ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ২২:০১:২৮
ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : পিএমও

জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পর দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট ঘোষণার পর থেকে দেশের সচেতন ও সাধারণ নাগরিকেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেট-পরবর্তী বাজার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকালে দেশের বিভিন্ন খবরের কাগজগুলো পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যে, সব পত্রিকায় একটি খবর বিশেষভাবে এসেছে। প্রতি বছর সাধারণত বাজেট উপস্থাপনের পরদিনই বাজারে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে যেত। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে, গত পরশু দিন নতুন বাজেট পেশ করার পর এবারই প্রথম ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে এবং বাজারে কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি।

কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার অথবা ছয় লেনে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন অতি দ্রুত এই মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে রূপান্তরের মূল কাজ শুরু করবে। পর্যটন নগরীর গুরুত্ব, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানাবিধ ভৌগোলিক কারণে কক্সবাজার অঞ্চলটি দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই এই সড়কটি অনেক আগেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করা উচিত ছিল।

যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থবিরতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি যখন এই সড়ক দিয়ে কক্সবাজার এসেছিলেন, তখন রাস্তাটি যে অবস্থায় ছিল, এবার এসেও ঠিক একই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এবার আর কোনো অবহেলা নয়, অচিরেই এই মহাসড়কের আধুনিকায়নের কাজ শুরু করা হবে।

জনসভায় স্থানীয় লবণ চাষিদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুঃখগাথা নিয়েও বিশদ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষিরা যে তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন, সেই বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তাই এই এলাকারই সন্তান এবং বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিশেষ অনুরোধ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লবণের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে চাষিদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে, দেশীয় লবণশিল্প রক্ষা পাবে এবং প্রান্তিক চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও বাজেটের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ যেন নাগালের মধ্যে থাকে, সেই লক্ষ্যে সদ্য ঘোষিত বাজেটে চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় ট্যাক্স বা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকার চায় এর সরাসরি সুফল যেন দেশের প্রতিটি নাগরিক পান। অথচ একটি বিশেষ মহল এই গণমুখী বাজেটের বিরুদ্ধে অনর্থক অবস্থান নিয়েছে। তারা মূলত দেশের মানুষের কল্যাণ ও অগ্রগতি চায় না বলেই এই বাজেট নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি করছে।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সার্বিক কল্যাণে বর্তমান সরকার পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের সময় নাগরিকদের আঙুলে দেওয়া ভোটের কালি এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি, এর মধ্যেই বিএনপি সরকার দেশের কৃষক ও শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারকে রাষ্ট্রীয় এই কার্ড সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী ও চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিমের যৌথ সঞ্চালনায় এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনৈতিক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৮:২৪:৩৩
দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার জরুরি সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এ সহযোগিতা ও সহায়তার আহ্বান জানান। ফোনালাপে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বাংলাদেশের গ্যাস সংকট উত্তরণে দ্রুত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রতিমন্ত্রী জানান, উদ্ভূত জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার চিঠিটি মালয়েশিয়ায় আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। চিঠিতে বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যকার বিরাট ঘাটতি কমাতে মালয়েশিয়ার সরাসরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ফোনালাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি তাঁর দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশকে কীভাবে দ্রুততম সময়ে সাহায্য করা যায় তা নির্ধারণ করবেন। মালয়েশিয়ার এই তাৎক্ষণিক সাড়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার আশ্বাস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকট নিরসনে কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখে মালয়েশিয়া জানাবে। দ্রুত কোনো পথ বের হলে তা দেশের জ্বালানি খাতের জন্য বড় স্বস্তি হবে, আর তা না হলেও কোন বিকল্প উপায়ে তারা সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির স্থায়ী সুযোগ ও কৌশলগত পথ নিয়ে বাংলাদেশ আগে থেকেই কাজ করে আসছে। এবার কেবল সরাসরি এলএনজি সরবরাহ পাওয়ার বিষয়ই নয়, বরং তাদের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে সংকট উত্তরণে মালয়েশিয়া কীভাবে সাহায্য করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


সুন্দর দেশ গড়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৯:৫৭:২২
সুন্দর দেশ গড়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার মূল দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই সামনে থেকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সাথে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও যেন বর্তমান প্রজন্ম নতুন সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে, সেই প্রত্যাশার কথা প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতা ও সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে এক সুন্দর ও টেকসই বাংলাদেশ নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি নতুনদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলার চর্চার পাশাপাশি পড়াশোনায় সমানভাবে মনোযোগী হতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম তাদের মেধা অনুযায়ী ভবিষ্যতে যে পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করতে চায়, সরকার সব সময় তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা প্রদান করবে।

বক্তব্যের শেষাংশে পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদের সুরক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মকে শৈশব থেকেই প্রকৃতির যত্ন নেওয়া শিখতে হবে এবং একই সাথে রাষ্ট্রের যাবতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিতে হবে।

/আশিক


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৯:৩৩:১০
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হলে নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, যেকোনো ধরনের বিনিয়োগের মূল পূর্বশর্তই হলো নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ এবং এ লক্ষ্যেই সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সোমবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দ্রুত শিল্পায়নের মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। বিনিয়োগকারীরা সবসময় তাদের পুঁজি নিরাপদ ও পরিবেশ অনুকূল রয়েছে কি না তা দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য শঙ্কা বা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তারাও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, সিইআইজেডসহ দেশের সব ইকোনমিক জোনের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব শিল্পাঞ্চলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। একই সাথে শিল্প এলাকায় কোনো ধরনের নাশকতা বা অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি কড়া সতর্ক বার্তা দেন।

চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান, চীনা সড়ক ও সেতু করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২২:০৯:১৬
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তা পুনরুদ্ধারে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ জানান, ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার অর্থনীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। তিনি মন্তব্য করেন, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া এখন চলমান। এ কারণেই বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি জানান, এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর দেশের অর্থনীতিতে যাতে নতুন করে কোনো সংকট বা স্থবিরতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার একাধিক কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক ও দেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেখানে কাজের পরিবেশ উন্নত করছে সরকার।

তিনি আরও জানান, দেশে নতুন বিনিয়োগের জন্য তৈরি পোশাক, কৃষি ও ক্রীড়া খাতকে অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

/আশিক


পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি বহাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২২:০০:২০
পুলিশকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি বহাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীকে একটি সেবামুখী, পেশাদার ও জনবান্ধব সংগঠন হিসেবে পুনর্গঠন করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি কঠোরভাবে বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারীদের উপযুক্ত মূল্যায়ন ও পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে যারা আইন লঙ্ঘন করে নাগরিক সেবা ব্যাহত করবেন বা অনিয়মে জড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি তিরস্কারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠান শেষে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সংক্রান্ত প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসব বা রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে—এমন ধারণার ভিত্তি নেই এবং এটি স্রেফ কাকতালীয়। ইতোমধ্যে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফলভাবে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন, তাঁর পদত্যাগপত্র সংবিধানের বিধান মেনে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া ও গৃহীত হয়েছে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পদাধিকার বলে তিনি যে বিশেষ ইমিউনিটি ও আইনি সুরক্ষা পান, তা বলবৎ থাকবে। এছাড়া আইনানুগভাবে তাঁকে এসএসএফ, পিজিআর ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান না হওয়া নিয়ে মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন, তাড়াহুড়ো করে তৈরি প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় পুরো তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ে যোগ্যদের মাঝে বিশুদ্ধ তালিকা অনুযায়ী পদক প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে দুই ভিন্ন কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য মোট নয়জন পুলিশ সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৯৯৯ ও ঢাকা রেলওয়ে থানার যৌথ পদক্ষেপে মাত্র ৩০ মিনিটে এক প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাতজন এবং জীবন বাজি রেখে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের জন্য ডিএমপি ট্রাফিকের দুজন সার্জেন্ট এই পুরস্কার পান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২১:৫৬:৩৫
দেশের ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক, ইএসডিওর গবেষণায় উদ্বেগ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পেয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। তাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে শুরু করে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের এই মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবেলায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সুনির্দিষ্ট জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণ ও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজেদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক এই গবেষণার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

ইএসডিও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা ও পাইকারি বাজার থেকে ১৯টি ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি দেশি-বিদেশি টুথপেস্টের নমুনা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের 'এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি' (ইএইচই) গবেষণাগারে নমুনাগুলো সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তৈরি। দেখা গেছে, চার দেশে উৎপাদিত পণেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টি, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টি, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টি এবং ভিয়েতনামের ২টি নমুনার দুটিতেই এই ক্ষতিকর কণা মিলেছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে কণার ঘনত্বের নিরিখে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে; কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে ১৪০টি; সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি; পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে; সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি; পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি-স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায় ৬০টি করে কণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে এএম.পিএম. হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক প্লাস, মেরিল বেবি-অরেঞ্জ, ম্যাজিক হার্বাল, মেসবাক ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে ৪০টি করে এবং ডেন্টিন জেল, পেপসোডেন্ট কিডস-অরেঞ্জ, ক্লোজ আপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল ও হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে ২০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি পরিষ্কার করেছে যে, কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে কাঠগড়ায় তোলা এই গবেষণার উদ্দেশ্য নয়। দেশে প্রসাধন ও হাইজিন পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের কোনো গ্রহণযোগ্য সীমা, মানদণ্ড বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় জনস্বার্থেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষাগারের সক্ষমতার ঘাটতি এবং তদারকির অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান ভোক্তা অধিকার ও বিএসটিআই মানদণ্ডের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক ইস্যুটি যুক্ত করা জরুরি। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং পণ্যের প্যাকেজিংয়ে উপাদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দিয়েছে।

/আশিক


জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৯:৪৮:১৫
জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

একটি সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষ্য অর্জনে খেলাধুলাকে শুধু শরীরচর্চা বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে রূপ দিতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ স্ট্যাটাসে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তির সমন্বিত অগ্রগতিই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫–২০২৬' কর্মসূচি দেশজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এই আয়োজনের প্রথম আসরের জাকজমকপূর্ণ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, ক্রীড়াচর্চা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, অধ্যবসায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা এবং দেশপ্রেমের মতো মানবিক গুণাবলি অর্জনে সাহায্য করে। ফলে দেশের দূরদূরান্তের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' একটি কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, পরবর্তী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬–২০২৭' মৌসুমে নতুন করে টেবিল টেনিস ও ভলিবল অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে মোট ইভেন্টের সংখ্যা ১০-এ উন্নীত হবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বয়সসীমা ১০ থেকে ১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অধিক সংখ্যক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর এই উঠতি খুদে অ্যাথলেটরাই আগামী দিনে বিশ্বক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫–২০২৬'-এর প্রথম আসরে সম্পৃক্ত সব খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন সাফল্য প্রার্থনা করেন।

/আশিক


শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যাওয়া লাগে না, ঢাকাতেই সম্ভব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৮:১৯:৩১
শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যাওয়া লাগে না, ঢাকাতেই সম্ভব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি কেবল সংবাদপত্রে দেখেছেন, তবে সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে যোগাযোগ করার জন্য সশরীরে লন্ডনে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, দেশ থেকেই তা করা সম্ভব।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির ফোনালাপের অভিযোগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কেবল বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদটি প্রত্যক্ষ করেছেন। কী তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ওই সংবাদটি প্রকাশিত হলো, তা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছেই জানতে চাওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। সরকারের আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে এ ধরনের কোনো কথোপকথনের অস্তিত্ব নেই বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিরোধীদের পক্ষ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জোর দাবির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী জানান, বিরোধী দলগুলো কেন রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি করছে, সে প্রশ্ন তাদেরই করা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যারা বিরূপ মন্তব্য করছেন, সে অধিকার তাদের রয়েছে।’ গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক পরিবেশে মানুষের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ এবং প্রতিবাদ জানানোর পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী আমলের শেষভাগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে সংবিধান ও নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনেই মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সরকার তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বিশেষ দায়মুক্তি বা প্রিভিলেজ পান, যার ফলে পদে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ নেই। এর বাইরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেউ বক্তব্য দিলে তা তাঁদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে দেখা যায়, তবে তা আইনত আমলে নেওয়ার মতো কিছু নয়।

রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার আগের অভিযোগগুলোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, তৎকালীন সময়ের কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর প্রাপ্য সুবিধার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেন, আইন অনুযায়ী একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির যা পাওয়ার কথা, তা তিনি পাবেন। তাঁর নিরাপত্তার খাতিরে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টসহ (পিজিআর) অন্যান্য বিশেষ সুবিধা আগামী ছয় মাসের জন্য বলবৎ থাকবে। এর পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তাসহ অপরাপর সুযোগ-সুবিধাও তাঁকে প্রদান করা হবে।

/আশিক


সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৮:১৪:৩০
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ড ও তার বিরুদ্ধে ওঠা নানাবিধ অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তদন্তের সুনির্দিষ্ট ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. আসাদুজ্জামান জানান, দেশবাসীর তীব্র দাবি এবং সংগৃহীত অভিযোগগুলোর আলোকেই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন সময়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক ভূমিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার কাউকেই অন্যায়ভাবে হয়রানি বা কষ্ট দিতে চায় না। তবে যাবতীয় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সংবিধান প্রদত্ত আইনি কাঠামো অনুসরণ করেই সরকার পদক্ষেপ নেবে। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে সাবেক সরকারের সময়কার বেপরোয়া দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের খতিয়ান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং রুট ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় অন্তত ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে দেশের দুই থেকে তিনটি পুরো জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'টাইম ম্যাগাজিন'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে।

উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাতের চিত্র তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা নির্মাণে বিপুল পরিমাণে ২৮০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ বাস্তবে এক ইঞ্চি সড়কও না বানিয়ে পুরোপুরি কাগজপত্রে দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের ছদ্মবেশে রাষ্ট্রীয় তহবিল লুট করে বিদেশে পাচার করায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিচারাধীন মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, এসব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমানে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা মামলার হার অনেক কমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আগত নবীন আইনজীবীদের পেশাগত সততা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। অহেতুক অর্থের পেছনে না ছুটে সাধারণ মানুষের সেবা ও সঠিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মুখ্য উদ্দেশ্য। নিজ রাজনৈতিক দল বা মতের কেউ দুর্নীতিতে জড়ালেও আইনজীবীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য তুলে ধরেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন এবং সম্পূর্ণ কার্যক্রমটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

/আশিক

পাঠকের মতামত: