গত দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ব্যর্থতা ভুলে আজ নতুন মিশন শুরু করছে জার্মানরা

বিশ্বফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অভিষেক করতে যাচ্ছে মাত্র ১ লাখ ৮৫ হাজার জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নিজেদের নাম লেখাতে যাচ্ছে তারা, যা বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য নজির ও রেকর্ড সৃষ্টি করবে।
অবশ্য বিগত দুটি বিশ্বকাপে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হওয়া জার্মানির জন্য কুরাসাওকে একেবারেই হালকা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বের খেলায় কুরাসাও টানা ১০টি ম্যাচে সম্পূর্ণ অপরাজিত থাকার এক দুর্দান্ত কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এছাড়া দলটির বর্তমান স্কোয়াডে নেদারল্যান্ডসের ঘরোয়া ফুটবলে বেড়ে ওঠা এবং প্রশিক্ষণ পাওয়া বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন, যাঁরা মাঠে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বা দখলে রাখতে বেশ পারদর্শী।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খেলাধুলাভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ তাদের নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সম্পূর্ণ কম্পিউটারনির্ভর গাণিতিক ভবিষ্যদ্বাণী ব্যবস্থা ‘অ্যালগো’র সহায়তা নিয়েছে। অ্যাথলেটিকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সেই মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, কুরাসাওয়ের সাম্প্রতিক সাফল্য ও শক্তির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেই বলা যায়—তাদের মোকাবিলা করা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির জন্য মাঠের লড়াইয়ে খুব বড় কোনো চ্যালেঞ্জ বা জটিলতার সৃষ্টি করবে না।
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে। খেলাটির ভবিষ্যৎ ধারণা করতে গিয়ে দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, আজকের এই ম্যাচে দর্শকেরা মাঠের লড়াইয়ে ‘অনেক গোল’ দেখতে পেতে পারেন। তবে কুরাসাও যদি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় কোনো অলৌকিক অঘটন ঘটাতে না পারে, তাহলে পুরো ম্যাচটি সম্পূর্ণ একপেশে হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিসংখ্যানের বরাতে অ্যাথলেটিক আরও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, জার্মানি সামগ্রিকভাবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী একটি দল। তারা এ পর্যন্ত রেকর্ড চারবার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলেছে এবং আরও চারবার রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তবে ফুটবল ইতিহাসের এই অন্যতম পরাশক্তি দলটির সাম্প্রতিক অতীত একেবারেই সুখকর নয়; কারণ বিগত টানা দুটি বিশ্বকাপের আসরেই তারা গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পার হতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল।
চলমান জার্মান স্কোয়াডের অন্যতম সেরা দুই চালিকাশক্তি ও প্লেমেকার ফ্লোরিয়ান ভির্টজ এবং জামাল মুসিয়ালা। অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে এই দুই তারকার সাম্প্রতিক মৌসুমটি খুব একটা ভালো কাটেনি। তবে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে তাদের সঙ্গে কাই হাভার্টজের মতো তারকা ফুটবলার যুক্ত থাকায় এই শক্তিশালী ফরওয়ার্ড লাইনআপের ওপর ভর করেই জার্মানি আজকের ম্যাচ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
চূড়ান্ত মূল্যায়নে দ্য অ্যাথলেটিকের নিজস্ব ফুটবল বিশ্লেষক, আমন্ত্রিত অতিথি বিশেষজ্ঞ এবং কম্পিউটারনির্ভর আধুনিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা ‘অ্যালগো’—সব পক্ষের সম্মিলিত ভবিষ্যদ্বাণী ও হিসাব-নিকাশ এটিই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আজকের এই উদ্বোধনী ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে জার্মানিই।
/আশিক
পুরনো ছন্দে ফিরেছেন মেসি, আলজেরিয়া ম্যাচের আগে উৎকণ্ঠা কাটল ভক্তদের
আসন্ন বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের শিবিরে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে অবশেষে পুরোদমে দলীয় অনুশীলন শুরু করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মাঠে তাঁর সাবলীল মুভমেন্ট ও অনুশীলন দেখে স্পষ্ট মনে হচ্ছে, তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট হয়ে উঠেছেন। মাত্র কয়েক দিন আগেও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভোগার কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মেসি ভক্তদের মধ্যে যে গভীর দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল, প্রিয় তারকাকে মাঠে ফিরে পেয়ে তা অনেকটাই কেটে গেছে।
আমেরিকান ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে একটি ঘরোয়া ম্যাচ খেলতে গিয়ে মূলত হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। এই চোটের কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার পর শুরুর দিকে আর্জেন্টিনার মূল দলের সঙ্গে মাঠের অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। চোট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন চিকিৎসকদের পরামর্শে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ব্যক্তিগত জিম ও শারীরিক অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
চোট থেকে ফিরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে বদলি বা সাবস্টিটিউট খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে একটি চমৎকার গোলও করেন তিনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মেসি নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন এবং মাঠে খেলতে গিয়ে তাঁর কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা হচ্ছে না। দলের বর্তমান অনুশীলনেও মেসির সেই কথার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে এবং প্রিয় আঙিনায় তাকে একদম পুরনো ছন্দে ড্রিবলিং ও শট নিতে দেখা গেছে।
রবিবার কানসাস সিটি এফসির ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার মূল স্কোয়াডের সঙ্গেই একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোদমে কঠোর অনুশীলন করেছেন মহাতারকা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অনুশীলনে মেসিকে দেখে বিন্দুমাত্র বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি কোনো প্রকার শারীরিক অস্বস্তি বা চোটের ধকল সামলাচ্ছেন। অনুশীলন সেশনজুড়ে তাকে সতীর্থদের সঙ্গে বেশ হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত মেজাজে দেখা গেছে।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্রুপে প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে আলজেরিয়া, জর্ডান ও অস্ট্রেলিয়া। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। এরপর আগামী ২২ জুন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া এবং ২৮ জুন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জর্ডানের বিরুদ্ধে গ্রুপের বাকি দুটি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন মেসি-ডি মারিয়ারা। আরও এক বার ফুটবলের বৈশ্বিক ট্রফি নিজেদের করে নেওয়ার চাক্ষুষ লক্ষ্যে মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা, আর সেই বিশ্বজয়ের অভিযানে স্বাভাবিকভাবেই আরও এক বার পুরো দল ও দেশের মানুষ লিওনেল মেসির জাদুকরী পায়ের ওপরেই সর্বোচ্চ ভরসা রাখছে।
/আশিক
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হাতছাড়া বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার এক ঐতিহাসিক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত তা হাতছাড়া করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শেষ ওভারের শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর ম্যাচটি জিতে নিয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।
তবে এই ম্যাচে হেরে গেলেও প্রথম দুই ওয়ানডেতে টানা জয় পাওয়ায় আগেই সিরিজ জয়ের অনন্য ইতিহাস নিশ্চিত করে রেখেছিল টাইগাররা। ওয়ানডে ক্রিকেটে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজের মাধ্যমে দীর্ঘ ২১ বছর পর দ্বিতীয় কোনো ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ার এক নতুন নজির গড়েছে বাংলাদেশ।
রোববার (১৪ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের প্রথম ওভারেই বড় ধাক্কা খায় টাইগাররা; আগের ম্যাচে ৪২ রান করা ওপেনার সৌম্য সরকার আজ মাত্র ২ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৫১ রানের একটি জুটি গড়ে বিদায় নেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, আউট হওয়ার আগে তিনি ১৯ রান করেন। তবে অধিনায়ক শান্তও আজ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, ৫০ বল মোকাবিলা করে মাত্র ২৪ রান করে তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
দলীয় ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ কিছুটা বিপদে, তখন দলের হাল ধরেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান ১০৯ বলে ৯৫ রানের একটি চমৎকার ও দায়িত্বশীল জুটি গড়েন। তবে দলীয় ১৫৩ রানে লিটন কুমার দাস দুর্ভাগ্যবশত রিটায়ার্ডহার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। মাঠ ছাড়ার আগে তিনি ৭৮ বল খেলে চারটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ৫৮ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন।
লিটন বিদায় নেওয়ার পর তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত মিলে দলের রানের চাকা সচল রাখেন এবং ৮১ বলে ৯০ রানের আরও একটি দারুণ জুটি উপহার দেন। দলীয় ২৪৬ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাওহীদ হৃদয় আউট হন, তবে তার আগে ৮৮ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ৫১ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৪ রান।
২৭৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বেশ আক্রমণাত্মক ও উড়ন্ত সূচনা করে ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত ৪০ রান সংগ্রহ করার পর মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে সফরকারীরা। বাংলাদেশ দলের পেসার শরীফুল ইসলামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ২১ রান করে মাঠ ছাড়েন ওজি ওপেনার জশ ইংলিস।
এরপর ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং করতে নামা ম্যাট রেনশ নিজের ফেস করা দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে বিদায় নেন। দলের রান যখন ৭০, তখন জাতীয় দলের তারকা অলরাউন্ডার সৌম্য সরকারের নেওয়া অবিশ্বাস্য সুন্দর এক ক্যাচে সাজঘরে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি; তিনি ১৬ বলে মাত্র ৮ রান করতে সক্ষম হন।
চতুর্থ উইকেটে ওপেনার কুপার কনোলির সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মার্নাস লাবুশেন। এই দুই ব্যাটসম্যান ৭৭ বলে ৬৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন। দলীয় ১৩৪ রানে লাবুশেন ৪৫ বলে ২৩ রান করে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলে এই জুটি ভাঙে। এরপর পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে নতুন জুটি গড়ে দলকে জয়ের একদম কাছাকাছি নিয়ে যান ওপেনার কুপার কনোলি, যিনি শুরু থেকেই এক প্রান্ত আগলে রেখে অজিদের ইনিংস টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার মাত্র ৩ বল বাকি থাকতে ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া এবং ১ উইকেটের এই রুদ্ধশ্বাস জয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে নিজেদের রক্ষা করে তারা।
/আশিক
বিশ্বকাপ দেখবেন কোথায়? জেনে নিন সব মাধ্যম
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে উন্মাদনা। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা স্বাগতিক দেশগুলোর সমর্থকদের মধ্যে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই প্রিয় দলের পতাকা টাঙানো, জার্সি সংগ্রহ এবং খেলা দেখার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক দর্শকের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেশের দর্শকরা সরাসরি দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে এবং একাধিক প্ল্যাটফর্মে ম্যাচ দেখার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, দর্শকরা শুধু টেলিভিশনে নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও সরাসরি ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। ফলে ঘরে, কর্মস্থলে কিংবা ভ্রমণের মধ্যেও স্মার্টফোন ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে খেলা দেখা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সম্প্রচার করছে। রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শকরাও খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের জনপ্রিয় ক্রীড়া চ্যানেল টি-স্পোর্টসও বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
এ ছাড়া আরও কয়েকটি বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম নির্ধারিত ম্যাচ সম্প্রচার করায় দর্শকদের জন্য বিকল্প সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে কেবল টিভি সংযোগ থাকা দর্শকদের ম্যাচ উপভোগে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বাংলালিংকের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করছেন। সহজ ব্যবহার, তুলনামূলক কম খরচ এবং লাইভ স্ট্রিমিং সুবিধার কারণে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
একইভাবে গ্রামীণফোনের ডিজিটাল সেবা বায়োস্কোপও বিশ্বকাপ সম্প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে বায়োস্কোপ একটি পরিচিত নাম এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষে এর ব্যবহারও বেড়েছে।
মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল বিনোদন প্ল্যাটফর্ম মাই রবি অ্যাপও বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সুযোগ দিয়েছে। ফলে দেশের তিন বৃহৎ মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকরা নিজ নিজ ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে খেলা উপভোগ করতে পারছেন।
অন্যদিকে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনও বিশ্বকাপ সম্প্রচারের তালিকায় রয়েছে। উচ্চ রেজোলিউশনের ভিডিও, স্মার্ট টিভি সমর্থন এবং স্থিতিশীল স্ট্রিমিং সুবিধার কারণে অনেক দর্শক এই প্ল্যাটফর্মকেও বেছে নিচ্ছেন।
বিশ্বকাপ মানেই তারকাদের মহারণ। লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহামসহ বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের কোটি কোটি সমর্থক। বিশেষ করে মেসি ও রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ উপস্থিতি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এবার আরও বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপ, ফুটবল কমিউনিটি এবং ক্রীড়াভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন চলছে দলীয় শক্তি, সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন এবং তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা।
প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে অনেক দর্শক বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপ বা অননুমোদিত ওয়েবসাইট থেকেও খেলা দেখার চেষ্টা করেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এসব প্ল্যাটফর্মে ম্যালওয়্যার, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং কপিরাইট জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। তাই অনুমোদিত সম্প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায়।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আসরটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই টুর্নামেন্টে। যৌথভাবে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ।
-রাফসান
দানিলোর স্বীকারোক্তি: ‘প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি’
বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা প্রত্যাশামতো হলো না ব্রাজিলের। হারেনি, তবে জিততেও পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ম্যাচ শেষে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির চেয়ে অস্বস্তিই বেশি স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে প্রথমার্ধে দলের অগোছালো পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দানিলো।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কোর সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবলের সামনে বেশ চাপে পড়ে ব্রাজিল। বল দখল, পজিশনিং, রক্ষণভাগের সমন্বয় এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, কোনো জায়গাতেই শুরুতে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি সেলেসাওদের। তারই সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ২১ মিনিটে এগিয়ে যায় মরক্কো। গোল হজমের পর কিছুটা জেগে ওঠে ব্রাজিল। ১১ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সমতা ফেরালেও প্রথমার্ধের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ব্রাজিলের মানের সঙ্গে যায়নি।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে দানিলো অকপটে স্বীকার করেন, প্রথমার্ধে ব্রাজিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে ছিল। তার ভাষায়, “প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি। মাঠে আমাদের অবস্থান, টেকনিক, ট্যাকটিক্স—কোনো দিক থেকেই আমরা ভালো ছিলাম না।” ৮০তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা এই মিডফিল্ডার মনে করেন, প্রথম ৪৫ মিনিটে ব্রাজিলের ভুলগুলো এতটাই স্পষ্ট ছিল যে আরও গোল হজম করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না।
দানিলোর মতে, ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিল মানসিক চাপ সামলাতে পারেনি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, বড় প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্রুত ছন্দ খুঁজে না পাওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের মধ্যে অস্থিরতা দেখা যায়। তিনি বলেন, “আমরা খুবই স্নায়ুচাপে ছিলাম, উদ্বিগ্নও ছিলাম। ফলে নিজেদের ভুলের কারণেই বারবার বিপদে পড়েছি। ভাগ্যিস, প্রথমার্ধে আরও বেশি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়িনি।”
তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা বদলে যায় ব্রাজিলের চেহারা। বিরতির পর কৌশলগত পরিবর্তন, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং মাঝমাঠে তুলনামূলক স্থিতি ফেরার কারণে ম্যাচে ধীরে ধীরে ফিরে আসে তারা। মরক্কোর রক্ষণভাগকে চাপে রাখার মতো কিছু সুযোগও তৈরি করে ব্রাজিল। যদিও শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোল আদায় করতে পারেনি দরিভাল জুনিয়রের দল।
দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন দানিলো। তার মতে, ম্যাচের প্রথমার্ধ হতাশাজনক হলেও বিরতির পর দলের প্রতিক্রিয়া পরের ম্যাচগুলোর আগে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। তিনি বলেন, “পরের অংশে আমরা বল দখলে রাখতে পেরেছি, সুযোগও তৈরি করেছি। এসবই পরের ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”
অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও স্বীকার করেছেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘স্বপ্নের মতো শুরু’ পায়নি। তবে তিনি মরক্কোর শক্তিমত্তাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কাসেমিরো বলেন, “আমরা জানতাম ম্যাচটি কঠিন হবে। তাদের খেলোয়াড়েরা বেশ মানসম্পন্ন। আমরা সব সময় জয় দিয়ে শুরু করতে চাই, কিন্তু এই ম্যাচটা ছিল দুর্দান্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। ম্যাচটা স্বপ্নের মতো শুরু ছিল না।”
মরক্কোর বিপক্ষে এই ড্র ব্রাজিলের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। দলটির আক্রমণভাগে ব্যক্তিগত প্রতিভা থাকলেও মাঝমাঠ ও রক্ষণে সমন্বয়ের ঘাটতি চোখে পড়েছে। প্রথমার্ধে মরক্কো যে চাপ তৈরি করেছিল, তা সামলাতে গিয়ে ব্রাজিলকে বেশ নড়বড়ে দেখিয়েছে। বিশেষ করে দ্রুত পাসিং, প্রেসিং এবং ট্রানজিশনে মরক্কোর গতির সঙ্গে তাল মেলাতে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিল ব্রাজিল।
অন্যদিকে মরক্কোর জন্য এই ড্র আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো ফল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা মরক্কো আবারও দেখাল, বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা কেবল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে না; বরং সুযোগ পেলেই আক্রমণে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সামর্থ্য রাখে।
ব্রাজিলের সামনে এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রথম ম্যাচে ড্র অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা দ্রুত সমাধান করতে হবে কোচিং স্টাফকে। বিশেষ করে প্রথমার্ধের মানসিক চাপ, পজিশনিং দুর্বলতা এবং রক্ষণভাগের অস্থিরতা পরের ম্যাচের আগে বড় চিন্তার বিষয়।
ব্রাজিল তাদের পরের ম্যাচ খেলবে ২০ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায়। প্রতিপক্ষ হাইতি। কাগজে-কলমে হাইতি তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হলেও মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর ব্রাজিল নিশ্চয়ই কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছে না। জয়ের ধারায় ফিরতে হলে সেলেসাওদের শুধু ফল নয়, পারফরম্যান্সেও স্পষ্ট উন্নতি দেখাতে হবে।
মরক্কোর বিপক্ষে ড্র তাই ব্রাজিলের জন্য ব্যর্থতা না হলেও স্বস্তির ফলও নয়। বরং এটি একটি সতর্কবার্তা, বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু তারকা ফুটবলার যথেষ্ট নয়; দরকার মানসিক দৃঢ়তা, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং পুরো ম্যাচজুড়ে ধারাবাহিকতা।
একদিনে ৬ বিশ্বকাপ ম্যাচ, ব্যস্ত ক্রীড়াসূচি
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আজ এক ব্যস্ততম দিন অপেক্ষা করছে দর্শকদের জন্য। ফুটবল বিশ্বকাপের টানটান উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই এবং নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচ—সব মিলিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য দিনটি হতে যাচ্ছে উৎসবমুখর।
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে আজ থেকে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মহাদেশের শক্তিশালী দলগুলো মাঠে নামছে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে।
দিনের শুরুতেই মাঠে নামবে হাইতি ও স্কটল্যান্ড। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের লড়াই নজর কাড়বে ফুটবলপ্রেমীদের। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দলগুলোর ম্যাচগুলোও সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়বে। জার্মানি মুখোমুখি হবে কুরাসাওয়ের, আর নেদারল্যান্ডস খেলবে জাপানের বিপক্ষে। আগামীকাল ভোরে আইভরিকোস্ট ও ইকুয়েডরের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকালবেলা সুইডেন ও তিউনিসিয়ার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই পর্বের সূচি।
বিশ্বকাপ ফুটবলের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন। ফলে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের উত্তেজনা।
অন্যদিকে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর থাকবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের দিকে। সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী এই ম্যাচে টাইগারদের সামনে রয়েছে সম্মান রক্ষার লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াই হবে বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।
বেলা ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই ম্যাচকে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের অভিযান। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ নারী দল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্ত অবস্থান গড়ার লক্ষ্যে এই ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চায় টাইগ্রেসরা।
তবে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেট লড়াই হতে যাচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। বিশ্বকাপ মঞ্চে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়া মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আবেগ এবং কোটি কোটি দর্শকের নজর। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই ম্যাচ ঘিরে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচটি বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে। দুটি ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস ১।
-রাফসান
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৮৮ বছরের অপরাজেয় উদ্বোধনী রেকর্ডের সামনে এবার মরক্কো
বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি অর্থাৎ ২৩টি আসরেই অংশ নেওয়ার অনন্য নজির রয়েছে ব্রাজিল ফুটবল দলের। শুধু অংশ নেওয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ মর্যাদার এই টুর্নামেন্টে রেকর্ড পাঁচবার ট্রফি জয়ের গৌরবও একমাত্র তাদেরই—১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় পরেছিল সেলেসাওরা।
ফুটবল বিশ্বকাপ বরাবরই ব্রাজিলের জন্য নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। আর বিশ্বমঞ্চে দলটির এই গৌরবময় পথচলার গল্পটি শুরু হয় প্রতিটি আসরের নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই।
১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপে অনেক বড় প্রত্যাশা নিয়ে অংশ নিয়েছিল ব্রাজিল। তবে তৎকালীন সময়ে দেশের ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও টানাপোড়েনের কারণে মূল দলটি মূলত রিও ডি জেনিরোর ফুটবলারদের নিয়ে গঠন করা হয়েছিল। ফলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার কাছে পরাজিত হয়ে বেশ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তিকে।
এর চার বছর পর ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে দলটির পরিস্থিতি আরও বেশি হতাশাজনক হয়ে দাঁড়ায়। সম্পূর্ণ নকআউট ফরম্যাটে আয়োজিত সেই আসরের প্রথম ম্যাচেই স্পেনের কাছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেটিই ছিল সেলেসাওদের সর্বশেষ পরাজয়।
এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৮৮ বছর। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে আর কোনো দল হারাতে পারেনি।
অবশ্য প্রথম ম্যাচের সবকটিতেই যে তারা জয়লাভ করেছে, বিষয়টি তেমনও নয়। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাদের। একইভাবে ১৯৭৮ সালের আসরে সুইডেনের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছিল।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের একক আধিপত্য ও শক্তিমত্তা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়েছে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে। বিশ্বমঞ্চের প্রথম ম্যাচে এই দলটির বিপক্ষে তিনবার জয়ের দেখা পেয়েছে তারা, যা অন্য যেকোনো প্রতিপক্ষের চেয়ে সর্বোচ্চ। মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলা সেই তিন ম্যাচে ব্রাজিল প্রতিপক্ষের জালে মোট ১১টি গোল জড়ালেও, বিপরীতে মেক্সিকো একটি গোলও পরিশোধ করতে পারেনি।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৩৪ সালের সেই সর্বশেষ হারের পর থেকে বিশ্বকাপের ২২টি উদ্বোধনী ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা এই ম্যাচগুলোতে তারা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মোট ৪৭টি গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার শক্তিশালী দেশ মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বজয়ের নতুন অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গ্রুপ ‘সি’-এর অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও বহুল প্রতীক্ষিত এই দ্বৈরথ।
তবে বর্তমান ফুটবল বিশ্বে মরক্কোকে আর আগের মতো সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি নিজেদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক চিত্র ফুটে ওঠে। যদিও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে মরক্কোকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু অতি সম্প্রতি ২০২৩ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল মরক্কো।
ফলে এবারের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই নিজেদের প্রমাণ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদার লড়াই। ব্রাজিল যেখানে চাইবে বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসন পুনরুদ্ধারের মিশনটি জয় দিয়ে শুরু করতে, সেখানে মরক্কোর লক্ষ্য থাকবে জায়ান্টদের হারিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকে বড় চমক উপহার দেওয়া।
/আশিক
আমরা কাউকে ভয় পাই না, ব্রাজিলকে হারিয়েই মাঠ ছাড়ব: হাকিমি
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা মিশন শুরুর রাতে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়ে নিয়েছেন মরক্কোর ডিফেন্সিভ নিউক্লিয়াস ও পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি শুরুর ঠিক আগে অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে এই ডিফেন্ডার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সেলেসাওদের বিশ্বমানের স্কোয়াডকে সমীহ করলেও মাঠে তারা কেবল ভালো খেলার জন্য নামছেন না, বরং পূর্ণ ৩ পয়েন্ট বা জয় ছিনিয়ে নেওয়াই ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’দের একমাত্র লক্ষ্য। কাতার বিশ্বকাপে রূপকথার মতো সেমিফাইনাল খেলে ইতিহাস গড়া মরক্কো যে এবারও বড় কোনো অঘটন ঘটাতেই মাঠে নামছে, হাকিমির এই আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভীক হুশিয়ারিতে তা পুরোপুরি পরিষ্কার।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ হাকিমি প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে প্রশংসায় ভাসিয়েও নিজেদের শক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ব্রাজিল নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং তাদের ডাগআউটে বিশ্বমানের সব ম্যাচ উইনার খেলোয়াড় রয়েছেন। তবে আমরা মাঠের লড়াইয়ে কাউকে বিন্দুমাত্র ভয় পাই না, কারণ কাতার বিশ্বকাপে আমরা ইতোমধ্যেই বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছি যে পৃথিবীর যেকোনো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আমরা বুক চিতিয়ে সমানতালে লড়তে পারি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল ব্রাজিলের সাথে ভালো খেলা উপহার দেওয়া নয়, আমরা এই ম্যাচটি যেকোনো মূল্যে জিততে চাই। কাতার বিশ্বকাপের সেই অবিস্মরণীয় সাফল্য মরক্কোর ফুটবলকে এক নতুন ও মর্যাদাপূর্ণ উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং সেই আত্মবিশ্বাসই এবার মেটলাইফের মাঠে তাদের আরও বেশি তাতিয়ে তুলবে।
নিজের বক্তব্যে গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মরোক্কোর এই তারকা ডিফেন্ডার বলেন, আমাদের সমর্থকরাই মূলত মাঠের লড়াইয়ে আমাদের ‘দ্বাদশ খেলোয়াড়’ (12th Man) হিসেবে ভূমিকা রাখেন। গ্যালারি থেকে আসা তাদের অকুণ্ঠ ও নিঃশর্ত সমর্থন মাঠের ভেতর প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমাদের বাড়তি এনার্জি ও মানসিক শক্তি জোগায়।
ব্রাজিলের গতিময় আক্রমণভাগকে বোতলবন্দি করতে আমরা মাঠে আমাদের সেরাটা উজাড় করে দেব এবং ফুটবলবিশ্বকে ও আমাদের সমর্থকদের আরেকটি ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় রাত উপহার দেওয়ার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়ব। হাকিমির এমন মারমুখী ও সুনির্দিষ্ট বার্তা পেন্টাকাম্পিয়ন ব্রাজিলের নতুন মাস্টারমাইন্ড কোচ কার্লো আনচেলত্তির ডিফেন্সিভ কৌশলের জন্য যে বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
/আশিক
ভোরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান: নেইমার কি থাকছেন শেষ পর্যন্ত?
উত্তর আমেরিকায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা আসরে আজ রাতেই ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও হেক্সা মিশনের খোঁজে থাকা ল্যাটিন পরাশক্তি ব্রাজিল। তবে প্রথম ম্যাচ শুরুর আগেই এক বড় ধাক্কা খেয়েছে সেলেসাও শিবির; তাদের প্রধান তারকা ও আইকন নেইমার জুনিয়রকে (Neymar Jr) ছাড়াই এবারের পুরো বিশ্বকাপ মিশনে নামতে হচ্ছে দলকে। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ও বর্তমান আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ঐতিহ্যবাহী ‘মেটলাইফ স্টেডিয়ামে’ (MetLife Stadium) ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ ভোর ৪টায়।
ইনজুরির কারণে নেইমার ছিটকে গেলেও এই সংকটে মোটেও বিচলিত নন ব্রাজিলের নতুন মাস্টারমাইন্ড কোচ কার্লো আনচেলত্তি (Carlo Ancelotti)। তিনি রিয়াল মাদ্রিদের মতোই ব্রাজিলের ডাগআউটেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রাফিনিয়াকেই দলের প্রধান তুরুপের তাস বা গেম চেঞ্জার হিসেবে ব্যবহার করতে যাচ্ছেন। আনচেলত্তির বিশ্বাস—নেইমার না থাকলেও সেলেসাওদের আক্রমণভাগের গতি এবং অবিশ্বাস্য স্কিল মরক্কোর ডিফেন্সকে গুঁড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট এনে দিতে প্রস্তুত। তবে মরক্কোর মতো ভয়ংকর কাউন্টার-অ্যাটাকিং বা প্রতি-আক্রমণনির্ভর দলের সামনে একটু অসতর্ক হলেই ভিনিসিয়ুসদের বড় মাশুল গুনতে হতে পারে।
বিশেষ করে কার্লো আনচেলত্তির দল যখন হাই-লাইন ডিফেন্স খেলে আক্রমণ সাজাতে পছন্দ করে, তখন রক্ষণভাগে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে মরক্কোর স্ট্রাইকাররা অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, "বিশ্বকাপ জিততে হলে মাঠের প্রতিটি বিভাগে আমাদের সেরা পারফরম্যান্স করতে হবে। মরক্কো আফ্রিকার অন্যতম সেরা ও গোছানো দল। তবে আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে হেক্সা মিশনের একটি দুর্দান্ত শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত আছি।"
বিপরীতে কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো বর্তমান ফুটবল বিশ্বে দারুণ ছন্দে রয়েছে। ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ খ্যাত দলটির মাথায় এখন বর্তমান আফ্রিকান সেরার মুকুট। দলটির প্রধান শক্তি হলো তাদের রক-সলিড ডিফেন্স বা ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের জমাট গাঁথুনি।
বিশেষ করে পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমির (Achraf Hakimi) অতিমানবিক গতি এবং রাইট উইং দিয়ে তাঁর বিষাক্ত আক্রমণ ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে মাঝেমধ্যে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে এই আফ্রিকান জায়ান্টরা। নিজেদের সবশেষ খেলা ৪৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাত্র দুটিতে হেরেছে মরক্কো, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে।
ব্রাজিল বধের এই ছক নিয়ে মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, "আমাদের নিজেদের সক্ষমতা আর পারফরম্যান্সের ওপর শতভাগ ভরসা রাখতে হবে। ব্রাজিলকে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে তাদের অবশ্যই সমীহ করতে হবে।
অনেকেই বাইরে সমালোচনা করছেন যে এটি আগের মতো সেই কাঁপানো বা ভয়ংকর ব্রাজিল দল নয়; কিন্তু দিনশেষে বিশ্বফুটবলে দলটার নাম তো ব্রাজিলই!" এই আত্মবিশ্বাসে ভর করে আজ ভোরে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আরও একটি ঐতিহাসিক অঘটনের গল্প লিখতে পুরোপুরি প্রস্তুত অ্যাটলাস লায়ন্সরা।
/আশিক
বাংলাদেশের ব্রাজিল উন্মাদনা এবার লাতিন আমেরিকায়: মুগ্ধতা ছড়াল বিখ্যাত ‘জি গ্লোবো’
উত্তর আমেরিকায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উন্মোচিত হতে না হতেই বিশ্বজুড়ে আছড়ে পড়েছে তীব্র ফুটবল উন্মাদনা। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের অধরা ‘হেক্সা’ (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) মিশনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে যে তুমুল উদ্দীপনা ও আবেগের জোয়ার তৈরি হয়েছে, তা এবার বেশ বড়সড় জায়গা করে নিয়েছে খোদ ব্রাজিলের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে। হাজার হাজার মাইল দূরের এক অচেনা দেশের কোটি কোটি মানুষ কীভাবে সেলেসাওদের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে তুলেছে, তা নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় ও গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জি গ্লোবো’ (O Globo)। আগামী রোববার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশের এই ‘সবুজ-হলুদ’ জ্বর এখন লাতিন আমেরিকার আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমগুলোর বিশেষ প্রতিবেদনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে, কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বাংলাদেশের অলিগলি, বহুতল ভবনের ছাদ আর রাস্তাঘাট ব্রাজিলের পতাকায় ছেয়ে যাওয়ার চোখধাঁধানো ভিডিওগুলো বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে। লাতিন আমেরিকার বাঘা বাঘা সাংবাদিকেরা চরম অবাক হয়ে দেখছেন যে, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮১তম অবস্থানে থাকা ১৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশটিতে নিজস্ব বড় কোনো ফুটবল সাফল্য না থাকলেও, ফুটবল নিয়ে তাদের আবেগ কতটা আকাশচুম্বী ও আন্তর্জাতিক মানের। ব্রাজিলিয়ানদের কাছে এটি অত্যন্ত চমকপ্রদ ও অবিশ্বাস্য যে, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের লাল-সবুজ পতাকার পাশাপাশি ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ (কিংবা আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা) রঙে পুরো দেশকে মুড়িয়ে দেয়।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো দূর দূরান্তের এই নিঃশর্ত ভালোবাসার পেছনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তাদের পাঠকদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শতাব্দীর ষাটের দশকে ফুটবল সম্রাট পেলে এবং গারিঞ্চাদের জাদুকরী ফুটবল যখন বিশ্ব জয় করছিল, ঠিক তখন থেকেই বাংলাদেশের মানুষের মনে এই প্রেমের গভীর বীজ রোপিত হয়।
পরবর্তীতে আশির দশকে জিকো-সক্রেটিসদের নান্দনিক ফুটবল যুগে বাংলাদেশে রঙিন টেলিভিশনের আগমন এই উন্মাদনাকে চিরস্থায়ী রূপ দেয়। বাংলাদেশিদের এই অবিশ্বাস্য ও বিরল ফুটবল আবেগকে ফ্রেমে বন্দি করে ব্রাজিলের বিখ্যাত ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘গ্লোবোপ্লে’-তে (Globoplay) একটি চমৎকার প্রামাণ্যচিত্রও মুক্তি পেয়েছে, যার নাম ‘ঢাকা ভাইব্রা – ফুটবল অ্যাডভেঞ্চারস ইন বাংলাদেশ’ (Dhaka Vibra)।
এই আলোচিত প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ও অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত বিখ্যাত নির্মাতা রাফায়েল বারগামাস্কি বাংলাদেশের মাটিতে নিজের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘একজন খাঁটি ব্রাজিলিয়ান হিসেবে ঢাকায় পা রেখে আমি রীতিমতো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম।
বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে আমাদের ফুটবল সংস্কৃতি, আমাদের খেলোয়াড় আর আর্জেন্টিনার সাথে আমাদের ঐতিহ্যবাহী চিরবৈরিতাকে পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে, তা দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ এবং অবিশ্বাস্য।’ প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে পেলে, রোনালদো নাজারিও ও নেইমারদের বিশাল সব দেয়ালচিত্রের (গ্রাফিতি) কথাও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে লাতিন আমেরিকার সংবাদমাধ্যমগুলো।
তবে এই আকাশচুম্বী উন্মাদনার একটি অন্ধকার ও উদ্বেগের দিকও ব্রাজিলিয়ানদের তীক্ষ্ণ নজরে এসেছে। ফুটবল নিয়ে অতি-উত্তেজনার জেরে সম্প্রতি বাংলাদেশের হবিগঞ্জে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একটি প্রীতি ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি তারা বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
অবশ্য এই বিচ্ছিন্ন সহিংসতাকে ছাপিয়ে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের মূল ফোকাস ও শ্রদ্ধা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের নিঃশর্ত ও পবিত্র ভালোবাসার দিকেই। আগামী রোববার ভোরে যখন আমেরিকার মাঠে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে লড়াইয়ে নামবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ারা, তখন হাজার মাইল দূরের ঢাকাও যে তাদের প্রতিটা পাসের সাথে সমস্বরে চিৎকার করবে, লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি এখন তা বেশ ভালো করেই জানে ও মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- গত দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ব্যর্থতা ভুলে আজ নতুন মিশন শুরু করছে জার্মানরা
- শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ: শফিকুল আলম
- ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আইডিএফ-এর যুদ্ধপ্রস্তুতি
- ডলার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, রিজার্ভে বড় লাফ
- বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারে পরীমণির ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস
- পুরনো ছন্দে ফিরেছেন মেসি, আলজেরিয়া ম্যাচের আগে উৎকণ্ঠা কাটল ভক্তদের
- আর্থিক অনটন ও পারিবারিক অশান্তিতে অবচেতন মনে রামিসা খুন
- রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় জানালেন মন্ত্রী
- অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হাতছাড়া বাংলাদেশের
- ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে বড় পরিবর্তন, মেটা আনছে নতুন ‘সিরিজ’ ফিচার
- ইরানের ৪ প্রধান ব্যাংকে সাইবার হামলা, ব্যাহত ডিজিটাল সেবা
- কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
- দুবাই বিমানবন্দরের আধুনিক এআই প্রযুক্তির জালে ধরা পড়লেন বেনজীর
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অসম্মতি: শিক্ষামন্ত্রী
- বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা
- দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত শতাধিক
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
- ১৪ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- বিশ্বকাপ দেখবেন কোথায়? জেনে নিন সব মাধ্যম
- ‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
- দানিলোর স্বীকারোক্তি: ‘প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি’
- নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফের তেল আবিবে বিক্ষোভ, রাস্তায় ইসরায়েলিরা
- গাজা ইস্যুতে ‘গণহত্যা’ বলেও কেন ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ব্রাজিলের
- একদিনে ৬ বিশ্বকাপ ম্যাচ, ব্যস্ত ক্রীড়াসূচি
- রোববার বন্ধ থাকবে ঢাকার যেসব মার্কেট
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- অবসরভাতা প্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ স্বর্ণবাজারে বড় উল্লম্ফন
- ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী
- পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান
- বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৮৮ বছরের অপরাজেয় উদ্বোধনী রেকর্ডের সামনে এবার মরক্কো
- আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা: কৃষিমন্ত্রী
- নিখোঁজ নাটক ফাঁস! উদ্ধারের পরই শিবির নেতার বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা
- সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
- অর্থনীতিতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
- সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
- আমরা কাউকে ভয় পাই না, ব্রাজিলকে হারিয়েই মাঠ ছাড়ব: হাকিমি
- বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী
- ভোরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান: নেইমার কি থাকছেন শেষ পর্যন্ত?
- ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত ডোনাল্ড ট্রাম্প!
- ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির চূড়ান্ত বিজয় দেখবে বিশ্ব
- ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
- বাংলাদেশের ব্রাজিল উন্মাদনা এবার লাতিন আমেরিকায়: মুগ্ধতা ছড়াল বিখ্যাত ‘জি গ্লোবো’
- ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অপরাধে দুই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- আজকের খেলার সূচি, কখন কোথায় দেখবেন?
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার








