পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ২১:৫৭:১২
পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান
ছবি: সমকাল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তদন্তের স্বার্থে ব্যাগ তল্লাশি করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনো প্রকার যাচাই বা তল্লাশি ছাড়াই চলন্ত গাড়ি থেকে নামিয়ে আচমকা শারীরিক হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত শুক্রবার রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামার পর তিনি যখন পুনরায় গাড়িতে উঠছিলেন, তখন একজন পুলিশ সদস্য ভেতরে ঢুকে সরাসরি তাঁর গলা চেপে ধরেন।

অতর্কিত এই হামলায় তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে পুলিশ তাঁর সাথে থাকা ব্যাগ বা অন্য কিছু পরীক্ষা না করেই সরাসরি থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানে নিজের খেলোয়াড়ী পরিচয় দেওয়ার পরও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার সম্মানজনক আচরণ পাননি।

চট্টগ্রামের খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ওসির নেতিবাচক আচরণ ও পরবর্তী নাটকীয় পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এই অফস্পিনার জানান, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান অত্যন্ত উগ্র মেজাজে তাঁকে চোখ নিচে নামিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই ওসির মুঠোফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনে কথা বলা শেষ করার পরপরই ওসির আচরণে আমূল পরিবর্তন আসে এবং তিনি অত্যন্ত নরম সুরে নাঈমকে বসার অনুরোধ জানান।

রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক সহায়তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নাঈম হাসান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওই সময়ে যদি স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পথচারীরা এগিয়ে না আসতেন, তবে পুলিশের আচরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত। প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন সাধারণ মানুষ তাঁর পক্ষে অন্যায়ের প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নাঈমের অনুরোধে তাঁরা গাড়ির পেছন পেছন থানা পর্যন্ত গিয়েছিলেন বলেই পুলিশ পরবর্তীকালে অন্য কোনো অনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

সরাসরি পুলিশি হেনস্তার শিকার হওয়ার পর থেকে তীব্র মানসিক ট্রমা ও বিপর্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান এই ক্রিকেটার। শুক্রবার রাতের ঘটনার পর থেকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাতে পারেননি এবং বারবার একই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মানসিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এই মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিতে তিনি কিছুটা সময় সম্পূর্ণ একা থাকতে চান বলেও গণমাধ্যমকে অনুরোধ করেন।

ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ নাগরিক যেন এমন রাষ্ট্রীয় বা আইনি হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন নাঈম। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম নিয়মিত মুখ এবং অফস্পিনার নাঈম হাসান এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ১৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে মোট ৪৮টি উইকেট শিকার করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে টেস্টের এক ইনিংসে চারবার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার অনন্য কৃতিত্ব রয়েছে এই তরুণ ক্রিকেটারের।

/আশিক


গোপন ভিডিও কাণ্ডে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২০:২৯:১৮
গোপন ভিডিও কাণ্ডে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত প্রাক্তন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গাজী নজরুল ইসলামের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের দেওয়া একের পর এক বয়ানে বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। ওবায়দুরের অভিযোগ, ওই বিতর্কিত সম্পর্কটি গোপন রাখতে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদানসহ সরকারি নানা দরপত্রের মাধ্যমে কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।

গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংসদে চাকরির সুনির্দিষ্ট প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, বিপুল অর্থ ও সম্পদের লোভে তরুণীর পরিবার প্রথমে এ সম্পর্কের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। ওবায়দুর নিজেকে ওই তরুণীর আপন মামা এবং একই সাথে গাজী নজরুলের গাড়িচালক বলে পরিচয় দেন। তিনি আরও জানান, মেয়েটির বাবা মাসুম বিল্লাহ সম্পর্কে গাজী নজরুলের নিকটাত্মীয় হন। ইতিপূর্বে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হলে গাজী নজরুল ইসলাম উক্ত তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন।

তবে ঘটনার পেছনে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ রয়েছে। গাজী নজরুলের দাবি ছিল, ১৩ জুলাই ঢাকার একটি অফিসে তাঁকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা হয় এবং এই ভিডিও ফাঁসের পেছনে মূলত তাঁরই গাড়িচালক ওবায়দুরের সরাসরি হাত রয়েছে। অন্যদিকে ওবায়দুর গত ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুলসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভাগনির সাথে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করা এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল।

ওবায়দুরের বয়ান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই গাজী নজরুল নিয়মিত পল্লবীতে ওই তরুণীর বাসায় যাতায়াত করতেন। পরবর্তীতে এমপি হোস্টেলে সরকারি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেলেও তিনি প্রায়শই ওই বাসাতেই অবস্থান করতেন। ওবায়দুল যখন এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেন, তখন মেয়েটির বাবা মাসুম বিল্লাহ তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন যে রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্য নজরুলকে হাতে রাখা জরুরি। এরপরই মাসুম বিল্লাহর নামে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স করিয়ে দেওয়া হয় এবং এলজিইডি ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বড় বড় কাজের টেন্ডার পাইয়ে দিতে তদবির শুরু হয়।

গোপন ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে ওবায়দুর জানান, নজরুলের নির্দেশে সাময়িকভাবে ভাড়া নেওয়া একটি বাসায় তিনি নিজ উদ্যোগে একটি গোপন রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি সেটি সেখান থেকে সরিয়ে নেন এবং এর পরপরই একটি চক্র নজরুলের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতে শুরু করে। ওবায়দুর আরও অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি গোপন রাখতে তাঁকেও একটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার এবং রাজনৈতিক পদে আসীন করার প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ভিডিও প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট তরুণী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তরুণীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই পরিবারের সর্বসম্মত উপস্থিতিতেই গাজী নজরুলের সাথে তাঁর ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং উক্ত অনুষ্ঠানে নজরুলের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে মগবাজারের অফিসে একটি ষড়যন্তমূলক পরিস্থিতি তৈরি করে তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিটি পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে, যার সঠিক সত্যতা নির্ধারণে আইনি তদন্ত প্রক্রিয়ার ফলের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।

/আশিক


রাত ১টার মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, ১ নম্বর সংকেত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৮:৪৫:৪৫
রাত ১টার মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, ১ নম্বর সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ১৩টি অঞ্চলের উপর দিয়ে আজ রাত ১টার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ সতর্কবার্তার কথা জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার অন্য এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

/আশিক


কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, উপকৃত ৭১৪ পরিবার

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ২১:৫৫:১১
কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, উপকৃত ৭১৪ পরিবার
ছবি : শিমুল হোসেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুরে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর উদ্যোগে স্মার্ট কার্ডধারী উপকারভোগীদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর এলাকার ৭১৪টি পরিবার স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছে।সোমবার (২৭ জুলাই) দক্ষিণ শ্রীপুর বাজারে মেসার্স আলহাজ ট্রেডার্স মার্কেট সংলগ্ন টিসিবি ডিলার পয়েন্টে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

স্মার্ট টিসিবির অনুমোদিত ডিলার আবুবকর সিদ্দীকের তত্ত্বাবধানে কার্ডধারী উপকারভোগীদের মাঝে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খল পরিবেশে পণ্য বিক্রি করা হয়।প্রতিটি প্যাকেজে ছিল ২ কেজি ডাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি, ১০০ গ্রাম লাক্স সাবান, ১২৫ গ্রাম লন্ড্রি সাবান এবং ৫০০ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার। প্রতিটি প্যাকেজের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫১৮ টাকা।বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শ্মশান কুমার মণ্ডল।

এ সময় তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খলভাবে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে অনিয়ম কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের প্রাপ্য সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন।

পণ্য গ্রহণে আসা উপকারভোগীরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে টিসিবির এ কার্যক্রম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা সরকারের এ উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


স্বৈরাচারের দুঃশাসনে ক্ষতবিক্ষত: ১০ নম্বর গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন বিএনপি

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ২১:৪৬:২৪
স্বৈরাচারের দুঃশাসনে ক্ষতবিক্ষত: ১০ নম্বর গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন বিএনপি
ফাইল ছবি

রাজনীতি কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; রাজনীতি হলো আদর্শের জন্য দীর্ঘ আত্মত্যাগ, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে জনগণের অধিকার আদায়ের অবিরাম লড়াই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বিরোধী মতের ওপর যে দমনপীড়ন চালানো হয়েছে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন বিএনপি। চরম দুঃসময়েও রাজপথ ছাড়েননি এই ইউনিটের সভাপতি, সাংবাদিক মো. মাসুদ রানা এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিয়া। শত মামলা, হামলা, পুলিশি হয়রানি ও হুলিয়া মাথায় নিয়ে তাঁরা টিকিয়ে রেখেছিলেন দলীয় অস্তিত্ব।

​ভয়ার্ত রাত ও পুলিশের তাড়া: যে জীবনের নাম ছিল টিকে থাকার লড়াই

গত ১৫-১৬ বছর ধরে গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সাংবাদিক মো. মাসুদ রানা এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিয়ার জীবন ছিল এক অবর্ণনীয় রোমহর্ষক অধ্যায়। আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের আমলে বিএনপি করার অপরাধে তাঁদের জীবনে নেমে এসেছিল বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। গায়েবি মামলার মারপ্যাঁচ, পুলিশি তল্লাশি আর দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিদিনের হামলা-মামলার খড়্গ—সব মিলিয়ে তাঁদের নিজ ঘরে ঘুমানোর অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

​পুলিশের ভয়ে রাতের পর রাত ঘরের বাইরে, ঝোপঝাড় কিংবা আত্মগোপনে কাটাতে হয়েছে। কিন্তু শত নির্যাতন, পরিবার-পরিজনের কান্না আর জীবননাশের প্রকাশ্য হুমকিও তাঁদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়ালেও যখনই সুযোগ এসেছে, তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মিছিল, পিকেটিং কিংবা দলীয় কর্মসূচি পালনে তাঁরা ছিলেন অগ্রগামী।

​এই দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁদের ছায়া হয়ে পাশে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. দুলাল সরকার, মো. হুমায়ুন, মুন্না মেম্বারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যেমন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী এবং নিবেদিতপ্রাণ সাধারণ কর্মীরা। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাঁরা একসঙ্গে দলীয় কার্যক্রম টিকিয়ে রেখেছিলেন। তাঁদের সকলের একটাই পণ ছিল—‘যেভাবেই হোক, এই ইউনিয়নকে বিএনপির একটি অজেয় দুর্গে পরিণত করব।’ সেই স্বপ্নের বীজ তাঁরা রোপণ করেছিলেন চরম বিপন্নতার মধ্য দিয়েই।

​অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহসের প্রতীক: সভাপতি ও সম্পাদকের অবদান

ইউনিয়নের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখে মুখে এখন সেই দুঃসময়ের সাহসী গল্প। তাঁরা জানান, যখন দলের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন কিংবা রাজনৈতিক চাপে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তখন সভাপতি সাংবাদিক মাসুদ রানা এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিয়া ছিলেন গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির বটবৃক্ষ। শত প্রলোভন ও হুমকির মুখেও তাঁরা দলের সঙ্গে বেইমানি করেননি।​সাংবাদিকতা পেশার আড়ালে মাসুদ রানা যেমন সত্য প্রকাশে ছিলেন আপসহীন, তেমনি রাজনৈতিক ময়দানেও ছিলেন অকুতোভয়। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিয়া ছিলেন প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সম্মুখসারির যোদ্ধা। পুলিশের রিমান্ড, হামলা এবং কারাবাসের ভয় তাঁদের টলাতে পারেনি। নিজ ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত রাখতে তাঁরা ছিলেন সদা তৎপর।

​৫ আগস্টের পটপরিবর্তন ও নেতাকর্মীদের মনে বড় প্রশ্ন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে। দেশজুড়ে বইছে মুক্তির হাওয়া। কারাবন্দি ও নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীরা ফিরে পেয়েছেন মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার অধিকার। ইউনিয়নের ঘরে ঘরে এখন আনন্দের জোয়ার। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে এক গভীর প্রশ্ন—যাঁরা দলের দুঃসময়ে রক্ত ও শ্রম দিয়েছেন, মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর বাড়িছাড়া ছিলেন, দলের দুর্দিনেও যাঁরা তৃণমূলের হাল ধরে রেখেছিলেন, ৫ আগস্টের পর সেই ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন কি দল করবে?

​ইউনিয়নের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের স্পষ্ট দাবি, হাইব্রিড বা সুযোগসন্ধানীরা যেন কোনোভাবেই নতুন পরিস্থিতিতে দলে অনুপ্রবেশ করে ছড়ি ঘোরাতে না পারে। দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার কারিগর মাসুদ রানা ও মোহাম্মদ জিয়ার মতো ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের কাঁধেই সংগঠনের পূর্ণ নেতৃত্ব এবং সঠিক মূল্যায়ন অর্পিত হওয়া উচিত।

​আগামীর প্রত্যয়: দুর্গে পরিণত করার স্বপ্ন

সব প্রতিকূলতা আর না পাওয়ার বেদনাকে পাশ কাটিয়ে সভাপতি মো. মাসুদ রানা এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিয়া এখনো স্বপ্ন দেখেন একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী বিএনপির। তাঁদের লড়াই কেবল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার ছিল না, লড়াই ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার। সাংবাদিক মাসুদ রানা এবং মোহাম্মদ জিয়ার কণ্ঠে আজ একটাই প্রতিধ্বনি—‘স্বৈরাচারের আমলের জুলুম-অত্যাচার আমরা সহ্য করেছি কেবল দলের আদর্শকে ভালোবেসে। আমাদের রক্তে গড়া এই ইউনিয়নকে আমরা বিএনপির এমন এক দুর্গে রূপান্তর করব, যেখানে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার কখনো ম্লান হবে না।’

​গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির এই নেতারাসহ দুর্দিনের লড়াকু সৈনিকদের আত্মত্যাগের গল্প শুধু একটি ইউনিটের ইতিহাস নয়, এটি গোটা বাংলাদেশের নির্যাতিত তৃণমূল রাজনীতির এক অকৃত্রিম প্রতিচ্ছবি। সঠিক মূল্যায়ন আর ভালোবাসার মাধ্যমে এই ত্যাগী নেতাদের সম্মান জানানোই এখন দলের নৈতিক দায়িত্ব।

ট্যাগ: কুমিল্লা

শর্ত সাপেক্ষে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর অনুমতি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৮:০৭:২৫
শর্ত সাপেক্ষে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর অনুমতি
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হাসপাতালটিকে পুনরায় তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখা থেকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এতে স্বাক্ষর করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনার মাধ্যমে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং তাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে সেই তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় এবং নির্ধারিত শর্তাবলি মেনে চলায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাসপাতালটি সচল রাখার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে তিনটি প্রধান শর্ত বেধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর সব আইনি বিধান কঠোরভাবে মেনে চলা এবং লাইসেন্সের শর্ত পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ জুলাই আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যা তদন্তের পর প্রত্যাহার করা হলো।

/আশিক


ফরিদপুরে হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানে সোলার লাইট চুরি, অন্ধকারে আচ্ছন্ন এলাকা

সাজ্জাদ হোসেন সাজু
সাজ্জাদ হোসেন সাজু
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২১:৪৬:৪৬
ফরিদপুরে হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানে সোলার লাইট চুরি, অন্ধকারে আচ্ছন্ন এলাকা
ছবি : সাজ্জাদ হোসেন সাজু

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের আঁধারে মাদকসেবীসহ অপরাধীদের অবাধ বিচরণ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে কবরস্থানে স্থাপিত সোলার লাইটের প্যানেল, ব্যাটারি ও সোলার তার চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কবরস্থানের নিরাপত্তা ও রাতে আগত মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেখানে সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে সোলার লাইটের প্যানেল, ব্যাটারি ও সংযোগ তার চুরি করে নিয়ে যায়। এতে কবরস্থানটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রাতের বেলায় কবরস্থানের আশপাশে মাদকসেবীদের আনাগোনা রয়েছে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় তারা নির্বিঘ্নে সেখানে অবস্থান করে এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কবর জিয়ারত করতে আসা মানুষজন ভীতি ও শঙ্কার মধ্যে থাকেন।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কবরস্থান একটি পবিত্র স্থান। কিন্তু সেখানে চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সোলার লাইট পুনঃস্থাপন, কবরস্থানের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বৃদ্ধি করা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সালাম মুন্সি বলেন, “হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র স্থান। কিন্তু পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর এখানে মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও তার চুরি হয়ে যাওয়ায় পুরো কবরস্থান অন্ধকারে ডুবে আছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এখানে নতুন করে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করুক, যাতে মানুষ নিরাপদে কবর জিয়ারত করতে পারে এবং কোনো অপরাধী এই স্থানকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে না পারে।”

এলাকাবাসী আরও জানান, কবরস্থানের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কবরস্থানে পুনরায় আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানের নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা যাবে।


উত্তাল বঙ্গোপসাগর: আরও শক্তি সঞ্চয় করছে মৌসুমি নিম্নচাপ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৮:৩৬:৫১
উত্তাল বঙ্গোপসাগর: আরও শক্তি সঞ্চয় করছে মৌসুমি নিম্নচাপ
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে অবশেষে মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে এটি মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি ৪৪ কিলোমিটার এলাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ দমকা হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে আবহাওয়া দপ্তরের জারি করা এক বিশেষ বুলেটিনে এই পূর্বাভাসের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আবহাওয়া কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি অধিক ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় (২০.৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) একটি শক্তিশাল মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টার উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

আফরোজা সুলতানা আরও উল্লেখ করেন, নিম্নচাপটি ক্রমাগত উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরসহ উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা কিংবা প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে বাতাসের ধারাবাহিক সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া হিসেবে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের আশপাশের সামুদ্রিক অঞ্চল বেশ উত্তাল রয়েছে।

উদ্ভূত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে আগের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রেখে তা দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে বিলম্ব না করে দ্রুত উপকূলে ফিরে আসতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বৃষ্টির দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২০:৩৩:০৯
বৃষ্টির দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
ছবি : সংগৃহীত

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে একটি লঘুচাপ তৈরি হওয়ায় সারা দেশে টানা বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে আগামী অন্তত পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের ধারা বজায় থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের নানা প্রান্তে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে শুরু করে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (২৫ জুলাই) আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের স্বাক্ষর করা এক আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্যের কথা জানানো হয়।

সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বহু স্থানে এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি নামতে পারে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা প্রায় একই থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

পরবর্তী চার দিনের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এ সময়ে বৃষ্টির পরিধি আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে, তবে বুধবার নাগাদ তাপমাত্রার তেমন কোনো পরিবর্তন না-ও হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস আরও উল্লেখ করেছে, এই পাঁচ দিন অতিক্রম হওয়ার পরও দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন অবস্থায় বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও ভারী বর্ষণপ্রবণ এলাকার বসবাসকারী মানুষদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ, চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৮:৪১:২৯
বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ, চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় অঞ্চলে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্যের কথা নিশ্চিত করা হয়।

একই বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে বা উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: