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশের জাতীয় মানদণ্ডে উৎপাদনে অনুমোদিত ৮১টি উপাদানের তালিকায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক নেই, ফলে অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকৃতভাবে এটি ব্যবহারের সুযোগ নেই। কোনো নমুনায় প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেলেই তা ক্ষতিকর বা ইচ্ছাকৃত প্রয়োগ বলা সঠি নয়; কণার উৎস ও ধরন জানতে বিশদ পরীক্ষা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ইএসডিও-এর কাছে গবেষণা পদ্ধতি চাওয়া হয়েছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ ও দন্তচিকিৎসকদের সমন্বয়ে টুথপেস্টের বর্তমান জাতীয় মানদণ্ড পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

/আশিক


এলসির চাপ ও তীব্র চাহিদায় ব্যাংকগুলোতে বাড়ল ডলারের দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২০:০২:৩০
এলসির চাপ ও তীব্র চাহিদায় ব্যাংকগুলোতে বাড়ল ডলারের দর
ছবি : সংগৃহীত

প্রবাসীদের পাঠানো আকর্ষনীয় রেমিট্যান্স কিনতে দেশীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতিযোগিতা বেড়েছে, যার জেরে আমদানিকারক ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা ডলারের বিনিময় হারও ঊর্ধ্বমুখী। সোমবার ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায়। একই দিনে আমদানি দায় নিষ্পত্তির এলসি খোলা ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে ডলারের দর ধরা হয়েছে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব ও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিল্পখাতের উদ্যোক্তা এবং সরকারি পর্যায়ে এলসি বা ঋণপত্র খোলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে মার্কিন ডলারের তীব্র চাহিদা তৈরি হয়েছে। বাজারে অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে প্রয়োজনীয় জোগানের সংকট তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো থেকে প্রতিযোগিতা করে বাড়তি দরে প্রবাসীদের ডলার সংগ্রহ করছে।

বাজার তথ্য বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের দামে দৃশ্যমান ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে যেখানে রেমিট্যান্সের ডলার মিলত ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায় এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেনে যার গড় ছিল ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা, সেখানে চলতি সপ্তাহে দর বেড়ে আন্তঃব্যাংকেও প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

রেমিট্যান্সের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে রপ্তানি বিল প্রত্যাবাসন বা রপ্তানি আয়ের ডলারের দরও সমান্তরালে বেড়েছে। সোমবার বাজারজুড়ে সিংহভাগ ব্যাংক প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা হারে, যেখানে এ দিন গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৯২ পয়সা—যা আগের সপ্তাহের গড় দর ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সার চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে বেশি।

টাকার বিপরীতে ডলারের এই মান বৃদ্ধিকে অর্থনীতির অন্য কোণ থেকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, রেমিট্যান্সে ডলারের উঁচুমূল্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাংকিং ও বৈধ চ্যানেলে বেশি বেশি অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি রপ্তানিকারকরা তাদের আয়ে বেশি টাকা ফেরত পাওয়ায় দেশটির সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যেও এটি গতি আনবে।

/আশিক


সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা বাড়ল

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ২০:০৭:৩৩
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা বাড়ল
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে আরো সময় লাগতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সচিব কমিটির দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত পর্যালোচনার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরো অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে।

গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সচিব কমিটির সদস্যরা। এতে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন সুপারিশ, রাষ্ট্রের ওপর এর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব, সরকারের বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে স্কেল-সংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বর্তমান আর্থিক চাপ বিবেচনায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার জোর পরামর্শ দিয়েছে। সম্প্রতি আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরকালে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় পে স্কেলের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আইএমএফের এই প্রস্তাব পুরোপুরি মানতে ইচ্ছুক নন। তাদের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশে সাময়িক বিলম্ব হলেও প্রক্রিয়াটি থামিয়ে না রেখে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে হতে পারে। সচিব কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ পেশের পর মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে অর্থ বিভাগ গেজেট জারি করবে। প্রাথমিকভাবে পে কমিশনের দেওয়া সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ভাবনা থাকলেও সে বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

রবিবারের বৈঠকে জাতীয় বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়ের গতি এবং দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির চিত্র খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ গ্যাস সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। সব দিক বিবেচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় কতটা সঙ্গত হবে, তা পুনরায় খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আইএমএফ চায় আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে তাদের বার্ষিক সভার পর এবং নভেম্বরে নতুন প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের সময় এ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্পন্ন হোক।

/আশিক


সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল নিয়ে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৮:২৯:৪৭
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল নিয়ে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো জুলাই মাস থেকে কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেনি সরকার। বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে সরকারি পর্যালোচনা অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত গেজেট না হওয়ায় একধরনের অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন চাকরিজীবীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত নবম পে স্কেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সচিব কমিটির পর্যালোচনা শেষ করে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া। তবে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে এটি একবারে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও নতুন পে স্কেল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং এটি অবশ্যই কার্যকর করা হবে। তবে দেশের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি ক্রমান্বয়ে বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশ বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক সময় পার করছে। ফলে পে স্কেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে এমন একটি সুষম পন্থা অবলম্বন করা হবে, যাতে একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপকৃত হন এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর এককালীন কোনো অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়। সরকার এ ব্যাপারে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা জরুরি।

অন্যদিকে, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি এখনো মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা এবং আইটি ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। জানা গেছে, কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠকের পর তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করলেই কেবল নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশিত হতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তাঁদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকায়। প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করতে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতিতে বাজেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।

তা ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হঠাৎ বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ তৈরি করে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে তা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করছে।

/আশিক


স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন ভরিপ্রতি সর্বশেষ দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৪ ১১:০৪:২৫
স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন ভরিপ্রতি সর্বশেষ দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম সর্বশেষ সমন্বয়ের পর শুক্রবারও অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন কোনো মূল্য ঘোষণা না আসায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ নির্ধারিত দরেই মূল্যবান দুই ধাতু বিক্রি হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২২ জুলাই স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা এবং রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়।

বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। একই হিসাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায়।

মূল্য সমন্বয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।

সর্বশেষ বৃদ্ধির আগে ২১ জুলাইও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ওই দিন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ পরপর দুই দফা সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বেড়েছে।

আগের মূল্যতালিকায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা। সর্বশেষ সমন্বয়ের ফলে প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই ক্রেতাদের এখন আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ দফা মূল্য বাড়ানো হয়েছে, ৪৭ দফা কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় হয়েছে। তুলনায় ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।

রুপার ক্ষেত্রেও চলতি বছর ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তন দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত ৫৭ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ২৯ বার দাম বাড়ানো এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার মূল্য পরিবর্তন হয়েছিল মাত্র ১৩ বার; এর মধ্যে ১০ বার বৃদ্ধি এবং তিনবার হ্রাস পেয়েছিল।

-রাফসান


রেকর্ড ছোঁয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় ধাক্কা: স্বর্ণের পাশাপাশি দর হারাল রুপা ও প্ল্যাটিনাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১৮:২৩:২৬
রেকর্ড ছোঁয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় ধাক্কা: স্বর্ণের পাশাপাশি দর হারাল রুপা ও প্ল্যাটিনাম
ছবি : সংগৃহীত

বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ডের পর দিনই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বড় ধরণের পতন দেখা গেছে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে। মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ থেকে বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় এ দরপতন ঘটে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকালের উচ্চমূল্যের পর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৯১.২৪ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ আগের দিন বুধবারেই এটি ৪,১৬৫.৮৭ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ছিল গত ৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। পাশাপাশি আগামী আগস্টের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স গোল্ডের দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৯৩.৮০ ডলারে স্থিতি পেয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি পতন ঘটেছে রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও

রুপা (Spot Silver): ১.৪ শতাংশ দর হারিয়ে প্রতি আউন্স ৫৮.৮৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

প্ল্যাটিনাম (Platinum): ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়ায় ১,৬২৯.৬৩ ডলারে।

প্যালাডিয়াম (Palladium): সবচেয়ে বেশি ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স বিক্রি হয়েছে ১,২৭২.০৩ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক টানাপোড়েন, জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফের সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে তারা ধাতব বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন, যা এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি করেছে।

/আশিক


আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১০:৫২:৪১
আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ মূল্য, যা বাজারে সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা শঙ্কার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ডব্লিউটিআইয়ের মূল্য ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-সম্পর্কিত সামরিক তৎপরতা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণেই বিনিয়োগকারীরা তেলের বাজারে ঝুঁকি মূল্যায়ন নতুন করে করছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এসব পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তেলের বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

এর আগের লেনদেনেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। সে সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। একই সঙ্গে ডব্লিউটিআইয়ের মূল্য প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা টানা কয়েক দিনের মূল্যবৃদ্ধির ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

-রাফসান


আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১০:২২:১৪
আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও সব ধরনের স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ ঘোষণায় সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের অন্যতম।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করে। সংগঠনটি জানায়, সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্যেই স্বর্ণ বিক্রি হবে।

বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং দেশীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের ক্রয়মূল্যের পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকায়। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

বাজুস আরও জানিয়েছে, ঘোষিত মূল্য কেবল স্বর্ণের মূল দাম। অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালীর ওপর নির্ভর করে মেকিং চার্জ (মজুরি) আলাদাভাবে যোগ হবে। তবে বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না। একই সঙ্গে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নীতিমালাই বহাল থাকবে।

এর মাত্র একদিন আগে, ২১ জুলাই, বাজুস প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সে সময় ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে সব ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামই আবারও বেড়েছে।

স্বর্ণবাজারের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ দফা দাম বৃদ্ধি, ৪৭ দফা দাম হ্রাস এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালেও মোট ৯৩ বার স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। এ থেকে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় স্বর্ণবাজারেও মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

-রাফসান


মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ফেড সভার প্রভাবে ২ সপ্তাহের উঁচুতে স্বর্ণের বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৯:৩৩:০৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ফেড সভার প্রভাবে ২ সপ্তাহের উঁচুতে স্বর্ণের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম লাফিয়ে বেড়ে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাত নিরসনে নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) আসন্ন সভার দিকে উন্মুখ হয়ে চোখ রাখছেন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অনিয়ম, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সংকটে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম (Safe-haven asset) হিসেবে সোনার বাজারে নতুন করে ব্যাপক জোয়ার এসেছে।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম একলাফে ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১১৫ দশমিক ৮৯ ডলারে। অন্যদিকে আগামী আগস্টে ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের (US Gold Futures) দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২০ দশমিক ৬০ ডলারে থিতু হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাক্টিভট্রেডস’-এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা রয়টার্সকে জানান, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দেওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। সার্বিক অনিশ্চয়তায় মূলধন বাঁচাতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুকছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ব্যাকচ্যানেল কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রভাবে তেলের বাজার স্বাভাবিক হওয়ার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা-ও স্বর্ণের সুবাতাসে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর আন্তর্জাতিক বাজারেও আজ দারুণ চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। আজ আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৯ দশমিক ৩৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৬ দশমিক ৬৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ লাফিয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩০৫ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই উত্তাপ স্বাভাবিকভাবেই সরাসরি এসে পড়েছে বাংলাদেশের ঘরোয়া বাজারেও। দেশে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: