ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পর দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট ঘোষণার পর থেকে দেশের সচেতন ও সাধারণ নাগরিকেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাজেট-পরবর্তী বাজার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকালে দেশের বিভিন্ন খবরের কাগজগুলো পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যে, সব পত্রিকায় একটি খবর বিশেষভাবে এসেছে। প্রতি বছর সাধারণত বাজেট উপস্থাপনের পরদিনই বাজারে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে যেত। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে, গত পরশু দিন নতুন বাজেট পেশ করার পর এবারই প্রথম ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে এবং বাজারে কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি।
কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার অথবা ছয় লেনে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন অতি দ্রুত এই মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে রূপান্তরের মূল কাজ শুরু করবে। পর্যটন নগরীর গুরুত্ব, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানাবিধ ভৌগোলিক কারণে কক্সবাজার অঞ্চলটি দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই এই সড়কটি অনেক আগেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করা উচিত ছিল।
যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থবিরতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি যখন এই সড়ক দিয়ে কক্সবাজার এসেছিলেন, তখন রাস্তাটি যে অবস্থায় ছিল, এবার এসেও ঠিক একই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এবার আর কোনো অবহেলা নয়, অচিরেই এই মহাসড়কের আধুনিকায়নের কাজ শুরু করা হবে।
জনসভায় স্থানীয় লবণ চাষিদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুঃখগাথা নিয়েও বিশদ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষিরা যে তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন, সেই বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তাই এই এলাকারই সন্তান এবং বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিশেষ অনুরোধ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লবণের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে চাষিদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে, দেশীয় লবণশিল্প রক্ষা পাবে এবং প্রান্তিক চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও বাজেটের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ যেন নাগালের মধ্যে থাকে, সেই লক্ষ্যে সদ্য ঘোষিত বাজেটে চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় ট্যাক্স বা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকার চায় এর সরাসরি সুফল যেন দেশের প্রতিটি নাগরিক পান। অথচ একটি বিশেষ মহল এই গণমুখী বাজেটের বিরুদ্ধে অনর্থক অবস্থান নিয়েছে। তারা মূলত দেশের মানুষের কল্যাণ ও অগ্রগতি চায় না বলেই এই বাজেট নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি করছে।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সার্বিক কল্যাণে বর্তমান সরকার পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের সময় নাগরিকদের আঙুলে দেওয়া ভোটের কালি এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি, এর মধ্যেই বিএনপি সরকার দেশের কৃষক ও শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারকে রাষ্ট্রীয় এই কার্ড সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী ও চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিমের যৌথ সঞ্চালনায় এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনৈতিক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
সৌদি গমনে ব্যর্থ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে প্রবেশের সুযোগ
সৌদি আরবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ফ্লাইট বিপর্যয় এবং আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারা বাংলাদেশি কর্মীরা ফের দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এসব কর্মীদের পুনরায় প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যেখানে ৩ লাখ টাকায় বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত; অতিরিক্ত ঋণের বোঝার কারণে কর্মীদের উপার্জনের বড় একটি সময় পার হয়ে যায়। অভিবাসন সহজ করতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর পাশাপশি সরাসরি অভিযোগ জানাতে উন্মুক্ত ইমেইল সেবা শুরুর কথাও জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক রমজানে সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া অনুষ্ঠানে জানান, সৌদিতে নিজ দেশের পর বাংলাদেশিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং দুই দেশের সুসম্পর্ক শ্রম খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সভায় অন্যান্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরাও বিএমইটি ছাড়পত্র ও ‘তাকামুল’ পরীক্ষার ফি কমানোর দাবি উত্থাপন করেন।
/আশিক
জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তাঁর বাংলাদেশ সফরকালে ঢাকায় হওয়া ফলপ্রসূ বৈঠকটি স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব এবং জাইকার অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী গড়ে তোলা এবং কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত বছরের মতো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সার্বিক সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এসব বহুমুখী উদ্যোগ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
/আশিক
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা ছিল কি না জানাল সংসদীয় কমিটি
মক্কায় বাংলাদেশের দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা বা দুর্বলতা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চৌদ্দ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর একটি তালিকা পাঠালেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি এবং জেল বা মেয়াদের ধারণা করলেও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গও গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায় যে, সৌদি আরবে কর্মরত নারী শ্রমিকদের ১ থেকে ২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন। তবে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী উল্লেখ করেন যে শতকরা হার কম মনে হলেও বাস্তব সংখ্যায় এই পরিমাণ অনেক বেশি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৬৪ জন নারী কর্মীকে উদ্ধার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন করার কথা জানানো হলেও এই ধরনের অমানবিক ঘটনা সম্পূর্ণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী এবং সানজিদা ইসলাম। এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সৌদি আরবের পাঠানো বন্দীদের তালিকার বিষয়ে দেশটির কাছে কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়েছে মন্ত্রণালয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কনস্যুলেটের কার্যক্রম আরও সতর্ক করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
/আশিক
সাংবাদিকদের অবমাননা ও পেটানোর হুমকি, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ
সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা ও তাদের পিটিয়ে সাজা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ইসলামী বক্তা সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নিম্ন আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম রোববার (২৫ অক্টোবর) এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি হস্তান্তরের সাত দিনের মধ্যে ওই বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করে তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে; অন্যথায় অবমাননা, মানহানি ও হামলার হুমকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাংবাদিকদের আক্রমণ করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, দেশের সংবাদকর্মীরা পেশাগত সততা হারিয়ে ভুল তথ্য ছড়ায় এবং তারা দেশবিরোধী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে চালিত হয়। একইসঙ্গে তরুণ এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি সংবাদকর্মীদের শারীকভাবে লাঞ্ছিত করার চরম উসকানিমূলক কথা বলেন।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, উক্ত মাহফিলে তার দেওয়া এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিক সমাজ ও তাদের পেশার জন্য চরম অবজ্ঞাকর এবং এটি পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বক্তা নিজে ও তার অনুসারীদের দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের মতো ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় গণমাধ্যমে কাজের জন্য একটি ভীতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকের মতে, এই বক্তব্য পুরো সাংবাদিক সমাজের সম্মানহানি করেছে এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি চরম উসকানি হিসেবে কাজ করেছে।
/আশিক
আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ও গণআন্দোলনের মূল অঙ্গীকারই ছিল এই নির্বাচন ব্যবস্থা। দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত তৎকালীন বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের রায় বাতিল এবং তা বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় পুনর্বহাল হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপন করা হবে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজা সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক নিবিড় তদারকির কারণেই এ বছর কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ব্যতিরেকেই উৎসবটি উদযাপিত হয়েছে বলে তিনি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নিরাপত্তার এই ধারা আগামী বছরগুলোতেও একইভাবে বজায় রাখা সম্ভব হবে।
বিগত ১৫ থেকে ১৭ বছর ধরে দুর্গাপূজাকে ঘিরে নানাবিধ অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হতো উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে সেই অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত করতে সমর্থ হয়েছে। ডিজিটাল অ্যাপস ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার ফলে কোনো ধরনের নাশকতামূলক পরিকল্পনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই তা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৮৫ালী পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা উৎসবকে আরও আনন্দময় করতে সরকার পূজার সরকারি বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে এবং প্রতি মণ্ডপে চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটিসহ পূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির ব্যবস্থা করায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা স্বাচ্ছন্দ্যে উৎসব পালন করতে পেরেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
/আশিক
বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই দক্ষ প্রকৌশলী গড়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
টেক্সটাইল খাতের চাহিদা মেটাতে দেশে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী তৈরি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের অ্যালামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে টেক্সটাইল খাতকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে যথাযথ কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে একদিকে দক্ষ জনশক্তির সঠিক ব্যবহার হয় এবং অন্যদিকে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। এ ছাড়া দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে তুলার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এর জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যকার সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পাট, আনারসের পাতা ও কলাগাছের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ এবং সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণালব্ধ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈঠকে বুটেক্স প্রতিনিধিদল দেশের তৈরি পোশাকশিল্প ও টেক্সটাইল খাতের প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং সামগ্রিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত জানান। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, বিসিএস (টেক্সটাইল) নামে আলাদা ক্যাডার সৃষ্টি, বাজেট সম্প্রসারণ এবং ঢাকার পূর্বাচলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রাষ্ট্রপতি তাদের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
সাক্ষাতের একপর্যায়ে বুটেক্সের উপাচার্য আগামী বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে ‘রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর’-কে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আনন্দের সঙ্গে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। প্রতিনিধিদলে বুটেক্সের বিভিন্ন অনুষদের ডিনগণের মধ্যে অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবরাও অংশ নেন।
/আশিক
অন্যের নামে জমি রেকর্ড হলে করণীয় কী?
নিজের কেনা কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি ভুলবশত অন্য কারও নামে রেকর্ডভুক্ত হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক দলিল ও আইনগত মালিকানার উপযুক্ত প্রমাণ থাকলে এই রেকর্ড সংশোধন করার কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সংশোধনের প্রক্রিয়া নির্ভর করে মূলত ভুলটি কী প্রকৃতির, সম্পত্তি কীভাবে অর্জন করা হয়েছে এবং সংশোধিত খতিয়ানটি চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না—তার ওপর। কোথাও সাধারণ বানান বা করণিক ত্রুটির জন্য সাধারণ আবেদন করলেই সমস্যার সমাধান মেলে, আবার জটিল বিরোধের ক্ষেত্রে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল বা দেওয়ানি আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়।
জমি অন্যের নামে রেকর্ড হওয়ার পেছনে মূলত কয়েকটি সাধারণ কারণ কাজ করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে জরিপ চলাকালীন তথ্য সংগ্রহের ত্রুটি, জমি কেনাবেচার পর সময়মতো নামজারি না করা, ওয়ারিশদের নাম বাদ পড়ে যাওয়া কিংবা প্রতারণামূলক জাল দলিলের ব্যবহার। অনেকে জমি কেনার পর নামজারি সম্পন্ন না করায় পুরোনো মালিকের নাম রেকর্ডে থেকে যায়। একইভাবে, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে একাধিক উত্তরাধিকারী থাকলেও খতিয়ানে সবার নাম সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে। তবে খতিয়ানে নাম থাকা মানেই সবসময় তিনি ওই জমির চূড়ান্ত মালিক নন; মালিকানা নিশ্চিত করতে মূল দলিল, পূর্ববর্তী খতিয়ান এবং অন্যান্য আইনি কাগজপত্র যাচাই করা বাধ্যতামূলক।
রেকর্ড সংশোধনের জন্য ঘটনার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধিত ক্রয়দলিল বা পূর্বের মালিকের দলিল, বিভিন্ন ধাপের জরিপের খতিয়ান (সিএস, এসএ, আরএস, বিএস), মৌজা ও দাগ নম্বরসহ জমির সুনির্দিষ্ট বিবরণ, নামজারির আদেশপত্র, ওয়ারিশ সনদ ও বণ্টননামা (উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে), হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং আগের কোনো মামলা থাকলে তার রায়ের কপি। সব ক্ষেত্রে সব নথির প্রয়োজন হয় না, বরং মালিকানার উৎস ও ভুলের ধরনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র প্রস্তুত করতে হয়।
ভুলের ধরন ভেদে প্রতিকারের পথও ভিন্ন হয়। খতিয়ানে নামের বানান বা গাণিতিক হিসাবের মতো সাধারণ ভুল থাকলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে সংশোধনের আবেদন করা যায়। কিন্তু জরিপের খতিয়ানে প্রকৃত মালিকের বদলে অন্য কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হলে এবং রেকর্ড চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়ে থাকলে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের নির্ধারিত ধারায় ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হতে পারে। অন্যদিকে, কেউ প্রতারণা বা জাল দলিলের মাধ্যমে রেকর্ড নিজের নামে করে নিলে বিরোধের প্রকৃতি অনুযায়ী ভূমি কর্তৃপক্ষ বা দেওয়ানি আদালতে আইনি লড়াইয়ে যেতে হয়। এছাড়া নিজের দলিল থাকা সত্ত্বেও অন্যের নামে নামজারি হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট নামজারি মামলার নথি যাচাই করে আপিল বা সংশোধনের সুযোগ নেওয়া যায়।
আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে জমির মৌজা, দাগ ও খতিয়ান নম্বর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। শুধু দখল বা কর পরিশোধের রসিদ সবসময় মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না, তাই বৈধ দলিলের সঠিকতা ও রেকর্ডের বর্তমান অবস্থা (খসড়া না চূড়ান্ত) নিশ্চিত করতে হবে। সমস্যার ধরন বুঝে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে এবং আইনি সময়সীমা যেন পার হয়ে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। জমির খতিয়ান বা নামজারি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি রেকর্ড অধিদপ্তরের পোর্টাল ব্যবহার করা যায়, পাশাপাশি প্রয়োজনে উপজেলা ভূমি অফিস বা সংশ্লিষ্ট ভূমি আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া নিরাপদ।
সরকারি ভূমিসেবা পাবেন কোথায়?
জমির খতিয়ান, নামজারি ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য পেতে সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা পোর্টাল:https://land.gov.bd/
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর:https://dlrs.gov.bd/
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন:https://bdlaws.minlaw.gov.bd/
/আশিক
লাখো শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসছে এইচএসসির ফল
আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) প্রকাশিত হতে যাচ্ছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে গত ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, যার ভিত্তিতেই ২৯ অক্টোবর চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। সারা দেশের মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় অংশ নেন। যদিও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামসহ কিছু বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লেগেছিল, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ব্যবহারিক পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
/আশিক
আওয়ামী লীগের মতো নিজেদের ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করব না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে কোনো পরিবর্তন চাইলে বিরোধী দলকে রাজপথের বদলে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকে এসে সুস্পষ্ট প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে নিজেদের শাসনভার ও ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যেই ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করেছিল। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার কখনো সেই অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটবে না।
আজকের বৈঠকের গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আলোচনার টেবিলে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা সুনিশ্চিতকরণ, সংবিধানে বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদের পরিমার্জন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার সুষম ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মতো মৌলিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। এ ছাড়া আইন, শাসন ও বিচার বিভাগসহ প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- গভীর সংকটে চীনের বাজার, বড় পতনের মুখে শেয়ারমূল্য
- ইসরায়েল ভোটের প্রাক্কালে মস্কোয় পেজেশকিয়ানের কূটনৈতিক চাল
- নতুন পে-স্কেলে ভাতা না বাড়ায় বড় ধাক্কা, হতাশ সরকারি কর্মচারীরা
- সৌদি গমনে ব্যর্থ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে প্রবেশের সুযোগ
- আঞ্জনি হলে ঘরোয়া পরিচর্যায় কোন কাজগুলো করা একেবারেই নিরাপদ নয়?
- ইসরায়েলে ২৬তম নেসেট নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন নাগরিকরা
- ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছে তিন দেশ
- রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব ও মন্ত্রীদের স্বজনপ্রীতির কঠোর সমালোচনা এনসিপি নেতার
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি এবারও টালবাহানা করছে: এনসিপি আহ্বায়ক
- শেষ হলো বিসিবির নতুন ডি-থ্রি টুর্নামেন্টের আকর্ষণীয় ক্রিকেটার নিলাম
- আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’
- আপনি আসেন, আমরা আপনার অপেক্ষায় আছি: শেখ হাসিনাকে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
- এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে যেভাবে দেখবেন বিলম্বের প্রদেয় অর্থের পরিমাণ
- আলোচনার আড়ালে শর্ত চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ইসমাইল বাঘাইয়ের
- সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের অনন্য রেকর্ড
- ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় লাগাম টানছে স্বর্ণের বাজারমূল্য
- বাদাম বিক্রেতা থেকে ব্রাজিলের শ্রমিক নেতা ও সফল প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা
- জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- খুলনার স্টেডিয়াম ও বিকেএসপির অবকাঠামোগত উন্নয়নের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
- ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ কি আঘাত হানবে? যা জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- ইরানের ‘জানফাদা’ কর্মসূচি: সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র চালনায় উদ্বুদ্ধ করার নেপথ্য কারণ
- মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা ছিল কি না জানাল সংসদীয় কমিটি
- আল-খলিলে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযান, বাস্তুচ্যুত দেড় হাজার ফিলিস্তিনি
- ইরানের পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম
- পুষ্টিতে ভরপুর কলা: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় একে রাখা কেন জরুরি
- জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: রাশেদ খান
- উচ্চশিক্ষিত ও স্থিতিশীল চাকরিজীবীদের ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধে বিপর্যয়
- সাংবাদিকদের অবমাননা ও পেটানোর হুমকি, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ
- আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই দক্ষ প্রকৌশলী গড়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
- আন্তর্জাতিক বাজারের পতনের ধাক্কা, দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম কত?
- দেশে ফেরার গুঞ্জনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি: আতঙ্ক ছড়ানোর নেপথ্যে কারা?
- বড় ধাক্কা খেল সান্তোস, বড় নিষেধাজ্ঞায় নেইমার
- অন্যের নামে জমি রেকর্ড হলে করণীয় কী?
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল
- পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দেখলেই ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
- লাখো শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসছে এইচএসসির ফল
- যেকোনো সামরিক সংঘাতে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
- আওয়ামী লীগের মতো নিজেদের ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করব না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বর্তমান সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
- আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি, অথচ নোবেল পাইনি: ট্রাম্প
- স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন লিওনেল মেসি
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন রুখতে বড় সামরিক অভিযানের নির্দেশ নেতানিয়াহুর
- প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতের তাগিদ আসিফ নজরুলের
- প্রেক্ষাগৃহে রজনীকান্তের উপস্থিতি ও বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস
- ফুটবল বিশ্বে নতুন জল্পনা: সেরা কোচের পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে যিনি
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের
- জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবিচল অবদানের স্বীকৃতি
- প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন এক রাজনৈতিক নেতা: রাশেদ খাঁন
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জেরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
- খুলনার তেরখাদায় বিএনপির দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের অস্থিরতায় বৈশ্বিক মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন দরপতন
- ইশরাকের উদ্যোগ ভালো হলেও হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি: ভোলায় স্পিকার মেজর হাফিজ
- অনলাইনে আবেদন করলেও মিলবে না ভোটার নিবন্ধন, যা করতে হবে
- রাজশাহীর প্রায় ৩৯ হাজার আখচাষীকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- মার্কিন ডিভি লটারি ফিরছে: সুযোগ কি পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা?
- বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার ঘোষণার চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারিত
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মাঝে ইসলামাবাদে মধ্যস্থতা, উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে তেহরানে আসিম মুনির
- সৌদি মিডিয়ার খবর দেখে দুই বাংলাদেশির প্রাণদণ্ডের তথ্য জানল কনস্যুলেট
- 'এখন থেকে ১০ হাজার লোক নিয়ে চলব': সরাইল থানায় এমপি রুমিন ও ওসির তীব্র বাগ্বিতণ্ডার পেছনে আসল ঘটনা কী?
- পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ে ডিজে পার্টির আড়ালে মাদকের আসর, গাড়ি জব্দসহ ব্যাপক আটক
- ভিডিও বানিয়ে আয়ের সুযোগ দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স
- বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দরপতন: কেমন আছে স্বর্ণ ও রুপার বাজার?
- ফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণের মুখে ফের ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ








